হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজারে ব্রিটিশ হাই কমিশনার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬, সময় : ৪:০০ এএম

স্মৃতি মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। স্মৃতি মানুষকে সুখ দেয় এবং দুঃখও দেয়। তেমনি এক স্মৃতি নিয়ে আমি বেঁচে আছি। ২০০৪ সালের ২১ মে শুক্রবার হযরত শাহজালাল (রহ:) এর মাজার জিয়ারতে আসেন তৎকালীন বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী। এ সময় তিনি সহ আমরা অনেকেই গ্রেনেড হামলার শিকার হই। গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি আজও ভুলতে পারিনি। ঘটনাটি আমাকে বার বার পীড়া দেয়। এ ভয়াবহ ঘটনার দীর্ঘ ২২ বছর অতিবাহিত হচ্ছে। 


তারপরও মনের ওই ভয়ংকর স্মৃতি আজও মন থেকে চলে যায়নি। ঘটনার দিন হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজার প্রাঙ্গণে গেলে বৃটিশ হাই কমিশনারের সাথে গ্রেনেড হামলার শিকার হই। দীর্ঘ ১৮ দিন এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরলেও এখনও পায়ে ও হাতে অসংখ্য প্লিন্টার নিয়ে অসহ্য যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে জীবন ধারণ করছি। আজও সেই ২১মে’র দিনটি আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, সেই ভয়ংকর ঘটনার কথা। 


সিলেটের ইতিহাসে ২০০৪ সালের ২১ মে নির্মম একটি দিন। এ দিনে আমাদের গৌরব সিলেটি বংশোদ্ভুত বৃটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীসহ সরকারী কর্মকর্তা, আইনজীবী সাংবাদিকসহ সিলেটের অনেক মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজার প্রাঙ্গণ। এ ঘটনার বিচারও হয়েছে।



২১ মে শুক্রবার ২০০৪ সাল। সকাল ১১টা। গোসল সেরে বের হই হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজার প্রাঙ্গণের উদ্দেশ্যে। তখন সিলেটের প্রাচীনতম পত্রিকা দৈনিক যুগভেরীতে কাজ করতাম। বাসা ছিল নগরীর মীরবক্সটুলায়। বাসা থেকে হেটে হেটে যাত্রা শুরু করি। তখন সম্ভবত বেলা ১২ টা বা তার চাইতে বেশি হবে। হযরত শাহজালাল (রহ:) দরগা প্রাঙ্গণের প্রধান ফটকের কাছে গিয়ে দেখি তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবুল হোসেন ও তার গানম্যান জীবন মিয়াকে নিয়ে দাঁড়ানো। এ এলাকায় তেমন পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি। 


তখন আমি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে একজন পুলিশকে জিজ্ঞেস করলাম কোনো ভিআইপির আসবেন না কি? জবাবে বৃটিশ হাই কমিশনারের আগমন সম্পর্কে জানলাম। তবে আগে জানতাম তিনি সিলেট আসছেন। মনে হয় দরগায় আসাটা স্বাভাবিক। কারণ যেকোনো ভিআইপি সিলেট আসলে দরগাহ হযরত শাহজালাল (রহ:) এর মাজারে আসেন। এ বিষয়ে আগের দিন অফিসেও আলোচনা হয়েছে তার সফরসূচি নিয়ে। শহরের অভ্যন্তরে আমাকেও নিউজ কভার এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। 


তবে মাজারে আসবেন এটা আমাকে নিশ্চিত করা হয়নি। যাক দরগার অবস্থানের কিছু সময় যাওয়ার পর তৎকালীন বৃটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী সেখানে আসলে জেলা প্রশাসক আবুল হোসেন তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে শাহজালাল (রহ:) মাজারে নিয়ে যান। তখন ব্রিটিশ হাই কমিশনারের সাথে কুশল বিনিময় করে পরিচয় দিই। তাকে কেমন আছেন বললে, তিনি ভাল আছেন বলে জানান। সিলেটি ভাষায় তিনি একথা বলেন। তারপর তাকে মাজারে জিয়ারতে নিয়ে যাওয়া হয়। মাজার জিয়ারত শেষে হযরত শাহজালাল (রহ:) মসজিদে ঢুকে প্রথম কাতারে জুমার নামাজ আদায় করেন।

 

তৎকালীন ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজারে জুমার নামাজ শেষে প্রচন্ড ভীড়ের মধ্যে বের হন। এ সময় আমিও মসজিদের প্রধান সিড়ি থেকে নামার সময় তার কাছ থেকে কুশল বিনিময় করে বিদায় নেই। উৎসুক জনতা তাদের প্রিয় হাই কমিশনার বের হওয়ার সাথে সাথে কমমর্দন করতে থাকেন। তিনি যখন মসজিদের সিড়ি থেকে নামেন তখন আমি মহিলা ইবাদতখানার সামনে ছিলাম। তিনি মানুষের ভিড়ের জন্য করমর্দন করতে করতে এগুতে পারছিলেন না। মানুষ আর মানুষ। সবাই চায় প্রিয় হাই কমিশনার এর সাথে করমর্দন করতে। 


আমি প্রধান ফটকের বাম দিকের একটি রাস্তা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করি, সেখানেও মানুষের ভিড়। তারপর আর এদিকে যাওয়া হলো না। কারণ প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে বিপুল মানুষের উপস্থিতি হয় দরগাহ মসজিদে। তাই বাধ্য হয়ে প্রধান ফটক দিয়ে যাওয়ার জন্য সামনে আসলাম। তখন আমি মাজার প্রাঙ্গণে খেজুর গাছের পাশে ছিলাম। ইচ্ছা এখন সামনের দিকে যাওয়ার। 


তারপর হঠাৎ বিকট শব্দ হলো। কালো ধোয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন। বারুদের গন্ধে ও বিকট শব্দ নাক মুখ কান যেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। দু’পা তখন মনে হয় অবশ হয়ে গেছে। তখন মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। কিছু বলতে পারছিনা। পায়ে জ্বালা পোড়া শুরু হয়ে গেছে। সে সময় বোঝা গেছে যে আর বাঁচবো না। কাত হয়ে মাজার প্রাঙ্গণে পড়ে থাকলেও কেউ কাছে আসছেন না। তখন জ্ঞান থাকতে আমি ফোন করি যুগভেরীর তৎকালীন ফটো সাংবাদিক শেখ আশরাফুল আলম নাসির এর মোবাইলে। তখন তিনি ফোন কেটে দেন। 


তারপর ফোন করি তৎকালীন যুগভেরীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আজিজ আহমদ সেলিমকে। তিনি ফোন ধরলে আমি বলি মাজারে গ্রেনেড হামলা হয়েছে। আমিও আহত হয়েছি। তারপর আর কিছু বলতে পারি না। কিছু হুশ হলে দেখি এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪র্থ তলায় বারান্দায় পড়ে আছি। পুলিশ ও জনগণ আমাকে হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা চালাচ্ছেন। তখন আমার রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ সময় দেখি আমাদের এলাকার আকিলপুর গ্রামের সফিক আহমদ নামের এক যুবক হাসপাতালের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করছে। সে আমার অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে বলে কী হয়েছে? 


তখন তাকে আমার পকেটে থাকা মোবাইল বের করতে বলি এবং আমার বাড়ীর মোবাইল নম্বর দেখিয়ে বাড়ীতে জানাতে বলি। তারপর সফিকের সাথে পুলিশসহ অন্যান্য লোকজন আমাকে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪র্থ তলার ৪নং ওয়ার্ডে মেঝেতে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আমাকে মেঝেতে ফেলে রাখলেও কোন ডাক্তার তখন আসেননি। এ সময় আবার প্রচুর রক্তকরণ হচ্ছে। 


মাজার প্রাঙ্গণ থেকে ওসমানী হাসপাতাল পর্যন্ত কিন্তু প্রচুর রক্তকরণ হয়েছে। এতে আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। তারপর ওসমানী হাসপাতালে তখনকার দৈনিক যুগভেরীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মরহুম আজিজ আহমদ সেলিম, জাবের আহমদ চৌধুরী ও সাংবাদিক মির্জা সোহেল আমাকে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেন। তখন আমাকে প্রচুর স্যালাইন দেওয়া হয়। তারপর রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। আমার মনে কিছুটা শান্তি আসে এবং কখন ঘুমিয়ে পড়ি তা বলতে পারি না। তারপর বাড়ি থেকে আমার আত্মীয় স্বজন আসেন। হাসপাতালে দীর্ঘ ১৮ দিন চিকিৎসাধীন ছিলাম। এ সময় আমার ডান পায়ের উরুতে মেজর অপারেশন করে গ্রেনেডের অংশ বের করা হয়। এটা ছিল বড় আকারের। তারপরও শরীরের অনেক স্থানে প্রিন্টার রয়েছে। 


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে অনেক গণ্যমান্য লোকজন আমাকে দেখেন ও সান্ত্বনা দেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বষির্য়ান আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ, সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী মরহুম মরহুম আকবর হোসেন, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের হুইপ মরহুম ফজলুল হক আসপিয়া, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম ইনাম আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মরহুম বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, নিখোজ বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি এম. ইলিয়াস আলী, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মরহম আ.ন.ম শফিকুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইফতেখার হোসেন শামীম, 




কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও  সিলেট জেলার সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আওয়ামলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রহমান, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মো. আশফাক আহমদ, সিলেট সিটি করর্পোরেশন এর সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল খালিক, কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাটির সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারী আব্দুর রহমান জামিল, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, বিএনপি নেতা আব্দুল মালেক খান, সাবেক মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম আলহাজ্ব মাহমুদ হোসেন মঞ্জু, এডভোকেট কল্যাণ চৌধুরী, সিলেট ল কলেজের সাবেক জিএস মো. আলমগীর হোসেন, সুরমা বয়েজ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও যুব সংগঠক আনোয়ার হোসেন, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্টির নেতৃবৃন্দ, বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাষ্ট্রির নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের নেতৃবৃন্দ, সিলেট প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, বিএমএ’র নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ সাংবাদিক সহকর্মীরা। 


এ ছাড়া সুরমা বয়েজ ক্লাবের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি আফজাল রশীদ চৌধুরী বিশেষভাবে খোঁজ খবর নিয়েছেন। তারা আমার খোজ খবর নেন ও আশু সুস্থতা কামনা করেন। সকলের দোয়ায় আমি বেঁচে গেলেও বুক, হাত ও পায়ে অনেক প্লিন্টার নিয়ে জীবন যাপন করছি। এগুলোর জন্য হাতে ও পায়ে মাঝে মধ্যে যন্ত্রণাও হয়। এ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় এতো রক্তকরণ হওয়ায় আমার শরীর রক্তে ভেসে গিয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল হয়তো আমি আর বাঁচব না। কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে শরীরে প্লিন্টার নিয়ে এখনও বেঁচে আছি। 


হাসপাতালে থাকাকালীন পুলিশ, সিআইডিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকরা দেখা করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। 

সাবেক ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর হামলার ২২ বছর অতিক্রম হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের ফাঁসি কার্যকর ও দু’জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডের রায় হয়েছে। বিস্ফোরক মামলার বিচার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় সিআইডি পুলিশ আমাদের আহতদের বিভিন্নভাবে স্বাক্ষ্য নিয়েছে। ঘটনাস্থলে এনে সাক্ষীদের ডামি ছবি তুলেছেন। এছাড়া আমার কাছ থেকে স্থানীয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। 


তৎকালীন ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর সাথে গ্রেনেড হামলার  দীর্ঘদিন পর কোতোয়ালী থানার এক এসআই নোটিশ দেন কোতোয়ালী থানায় উপস্থিত হওয়ার জন্য। রাষ্ট্রীয় কাজের স্বার্থে কোতোয়ালী থানায় গেলে সিআইডির তৎকালীন এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান, তৎকালীন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আমিসহ কয়েক জন আহত লোকের সাক্ষ্য নেন এবং আহতদের একটি গাড়ীতে করে দরগাহ গেইট প্রাঙ্গণে নিয়ে আসেন। 


তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ডামি ছবি তুলতে হবে। তখন আমরা সেদিনের অবস্থানের ডামি ছবি তুলতে যাই এবং আমাদের বক্তব্যও তিনি রেকর্ড করেন। তখন আমরা এ ঘটনার সুবিচার দাবি করি। তারপর সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল৬ এ হত্যা ও বিস্ফোরন মামলার স্বাক্ষ্য প্রদান করি। 


তবে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩ জনের ফাঁসি ও দু’জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন এবং তা কার্যকরও হয়েছে। এছাড়া সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ৬ এ চার্জশীট ভূক্ত আমরা ৫৬ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তে চলে যায়। তারপর আরো ২জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। 


এ মামলাটি প্রথমে সিলেট চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচার চলে। বর্তমানে মামলাটি স্থানান্তর হয়ে জন নিরাপত্তা বিঘ্নকারি অপরাধ নিরোধ ট্রাইব্যুনালে বিচারধীন রয়েছে। এ রকম জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে এবং প্রাণহানীসহ আমাদের মতো মানুষের যাতে প্রাত্যহিক যন্ত্রণা পেতে না হয় তা চাই। 



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৯ পিএম

সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র । এর মধ্যে ভিডিও কলে এক ছাত্রকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে তার বাবার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। 


এ ঘটনায় দুজনের অভিভাবক নগরের শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্র হলো তামিম আহমেদ ও সাঈদ মাসুদ চৌধুরী (নাঈম)। ১৫ বছর বয়সী দুজনই সিলেটের খাদিম পাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায হিফজ বিভাগে পড়ে। তামিম দক্ষিণসুরমা বড়াইকান্দি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং সাঈদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মউগ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে। 


ছাত্রদের অভিভাবক, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের ফাঁকে ওই দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সাঈদের বাবার মুঠোফোনের ইমো অ্যাপে একটি নম্বরহীন অ্যাকাউন্ট থেকে নাঈমকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছে দুই ছাত্রের অভিভাবক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। 


এ বিষয়ে জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ জানান, ‘গত মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় ওই ছাত্র দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে তামিম আরও দুবার মাদ্রাসা থেকে না বলেই বাসায় চলে গিয়েছিল। পরে তার বাবা এসে দিয়ে গিয়েছিলেন। এবার সাঈদ ও তামিম দুজনই একসঙ্গে ফজরের নামাজের ফাঁকে বের হয়ে যায় বলে জেনেছি। বিষয়টি তাদের মা-বাবাকে জানাই।


’সাঈদের বাবা বেবুল আহমদ জানান, ‘মাদ্রাসা থেকে বাসায় গেছে কি না, এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার হুজুর কল দিয়েছিলেন। আমরা জানাই যে সে (নাঈম) আসেনি। সিলেটের বিভিন্ন জায়গায়ও খোঁজাখুজি করেছি। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আমার ইমোতে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। ইমোর অ্যাকাউন্টে কোনো নম্বর দেখা যাচ্ছিল না। তখন একের পর এক কল দিচ্ছিলাম, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে রিসিভ করা হয়নি।’


বেবলু আহমদ জানান, ‘পরে সন্ধ্যার পর ভিডিও কলে আমার ছেলেকে হাত-পা বেঁধে রাখা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়; ভিডিও পাঠিয়েছে। পরে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলে । নয়তো আমার ছেলেকে তারা মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’ তবে কে বা কারা অর্থ দাবি করছে, তা তিনি জানেন না।


আরেক ছাত্র তামিমের বাবা আবদুস সাত্তার জানান, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসা থেকে এর আগেও দুবার বের হয়ে বাসায় চলে গিয়েছিল। আবারও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আল্লাহ জানেন, আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না।’


শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, ‘ওই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা জিডি করেছে। আমরা সারা দেশে দুই ছাত্রের ছবি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’


ইমোতে অর্থ দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ইমোতে যে নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটা যাচাই করে দেখা হয়েছে, তা এক বছর ধরে বন্ধ। অনেক সময় নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে কিছু প্রতারক চক্র এমন সুযোগ নেয়। আর ইমোতে কয়েক সেকেন্ডের যে ভিডিও পাঠানো হয়েছে, তা অস্পষ্ট। তবে আমরা খোঁজ করছি।’

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।


শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে টেক্সটাইল-রুবি গেট হয়ে দুই নম্বর গেইট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পলিটেকনিক্যাল মোড়ে এসে শেষ হয়।


চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর ছাত্রদল নেতা রেজাউল, মোহাম্মদ রুবেল, মো.মাহমুদ, আইন কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো.রিয়াজ, পাহাড়তলী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রকি, মো.ইয়াছিন আফ্রিদি,পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ বকুল, মো.আহাদ, মো.সামি, মো.মহসিন,কলেজ ছাত্রদলের সংগঠক মো.তানভীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ পিএম

অবৈধভাবে রাসায়নিক সার বিক্রি করার অপরাধে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মোতাহার হোসেন নামে এক সার ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে আটক ২১ বস্তা সার সরকারি মুল্যে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এনএম ইসফাকুল কবীর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ আদেশ দেন।


পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামানিক জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে আব্দুল খালেক এর বাড়িতে ৭ বস্তা টিএসপি ও ১৪ বস্তা এমওপি সার সহ সার ব্যবসায়ী মোতাহার এবং গৃহকর্তা খালেককে বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক করে স্থানীয়রা। পরে থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ সার সহ ঐ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সার ব্যবস্থাপনা আইনের ২০০৬ এর ১২(৩) ধারা মোতাবেক সার সাব-ডিলার মোতাহারকে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং আটক করা ২১ বস্তা সার বাজেয়াপ্ত করে প্রকাশ্যে জাবরহাট ইউনিয়নের কৃষগনের মাঝে সরকারি দামে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ দেন।


আটক করা সার রবিবার প্রকাশ্যে বিক্রি করার ব্যবস্থা করবেন কৃষি বিভাগ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝালকাঠির নলছিটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।


১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:হাবিবুর রহমান,নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন,উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো:ওবায়দুল ইসলাম,উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা:আবু সালেহ মো:ইফাদ ইশতিয়াক,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট,বিডি ক্লিন বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা।


আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।ঝোপঝাড় পরিস্কার,ড্রেন,নালা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রেখে সকলে মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।


আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্তর থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্তরে ফেরত আসে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ পিএম

জলবায়ু ন্যায়বিচার, জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যৎ এবং দ্রুত ও ন্যায্য অর্থায়নকৃত জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে কলাপাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে । বৈশ্বিক কর্মসূচি গ্লোবাল উইক অফ অ্যাকশন এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্বরে  এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশবাদি সংগঠন  ও নদী রক্ষা আন্দোলন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ ও আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


এতে  বক্তব্য রাখেন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা'র কলাপাড়ার সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সদস্য রফিকুল ইসলাম মিরাজ, পরিবেশ সংগঠক সাইফুল্লাহ মাহমুদ, পরিবেশ সংগঠক আমরা কলাপাড়াবাসী সংগঠনের সাবেক সভাপতি  নজরুল ইসলাম প্রমুখ। 


বক্তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং কপ থার্টি ওয়ান (COP31)-এর প্রাক্কালে আয়োজিত এই বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আমরা দাবি জানাচ্ছি—জীবাশ্ম জ্বালানির অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের জন্য দ্রুত ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবায়ন করতে হবে।


এছাড়া বক্তারা কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট আশুগঞ্জ বিদুৎ কেন্দ্র কে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র দু'টির অভ্যন্তরের বিপুল পরিমাণ খালি জায়গা রয়েছে। যেখানে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে সৌরসিষ্টেম চালু করার দাবি জানান। 


কয়লা দূষণ বন্ধে সমাজিক আন্দোলনে সকল শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।  পরিবেশ  দূষণ বন্ধে কয়লা দূষণ বন্ধের কোন বিকল্প নেই। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৬ পিএম

নাটোরের লালপুরে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (২০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুই আরোহী হৃদয় (২০) ও মনি (২২) আহত হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালপুর-গোপালপুর সড়কের শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ট্রাককে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাক, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী গুরুতর আহত হন।


খবর পেয়ে লালপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুল্লাহ লালপুরের উত্তর লালপুর গ্রামের শহীদুজ্জামান লাকির ছেলে।


আহত হৃদয় ও মনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত হৃদয় চকদৈবকী  গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে ও মনি একই গ্রামের নাজির উদ্দিনের ছেলে।


ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প:প::কর্মকর্তা ডাক্তার মঞ্জুর রহমান।

সর্বশেষ সব খবর