গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্মিত সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১২টায় টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় এ স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিজ তানজিলা খানম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব আলম শুকুর, দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রহিম কালা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদার, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহাম্মেদ সুমন, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নুর (ভিপি আসাদ) এবং টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাশেদুল ইসলাম কিরন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক খাদিজা আক্তার বিনা, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সোহেল রানা, প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, টঙ্গী অঞ্চল-১-এর প্রধান প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সরকার শাহানুর ইসলাম রনি, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল হাসেম, টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মন্ডল, টঙ্গী পূর্ব থানা কৃষক দলের সদস্য সচিব আবুল কালাম, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী জহিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাকেরসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে জমা ও স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের কেন্দ্রের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করা এবং নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়। উদ্বোধন শেষে এ এস পি এস প্রাঙ্গণে নিম গাছের চারা রোপন করেন।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম
জয়পুরহাটে জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ ও সার ডিলারশিপ বণ্টনে অনিয়ম এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম। এ পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দলের ভেতরে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া ওই পোস্টে ফয়সাল লেখেন, ‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন।’
তাঁর ভাষ্য, গত ছয় মাসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ করে ‘খাওয়া’ শেষ হয়েছে। এখন আর কিছু নেই, তাই ‘খাওয়া’ স্থগিত হয়ে গেছে। সার ডিলারশিপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, এমনভাবে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের কেউ সুযোগ পাননি। এ ক্ষেত্রে সার ডিলারশিপে আত্মীয়দের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লেখেন, ‘আমি তো অবাক নয়নে দেখে যাচ্ছি আমাদের জয়পুরহাটের কী হবে?’
ফয়সাল আলিমের বাবা আব্দুল আলিম ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনে জয়ী হন। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরে কেউ ফয়সাল আলিমের সমালোচনা করেছেন, কেউ আবার নতুন অভিযোগ তুলেছেন।
তারিক হোসেন খান নামে একজন মন্তব্যে লেখেন, ‘আরও খাওয়া আছে তো। এখন মেম্বার-চেয়ারম্যান বিক্রি হচ্ছে, ওরা বলছে আসো, সবাই আসো, টাকা দাও, টিকিট নাও।’ এতে স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বা প্রার্থী বাছাইয়ে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো তথ্য দেননি।
ফয়সাল আলিমের সমালোচনা করে বেলাল হোসেন মন্তব্যে লেখেন, কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে ফয়সাল আলিমের নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও সামনে আনা উচিত। তাঁর ভাষায়, ‘এ পর্যন্ত যা দেখছি, তা হলো কিছু সস্তা পোস্ট আর কিছু লোক দেখানো ছবি।’ তাঁর মতে, এ ধরনের পোস্টে দলের ভেতরে বিতর্ক, ভাঙন ও কোন্দল তৈরি হচ্ছে।
জিল্লুর রহমান এ ফেসবুক পোস্টকে জামায়াতের প্রচারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে এভাবে লিখলে জামায়াতই সুবিধা পাবে। তিনি আরও দাবি করেন, ফয়সাল আলিমের বক্তব্য ও ‘হিংসার’ কারণে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান পরাজিত হয়েছেন। এ দাবির পক্ষেও তিনি কোনো তথ্য দেননি।
জয়পুরহাট জেলা পরিষদ থেকে সম্প্রতি জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়। ফয়সাল আলিম তাঁর পোস্টে ওই বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। জানতে চাইলে মুঠোফোনে ফয়সাল আলিম বলেন, ‘কারা ল্যাপটপ ভাগাভাগি করল, সেটি জয়পুরহাটবাসী জানে। আবার বিভিন্ন প্রকল্পের পারসেন্টেজের বিষয়টিও জানে। সত্যি কথা বলতে হবে।’
সার ডিলারশিপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সারের ডিলার কারা পেয়েছেন, সেটিও প্রকাশ হয়েছে। কেউ শাশুড়ির নামে, কেউ শ্যালকের নামে নিয়েছেন। দলে কি নেতা-কর্মীর অভাব ছিল? তাঁরা পেলেন না কেন?’
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফয়সাল বলেন, ‘আমি স্ট্যাটাস দিয়ে দলের বিরুদ্ধে নয়, দলের পক্ষে কথা বলেছি। কারণ, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না।’
তবে ল্যাপটপ ভাগাভাগি, বিভিন্ন প্রকল্পে কথিত পারসেন্টেজ এবং সার ডিলারশিপে আত্মীয়দের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে তিনি নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রকল্প বা নথির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, ‘আমি ফয়সাল আলিম সাহেবের ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখেছি। আমার স্ট্যাটাস পড়তে রুচিতে বেঁধেছে। অথচ কেউ স্ট্যাটাস দিল, তাঁর কিছুই মনে হয়নি।’
সাজেক ভ্যালিতে সড়ক দুর্ঘটনা
রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে পর্যটকবাহী একটি গাড়ি উল্টে গিয়ে সাত পর্যটক আহত হয়েছেন। আজ রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সিজকছড়া এলাকায় একটি জিপ উল্টে গেলে সাত পর্যটক আহত হন।
গুরুতর আহত দুই পর্যটককে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের একজনের মাথায় আঘাত লেগেছে এবং অন্যজনের হাত ভেঙে গেছে।
আহতরা হলেন-মো. আজাহার মিয়া (৬০), শাহানারা আক্তার (৪৫), মো. আরিফুর রহমান (৩৫), মো. সোহরাব (২৬), নাসরিন (৩৫), মো. শাহজাহান (৪৫) ও মোছা. আশা (১৩)। তারা সবাই মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার বাসিন্দা।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ নারী-শিশুসহ ১২ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিজিবির বাধায় তা ব্যর্থ হয়েছে।
বর্তমানে ওই ১২ জন বুড়িমারী বামনদল সীমান্তরেখা থেকে প্রায় ১০০ গজ ভেতরে ভারতের ভূখণ্ডে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।
৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, বিএসএফের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পুশইন চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, শনিবার রাত ৩টার দিকে বুড়িমারী বামনদল এলাকার ৮৩৮/১ নম্বর প্রধান পিলারের কাছ দিয়ে ২ শিশু, ২ নারী ও ৮ পুরুষকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ।
বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তরেখায় অবস্থান নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
মানবাধিকার সংগঠনের জেলা সভাপতি আল-আমিন হোসেন
নীলফামারীর জলঢাকায় নামধারী মানবাধিকার সংগঠনের জেলা সভাপতি আল-আমিন হোসেনের বিরুদ্ধে স্ত্রী নাজমুন নাহারকে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও যৌতুকের কারণে অপদস্থ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ১৬ই অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখে জলঢাকা থানায় একটি লিখিত এজাহার দিয়েছেন তিনি।
এজাহারসূত্রে জানা যায়, নাজমুন নাহারের সঙ্গে আল-আমিন হোসেনের বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, বিয়ের সময় স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য সামগ্রী দেওয়া হয়। পাশাপাশি নগদ অর্থও দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতিনিয়ত যৌতুকের কারণে পারিবারিক তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। নাজমুন নাহারের অভিযোগ, তাঁর স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকিয়া প্রেমে আসক্ত তাই অন্য নারীর সাথে বসবাস করছেন এবং সন্তানদের যথাযথ খোঁজখবর রাখছেন না। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অপদস্থ করা হয়। এজাহারে আরও দাবি করা হয়, তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং তাঁর ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও উল্লেখ করেন, গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেও তিনি তাঁর অভিযোগ তুলে ধরেন। পরে প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন।
মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে স্ত্রীর এমন অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত আল-আমিন ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, আমিও সাংবাদিক আমিও সাংবাদিক এটা নিয়ে নিউজ না করাই ভালে।তবে বিষয়টি ক্ষতিয়ে না দেখে যে নিউজ করবে আমি তার বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জলঢাকা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ স্কাউটস, ঠাকুরগাঁও জেলার আয়োজনে ৬৯তম জোটা ও ৩০তম জোটি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার(১৮ অক্টোবর )সকাল ১১.০০ টায় ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে জেলা স্কাউটসের সহকারী কমিশনার মোঃ ইব্রাহিম হাবিবের সভাপতিত্বে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ স্কাউটস ঠাকুরগাঁও জেলার সম্পাদক ও ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ লুৎফর রহমান মিঠু বলেন, "বিশ্ব স্কাউটস সংস্থার আয়োজনে এবং বাংলাদেশ স্কাউটস এর স্পেশাল ইভেন্টস বিভাগের নির্দেশনায় প্রতিছরই এই আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই স্কাউটস জাম্বুরীতে অন্যান্য দেশের মতো ঠাকুরগাঁও জেলার স্কাউটরা অনলাইনের মাধমে যুক্ত হলো। তরুন স্কাউট বন্ধুদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এই অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তোমরা ইন্টারনেট ও আইসিটিতে আরো বেশি দক্ষ হয়ে উঠবে।
জেলা স্কাউটস এর এএলটি প্রতিনিধি মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, "এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে তোমাদের প্রতিভা বিশ্বের স্কাউট বন্ধুদের সামনে তুলে ধরতে হবে।"
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্কাউটসের কোষাধ্যক্ষ সুচরিতা দেব, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার স্কাউট লিডার মোঃ আব্দুল লতিফ প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিটের ইউনিট লিডার ও স্কাউট গার্ল-ইন-স্কাউট সদস্যসহ শতাধিক জন উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এর মধ্যে রিসোর্টের মালিক একজন মো. তানভীরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস সূত্রধর বাদী হয়ে এ মামলা করেন। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার আজ রোববার সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর ও নেওয়াজ মোর্শেদের নাম রয়েছে। অন্যরা অজ্ঞাত আসামি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে গতকাল বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। তাঁকে মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এদিকে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
আজ সকালে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার খবর পায়। সকাল আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে চারজন মারা গেছেন তিনতলার দুটি শৌচাগারে।
তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সমুদ্রের তীব্র বাতাসে কাঠের রিসোর্টে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের স্থাপনায় বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোসপাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তার পরিকল্পনা থাকা দরকার। কিন্তু রিসোর্টটিতে এগুলোর কিছুই ছিল না। ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। মাত্র সাত থেকে আট মাস আগে রিসোর্টটি তৈরি হয়েছিল। জায়গাটির মালিকানা নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কোনটি কার লাশ, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদের লাশ রয়েছে। অন্য চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর মধ্যে দুই নারী, এক শিশু ও এক পুরুষের লাশ রয়েছে।