জেলায় শীর্ষে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে ছয় জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে নোয়াখালী। তবে জেলার সেরা ফলাফল করেছে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শতভাগ পাসের পাশাপাশি এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫২ জন শিক্ষার্থী।
আজ সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার ২৪৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ১৫২ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। ফলে গতবারের ধারাবাহিকতায় এবারও বিদ্যালয়টি জেলায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নোয়াখালী জিলা স্কুল। এ বিদ্যালয় থেকে ২৩৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৩০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩১ জন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৯৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নোয়াখালী জেলায় সার্বিক পাসের হার ৫৯.৯৮%, যা কুমিল্লা বোর্ডের গড় পাসের হার (৬৫.৪২%) অপেক্ষা প্রায় ৫.৪৪% কম। তবে এ বছর ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও পাশের হার অনেকটা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দেখা যায় মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছেলেদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেছে ১০ হাজার ৩৫৭ জন পাশ করেছে ৬ হাজার ৮ জন অন্যদিকে মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল ১৪ হাজার ৭২৬ জন পাশ করেছে ৯ হাজার ৩৮ জন।
এর মধ্যে জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১হাজার২১৭ জন শিক্ষার্থী এবং শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান ৪টি। গত বছর ও এ জেলায় পাশের হার ছিল ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশ যদিও এ বছর কিছুটা বেড়েছে।
এ দিকে জেলাভিত্তিক ফলাফলে পিছিয়ে থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে ভালো ফলাফল দেখিয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যেখানে পাশের হার ৬৮.৬৮% হলেও জিপিএ-৫ সর্বোচ্ছ ৬৩০টি পেয়েছে নোয়াখালী সদর উপজেলা। ফলাফল খারাপ করেছে হাতিয়া উপজেলা যার পাশের ৪৮.৭০ শতাংশ।
নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করার ব্যাপারে বলেন, শিক্ষকদের কঠোর নজরদারি, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, অভিভাবকদের সঠিক তত্ত্বাবধায়ন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তীব্র নজরধারী ও তাদের কঠোর অধ্যাবসায়ই এ সাফল্যের মূল কারণ। তিনি বলেন গত বছরেও এই বিদ্যালয়টি জেলায় ফলাফলে শীর্ষস্থানে ছিল। আগামী বছরেও ফলাফল শতভাগ করার জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা নিয়ে পাঠদান করানো হবে।
সিলেট বোর্ডে এগিয়ে মেয়েরা
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে কমেছে পাসের হার। তবে বেড়েছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ৮৯ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্রী ৩২ হাজার ৬৮ জন এবং ছাত্র ১৯ হাজার ৮৮৯ জন। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি-দুই ক্ষেত্রেই এবার এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। যেখানে মেয়েদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আর ছেলেদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে মেয়েরা। মোট ৩ হাজার ৮৩৬টি জিপিএ-৫-এর মধ্যে মেয়েরা পেয়েছে ২ হাজার ৯১টি এবং ছেলেরা পেয়েছে ১ হাজার ৭৪৫টি।
২০২৫ সালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬১৪ জন। এর আগে ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। একই সঙ্গে এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ১২ হাজার ৭৯৮ জন।
সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সিলেট জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অন্যদিকে, সর্বনিম্ন পাসের হার সুনামগঞ্জ জেলায়- ৫৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। শিক্ষকদের মতে, বিভাগের দুর্গম এলাকাগুলোতে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও মানসম্মত শিক্ষকের ঘাটতিও বিভাগের ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস। কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবেই ভালো ফলাফলকে দেখছেন অভিভাবকেরা। ভবিষ্যতে আরও ভালো করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
দই ভাই
নীলফামারীর জলঢাকায় বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও বাজারে ‘দই ভাই’ নামে বিক্রি হচ্ছে দই। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের সুড়িরমোড় এলাকায় একটি বাড়িতে এ দই উৎপাদনের কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে।
তবে কারখানাটির বাইরে কোনো সাইনবোর্ড বা প্রতিষ্ঠানের নামফলক দেখা যায়নি। একই সঙ্গে কারখানাটির বিএসটিআই অনুমোদন, স্বাস্থ্যবিধি ও উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
সম্প্রতি সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি বাড়িতে ‘দই ভাই’ ব্র্যান্ডের দই উৎপাদন করা হচ্ছে। সংবাদকর্মীর উপস্থিতি টের পাওয়ার পর সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে দেখা যায়। তবে কারখানাটির বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা বা অনুমোদনের তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড দেখা যায়নি।
কারখানার স্টাফ পরিচয়দানকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছি। ব্র্যান্ডিং ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাগজপত্র রয়েছে। তবে সেগুলো উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের কাছে আছে।”
তবে কারখানাটির বিএসটিআই অনুমোদন রয়েছে কি না- এ বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট নথি বা অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেননি। ফলে উৎপাদিত দইয়ের গুণগত মান, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং সরকারি অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় ভোক্তা মো. লিখন বলেন, “আমরা বাজার থেকে ‘দই ভাই’ নামে দই কিনে খাই। কিন্তু কারখানার কোনো পরিচয় বা অনুমোদনের তথ্য না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।”
আরেক ভোক্তা শারমিন আক্তার বলেন, “খাদ্যপণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি অনুমোদন নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান খাদ্য উৎপাদন করলে তা ভোক্তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।”
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. আহমেদ আলী শাহ বলেন, “একদিন কারখানাটি যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু ওইভাবে দেখা হয়নি।”
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নীলফামারী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শিহাব উদ্দীন বলেন, “বিষয়টি শুনলাম এবং এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করতে পারেন।”
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শুধু ‘দই ভাই’ ব্র্যান্ডের তই নয় বরং বাজারে এমন সকল পন্যের উৎপাদন কারখানার বৈধতা, বিএসটিআই অনুমোদন, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অনুমোদনহীন উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিস
প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের প্রবাসে যাওয়ার প্রথম হাতিয়ার পাসপোর্ট। আর এই পাসপোর্ট করতে এসে নানা বিড়ম্বনা শিকার হন রেমিটেন্স যোদ্ধারা। পাসপোর্ট নাগরিকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি।
অনলাইনে আবেদন, নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ এবং বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করার পর নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট পাওয়ার কথা। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে এসে দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানি ও অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সেবা প্রত্যাশী।
অভিযোগ রয়েছে, অফিসের আশপাশে সক্রিয় একটি দালালচক্র নতুন পাসপোর্ট, নবায়ন, তথ্য সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবার কথা বলে সাধারণ মানুষকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। কেউ কেউ দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে একাধিক দালাল গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ড পাওয়ার পরও দালালদের তৎপরতা যেন বন্ধ হচ্ছে না। দালালরা আবার ও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসা সাদ্দাম হোসেনের অভিযোগ, নিজে নিয়ম মেনে পাসপোর্টের কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতার মুখে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে দালালের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। দ্রুত কাজ করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কাঁচপুরের বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, নিজে পাসপোর্ট আবেদন অনলাইনে জমা দিয়েছি চেয়েছিলাম সরাসরি নিজে বায়োমেট্রিক দিয়ে নিজের কাজটা নিজেই করে নিব। কিন্তু এখানে কর্মকর্তারা বিভিন্ন রুমে পাঠিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করছেন। দালাল দিয়ে কাজ করলে এত হয়রানি হতে হয় না।
বরপা এলাকার রাজমিস্ত্রী সামাদ মিয়ার বলেন, ছেলেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য বাহিরে পাঠাবো বলে পাসপোর্ট করতে এসেছিলাম। সকাল ছয়টা বাজে এই পাসপোর্ট অফিসে এসেছি এখন চারটা বাজে এখনো পাসপোর্ট অফিসের কাজ শেষ করতে পারিনি। এ পর্যন্ত চারটি রুম ঘুরে এলাম। আরেক রুম থেকে আরেক রুমে পাঠানো হয়। বিভিন্ন প্রক্রিয়া হয়রানির কারণে সাধারণ মানুষ সহজেই দালালদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালদের তৎপরতার অভিযোগের মধ্যে চলতি বছরের মে মাসে অভিযান চালানো হয়। ৭ মে নারায়ণগঞ্জের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে দালালচক্রের সাত সদস্যকে আটক করে র্যাব-১১ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানকারী দল। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক সাতজনের মধ্যে চারজনকে ১০ দিন এবং তিনজনকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে জরিমানাও করা হয়।
সেবা প্রত্যাশীদের দাবি আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি নতুন পাসপোর্টের জন্য এসেছেন, কার কাগজে ঘাটতি রয়েছে, কার আবেদন নিয়ে সমস্যা হয়েছে কিংবা কোন আবেদনকারী দ্রুত সেবা পেতে আগ্রহী- এসব তথ্য দালালরা কীভাবে জানতে পারছেন, এটা খতিয়ে দেখা দরকার। বিশেষ করে কোনো সেবা প্রত্যাশীর আবেদন বা ফাইলের অভ্যন্তরীণ তথ্য কিভাবে অফিসের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছায়, ধরনের অভিযোগের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে- এমনটি দাবি সেবা প্রত্যাশীদের।
পাসপোর্ট নিতে আসা মানিক মিয়া জানান পাসপোর্ট সেবা কোনো ব্যক্তির দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি আমাদের নাগরিকের অধিকার। সরকারের নির্ধারিত সরকারি ফি দিয়ে আমরা দালালের সাহায্য ছাড়াই স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত ভাবে পাসপোর্ট সেবা পাব-এটাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের প্রত্যাশা।
নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সদ্য যোগদানকারী উপপরিচালক আবু নাঈম মাসুম দায়িত্ব নেওয়ার পর অফিসে ভোগান্তি বেড়েছে। বেড়েছে দালালদের তৎপরতাও।
ভুক্তভোগীদের দাবি দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান ও গ্রেপ্তার নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু অভিযানের পরও যদি একই চক্র আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে, তাহলে শুধু দালাল আটক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। দালালদের অফিসের সামনে অবস্থান ঠেকানো, সেবা প্রত্যাশীদের সরাসরি তথ্য দেওয়া, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা করা এবং কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী দালালদের সহযোগিতা করছেন কি না- তা কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে ।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক আবু নাঈম মাসুম বলেন, আমি আসার পর থেকে পাসপোর্ট অফিসকে গতিশীল করেছি। এখানে ফটোকপির করার ব্যবস্থা করেছি যাতে বাইরে ফটোকপি করতে বাইরে যেতে না হয়। এছাড়া আনসার সদস্যরা মাইকিং করে লাইনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। আমার এখানে কোন দালাল নেই।
টাঙ্গাইলে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার নিয়ে মতবিনিময়
নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে টাঙ্গাইলে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নারীপক্ষ’ শহরের হবিবুর রহমান প্লাজার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
নারীপক্ষের ‘স্থানীয় সম্পৃক্ততায় নারীর কর্মসংস্থান প্রসার’ প্রকল্পের আওতায় ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার : জেন্ডার-সংবেদনশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই মতবিনিময় সভায় নারীর অর্থনৈতিক অধিকার, কর্মসংস্থান, সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া, উদ্যোক্তা হিসেবে নারীর বিকাশ এবং সমাজে নারীর প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণে গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মতবিনিময় সভায় ‘স্থানীয় সম্পৃক্ততায় নারীর কর্মসংস্থান প্রসার’ প্রকল্পের পরিচালক রওশনারা আক্তার প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, টাঙ্গাইল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ রাশেদুল ইসলাম, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আরপিডিও’র নির্বাহী পরিচালক রওশানা লিলি, স্থানীয় সম্পৃক্ততায় নারী কর্মজীবী সংস্থার সহ-ব্যবস্থাপক লিপি লিলিয়ান রোজারিও প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু নারীদের উন্নয়নের বিষয় নয়, এটি একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের অধিকার ও সম্ভাবনাকে গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।
তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নারীকে কেবল ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন না করে, সমাজে তাদের সাফল্য, সম্ভাবনা, নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক অবদানকেও সমান গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন। সভায় স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলের মধুপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয় দখল ও পাল্টা দাবিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিরোধের জের ধরে জেলা বাস মিনিবাস সমিতির কাছে পৃথক তিনটি প্রস্তাবিত কমিটি জমা পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা কমিটি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, মধুপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব নিয়ে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু রাজ এবং দপ্তর সম্পাদক আ. সামাদ ওরফে ছালামের পক্ষের মধ্যে বিরোধ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। বাবু রাজের পক্ষের অভিযোগ, দপ্তর সম্পাদক ছালাম তার লোকজন নিয়ে সমিতির প্রধান কার্যালয়টি অবৈধভাবে জবরদখল করেছেন। দখলকারীরা কার্যালয় থেকে সাধারণ সম্পাদকের নামফলক সরিয়ে ফেলেছে এবং তার ব্যক্তিগত আসবাবপত্র বাইরে ফেলে দিয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ছালামের পক্ষ দাবি করেছে, তারা কোনো কার্যালয় দখল করেননি। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বাবু রাজ নিয়মিত কার্যালয়ে আসেন না বলে তার ব্যক্তিগত আসবাবপত্রগুলো সরিয়ে রাখা হয়েছে মাত্র।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাসুম হাসনাইন বাবু রাজ তাঁর মালিকানাধীন গাড়ি মধুপুর উপজেলা বিএনপির নেতা প্রিন্সের নামে এফিডেভিট করে দিয়ে সমিতির সদস্য করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি প্রিন্সকে বাদ দিয়ে মুকুল সিদ্দিকীকে সদস্যপদ দেন। এ নিয়েই মূলত সমিতির সদস্যদের মধ্যে মতদ্বৈততার শুরু হয়।
এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে টাঙ্গাইল জেলা বাস মিনিবাস সমিতির কাছে পৃথক তিনটি প্রস্তাবিত কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে-
প্রথম প্রস্তাব: মুকুল সিদ্দিকী (সভাপতি) ও মাসুম হাসনাইন বাবু রাজ (সাধারণ সম্পাদক)।
দ্বিতীয় প্রস্তাব: আ. সামাদ ওরফে ছালাম (সভাপতি) ও ফরহাদ হোসেন (সাধারণ সম্পাদক)।
তৃতীয় প্রস্তাব: মাসুম হাসনাইন বাবু রাজ (সভাপতি) ও ফরহাদ হোসেন (সাধারণ সম্পাদক)।
কার্যালয় দখল এবং তিনটি পৃথক কমিটি জমার ঘটনায় সাধারণ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা কমিটির হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
মধুপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম, সহ-প্রচার সম্পাদক আল-আমিন সহ সাধারণ মালিকরা জানান, বর্তমান কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন খান আওয়ামীলীগ সমর্থিত হওয়ায় নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সমিতির মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান জেলা কমিটিই করতে পারবে।
তবে তাদের দাবি, সমিতিকে রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত রেখে শুধুমাত্র মালিক-ব্যবসায়ীদের দিয়ে কমিটি করে দেওয়া হোক। জেলা কমিটির সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানাবে।
মধুপুর উপজেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন জানান, ২৮জন বাস মিনিবাসের মালিক নিয়ে ২০২২ সালে সমিতির মধুপুর শাখা গঠন করা হয়। মালিকরা সাধারণত সন্ধ্যার পর সমিতির কার্যালয়ে আসেন। বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক আ. সামাদ ওরফে ছালামের গ্রুপের লোকজন দুপুরের দিকে কার্যালয়টি দখলে নেয়- এটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। তবে এখানকার মালিকরা সবাই জেলা কমিটির সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কমিটির সদস্য সচিব নিলুফার ইয়াসমিন খান জানান, মধুপুর সমিতির বিরোধের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তিনটি পৃথক প্রস্তাবিত কমিটি তারা হাতে পেয়েছেন। তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেবেন।
টাঙ্গাইল জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান খান জানান, সাধারণ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত সংঘাত এড়াতে তারা উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছেন। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সুশৃঙ্খল একক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রেলস্টেশনে বুকিং সহকারীদের মানববন্ধন
রাজশাহী রেল স্টেশনে চীফ কসার্শিয়াল ম্যানেজার আহসানউল্লাহ ভূঁইয়া ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিরাপদ কর্মস্থলের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশনের সকল বুকিং সহকারীরা। আজ সোমবার দুপুরে রেল স্টেশন প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী রেজাউল করিম, সহকারী স্টেশন মাস্টার নাজমুল ইসলাম, বুকিং সহকারী গ্রেড ২ আশরাফুল ইসলাম ও তারেক রহমান প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনানুক ব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানান।