• প্রকাশ : শুক্রবার ১৯ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:৩৬ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অমিত হাসান মিয়াজ নামের এক চাকুরীজীবীকে দেহ তল্লাশির নামে অপহরণের সময় সিআইডি পরিচয়দানকারী পুলিশ সদস্যদের গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 


শুক্রবার ২০ জুন সকালে সোনারগাঁও উপজেলার হাবিয়া বৈদ্যপাড়া এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে ভুক্তভোগী অমিত হাসান মিয়াজ বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। অমিত হাসান মিঁয়াজ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় চাকরি করেন।


মামলার আসামিরা হলেন, ঢাকা দক্ষিণ ডিপি কার্যালয়ে কর্মরত পুলিশের এসআই মামুন মাতব্বর (৪০), এএসআই আমানুল্লাহ (৩৪), পুলিশ সদস্য কবির (৩৩), আকাশ আহমেদ (৩০) , ড্রাইভার আবু বক্কর সিদ্দিক (৫০), সেলিম মিয়া (৪৫)।


ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এবং এজাহারের বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানান, গত ১৮ জুন দুপুরে সোনারগাঁওয়ের বারদী পুরনো বাস স্ট্যান্ড থেকে সিএনজি যোগে অমিত হাসান মিরাজ তার এক আত্মীয়কে সাথে নিয়ে রূপগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় গিয়ে পাবলিক টয়লেটের সামনে দাঁড়ায়। সেখানে সিআইডি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই আসামিরা টয়লেটের ভিতর নিয়ে দেহতল্লাশি করে কিছু না পেয়ে জোরপূর্বক অপহরণ করে তাদের গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করে। এ সময় অমিত হাসান মিরাজ ডাক চিৎকার শুরু করলে তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে অভিযুক্তদের অপহরণকারী হিসেবে মারধর করেন। 


এরমধ্যে পুলিশ সদস্য আকাশ আহমেদ , ড্রাইভার আবু বক্কর সিদ্দিক, সেলিম মিয়া পালিয়ে যায় এবং পুলিশের এসআই মামুন মাতব্বর, এএসআই আমানুল্লাহ, পুলিশ সদস্য কবিরকে আটক করা হয় ।


পরে অভিযুক্ত আটক ওই ৩ জনকে আড়াইহাজার উপজেলার শান্তিনগর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আহত অবস্থায় আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের রেফার্ড করেন। 


মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, আসামিদের যোগসাজশে গত ১৫ জুন জয়নাল নামের আরেক আত্মীয়কে এভাবেই অপহরণ করে নিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তখন জয়নালের স্ত্রী সামিরুন ও রুবিয়া বেগম ঢাকার অজ্ঞাতন স্থান থেকে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে জয়নালকে ছাড়িয়া নেন। এছাড়া একই কায়দায় জাকির হোসেন নামে আরেকজনকে অপহরণ করে নিয়ে ৬ লাখ টাকা মুক্তিবণ দাবি করে। জাকির হোসেনের মা জাহানারা বেগম আড়াই লাখ টাকা দিয়ে ছাড়া পায়।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪৯ পিএম

নাটোরের লালপুরে মহিষের খামারিদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সড়কের ওপর জমছে গোবর ও বর্জ্য। এতে একদিকে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিলমাড়ীয়া বাজার থেকে কামারের মোড়, কামারের মোড় থেকে মোহরকয়া বাজার ও মোহরকয়া পশ্চিমপাড়া এবং বিলমাড়ীয়া থেকে ভেল্লাবাড়ীয়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার ওপর মহিষ পালন ও খামারের বর্জ্য ফেলার কারণে চলাচলের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।


বিশেষ করে কামারের মোড় থেকে মোহরকয়া বাজার ও পশ্চিমপাড়া অভিমুখী সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দ, কাদা-পানি ও দুর্গন্ধে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এর সঙ্গে স্থানীয় খামারগুলোর গোবর, আবর্জনা ও বর্জ্যপানি সড়কের ওপর পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বছরজুড়েই সড়কটির বিভিন্ন অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকে।


সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামীণ এ সড়কের বিস্তীর্ণ অংশে জমে আছে নোংরা পানি ও প্যাচপ্যাচে কাদা। কোথাও কোথাও চাকার দেবে যাওয়া গর্ত ও গভীর খাদ তৈরি হয়েছে। এসব গর্ত ও কাদা-পানি পার হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, বয়োবৃদ্ধ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় যানবাহনের চালকেরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে কয়েকজন প্রভাবশালী ও স্থানীয় বাসিন্দার মহিষের খামার রয়েছে। খামারের গোবর, আবর্জনা ও বর্জ্যপানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় তা রাস্তার ওপর চলে আসে। এতে সড়কজুড়ে গোবর ও কাদার মিশ্রণ তৈরি হয় এবং আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র দুর্গন্ধ।


এতে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় মশার উপদ্রবসহ পরিবেশগত নানা সমস্যাও দেখা দিয়েছে বলে জানান তারা।


একই অবস্থা বিলমাড়ীয়া থেকে ভেল্লাবাড়ীয়া সড়কের বিভিন্ন অংশেও। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি মহিষের খামারের কারণে ওই সড়কে দূরপাল্লার যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না।


এ ছাড়া বিলমাড়ীয়া বাজার থেকে কামারের মোড় পর্যন্ত সড়কের কিছু অংশে সরকারি জায়গা দখল করে মহিষ পালন ও বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তাদের দাবি।


স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইয়াকিন আলী বলেন, “মোহরকয়া গোরস্থান অভিমুখী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন। বিশেষ করে গ্রামের মানুষ বিলমাড়ীয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ পড়তে এবং মোহরকয়া কেন্দ্রীয় গোরস্থানে লাশ নিয়ে যাতায়াত করেন। রাস্তার এই অবস্থার কারণে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”


বিলমাড়ীয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের একাধিক মুসল্লি অভিযোগ করেন, মহিষের কারণে মসজিদে যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সড়কে থাকা গোবর ও মলমূত্র কাপড়ে লেগে যাওয়ায় ধর্মীয় দিক থেকেও তারা সমস্যায় পড়ছেন বলে জানান।


বিলমাড়ীয়া বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, “রাস্তা দখল করে মহিষ পালন করায় মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে না। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

মোহরকয়া গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল বলেন, “গোরস্থানে লাশ নিয়ে যেতে আমরা ভয় পাই। রাস্তা নোংরা, তার ওপর বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”


স্থানীয়দের অভিযোগ, মোহরকয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থান, মোহরকয়া ডিগ্রি পাস ও অনার্স কলেজ, মোহরকয়া উচ্চ বিদ্যালয়, বিলমাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়, বিলমাড়ীয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বিলমাড়ীয়া কলেজ, বিলমাড়ীয়া দাখিল মাদ্রাসা, বিলমাড়ীয়া দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসা, বিলমাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাথানবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুটি ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব সড়ক ব্যবহার করেন।


এ অবস্থায় দ্রুত সড়ক সংস্কার, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সড়কের ওপর খামারের বর্জ্য ফেলা বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। একই সঙ্গে সরকারি জায়গা দখল করে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে তা উচ্ছেদেরও দাবি করেছেন তারা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১২ পিএম

রাষ্ট্রপতি সাথে ঠাকুরগাঁও জেলা স্কাউট এর সদস্যদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অদ্য ( ৭ ই সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে) নিজ বাসভবনে  উক্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি।সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও স্কাউট এর মাধ্যমে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন কর্মসূচির অংশহিসাবে জেলায় একলক্ষ গাছের চারা রোপনের উদ্বোধন করেন। 


এসময় রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও এ স্কাউট এর নিজস্ব ভবন নির্মাণের ব্যাপারে  খোঁজ নেন।  তিঁনি বলেন স্কাউট দখল হয়ে গেছে,  নির্বাচনের মাধ্যমে স্কাউট নেতা নির্বাচন করে সারা দেশে স্কাউট  কে জনকল্যান ও সেবামূলক কাজে আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে।  


জেলা স্কাউট এর লিডার ট্রেইনার আঞ্জুমানআরা বেবি ও সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান মিঠুর নেতৃত্বে  স্কাউট সদস্যদের সাক্ষাতকালে  রাষ্ট্রপতি বলেন তরুণদের মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনা গড়ে তোলাই হোক স্কাউট আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য। দেশের উন্নয়ন ও সমাজসেবায় স্কাউটদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৫ পিএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুই দিনের ঠাকুরগাঁও সফরকালে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্যগণ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। অদ্য (৭ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে) রাষ্ট্রপতির  নিজ বাসভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 


এ মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গণতন্ত্র, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।  তিনি মফস্বলভিত্তিক সাংবাদিকদের তৃণমূল ও প্রান্তিক মানুষের কথা নিষ্ঠার সঙ্গে যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান। 


ঠাকুরগাঁও-এর সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ দেশের মফস্বল সাংবাদিকদের বিভিন্ন অসুবিধা ও দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের ভবন সম্প্রসারণ, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ঠাকুরগাঁও-এর স্থানীয় নির্যাতিত সাংবাদিকদের জন্য সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দসহ সংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড গঠনের ব্যাপারেও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 


রাষ্ট্রপতি সাংবাদিকদের আস্বস্ত করে বলেন, সাংবাদিকদের  অসুবিধা ও দাবিগুলি পূরণে তিঁনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। রাষ্ট্রপতি সাংবাদিকদের  ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


এ সময় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব, সরওয়ার  আলম, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু ও সাধারন সম্পাদক তানভীর হাসান তানু, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫৪ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫৪ এএম


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫৪ পিএম

মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন লেমুছড়ি ও দোছড়ির দুর্গম পাহাড়ি রুট ব্যবহার করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইয়াবা কারবার। আর এই সীমান্তভিত্তিক বিশাল মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় রুহুল আমিনের নাম। সাধারণ এক সাবেক গাড়ি চালক থেকে ইয়াবা পাচারের মাধ্যমে স্বল্প সময়েই তিনি নামে-বেনামে অঢেল ভূসম্পত্তির মালিক বনে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


এলাকাবাসীর তথ্যমতে, রুহুল আমিন একসময় সাধারণ গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে তিনি নিজের ‘ট্যুরিস্ট জিপ’ গাড়িকে অপরাধের প্রধান আড়াল হিসেবে ব্যবহার করছেন। পর্যটন ও চলাচলের বাহানার আড়ালে লেমুছড়ি ও দোছড়ির সীমান্ত দিয়ে আনা ইয়াবার বড় বড় চালান তার নিজস্ব পরিবহনে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়।


​আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়ে আত্মগোপন


সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত রুহুল আমিন। বর্তমানে তিনি প্রকাশ্যে না এসে আত্মগোপনে থেকেই নেপথ্যে পুরো সিন্ডিকেটের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবৈধ মাদক কারবারের মাধ্যমে রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন রুহুল আমিন। লেমুছড়িসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি কিনেছেন তিনি। দ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে এই ইয়াবা সম্রাট ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪০ পিএম

ব্যাংক থেকে ৭ লাখ টাকা তুলে সোফায় বসে স্ত্রী, পুত্রবধূকে নিয়ে টাকা গুনে গুনে পেছনে জমা করছিলেন গ্রাহক। হঠাৎ পাশে বসা চোর কৌশলে ৪ লাখ টাকা নিয়ে সটকে পড়ে। কুমিল্লায় এমন একটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কুমিল্লার দেবিদ্বারে পূবালী ব্যাংক শাখায় এ ঘটনা ঘটে। টাকার হিসেব মিলাতে না পেরে হাউ মাউ করে কাঁদতে থাকেন গ্রাহক মো. জাকির হোসেন ও তার পরিবার। পরে ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেই তিনি নিশ্চিত হন কীভাবে তার টাকা চুরি হয়েছে।


সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের চানমিয়া সরকার বাড়ির বাসিন্দা মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. জাকির হোসেন রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দেবিদ্বারে পূবালী ব্যাংক শাখা থেকে নিজ প্রয়োজনে ৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এর মধ্যে ছিল এক হাজার টাকা নোটের ৫টি বান্ডেল, ৫০০ টাকার ২টি এবং ১০০ টাকার ১০টি বান্ডেল দেন।


এরপর জাকির হোসেন ব্যাংকের ভেতর সোফায় বসে স্ত্রী আয়েশা আক্তার ও পুত্রবধূ পলি আক্তারসহ টাকা গুনছিলেন। প্রথমে এক হাজার টাকার ৪টি বান্ডেল ৪ লাখ টাকা গুনে পেছনে রাখেন। পরে সবাই বাকি টাকা মনোযোগসহকারে গুনতে শুরু করেন। টাকা গোনা শেষে ৭ লাখ টাকার হিসেব না মেলাতে পেরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হন পাশে বসা ব্যক্তিই টাকা চুরি করেছেন। এই ঘটনায় রাতেই মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় অভিযোগ দাখিল করেন।


এ বিষয়ে দেবিদ্বারে পূবালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মো. ওয়ায়েছ মাসুম চৌধূরী বলেন, একজন গ্রাহক টাকা উত্তোলন করে গণনায় ব্যস্ত ছিলেন। টাকা গুনে গুনে পেছনে রাখছেন অথচ ডান-বামে লক্ষ্য করছেন না। এ সুযোগে প্রতারক চক্রের সদস্য কৌশলে ৪ লাখ টাকার ৪টা বান্ডেল নিয়ে চলে যায়।


দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, সঙ্গে সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পেয়েছি। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৮ পিএম

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে তিনি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।


এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।


সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন তিনি।


স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই জেলা অনেকটাই অবহেলিত। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি জানান, এরই মধ্যে জেলায় মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।


রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। বেকারত্ব দূর করতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।


দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়; বরং আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যাতে বজায় থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।


সর্বশেষ সব খবর