• প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫৯ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে গুলিতে দুইজন নিহতের ঘটনায় করা জোড়া খুনের মামলায় প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলার অপর দুই আসামি পারুল ও ফরহাদকে খালাস দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নোয়াখালীর অতিরিক্ত দায়রা জজ-২য় আদালতের বিচারক তৌহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।


মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল বেগমগঞ্জ উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মনু মিঝি বাড়িতে পুকুরের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে সেতারা বেগম ও খলিল নিহত হন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন এখনও অসুস্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর আবদুস সহিদ বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির জিআর নম্বর ৪৯৯/১৩। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি জসিম উদ্দিন বাদল বলেন, প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুই আসামি পারুল ও ফরহাদকে খালাস দেওয়া হয়।। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামছুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।



সর্বশেষ সব খবর

দেশে এলো ৩ মরদেহ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০৯ পিএম

ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের একই পরিবারের তিন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।


আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের মরদেহ পৌঁছায়। একই দিন বাদ মাগরিব কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।


নিহতরা হলেন, চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের একমাত্র ছেলে অয়ন। তিনি শুক্রবার বিকেলে মরদেহের সঙ্গে প্রামের বাড়িতে পৌঁছে জানাজা ও দাফনে অংশ নেবেন।


পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে নিহত হন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


গত ১১ আগস্ট ইতালির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়ায় নিহত তিনজনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাদের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।


নিহত বাবুলের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট ইউনুস বলেন, ইতালিতে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তারা হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। বাবুল দেশে এলে সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। এমন নির্মম ঘটনায় তারা বাকরুদ্ধ। ঘটনায় অভিযুক্ত শাহাদাতকে এখনো আইনের আওতায় না আনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।


এদিকে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে ইতালিয়ান পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।


উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ জুলাই চরকাঁকড়া ইউনিয়নে তাদের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের নামে একটি উড়ো চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে পরিবারের কাছে টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি এবং দাবি পূরণ না করলে ছেলে-নাতিকে হত্যাসহ নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা। পরে নিরাপত্তাশঙ্কার কথা জানিয়ে নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম কোম্পানীগঞ্জ থানায় ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলে জানা গেছে।


নিহত বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে দেশে ছুটিতে এসে কবরস্থানে মাটি ফেলেছে। সেখানেই তাকে স্ত্রী-সন্তানসহ দাফন দেওয়া হবে। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি বিচার চাই।”

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৯ পিএম

নিরাপদ খাদ্য আইনে দায়ের করা মামলায় ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। একই সঙ্গে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আরও এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত) এ রায় ঘোষণা করেন।


মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. সামছুল ইসলাম রমিজ নিরাপদ খাদ্য আইনে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে ‘রসের মিষ্টি’র মালিক মো. এনামুল হককে ৪ লাখ টাকা এবং ‘ধামরাই হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এর মালিকের স্ত্রী হেমন্তকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত।




আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে এক মাসের মধ্যে জরিমানার অর্থ আদালতে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।


অন্যদিকে, একই মামলায় ‘নকল তেল রজনী’র মালিক মোহাম্মদ পলাশ শুনানির দিন আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাদ্যে ভেজাল, অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে আদালতের এ ধরনের রায় গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪১ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ‘বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে’ ৮ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। শুক্রবার সকালে ইয়ার্ডে একটি জাহাজে হাউজ কিপিংয়ের কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।


জাহাজটির একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গমনের ঘটনা দেখতে পেয়ে শ্রমিকরা এগিয়ে যায়। তাদের কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে পড়লে পাঠানো হয় হাসপাতালে।


চট্টগ্রাম মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান দুপুরে জানান, এখন পর্যন্ত ৭ জনকে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন। একজন চিকিৎসাধীন আছেন।


ডা. ইশতিয়াক বলেন, “তাদের শরীরে বিস্ফোরণজনিত আঘাত এবং গ্যাস ইনহেলেশন জনিত প্রভাব পেয়েছি। জাহাজ কাটার সময় বিস্ফোরণ হয়েছে বলে শুনেছি।”


সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর বলেন, সবশেষ শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ২ জনের মরদেহ ছিল। তাদের বেলা আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মেডিকেল নিহত ৬ জন ছিল। মোট ৮ জন নিহত হয়েছেন।


“আমরা পৌঁছার আগেই আহত কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মোট কতজন আহত তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।”


হতাহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা আঙ্গুর মিয়া বলেন, “শ্রমিকরা জাহাজ কাটার কাজ করছিল। তখন গ্যাস ট্যাংকিতে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। নিহতদের মধ্যে আমি দুজনকে চিনি। তারা গাইবান্ধা জেলার মানুষ।”


নিহতদের একজন মনছুরের স্ত্রীর ভাই মহিউদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছি। এখনো মালিকপক্ষের কেউ আসেনি। মনছুর ও নাছির দুই ভাই মারা গেছেন। তারা ভাটিয়ারির বাসিন্দা।”


ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, “আজ বন্ধের দিন। আমাদের শিপ কাটিং ছিল না। গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি।


“গ্যাস লিকেজ দেখতে পেয়ে শিফট ইনচার্জসহ তিনজন অফিসার এগিয়ে গেলে তারা অসুস্থ হয়ে যান। তাদের দেখে আরো চারজন এগিয়ে গেলে তারাও অজ্ঞান হয়ে পড়েন।”


কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, “জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস নিগর্মনে ১০ জন শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। সকালে এ ঘটনা ঘটে।


“কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তা বিস্তারিত জানতে পারিনি। গ্যাস নির্গমনের কারণ এবং ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না তা পরিদর্শনের পর জানাতে পারব।”


ফায়ার সার্ভিসের সীতাকুণ্ড স্টেশনের স্টেশন অফিসার আল মামুন বলেন, “আমরা শিপ ইয়ার্ডের ভেতরে। উদ্ধার কাজ চলছে।”

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৪ পিএম

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আব্দুর রহিমকে (৪৮) দীর্ঘ ৯ বছর পর ফেনীর দাগনভূঞা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ফেনীর দাগনভূঞা মিষ্টি মুখ সুইটসের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার রহিম সুবর্ণচর উপজেলার উত্তর কচ্ছপিয়া এলাকার মৃত আবদুল বারিকের ছেলে।


র‍্যাব জানায়, ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সোনাইমুড়ী থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে আদালতে বিচার শেষে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে ৯ বছর আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপনে থাকার সময় আসামি তার জাতীয় পরিচয়পত্রের স্থায়ী ঠিকানাও পরিবর্তন করেন। দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারির পর তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


র‍্যাব-১১-এর সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চরজব্বর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুল

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৩ পিএম

গাজীপুরের গাছা থানাধীন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুলের ওপর হামলার অভিযোগে সাংবাদিক উন্নয়ন কেন্দ্র গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।


অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুলের মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একজন সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের বর্বর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয় এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং জনগণের জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।


সাংবাদিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অলিদুর রহমান অলি, সিনিয়র সহ-সভাপতি মনসুর আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান শোভন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, সংবাদ সংগ্রহের সময় একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হামলার শিকার হতে হবে এটি কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে, হামলা করে কিংবা অস্ত্রের মুখে সংবাদ সংগ্রহ থেকে বিরত রাখার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে।


নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সাংবাদিকের কলম থামাতে অস্ত্রের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই হামলার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা অন্য কোনো পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।


সাংবাদিক উন্নয়ন কেন্দ্র প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুলের ওপর হামলার ঘটনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক এবং ভবিষ্যতে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু সাংবাদিক সমাজের দাবি নয় এটি গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষার অপরিহার্য শর্ত।


আমরা আহত সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুলের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই সত্য ও জনস্বার্থের সংবাদ প্রকাশের পথে কোনো সন্ত্রাসী হামলা, ভয়ভীতি বা অস্ত্রের হুমকি সাংবাদিক সমাজকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।

সর্বশেষ সব খবর

দিনাজপুর জেলা মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩৯ পিএম

দিনাজপুর জেলা মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটির নেতা মো. মজিবর রহমান মুজিবকে কোতোয়ালী থানা হেফাজতে মারধরের অভিযোগ তুলে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের দাবী জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক পরিবহন ধর্মঘট ও বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের যে দুর্ভোগ হয়েছে, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়—এমন কর্মসূচি এড়িয়ে চলার আশ্বাস দিয়েছে ইউনিয়নটি।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিনাজপুর শহরের সুইহারী বাসস্ট্যান্ডে সংগঠনটির প্রধান কার্যালয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউনিয়নের আহ্বায়ক মো. আব্দুল কাইয়ুম। পরে সাংবাদিকদের হাতে লিখিত বক্তব্যের অনুলিপি তুলে দেওয়া হয়।


লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট দিবাগত রাতে দিনাজপুর কোতোয়ালী থানায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর দিনাজপুর জেলা মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।


এ বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতেই সাংবাদিকদের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা হচ্ছে।


বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ১১ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনাজপুরে পরিবহন ধর্মঘট এবং বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক অবরোধের কারণে সর্বস্তরের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এ ঘটনায় দিনাজপুরের জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি তাদের দাবী-দাওয়া সুষ্ঠুভাবে সমাধানের আশ্বাস পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে পরিবহন ধর্মঘটসহ জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে—এমন কোনো কর্মসূচি নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়।


সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১১ আগস্ট বিকেল ৪টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।


এর পরদিন ১২ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আহ্বায়ক কমিটির নেতা মো. মজিবর রহমান মুজিব জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে তিনি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সংগঠনের লিখিত বক্তব্যে দাবী করা হয়েছে। মজিবর রহমান মুজিবকে ৯ আগস্ট রাতে কোতোয়ালী থানা হেফাজতে ‘বেদম প্রহার’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইউনিয়নটি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।


সংগঠনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের মজিবর রহমান মুজিবকে সরেজমিনে দেখে বিষয়টি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন করার আহ্বান জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করে বলা হয়, তিনি অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ এবং ঘটনাটির সুষ্ঠু সমাধানে তাঁর সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে সংগঠনটি। এদিকে মো. মজিবর রহমান মুজিবের রাজনৈতিক পদ ও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারেরও দাবী জানানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি এ বিষয়ে আবেদন জানানো হয়।


সংগঠনের দাবী, মজিবর রহমান মুজিব একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান মাঠকর্মী এবং দীর্ঘদিন কারাবন্দী ও নির্যাতিত নেতা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি কারাবন্দী অবস্থায় ছিলেন বলেও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর বহিষ্কারের আদেশ প্রত্যাহার করে দিনাজপুর জেলা জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সদস্য সচিব পদ পুনর্বহালের জন্য আবেদন জানিয়েছে দিনাজপুর জেলা মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন।


পরিশেষে সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে সংগঠনটি। মজিবর রহমান মুজিবকে থানা হেফাজতে মারধরের অভিযোগসহ অন্যান্য অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

সর্বশেষ সব খবর