শাহিনুর বেগম ওরফে ‘শাহিনুর সুন্দরী
রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর মহাদেবপুর এলাকায় হত্যাচেষ্টা মামলার ১ নম্বর আসামি কয়েকদিন হাজত খেটে জামিনে বেরিয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এরপর এলাকায় ফিরে মামলা তুলে নিতে কাউন্টার মামলার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছে জনপ্রতি ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও পুনরায় হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলায় হাজত খাটা ১ নম্বর আসামি শাহিনুর বেগম ওরফে ‘শাহিনুর সুন্দরী’র বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিচারপ্রার্থীরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, প্রবাসী নওশের আলম সুমনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে শাহিনুর বেগমের দায়ের করা একটি মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার ও নির্যাতনের পর পূর্বশত্রুতার জেরে গত ৩০ আগস্ট বিকেলে শাহিনুর বেগম ও তার লোকজন তার নিজের সৎ ভাই-বোন এবং বোনজামাইয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ ঘটনায় শাহিনুর বেগমের বোন, বোনজামাইসহ কয়েকজন আহত হন। পরে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা শেষে শাহিনুর বেগমের বোন সাবনাজ বেগম বাদী হয়ে শাহিনুর বেগম, তার স্বামী সাহেব আলী খেকড়ুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রংপুর কোতোয়ালি সদর থানায় মামলা করেন। মামলাটি ০২/২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়।
এরপর গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে রংপুর কোতোয়ালি সদর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে শাহিনুর বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ওই দিন দুপুরে তাকে রংপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ হাজির করা হয়। পরে বিচারক মো. আশিক-উজ-জামান ৬ সেপ্টেম্বর রোববার জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে শাহিনুর বেগমের জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। জামিনে মুক্তির পর এলাকায় ফিরে পুনরায় মামলার বাদী ও সাক্ষীসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে একই মামলার ২ নম্বর আসামি শাহিনুর বেগমের স্বামী সাহেব আলী খেকড়ু ঘটনার পরের কয়েকদিন পলাতক থাকার পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আসা এবং স্বামীর জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর শাহিনুর বেগম আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় মামলার বাদীসহ সাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন শাহিনুর বেগম।
জানা যায়, ঘটনাটির শুরু থেকেই বিষয়টি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সে সময় শাহিনুর বেগম এবং মামলার অপর আসামি, মেয়ে দাবি করা আন্নিকা আক্তার গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দেওয়া তাৎক্ষণিক বক্তব্যে ঘটনার সময় অপর পক্ষের চারজন উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন। অন্যদিকে শাহিনুর বেগম তার বক্তব্যে এলাকার সাতজনসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করার কথা উল্লেখ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর মহাদেবপুর এলাকায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ মদদে শাহিনুর বেগম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জমি দখল, মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। মূলত এলাকাবাসীর মধ্যে যারা ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখে সাক্ষী দিয়েছেন, তাদের মুখ বন্ধ এবং মামলা-বাণিজ্য করার জন্যই তাদের আসামি করে আদালতে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এর আগে, গত ২৪ জুন শাহিনুর বেগমের পালিত ছেলে (বোনের ছেলে) মো. আনোয়ার ওরফে আজিজুলকে সিলেটের মাধবপুর এলাকায় ৫৯ কেজি মাদকসহ আটক করা হয় বলে জানা গেছে। এরপর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন শাহিনুর বেগমসহ মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগেও এলাকাবাসীসহ স্থানীয় প্রবাসী বাসিন্দার বিরুদ্ধে একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণে বাধাগ্রস্ত করতে জমি জবরদখল করে হত্যার উদ্দেশ্যে কয়েকদফা হামলা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে চাঁদা দাবি ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে এই সিন্ডিকেট।
অন্যদিকে দুবাই প্রবাসী নওশের আলম সুমনকে দেশে ফিরলে কচু কাটা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়ার অভিযোগ একই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। ফলে ওই প্রবাসী ভয়ে দেশে ফিরতে পারছেন না। একই সাথে দেশে থাকা প্রবাসীর পরিবারের লোকজনের গুরুতর ক্ষতি করার হুমকিতে আতঙ্ক আর উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিননিপাত করছেন প্রবাসীর পরিবার বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এসব ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে শাহিনুর বেগমকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকার সর্বসাধারণ। একইসঙ্গে মামলার বাদী ও সাক্ষী সহ এলাকার সাধারণ নিরপরাধ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কোতয়ালী সদর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, আমি গত দু তিনদিন হলো এই থানায় যোগদান করেছি। এবিষয়ে এখনো অবগত নই তবে বিষয়টি আমি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
নীলফামারীর জলঢাকায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। শীতের ভরা মৌসুমে সবজির দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের ঝুঁকি এড়াতে আগাম সবজি চাষে ঝুঁকছেন তাঁরা। বিশেষ করে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপির ভালো ফলন এবং বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ।
জেলার জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের বাট্টুপাড়া তালুক শৌলমারী গ্রামের কৃষক সাদেকুল ইসলাম এবং আতিকুর ইসলাম দুই ভাই মিলে এবার প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। ‘অলরাউন্ডার’ জাতের এসব ফুলকপির প্রতিটির ওজন ৭০০ গ্রামের বেশি। তাঁর জমিতে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি ফুলকপির গাছ। ফলন ভালো হওয়ায় ইতোমধ্যে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তিনি।
কৃষক সাদেকুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি মণ ফুলকপি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে ৪০ শতক জমি থেকে প্রায় এক লাখ টাকার ফুলকপি বিক্রির আশা করছেন তিনি।
শুধু সাদেকুল ইসলাম নন, উপজেলার আরও কয়েকজন কৃষক আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে এ মৌসুমে তাঁরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, জলঢাকায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আগাম জাতের ফুলকপি চাষে ভালো ফলন পেতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই দমন, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা ও সময়মতো পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। আগাম সবজি চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় সবজির চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
মৌসুমের বাইরে আগাম সবজি উৎপাদন একদিকে যেমন কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে তেমনি বাজারে সারা বছর সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেও ভূমিকা রাখছে। তবে লাভের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উৎপাদন খরচ, বাজারদর ও সংরক্ষণব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেক কৃষ।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় চাড়ালকাটা নদীর পাড়ে জমে থাকা পুরোনো বালু সরাতে ইজারা দেওয়া হলেও বাস্তবে নদী কেটেই তোলা হচ্ছে বালু। ভুগর্ভস্থ বালু তুলতে নদীতে বসানো হয়েছে নিষিদ্ধ বোমা মেশিন (শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ড্রেজার)। অবৈধভাবে বালু তুলে দিনে বাণিজ্য হচ্ছে দশ লক্ষাধিক টাকার। আর সেই বালু পরিবহনে দিনরাত চলছে ভারী ডাম্প ট্রাক। এতে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বালু তোলার কারণে পারের ফসলি জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। এ ছাড়াও, হুমকির মুখে পড়েছে গ্রামীণ সড়ক, তিস্তা সেচ প্রকল্পের ক্যানেল ও বাঁধ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত জুনে জলঢাকা উপজেলার হরিশচন্দ্রপাঠ, পাইটকাপাড়া, বাশদহ ও বেরুবন্দ এলাকায় চাড়ালকাটা নদীর বামতীরে ৫১ লাখ ৪২ হাজার ঘনফুট খননকৃত বালু নিলামে বিক্রির জন্য মাত্র ৩১ লাখ টাকায় ইজারা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শর্ত ছিল, কেবল পাড়ে স্তূপীকৃত বালু ১২০ দিনের মধ্যে সরাতে হবে, নদী থেকে নতুন বালু কাটা যাবে না এবং পরিবহনে কোনো ভারী যানবাহন বা ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু একাধিক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান বৈধ এ ইজারার বালু অপসারণের আড়ালে নদীর তলদেশ থেকে বালু কেটে নিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হরিশচন্দ্রপাঠ ও পাইটকাপাড়া এলাকায় নদীর তীরে খননকৃত বালু অপসারণ না করে চাড়ালকাটা নদী থেকে ২৪ হর্স পাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচটি মেশিনে ১০ ইঞ্চি পাইপ যুক্ত করে বালু তোলা হচ্ছে। যে স্থানগুলো থেকে বালু কাটা হচ্ছে, তার ঠিক পাশেই প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নদীভাঙন রোধে রক্ষাবাঁধ নির্মাণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। অর্থাৎ একদিকে সরকারি টাকায় বাঁধ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ইজারাদারেরা নদীর তলদেশ কেটে সেই বাঁধকেই ধসিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন।এতে হুমকিতে পড়েছে পরিবেশ।
স্থানীয়রা জানান, গত ছয় মাস ধরে ইজারার নামে নদীতে মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। উত্তোলন করা বালু প্রতিদিন রাতের আঁধারে ৫০-৬০টি ভারী ডাম্প ট্রাকে করে পাচার করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। বালু তোলার কারণে ইতোমধ্যে নদীর পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে তিন-চারটি মেশিন দিয়ে বালু তোলার ফলে নিঃসৃত তেলে নদীর পানি তৈলাক্ত হয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় কৃষি ও মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত ২০ জন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, জমে থাকা বালু তো অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন ইজারার নাম দিয়ে নদী কেটে বালু তুলছে। রাতের বেলা ডাম্প ট্রাক চলাচলের বিকট শব্দে ঘুমানো যায় না। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। প্রতিবাদ করতে গেলে মামলা ও পুলিশি হয়রানির ভয় দেখানো হয়।
এদিকে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বালু বহনের কারণে স্থানীয় রাস্তাঘাট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেশ কিছু সেতু ও কালভার্ট ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোর পিচ-পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং তিস্তা সেচ প্রকল্পের সেতুর গার্ডার ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও নীলফামারী সদর সেচ প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা লিটন সরকার, জিয়াউর রহমান, মাসুদ রানা, আবুল কালাম, জমির আলী ও হামিদুর রহমানসহ অন্তত ৩০ জন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায়ই সেচ ক্যানেলের সড়ক ভেঙে হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয়। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে তিস্তা সেচ প্রকল্পের পরিদর্শন সড়ক আবারও ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্যানেল সড়ক ধসে পড়লে পুরো তিস্তা সেচ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে, যার চরম খেসারত দিতে হবে এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষককে।
পাউবো নীলফামারী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা মাহমুদ জানান, নদীর তলদেশ অপরিকল্পিতভাবে কাটলে এবং সেচ খালের বাঁধ দিয়ে নিয়মিত ভারী যান চললে নদী প্রতিরক্ষা ও সেচ প্রকল্প, দুটোই ধ্বংসের মুখে পড়বে। দ্রুত এই ডাম্প ট্রাক চলাচল ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
আইন অনুযায়ী ইজারার শর্ত ভাঙলে ইজারা বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকলেও জলঢাকা উপজেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ কেবলই নামমাত্র সতর্কবার্তায় আটকে আছে।
ইজারার শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি ইজারাদারকে কেবল মৌখিক সতর্কবার্তা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে নদী থেকে মোট কত বালু তোলা হলো কিংবা কেন রাতে ডাম্প ট্রাক চলছে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থার কথা তিনি বলতে চাননি।
তবে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি ।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম তদারকি জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার ও আধুনিক ভবন নির্মাণ এবং শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন মনিটরিং নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বিজ্ঞান সম্মত ও সহজবোধ্য শিক্ষাক্রম প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
আজ বুধবার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় এস এম ফয়সল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) স্কুল ফিডিং কর্মসূচি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "হবিগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থান দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন—এমন ধারণা সঠিক নয়। তবে এ জেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এস এম ফয়সল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০০-এর বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টির কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করে আমি মানসম্মত পাঠদান লক্ষ্য করেছি।"
তিনি বলেন, সরকার দেশব্যাপী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করেছে এবং আগামী বছরের মধ্যে এটি দেশের সব বিদ্যালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ডব্লিউএফপি মাধবপুর উপজেলায় ১৫০টির বেশি বিদ্যালয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের কর্মসূচির ভালো দিকগুলো অনুসরণ এবং সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সরকারি কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নতুন মনিটরিং নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে। চলতি মাসেই নীতিমালা টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ এবং অবকাঠামোগত নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে মডেল স্কুল প্রকল্প, পিডিবি-৫, জিপিএস প্রকল্পসহ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর বিদ্যালয় ভবন নিশ্চিত করা। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে এবং পিডিবি-৫ প্রকল্পটি ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স ও শেখার উপযোগিতা বিবেচনায় নিয়ে আরও উন্নত ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ চলছে। এ দায়িত্ব জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) দেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমে বিদ্যালয়ের এক শিফট ও দুই শিফটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সময়ের বৈষম্য দূর করা, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা ও শিখনসামগ্রী সহজবোধ্য করা এবং নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল, ডব্লিউএফপির হেড অব প্রোগ্রাম জেসি উড, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের হেড এমা লেফু, মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রাফিউর রহমানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রতিমন্ত্রী জগদীশপুর চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
রংপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম দুর্নীতি জালিয়াতির এক অভয় অরন্যে পরিনিত হয়েছে। ঘুস দুর্নীতি জালিয়াতি আর সাধারণ মানুষ কে ধোঁকা দেওয়া, আজ নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে । অর্থের বিনিময় বালাম বই এর পাতা ছিঁড়ে ফেলা, টাকার বিনিময় রেজি:কৃত দলিলের পাতা পরিবর্তন পরিবর্ধন আজ নিত্য দিনের ব্যাপার । সাধারণ মানুষের নতুন করে দলিল বালাম বইতে লিপিবদ্ধ করতে ৫/৬ বছর সময় লাগে ।
সেই সুযোগে বুঝে অফিসের অসৎ কর্মকর্তা কর্মচারীরা যোগ সাজশ করে বিপুল পরিমাণ কালো অর্থৈর বিনিময় দূর্নীতি তে লিপ্ত হচ্ছে । সেবা গ্রহীতা ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত দলিলের জাবেদা কপি তুলতে সরকারি ফির পরিবতে ৪/৫ গুন টাকা আদায় করছে তারা ।
সাধারণ মানুষ কে বোকা বানিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ছেঁড়া পাতা বই নেই ভলিয়ম পোকা খেয়ে ফেলেছে, পাতা ছিঁড়া, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না , ইত্যাদি ইত্যাদি ওজুহাত দেখিয়ে অফিসে চার পাশের সিন্ডিকে দালালরা ও কর্মচারীগন সাধারণ মানুষ কে জিম্মি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এখানে প্রতিদিন গড়ে এখানে ১০০থেকে১৫০ টিরও অধিক দলিল রেজিঃ হলেও সরকারি নির্ধারিত ফি বাদ দিয়েও অফিসের উপরি খরচ বাবদ সাহেব উপরি সর্বমোট ২/৩ হাজার টাকা প্রতি এক একটি রেজিঃদলিল করে হাতিয়ে নিচ্ছে তারা । থাম টিপ আজগর দলিলের পাতায় পাতায় ১০০টাকা না পেলে দলিল পার হয় না । অফিসে সরজমিনে গেলেই দেখা গেছে অসংখ্য নতুন দলিল মেঝেতে অযত্নে পড়ে আছে ।
অফিসে সরকারি হেফাজত কৃত রেজিঃ দলিলের মূল পাতা পরিবর্তন করে । নতুন পাতা সংযোজনের এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে । তথ্যঅনুসন্ধান ও মামলা সুত্রে জানা যায়। মোঃ নুরুজ্জামান ওরফে শাহীন (৬০) রংপুর মহানগরী মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন।উক্ত এজহার ও অন্য ১১৯/২২ বাটোয়ারা মামলা থেকে জানা যায় প্রায় ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ২৮৭৫/২০২২ ও ২৮৭৬/২০২২ নম্বর হেবা ঘোষনার দলিলের জাবেদা কপি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারী রংপুর সদর সাবরেজিস্টার অফিস থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ২৮৭৫/২০২২ ও ২৮৭৬/২০২২ নম্বর হেবা ঘোষণার দলিলের নতুন করে জাবেদা কপি সংগ্রহ করেন তাঁরা।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, আগের সংগ্রহ করা জাবেদা কপির সঙ্গে নতুন কপির তুলনা করে তাঁরা গুরুতর অসংগতি দেখতে পান। উভয় দলিলের তৃতীয় পাতার সপ্তম দফার বক্তব্য পরিবর্তন করা হয়েছে। পুরোনো পাতা সরিয়ে সেখানে নতুন করে কম্পিউটারে টাইপ করা পাতা সংযোজন করা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
এ সময় কয়েকজন সাক্ষীও উপস্থিত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।আরও জানা যায় প্রথমে উক্ত ২৮৭৫/২২ ও ২৮৭৬/২২ নম্বর হেবা ঘোষণার দলিল দুটি রেজিষ্ট্রেশন করা হয় দুইটি ভূয়া হেবাবিল এওয়াজ দলিলের সূত্রে যাহার নম্বর ১৪৪৩/০৩ ও ১৪৪৪/০৩ এবং হেবা ঘোষণার দলিল দুটি দাতা ও গৃহীতা হলেন দুই ভাই বোন এ এস এম আতাউজ্জামান ও সৈয়দা রেজিনা জামান এবং পরবর্তীতে দলিলের পাতা ও দফা পরিবর্তন করে ভিন্ন বক্তব্য সংযোজন করা হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পরিবর্তিত দলিলের ভিত্তিতে অনলাইনে পুনরায় নামজারি ও খাজনা-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এমনকি জমি অন্যত্র বিক্রির চেষ্টাও করা হয়েছে। এতে পরিবারের অন্য উত্তরাধিকারীরা তাঁদের ন্যায্য সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
অভিযোগকারীর দাবি সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
দলিলের সততা যাচাইয়ে দুই ধরনের তথ্য, প্রশ্ন সরকারি নথির নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একই দলিল নম্বরের বিপরীতে দুই ধরনের তথ্য ও বক্তব্য থাকার দাবি। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সরবরাহ করা আগের ও পরের জাবেদা কপির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে দলিলের সত্যতা যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া একই জমি নিয়ে একাধিকবার দলিল তৈরি, পৃথক ব্যক্তির নামে নামজারি এবং দলিলের তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগ সত্য হলে তা ভূমি নিবন্ধন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
জমির মালিকানা নির্ধারণ, উত্তরাধিকার ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রমাণ। সরকারি দপ্তরে সংরক্ষিত মূল নথির তথ্য নিয়েই যদি প্রশ্ন ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের জমিজমার কাগজপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ৫৭ ধারায় নির্দিষ্ট নিবন্ধন বই পরিদর্শন এবং সেখান থেকে সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে।
একই আইনের ৬০ ও ৬১ ধারায় নিবন্ধন সনদ এবং নিবন্ধন-পরবর্তী কার্যক্রমের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ৮১ ধারায় ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ভুলভাবে দলিল নকল, অনুলিপি বা নিবন্ধনের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।
প্রতিবেদক জেলা রেজিস্ট্রার শামিমা পারভীন কে জিজ্ঞেসা করা হলে তিনি বলেন, উক্ত বিষয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ কে ২৮৭৫/২২ ও ২৮৭৬/২২ দলিলের বিষয়ের ৩ নম্বর পাতার সাত দফা পরিবর্তনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি সত্যতা স্বীকার করেন।
এই বিষয় প্রতিবেদক সদর সাবরেজিস্টার অফিস কর্মচারী দলিল লিপিবদ্ধকারী মোছা: সেলিনা ও উর্মী বেগম কে ২৮৭৫/২২ ও ২৮৭৬/২২ দলিলের ৩ নম্বর পাতার সাত নম্বর দফা পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনিও এর সত্যতা স্বীকার করেন।
গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অযৌক্তিক ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গাজীপুরের টঙ্গীতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় টঙ্গী স্টেশন রোডের সরকার বাড়ির সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্টেশন রোডে এসে শেষ হয়।
মিছিল শেষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, মহানগর বিএনপি নেতা সরকার শাহনুর ইসলাম রনি এবং টঙ্গী থানা বিএনপির সাবেক শিল্পবিষয়ক সম্পাদক নবীন হোসেন।
পথসভায় বক্তারা গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে কোনো ধরনের উসকানিতে সাড়া না দিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে কোনো মহল যেন শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শিল্পকারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।
কর্মসূচিতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পাবনার আদালতে ৫৪ লাখ টাকা জরিমানা ও এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত ওয়াহেদুল ইসলামের রংপুর ও মিঠাপুকুরে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায় কার্যকর এড়াতে সম্পত্তি গোপনে হস্তান্তরের অপচেষ্টা চলায় রংপুর সদর ও মিঠাপুকুর সাব-রেজিস্ট্রার এবং সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়েছে।
আদালতের নথি ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সুরুজ গত ১১ অক্টোবর রংপুর সদর ও মহানগর সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে এস.সি-১২৮৪/২০২৫ মামলার রায় অনুযায়ী আসামির নামীয় সকল সম্পত্তির হস্তান্তর, দলিল রেজিস্ট্রি ও নামজারি মিউটেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে জাতীয় দৈনিক প্রলয় পত্রিকায় গত ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত এক সংবাদে ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের সদস্য হিসেবে ওয়াহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে রংপুরে ব্যবসায়িক বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়।
অপরদিকে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত পাবনার বিচারক এম. সারওয়ার জাহান স্বাক্ষরিত আদেশের সত্যায়িত অনুলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের রায়ে আসামি ওয়াহেদুল ইসলামকে Negotiable Instruments Act ১৮৮১ এর ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামি জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬[১][খ] ধারা মোতাবেক জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পাবনা বরাবর অর্থ আদায়ের জন্য আদেশের অনুলিপি প্রেরণ করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মামলাটি এস.সি-১২৮৪/২০২৫। বাদী ওমায়ের ইসলাম। বর্তমানে আসামি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। একই আদালতে তার বিরুদ্ধে ১৪ লাখ টাকার অপর মামলা এস.সি ১২৮৫/২০২৫ এর রায় আগামী ২১ নভেম্বর ঘোষণার জন্য ধার্য রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আদালতের ক্রোকাদেশ চলমান থাকা অবস্থায় ওয়াহেদুল ইসলামের নামীয় কোনো সম্পত্তি কিনলে ক্রেতা চরম আইনি ঝুঁকিতে পড়বেন। দলিল বাতিল ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাই রংপুর ও মিঠাপুকুর এলাকায় তার নামীয় কোনো সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকতে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।