ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৩০ পিএম

পদ্মা পাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে যে শিমুলিয়া ঘাটে প্রতিদিন ভিড় করতেন হাজারও পর্যটক ও দর্শনার্থী, সেই ঘাটেই এখন দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। ঘাটের প্রবেশ মুখে মাত্র আধা কিলোমিটার পথের ব্যবধানে দুই দফা টোল আদায়ের অভিযোগে ক্ষুব্ধ দর্শনার্থীরা রীতিমত বয়কটের ডাক দিয়েছেন ‘শিমুলিয়া ঘাট’। অন্যদিকে পর্যটকদের অনাগ্রহে গত দুই সপ্তাহে ঘাট এলাকায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কমেছে বলে দাবি স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের। এতে ভাটা পড়েছে বাণিজ্যিক সব কার্যক্রমে।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিমুলিয়া ঘাটে মাত্র আধা কিলোমিটার পথের ব্যবধানে পরপর দুই স্থানে বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। সম্প্রতি টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে আসা চার পর্যটককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লোকজনদের বিরুদ্ধে।


সরেজমিনে বুধবার (২৯ জুলাই) লৌহজংয়ে গিয়ে ঘাট এলাকায় দেখা গেছে, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মাওয়া চৌরাস্তা হয়ে শিমুলিয়া ঘাটের দিকে কিছুদূর এগিয়ে গেলেই ফেরিঘাটের একদম প্রবেশ পথে হাতের ইশারায় থামানো হচ্ছে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন যানবাহন কিংবা পিকনিকের জন্য আসা যাত্রীবাহী বাস। এরপর সেসব যানবাহনকে ঘিরে ধরছে লাঠি হাতে থাকা ৪-৫ জন, পরে পর্যায়ক্রমে চালকরা দিচ্ছেন নগদ অর্থ।


সরেজমিনে দেখা গেছে, মাত্র আধা কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেই পরপর দুইবার টাকা দিতে হচ্ছে যানবাহন চালক ও পর্যটকদের।পদ্মা পাড়ে আগত দর্শনার্থীদের অভিযোগ, পর্যটকদের বিআইডব্লিউটিএ লোগো সম্বলিত হলুদ ও আকাশী রঙের একটি টোকেন ধরিয়ে দিয়ে মোটরসাইকেল থেকে নেয়া হচ্ছে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা করে দুইবারে ৬০ টাকা। আর প্রাইভেটকারসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন যানবাহন থেকে বিনা রশিদের মাধ্যমে শুধু গাড়ির নম্বর নোট করেই নেয়া হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে দুইশ-আড়াইশো কিংবা তিনশো টাকা পর্যন্ত।


এ সময় দেখা গেছে, অনেক যানবাহন চালক টাকা আদায়ের রশিদ দিতে বাধ্য করেছেন ঠিকাদার সংশ্লিষ্টদের। তবে আদায়কৃত অর্থের সমপরিমাণ টাকার সংখ্যা উল্লেখিত রশিদ দিতে পারেননি কেউ।


অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর রশিদের মাধ্যমে এসব টাকা তুলছেন স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি নয় এই চক্রের সদস্যরা। তাদের দাবি, ইজারাদার হাজী আলমগীরের নেতৃত্বে এসব টোল আদায় করা হচ্ছে।


এদিকে একইদিন সরেজমিনে আরও দেখা যায়, একসময় ঘাট এলাকায় যেখানে বিকেল হলেই জমে উঠতো মানুষের ভিড়, পরিবার-পরিজন আর বন্ধুদের নিয়ে পদ্মার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসতেন দূর-দূরান্তের মানুষ, সেই শিমুলিয়া ঘাটেই এখন দেখা দিয়েছে পর্যটক সংকট।


আগত দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা হলে অভিযোগ করেন, অতীতে পদ্মা পাড়ে প্রবেশ করতে কোনো যানবাহনকেই দফায় দফায় টোল দিতে হয়নি। শুধু ঘাট এলাকায় কোন যানবাহন পার্কিং করলে সেই ক্ষেত্রে সামান্য কিছু টাকা টোল দিতে হতো। কিন্তু এখন ভিন্ন চিত্র। ফলে ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, একই এলাকায় এত অল্প দূরত্বে বারবার টোল আদায় কেন? কিসের ভিত্তিতে এত টাকা নেয়া হচ্ছে?


স্থানীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, দ্বৈত টোল আদায়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যিক কার্যক্রমে। হোটেল ব্যবসায়ীদের দাবি, গত দুই সপ্তাহে শিমুলিয়া ঘাটে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।


ব্যবসায়ীদের দাবি, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটলেও এখন ঘাটে শুনশান নীরবতা। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে অনেকের।


তবে বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার বিনিময়ে শিমুলিয়া ঘাটটি  ইজারা দেয়া হয়েছে আলমগীর হোসেন নামের স্থানীয় এক ঠিকাদারকে। এরপর থেকেই দৈনদশা দেখা দিয়েছে ঘাট এলাকায়। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত টোলের কারণে যদি পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নেন, তাহলে শুধু ব্যবসা নয়, শিমুলিয়া ঘাটের পর্যটন সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


রাজধানীর আরামবাগ থেকে পরিবার নিয়ে পদ্মা পাড়ে বেড়াতে আসা ভুক্তভোগী দর্শনার্থী সুমনা আক্তার জানান, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার মহাসড়ক পাড়ি দিতে গাড়ির টোল দিতে হয়েছে সব মিলিয়ে ১৮০ টাকা। তবে ঘাট এলাকায় মাত্র আধা কিলোমিটার পাড়ি দিতে তাদের দিতে হয়েছে ২০০ টাকা। ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।


ভুক্তভোগী আরেক দর্শনার্থী সাইফুল আলম মজুমদার জানান, দুই চাকার বাহন মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত আসতে তাকে মহাসড়কে টোল দিতে হয়েছে মাত্র ১০ টাকা। কিন্তু ঘাট এলাকায় ঢুকতেই প্রথমে একবার দিয়েছেন ৩০ টাকা, এরপর আবার কিছু দূর এগিয়ে যেতেই আবার আরও ৩০ টাকা দিতে হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক দাবি করে তিনি বলেন, পর্যটন সম্ভাবনাময় একটা এলাকাকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য মাত্রা অতিরিক্ত টোল আদায়সহ নানা রকমভাবে পর্যটক হয়রানি চলছে এখানে। দফায় দফায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঠিকাদার সংশ্লিষ্টদের লোকজন মারধর করতে আসে।


এর আগে, সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই রাতে টোল আদায়কারীদের সঙ্গে পর্যটকদের বাগবিতণ্ডা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অতিরিক্ত টোলের প্রতিবাদ করায় ইজারাদারের লোকজন কয়েকজন পর্যটকের ওপর হামলা চালায়। এতে ৪/৫ জন আহত হয়েছেন।


ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক সাইফুদ্দিন বেপারী বলেন, মাত্র আধা কিলোমিটার রাস্তার জন্য আলাদা করে আবার টোল নেয়াটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ঘাট এলাকায় টোলের নামে নারী পর্যটকদেরও হয়রানি করা হচ্ছে নিয়মিত। এভাবে চলতে থাকলে মানুষ শিমুলিয়া ঘাটে আসা বন্ধ করে দেবে।


ঘাট এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান পিন্টু, শরীফ মোল্লা, আহাম্মেদ দেওয়ানসহ আরও কয়েকজন বলেন, নতুন টোল চালুর পর থেকেই পর্যটক কমতে শুরু করেছে ঘাট এলাকায়। আমাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পদ্মা পাড়ে আগত সাধারণ দর্শনার্থীকে সেবা দেয়ার পরিবর্তে বিআইডব্লিউটিএ এখানে টোল নির্ভর ব্যবসা করছে।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিমুলিয়া ঘাটের বন্দর কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে এ টোল ব্যবস্থা চালু করেছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।


তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বন্দর কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ ঠিকাদারের পক্ষে সাফাই গেয়ে বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, মানুষ যেটাকে চাঁদাবাজি বলছে সেটা চাঁদাবাজি নয়। সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। তবে কোন যানবাহন থেকে কি পরিমাণ টাকা নিতে হবে, বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে সেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ইজারাদারের বিষয়।


এছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো পার্কিং ব্যবস্থা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পর্যটক ও দর্শনার্থীরা ঘাট এলাকায় যেখানে গাড়ি পার্কিং করবে, সেখানেই তাকে টাকা দিতে হবে।


এদিকে মাত্রা অতিরিক্ত টাকা ও দুই দফা টোল নেয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে ইজারাদার আলমগীর হোসেন দাবি করেছেন, বিআইডব্লিউটিএ থেকেই দুই দফা টোল আদায় করাসহ দর্শনার্থীদের কাছ থেকে যানবাহন পার্কিং করার জন্য টাকা নেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা ভ্যাট ট্যাক্সসহ প্রায় দুই কোটি টাকার বিনিময়ে ঘাটটি ইজারা নিয়েছি। এখন বিআইডব্লিউটিএ আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছে, আমরা সেটাই বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।


পদ্মার সৌন্দর্য দেখতে আসা মানুষের কাছে শিমুলিয়া ঘাট ছিল স্বস্তি আর বিনোদনের ঠিকানা উল্লেখ করে মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, একটি কুচক্রী মহল বিএনপি ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য মাত্র আধা কিলোমিটার সড়কে দুইবার টোলের টাকা নিচ্ছে। ঘাট এলাকায় পর্যটক হয়রানিসহ নানা অনিয়ম চলছে দাবি করে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।


তবে বিতর্কের মুখে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাজানা ববি মিতু বলেন, শিমুলিয়া ঘাটে কাছাকাছি দুটি টোল নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা সমাধানের চেষ্টা চলছে।


তিনি আরও বলেন, এ বছরই নতুন রাস্তা ব্যবহারের জন্য বিআইডব্লিউটিএ টোল ইজারা দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। খুব কাছাকাছি দুটি টোল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। আমরা এটি বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। আশা করছি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।


এদিকে এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে দুটি পৃথক টোল আদায় কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে শিমুলিয়া ঘাটের পর্যটন সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা অবিলম্বে দ্বৈত টোল ব্যবস্থা বাতিল, অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।




কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের বন্ধ একটি কারখানা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:১২ পিএম

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এস আলমের সব কারখানা। বৃহস্পতিবার কারখানাগুলোর শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়। আজ শুক্রবার থেকে এসব কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সারাদেশের এস আলমের কারখানাগুলো থেকেও শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো হলো, চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, ইস্পাতের পাত প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস ও ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢেউটিনসহ ইস্পাতপণ্য তৈরির কারখানা এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নফ, চেমন ইস্পাত ও গ্যালকো স্টিল এবং ব্যাগ তৈরির কারখানা এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট ও এস আলম ভেজিটেবল অয়েল ইত্যাদি।


কারখানা সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানায় শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। হঠাৎ ছাঁটাইয়ের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখান এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা। শুধু এস আলম সুগারই নয়; মূলত সবকটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ছাঁটাই করে কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 


জানা গেছে, ব্যাংকের সহযোগিতা এবং কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় কারখানাগুলো আগে থেকে বন্ধ ঘোষণা ছিল। তবে মজুত কাঁচামাল দিয়ে কিছু দিন কারখানাগুলো চালু ছিল। এসব কারখানায় আগে থেকে কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করা হলেও একেবারে কার্যক্রম বন্ধ ছিল না। তবে এবারই সবগুলো প্রতিষ্ঠান একেবারে বন্ধ ঘোষণা করা হলো।


এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই শ্রমিকদের নামের তালিকা টানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে নিম্নলিখিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।


জানতে চাইলে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ। তাই কর্তৃপক্ষ চাইছেন কর্মরতরা ফিরে যাক।’


যশোরে বাজুস সভাপতি এনামুল হক

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:৫৭ পিএম

‘স্বর্ণ স্মাগলিং পণ্য নয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি একটি সিন্ডিকেটের কারণে স্বর্ণের বৈধ আমদানির পথ বাধাগ্রস্ত ছিল। খুব শিগগিরই স্বর্ণ আমদানিতে আরও সহজীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। বৈধ উপায়ে এখন স্বর্ণ আমদানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় দেশীয় স্বর্ণ খাত এখন রপ্তানির নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ’ 


এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান। 


শুক্রবার দুপুরে যশোরে খুলনা বিভাগীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘যে পণ্য স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনেরা ব্যবহার করে, সেই পণ্য কখনই স্মাগলিং হতে পারে না। এ দেশের কিছু অসাধু ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও বিদেশি সিন্ডিকেটের চক্রান্তের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ ব্যবসা বৈধতা অর্জন করতে পারেনি। সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জুয়েলার্স সমিতির নেতারা অংশ নেন।’


এনামুল হক খান বলেন, স্বর্ণ খাতকে একটি সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলায় এনে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তরের ওপর জোর দিয়েছে সরকার। স্বর্ণ খাতকে ফরম্যালাইজড ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে ভ্যাট, টার্নওভার ট্যাক্স এবং উৎস কর হ্রাসসহ সরকারের নীতিগত সহযোগিতা পাওয়া গেছে। 


তিনি বলেন, বৈধ উপায়ে স্বর্ণ আমদানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় দেশীয় স্বর্ণ খাত রপ্তানির নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক জুয়েলারি রপ্তানির তালিকায় একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের যেসব সুযোগ ও সুবিধা প্রদান করেছে, ব্যবসায়ীরা তা শতভাগ কাজে লাগাতে চান। খুব শিগগিরই স্বর্ণ আমদানিতে আরও সহজীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে সকল লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি করতে পারবেন। এর ফলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে স্বর্ণের বাজার সফলভাবে বিদেশের মাটিতে প্রসারিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


যশোর জেলা বাজুসের সভাপতি রকিবুল ইসলাম চৌধুরী সঞ্জয়ের সভাপতিত্বে সভায় বাজুসের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আজাদ আহমেদ, সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সমীর ঘোষ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শাহীনসহ খুলনা বিভাগীয় কমিটির ঊর্ধ্বতন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


সিলেটে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

তারেক রহমান বেশি দিন সরকার চালাতে পারবেন না


সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:১৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশি দিন সরকার চালাতে পারবেন না- এ মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। 


দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) ক্ষমতা পরিচালনায় বরাবরই ব্যর্থ এবং দিন দিন এই ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হচ্ছে।’


শুক্রবার দুপুরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত পদযাত্রা ও সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন এই এনসিপি নেতা।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ভয়াবহ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট চলছে। সরকারের নানা জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ যেমন কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না, পাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।’


আন্তর্জাতিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার প্রত্যাশিতভাবে উন্মুক্ত না হওয়া এবং চীন সফরে আশানুরূপ চুক্তি না পাওয়া বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক ও নীতিগত ব্যর্থতারই প্রমাণ।’


জাতীয় নির্বাচনের সমালোচনা করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, ‘নির্বাচনে রাত ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নজিরবিহীন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় খোদ তারেক রহমান প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।’


পাটওয়ারী স্পষ্ট করে বলেন, তাঁদের দলের প্রধান তিনটি এজেন্ডা ছিল একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ আমলের অপরাধের বিচার।


জনগণের রায়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। বিএনপি যদি জনগণের সেই রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তবে জনগণের আন্দোলনের মুখে বিএনপির পতন নিশ্চিত।’


আওয়ামী লীগ আমলের বিচার প্রক্রিয়ায় স্থবিরতার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজারে সম্প্রতি ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রকাশ্য মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহীদ উসমান হাদী, আবু সাঈদ ও মুগ্ধর হত্যাকারীরা এখনো মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ তাঁদের পরিবার বিচারের আশায় দিন কাটাচ্ছে।


রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত বিষয়ে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে পাটওয়ারী জানান, তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ অথবা একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব নিয়ে সব রাজনৈতিক দলের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, কিন্তু কেউ তাতে সাড়া দেয়নি।


তিনি দাবি করেন, বিএনপি শেখ হাসিনা আমলের সংবিধান বহাল রাখার পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় সেই সংবিধানের অধীনেই তাদের শপথ নিতে হয়েছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি ‘চুপ্পু’র কাছে শপথ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূলত বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই সেই পথ তৈরি হয়েছিল।


এর আগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তারেক রহমানকে ‘গ্যাংস্টার’ বলে কটাক্ষ করে বলেন, ‘তারেক রহমান যা বাংলাদেশে করতেছেন তা দেশের রাজনীতির জন্য লজ্জা এবং রাজনীতির যে সংস্কৃতি- সেটাকে অপসংস্কৃতির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। উনার রাজনীতি করার ইচ্ছা নাই।’


হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর মামলা দায়েরের প্রতিক্রিয়ায় সিলেট সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, “এত বড় ‘গ্যাংস্টার’ বাংলাদেশে আসছে। জিকে গৌছ, আব্বাস, বুলু, সালাউদ্দিনের মতো অস্ত্র তার কাছে আছে। কে কার চেয়ে কোন র‌্যাংকিংয়ে কম? কারও কাছে মাদক, কারও কাছে টেন্ডার, সালাউদ্দিনের ছেলেরা এক জায়গায় বসে, খসরু সাহেব আছে।  র‌্যাংকিং করলে তারা ইতালির মাফিয়াকে হার মানাবে। আমরা টেরর রাজ্যে আছি, আমরা ভয় পাচ্ছি।’


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৪৭ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিদায়ী পোস্ট দেওয়ার একদিন পর সাব্বির আহাম্মেদ (২০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার বিত্তাগুন খালে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা ভালুকা মডেল থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।


নিহত সাব্বির আহাম্মেদ উপজেলার বাশিল এলাকার সুলতান আহমদের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে তার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি খালার তত্ত্বাবধানে বড় হন।


স্বজনদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি বিদায়ী পোস্ট দেওয়ার পর থেকেই সাব্বির নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।


ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, "মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"


পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। তাই এ মুহূর্তে মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনো ধরনের অনুমান বা মন্তব্য করা সমীচীন নয়।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:০১ পিএম

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।


শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরের দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপুর লিংক রোডের ইসলামিয়া মাদরাসা মোড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন মো. আতিকুল্যা আতিক (৫৫)। তিনি নোয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়াল এলাকার এলাহি বক্স মিয়ার বাড়ির মৃত সামসুদ্দিনের ছেলে।  


পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির এসআই নূরুল আলমের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে আতিককে আটক করে। পরে তার হেফাজত থেকে ১২ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।


পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন আরও জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হবে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৫৮ পিএম

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় একটি পুকুর থেকে ৫০ বছর বয়সী অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।


শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মিরাজের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।


পুলিশ জানায়, সকালে স্থানীয় লোকজন পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।


হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, নিহত ব্যক্তির পরনে হালকা গোলাপি রঙের ফুলহাতা শার্ট ও নীল-খয়েরি রঙের লুঙ্গি ছিল। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানের চামড়া আংশিক খসে গেছে।


তিনি আরও জানান, মরদেহের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।