• প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:০৪ পিএম

হাজারো ফুটবলপ্রেমী দর্শকের বাঁধভাঙা জোয়ার আর তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় সম্পন্ন হলো জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমকালো ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব মাঠে (পুরানো স্টেডিয়াম) অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ফাইনালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা দলকে পরাজিত করে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে আলমডাঙ্গা উপজেলা দল। 


গতকাল শনিবার বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই জমকালো ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মাঠ কাঁপিয়ে তুললেও কোনো দলই গোল করতে না পারায় ফাইনাল ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপ ধরে রেখে বাজিমাত করে আলমডাঙ্গা উপজেলা। টাই ব্রেকারে আলমডাঙ্গা উপজেলা দল ৪-৩গোলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা দলকে পরাজিত করে শিরোপা অর্জন করে। 


খেলা শেষে এক বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আব্দুল্লাহ হারুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চ আলোকিত করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মিনহাজুল ইসলাম।




পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো: আব্দুল্লাহ হারুন উপস্থিত দর্শক ও খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আজকের এই মাঠ ও উপচে পড়া দর্শক প্রমাণ করে চুয়াডাঙ্গার মানুষ ফুটবলকে কতটা ভালোবাসেন। খেলাধুলা কেবল শারীরিক  ও মানসিক বিকাশ ঘটায় না, বরং যুবসমাজকে মাদক, স্মার্টফোনের অপব্যবহার ও সব ধরণের সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে একটি সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে।”


তিনি আরও বলেন, “টুর্নামেন্ট পরিচালনায় জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ উভয় দলই অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে। আমাদের তরুণেরা এই মাঠ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুয়াডাঙ্গার নাম উজ্জ্বল করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন, গ্রাম বাংলার সবচাইতে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। এই ফুটবলকেই কেন্দ্র করে সোনালী অতীতে চুয়াডাঙ্গা ফুটবলের ইতিহাস বিস্তৃত হয়েছে বাংলাদেশের পণ্ডি পেরিয়ে ওপার বাংলায়। চুয়াডাঙ্গা থেকে বর্তমানে আর তেমন কোনো ভালো ফুটবলার তৈরি হচ্ছেনা। তাই চুয়াডাঙ্গার সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চুয়াডাঙ্গার মাঠে-ঘাটে নিয়মিতভাবেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফুটবল টুর্নামেন্ট। আমি আশা করবো এই ধরনের টুর্নামেন্ট থেকেই একদিন চুয়াডাঙ্গা জেলা ফুটবল আবারো ফিরে পাবে তার অতীতে হারানো গৌরব। সমৃদ্ধ হবে চুয়াডাঙ্গার ফুটবল অঙ্গন। 

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং আগামীতেও চুয়াডাঙ্গার ক্রীড়াঙ্গনকে মুখরিত রাখতে এ ধরণের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দ চ্যাম্পিয়ন আলমডাঙ্গা উপজেলা দল ও রানার্স-আপ চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা দলের খেলোয়াড়দের হাতে প্রাইস মানি ও  ট্রফি তুলে দেন। তীব্র উত্তেজনা আর জমকালো সাংস্কৃতিক আবহ আর কর্দমক্ত মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে চুয়াডাঙ্গার বেশ কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬। 


ফাইনাল খেলার ট্রফি উন্মোচন, মঞ্চে বসে জমকালো ফুটবল লড়াই উপভোগ করতে ও ন্যাশনাল ক্যাটাগরির মঞ্চে আহরণ করে  ফাইনাল খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের স্বামী এ বি এম নাজিমউদ্দিন আহমেদ, দুই সন্তান রুহি ও রহিন,চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা: হাদী উদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান।


এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিএম তারিকুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মোঃ হুমায়ুন কবীর, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহি অফিসার তিথি মিত্র, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনুর আক্তার, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া সুলতানা এ্যানী, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আরডিসি এসএম আসিফ মমতাজ, আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি মহেশ্বর মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের এনডিসি আলাউদ্দিন আল আজাদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ চৌধুরি, আব্দুর রউফ শিবলু, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বিলাস, চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক  সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার, সদর উপজেলা বিএনপি'র সহ-সভাপতি ইকরামুল হক, মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি আতিয়ার রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু, সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, সদর উপজেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা ,সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মীর উজ্জ্বল, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ইমরান মহলদার রিন্টু, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাকন প্রমূখ। 


সাবেক খেলোয়াড়দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহরিন হক মালিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল হক জোয়ার্দ্দার রেজা, সাবেক কৃতি ফুটবলার মাহমুদুল হক লিটন, সারোয়ার হোসেন জোয়ার্দ্দার মধু, শেখ শরিফুল ইসলাম, নাজমুল হক শান্তি, সাবেক কৃতি গোলরক্ষক রবিউল ইসলাম মল্লিক, সাবেক কৃতি ফুটবলার মিজানুর রহমান মানিক, আইয়ুব হোসেন, টিপু সুলতান, বাবু মুন্সী,শহিদুল কদর জোয়ার্দ্দার,আলমডাঙ্গা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মন্ডল, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক, সোহাগ, মুরাদ ফেরদৌস, দামুড়হুদা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মাহবুর রহমান বাচ্চু, জীবন নগর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শাহাজাহান কবীর, ঝিনাইদহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ক্রীড়া সংগঠক আবদুল মতলু, চুয়াডাঙ্গা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কোষাধক্ষ্য আশাবুল হক আশা, দপ্তর সম্পাদক সোহেল আহমেদ মালিক সুজন, সাবেক ফুটবলার মিলন বিশ্বাস, ঢাকা ব্রাদারস ক্লাবের সাবেক অধিনায় তরিকুল ইসলাম তরু, সোহেল রানা,আহসান খান, সুমন প্রমূখ।


পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজি ও জেলা প্রশাসক লুৎফুনাহরের যৌথ উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গার সাবেক ফুটবলারদের কে সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়। 


মরণোত্তর সম্মাননা ক্রেস্ট প্রাপ্তরা হলেন: বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক প্রয়াত হায়দার আলী জোয়ার্দ্দার, প্রয়াত সাবেক ফুটবলার মোজাম্মেল হক, প্রয়াত সাবেক ফুটবলার নুরুজ্জামান, প্রয়াত সাবেক ফুটবলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ তোতা মিয়া, সাবেক ফুটবলার প্রয়াত আশরাফ জোয়ার্দ্দার সাবু।


আজীবন সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় সাবেক কৃতি ফুটবলার মাহমুদুল হক লিটন ও কানাডা প্রবাসী কৃতি ফুটবলার মামুন জোয়ার্দ্দারকে।


এছাড়া জীবিত কৃতি ফুটবলারদের দেওয়া হয় সম্মাননা স্বারক। স্মারক ক্রেস্ট প্রাপ্ত সাবেক ফুটবলরা হলেন, সাবেক ফুটবলার সরোয়ার হোসেন জোয়ার্দ্দার মধু, সাবেক ফুটবলার আবুল কালাম আজাদ, সাবেক কৃতি গোলরক্ষক রবিউল ইসলাম মল্লিক, সাবেক ফুটবলার শহিদুল ইসলাম কদর জোয়ার্দ্দার, সাবেক ফুটবলার শেখ শরিফুল ইসলাম, সাবেক ফুটবলার গিয়াস উদ্দিন পিনা, সাবেক ফুটবলার নাজমুল হক শান্তি, সাবেক কৃতি গোল রক্ষক খন্দকার আমিরুল ইসলাম বাবলু, সাবেক কৃতি গোল রক্ষক রিয়াসাদ শামীম জোয়ার্দ্দার আবির, সাবেক ফুটবলার মিজানুর রহমান মানিক ও সাবেক ফুটবলার রেজাউল হক জোয়ার্দ্দার রেজা। 


ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় চুয়াডাঙ্গা ডি এফ এর সভাপতি একলাস উদ্দিন সুজন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের থিম সং রচয়িতা শাহ আলম সনি, জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী মামুনুজ্জামান আদুন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব ইমরান মহলদার রিন্টু, আলমডাঙ্গা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মামুন অর রশিদ মন্ডল, জীবননগর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শাহাজাহান কবীর, দামুড়হুদা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মাহবুব বাচ্চুকে। টুর্নামেন্টে বিশেষ অবদানের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয় চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজীকে। 


খেলোয়াড়দের কে উৎসাহিত করার জন্য টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ফাইনাল অবধি বিভিন্ন ক্রীড়া মোদী ব্যাক্তি, ক্রীড়া সংগঠকরা ফুটবলারদের কে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ফুটবলারদের জন্য আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দেন। সে ঘোষণা অনুযায়ী টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা কে আর্থিক পুরস্কার দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্টের পুরস্কার দেন চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, তরুণ উদীয়মান খেলোয়াড়ের আর্থিক পুরস্কার দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম- সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু, সেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কার দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট  খন্দকার অহিদুল আলম মানি, তরুণ উদীয়মান দু-জন খেলোয়াড়কে আর্থিক পুরস্কার দেন চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপি'র ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ও বিশিষ্ট আম ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস মহলদার, টুর্নামেন্টের ৮ জন সেরা দর্শকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রায়ত কৃতি ক্রিকেটার মাহফুজের পিতা চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি রাফিতুল্লাহ মহলদার, সেরা গোলরক্ষক ও সেরা ধারাভাষ্যকারের পুরস্কার প্রদান করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুল হক।

 

টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ফাইনাল অবদি প্রতিটি ম্যাচের ম্যান অব দি ম্যাচের আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন আলমডাঙ্গা মন্ডল স্পোর্টসের স্বত্বাধিকারী মামুন অর রশিদ মন্ডল, টুর্নামেন্টের নির্ধারিত সময়ের প্রথম গোলদাতার পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেন চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আল্লাহর দান হোটেলের স্বত্বাধিকারী রায়হান উদ্দিন। গ্র্যান্ড ফাইনালের প্রথম গোলদাতাকে পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেন আনাস এগ্রোর স্বত্বাধিকারী রাসেল বিশ্বাস।এছাড়া উদীয়মান সেরা ডিফেন্ডার ও মিড ফিল্ডার কে পুরস্কার দেন তুষন এগ্রোর স্বত্বাধিকারী মনোয়ারুল ইসলাম সুমন এবং ম্যান অব দ্যা ফাইনালের আর্থিক পুরস্কার প্রদান চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজি। 


চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সফল আয়োজনে খুশি হয়ে জেলার ফুটবলপ্রেমী দর্শকরা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিএম তারিকুজ্জামান ও সদ্য বদলি আদেশ পাওয়া এনডিসি আলাউদ্দিন আল আজাদকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।


গতকালের ফাইনাল ম্যাচটি পরিচালনা করেন প্রধান রেফারি সাজ্জাদ হোসেন, দুই সহকারি শফিকুন নবী রিয়ান, লিটা হোসেন, ইমাম হোসেন ও ম্যাচ কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন রেজাউৱ হক জোয়ার্দ্দার রেজা। 


খেলার ধারা বিবরণী করেন ইসলাম রকিব ও শামীম খান।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৪ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০ কেজি গাঁজাসহ মোছা. মাজেদা বেগম (৩৭) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। টঙ্গী গাজীপুরা কাজীবাড়ি এলাকার চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


​গ্রেপ্তারকৃত মাজেদা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার ধরাভাঙ্গা (মধ্যপাড়া ছলিমগঞ্জ) গ্রামের মৃত ইদ্রিস মিয়ার মেয়ে এবং আরিফুল ইসলাম বাছেদের স্ত্রী। তিনি বর্তমানে গাজীপুরা কাজীবাড়ি এলাকার চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের ৫ম তলার ডি-৫ ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।


​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানার একটি টিম গাজীপুরা কাজীবাড়ি এলাকার চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের ৫ম তলার ডি-৫ ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং মাজেদা বেগমকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা (নম্বর-৫০, ধারা ৩৬(১) এর ১৯(খ)) রুজু করা হয়েছে। 


টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে যথাযথ পুলিশ পাহারাধীন অবস্থায় তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৯ পিএম

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপি উদ্যোগে ও ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপি'র সহযোগিতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।


আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়া সবুজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ শরিফুল ইসলাম শরীফ।


এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপি'র সিনিয়র সহ-সভাপতি আতাউর রহমান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রাশেদ আলম লাবু, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সায়েম সহ অন্যরা।


এ সময় শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ ও বনজ ও ঔষধি জাতের দুুইশত গাছের চারা বিতরণ করা হয় ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষর্পণ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৪ পিএম

নোয়াখালীর বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী ২৫টি অভিযান চালিয়ে ১৭১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতদের মধ্যে ১৬০ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।


পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।


অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১০ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া চারজনের বিরুদ্ধে ৩৪ ধারায় এবং একজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। সোনাইমুড়ী থানায় ২২ জনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনজনের বিরুদ্ধে ৩৪ ধারায় ও তিনজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।


অন্যদিকে, সুধারাম মডেল থানা ও হাতিয়া থানায় ২৯ জন করে, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ২০ জন, সেনবাগ থানায় ২১ জন, চাটখিল থানায় আটজন, চরজব্বর থানায় ১০ জন এবং কবিরহাট থানায় ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জনসচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১৮ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে আনা দুটি চালানে প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ টন সন্দেহজনক পণ্য পাওয়া গেছে। কাস্টমস নথিতে এক চালানে পান মসলা ও জর্দা এবং অন্য চালানে প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ ঘোষণা করা হলেও কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া গেছে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী ও বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থ এবং ৯ দশমিক ২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার।


গতকাল রোববার চালান দুটি শনাক্ত করেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) কর্মকর্তারা। তবে পাউডারজাত পদার্থে মাদক বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ কিংবা নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পর এর প্রকৃত পরিচয় জানা যাবে।


সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, চালানের কাগজপত্রে আমদানিকারক হিসেবে অথৈ এন্টারপ্রাইজের নাম থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, এ আমদানির বিষয়ে তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান কিছুই জানেন না। তাঁর দাবি, কোনো অসাধু চক্র তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালানটি দেশে এনেছে।




কাস্টমস নথি অনুযায়ী, এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস’ জাহাজে কলকাতা থেকে চালান দুটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। ২০ সেপ্টেম্বর জাহাজটি কলকাতা থেকে যাত্রা করে এবং ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই মাস্টার বিল অব লেডিংয়ের অধীনে দুটি হাউস বিল অব লেডিংয়ে পণ্য দুটি আমদানি দেখানো হয়।


প্রথম চালানে ৪৭৩ প্যাকেজে ‘পান মসলা অ্যান্ড জর্দা (চিউইং টোব্যাকো প্রোডাক্ট)’ ঘোষণা করা হয়। এর ঘোষিত ওজন ছিল ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি। রোববার কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থও পাওয়া গেছে।


দ্বিতীয় চালানে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজে ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’ ঘোষণা করা হয়। এর ঘোষিত ওজন ছিল ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি। কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক প্যাকেজে ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া যায়।


সিআইআইডি জানিয়েছে, চালানটির প্রকৃত আমদানিকারক, পণ্যের প্রকৃত পরিচয় এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ও তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। পাউডারজাত পদার্থের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ রয়েছে

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০৫ পিএম

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ রয়েছে সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্র। যার ফলে সিলেটে অসহনীয় লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। তীব্র গরমের সাথে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে রীতিমত ‘নরক যন্ত্রণা’ ভোগ করতে হচ্ছে সিলেট বাসীকে।


বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের কুমারগাওয়ে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ কারণে বেড়েছে লোডশেডিং। এ অবস্থা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিস্টদের। 


নগরের জিন্দাবাজার এলাকার দর্জি ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে গ্রাহকদের চাহিদামত কাপড় ডেলিভারি দিতে পারছি না। সারাদিনেও একটা পেন্ট সেলাই করা যায় না। এ কারণে ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। অথচ সব জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলছে। আমাদের খেয়ে বাঁচাই দায় হয়ে ওঠেছে। টিলাগড় এলাকার গৃহিনী সালেহা আক্তার বলেন, দিনের চেয়ে রাতে বেশি লোডশেডিং হয়। ফলে বাচ্চাকাচ্চারা পড়ালেখা করতে পারে না। স্কুলের হোম ওয়ার্ক করে নিতে পারে না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে পরীক্ষার ফলও খারাপ হবে।


গ্রাহকরা জানান, সিলেটে দিনে-রাতে প্রায় প্রতি ঘণ্টাতেই বিদ্যুৎবিভ্রাট চলছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের চিত্র আরও ভয়াবহ। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা দিনে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন।


গতকাল রোববার রাতে সিলেট নগরের জালালাবাদ এলাকা থেকে এক ব্যাক্তি ফোন করেই তার প্রশ্ন- ‘ভাই, আমরা বাঁচতাম কিলা?’


তিনি জানান, সন্ধ্যা থেকে এ পর্যন্ত তিনবার বিদ্যুৎ চলে গেছে। প্রতিবার গেলে ঘন্টাখানেক পরে আসে। এর কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়।ওই ব্যক্তি বলেন, এমনিতেই গরমে অবস্থা খারাপ। তার উপর ঘন্টায় ঘন্টায় লোেশেডিং। ঘরে বাচ্চাকাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বড়রাও থাকতে পারছে না। এমন অভিযোগ সিলেটের প্রায় সব বাসিন্দার। এমনিতেই সিলেটে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না। তবে গত ২/৩ ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়েছে। 


এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, ৩/৪ দিন ধরে কুমারগাওয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে এই কেন্দ্রটিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। একারণে লো-ভোল্টেজের সমস্যা হচ্ছে। ভোল্টেজ ঠিক রাখতে লোডশেডিং বাড়াতে হচ্ছে। তিনি বলেন, কুমারগাওয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাল্বে সমস্যা হয়েছে বলে শুনেছি। আগামীকাল বিদেশ থেকে নতুন বাল্ব আসবে। এরপর তা মেরামত করা হবে। তবে এতে কতদিন সময় লাগবে তা আমার জানা নেই। 


গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সিলেটে ৬০ মেঘাওয়াটের মতো লোডশেডিং ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ধ্যায় চাহিদা ছিল ২৫৫ মেঘাওয়াট। ১৯০ মেঘাওয়াটের মতো সরবরাহ পেয়েছি। বাকীটুকু লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় লোডশেডিংও বেড়ে যায় বলে জানান তিনি। তবে কুমারগাও বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকলে এতো লোডশেডিং হতো না বলে দাবি এই কর্মকর্তার।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধান বিচারপতি

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৭ পিএম

প্রধান বিচারপতি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য সিলেট বিভাগের বিচারকদের নির্দেশ দিয়েছেন। গত শনিবার সিলেটের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের হলরুমে সিলেট বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশ্যে আয়োজিত অভিভাষণ অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন। 


অনুষ্ঠানে সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আদালতে কর্মরত বিচারকরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিভাগের বিভিন্ন আদালতে কর্মরত বিচারকরা দ্রুত ও কার্যকরভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীর সংকট, বাজেট স্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রধান বিচারপতি বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এসব সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।


বিভাগীয় শহরগুলোতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি প্রতিটি বিভাগে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল ভবন নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামি হাজিরকরণসহ বিচারিক কার্যক্রমের উপযুক্ত ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রয়োজনীয় সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি। 


প্রধান বিচারপতি আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার সর্বোচ্চ ও যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করার জন্য বিচারকদের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আইন ও বিচারিক মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বিচার বিভাগের প্রধান লক্ষ্য।অনুষ্ঠানে Monitoring Committee for Subordinate Courts-এর সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি মোঃ আতাবুল্লাহ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোঃ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এ সময় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারিক কর্মকর্তারা তাদের বিচারিক অভিজ্ঞতা, পেশাগত প্রত্যাশা এবং অধস্তন আদালতের বিচারকার্য পরিচালনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সিলেট বিভাগের চার জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজরা বক্তব্য দেন।


বক্তারা বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর বিচারসেবা প্রদান, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, বিচারিক কার্যক্রমে পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও মতামত তুলে ধরেন।

সর্বশেষ সব খবর