প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ এএম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে মানুষের জীবনের প্রায় প্রতিটি ধাপেই খরচ বাড়ে। দৈনন্দিন জীবন আরো খরুচে হয়ে যায়। মূল্যস্ফীতি আরো বৃদ্ধি পায়। এটিই জনজীবনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব। গত রবিবার রাতে আবারও ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হলো। অথচ একই দিনে বিশ্ববাজারে দুই দফায় কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। এমনিতেই গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের জেরবার অবস্থা। তার ওপর জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর বিষয়টিকে ‘গোদের ওপর বিষফোঁড়া’ বলছেন খেটে খাওয়া মানুষ। দেশে অকটেন ও পেট্রলের দাম প্রথমবারের মতো ১৫০ টাকা ছাড়াল। অকটেন, পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিনের হঠাৎ এত মূল্যবৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষ।


মূলত জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমাতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্য উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রতিটি ধাপেই খরচ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। এতে যাতায়াত খরচ বাড়বে। অতীতে দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। মূল্যস্ফীতির চাপ আগের চেয়ে বাড়বে, এমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মানুষের আয় না বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি অনুভব করেন তাঁরা। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্য ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষের বেশি কষ্ট হবে। আবার মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ বাড়লেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। 


সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন–ভাতা বেড়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে তাঁরা নতুন বেতন পেতে শুরু করবেন। তখন বাজারে আরেক দফা প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার কমিয়েছে। ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হার কমালে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়তে পারে। তখন আবার বাজারে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে তা সহায়ক হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিত, প্রভাব ও করণীয় প্রসঙ্গে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে, তাই দেশে দাম বাড়ানোর বিকল্প ছিল না। 


ইরান যুদ্ধের আগে যে দাম ছিল, এখন পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম তার চেয়ে ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। দাম কম রাখলে সরকারকে বেশি ভর্তুকি দিতে হবে। সরকারের আর্থিক সংগতি সেই অবস্থায় নেই। তবে মাসের শুরুতে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের যে নীতি আছে, তা মানা হয়নি। হঠাৎ করে মাসের ২০ তারিখের পর দাম বাড়ানো হয়েছে। জাহিদ হোসেনের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। তবে এই অজুহাতে যেন অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা তৈরি না হয়। এখন মুদ্রানীতিতে কিছুটা ছাড় দেওয়ার মনোভাবের মধ্যে আছে সরকার। 


মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে অন্যান্য দেশের মতো কঠোর অবস্থানে যাওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করা যেতে পারে। জাহিদ হোসেনের মতে, গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষ যেন বাড়তি মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে পারে, সে জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর মতো আর্থিক সংগতি এই মুহূর্তে সরকারের নেই। তাই বিদ্যমান কর্মসূচির সুবিধা যেন প্রকৃত সুবিধাভোগীরা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।


কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, এ ঘোষণার পর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কারণ জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকার প্রায় সব বিষয়ই আন্তঃসম্পর্কিত। 


নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শিল্প-কলকারখানা, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাসাবাড়িসহ সব জায়গায়ই খরচ বাড়বে। এসব খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত বাড়তি টাকা ভোক্তার পকেট থেকেই যাবে। এতে মানুষের খরচের পাল্লা ভারী হবে।


অন্যান্য পণ্য ও সেবার সঙ্গে জ্বালানি তেলের সম্পর্ক থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও আরেক দফা বাড়তে পারে। তিনি বলেন, এর আগে ব্যবসায়ীরা ইরান-সংকটসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম দফায় দফায় বাড়ার কারণ দেখিয়েও তারা বিভিন্ন সময়ে দাম বাড়িয়েছেন। এবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে তারা আরেক দফা দাম বাড়াবেন। এরই মধ্যে চিনি, সয়াবিন তেল, ময়দা, আটা, গরুর দুধসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। এখন এসব পণ্যের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ‘কালকে (রোববার) ৫০০ টাকা দিয়ে ঢাকায় আসছিলাম। আর এক দিন পর এখন ১০০ টাকা বেশি ভাড়া নিল। ৬০০ টাকায় টিকিট কাটতে হলো। কদিন আগেও একবার ভাড়া বাড়ছিল। এখন আবার বাড়ায় দিল।’কথাগুলো বলছিলেন মো. রমজান।


এমনিতেই গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের জেরবার অবস্থা। তার ওপর জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর বিষয়টিকে ‘গোদের ওপর বিষফোঁড়া’ বলছেন খেটে খাওয়া মানুষ। দেশে অকটেন ও পেট্রলের দাম প্রথমবারের মতো ১৫০ টাকা ছাড়াল। অকটেন, পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিনের হঠাৎ এত মূল্যবৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষ। মূলত জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমাতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্য উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রতিটি ধাপেই খরচ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। এতে যাতায়াত খরচ বাড়বে।


এর আগে দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। মূল্যস্ফীতির চাপ আগের চেয়ে বাড়বে, এমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মানুষের আয় না বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি অনুভব করেন তাঁরা। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্য ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষের বেশি কষ্ট হবে। আবার মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ বাড়লেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন–ভাতা বেড়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে তাঁরা নতুন বেতন পেতে শুরু করবেন। তখন বাজারে আরেক দফা প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার কমিয়েছে। 


কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, এ ঘোষণার পর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কারণ জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকার প্রায় সব বিষয়ই আন্তঃসম্পর্কিত। নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শিল্প-কলকারখানা, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাসাবাড়িসহ সব জায়গায়ই খরচ বাড়বে। এসব খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত বাড়তি টাকা ভোক্তার পকেট থেকেই যাবে। এতে মানুষের খরচের পাল্লা ভারী হবে।

একইসঙ্গে অন্যান্য পণ্য ও সেবার সঙ্গে জ্বালানি তেলের সম্পর্ক থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও আরেক দফা বাড়তে পারে। তিনি বলেন, এর আগে ব্যবসায়ীরা ইরান-সংকটসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম দফায় দফায় বাড়ার কারণ দেখিয়েও তারা বিভিন্ন সময়ে দাম বাড়িয়েছেন। এবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে তারা আরেক দফা দাম বাড়াবেন। এরই মধ্যে চিনি, সয়াবিন তেল, ময়দা, আটা, গরুর দুধসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। এখন এসব পণ্যের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পরও রাজধানীর বাজারে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়ে বাজারে ঊর্ধ্বগতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর কয়েকটি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। তবে রবিবার ও সোমবারের মধ্যে অধিকাংশ পণ্যের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। 


খুচরা বিক্রেতা ও বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম পরিবহন খরচে পুরোপুরি প্রতিফলিত হতে আরো কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে নিত্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 


কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাল, ডাল, আটা, ময়দা, চিনি, তেল, সবজি, মাছ ও মাংসের দামে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে যে পণ্য বিক্রি হচ্ছে, তার বড় অংশ আগেই পরিবহন করে বাজারে আনা হয়েছে। ফলে নতুন জ্বালানি দরে পরিবহন খরচের হিসাব এখনো পুরোপুরি যুক্ত হয়নি। 


প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পরিবহন খাতে

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পরিবহন খাতে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহনভাড়া যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে কৃষির উৎপাদন ব্যয়। কারখানা থেকে পণ্যের সরবরাহ ব্যয় বাড়বে। কিছু ক্ষেত্রে কারখানার পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে।


বিদ্যুৎহীন অথবা লোডশেডিংয়ের সময় যেসব গ্রামীণ পরিবারে কেরোসিনের কুপি জ্বালানো হয়, তাদের খরচ বাড়বে। মোটরসাইকেল ও গাড়ির মালিকদের ব্যয় তো বাড়বেই। সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিপাকে পড়বেন মূলত গরিব, নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, কয়েক বছর ধরেই মূল্যস্ফীতি বেশি। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা চাপের মুখে। বাসভাড়া কিছুটা বৃদ্ধি, চাল বা সবজির মূল্যবৃদ্ধি কিংবা রান্নার খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারের মাসিক বাজেটে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, শহরের নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ, ডিজেলনির্ভর সেচব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল কৃষক পরিবার ও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক—তাঁদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।


তিনি বলেন, মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটলে সরকারের হিসাব হয়তো কিছুটা সহজ হবে। কিন্তু নানাভাবে এর মূল্য দিতে হতে পারে—যেমন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, বৈষম্য আরও বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।


এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাড়তে যাচ্ছে বাসের ভাড়া। গত রোববার দিবাগত রাতে ডিজেলের বর্ধিত দাম কার্যকরের পর বেড়ে গেছে পরিবহন ব্যয়। বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ‘ফুয়েল সারচার্জ’ আরোপ করেছে। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া কিলোমিটারে দূরপাল্লায় ২০ পয়সা এবং নগর পরিবহনে ১৮ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। যদিও আসনবিন্যাসের কারণে ভাড়া বাড়বে আরও বেশি। তবে সরকারের অনুমোদন পাওয়ার আগেই সোমবার বিভিন্ন রুটের বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়। লঞ্চের ভাড়া সরকারি সিদ্ধান্তের বৃদ্ধির আগেই খেয়া ও নৌপথে পণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।


রাজধানী ঢাকার কিছু বাসে সোমবারই বর্ধিত ভাড়া নেওয়া হয়। রাজধানীর ফার্মগেট থেকে যাত্রাবাড়ী হয়ে সাইনবোর্ডের দূরত্ব ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার। কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা হিসেবে এ পথের ভাড়া ৩৭ টাকা। তবে এই রুটের লাব্বাইক পরিবহনে আগেই নেওয়া হতো ৪০-৪৫ টাকা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে সোমবার নেওয়া হয় ৫০। দূরপাল্লার বাসেও ভাড়া বৃদ্ধির খবর মিলেছে। দক্ষিণবঙ্গ থেকে ঢাকার রুটের বাসে এদিন যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা করে বেশি নেওয়া হয়। 


বাসের ভাড়া বৃদ্ধির জন্য দুপুরে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে প্রস্তাব করে বাস মালিকদের সংগঠন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। মালিকপক্ষ ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে চলা বাসে ভাড়া কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ২ টাকা ৭৩ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করে। দূরপাল্লার ৫১ আসনের বাস ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করে। উভয় ক্ষেত্রে এর সঙ্গে ২০২২ সাল থেকে ডলারের দাম যত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, ভাড়াও তত শতাংশ বৃদ্ধির দাবি করে। এতে ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে যেত।




বেলা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু সময়ের জন্য অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে রাজধানীর আকাশ।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ২:২৪ এএম

ছুটির দিন আজ শুক্রবারে সকালের আকাশ বেশ ঝকঝকে ছিল। কিন্তু বেলা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু সময়ের জন্য অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে রাজধানীর আকাশ। 


এ পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে নগরীর বিভিন্ন স্থানে। হঠাৎ এমন পরিস্থিতি কেন? এ কি দূষণ, না সাগরে সৃষ্টি হওয়া কোনো লঘুচাপের প্রভাব? এ সময়টায় এমন অবস্থা কি এবারই প্রথম হচ্ছে?


আবহাওয়াবিদ ও দূষণ বিশেষজ্ঞদের কথা হলো, ফেব্রুয়ারির শেষ এবং মার্চের শুরুতে আকাশ হঠাৎ এভাবে মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায়। মনে হয় যেন চারদিক অন্ধকার করে এসেছে, এই বুঝি মেঘ হয়ে বৃষ্টি এলে। শেষতক বৃষ্টি হয় না। 


আকাশও কিছু সময় পর পরিষ্কার হয়ে যায়। এই যে পরিস্থিতি, এটা কিন্তু বরাবরই হয়। আকাশের এই পরিস্থিতিকে ‘ধোঁয়াশা’ বলেন আবহাওয়াবিদেরা। নগরীর দূষণ, হাওয়ার বদল, বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি আর সাগরের লঘুচাপের সীমিত প্রভাব- এসব কারণেই পরিস্থিতি এমন হয়ে যায়।


রাজধানী ঢাকা এখন বিশ্বের দূষিত নগরীগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে আছে। এটাও দীর্ঘ সময় ধরেই আছে। আজ বেলা ১১টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় বিশ্বের ১২৩টি নগরীর মধ্যে ঢাকা ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ঢাকার বায়ুর মান ২৮৪।


বায়ুদূষণের এ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।


বায়ুদূষণের মাত্রা ২০০-এর বেশি হলে সেটিকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। আর ৩০০ হয়ে গেলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে গণ্য করা হয়।


নগরীর এই দূষণের উৎসগুলোর মধ্যে আছে ইটভাটা ও কলকারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ইত্যাদি। এসব উৎসের পাশাপাশি আন্তমহাদেশীয় দূষিত বায়ুপ্রবাহেরও ভূমিকা আছে। এই বায়ু ভারতের দিল্লি, পাকিস্তানের লাহোর ও করাচি এবং ভারতের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এই দূষিত বায়ুর একটি স্তর সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় এটি আপাতত স্থায়ী হয়ে গেছে।


গত জানুয়ারি মাস এবং চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় প্রতিদিন বায়ুদূষণে বিশ্বের নগরীগুলোর মধ্যে একেবারে সামনের সারিতে থেকেছে ঢাকা।


এখন আবার প্রকৃতিতে শীতের বিদায় হয়ে বসন্ত এসেছে। তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। শীতকালে উত্তর-পশ্চিম বায়ু বয়ে যায়। আর গরমে আসে দক্ষিণের বায়ু।


আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলছেন, প্রকৃতিতে বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন হচ্ছে। একটির সঙ্গে আরেক প্রবাহের সংঘাত হচ্ছে। বায়ু এখন এলোমেলো আচরণ করে। এর সঙ্গে রাতের কমতে থাকা তাপমাত্রা এবং দূষণ মিলে এ সময়ের শেষ বিকেল এবং সকালে সূর্য ওঠার পর আকাশ মেঘলা মনে হয়। এটা আসলে ‘ধোঁয়াশা’। শেষ ফেব্রুয়ারি এবং মার্চের শুরু পর্যন্ত এমনটা থাকেই। বৃষ্টি না হলে এ পরিস্থিতি চলতে থাকবে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়ছে। এটিও এই ধোঁয়াশা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।


এরই মধ্যে সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, আগামী সোমবার অথবা মঙ্গলবার বরিশাল, খুলনা বা চট্টগ্রাম বিভাগের কোনো কোনো স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলছিলেন, মূলত উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এতে এই ধোঁয়াশা কাটতে পারে।


  • প্রকাশ : বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ৮:২৭ এএম

আন্তর্জাতিক শিল্পমঞ্চে বড় সাফল্য অর্জন করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর ফিল্ম এন্ড  মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবন। বৈশ্বিক জলবায়ু সচেতনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা রি-আর্থ ইন্টারন্যাশনাল আর্ট প্রাইজ–২০২৫-এর ফটোগ্রাফি বিভাগে তিনি প্রথম স্থান (১st Prize) অর্জন করেছেন।


শ্রাবনের বিজয়ী ছবির শিরোনাম “Dreams Floating on the River”। একই প্রতিযোগিতায় তার আরেকটি আলোকচিত্র “Sleeping on the Edge of Survival” “জুরি চয়েস অ্যাওয়ার্ড” লাভ করে। পাশাপাশি ফটোগ্রাফি বিভাগে আরও একটি সম্মাননা অর্জন করেন তিনি। এ সাফল্যের জন্য তিনি মোট ১ লাখ ২২ হাজার টাকা পুরস্কার পাবেন।


জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, রোমানিয়া, চীন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, তানজানিয়া, কেনিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, রাশিয়া, ব্রাজিল ও সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা অংশ নেন।


প্রতিযোগিতাটি যৌথভাবে আয়োজন করে নিউজিল্যান্ডভিত্তিক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহভিত্তিক । আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ২৫ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীরা ফটোগ্রাফি, পেইন্টিং, ড্রইং, ডিজিটাল আর্ট ও ইলাস্ট্রেশন এবং এআই জেনারেটিভ আর্ট বিভাগে জলবায়ুকেন্দ্রিক কাজ জমা দিতে পারেন। নির্বাচিত শিল্পকর্ম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে বৈশ্বিক দর্শকের সামনে উপস্থাপন করা হয়।


পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি “Dreams Floating on the River” সম্পর্কে শ্রাবন বলেন,

 “নদী শুধু একটি ভৌগোলিক উপাদান নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের অংশ। আমার ছবিতে নদীর বুকে ভাসমান স্বপ্ন আসলে মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম ও আশার প্রতীক। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীভাঙন, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তা—এসব বাস্তবতাকেই আমি শিল্পের ভাষায় ধরতে চেয়েছি।”


তার আরেকটি ছবি “Sleeping on the Edge of Survival” প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

 “এই ছবিটি প্রান্তিক মানুষের জীবনযাপন ও টিকে থাকার সীমারেখাকে তুলে ধরে। আমরা যারা তুলনামূলক নিরাপদ জায়গায় আছি, তাদের জন্য এটি হয়তো একটি ছবি; কিন্তু কারও কারও জন্য সেটিই নির্মম বাস্তবতা।”


অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার আমার তোলা একটি ছবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুরস্কার অর্জন করেছে। এটি যেমন আমার ব্যক্তিগতভাবে আনন্দের, তেমনি বাংলাদেশের জন্যও সম্মানের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য প্রতিভাবান ও নামিদামি শিল্পী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন—সেই ভিড়ে বাংলাদেশের একটি কাজের স্বীকৃতি পাওয়া সত্যিই গর্বের।


আমি বিশ্বাস করি, এই পুরস্কার শুধু আমার একার নয়; এটি বাংলাদেশের। কারণ আমি আমার দেশের মানুষ, তাদের জীবনসংগ্রাম ও বাস্তবতার গল্পই ছবির মাধ্যমে তুলে ধরেছি—আর সেই গল্পই আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত হয়েছে।আমার জন্য দোয়া করবেন সবাই।"


উল্লেখ্য, reEarth International Art Prize হলো জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই ভবিষ্যৎ বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক শিল্প উদ্যোগ। শিল্পকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আগামী প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করাই এর মূল লক্ষ্য। নির্বাচিত কাজগুলো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী উপস্থাপন করা হয়।


  • প্রকাশ : রবিবার ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ১২:৪৫ এএম

এ বছরের আয়কর রিটার্ন জমার সময় শেষ হচ্ছে ২৮ ফেব্রুয়ারি। এর আগে তিন দফা সময় বাড়ানো হয়। গতবারের মতো সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত আছে।


তবে এবার রিটার্ন জমায় পাঁচটি বিষয়ে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তে আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন, তাঁদের এই সময়ে এসব নতুন বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। 


এবার অনলাইনে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই সনাতনি পদ্ধতিতে কাগুজে রিটার্ন জমার সুযোগ নেই।


এবার দেখা যাক রিটার্ন জমার ক্ষেত্রে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা এবার যে পাঁচটি কর ছাড় পাচ্ছেন, তা জানা যাক-


১. ভাইবোনের দেওয়া টাকায় কর নেই


রিটার্ন নথিতে ভাইবোনের দান করা অর্থ বা সম্পদ করমুক্ত থাকবে। অনেকেই বিদেশ থেকে দেশে থাকা ভাইবোনকে টাকা পাঠান কিংবা বিভিন্ন ধরনের উৎসবে উপহার কেনার জন্য দেশ ও বিদেশ থেকে টাকা পাঠান। এমনিতে অনেকে ভাইবোনদের টাকা দেন। এসব টাকার ওপর কর বসবে না। তবে পাঁচ লাখ টাকার বেশি হলে অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেলে দিতে হবে।


এ উদ্যোগের ফলে পারিবারিক জমি, ফ্ল্যাটসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তরও আরও সহজ হবে। এত দিন শুধু স্বামী-স্ত্রী, মা-বাবা ও সন্তানেরা দান করলেই করমুক্ত থাকত।


২. কৃষি খাতের আয়ে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড়


এ বছরের বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির কারদাতাদের কৃষি খাতের আয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ খাতের আয় পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত কর দিতে হবে না। বাণিজ্যিক কৃষিকে উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ। অনেকে এখন জমি লিজ নিয়ে কৃষিকাজ করেন।


৩. বেসরকারি চাকরিজীবীর করের হিসাবে ছাড়


বেসরকারি চাকরিজীবীদের করযোগ্য আয় গণনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বাদযোগ্য অঙ্কের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। নানা ধরনের ভাতাসহ এত দিন সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয় বাদ দেওয়া যেত। এটি এখন থেকে পাঁচ লাখ টাকা হবে।


৪. পেনশনের আয় করমুক্ত


জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আয় ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সর্বজনীন পেনশন স্কিম থেকে প্রাপ্ত আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে। এতে পেনশনভোগীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় এখন গ্রাহকসংখ্যা প্রায় দুই লাখের কাছাকাছি।


৫. মরণব্যাধির চিকিৎসা খরচে কর নেই


চাকরিজীবীদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের মরণব্যাধির চিকিৎসা খরচকে এবার করমুক্ত রাখা হয়েছে। মরণব্যধির তালিকায় আছে কিডনি, লিভার, ক্যানসার, হার্টের চিকিৎসার পাশাপাশি মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার ও কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন ইত্যাদি। এসব রোগের চিকিৎসা বাবদ নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত টাকা করমুক্ত থাকবে। এসব রোগের চিকিৎসায় লাখ লাখ টাকা খরচ হয়।


পরিবেশের অবনতি হচ্ছে ইউরোপে, ইইএর সতর্কবার্তা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ৪:০১ এএম

ইউরোপে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বেড়েছে। তবু ইউরোপের পরিবেশ পরিস্থিতি এখনও খারাপের দিকেই যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় পরিবেশ সংস্থা (ইইএ)। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এ কথা বলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইইউ দেশগুলো ১৯৯০ সালের পর নিঃসরণ ৩৭ শতাংশ কমালেও জীববৈচিত্র্য, পানি ও মাটির অবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংরক্ষিত অভয়ারণ্যের ৮১ শতাংশ এখন ঝুঁকিতে, ৬০–৭০ শতাংশ মাটি ক্ষয়ে গেছে, আর ৬২ শতাংশ জলাশয় দূষিত।

ইইএ জানায়, তাপমাত্রা বাড়লেও ৩৮ সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র ২১টিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার পরিকল্পনা আছে। ইউরোপের অনেক ভবন তাপ সহনীয় নয়, ফলে ১৯ শতাংশ মানুষ আরামদায়ক তাপমাত্রা বজায় রাখতে পারছেন না।

সংস্থাটি বলছে, সুশাসন, প্রযুক্তি ও পানির পুনর্ব্যবহার বাড়ালে কৃষি, জ্বালানি ও পানি খাতে ৪০ শতাংশ পানি সাশ্রয় সম্ভব।