ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যখন আলোচনার পথ খুঁজছে, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক শক্তি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সেখানে আরও কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত ‘৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন’-এর তিনটি ব্যাটালিয়ন থেকে প্রায় ৩ হাজার সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হতে পারে। তবে এই সেনাদের ঠিক কোন দেশে পাঠানো হবে এবং তারা কবে নাগাদ সেখানে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই কর্মকর্তা জানান, ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের কয়েক হাজার সেনাকে এই অঞ্চলে পাঠানো হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেয়। তবে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ছবি : সংগৃহীত
দিল্লিতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মরদেহ খোলা মাঠে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চারজনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। কয়েক দিন পর পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধারের সময় তার শরীরের কিছু অংশ কুকুরে খেয়ে ফেলেছিল। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও রাতভর অভিযানের পর চার সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, দিল্লিতে ১৭ বছর বয়সী ওই চারজনে ধর্ষণ করে। পরে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। পরে মরদেহ একটি খোলা মাঠে ফেলে দেওয়া হয়। সেখানে মরদেহের কিছু অংশ কুকুরে খেয়েও ফেলে। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণ ও হত্যার কয়েক দিন পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধারের পর ভয়াবহ এই ঘটনা সামনে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ এতটাই পচে গিয়েছিল যে, প্রথমে সেটি নারী নাকি পুরুষের, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই কিশোরী ও অভিযুক্তরা পরস্পরের পরিচিত ছিল। ঘটনার সময় সে তাদের সঙ্গে একটি টেম্পোতে করে যাচ্ছিল। অভিযোগ, টেম্পোর ভেতর তারা একসঙ্গে মদ পান করে। এরপর কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করা হয় এবং ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ১৩ সেপ্টেম্বর মধ্য দিল্লির কুশাক রোডে জয়পাল রানার মাঠের কাছে কিশোরীর পচে যাওয়া মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহের কিছু অংশও কুকুরে খেয়ে ফেলেছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার একটি হাত মরদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।
কিশোরীর পরিবার তার নিখোঁজ হওয়ার কোনো অভিযোগ করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যরা তাদের বলেন, ওই কিশোরী প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে কয়েক দিন পর আবার ফিরে আসত।
এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং শিশু নির্যাতন আইন পকসোর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি এবং শুরুতে অভিযুক্তদের পরিচয়ও জানা ছিল না। এ কারণে পুলিশ দল ওই এলাকা ও আশপাশের রুটের ৫০ টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে।
ফুটেজ বিশ্লেষণের সময় ঘটনার সম্ভাব্য সময়ের কাছাকাছি একটি টেম্পোকে ঘটনাস্থলের আশপাশ দিয়ে যেতে দেখা যায়। অন্ধকারের কারণে টেম্পোটির নম্বর স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। এরপর তদন্তকারীরা একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ অনুসরণ করে টেম্পোটির চলাচলের গতিপথ শনাক্ত করার চেষ্টা করেন।
গত ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে রাতভর অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন টেম্পোটির সন্ধান পাওয়া যায়। এর চালককে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তদন্তে ওই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তের নাম শিবম ওরফে সুদামা ওরফে চুচু। সে খাড্ডা কলোনির বাসিন্দা। তিন অপ্রাপ্তবয়স্কের বয়স ১৬ ও ১৭ বছর। অভিযোগ অনুযায়ী, অপরাধে ব্যবহৃত দুটি ছুরি, অভিযুক্তদের পরা পোশাক এবং টেম্পোটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুরো ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে, আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণ করতে এবং ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ যাচাই করতে তদন্ত চলছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এবং কয়েক জন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাকে ভিসা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্ক সিটিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। অনুষ্ঠিতব্য সেই অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও প্রতিনিধি দলের যোগদান নিশ্চিত করতেই এই ভিসা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে এএফপিকে ওই মুখপাত্র বলেছেন, “আয়োজক দেশ হিসেবে আমাদের বাধ্যবাধকতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে, ইরানি সরকারের মূল প্রতিনিধিদল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পারবে।”
তবে সাধারণ পরিষদের সম্মেলন উপলক্ষে আগত অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের তুলনায় ইরানি প্রতিনিধি দলকে কিছু অতিরিক্ত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র বলেছেন, “কেবল একটি সীমিত আকারের প্রতিনিধিদলকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে এবং আমাদের নীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর কঠোর ভ্রমণ বিধিনিষেধ ও বিলাসবহুল পণ্য ক্রয় বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা তাদের মেনে চলতে হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের অচলাবস্থার মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এ অধিবেশনে যোগ দিতে ভিসার আবেদন করেছিলেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও; কিন্তু তাকে ভিসা দেয়নি মার্কিন প্রশাসন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট যদি তার বক্তব্যের ভিডিও পাঠান, তাহলে তা প্রচার করা হবে অধিবেশনে।
সূত্র : এএফপি
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধে সেনা পাঠাবে না দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বা কোনো সামরিক অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়া সেনা পাঠিয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না, যাতে দেশটি সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো নিরাপদ রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পদক্ষেপ নেবে।
তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে দেশটির ভেতরে জনমত ও প্রতিবাদ বাড়ছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মোতায়েনের বিরোধিতা করে সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়া সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে নিজেদের জাহাজ ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অবস্থান নিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তির আওতায় সৌদির হাতে যাবে বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমান। তবে সৌদির হাতে এফ-৩৫ তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগের পাশাপাশি চীনের সম্ভাব্য গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘প্রস্তাবিত এই বিক্রি উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্তি হিসেবে কাজ করা ন্যাটোর বাইরের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের নিরাপত্তা জোরদার করবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্যও এগিয়ে যাবে।’
ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত এফ-৩৫ বিক্রি করলেও ‘অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন হবে না’। দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওই নীতিতে বলা হয়, সম্ভাব্য আঞ্চলিক প্রতিপক্ষের তুলনায় ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা অবশ্যই এগিয়ে থাকতে হবে।
এমন সময় এ ঘোষণা এলো, যখন ইয়েমেনের হুতিরা গত বুধবার দাবি করেছে, তারা মারিবের আকাশে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটি হুতিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। হুতিরা এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে শহরটিতে তাদের যোদ্ধাদের এমন একটি জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি সৌদি চিহ্নযুক্ত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের বলে মনে হয়েছে।
হুতিদের দাবি, ‘স্থানীয়ভাবে তৈরি’ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ওই যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। সত্যি হলে, ওই এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে হুতিদের সক্ষমতায় এটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। এখন পর্যন্ত ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী তুলনামূলকভাবে আকাশপথে আধিপত্য ধরে রেখেছে। প্রতিবেশী দেশটিতে বিমান হামলা চালানোর সক্ষমতার ওপরও তারা ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছে।
এদিকে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে লড়াই তীব্র হওয়ায় বৃহস্পতিবার অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে। হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতে ওয়াশিংটনকে আরও সরাসরি ভূমিকা নেয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছে রিয়াদ। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি, সৌদি আরব এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যকার এই সংঘাতে তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না।
অন্যদিকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে সম্ভাব্য চীনা গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়েও ওয়াশিংটনের উদ্বেগ রয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এ সপ্তাহে জানিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের অংশীদারত্বের মাধ্যমে বেইজিং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তি পেয়ে যেতে পারে—এমন সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ কারণে এফ-৩৫ বিক্রির বিরোধিতা করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি রাজা কৃষ্ণমূর্তি। তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য এবং প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দা কমিটিতে রয়েছেন।
এক বিবৃতিতে কৃষ্ণমূর্তি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যখন সতর্ক করছে যে এই চুক্তির ফলে আমেরিকার সামরিক প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নাগালের মধ্যে চলে যেতে পারে, তখন এই চুক্তি এগিয়ে যাওয়া উচিত নয়।’
এর আগে গত মাসে সৌদি আরব পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিত এই চুক্তি থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ওয়াশিংটনের ওপর কম নির্ভর করে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ খুঁজছে দেশগুলো।
সৌদি আরব অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার চেষ্টা করে আসছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনাকারী দেশ ইসরায়েলের কর্মকর্তারা রিয়াদের কাছে এই যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যদিও একই সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্যও চাপ রয়েছে।
এদিকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান তৈরির বহুদেশীয় উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ন্যাটো সদস্য তুরস্ককে ২০১৯ সাল থেকে এসব যুদ্ধবিমান দেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই বছর রাশিয়ার কাছ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর তুরস্কের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।
ছবি : সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ে আসার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার নতুন এ নিয়ম ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এর আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, তথাকথিত ‘ভিসা হপার’ এবং ব্যাকপ্যাকারদের জন্যও বিভিন্ন নিয়ম কঠোর করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীরা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় সঙ্গে আনতে পারবেন না। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ বাড়াতে চাইলে তাদের উচ্চতর কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের পথ বেছে নিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, আমরা আর এমন কোনো ব্যবস্থা রাখব না যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আসতে পারেন।
তবে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থী এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়মে কিছু ছাড় থাকবে। পিএইচডি শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারকে সঙ্গে আনতে পারবেন।
বার্ক বলেন, স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জীবন ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
‘অভিবাসন কর্মসূচি পরিচালনার কাজ: কারা আসেন, কারা থেকে যান এবং কারা চলে যান’ শিরোনামে দেওয়া এক বক্তৃতায় বার্ক এসব পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে নিট অভিবাসীর সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা।
স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে ‘ভিসা হপিং’ বা ঘন ঘন ভিসা পরিবর্তনের প্রবণতাও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় একজন শিক্ষার্থী একটি কোর্স শেষ করার পর আরেকটি কোর্সে ভর্তির আবেদন করেন, যা অনেক সময় আগেরটির চেয়ে নিম্নমানের যোগ্যতার হয়।
এমন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করা হয়, যার বৈধতা বা মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে যারা উচ্চতর শিক্ষার দিকে এগোতে চান, যেমন স্নাতক ডিগ্রি শেষ করে স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স করতে চান, তাদের ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানান বার্ক।
১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের জন্য প্রযোজ্য ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’র নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণত ব্যাকপ্যাকাররা এই ভিসা ব্যবহার করেন। এতে অস্ট্রেলিয়ায় ১২ মাস কাজ করার সুযোগ থাকে এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছর পর্যন্ত থাকার সুযোগ রয়েছে। কৃষি খাতেও এই ভিসাধারীরা গুরুত্বপূর্ণ শ্রমের উৎস।
বর্তমানে দ্বিতীয় বছরের ভিসার যোগ্য হতে হলে প্রথম বছরে অস্ট্রেলিয়ার আঞ্চলিক এলাকায় তিন মাস কাজ করতে হয়। তৃতীয় বছরের যোগ্যতার জন্য কাজ করতে হয় ছয় মাস। নতুন নিয়মে দ্বিতীয় বছরের জন্য যোগ্যদের একটি ব্যালট বা লটারি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এতে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার জনের সুযোগ থাকবে, যা গত বছর ৫৭ হাজার ছিল।
তৃতীয় বছরের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা কমিয়ে ৫ হাজার করা হয়েছে। গত বছর ৩১ হাজার মানুষ তৃতীয় বছরের ভিসার জন্য যোগ্য হয়েছিলেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে ব্রিটিশ ওয়ার্কিং হলিডে-মেকাররা এসব পরিবর্তনের আওতায় পড়বেন না।
বার্ক বলেন, অভিবাসন অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি ‘শক্তি’ বা ইতিবাচক দিক হলেও এর ওপর ‘উচ্চ মাত্রার নিয়ন্ত্রণ’ থাকা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৭৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। এই হিসাবের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুর পাশাপাশি নিট অভিবাসন হিসেবে ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০ জনের হিসাবও রয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া এবং জনসেবার ওপর বাড়তি চাপের কারণে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে অভিবাসন দেশটির বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে রয়েছে।
অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ডানপন্থী ও জনতুষ্টিবাদী দল ‘ওয়ান নেশন’ চলতি সপ্তাহের শুরুতে তাদের অভিবাসন নীতি প্রকাশ করেছে। এতে তিন বছরের মধ্যে অস্থায়ী অভিবাসী ভিসার সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত মে মাসে নিম্নকক্ষে দলটি তাদের প্রথম আসন জয় করে।
দলটি নিট বৈদেশিক অভিবাসনের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারে সীমাবদ্ধ রাখারও প্রস্তাব দিয়েছে। বার্ক এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, এমন পদক্ষেপ নিলে তা ‘অস্ট্রেলীয় অর্থনীতির কিছু অংশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে’।
জুলাই মাসে সরকার একটি নীতি চালু করে। এর আওতায় বিদেশ থেকে জমা দেওয়া আবেদনের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরতদের করা পারিবারিক ভিসার আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বিদেশে অবস্থানরতদের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় আগে থেকেই বসবাসরত দক্ষ অভিবাসীদের স্থায়ী ভিসার আবেদনকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য বাদে ২৪টি দেশের নাগরিকদের জন্য ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’র আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন আসা অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংস্থা ‘সেটেলমেন্ট সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনাল’-এর ভায়োলেট রুমেলিওটিস বলেন, অভিবাসন বিষয়ক বিতর্কটি এখন দেশের জন্য যা সর্বোত্তম, তার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি রাজনীতির দ্বারা বেশি প্রভাবিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক ভিসার নিয়মে প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি এর একটি বড় উদাহরণ। তার মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে মেধাবীদের আকৃষ্ট করার প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়ার জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানে একটি স্কুল ও একটি ক্রীড়া স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো দুই সামরিক হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত মিশন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার বিষয়ে ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পাওয়া গেছে। খবর রয়টার্সের।
জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন অন ইরানের প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, নিহতদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।
তদন্ত মিশন বলেছে, স্কুলটি স্পষ্টতই একটি বেসামরিক স্থাপনা ছিল এবং সেটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হামলার আগে মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্য নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ না করা এবং ভবনটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু কি না, তা নিশ্চিত না করাকে নিছক অবহেলা বলা যায় না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী বেসামরিক স্থাপনায় হামলার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও সেখানে হামলা চালিয়েছিল। এ কারণে ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছে তদন্ত মিশন। লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে হামলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন জাতিসংঘের তদন্তকারীরা। ওই হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ জন বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এর আগে জানিয়েছিল, ওই দিন লামের্দ শহরে তারা কোনো হামলা চালায়নি।
এদিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে দেশটির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ এনেছে জাতিসংঘের তদন্ত মিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ দমনের সময় বেআইনি হত্যা, নির্যাতন, নির্বিচার আটক, গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ইরানি সরকারের হিসাবে বিক্ষোভে ৩ হাজার ৩৮ জন নিহত ও ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের তদন্ত মিশন।
সূত্র: রয়টার্স