নিজ বাসায় প্রবীণ ব্যবসায়ী, তার স্ত্রী ও গৃহকর্মী হত্যাকাণ্ড

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২০ পিএম

সিলেট নগরির রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার নিজ বাসায় প্রবীণ ব্যবসায়ী, তার স্ত্রী ও গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার ৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে এ হত্যাকাণ্ডের পর বিকেলে বাবুল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। 


পুলিশের দাবি, ওই বাসার খুন হওয়া গৃহকর্মীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে ব্যর্থ হয়েই বাবুল মিয়া একাই তিনজনকে খুন করেন। জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশ এমনটি দাবি করলেও এ ঘটনা নিয়ে আরও কিছু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যার উত্তর মিলছে না। ফলে পুলিশের 'রহস্য উদঘাটনের' দাবি নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। বুধবার সকালে নিজ বাসায় খুন হন সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক, ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৯০) তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৫) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম (২৫)। সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির চার সন্তানই ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় থাকেন।

 

হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ জানায়, নিহত দম্পতির বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রব খোলা রয়েছে। স্বর্ণালংকারসহ জিনিসপত্র খোয়া যায়। এছাড়া বাসার মেঝেতে জমির একটি দলিল পড়ে থাকার কথা জানা যায়। প্রশ্ন ওঠেছে, কেবল শারীরিক সম্পর্কে বাধার কারণে তিনজনকে খুন করা হলে বাসার জিনিসপত্র লুট করল কে? জমির দলিলই বা মেঝেতে কেন? একজন অপেশাদার 'খুনির' দ্বারা কোন পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সকালে একা তিন জনকে খুন করা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। খুন হওয়া গৃহকর্মী আর আটক বাবুল মিয়ার বয়সের পার্থক্যের কারণেও তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হওয়া কতটুকু বাস্তবসম্মত এমন প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।


এছাড়া আব্দুস সাত্তারের জমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে। বিশেষত আব্দুস সাত্তারের জমিসংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি ছিল ১৯ আগস্ট। এই রায়ের এক সপ্তাহ আগে এমন হত্যাকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। এই জমিসংক্রান্ত বিরোধের দিকে ইঙ্গিত করে বুধবারই আব্দুস সাত্তারের এক আত্মীয় বলেন, আমরা আগেই ধারণা করেছিলাম, এরকম কিছু (হত্যাকাণ্ড) হতে পারে। এর আগেও আব্দুস সাত্তারকে বাসায় এসে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। হুমকি পেয়ে আব্দুস সাত্তারের মেয়ে থানায় জিডিও করেছিলেন। 


হত্যার খবরে পেয়ে বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, বাসার ওয়ারড্রব ও আলমারি খোলা আছে। স্বর্ণসহ দামি জিনিস খোয়া গেছে বলে জেনেছি। চুরি ডাকাতির ঘটনা কী না তা তদন্ত করা হচ্ছে। এখানে একটি দলিলও পাওয়া গেছে। সেটিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এছাড়া অন্য কোন কারণে হত্যা করা হয়েছে কী না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 


এছাড়া পারিবারিক বিরোধ আছে কী না তাও খতিয়ে দেখছি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এই তিন বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এমন বহুমুখী সন্দেহ ও আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছিল দিনভর। তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় বিকেলে ওই এলাকারই একটি কলোনি থেকে বাবুল মিয়া নামে একজনকে আটকের পর।


বাবুল মিয়াকে আটকের পর সন্ধ্যায় পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, বাবুল মিয়া ওই বাসার রংমিস্ত্রির কাজ করত, মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করত। ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাবুল ওই বাসায় গিয়ে গৃহকর্মীকে নিয়ে একটি কক্ষে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে মেয়েটিকে আঘাত করে। 


তিনি বলেন, শব্দ পেয়ে আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের চিৎকার শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে আসেন। তখন তাকেও ছুরি মেরে হত্যা করে বাবুল। পরে সে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়।পুলিশের এমন দাবি নিয়ে কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে আইনজীবী ও সাংবাদিক মইনুল হক বুলবুল ফেসবুকে লিখেন- শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য প্রেমিকার কাছে আসলে, সে সময়টা সকাল সাড়ে ৯টা উপযুক্ত কি? যদি শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য আসে, তবে সঙ্গে খুন করার উপযোগী ছুরি রাখার দরকার কী? খুন করার পর বাসার পাশের খালি জায়গায় ছুরি ফেলে যাওয়ার দরকার কী? তিনটি খুন করার পুরও খুনি আটক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত একই পাড়ায় কেন অবস্থান করছিল? 


পুলিশ বলছে, ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। এ সুযোগেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের আগ মুহূর্তের ফুটেজ দেখে বাবুল মিয়াকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। 


এসব ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, বাবুল মিয়া নিজেই হত্যাকাণ্ডের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।


বাসা থেকে মালামাল খোয়া যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাসায় কী কী জিনিস ছিল বা কী কী খোয়া গেছে এরকম কোন তথ্য বা অভিযোগ আমরা পাইনি। 


আটক বাবুল মিয়াও জানিয়েছেন, তিনি কোন মালামাল নেননি।আগের দিনের পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রব খোলা ছিল। তাই কোন মালামাল খোয়া গেছে কী না তা খতিয়ে দেখার কথা বলেছিলেন কমিশনার মহোদয়। ওসি বলেন, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আজ মামলা দায়ের করা হবে। এরপর আসামিকে কোর্টে হাজির করা হবে।


জানা যায়, নগরীর রিকাবীবাজারে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির জায়গা ও সেখানে ইম্পাস টাওয়ার নির্মাণ নিয়ে একটি প্রভাবশালী পক্ষের সঙ্গে আব্দুস সাত্তারের কোটি টাকার জমি নিয়ে স্বত্ব মামলা চলছে। 


নিহত আব্দুস সাত্তারের আইনজীবী আজিজুর রহমান মানিক জানান, রিকাবীবাজারের জায়গা নিয়ে সাত্তার ২০২৩ সালে স্বত্ব মামলা (নম্বর ২১১/২৩) করেন। আদালতের আদেশের পর ওই মামলার বিবাদী সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সাত্তারকে বিবাদী করে সিভিল রিভিশন মামলা (নম্বর ৭০/২৩) দায়ের করেন। আগামী ১৯ আগস্ট ওই মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল।


আইনজীবী বলেন, প্রতিটি শুনানিতে আব্দুস সাত্তার আদালতে হাজিরা দিতেন। দুই সপ্তাহ আগেও শুনানির দিনে আসেন। ওই দিন বিবাদী সিরাজুল ইসলাম তাকে হুমকিও দেন এবং খারাপ ব্যবহার করেন। হত্যাকাণ্ডের পর সাত্তারের ঘরের তিনটি ওয়ারড্রব ও আলমারি তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখান থেকে মামলার নথিপত্র ও মূল দলিল খোয়া গেছে। ঘরের মেঝেতে কেবল একটি দলিলের অনুলিপি পড়ে থাকতে দেখা যায়। শুনানির মাত্র ছয় দিন আগে এই হত্যাকাণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গায়েব হওয়া কেবলই কাকতালীয় কি না- তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 


ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের পরিচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের কারণেই পরিকল্পিতভাবে আব্দুস সাত্তারকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। রিকাবীবাজারের জায়গার বিরোধকে এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান সূত্র হিসেবে ধরে তদন্ত করার দাবি জানান তিনি।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৯ পিএম

সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র । এর মধ্যে ভিডিও কলে এক ছাত্রকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে তার বাবার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। 


এ ঘটনায় দুজনের অভিভাবক নগরের শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্র হলো তামিম আহমেদ ও সাঈদ মাসুদ চৌধুরী (নাঈম)। ১৫ বছর বয়সী দুজনই সিলেটের খাদিম পাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায হিফজ বিভাগে পড়ে। তামিম দক্ষিণসুরমা বড়াইকান্দি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং সাঈদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মউগ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে। 


ছাত্রদের অভিভাবক, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের ফাঁকে ওই দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সাঈদের বাবার মুঠোফোনের ইমো অ্যাপে একটি নম্বরহীন অ্যাকাউন্ট থেকে নাঈমকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছে দুই ছাত্রের অভিভাবক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। 


এ বিষয়ে জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ জানান, ‘গত মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় ওই ছাত্র দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে তামিম আরও দুবার মাদ্রাসা থেকে না বলেই বাসায় চলে গিয়েছিল। পরে তার বাবা এসে দিয়ে গিয়েছিলেন। এবার সাঈদ ও তামিম দুজনই একসঙ্গে ফজরের নামাজের ফাঁকে বের হয়ে যায় বলে জেনেছি। বিষয়টি তাদের মা-বাবাকে জানাই।


’সাঈদের বাবা বেবুল আহমদ জানান, ‘মাদ্রাসা থেকে বাসায় গেছে কি না, এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার হুজুর কল দিয়েছিলেন। আমরা জানাই যে সে (নাঈম) আসেনি। সিলেটের বিভিন্ন জায়গায়ও খোঁজাখুজি করেছি। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আমার ইমোতে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। ইমোর অ্যাকাউন্টে কোনো নম্বর দেখা যাচ্ছিল না। তখন একের পর এক কল দিচ্ছিলাম, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে রিসিভ করা হয়নি।’


বেবলু আহমদ জানান, ‘পরে সন্ধ্যার পর ভিডিও কলে আমার ছেলেকে হাত-পা বেঁধে রাখা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়; ভিডিও পাঠিয়েছে। পরে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলে । নয়তো আমার ছেলেকে তারা মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’ তবে কে বা কারা অর্থ দাবি করছে, তা তিনি জানেন না।


আরেক ছাত্র তামিমের বাবা আবদুস সাত্তার জানান, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসা থেকে এর আগেও দুবার বের হয়ে বাসায় চলে গিয়েছিল। আবারও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আল্লাহ জানেন, আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না।’


শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, ‘ওই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা জিডি করেছে। আমরা সারা দেশে দুই ছাত্রের ছবি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’


ইমোতে অর্থ দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ইমোতে যে নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটা যাচাই করে দেখা হয়েছে, তা এক বছর ধরে বন্ধ। অনেক সময় নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে কিছু প্রতারক চক্র এমন সুযোগ নেয়। আর ইমোতে কয়েক সেকেন্ডের যে ভিডিও পাঠানো হয়েছে, তা অস্পষ্ট। তবে আমরা খোঁজ করছি।’

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।


শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে টেক্সটাইল-রুবি গেট হয়ে দুই নম্বর গেইট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পলিটেকনিক্যাল মোড়ে এসে শেষ হয়।


চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর ছাত্রদল নেতা রেজাউল, মোহাম্মদ রুবেল, মো.মাহমুদ, আইন কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো.রিয়াজ, পাহাড়তলী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রকি, মো.ইয়াছিন আফ্রিদি,পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ বকুল, মো.আহাদ, মো.সামি, মো.মহসিন,কলেজ ছাত্রদলের সংগঠক মো.তানভীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ পিএম

অবৈধভাবে রাসায়নিক সার বিক্রি করার অপরাধে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মোতাহার হোসেন নামে এক সার ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে আটক ২১ বস্তা সার সরকারি মুল্যে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এনএম ইসফাকুল কবীর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ আদেশ দেন।


পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামানিক জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে আব্দুল খালেক এর বাড়িতে ৭ বস্তা টিএসপি ও ১৪ বস্তা এমওপি সার সহ সার ব্যবসায়ী মোতাহার এবং গৃহকর্তা খালেককে বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক করে স্থানীয়রা। পরে থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ সার সহ ঐ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সার ব্যবস্থাপনা আইনের ২০০৬ এর ১২(৩) ধারা মোতাবেক সার সাব-ডিলার মোতাহারকে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং আটক করা ২১ বস্তা সার বাজেয়াপ্ত করে প্রকাশ্যে জাবরহাট ইউনিয়নের কৃষগনের মাঝে সরকারি দামে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ দেন।


আটক করা সার রবিবার প্রকাশ্যে বিক্রি করার ব্যবস্থা করবেন কৃষি বিভাগ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝালকাঠির নলছিটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।


১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:হাবিবুর রহমান,নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন,উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো:ওবায়দুল ইসলাম,উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা:আবু সালেহ মো:ইফাদ ইশতিয়াক,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট,বিডি ক্লিন বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা।


আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।ঝোপঝাড় পরিস্কার,ড্রেন,নালা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রেখে সকলে মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।


আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্তর থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্তরে ফেরত আসে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ পিএম

জলবায়ু ন্যায়বিচার, জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যৎ এবং দ্রুত ও ন্যায্য অর্থায়নকৃত জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে কলাপাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে । বৈশ্বিক কর্মসূচি গ্লোবাল উইক অফ অ্যাকশন এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্বরে  এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশবাদি সংগঠন  ও নদী রক্ষা আন্দোলন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ ও আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


এতে  বক্তব্য রাখেন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা'র কলাপাড়ার সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সদস্য রফিকুল ইসলাম মিরাজ, পরিবেশ সংগঠক সাইফুল্লাহ মাহমুদ, পরিবেশ সংগঠক আমরা কলাপাড়াবাসী সংগঠনের সাবেক সভাপতি  নজরুল ইসলাম প্রমুখ। 


বক্তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং কপ থার্টি ওয়ান (COP31)-এর প্রাক্কালে আয়োজিত এই বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আমরা দাবি জানাচ্ছি—জীবাশ্ম জ্বালানির অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের জন্য দ্রুত ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবায়ন করতে হবে।


এছাড়া বক্তারা কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট আশুগঞ্জ বিদুৎ কেন্দ্র কে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র দু'টির অভ্যন্তরের বিপুল পরিমাণ খালি জায়গা রয়েছে। যেখানে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে সৌরসিষ্টেম চালু করার দাবি জানান। 


কয়লা দূষণ বন্ধে সমাজিক আন্দোলনে সকল শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।  পরিবেশ  দূষণ বন্ধে কয়লা দূষণ বন্ধের কোন বিকল্প নেই। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৬ পিএম

নাটোরের লালপুরে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (২০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুই আরোহী হৃদয় (২০) ও মনি (২২) আহত হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালপুর-গোপালপুর সড়কের শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ট্রাককে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাক, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী গুরুতর আহত হন।


খবর পেয়ে লালপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুল্লাহ লালপুরের উত্তর লালপুর গ্রামের শহীদুজ্জামান লাকির ছেলে।


আহত হৃদয় ও মনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত হৃদয় চকদৈবকী  গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে ও মনি একই গ্রামের নাজির উদ্দিনের ছেলে।


ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প:প::কর্মকর্তা ডাক্তার মঞ্জুর রহমান।

সর্বশেষ সব খবর