মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
টাঙ্গাইলের ডিসি লেক'কে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা আছে এই লেকে মাছ চাষ করা হবে, যার সুফল পাবে জনগণ। এছাড়াও উন্নত মানের মিনি পর্যটন কেন্দ্র করার ঘোষণা দিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা পালন করার চেষ্টা করবো। চরাঞ্চলে যমুনা তীরবর্তী এলাকায় একটি বৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে যাহার কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। পর্যটন চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত সফল না হই আমরা কাজ করে যাবো। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে ইনশাল্লাহ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে ডিসি লেকের কচুরিপানা পরিস্কার কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু'সহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ছবি : সংগৃহীত
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য বরাদ্দ দেয়া আটা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) তাদের বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয় এবং বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তাদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- কালাই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার ও সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর নির্বাচনি এলাকার অন্তর্ভুক্ত আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলালে বিশেষ ওএমএস কার্যক্রমের আওতায় চাল ও আটা বিক্রি শুরু হয়। এই তিন উপজেলায় প্রতিদিন ২ টন আটা (৪০ বস্তা) ও ২ টন চাল বরাদ্দ ছিল। একজন সুবিধাভোগীর ২৭০ টাকায় ৫ কেজি আটা ও ৫ কেজি চাল কিনতে পারবেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন ৪০ বস্তা আটা বরাদ্দের বিপরীতে বিক্রয় কেন্দ্রে মাত্র ২০ বস্তা আটা রাখা হতো। বাকি ২০ বস্তা আটার কোনো হদিস পাওয়া যেত না। ফলে অনেক সুবিধাভোগী চাল পেলেও আটা ছাড়াই বাড়ি ফিরতেন।
গত ২৭ জুলাই (সোমবার) সকালে বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে স্থানীয়রা ৪০ বস্তার জায়গায় ২০ বস্তা আটা দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন।
এ বিষয়ে জানতে কয়েকজন সাংবাদিক উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের সঙ্গে কথা বলতে যায়। তাদের গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে খাদ্য কর্মকর্তা বলেন, 'এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা, কয় টন বরাদ্দ, এতদিন পর আচ্ছেন। সবাই মিলেমিশে খাই। এখানে তেমন কিছু নাই। যা হবে ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলে মিশে খামু। আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু।'
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আটা সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন সাদিয়া ফ্লাওয়ার মিলস। এই মিলের ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলাম জানান, তারা নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন ৪০ বস্তা করেই আটা সরবরাহ করেছেন। সপ্তাহে পাঁচ দিন এ কার্যক্রম চলে। বিক্রির আগের দিন মিল থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আটা বিক্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হয়। কালাই উপজেলা সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন ৪০ বস্তা আটা বুঝে নিয়ে প্রাপ্তিস্বীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদকে কালাই কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তাকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ জানান, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া-আদাবাড়িয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চোরাই স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া-আদাবাড়িয়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. খাদিজা ও মোছা. মরিয়ম নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।অভিযানে নগদ ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৬ ভরি ১১ আনা ৫ রতি স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৪ লাখ ১১ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এই অভিযানে চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও আরও চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বরগুনা সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
‘স্বপ্না’কে খুঁজছেন মাসুদ রানা
‘স্বপ্না, তুমি যদি কোথাও থেকে এই পোস্টারটি দেখো, একবার শুধু যোগাযোগ করো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমার সঙ্গে একবার দেখা হওয়ার অপেক্ষায় থাকবো।’ এমন আবেগঘন বার্তা লিখে প্রায় দুই দশক আগে হারিয়ে যাওয়া স্কুলজীবনের এক সহপাঠীকে খুঁজছেন আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার সাবেক বাসিন্দা মো. মাসুদ রানা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ হিসেবে তিনি এলাকার বিভিন্ন সড়ক, বিদ্যুতের খুঁটি, দেওয়াল ও পাড়া-মহল্লায় পোস্টার সাঁটিয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে তার এমন উদ্যোগ। সম্প্রতি আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার স্পেকট্রাম গার্মেন্টস সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দেওয়াল, বিদ্যুতের খুঁটি ও বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের পোস্টার লাগানো রয়েছে।
বড় অক্ষরে লেখা, ‘স্বপ্না, স্বপ্না’। নিচে লেখা, ‘একটি মানুষকে খুঁজছি। যদি কেউ চিনে থাকেন, দয়া করে জানাবেন।’
পোস্টারে মাসুদ রানা উল্লেখ করেন, ২০০৭ সালে জিরাবো স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় স্বপ্না নামে তার এক সহপাঠী ছিল। মেয়েটির গালে একটি তিল ছিল। ঈদের ছুটির পর হঠাৎ করেই সে স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়। পরে জানতে পারেন, পরিবারের আর্থিক কারণে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করে সে।
পোস্টারে আরও দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে জিরাবো, পুকুরপাড় ও আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানায় স্বপ্নার চাকরির তথ্য পেয়ে বারবার সেখানে গিয়ে খোঁজ করেছেন মাসুদ। কিন্তু কখনোই তার দেখা পাননি। সবশেষ ২০১৬ সালের পর পর্যন্ত বিভিন্ন কারখানায় কাজ করার তথ্য জানলেও এরপর আর কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিজের বর্তমান অবস্থার কথাও পোস্টারে উল্লেখ করেন তিনি। সেখানে লিখেছেন, ২০১৮ সাল থেকে একটি পোশাক কারখানায় টেকনিক্যাল ম্যানেজার (মার্কেটিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি চাকরির কারণে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় চলে যেতে হয়েছে। ফলে আগের মতো জিরাবো এলাকায় এসে পরিচিতদের কাছে খোঁজ নেওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই এটিকেই তিনি স্বপ্নাকে খুঁজে পাওয়ার ‘শেষ চেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পোস্টারের নিচে নিজের নাম ও একটি মোবাইলফোন নম্বরও দিয়েছেন মাসুদ রানা।
ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে মাসুদ রানা বলেন, ‘ছোটবেলায় আমরা একসঙ্গে পড়তাম। আমি তাকে পছন্দ করতাম, কিন্তু কখনো সেটা বলা হয়নি। তার কোনো ছবি বা ফোন নম্বর আমার কাছে নেই। বহু বছর ধরে বিভিন্নভাবে খোঁজ করেছি। এখন চাকরির কারণে অন্য এলাকায় চলে এসেছি। তাই শেষ চেষ্টা হিসেবে পোস্টার ছাপিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নেই। শুধু একবার জানতে চাই, সে কেমন আছে। জীবনে অন্তত একবার তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।’
মাসুদ রানা জানান, পোস্টার লাগানোর পর অনেকেই ফোন করে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে স্বপ্নার কোনো খোঁজ মেলেনি।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। জিরাবো এলাকার বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আমিনুর রহমান বলেন, ‘গান-কবিতায় শহরময় পোস্টার লাগানোর কথা শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে একজন পুরোনো সহপাঠীকে খুঁজতে এভাবে পোস্টার লাগাতে দেখিনি। বিষয়টি সত্যিই ব্যতিক্রমী। আশা করি, তারা একদিন দেখা করতে পারবেন।’
স্থানীয় একটি পোশাক কারখানার কর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক পোস্টার তো সব সময়ই দেখি। কিন্তু একজন পুরোনো বন্ধুকে খুঁজে পাওয়ার জন্য এমন পোস্টার আগে কখনো চোখে পড়েনি। বিষয়টি মানবিক এবং আবেগের।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলার এজাহার দাখিল করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন। মামলায় এনসিপির ১০ নেতার নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদের সামনে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এনসিপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কোর্ট মসজিদের সামনে জড়ো হন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরীসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলায় জেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের লোহার রড, রামদা, ফিকল, ইটের টুকরোসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় বাদীর আইফোন-১৩, মোজাক্কির হোসেন ইমনের আইফোন-১১, মাহফুজ চৌধুরীর আইফোন-১৪, মাহমুদুল হাসান গাজীর স্যামসাং এস-২২, রক্সি ইসলামের কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা এবং শিমুল হাসানের আইফোন-১৫ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সরে যান এবং আহতরা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন- এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, জেলা কমিটির সদস্য ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দিন তারেক, জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং জেলা কমিটির সদস্য ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।
এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে এনসিপির পক্ষ থেকেও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলা হয়। দলটির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। হামলায় এনসিপির এক কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন দলটির নেতারা। একই ঘটনায় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়।
এনসিপির অভিযোগ অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য থানার পাশের সোনালী ব্যাংকে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় এবং রাতে পুলিশি পাহারায় মৌলভীবাজার পৌঁছে দেয়।
এ বিষয়ে জানতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তবে সদর মডেল থানার এসআই ধ্রুবেশ চক্রবর্তী বলেন, ছাত্রদল নেতা বাদী হয়ে এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুব আহমেদ থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার জেরে দায়ের হওয়া এ মামলার খবর বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে
অধিক বরাদ্দ রেখেছে সরকার। অনেক জেলায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালের অবকাঠামো তৈরি করা হলেও
সেটি জনবলের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। তাই সরকার উদ্যোগী হয়ে দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়ার
চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার
(৩০ জুলাই) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির
সভাপতি হিসেবে আলোচনা সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী সরকারের আওতায় দেশের প্রতিটি স্তরে অব্যবস্থাপনা,
অন্যায়, জুলুম, দুর্নীতি, অবহেলা ছিল। স্বাস্থ্যখাতও এর বাহিরে নয়। রংপুরের সন্তান
হিসেবে আমাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা
হয়েছে। এ হাসপাতালের উন্নয়নে আমি সাধ্যমত কাজ করে যাব।
তিনি
আরও বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে ১০টি আইসিইউ
শয্যা যুক্ত করে ২০টি শয্যায় ইউনিটকে উন্নীত করা হবে। হাসপাতালে রোগীর সাথে একজন এটেনডেন্টের
থাকার সুবিধা নেই, সেটি দ্রুত নিশ্চিত করা হবে। এনেসথেশিয়ার অভাবে অপারেশনে সমস্যা
হচ্ছে। এ কারণে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে, আবার কোনো ক্ষেত্রে রোগী মারাও যাচ্ছে।
অপারেশন চালু করতে প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হবে।
মন্ত্রী
আরও বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তরের দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাস্থল হলেও
এ হাসপাতালে নিরাপত্তার জন্য নেই কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা। তাই আগামী এক মাসের মধ্যে
হাসপাতালে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। চুরি, ছিনতাই রোধে এক সপ্তাহের ভেতরে
গোটা মেডিকেল ক্যাম্পাসে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন লাইট জ্বালিয়ে আলোকিত করা হবে। হাসপাতাল
প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতা দূরসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সিটি
করপোরেশন।
জনবল
সংকট মোকাবেলা নিয়ে আসাদুল হাবিব বলেন, বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিং
হিসেবে ১২৪ জন জনবল রয়েছে। এদের মাধ্যমে হাসপাতালে সঠিক সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তাই রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে ১০ জন, রংপুর-৩ আসনের
এমপির পক্ষ থেকে ৫ জনসহ জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতায় ৫০ জন আউটসোর্সিং
জনবল নিয়োগ করা হবে। এতে করে হাসপাতালে দালাল চক্র, ট্রলির মাধ্যমে পয়সা নেওয়া বন্ধ
হবে। প্রতিটি কর্মচারীকে বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত পোশাক পরানো ও পরিচয়পত্র নিশ্চিত
করা হবে।
তিনি
বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রংপুর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু
করা হয়েছে। নার্সরা যেন রোগীদের সাথে ভাল আচারণ করেন সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ডাক্তাররা
যেন সময় মত ডিউটি করেন সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা সবাই মিলে সহযোগিতা করতে পারলে
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসাক্ষেত্রে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে।
লাশ
পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, মরদেহ পরিবহনের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট
কাজ করে। আগামীতে অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে হাসপাতালের তালিকাভুক্ত হতে হবে। তারা মাইলেজ
অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করবে এবং চালানের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হবে। এনিয়ে সিটি করপোরেশন,
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অ্যাম্বুলেন্স মালিক আলোচনা করবে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
১৫ তলা ভবনে ৪৬০ শয্যার একটি ক্যান্সার, কিডনি, হৃদরোগ বিভাগের ভবন নির্মাণ চলছে। এটির
কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। ভবনটি চালু হলে
হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে। এছাড়া হাসপাতালে যেসব যন্ত্রপাতি অকেজো রয়েছে এবং মেরামত
যোগ্য নয়, সেটি মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।
এ
সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান
সামসুজ্জামান সামু, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর
রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ
সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. রেজেকা সুলতানা ফেন্সি,
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা।
এর আগে, সকাল সাড়ে ১১টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু। তিনি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সাথে প্রায় ৪ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এরপর তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। বিকেলে তিনি রংপুর নগরীর জিয়া খাল ও কেডিএ খাল পরিদর্শন করেন।
মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার
নোয়াখালীর সেনবাগে ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
একই দিন দুপুরের দিকে আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠেনোর নির্দেশ দেন। এর আগে, গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়ন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া (৫০) উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের মৃত আব্দুল হক ভূঁইয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর আব্দুল লতিফ গত প্রায় দুই বছর ধরে নিজের মেয়েকে বিভিন্নভাবে উক্ত্যত করত। এরপর ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত একাধিকবার ভিকটিমকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মেয়ে বিষয়টি তার চাচা ও জেঠাদের জানালে গত মঙ্গলবার ২৮ জুলাই রাতে সেনবাগ উপজেলা জামায়াত নেতা মাওলানা হানিফ ও ডুমুরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুল হক টিটুর নেতৃত্বে ভিকটিমের ঘরে একটি গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে অভিযুক্তকে ৩৩ বেত্রাঘাত, জুতার মালা পরানো ও নাকে খত দেওয়া হয়। সালিশের বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি আব্দুর রহিম সরকার আরও বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ভুক্তভোগী কিশোরীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।