দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাস ও অটোরিকশা
ময়মনসিংহ নগরীতে বাসের চাপায় শিশুসহ অটোরিকশার সাত আরোহীর প্রাণ গেছে। শুক্রবার বেলা সোয়া ১টার দিকে গন্দ্রপা বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।
ওসি বলেন, “দুর্ঘটনায় অটোরিকশা ও বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু হয়।”
মো. লিয়াকত আলী
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদে এক রোহিঙ্গা নারীকে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব সনদ দেওয়ার অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. লিয়াকত আলীকে তার দায়িত্ব থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব বিষ্ণুপদ পাল স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে এই অপসারণের আদেশ জারি করা হয়।
ঘটনার পটভূমি
প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, কামারখন্দ উপজেলার ১ নম্বর ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ (১ নম্বর ওয়ার্ড) মো. লিয়াকত আলী বাংলাদেশের নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও মোছা. রোকেয়া বেগম নামের এক নারীকে ভুয়া নাগরিকত্ব সনদ প্রদান করেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের আগস্টে। ওই সময় রোকেয়া বেগম ও তার স্বামী মো. আনিস ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেন। নির্বাচন কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের কক্সবাজারের উখিয়া টেংখালী ক্যাম্প-১২-এর জি-৪ এলাকার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী বলে স্বীকার করেন।
বিভাগীয় ব্যবস্থা ও বরখাস্ত
রোহিঙ্গাকে নাগরিক সনদ দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গত ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে কারণ দর্শানোর (শোবিজ) নোটিশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে লিয়াকত আলীর দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩৪(৪)-এর (খ) ও (ঘ) ধারায় অপরাধ সংঘটনের দায়ে একই আইনের ৩৪(৬) ধারা অনুযায়ী তাকে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন জানান, অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী উচ্চ আদালত থেকে তার পদ বহালের বিষয়ে চার মাস সময় বাড়ানোর আদেশ নিয়ে এসেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি কোনোভাবেই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
পঞ্চগড়ে আমন ধানের ক্ষেতে ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে মাজরা, পাতামোড়ানো, খোলপচা ও গোড়াপচাসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণ। পোকা দমনে একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় বাড়ছে উৎপাদন খরচ। এতে আমন ধান চাষ করে লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে পোকার আক্রমণ, অন্যদিকে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ার শঙ্কায় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পোকা দমনে বিঘাপ্রতি কয়েক দফা কীটনাশক স্প্রে করতে গিয়ে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অনাবৃষ্টি ও তীব্র রোদের কারণে এবার আমন ধানের জমিতে মাজরা ও পাতামোড়ানো পোকার আক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা দিয়েছে। পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় এবার প্রায় ২৩ হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। উপজেলার কামাত কাজলদিঘী, পঞ্চগড় সদর, চাকলাহাটসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা পোকার আক্রমণ থেকে ধান রক্ষায় জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছেন। কেউ কেউ মালচিং পদ্ধতিও ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, একবার এক বিঘা জমিতে কীটনাশক স্প্রে করতে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। অনেক কৃষককে দুই থেকে পাঁচবার পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
সদর উপজেলার প্রধানপাড়া এলাকার কৃষক চৌধুরী বলেন, ‘একে একে তিনবার কীটনাশক স্প্রে করার পর পোকা কিছুটা কমেছে। একবার স্প্রে করতে বিঘাপ্রতি প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয়। আরও স্প্রে করতে হবে।’
কৃষক করিমুল ইসলাম ও ছবুর আলী জানান, তারা স্বর্ণা জাতের আমন ধান চাষ করেছেন। তাদেরসহ গ্রামের অধিকাংশ কৃষকের জমিতে মাজরা পোকা ও খোলপচা রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। পোকা দমনে প্রায় সব কৃষকই দানাদার ও তরল জাতীয় কীটনাশক ব্যবহার করছেন। তবে এরপরও পোকার আক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
কৃষকদের আরও অভিযোগ, ধান উৎপাদনে খরচ বাড়লেও বাজারে ধান বিক্রির সময় তারা ন্যায্য দাম পান না। ফলে অতিরিক্ত কীটনাশক ও অন্যান্য খরচের কারণে এবার ধান চাষে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুন্নবী বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে এবার আমন ধানে মাজরা ও পাতামোড়ানো পোকার আক্রমণ বেশি হয়েছে। কৃষকরা কীটনাশকের দোকানে গেলে অনেক সময় সাধারণ মানের ওষুধ ব্যবহার করেন। উন্নতমানের কার্যকর ওষুধ সঠিকভাবে ব্যবহার করলে একবার প্রয়োগেই পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। এ বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং অনেক কৃষক উপকার পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ৬ জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আলোচিত পুলিশ ভ্যান। ছবি : সংগৃহীত
সাভারের আশুলিয়ায় গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ৬ জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আলোচিত সেই পুলিশ ভ্যানটির সন্ধান পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) একটি জমি উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় ভ্যানটি সামনে আসে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের (ভূমি) সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল্লাহ আকনের নেতৃত্বে জমি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সেখানে থাকা পুলিশের অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হলে আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকা পোড়া পুলিশ ভ্যানটি দেখতে পান সংশ্লিষ্টরা।
ভ্যানটির সন্ধান পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও স্থানীয়রা জড়ো হন। তারা ভ্যানটিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি ঐতিহাসিক সাক্ষ্য ও নির্মমতার স্মারক হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্দোলনকারী আবিদুল আফিফ বলেন, ‘আশুলিয়া থানার সামনে গত ৫ আগস্ট আমাদের ছয় ভাইকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন জীবিত ছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই আমরা এই গাড়িটির খোঁজ করছিলাম। আজ জানতে পারলাম, এটি ডাম্পিং এলাকা থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। আমাদের দাবি, আশুলিয়ার এই নির্মমতার স্মৃতি হিসেবে ভ্যানটি অবিলম্বে জুলাই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হোক।’
আরেক আন্দোলনকারী ফয়সাল হোসেন ফাল্গুন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে গাড়িটির খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় নজর রাখছিলাম। এটি আমাদের শহীদ ভাইদের রক্ত ও ত্যাগের নির্মম সাক্ষ্য বহন করছে। ডাম্পিংয়ে না পাঠিয়ে জাদুঘরে সংরক্ষণ করাই যুক্তিসঙ্গত।’
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে উচ্ছেদ অভিযানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ঢাকা জেলার রিজার্ভ ফোর্সের অফিসার ইনচার্জ শহিদুল বলেন, ‘গাড়িটি এভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। এটি আদালতের আলামত এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি নিতে হলে আইন মন্ত্রণালয়ের আদেশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন হবে। সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ এবং পরে নিহত ও আহতদের পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন পর সেই ঘটনায় ব্যবহৃত পোড়া ভ্যানটির সন্ধান পাওয়ায় এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দেশের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকারের ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্মসূচির আওতায় গাজীপুরের কালীগঞ্জে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠ হতে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলাধীন নাগরী ইউনিয়নের ক্লাব রিসোর্ট থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়। জেলা গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূইয়া এর সভাপতিত্বে ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন।
বিশেষ অতিথি গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী।
বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার), গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ড. মো. আবদুল্লাহ-আল ফারুক, গাজীপুরের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) আহাম্মদ হোসেন ভূইয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব ও এল এ) মো. সোহেল রানা, গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ রিয়াজুল হান্নান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার ও সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, কৃষক দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষকের জীবনমানের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ‘কৃষক কার্ড’ তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কৃষক যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সরকারি সেবা পান, সংশ্লিষ্ট সবাইকে সে বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূইয়া বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আরও সহজ ও সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম জানান, কৃষকদের যেকোনো প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ, সমাজ সেবা কর্মকর্তা আফরোজা বেগম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন আকাশ সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুরের টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ শ্রাবন্তি আক্তার (২০) নামে এক নারী মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন পূর্ব আরিচপুর মদিনাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ টিম পূর্ব আরিচপুর মদিনাপাড়ার শাহানারা মঞ্জিল (হোল্ডিং নং-৫২) নামীয় ভবনের নিচতলায় অভিযান পরিচালনা করে। গাজীপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহীন মাহমুদের নেতৃত্বে পরিচালনা করা এই অভিযানে ভবনটির ভাড়াটিয়া শ্রাবন্তি আক্তারের দেহ ও রুম তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছে রক্ষিত ব্যাগ ও ঘর থেকে ১৫ হাজার পিস ক্ষতিকর অ্যামফিটামিন যুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত শ্রাবন্তি আক্তার নরসিংদী জেলার মাধবদী থানার চর দিঘলদি গ্রামের মোঃ মতিন ও মোসাঃ রেহানা দম্পতির মেয়ে। সে দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর এলাকার উক্ত বাসায় ভাড়া থেকে মাদক কারবার পরিচালনা করে আসছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।
অভিযানের বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকের মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে এবং গাজীপুরকে মাদকমুক্ত করতে ডিএনসির এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ময়মনসিংহ নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচিঝুলি এলাকায় খালের ওপর অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ এবং নির্মাণাধীন ভবনের নির্মাণসামগ্রী খালে ফেলার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন (মসিক)।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে খালের ওপর অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা এবং খালের পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে নির্মাণাধীন ভবনের ইট, বালু, খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী খালে বা খালের পাড়ে ফেলে না রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ সময় প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, নগরীর খালগুলো দখল ও দূষণমুক্ত রেখে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কিংবা খালে নির্মাণসামগ্রী ফেলে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি নগরবাসীকে খাল দখল ও দূষণ না করার পাশাপাশি নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
অভিযানে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।