সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও মৌলভীবাজার-২ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরী।
সিলেট বিভাগের ১৯ টি আসনের মধ্যে মাত্র দুজন নারী প্রার্থী হয়েছেন। তাদের একজন সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও অপরজন মৌলভীবাজার-২ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগে দলের প্রার্থিতার দৌড়ে ছিলেন আট নারী। তবে শেষ পর্যন্ত এই দুজনই দলের মনোনয়ন পান। বিভাগের ১৯ আসনে মোট প্রার্থী ১০৪ জন। লুনা আর সাদিয়া ছাড়া বাকী ১০২ জনই পুরুষ।সিলেটে ভোটযুদ্ধের মাঠে থাকা সিলেট-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা বিএনপির নিখোঁজ কেন্দ্রীয় নেতা এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। তাঁর প্রার্থিতা আগে থেকেই অনুমেয় ছিল। বিভাগ বিভিন্ন আসন থেকে আরও ছয় জন নারী বিএনপির মনোনয়ন চাইলেও তারা পাননি।
আর মৌলভীবাজার-২ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) দল থেকে প্রার্থী সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরী। তিনি কাঁচি প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ছেন।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই সিলেটে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করে। মাঠে নেমে পড়েন সিলেটের ১৯ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সে তালিকায় ছিলেন অন্তত আট নারী, যাঁরা সরাসরি দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
লুনা ছাড়া বাকি সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন সিলেট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী ও জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জেবুন্নাহার সেলিম, সিলেট-৫ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব মরহুম আবুল হারিস চৌধুরীর মেয়ে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ব্যারিস্টার সামিরা তানজিম চৌধুরী এবং মহিলা দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক লুৎফা খানম চৌধুরী স্বপ্না, সিলেট-৬ আসনে জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি মরহুম কমর উদ্দিনের মেয়ে ও যুক্তরাজ্যের কাউন্সিলর সাবিনা আক্তার পপি, সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেছু মিয়ার মেয়ে সামিরা হোসেন, হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাম্মী আক্তার এবং মৌলভীবাজার-২ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) নেত্রী সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরী। তবে তাঁদের মধ্যে তাহসিনা রুশদীর ও সাদিয়া নৌশিন ছাড়া বাকিরা মনোনয়ন পাননি। মাঠে কর্তৃত্ব ধরে রেখেছেন তাহসিনা রুশদীর।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল স্বামী এম ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর থেকেই মূলত বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনে দলের কর্তৃত্ব তাহসিনার হাতে চলে যায়। এরপর দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই দুই উপজেলায় বিএনপির অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনিই দলের প্রার্থী হবেন এটি অনুমেয় ছিল। যদিও যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবীর (বর্তমানে দলের যুগ্ম মহাসচিব)-এর নাম প্রার্থী হিসেবে মাঝখানে শোনা যাচ্ছিল। তবে শেষপর্যন্ত দল তাহসিনাকেই মনোনয়ন দেয়। এরপর থেকেই নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন তিনি। প্রতীক পাওয়ার পর থেকে পুরো দমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন লুনা।
সাদিয়া নৌশিন তাসনিমে মুগ্ধ ভোটাররাগণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী হয়েছেন বাসদ (মার্কসবাদী) নেত্রী সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরী। কাঁচি প্রতীকে লড়ছেন মৌলভীবাজার-২ আসনে। তরুণ এই নেত্রী তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। দলের বাইরের অনেকে তাঁকে সমর্থন দিচ্ছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশি প্রখ্যাত জিন বিজ্ঞানী ও ধান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরী তাঁদের একজন। নিজের এলাকায় প্রথম নারী নৌশিনকে সমর্থন জানাতে নিজের উদ্যোগে ছুটে এসেছেন।গত ১৪ জানুয়ারি কুলাউড়া উপজেলার লস্করপুরে বাসদের কর্মী সভায় এসে নৌশিনকে সমর্থন জানিয়ে এই বিজ্ঞানী বলেন, ‘এটা একেবারে অসম্ভব একটা জিনিসের মতো। এই এলাকায় আমি বড় হয়েছি। ৪৫ বছর বিদেশে থাকি। তার পরও এ দেশকে পর্যবেক্ষণ করি। কিন্তু রাজনীতিতে এরকম মানুষ তো আমি দেখিনি। সে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।’
ভোটের মাঠে নারী প্রার্থীদের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের হার কম হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করে ড. আবেদ বলেন, ‘অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’-১০০ বছর আগে নজরুল লিখেছেন। অথচ এখনো আমরা তামাশা করছি। নির্বাচনে পুরো প্রার্থীদের মধ্যে মেয়েরা মাত্র তিন শতাংশ। এর চেয়ে অপমানজনক আর কিছু হতে পারে না।’
এটি রাষ্ট্রকে কালিমালিপ্ত করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এটা অন্তবর্তীকালীন সরকার এবং পুরো শাসকগোষ্ঠীতে যাঁরা আছেন, তাঁদের কালিমালিপ্ত করছে। সেই তিন শতাংশের মধ্যে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হলো নৌশিন।’
নারী সংসদসদস্য প্রার্থী সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরীও হতাশা নিয়ে বলেন, ‘ঐক্যমত্যের কমিশনের আলোচনায়ও সর্বনিম্ন পাঁচ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার কথা। অথচ ৩০টি দল কোনো নারী প্রার্থীই দেয়নি। যাঁরা দিয়েছেন তার মধ্যে আমাদের দল ৩৩ প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনই নারী প্রার্থী। বিএনপির মতো দলে মাত্র ১০ জন নারী প্রার্থী। এতে জুলাই সনদের যে বাস্তবায়ন, এ ক্ষেত্রে শুরুতেই তা খারিজ হয়ে গেল। তাহলে সনদ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে।’
সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক রেহানা আফরোজ খান বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্খা তার অন্যতম নারীর ক্ষমতায়ন। এই আন্দোলনে নারীরা সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ঢাল হিসেবে সামনে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু নতুন বাংলাদেশে আমরা নারীর প্রতি সেই ইনসাফ দেখতে পাচ্ছি না। যার একটি বড় উদাহরণ হতে পারে এবারের নির্বাচনে পুরো বিভাগ থেকে মাত্র দুইজন নারী প্রার্থী দেওয়া।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সিলেটের সভাপতি ও বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি সিলেটের বিভাগীয় প্রধান সৈয়দ শিরিন আক্তার বলেন, ‘নারী প্রার্থী দেওয়ার কথা ছিল, বেশিরভাগ দল দেয়নি। পাঁচ শতাংশের কথা বলা হলেও বাস্তবায়িত হয়নি। জামায়াতে ইসলামী তো একজনও দেয়নি। এটি নারীদের প্রতি বৈষম্য, তাঁরা কথা রাখেননি।’হতাশা ব্যক্ত করে শিরিন আক্তার বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে তাঁরা বলেছেন, পর্যায়ক্রমে নারী আসন বাড়ানো হবে। কিন্তু তার প্রতিফলন কই? তবু আমরা অপেক্ষায় আছি। আমরা বঞ্চিত হয়েছি; ক্ষুব্ধ, ব্যথিত, হতাশ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি। বিশেষ করে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি। তারা পারেননি। ঐক্যমত্যের কমিশনেও কোনো নারী প্রতিনিধি নেই। এগুলো হতাশার।’
যাঁরা নির্বাচনী বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবেন তাঁরা কী করেন দেখার বিষয় উল্লেখ করে শিরিন আক্তার বলেন, ‘নির্বাচনে যারা বিজয়ী হবেন বা যেসব দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, অথবা জাতীয় সনদ যারা বাস্তবায়ন করেন, তারা যদি এ বিষয়টি বাস্তবায়ন করেন। না হলে অধিকার আদায় আমরা প্রতিবাদ, আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুরে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতার জাহাঙ্গীর উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামের আক্কেল আলী হাওলাদারের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ১৮ জুলাই তিনি তার মাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান।
এজাহারে বলা হয়, ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১টার দিকে জাহাঙ্গীর পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বসতঘরের পেছনের জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে জাহাঙ্গীর তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় ভুক্তভোগীর ১০ মাস বয়সী শিশুর গায়ে অভিযুক্তের পা লাগলে শিশুটি কান্না শুরু করে। পরে চার বছর বয়সী অপর সন্তানও জেগে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় জাহাঙ্গীর শিশুটির মুখ চেপে ধরেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জাহাঙ্গীর ঘরের পেছন দিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী তার স্বামী ও স্বজনদের বিষয়টি জানান। পরে অভিযুক্ত ও তার স্বজনদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি ও চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে। দুপুরে তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে মহাদেবপুরে শোভাযাত্রা
"প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে নওগাঁর মহাদেবপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।
এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ এতে সভাপতিত্ব করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খুরশিদুল ইসলাম, সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাবলু আজাদ হোসেন মুরাদ প্রমুখ।
শোভাযাত্রায় অন্যদের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, একাডেমিক সুপারভাইজার ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ অংশ নেন।
বক্তব্য দানকালে ইউএনও উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল গেটের সামনে ও বিভিন্ন জনসমাবেশস্থলে প্রকাশ্যে ধূমপানকারিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
শিক্ষকের পিটুনির শিকার শিক্ষার্থীদের একাংশ
নওগাঁয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ শিশুশিক্ষার্থীকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অভিভাবকেরা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন। তবে ওই শিক্ষক দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে পার পাবার চেষ্টা করছেন। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সম্পর্কে ব্যঙ্গ করার জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুস সালাম।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নেবার জন্য কোন শিক্ষক ছিলেন না। এসময় এক শিক্ষার্থী ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ বলে গান গাওয়া শুরু করেন। গানের শব্দে শিক্ষক আব্দুস সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে একখন্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের এলাপাথারি পিটাতে থাকেন। এতে ওই শ্রেণির ২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী আহন হন।
শিশুরা বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। সন্ধ্যায় তারা বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, ‘সালাম স্যার আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করেন। দল হেরে যাওয়ায় আমরা কয়েকজন মিলে ক্লাসে গান গাইছিলাম ব্যঙ্গ করে। এরপর স্যার এসে আমাদের সবাইকে ইচ্ছেমতো মারধর করেন।’
আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ এইটা বলে আমরা তিনজন গান গেয়েছিলাম। তারপর স্যার রেগে গিয়ে আমাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মারধর করায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো।’
জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানাউল হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো।’
গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ খুনের প্রধান আসামী স্বামী সাইফুল ইসলামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে স্ত্রী হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
বিকেলে গাজীপুর পিবিআই কার্য়ালয়ে পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তার স্বামী মো: সাইফুল ইসলাম (৩৮) জামালপুরের ইসলামপুর থানার বেনুয়ারচর এলাকার বাসিন্দা।
গাজীপুর পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, মহানগরের বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গলায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতযুক্ত এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সংবাদ পেয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার ক্রাইমসিন টিম অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় সনাক্ত করে। নিহত শান্তা বেগম (৩৩) নাটোর সদরের চরলক্ষীকোল এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে নিহতের পিতা বাসন থানায় মামলা করেন।
তিনি বলেন, বাসন থানা পুলিশ একদিন মামলাটি তদন্ত করে। মামলাটি পিবিআই এর সিডিউলভুক্ত হওয়ায় ২৩ জুলাই পিবিআই গাজীপুর জেলা মামলাটি স্ব-উদ্দোগে গ্রহণ করে। এদিকে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পিবিআই গাজীপুর জেলার টিম প্রথম থেকেই ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় সকাল সাড়ে ৭ দিকে ফায়দাবাদ এলাকার ট্রান্সমিটার মোড় থেকে হত্যাকান্ডের জড়িত আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে নিহত শান্তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, সাইফুল আগে একটি বিয়ে করেছিল। সেই সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পরে গাজীপুরে গার্মেন্টসে চাকুরি করাবস্থায় শান্তার সাথে সম্পর্ক হয় এবং পরে তারা বিয়ে করে। বিয়ের এক বছর পরে জানতে পারে শান্তার পর্বে আরো দুইটি বিয়ে হয়েছিল। শান্তার প্রথম স্বামী জুয়েল এবং দ্বিতীয় স্বামী সবুজের ঘরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এছাড়াও সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন কারনে শান্তাকে সন্দেহ করতে থাকে শান্তার যে অন্য কারো সাথেও বিবাহ বহির্ভত সম্পর্ক থাকতে পারে। এ বিষয়গুলি জানতে পেরে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয় এবং এক পর্যায়ে শান্তা আসামী সাইফুলকে ডিভোর্স দেয়। এরপর আবার আসামীকে একদিন শান্তা ফোন দিয়ে গাজীপরে আসতে বললে আসামী গাজীপুরে এসে শান্তাকে আবার বিয়ে করার পর প্রায় ২/৩ মাস তাদের ভালো চলে। কিন্তু এরপরেও সাইফলের মনে শান্তার প্রতি সন্দেহ থেকেই যায়। এর জেরে ঝগড়া ঝাটি করে সাইফল তার খালুর বাড়ীতে চলে যায়।
গত ২১ জুলাই সকাল শান্তা সাইফুলকে ফোন করে গাজীপুর চৌরাস্তায় আসতে বলে। এসময় সাইফুল শান্তাকে বাসা থেকে ফল কাটার ছুরি নিয়ে আসতে বলে। পরে তারা গাজীপুর চৌরাস্তায় একাটি হোটেলে খাওয়া দাওয়া ওই আবাসিক হোটেলে রুমে অবস্থান কালীন সময় পুরনো কথাবার্তা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এসময় তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল শান্তার আনা ছুরি দিয়ে শান্তার গলায় ও বুকে আরো আঘাত করে মোবাইল ও আইডি কার্ড নিয়ে পালিয়ে যায়।
গাজীপুরে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় পিতার যাবজ্জীন সশ্রম কারাদন্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনাল, গাজীপুর মহানগরের বিচারক মো. আবুবক্কর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার আদালতে আসামীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (পিপি) মোছাম্মৎ সেলিনা বেগম এবং আসামি পক্ষের আনজীবী মো. সোহেল জামিন সরকারসহ অন্যান্য আইনজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (পিপি) মোছাম্মৎ সেলিনা বেগম জানান, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার পুরাতন দোহারো খুলুমবাড়ি এলাকার স্থানীয় রিপন হোসেনের স্ত্রী মোসা. জোসনা বেগম (৩৯) এবং মেয়ে (১৫)কে নিয়ে গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুরের বরিশালের টেক এলাকায় বসবাস করতেন। গত বছরের ২৬ মার্চ রাত ১০টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পরেন। পরে ওই রাতেই ভিকটিমের পিতা মো. রিপন হোসেন জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় কাশিমপুর থানায় ভিকটিমের মা জোসনা বেগম পিতাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন এবং পুলিশ পাষণ্ড পিতাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। পরে কাশিমপুর থানার এস আই রোকন মিয়া তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জসীট দাখিল করেন। পরে আদালত গত ১১ মে চার্জ গঠন করেন এবং সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। চার্জ গঠনের দুই মাসের মধ্যে বিজ্ঞ বিচারক এ মামলায় রায় ঘোষণা করেন।
আসামী পক্ষের আনজীবী মো. সোহেল জামিন সরকার বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যে কয়জন সাক্ষীর সাক্ষা গ্রহণ করেছেন আমি তাদেরকে যথেষ্ট জেরা করেছি। তাদের একজনের সাথে আরেক জনের সাক্ষয় অনেক অমিল রয়েছে। তারপরেরও বিজ্ঞ বিচারক যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। লিগ্যাল এ্যাড কতৃক নিযুক্ত বিবাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমি এ রায়ে সংক্ষুব্ধ।
গোপালদী বাজারের থাই অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী রক্তদাতা, মানবিক সংগঠক জহিরুল ইসলামের ওপর বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো গোপালদী পৌরসভা।
হামলায় জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে গোপালদী পৌরসভার ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দী পশ্চিম পাড়া কবরস্থান সংলগ্ন খেলার মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি গোপালদী বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গলি প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড দিয়ে শেষ হয়। এ সময় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মিছিলে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ।
মানববন্দনে বক্তব্য রাখেন বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন,রনি খন্দকার,মিয়া চাঁন,আমিন মিয়া,জামাল মিয়া।
এ সময় বক্তারা বলেন, গত ২১ জুন সন্ধ্যায় চাঁদার দাবিতে গোপালদী বাজার বালুর মাঠে ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম,ফারুক,আলমগীর সহ কয়েকজন ব্যবসায়ীদের উপর হামলা করে একই এলাকার মাদককারবারী আক্তার হোসেন,কামাল হোসেন,বিল্লাল হোসেন,জুবায়ের,সুজন,সোহাগ,সিয়াম,ফাহিমসহ আন্তত ৭/৮জন সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়।
এ ঘটনায় গুরুত্বর আহত হন ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম,ফারুক,আলমগীর হোসেন। হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হলেও ঘটনার ১ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামী গ্রেফতার হয়নি।
পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত ব্যবসায়ীরা। দ্রুতই আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়ে ব্যবসায়ীরা বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন।