মোঃ সম্রাট
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গোপনে নারী শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় মোঃ সম্রাট নামের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ১৭তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্তের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে শতাধিক ছাত্রীর বিভিন্ন মুহূর্তের সংবেদনশীল ও আপত্তিকর ছবি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জবির শান্ত চত্বরে অবস্থানরত নারী শিক্ষার্থীদের গোপন ছবি-ভিডিও ধারণ করতে গেলে তা বুঝতে পেরে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সহায়তায় তাৎক্ষণিক সম্রাট নামের অভিযুক্ত সেই ছাত্রকে আটক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সম্রাট বিশ্ববিদ্যালয়ের 'শান্ত চত্বর' এলাকায় বসে সেখানে অবস্থানরত নারী শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। বিষয়টি এক নারী শিক্ষার্থীর সন্দেহ হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সহপাঠী ও অন্য শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানান। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন এবং তার মোবাইল ফোন চেক করেন।
মোবাইল যাচাই করে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বসা অন্তত একশ জন শিক্ষার্থীর ছবি এবং কিছু আপত্তিজনক ভিডিও তার ফোনে সংরক্ষিত রয়েছে। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে প্রক্টর অফিসে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মোঃ সম্রাটের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি নিজের পরিচয় জানালেও সামগ্রিক ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত অধ্যাপক ড. মো. আজম খান জানান, "ঘটনাটি আমরা অবগত আছি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন চেক করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর অফিসে আলোচনা চলছে। ভেতরের প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
রাজধানীর যেসব এলাকায় মানুষের বসবাস তুলনামূলক কম, সেসব স্থানে এডিস মশার লার্ভা বেশি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। এসব এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করায় লার্ভার উপস্থিতির তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, বিভিন্ন এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেলেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম রয়েছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে এ ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে।
তিনি বলেন, সরকারি অফিস-আদালত, তথ্য ভবন ও মার্কেটসহ যেসব স্থানে মানুষের চলাচল কম এবং পানি জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব জায়গায় লার্ভা শনাক্তে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হচ্ছে।
মশক নিধন কার্যক্রমে গাফিলতির কারণে ইতোমধ্যে দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মশক নিধনে ব্যবহৃত ওষুধ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞদের অনুমোদনের পর ব্যবহার করা হয় বলেও জানান তিনি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে তিন ধরনের লিফলেট বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে একটি খোলা চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন হাসপাতালে সেন্ট্রাল ট্র্যাপ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালসহ প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে এসব ট্র্যাপ ব্যবহার করা হবে।
অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার, সংরক্ষিত নারী আসন-১৬-এর সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি, শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশারসহ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য থেকে সম্মাননা নিচ্ছেন ড. জান্নাতুল ফেরদৌস
বায়োটেকনোলজি গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক ‘ইয়ং এশিয়ান বায়োটেকনোলজিস্ট প্রাইজ-২০২৬’ পেলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। জাপানের ‘দ্যা সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান’ (এসবিজে) তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করেছে।
গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ৭৮তম (এসবিজে) কনফারেন্সে তাঁকে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌসের পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষণার বিষয় হলো- ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ন্যানোজেল ডিসপারশন ফর এডভান্সড ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেমস’। উন্নত ও কার্যকর ওষুধ সরবরাহব্যবস্থা (ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম) তৈরিতে ন্যানোজেল ডিসপারশন নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাঁর এ গবেষণা উন্নত ওষুধ সরবরাহব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। একই সঙ্গে উন্নত ওষুধ সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে তাঁর গবেষণা ভবিষ্যতে চিকিৎসা ও ওষুধবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “নিজের মেধা ও মনন দিয়ে বিশ্বের গবেষকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেছি। আন্তর্জাতিক পুরস্কার অনুষ্ঠানে যখন আমার বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের নাম উচ্চারিত হচ্ছিলো; তখন খুব গর্ববোধ করি।”
পুরস্কার অর্জনের পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং তাঁর এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অপ্রতিম হত্যার চতুর্থ দিনে শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচার এবং শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে মৌন মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বরাবর ৪ দফা বাস্তবায়নের জন্য স্মারকলিপি দেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়।
মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। গোলচত্বর থেকে মিছিলটি আইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক হয়ে দক্ষিণ মোড় পর্যন্ত যায়। পরে পুনরায় গোলচত্বরে ফিরে এসে কর্মসূচি শেষ হয়।
মিছিল শেষে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহা খানম বলেন, “অপ্রতিম হত্যার শোক পালন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে আমরা এই মৌন মিছিল করেছি। শুরু থেকেই আমরা ৪ দফা দাবি জানিয়ে আসছি। প্রশাসন যেন দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম ভূইয়া বলেন, “স্বৈরাচার আমল থেকেই আমরা কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত দেখে আসছি। এই কিশোর গ্যাংকে কারা জিইয়ে রাখছে এবং কারা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। আমরা দেখেছি, প্রায় ৬–৭ মাস আগে তুহিনের ঘটনার সময় একটি বাইক চুরির ঘটনায় জড়িতদের কীভাবে রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তারাই মূলত এসব অপরাধীকে পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং তাদের অপরাধে উৎসাহ জোগায়।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কিশোর গ্যাং ও অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকদের গোড়া থেকে নির্মূল করা করা না গেলে সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তাই প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি, প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো: অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেপ্তার করে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; কুমিল্লার পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ওসিদের প্রত্যাহার; কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ও দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার; এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের জন্য তাৎক্ষণিক রেসপন্স ইউনিট গঠন।
মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ সময় উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ি এলাকার পশ্চিম সানন্দা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর জানাজা ও দাফন শেষে অপ্রতিম হত্যার বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেসময় তারা ৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) রোভার স্কাউট গ্রুপের উদ্যোগে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাকৃবি রোভার স্কাউটের সম্পাদক কৃষিবিদ ড. মো. জহিরুল আলমের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল আলীম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের রোভার স্কাউট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ড. আবদুল আলীম বলেন, রোভার স্কাউটিং তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, দলগত সহযোগিতা ও মানবিকতার মতো গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে এটি তরুণদের আদর্শ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন দুর্যোগকালীন সময়ে বাকৃবির রোভার স্কাউট সদস্যরা দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশসেবায় ভূমিকা রাখেন।
কর্মসূচিতে বাকৃবি রোভার স্কাউটের সদস্যরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, ক্যাম্পাসের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেন। রোভার স্কাউটের ডেন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতি সোমবার এ কর্মসূচি নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে বলে জানানো হয়।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে টানা অষ্টম দিনের মতো মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি করে আসছেন। এমনকি বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থবিরতা থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উপাচার্যের অপসারণের কোনো বিকল্প নেই বলে জানান বক্তারা।
অধ্যাপক ড. এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে এবং জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামানের সঞ্চালনায় এই কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক ছিদ্দিকুল ইসলাম, সাদা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সাবেক সভাপতি মাহবুব ইকবাল, আতাউর রহমান ও অধ্যাপক ড. নাজমুল হক।এ ছাড়া কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ নেওয়ামত উল্লাহ, বাছিত উদ্দিন, আশফাক আহমেদ, সিকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল হোসেন সনি, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, আশরাফুল ইসলাম ও গোলাম রাব্বানী।
আন্দোলনরত শিক্ষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বর্তমান প্রশাসন চলছে না। উল্টো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে বদলি করা হচ্ছে এবং ফাইলের অজুহাতে মানসিকভাবে চাপে রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের এমন আচরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তার কোনো যথাযথ ফলাফল বা বিচার মিলছে না। তারা অবিলম্বে বর্তমান উপাচার্যকে অপসারণ করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন আন্দোলনকারীরা।
ছবি: নোবিপ্রবি
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য, ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের প্রশাসন শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানারকম অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশনা-২০১৯’ অনুসরণ করতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন পোস্ট, ছবি, অডিও, ভিডিও, কমেন্ট, লাইক বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শ বা আলোচনা-সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য বা উপাত্ত প্রচার থেকেও বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী তথ্য বা উপাত্ত প্রকাশ, কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন কনটেন্ট প্রকাশ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে- এমন পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক ও শেয়ার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোনো সার্ভিস/পেশাকে হেয় প্রতিপন্ন করে এমন পোস্ট, লিঙ্গবৈষম্য বা এ-সংক্রান্ত বিতর্কমূলক তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ এবং জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে- এমন কনটেন্ট প্রচার থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মহামান্য আদালত ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পক্ষে যেকোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ও কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ থেকেও বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ধারা ৪৭(৮) এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ২(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ এবং চাকরি শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে।
এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
অন্যথায় উল্লেখিত আইন ও বিধির পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রচলিত অন্যান্য আইন অনুযায়ীও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।