• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম

জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী-এমপিদের উন্নয়ন ও আইশৃঙ্খলা সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়ায় কোনো সমন্বয়হীনতা কাজ করবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির এমপি। গত মঙ্গলবার সিলেটে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি সমন্বয়হীনতা তো করবেই না, বরং দলীয় সাংগঠনিক অবস্থানটাকে একটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যেক জায়গায় দেখার- যাচাই করার, দলীয় শক্তির বিন্যাসের জন্য নতুন উদ্যম সংযোজন করবে। 


গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, এবং সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে সিলেট-১ আসনের এমনপি খন্দকার মুক্তাদির পেয়েছেন হবিগঞ্জের দায়িত্ব আর সিলেটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হবিগঞ্জের এমপি ও হুইপ জিকে গউছকে। অনেকেই জেলাভিত্তিক এই দায়িত্ববন্টনকে ভিন্ন নামে উচ্চ আদালত থেকে অসাংবিধানিক ঘোষিত ‘জেলা মন্ত্রী’ ফিরে আসা হিসেবে ক্যোয়িত করেছেন। এতে সমন্বয়হীনতার শঙ্কাও প্রকাশ করেছেণ কেউ কেউ। আর এই উদ্যোগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাউকোর্টে রিট করেছেন জামায়াত দলীয় ১১ এমপি। 




তবে এই উদ্যোগের সমন্বয়হীতার শঙ্কা নেই জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, যে যেখানে কাজ করবেন তারাই দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। দল একটা পরিকল্পনা, কৌশল সামনে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন জনকে দায়িত্ব দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নগরের কাজিরবাজারে নিজ বাসায় সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি পতাকা উড়িয়ে ও ফিতা কেটে দলের কার্যালয় উদ্বোধন করেন। পরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে আমদানি বেশি, রপ্তানি কম; এটা তো সাধারণ একটা কথা। বাংলাদেশে প্রচুর কাঁচামাল হয় না। সুতরাং শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের বেশিরভাগ কাঁচামালের জন্য বাইরের পৃথিবীর উপর নির্ভর করতে হয়।তিনি বলেন, এখনও দেশে প্রতিবছর প্রায় ৬০-৭০ লাখ টন গম আমদানি করতে হয়। চালে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। অনেকগুলো কৃষি পণ্য যেগুলোর জন্য আগে বাইরের দেশের প্রতি নির্ভরশীল ছিলাম, সেগুলোতে ইতোমধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন হয়েছে৷মন্ত্রী বলেন, এটি কোন অভিনব বিষয় না। পৃথিবীর বহু দেশ আমদানি বেশি রপ্তানি কম। কিছু দেশে রপ্তানি বেশি আমদানি কম। আমদানি কমে যাবে, রপ্তানি বেশি হয়ে যাবে তুলনামূলকভাবে, এটি খুব সহজসাধ্য বিষয় নয়। তবে ট্রেড ভলিউম বৃদ্ধি করার পাশাপাশি নতুন নতুন বিনিয়োগ আনার মাধ্যমে রপ্তানির নতুন নতুন খাত চিহ্নিত করে সেখানে রপ্তানি প্রসার ঘটানো দরকার। এগুলো নিয়ে কাজ করছে সরকার, এ কাজের ফলাফল-সুফল ইনশাআল্লাহ দেখবেন- বলেন তিনি। 


বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে আমাদের সামনে উদযাপনের সময় নাই, সামনে এখন দেশগঠনের চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনে সরকারের লক্ষ্য- মানুষের প্রত্যাশা মিটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন, যে সমস্ত লজিস্টিক সমস্যা আছে জ্বালানি স্বল্পতা সহ বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনা দূর করে বিপুলভাবে দেশে এবং বিদেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে অর্থনীতির মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা। 


তিনি বলেন, শিল্প, বাণিজ্য এবং অর্থনীতির যে সমস্ত খাত দেশজ উৎপাদনে নিয়ামক শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তার প্রতিটিকে জোরদার করে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করে, মানুষের প্রত্যাশার হক আদায় করার জন্য যা যা করার দরকার, তা করছে সরকার। অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৭ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৭ পিএম


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৭ পিএম

"করব কাজ গড়বো দেশ তান্ত্রিক বাংলাদেশ"—এই দীপ্ত স্লোগান ও সুদৃঢ় প্রত্যয়কে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। 


এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বরে এক বর্ণাঢ্য ও আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ দর্শকদের মাঝে ছিল উপচে পড়া আমেজ।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক  শরিফুজ্জামান শরীফ। চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের  সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত  করে তোলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওহিদুল আলম খন্দকার মানি, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক বিপুল হাসান হাজী এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু প্রমুখ।


এছাড়াও জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনে অংশ নেন জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দল  চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির ক্রিকেট কাউন্সিলর আব্দুস সালাম, সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মাহমুদসহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। দেশের একটি স্থানীয় মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপিত হয়।


অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চটি আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত একটি বিশাল ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়। ব্যানারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান, দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি শোভা পাচ্ছিল।


আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণ শিল্পীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী খুদে শিল্পীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে লাল ও সবুজ রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক (লাল পাঞ্জাবি-কুর্তি ও সবুজ উত্তরীয়) পরিধান করে মঞ্চে আসে। তারা দেশের গান ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।


পুরো অনুষ্ঠানটির চমৎকার ও প্রাণবন্ত সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আর দেশাত্মবোধক গানের সুরে সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে সাহিত্য পরিষদ চত্বর, যা উপস্থিত দর্শকদের দীর্ঘক্ষণ মুগ্ধ করে রাখে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৬ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাদক, কিশোর অপরাধ ও স্মার্টফোনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় মাদক ও সামাজিক অপরাধকে ‘না’ বলার পাশাপাশি উন্নত চরিত্র গঠনের শপথ নেয় তারা।


বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বেগমগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও চরিত্র গঠনের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়েসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ ন ম ইমরান খান এবং বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান।


পরে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন শিক্ষার্থীদের উন্নত চরিত্র গঠন, মাদক ও কিশোর অপরাধ থেকে দূরে থাকা এবং স্মার্টফোনের অপব্যবহার না করার শপথ পাঠ করান।


আয়োজক সংগঠনটি জানায়, শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকা সাশ্রয় করে পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ গত ১৫ বছর ধরে দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনটি এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লাখ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪৫ পিএম

ঝালকাঠির নলছিটিতে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই যুবককে আটক করেছে নলছিটি থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের জিরোপয়েন্ট সংলগ্ন শহিদ মিয়ার অটো গ্যারেজের সামনে পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। 


আটকরা হলেন, দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠি গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আলী হোসেন হাওলাদারের ছেলে মো. মিজানুর রহমান (২২) এবং একই এলাকার মো. কালু গাজীর ছেলে মো. মেহেদী গাজী (২৩)। 


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নলছিটি থানার এসআই (নিঃ) রুম্মান হোসেনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান পরিচালনা করে ওই দুই যুবককে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। 


নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক দুই যুবকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

সংস্কার, রং, সিসি ক্যামেরা ও মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন ঘিরে প্রশ্ন; দরপত্র না হওয়ার অভিযোগ, বক্তব্য মেলেনি কমিশনারের

শতবর্ষী ‘গুদামঘর’ এবার কাস্টম কমিশনারের রাজকীয় বাংলো


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৩ পিএম

একসময় ব্যবহৃত হতো গুদামঘর হিসেবে। শত বছরের পুরোনো সেই ভবনটি এখন যেন ফিরে পাচ্ছে নতুন পরিচয়। সংস্কার, নতুন রং, চলাচলের রাস্তা মেরামত, সিসি ক্যামেরা স্থাপন—সব মিলিয়ে রাজকীয় আবহে সাজানো হচ্ছে রংপুরের বিভাগীয় কাস্টমস কর্মকর্তার পুরোনো বাংলোটি। জানা গেছে, ভবনটি বর্তমানে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারের বাংলো হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে এই সংস্কারকাজ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।


সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন গুদামঘর হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া প্রায় শত বছরের পুরোনো ভবনটিতে সম্প্রতি সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে রং করার পাশাপাশি চলাচলের রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। একই সঙ্গে কমিশনার কার্যালয়ের মূল গেটের কাছে বসানো হয়েছে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর বা ওয়াক-থ্রু মেটাল ডিটেক্টর গেট।


পুরোনো ভবনটির স্থাপত্য ও অবয়ব এখনো অনেকটাই রাজকীয় প্রাসাদের মতো। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত বা গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পর ভবনটি নতুন করে কমিশনারের বাংলো হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।


তবে সংস্কারকাজ, ভবনে রং করা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর বসানোর ক্ষেত্রে কোনো টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের অভিযোগ, এসব কাজের ক্ষেত্রে যথাযথ দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও নিয়মকানুন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।


বিষয়টি নিয়ে জানতে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ রাশেদুল আলমের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করা হলেও তাকে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। পরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ওয়াহিদ হাসান বলেন, ‘আমি সবে মাত্র যোগদান করেছি। স্যার খুব ব্যস্ত রয়েছেন, সাক্ষাৎ করতে পারবেন না।’


তবে সংস্কারকাজের ব্যয়, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং মেটাল ডিটেক্টরসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের অনুমোদন ও সরকারি বিধি অনুসরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এদিকে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ভবনটির সংস্কার ও নতুন ব্যবহার নিয়ে যেমন আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তেমনি সরকারি অর্থ ব্যয় ও দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩৬ পিএম

নীলফামারীর জলঢাকায় অবৈধভাবে মজুদ করা ৪৬৪ বস্তা সার জব্দের পর তা কৃষকদের পরিবর্তে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জব্দকৃত সার প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের বালারপুকুর স্বপনবাজার এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপির নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে মেসার্স মুয়াজ এন্টারপ্রাইজ থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৪৬৪ বস্তা সার জব্দ করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জব্দকৃত সার কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।


তবে অভিযোগ উঠেছে, জব্দ করা এসব সার কৃষকদের কাছে বিক্রি না করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হোসেন আলী ও মো. শামসুজ্জামান।


অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বুধবার সরেজমিনে গেলে স্থানীয় এক পাইকারের কাছে ২৫ বস্তা সার বিক্রির বিষয়টি সামনে আসে। ভ্যানে করে ওই সার নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ভ্যানটি আটক করেন। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ভ্যানে থাকা সারগুলো পুনরায় গোডাউনে নামিয়ে রাখে।এসময় মোরছালিন( পাইকার) সার কেনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। খেরকাটি বাজারে তার একটি খুচরা সারের দোকান রয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, জব্দকৃত সার কৃষকদের মধ্যে বিক্রির কথা থাকলেও বাস্তবে নামমাত্র কয়েকজন কৃষককে সার দিয়ে বাকিগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।


এদিকে বাজারে সারের সংকটের মধ্যে জব্দ করা সার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ন্যায্যমূল্যে পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন স্থানীয় কৃষকেরা। কৃষকদের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।


জব্দ করা সার বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হোসেন আলী বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।


এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, “ওখানে কি হয়েছে বিষয়টি আগে জানতে হবে, তারপর মন্তব্য দেব।”


তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।”


স্থানীয়দের দাবি, জব্দকৃত সার বিক্রির প্রক্রিয়া, কৃষকদের তালিকা, ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রির অভিযোগ এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জব্দকৃত সার কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৩ পিএম

ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনয়ন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাসমূহ নিরসনপূর্বক বিচার কাজকে আরও দ্রততর করতে বরগুনায় মাসিক পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বরগুনা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আয়োজনে বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


বরগুনা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: ইকবাল মাসুদ এর সভাপতিত্বে ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ হোসাইন’র সঞ্চালনায় কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সজল চন্দ্র শীল, বিজ্ঞ বিচারক বৃন্দ, আইনজীবীগণ, বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বরগুনা জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ। 


ফৌজদারি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, যথাযথভাবে ওয়ারেন্ট তামিল, সাক্ষী হাজির করা, তাদের নিরাপত্তা, সময়মতো মালখানা থেকে আদালতে আলামত উপস্থাপন সহ ফৌজদারি মামলায় ন্যায় বিচার নিশ্চিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় কনফারেন্সে।

সর্বশেষ সব খবর