দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
ইরানে ইসরায়েল ও এর ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জেরে দুবাইয়ে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে তেহরানের হামলা এবং বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে বসবাসরত ধনীরা বিপাকে পড়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ এ বাণিজ্যনগরী ছাড়তে এখন প্রাইভেট জেটই এই ধনীদের একমাত্র ভরসা। ফলে বিকল্প পথে দেশ ছাড়ার হুড়োহুড়িতে ব্যক্তিগত বিমানের ভাড়া আকাশ ছুঁয়েছে।
ধনকুবের, প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও লাখো পর্যটকের প্রমোদকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঝলমলে দুবাই এখন চরম উৎকণ্ঠার শহর। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে শুধু দুবাই-ই নয়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি নিশানা করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান।
ইরানের হামলায় দুবাই বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটির বেশ কিছু বিলাসবহুল হোটেল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত।
আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, গতকাল সোমবারও তারা বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার জেরে তেহরানে নিজেদের দূতাবাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে আমিরাত।
এ পরিস্থিতিতে দুবাই থেকে অনেকে পার্শ্ববর্তী ওমানের দিকে ছুটছেন। গাড়ি চালিয়ে ওমান যেতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা। সেখানে এ পর্যন্ত যুদ্ধের প্রভাব তেমনটা পড়েনি। ওমানের মাসকাট বিমানবন্দর এখনো চালু রয়েছে। তবে সেখানে ফ্লাইট ছাড়তে কিছুটা দেরি হচ্ছে।
বিভিন্ন অনলাইন টিকিট বুকিং সাইটের তথ্য অনুযায়ী, ওমানের মাসকাট থেকে ইউরোপগামী অধিকাংশ বাণিজ্যিক ফ্লাইটের টিকিট চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত ফুরিয়ে গেছে।
দুবাইয়ে ছুটিতে এসেছিলেন রুশ পর্যটক আলেকজান্দ্রা ভাভিলোভা। তিনি জানান, অনেক চেষ্টার পর গতকাল রাতে তিনি একটি টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন। তবে সেটি ইউরোপের নয়, মাসকাট থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোগামী একটি ফ্লাইটের। এদিকে মাসকাট থেকে প্রাইভেট জেটের ভাড়া বেড়েছে অনেক। ব্যাপক চাহিদা ও অস্থিতিশীল এ অঞ্চলে পর্যাপ্ত উড়োজাহাজের অভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি।
মাসকাটভিত্তিক প্রাইভেট জেট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ‘জেটভিপ’ যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানায়, নেক্সট্যান্ট নামের খুব ছোট একটি জেটে করে ইস্তাম্বুল যাওয়ার খরচ এখন ৮৫ হাজার ইউরো (প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা), যা স্বাভাবিক সময়ের প্রায় তিন গুণ। আবার মস্কোগামী প্রাইভেট চার্টার বিমানে একেকজন যাত্রীর সিটভাড়া পড়ছে ২০ হাজার ইউরো (প্রায় ২৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা)।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রাইভেট জেট কোম্পানি উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে।
অস্ট্রিয়াভিত্তিক চার্টার প্রতিষ্ঠান অ্যালবাজেট জানিয়েছে, তাদের কাছে এখন খুব কম উড়োজাহাজ ফাঁকা আছে। ইউরোপে যাওয়ার জন্য প্রায় ৯০ হাজার ইউরো (প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা) ভাড়া চাইছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিনিধি জানান, বিমা–সংক্রান্ত জটিলতা ও মালিকপক্ষের আপত্তিতে অনেক অপারেটর এখন ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাইছে না। ফলে চাহিদা থাকলেও জোগানের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
আমিরাত ছাড়তে ইচ্ছুক অনেক যাত্রী ১০ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদে যাচ্ছেন। কারণ, রিয়াদ বিমানবন্দর এখনো সচল রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সেমাফোর তথ্য অনুযায়ী, অনেক বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ‘এসইউভি’ গাড়ির বহর ভাড়া করছে। এসব গাড়িতে করে গ্রাহকদের রিয়াদে পৌঁছে দেওয়ার পর সেখান থেকে প্রাইভেট ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে তারা।
প্রাইভেট জেট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ভিমানা প্রাইভেট জেটসের প্রধান নির্বাহী আমির ন্যারান বলেন, রিয়াদ থেকে ইউরোপের ফ্লাইটের ভাড়া সাড়ে ৩ লাখ ডলার (প্রায় ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকায়) গিয়ে ঠেকেছে।
এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ইতালিতে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেতো গতকাল সরকারি উড়োজাহাজে করে দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন। ইতালির শত শত নাগরিক যখন দুবাইয়ে আটকা পড়ে আছেন, সে সময় মন্ত্রীর এভাবে ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর সময় ক্রোসেতো সপরিবার দুবাইয়ে অবকাশ যাপন করছিলেন।
এ ঘটনায় রোমের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সংঘাতের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও সরকার কেন আগে থেকে সতর্ক ছিল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো। এমনকি তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সপরিবার ফেরার পরিকল্পনা পরিবর্তন করে মন্ত্রী একাই ইতালিতে ফিরেছেন। তাঁর পরিবার এখনো দুবাই অবস্থান করছে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিমানের খরচ তিনি নিজেই বহন করেছেন।
দ্য গার্ডিয়ানকে ক্রোসেতো বলেন, ‘আমি এখন আমার অফিসে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত। হাজার হাজার মানুষের মতো আমিও সেখানে আটকে পড়েছিলাম। কিন্তু সেটা এখন বড় কোনো বিষয় নয়।’
তবে বেশির ভাগ পর্যটকের জন্য এখন দুবাইয়ে অবস্থান করা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই।
দুবাই পর্যটন বোর্ড স্থানীয় হোটেলগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। ফ্লাইট জটিলতার কারণে যেসব পর্যটক আরব আমিরাত ছাড়তে পারছেন না, তাঁদের হোটেল থেকে বের না করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগের ভাড়াতেই তাঁদের থাকার মেয়াদ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু অনেক রুশ পর্যটক অনলাইনে অভিযোগ করেছেন, তাঁদের হয় বাড়তি টাকা দিতে বলা হচ্ছে অথবা রিসোর্ট ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একজন রুশ নারী বলেন, ‘আমাদের হোটেলের রিসেপশনিস্ট বুকিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন। তাঁর মতে, এটা তাঁদের সমস্যা নয়। ভিনদেশে আটকে পড়া মানুষের প্রতি এমন আচরণ সত্যি অমানবিক।’
ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বন্দরগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফলে হাজার হাজার পশ্চিমা পর্যটক এখন মাঝসমুদ্রে প্রমোদতরিতে আটকা পড়েছেন।
এ অঞ্চলের বিভিন্ন বন্দরের কাছে অন্তত ছয়টি বড় প্রমোদতরি নোঙর করেছে। এসব জাহাজের প্রতিটিতে হাজার হাজার যাত্রী আছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের জাহাজ থেকে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের ব্যালকনিতে না গিয়ে নিজ নিজ কেবিনে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত রোববার দুবাই ও শারজার শিল্পাঞ্চলে বিমান হামলার আগে ও পরের কিছু ছবি প্রকাশ পেয়েছে। আবুধাবির জায়েদ বন্দরে ইরানের ড্রোনের আঘাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। মেইন শিফ-৪ নামের একটি জাহাজের পর্যটকেরা সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেছেন।
জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডকে তাঁরা জানান, তাঁদের ছুটির স্বর্গ নিমেষে রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় চরম আতঙ্কিত তাঁরা।
দুবাইয়ে আটকা পড়া এমএসসি ইউরিবিয়া জাহাজের যাত্রীরা জানিয়েছেন, তাঁদের রুমের চাবির মেয়াদ ৬ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর আগে পর্যটকদের পক্ষে জাহাজ ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।
আবুধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম নিয়ে গতকাল ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ফ্লাইট ছাড়া, বাতিল হওয়া বা আবার কবে চালু হবে—এসব নিয়ে একেক রকম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকার ফ্লাইটরাডার২৪ জানায়, গতকাল বিকেলে অন্তত একটি যাত্রীবাহী বিমান আবুধাবি থেকে লন্ডনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।
দুবাইভিত্তিক আইনজীবী ইরিনা হিভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, দুবাইয়ে তাঁর পরিচিতজনেরা এখন তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
প্রথম দল দ্রুত ওমান সীমান্তের দিকে ছুটছে। তাদের আশা, সেখান থেকে প্রাইভেট জেটে করে তারা ইস্তাম্বুলে যাবে। দ্বিতীয় দলটি জেদ ধরে আছে। তারা মনে করে, জীবন স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। তারা সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কাটা, পাম জুমেইরাহতে সূর্যাস্ত দেখা আর রোদে শরীর এলিয়ে দিয়ে সময় কাটানোতেই বিশ্বাসী।
তৃতীয় দলটি সম্পর্কে হিভার লিখেছেন, তারা ‘আশ্রয়স্থলে অবস্থান-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা’ পালন করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধ রাখলে তেহরানও পাল্টা হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছে ইরান।
দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ হামলা স্থগিত রাখবে, ততক্ষণ ইরানও সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা ১৩ রাত ধরে চলা মার্কিন বিমান হামলার পর গত শুক্রবার রাতে অভিযান স্থগিত করে পেন্টাগন। এরপর শনিবার ও রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের অবস্থান একই আছে-হামলার জবাব হামলা। হামলা বন্ধ হলে ইরানও অভিযান বন্ধ রাখবে। এ বার্তা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।’
এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির জন্য আরও সময় দিতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য, আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করতেই এই বিরতি দেওয়া হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের অভিযানে পূর্বনির্ধারিত বেশির ভাগ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শেষ হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এ কারণে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধের সিদ্ধান্তকে তেহরান এখনো স্থায়ী নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছে না। ওই সূত্রের দাবি, ইরানে ‘আশার চেয়ে সংশয়ই বেশি’ এবং অনেকের ধারণা, এই বিরতি কৌশলগত, প্রকৃত অর্থে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত নয়।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নিয়মিত হামলা চালানোর কথা জানায়। পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় হামলা চালায়। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় অঞ্চলটির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, সেটি স্পষ্ট। তেহরানের একজন ব্যবসায়ী রয়টার্সকে বলেন, ‘দেশের সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। যুদ্ধ শেষও হচ্ছে না, আবার পুরোপুরি এগোচ্ছেও না। এই পরিস্থিতি খুবই ক্লান্তিকর।’
ধর্মেন্দ্র প্রধান। ছবি : সংগৃহীত
একসময় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিতি পেয়েছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রায় তিন দশক পর সেই প্রশ্নফাঁস ইস্যুকেই ঘিরে সৃষ্ট আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়েছে তাকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস-শাসিত ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জানকী বল্লভ পট্টনায়েক। সে সময় একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভুবনেশ্বরে রাজ্য সচিবালয়ের সামনে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন। সেই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর ছাত্রনেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ঘনিষ্ঠদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর ছাত্রসংগঠন এবিভিপির সক্রিয় সংগঠক হিসেবে দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন। উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করা ধর্মেন্দ্র ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দুই দফা এবিভিপির জাতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ওই সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওড়িশাজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জের মুখেও পড়তে হয়েছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানকে।
বর্তমানে ভুবনেশ্বরের আরএমডি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের সাবেক জুনিয়র প্রশান্ত রাউত সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সচিবালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ধর্মেন্দ্র প্রধান গুরুতর আহত হন এবং তার শরীরের কয়েকটি হাড়ও ভেঙে যায়।
প্রশান্ত রাউত আরও দাবি করেন, ছাত্ররাজনীতির সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলারও শিকার হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এক পর্যায়ে তার প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
ছাত্রজীবনের সেই আন্দোলনই পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে তার রাজনৈতিক উত্থানের ভিত্তি তৈরি করে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালে তিনি ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওড়িশায় বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে রাজ্যটিতে প্রথমবার সরকার গঠন করে বিজেপি এবং দীর্ঘদিনের বিজু জনতা দলের শাসনের অবসান ঘটে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।
আন্দোলন দমনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে ২১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং বিরোধী দলগুলোও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জোরালো করে।
ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ফলে যে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, প্রায় তিন দশক পর সেই একই ইস্যুই তার মন্ত্রিত্বের ইতি টানল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি রিল ভিডিও বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। পোস্ট করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটি ৩০ কোটিরও বেশি ভিউ অর্জন করে ইনস্টাগ্রামের একক ভিডিওর সর্বোচ্চ ভিউয়ের আগের রেকর্ড ভেঙেছে।
সম্প্রতি দেশজুড়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে তরুণদের লক্ষ্য করে মোদী পরপর দুটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ও শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে ধারণ করা ভিডিও দুটিতে তিনি তুলনামূলক অনানুষ্ঠানিক ভঙ্গিতে কথা বলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এর আগে ইনস্টাগ্রাম রিলে সর্বোচ্চ ভিউয়ের রেকর্ড ছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিডের দখলে। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের সদস্যদের সঙ্গে ধারণ করা একটি ভিডিও সেই রেকর্ড গড়েছিল।
ভারতে চলমান আন্দোলনের সূত্রপাত হয় নিট মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১২ মে তা বাতিল করা হয়। পরে আন্দোলনের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি), যা অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে কর্মসূচি পালন করে।
ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত শনিবার (২৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
১০ কোটিরও বেশি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা সত্ত্বেও মোদির এমন সেলফি-ধাঁচের রিল ভিডিও প্রকাশের ঘটনা খুবই বিরল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করতেই তিনি এই কৌশল নিয়েছেন। তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, শিক্ষার্থী আন্দোলনের চাপ সামলাতেই এই নতুন প্রচার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভিডিওটির রেকর্ডসংখ্যক ভিউ ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রভাব এবং রাজনৈতিক যোগাযোগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেই সামনে এনেছে।
ভারতের বেঙ্গালুরুতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে এক মুসলিম দম্পতিকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ, ওই চিকিৎসক দম্পতিকে ভারত থেকে একবার বিতাড়িত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন। তবে দম্পতির জাতীয়তা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য এখনো যাচাই করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২২ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নগেন্দ্রাপ্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বেঙ্গালুরুতে নিজস্ব ক্লিনিক পরিচালনা করেন ডা. নগেন্দ্রাপ্পা। বুধবার সকালে তিনি ২৩ বছর বয়সী নাসরিনা ও তার স্বামী মোহাম্মদ বিলালের পথরোধ করেন।
নাসরিনার অভিযোগ, প্রথমে তাদের জাতীয়তা নিয়ে হিন্দি ভাষায় গালিগালাজ করেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এরপর তার স্বামী বিলালের ওপরও হামলা চালানো হয়। বিলালের মাথা ও পিঠে একাধিকবার আঘাত করা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে লাথি মারা হয়। এছাড়া ঘটনাটি পুলিশকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় বেঙ্গালুরুর বেলান্দুর থানায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মারধর, নারীর শ্লীলতাহানি, বেআইনিভাবে পথরোধ এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তারের আগে ডা. নগেন্দ্রাপ্পা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাকে ওই দম্পতিকে ‘বাংলাদেশি’ বলে উল্লেখ করতে এবং তারা একবার ভারত থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আবার ফিরে এসেছে বলে দাবি করতে শোনা যায়।
অন্যদিকে, ভিডিওতে মোহাম্মদ বিলালকে কন্নড় ভাষায় বলতে শোনা যায়, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে বসবাস করছেন। একই ভিডিওতে চিকিৎসককে বিলালের গায়ে হাত তুলতেও দেখা যায়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অভিযুক্ত ডা. নগেন্দ্রাপ্পা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলিদের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন সহযোগীদের সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। যারাই যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে তারাই ইরানের বৈধ ও নিশ্চিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।
এই সতর্কবার্তায় সুনির্দিষ্টভাবে যুক্তরাজ্য এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দেশের ওপর বিশেষ নজর রাখছে ইরান- এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ইরানের ইসলামী রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে যদি কোনো দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য বা সমর্থন করে, তবে সেই দেশকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করা হবে।
মোহেব্বি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি মার্কিন B-1 বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে। এই ধরনের সহযোগিতা বজায় থাকলে তারা ইরানের 'নিশ্চিত এবং বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হয়ে উঠবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
আইআরজিসি দাবি করেছে যে, যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বা উত্তেজনা মোকাবিলা করার জন্য তারা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং কৌশলগত প্রস্তুতি তৈরি করে রেখেছে।
এই বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, অঞ্চলটিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কতটা তীব্র এবং ইরান মূলত এই অঞ্চলে পশ্চিমা ও প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে এই প্রতিরোধমূলক অবস্থান নিয়েছে।
হোসেইন মোহেব্বি আরও বলেন, ‘প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য আমাদের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে।’
তবে আইআরজিসির এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, ‘এবার এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে।’
দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পথে একটি বড় পদক্ষেপ।’ একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।
তিনি আরও লিখেছেন, ‘এখনও দুটি দাবি রয়েছে, যা পূরণ হয়নি। আর তা হলো- শিক্ষার্থী এবং ভারতের ভবিষ্যৎকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সমাজের অন্যান্য অংশ, যাদের এই সরকার দমন ও নিষ্পেষণ করেছে (কৃষক, শ্রমিক, দরিদ্র) তাদের এখন সংবিধানসম্মত উপায়ে সাহস নিয়ে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার সময়। এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে। ভয় পাবেন না!’
পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশের ঐক্য অটুট রাখা, শিক্ষার্থীদের আইনি জটিলতা থেকে দূরে রাখা এবং তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সংগঠনটি জানায়, সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একদিন সময় চেয়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর যন্তর-মন্তরের সমাবেশে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে ধন্যবাদ জানান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি বলেন, ‘তিনি আমাদের ‘তেলাপোকা’ না বললে এই আন্দোলনের জন্মই হতো না।’
গত মে মাসে এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ঘিরেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরে প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দেন, মন্তব্যটি বেকার তরুণদের উদ্দেশে নয়, ভুয়া আইন ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গে করা হয়েছিল। তবে ততদিনে মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং তা আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়।