• প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৮ পিএম

নীলফামারীর জলঢাকায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। শীতের ভরা মৌসুমে সবজির দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের ঝুঁকি এড়াতে আগাম সবজি চাষে ঝুঁকছেন তাঁরা। বিশেষ করে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপির ভালো ফলন এবং বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ।


জেলার জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের বাট্টুপাড়া তালুক শৌলমারী গ্রামের কৃষক সাদেকুল ইসলাম এবং আতিকুর ইসলাম দুই ভাই মিলে এবার প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। ‘অলরাউন্ডার’ জাতের এসব ফুলকপির প্রতিটির ওজন ৭০০ গ্রামের বেশি। তাঁর জমিতে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি ফুলকপির গাছ। ফলন ভালো হওয়ায় ইতোমধ্যে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তিনি।


কৃষক সাদেকুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি মণ ফুলকপি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে ৪০ শতক জমি থেকে প্রায় এক লাখ টাকার ফুলকপি বিক্রির আশা করছেন তিনি।

শুধু সাদেকুল ইসলাম নন,  উপজেলার আরও কয়েকজন কৃষক আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে এ মৌসুমে তাঁরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, জলঢাকায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আগাম জাতের ফুলকপি চাষে ভালো ফলন পেতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই দমন, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা ও সময়মতো পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। আগাম সবজি চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় সবজির চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।


মৌসুমের বাইরে আগাম সবজি উৎপাদন একদিকে যেমন কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে তেমনি বাজারে সারা বছর সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেও ভূমিকা রাখছে। তবে লাভের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উৎপাদন খরচ, বাজারদর ও সংরক্ষণব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেক কৃষ।



  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৩ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৩ পিএম


  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৩ পিএম


পায়রা বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক ও মিডিয়া উইং কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের  সাথে কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাব সদস্যদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের হলরুমে ক্লাবের সকল সদস্যের উপস্থিতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি  মো : আসলাম সিকদারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বন্দরের ফার্স্ট ক্লাস মেরিনার মো. রাজিব হোসেন।


এ সময় বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসকে রঞ্জন, সিনিয়র সাংবাদিক এইচ এম আকবর, রাসেল মোল্লা, মোয়াজ্জেম হোসেন, রেহান উদ্দিন রেহান, আরিফ সিকদার, তাজুল ইসলাম আজাদ, এসএম আলমগীর হোসেন, ইমন আল আহসান, নয়ন অভীরাম গাইন নয়নসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা। 


মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজিজুর রহমান বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার মাধ্যমে পায়রা বন্দর আজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। একসময় পায়রা বন্দর দেশের আলো ছড়াবে। সভায় পায়রা বন্দরের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অতিথিদের হাতে সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন প্রেসক্লাবের সকল সদস্যরা।


  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০৯ পিএম

দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতভর পৃথক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।


একই রাতে পৃথক চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ১৮ বোতল ভারতীয় মদ, ৪০৮ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ এবং ৯৪০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বিজিবি। উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ টাকা।


বুধবার (৪ নভেম্বর) দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ কিশোরীগঞ্জ বিওপির টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী পঁচাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তির মাদক সেবনের প্রস্তুতির তথ্য পেয়ে বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন।


একপর্যায়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় পাঁচজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—মোঃ লাইচু (২৭), মোঃ সাখাওয়াত (২৮), মোঃ ওমর ফারুক (৩৫), মোঃ মাজেদুর রহমান (৩২) ও মোঃ জাফরুল ইসলাম (২৩)। তাদের সবার বাড়ী দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।


পরে আটক ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশী করে ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী সময়ে উদ্ধার করা মালামালসহ আটক পাঁচজনকে বিরল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই রাতে ৪২ বিজিবির অধীনস্থ এনায়েতপুর, চাপসার ও চান্দেরহাট বিওপির সদস্যরা পৃথক চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অভিযানে দিনাজপুর জেলার বিরল এবং ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৮ বোতল ভারতীয় মদ, ৪০৮ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ ও ৯৪০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।


বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ টাকা। এসব ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া এবং এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রয়েছে।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং পরিবার ও সমাজের স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করে। তাই সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান আপসহীন।


 অপরাধের ধরন ও কৌশল বিবেচনায় নিয়ে আমাদের অভিযান আরও কার্যকর করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

দেলদুয়ারে দুপাশে পাকা সড়ক, মাঝখানে বাঁশের সাঁকোই ভরসা

:তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষের কান্না!


  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০১ পিএম

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া, দেলদুয়ার ও পাথরাইল- এই তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত ‘পরেশ সাধুর দহ’র ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলার নান্দুরিয়া চকবাজার ও পাথরাইলের টেঘুরি এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই দহটি এখন ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলাচলের একমাত্র ভরসা একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো হওয়ায় প্রতিদিন চরম বিপাকে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।


সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। উপজেলার গাদতলা-টেগুরি সড়কের আতিয়া, দেলদুয়ার ও পাথরাইল- এই তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত পরেশ সাধুর দহ’র দুপাশেই রয়েছে চমৎকার পাকা সড়ক। কিন্তু মাঝখানে দহের ওপর কোনো সেতু না থাকায় এই পাকা সড়ক দিয়ে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুপাশের পাকা সড়কটি এখন স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসছে না। যানবাহন না চলায় সড়কটি তার কার্যকারিতা হারিয়েছে এবং ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।


স্থানীয়রা জানায়, এই অঞ্চলে প্রচুর কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কিন্তু উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সেতুর অভাবে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে বা জেলা সদরে নিয়ে যেতে পারেন না। এতে তারা অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া এলাকায় কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা কোনো অন্তঃসত্ত্বা নারীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে হলে এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে চিকিৎসাসেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় ভুক্তভোগীদের প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।


এলাকাবাসীর বড় অভিযোগ, বর্তমানে এই অঞ্চলের মানুষকে টাঙ্গাইল জেলা সদরে যেতে হলে বিকল্প সড়কে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে যাতায়াত ও পরিবহন খরচও বাড়ছে কয়েক গুণ। অথচ পরেশ সাধুর দহের ওপর মাত্র একটি সেতু নির্মাণ করা হলে জেলা সদরের দূরত্ব ও যাতায়াতের সময় দুই-ই এক ধাক্কায় অর্ধেকে নেমে আসত। বাঁচত মানুষের শ্রম, সময় ও অর্থ।


নান্দুরিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন আগে গাদতলা-টেগুরি সড়কটি পাকা করা হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম আমাদের দুঃখ ঘুচবে। কিন্তু পরেশ সাধুর দহে কোনো সেতু না থাকায় এ সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। একান্ত প্রয়োজনে আমাদের মতো কিছু মানুষ শুধু পায়ে হেঁটে এই রাস্তায় চলাচল করে। পণ্য আনা-নেওয়া বা জরুরি যাতায়াতের কোনো সুযোগ এখানে নেই। এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে আমরা দ্রুত এখানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি। 


জাঙ্গালিয়া গ্রামের সাগর মিয়া, মুকুল হোসেন, আবেদ আলী সহ অনেকেই জানান, জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগে এই জায়গায় সেতু নির্মাণের বড় বড় গালভরা আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোট চলে গেলে কাজের কাজ কিছুই হয় না- সবাই সব ভুলে যান। তাদেরকে অনেক কষ্ট করে পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়। তাদের এই কষ্ট ও কান্না দেখার মতো যেন কেউ নেই। এসব এলাকার অবহেলিত জনগণের ভোগান্তি লাঘবে আর কোনো ফাঁকা আশ্বাস নয়, তারা অবিলম্বে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ ও সেতু নির্মাণ দেখতে চান। 


তিন ইউনিয়নের হাজারো ভুক্তভোগী মানুষের এখন একটাই দাবি- জনস্বার্থে, এলাকার অর্থনৈতিক স্বার্থে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধার্থে পরেশ সাধুর দহের ওপর আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত একটি স্থায়ী ও মজবুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। 


এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী জানান, তিনি বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে অবগত হয়েছেন এবং এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওইস্থানে সেতু নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে এলাকাবাসীর এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগ্রহণ ও বাস্তবায়নে এবং একটি সেতু অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৪ পিএম

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল ইউনিয়নের উত্তর বালাশুরের ২ নং ওয়ার্ডে একটি পুকুর থেকে হৃদয় হোসেন  (২৮) নামের এক যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 


নিহত হৃদয়  মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী থানার নগরজোয়ার গ্রামের মৃত কামাল ভূঁইয়া ও কুলসুম বেগমের ছেলে।


 স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৪ নভেম্বর) স্থানীয় মনামৃধা বাগানের একটি মাদক স্পটের পাশের পুকুরে হৃদয়ের  মরদেহ ভাসতে দেখে। খবর পেয়ে শ্রীনগর থানার (ওসি-তদন্ত) মিল্টন দত্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। এ সময় তার ট্রাউজারের পকেট থেকে একটি মোবাইল ফোন ও একটি মানিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। মানিব্যাগে থাকা চারিত্রিক সনদ দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ।


নিহতর স্ত্রী তানহা বলেন, গত ২ নভেম্বর বিকেলে আমার স্বামী আমার সাথে যোগাযোগ করে গেমস খেলার কথা বলে ১ হাজার টাকা চান। আমি নগদ এর মাধ্যমে  টাকা পাঠানোর পর থেকেই তার সাথে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি।


এদিকে এলাকার স্থানীয় লোকজন বলেন বেলা ১১ টার দিকে পুকুরে আমরা এই যুবকের লাশ ভাসতে দেখি।


পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। শ্রীনগর থানার ওসি তদন্ত মিলটন দত্ত জানান, লাশের সুরতহাল  রিপোর্টের পর ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।


  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৮ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ব্যবসায়ী মানিক মিয়া হত্যা মামলায় বাবা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার (০৪ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত এর বিচাক অসীম কুমার দে এই রায় ঘোষণা করেন। এসময় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই তিনজন আসামীকে যাবজ্জীবনের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার বাকী ৬ আসামীকে খালাস প্রদান করে আদালত। 


কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন, জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামের মোতাহার মিয়া, তার ছেলে মনির মিয়া ও কামাল মিয়া। রায় প্রদানের সময় আদালতে কামাল মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পলাতক রয়েছেন মোতাহার হোসেন ও মনির মিয়া। 

মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন একই পরিবারের কামাল মিয়া ছেলে রুবেল মিয়া, শরীফ মিয়া, কামালের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, নবীর হোসেনের স্ত্রী মোছা. জিয়াসমিন ও মনিরের স্ত্রী খাদিজা বেগম। 


মামলার এজহার ও অভিযোগ পত্র সূত্রে জানা যায়, নিমবাড়ি এলাকার মানিক মিয়া ছিলেন ব্যবসায়ী। তার সাথে প্রতিবেশী মনির মিয়ার টাকা পয়সা লেনদেন ছিল। এনিয়ে দুই পরিবারের মাঝে বাকবিতণ্ডা হতো। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাতে ব্যবসায়ী মানিক মিয়াকে টাকার বিষয়ে আলোচনা করার কথা বলে খবর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মানিক মিয়া খবর পেয়ে গেলে মনির সহ তার পরিবারের সদস্যরা মানিক মিয়ার উপর হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে রক্তাক্ত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় মানিক মিয়াকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহত মানিক মিয়ার স্ত্রী হেলেনা আক্তার বাদি হয়ে ১১জনের নাম উল্লেখ্য করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর এক বছর পর ২০১৯ সালের নভেম্বরে ১১জন আসামীর মধ্যে ৯জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। দুইজনকে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ ৭ বছর সাক্ষ্যপ্রমাণ, যুক্তিতর্ক ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। বাকী আসামীদের বেকসুর খালাস প্রদান করে আদালত। 


মামলার রায়ের পর আসামী পক্ষের আইনজীবী সারওয়ার ই আলম বলেন, আশা করেছিলাম সকল আসামি বেকসুর খালাস পাবে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাদীর সাথে আমার কথা হয়েছে। যাদের সাজা দিয়েছে তারাই আঘাত করেছিল। আমরা রায়ে সন্তুষ্ট। আপিল আর করবো না।

শর্ত ভেঙে দিনরাত চলছে বোমা মেশিন ও ভারী ডাম্প ট্রাক, নীরব প্রশাসন

ইজারার আড়ালে চাড়ালকাটা নদী কাটা হচ্ছে, ভাঙনের মুখে তিস্তা সেচ ক্যানেল


  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০২ পিএম

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় চাড়ালকাটা নদীর পাড়ে জমে থাকা পুরোনো বালু সরাতে ইজারা দেওয়া হলেও বাস্তবে নদী কেটেই তোলা হচ্ছে বালু। ভুগর্ভস্থ বালু তুলতে নদীতে বসানো হয়েছে নিষিদ্ধ বোমা মেশিন (শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ড্রেজার)। অবৈধভাবে বালু তুলে দিনে বাণিজ্য হচ্ছে দশ লক্ষাধিক টাকার। আর সেই বালু পরিবহনে দিনরাত চলছে ভারী ডাম্প ট্রাক। এতে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বালু তোলার কারণে পারের ফসলি জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। এ ছাড়াও, হুমকির মুখে পড়েছে গ্রামীণ সড়ক, তিস্তা সেচ প্রকল্পের ক্যানেল ও বাঁধ।


পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত জুনে জলঢাকা উপজেলার হরিশচন্দ্রপাঠ, পাইটকাপাড়া, বাশদহ ও বেরুবন্দ এলাকায় চাড়ালকাটা নদীর বামতীরে ৫১ লাখ ৪২ হাজার ঘনফুট খননকৃত বালু নিলামে বিক্রির জন্য মাত্র ৩১ লাখ টাকায় ইজারা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শর্ত ছিল, কেবল পাড়ে স্তূপীকৃত বালু ১২০ দিনের মধ্যে সরাতে হবে, নদী থেকে নতুন বালু কাটা যাবে না এবং পরিবহনে কোনো ভারী যানবাহন বা ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু একাধিক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান বৈধ এ ইজারার বালু অপসারণের আড়ালে নদীর তলদেশ থেকে বালু কেটে নিচ্ছে। 


সরেজমিনে দেখা যায়, হরিশচন্দ্রপাঠ ও পাইটকাপাড়া এলাকায় নদীর তীরে খননকৃত বালু অপসারণ না করে চাড়ালকাটা নদী থেকে ২৪ হর্স পাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচটি মেশিনে ১০ ইঞ্চি পাইপ যুক্ত করে বালু তোলা হচ্ছে। যে স্থানগুলো থেকে বালু কাটা হচ্ছে, তার ঠিক পাশেই প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নদীভাঙন রোধে রক্ষাবাঁধ নির্মাণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। অর্থাৎ একদিকে সরকারি টাকায় বাঁধ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ইজারাদারেরা নদীর তলদেশ কেটে সেই বাঁধকেই ধসিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন।এতে হুমকিতে পড়েছে পরিবেশ। 


স্থানীয়রা জানান, গত ছয় মাস ধরে ইজারার নামে নদীতে মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। উত্তোলন করা বালু প্রতিদিন রাতের আঁধারে ৫০-৬০টি ভারী ডাম্প ট্রাকে করে পাচার করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। বালু তোলার কারণে ইতোমধ্যে নদীর পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে তিন-চারটি মেশিন দিয়ে বালু তোলার ফলে নিঃসৃত তেলে নদীর পানি তৈলাক্ত হয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় কৃষি ও মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত ২০ জন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, জমে থাকা বালু তো অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন ইজারার নাম দিয়ে নদী কেটে বালু তুলছে। রাতের বেলা ডাম্প ট্রাক চলাচলের বিকট শব্দে ঘুমানো যায় না। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। প্রতিবাদ করতে গেলে মামলা ও পুলিশি হয়রানির ভয় দেখানো হয়।


এদিকে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বালু বহনের কারণে স্থানীয় রাস্তাঘাট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেশ কিছু সেতু ও কালভার্ট ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোর পিচ-পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং তিস্তা সেচ প্রকল্পের সেতুর গার্ডার ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও নীলফামারী সদর সেচ প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা লিটন সরকার, জিয়াউর রহমান, মাসুদ রানা, আবুল কালাম, জমির আলী ও হামিদুর রহমানসহ অন্তত ৩০ জন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায়ই সেচ ক্যানেলের সড়ক ভেঙে হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয়। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে তিস্তা সেচ প্রকল্পের পরিদর্শন সড়ক আবারও ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্যানেল সড়ক ধসে পড়লে পুরো তিস্তা সেচ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে, যার চরম খেসারত দিতে হবে এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষককে।


পাউবো নীলফামারী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা মাহমুদ জানান, নদীর তলদেশ অপরিকল্পিতভাবে কাটলে এবং সেচ খালের বাঁধ দিয়ে নিয়মিত ভারী যান চললে নদী প্রতিরক্ষা ও সেচ প্রকল্প, দুটোই ধ্বংসের মুখে পড়বে। দ্রুত এই ডাম্প ট্রাক চলাচল ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।


আইন অনুযায়ী ইজারার শর্ত ভাঙলে ইজারা বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকলেও জলঢাকা উপজেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ কেবলই নামমাত্র সতর্কবার্তায় আটকে আছে।


ইজারার শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি ইজারাদারকে কেবল মৌখিক সতর্কবার্তা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে নদী থেকে মোট কত বালু তোলা হলো কিংবা কেন রাতে ডাম্প ট্রাক চলছে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থার কথা তিনি বলতে চাননি।


তবে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি ।