লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ, ওষুধ এবং সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে হাসপাতালটি কার্যকরভাবে চালু করার দাবিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সমৃদ্ধ লালমনিরহাট।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১২টা ৩০মিনিটে সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের পক্ষ থেকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল লালমনিরহাটের তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠিত হয়।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল লালমনিরহাটের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ আবু-আল-হাজ্জাজ এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন গণসংহতি আন্দোলন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এবং সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের সংগঠক দীপক কুমার রায়, সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের সংগঠক রাশেদুর জামান, দেওয়ান বাবু, বীরেন চন্দ্র বর্মণ, নূর নবী, বিধান প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে বলা হয় যে, লালমনিরহাট জেলা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় জেলা এবং দেশের উত্তরের প্রান্তিক জেলা। জেলার সমৃদ্ধি, জেলার উন্নতি তা বিশেষভাবে জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও ধারণ করে। জেলাবাসী যদি পদে পদে চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পায় তবে সে জেলা পিছিয়ে-পড়া। যখন জনগণ হাসপাতালে চিকিৎসা বঞ্চিত হয় কিংবা ধুকে ধুকে চিকিৎসার অভাবে মুত্যুবরণ করেন এবং বারবার ভুল চিকিৎসায় যখন মানুষ বিপর্যস্ত; তখন কান্না আর অসহায়ত্ব ছাড়া আর কিছুই করার থাকেনা। আমাদের জেলাবাসী সুচিকিৎসা চায়, তারা নিজ জেলার হাসপাতালেই সেটা চায়। বলাবাহুল্য এই বিষয়টা এই জেলাবাসীর মৌলিক অধিকার।
লালমনিরহাট জেলার সদর হাসপাতাল কার্যত সুচিকিৎসা বলতে যা বোঝায় তা এখনও দিতে সক্ষম নয়। ১০০ শয্যার হাসপাতালটিকে ঘোষণা দিয়ে ২৫০ শয্যা করা হলেও বাড়েনি যথাযথভাবে এর চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ লোকবল। সংবাদমাধ্যমে বহুবার প্রকাশিত খবর যে, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট অবস্থাতেও এই হাসপাতালে ৫০% শতাংশের নিচে জনবল ছিল। কাজেই নতুন করে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল কেবল ভবন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এটি নামমাত্র শুরু হয়েছে। রোগীরা আসলে নতুন ভবনে নতুন বেডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
আমরা দেখে অভ্যস্ত যে, রোগে যন্ত্রণা নিয়ে, ভোগান্তি নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হলেও চিকিৎসা না পেয়ে রোগীকে দ্রুত হতাশ হয়ে রিলিজ নিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, এমনকি সাধারণ রোগেও মাঝে মাঝে চিকিৎসা মেলে না। রোগীরা এখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ ঠিকঠাক পান না। কতিপয় ডাক্তার চিকিৎসা দিতে গিয়ে মুশকিলে পড়েন। জরুরি বিভাগ সামলে পুরো হাসপাতাল সমন্বয করা বিরাট বিপদের হয়ে যায়। মাত্র ৮জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে কী একটি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চলতে পারে? গভীর রাতে এর মধ্যেও ন্যূনতম চিকিৎসক দিয়ে কী পুরো হাসপাতালের রোগীর চিকিৎসা করানো সম্ভব? তা সম্ভব নয়। এরপরও আছে ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, যন্ত্রপাতির অভাব, টেকনিশিয়ানের ঘাটতি, রোগীদের স্বাস্থ্যকর খাবার ইত্যাদির বিবিধ সংকট। কাজেই রোগীর চিকিৎসাসেবা যেনতেনভাবে হচ্ছে। রোগীরা চিকিৎসার অভাবে কখনো মারাও পড়ছেন। অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, নয়তো জরুরিভাবে চিকিৎসা নিতে ছুটছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মূলতঃ সর্বস্তরের মানুষ আজ চিকিৎসাবঞ্চিত।
জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এই জেলার সদর হাসপাতালের আধুনিকায়ন চাই, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুচিকিৎসা পেতে চাই।
আরও স্মারকলিপিতে দাবীসমূহে উল্লেখ্য করা হয় যে, ১. শূন্যপদ পূরণ করে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। চক্ষু, ইএনটি, ডেন্টাল সার্জন এবং রেডিওলজি, প্যাথলজি বিভাগে কনসালটেন্ট দিতে হবে। পর্যাপ্ত নার্স নিয়োগ দিতে হবে। ল্যাবরেটরির সকল শাখায় টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে।
২. সেবার মান বাড়াতে ও চিকিৎসা দিতে এক্স-রে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, ইসিজি, প্যাথলজিক্যাল রিএজেন্ট এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় মেডিকেল ইকুইপমেন্টের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষা- নিরীক্ষা অবিরাম চালু রাখতে হবে।
৩. জরুরি বিভাগ (Emergency) ও ট্রমা সেন্টার ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা, এবং বিভাগগুলোতে অভিজ্ঞ চিকিৎসক জুনিয়র ও সিনিয়র কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়া। আইসিইউ (ICU), সিসিইউ (CCU) ও ভেন্টিলেটর সুবিধা সচল করতে হবে।
৪. রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কেনার বাধ্যবাধকতা কমিয়ে, হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইসোলেশন বেড ইত্যাদি চালু করতে হবে। হাসপাতালে খাবারের সিডিউল উন্মুক্ত স্থানে ঝুলিয়ে দিতে হবে এবং নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা যাবে না।
৫. রোগীদের তথ্য সংরক্ষণে ডিজিটাল সিস্টেম চালু করা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য টেলিমেডিসিন সেবার প্রসার করা।
৬. তত্ত্বাবধায়ক হাসপাতালের প্রধান হওয়ায় তার নেতৃত্বেই সকল দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কনসালটেন্টকে রাতে কর্তব্যরত এলাকায় থাকাটা নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি কল কনসালটেন্টকে অ্যাটেইন করতে হবে।
৭. হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। আরো পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারির সকল পদে নিয়োগ দিতে হবে। অ-অনুমোদিত গাড়ি হাসপাতাল ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকতে পারবে না।
৮. মনিটরিং কমিটি গঠন এবং নিয়মিত অডিট করতে হবে। রোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য চিকিৎসকসহ সকলের আচরণ উন্নত করা। সেবাআকাক্সক্ষী রোগীদেরও হাসপাতালে অবস্থানকালীন সচেতনতা, আচরণ এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করাতে হবে। রোগী বা নাগরিকদের জন্য কার্যকর আধুনিক তথ্যকেন্দ্র ও অভিযোগ কেন্দ্র এবং হটলাইন চালু রাখা।
উল্লেখ্য যে, উক্ত স্মারকলিপির অনুলিপি সদয় অবগতির জন্য লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একান্ত সচিবের নিকট প্রেরণ করা হয়।
সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র । এর মধ্যে ভিডিও কলে এক ছাত্রকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে তার বাবার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুজনের অভিভাবক নগরের শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্র হলো তামিম আহমেদ ও সাঈদ মাসুদ চৌধুরী (নাঈম)। ১৫ বছর বয়সী দুজনই সিলেটের খাদিম পাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায হিফজ বিভাগে পড়ে। তামিম দক্ষিণসুরমা বড়াইকান্দি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং সাঈদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মউগ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে।
ছাত্রদের অভিভাবক, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের ফাঁকে ওই দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সাঈদের বাবার মুঠোফোনের ইমো অ্যাপে একটি নম্বরহীন অ্যাকাউন্ট থেকে নাঈমকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছে দুই ছাত্রের অভিভাবক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ জানান, ‘গত মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় ওই ছাত্র দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে তামিম আরও দুবার মাদ্রাসা থেকে না বলেই বাসায় চলে গিয়েছিল। পরে তার বাবা এসে দিয়ে গিয়েছিলেন। এবার সাঈদ ও তামিম দুজনই একসঙ্গে ফজরের নামাজের ফাঁকে বের হয়ে যায় বলে জেনেছি। বিষয়টি তাদের মা-বাবাকে জানাই।
’সাঈদের বাবা বেবুল আহমদ জানান, ‘মাদ্রাসা থেকে বাসায় গেছে কি না, এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার হুজুর কল দিয়েছিলেন। আমরা জানাই যে সে (নাঈম) আসেনি। সিলেটের বিভিন্ন জায়গায়ও খোঁজাখুজি করেছি। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আমার ইমোতে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। ইমোর অ্যাকাউন্টে কোনো নম্বর দেখা যাচ্ছিল না। তখন একের পর এক কল দিচ্ছিলাম, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে রিসিভ করা হয়নি।’
বেবলু আহমদ জানান, ‘পরে সন্ধ্যার পর ভিডিও কলে আমার ছেলেকে হাত-পা বেঁধে রাখা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়; ভিডিও পাঠিয়েছে। পরে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলে । নয়তো আমার ছেলেকে তারা মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’ তবে কে বা কারা অর্থ দাবি করছে, তা তিনি জানেন না।
আরেক ছাত্র তামিমের বাবা আবদুস সাত্তার জানান, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসা থেকে এর আগেও দুবার বের হয়ে বাসায় চলে গিয়েছিল। আবারও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আল্লাহ জানেন, আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না।’
শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, ‘ওই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা জিডি করেছে। আমরা সারা দেশে দুই ছাত্রের ছবি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’
ইমোতে অর্থ দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ইমোতে যে নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটা যাচাই করে দেখা হয়েছে, তা এক বছর ধরে বন্ধ। অনেক সময় নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে কিছু প্রতারক চক্র এমন সুযোগ নেয়। আর ইমোতে কয়েক সেকেন্ডের যে ভিডিও পাঠানো হয়েছে, তা অস্পষ্ট। তবে আমরা খোঁজ করছি।’
সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে টেক্সটাইল-রুবি গেট হয়ে দুই নম্বর গেইট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পলিটেকনিক্যাল মোড়ে এসে শেষ হয়।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর ছাত্রদল নেতা রেজাউল, মোহাম্মদ রুবেল, মো.মাহমুদ, আইন কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো.রিয়াজ, পাহাড়তলী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রকি, মো.ইয়াছিন আফ্রিদি,পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ বকুল, মো.আহাদ, মো.সামি, মো.মহসিন,কলেজ ছাত্রদলের সংগঠক মো.তানভীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অবৈধভাবে রাসায়নিক সার বিক্রি করার অপরাধে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মোতাহার হোসেন নামে এক সার ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে আটক ২১ বস্তা সার সরকারি মুল্যে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এনএম ইসফাকুল কবীর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ আদেশ দেন।
পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামানিক জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে আব্দুল খালেক এর বাড়িতে ৭ বস্তা টিএসপি ও ১৪ বস্তা এমওপি সার সহ সার ব্যবসায়ী মোতাহার এবং গৃহকর্তা খালেককে বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক করে স্থানীয়রা। পরে থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ সার সহ ঐ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সার ব্যবস্থাপনা আইনের ২০০৬ এর ১২(৩) ধারা মোতাবেক সার সাব-ডিলার মোতাহারকে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং আটক করা ২১ বস্তা সার বাজেয়াপ্ত করে প্রকাশ্যে জাবরহাট ইউনিয়নের কৃষগনের মাঝে সরকারি দামে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ দেন।
আটক করা সার রবিবার প্রকাশ্যে বিক্রি করার ব্যবস্থা করবেন কৃষি বিভাগ।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝালকাঠির নলছিটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।
১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ র্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:হাবিবুর রহমান,নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন,উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো:ওবায়দুল ইসলাম,উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা:আবু সালেহ মো:ইফাদ ইশতিয়াক,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট,বিডি ক্লিন বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা।
আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।ঝোপঝাড় পরিস্কার,ড্রেন,নালা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রেখে সকলে মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্তর থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্তরে ফেরত আসে।
জলবায়ু ন্যায়বিচার, জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যৎ এবং দ্রুত ও ন্যায্য অর্থায়নকৃত জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে কলাপাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে । বৈশ্বিক কর্মসূচি গ্লোবাল উইক অফ অ্যাকশন এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশবাদি সংগঠন ও নদী রক্ষা আন্দোলন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ ও আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে বক্তব্য রাখেন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা'র কলাপাড়ার সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সদস্য রফিকুল ইসলাম মিরাজ, পরিবেশ সংগঠক সাইফুল্লাহ মাহমুদ, পরিবেশ সংগঠক আমরা কলাপাড়াবাসী সংগঠনের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং কপ থার্টি ওয়ান (COP31)-এর প্রাক্কালে আয়োজিত এই বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আমরা দাবি জানাচ্ছি—জীবাশ্ম জ্বালানির অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের জন্য দ্রুত ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবায়ন করতে হবে।
এছাড়া বক্তারা কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট আশুগঞ্জ বিদুৎ কেন্দ্র কে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র দু'টির অভ্যন্তরের বিপুল পরিমাণ খালি জায়গা রয়েছে। যেখানে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে সৌরসিষ্টেম চালু করার দাবি জানান।
কয়লা দূষণ বন্ধে সমাজিক আন্দোলনে সকল শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবেশ দূষণ বন্ধে কয়লা দূষণ বন্ধের কোন বিকল্প নেই।
নাটোরের লালপুরে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (২০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুই আরোহী হৃদয় (২০) ও মনি (২২) আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালপুর-গোপালপুর সড়কের শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ট্রাককে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাক, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে লালপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুল্লাহ লালপুরের উত্তর লালপুর গ্রামের শহীদুজ্জামান লাকির ছেলে।
আহত হৃদয় ও মনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত হৃদয় চকদৈবকী গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে ও মনি একই গ্রামের নাজির উদ্দিনের ছেলে।
ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প:প::কর্মকর্তা ডাক্তার মঞ্জুর রহমান।