ছবি : সংগৃহীত
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সোমবার রাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীর মধ্যে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছিল।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত। পরে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। এসময় ক্যাম্পাস ছাত্রশিবিরের দখলে ছিল। তাদের হাতে ছিল লাঠি ও ধারালো অস্ত্র। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে সহস্রাধিক গজ দূরে দেশীয় অস্ত্র হাতে অবস্থান করছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দিনভর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী চলছিল। প্রদর্শনীতে বিচারিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে জামায়াত নেতাদের ছবি ও ‘সাকা চৌধুরীর বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ লেখা ব্যানার সরিয়ে নিতে বলেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক বলেন, জুডিশিয়াল কিলিংয়ের যেসব ছবি আমরা লাগিয়েছি, ছাত্রদল সেগুলো সরিয়ে ফেলতে বলে। আমরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি। কিন্তু তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা না বলে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলের হামলায় তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরে আবার লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা হলে তাঁরা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি খালেদা জিয়ার ছবির পাশে টাঙানো হয়েছিল। আমরা সেগুলো অপসারণ করতে বলি। এরপর তারা চেয়ার নিক্ষেপ ও ধাক্কাধাক্কি করে। এতে আমাদের একজন আহত হন।
তিনি দাবি করেন, ছাত্রশিবির বহিরাগতদের নিয়ে এসে হামলা চালিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে আমরা আপস করব না। জুলাই নিয়েও কোনো আপস করব না।
প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, মারামারির ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।
উপাচার্য ড. শওকত আলী বলেন, জুলাই যেন আমরা ভুলে না যাই। আর কোনো শিক্ষার্থী যেন আহত না হয়। এ জন্য সব পক্ষকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। ছাত্ররাজনীতি এই ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন এখানে কর্মসূচি করতে আসে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আবেদন করা হলে সেই আবেদনের ভিত্তিতে কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হয়।
পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে নবজাতক শিশুর জন্য শুভেচ্ছাস্বরূপ উপহার দেওয়া হয়
নীলফামারীর সৈয়দপুরের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী সকালে হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশ নেন আন্নাবিউল উম্মি। আন্নাবিউল উম্মি সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকার আজাহার আলীর মেয়ে এবং কয়া গোলাহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল সকালে হঠাৎ প্রসবব্যথা শুরু হলে দ্রুত আন্নাবিউল উম্মিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক সেবা নেওয়ার পর তিনি পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান। বিষয়টি কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে দুপুরে তিনি পরীক্ষার হলে উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নেন।
আন্নাবিউল উম্মি বলেন, ‘অনেক কষ্ট হচ্ছিল, তবু পরীক্ষা মিস করতে চাইনি। এক বছরের পরিশ্রম যেন নষ্ট না হয়, তাই এ অবস্থায়ই পরীক্ষা দিতে এসেছি। সবার কাছে আমার ও আমার নবজাতক সন্তানের জন্য দোয়া চাই।’
সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব শাহীদ শাহাব বলেন, ওই দিন সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার্থীর পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তাঁকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে নবজাতক শিশুর জন্য শুভেচ্ছাস্বরূপ উপহারও দেওয়া হয়।
ছবি : সংগৃহীত
ময়মনসিংহের গফরগাঁও রেলস্টেশনে ঢোকার সময় ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তবে দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটির গতি কম থাকায় বড় ধরনের হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি গফরগাঁও স্টেশনের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। এ সময় ইঞ্জিনের পেছনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন স্টেশনে কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়েছে। দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লাইন মেরামত করে দ্রুত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য দুর্ঘটনাস্থলে রিলিফ ট্রেন পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ ৮ যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি ইউনিক পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জন মারা যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায় আরেক শিশু।
নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি আনিসুর রহমান। তিনি জানান ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় দুর্ঘটনায় হতাহতদের উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঝালকাঠির নলছিটিতে ঝুঁকিপূর্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন মেরামতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার( ৬ আগষ্ট) সকাল দশটায় নলছিটি ওজোপাডিকো অফিস সম্মুখ সড়কে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠি ও পৌরসভার কান্ডপাশা,শংকরপাশা,দক্ষিণ গৌড়িপাশা,নান্দিকাঠী এলাকাবাসীর আয়োজনে মানববন্ধনে ওই ইউনিয়নের ৭০ টি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
এসময় বক্তারা বলেন, দপদপিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ঝুঁকিপূর্ন লাইনে বারবার দূর্ঘটনা ঘটলেও কতৃপক্ষ লাইন মেরামতে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বর্ষায় বিদ্যুৎ এর তার লিকেজ হয়ে বিভিন্ন গাছপালা বিদ্যুতায়িত হয়ে অহরহ দূর্ঘটনা ঘটছে। অনেক জায়গায় খুঁটি না থাকায় গাছের সাথে বিদ্যুৎ এর তার সংযোগ দেয়া হয়েছে। এর ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।এছাড়াও পৌরসভার কান্ডপাশা,শংকরপাশা,দক্ষিণ গৌড়িপাশা,নান্দিকাঠী,মালিপুর এলাকার ঝুলে থাকা ঝুকিপূর্ণ সঞ্চালন লাইনও মেরামত এবং খুটি স্থাপনের দাবিও জানানো হয়।তারা অতি দ্রুত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন মেরামতের দাবি জানান।এ বিষয়ে মানববন্ধন করে পরবর্তীতে ওজোপাডিকোর আবাসিক প্রকৌশলী এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধন শেষে ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন লিমিটেডের আবাসিক প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত মালাকারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে নলছিটি ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন লিমিটেডের আবাসিক প্রকৌশলী সুব্রত মালাকার বলেন, বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সাবেক মন্ত্রী ও নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী (এমএ) খাঁনের নামে সিলেট নগরে বিজ্ঞান জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের চণ্ডীপুল চত্বরের নামকরণও এমএ খানের নামে করা হবে। এছাড়া সাবেক এই মন্ত্রীর নামে সিলেটে বেশ কিছু স্থাপনা ও সড়কের নামকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এম এ খানের মৃত্যু বার্ষিকীতে রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমনটি জানান। সাবেক মন্ত্রী রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খাঁন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুর। প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী জুবাইদা রহমান তাঁর কনিষ্ট মেয়ে। তিনি জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।সিলেটের দক্ষিণ সুরমা বাসিন্দা এমএ খানের নামে সিলেটের লামাকাজিতে সেতু রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলে আব্দুস সামাদ আজাদ চত্বরের নাম পাল্টে ‘এমএ খান চত্বর’ নামকরণ করে স্থানীয় কিছু লোক।
বৃহস্পতিবার এম এ খানের মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আরো বলেন, রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান একজন খ্যাতিমান ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক কারণে এতোদিন উপেক্ষিত ছিলেন। তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখতে সিলেটে ইতিপূর্বে তেমন কিছুই করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এম এ খাঁনের নামে সিলেট নগরে একটি বিজ্ঞান জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের চণ্ডীপুল চত্বরের সৌন্দর্যবর্ধন করে তাঁর নামে নামকরণ হবে। পাশাপাশি, এই গুণী ব্যক্তির স্মৃতি রক্ষায় সিলেটে বেশ কিছু স্থাপনা ও সড়কের নামকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাহফিলে উপস্থিত সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী পাঠ্যপুস্তকে এম এ খানের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সিলেটের সিলাম এলাকায় এম এ খানের বসতবাড়ি পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সিলেট বিভাগের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এ বরাদ্দ অনুমোদন পেলে আগামী এক বছরের মধ্যে সিলেটের রাস্তাঘাট ও হাটবাজারের দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে।
এদিকে,সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বাদ যোহর নগরীর হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে মরহুম রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের দেশের প্রতি অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয় এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিজ হাতে শিরনি বিতরন করেন।
সিলেট প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের দমন-পীড়ন, গুম, হত্যা ও গুলির মুখেও গণতন্ত্রকামী মানুষ আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি। এম. ইলিয়াস আলীসহ অন্তত ৬৬৬ জন গুমের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য নেতাকর্মী শহীদ ও আহত হয়েছেন। সেই দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জুলাই - আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটে এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় সিসিক প্রশাসক আরো বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন শুধু দুই মাসের কোনো আন্দোলন নয়; এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ফসল। আর এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “বীর শহীদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে অপশাসনের অবসান ঘটিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছে। জাতি তাঁদের অবদান চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন্ নূর বলেন, “৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। এ দিন দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি লাভ করেছে। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থেই মুক্তির স্বাদ পেয়েছে।”
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী ও ইকরামুল কবির, সিনিয়র সহসভাপতি এম এ হান্নান, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক এনামুল হক জুবের, দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর সিলেট ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মো. ফয়ছল আলম, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক শুয়াইবুল ইসলাম, সাবেক ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক নূর আহমদ ও ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন।
আলোচনা সভায় প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন,পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মুহিবুর রহমান, সহ - সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ,নির্বাহী সদস্য আনাস হাবিব কলিন্স, সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মো. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া, সেলিম আউয়াল, সিন্টু রঞ্জন চন্দ, শেখ আব্দুল মজিদ, একে কাওছার, লবীব আহমদ, মো. তাজুল ইসলাম, আব্দুল হান্নান, লোকমান আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ ও প্রশাসকের পিএস মাহবুবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। পরে মোনাজাত পরিচালনা করেন ক্লাবের সিনিয়র সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক।