কিশোরগঞ্জে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত
কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও লাভজনকসহ নিরাপদ পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও ক্ষুদ্র- প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২২জুন) উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ও প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনরশিপ আন্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা হল রুমে এ পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) শাহীনা বেগম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, কৃষকদলের সভাপতি তৌহিদুর রহমান তৌহিদ, উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রশিদ শাহ্, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির উপজেলা শাখার আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম লাবুসহ কৃষাণ কৃষাণী প্রমুখ। এসময় বক্তাগণ কৃষি উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোকপাত করেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ৩ নম্বর ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন চেয়ারম্যান নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুস সবুর সাদ্দাম।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারণায় নামেন তিনি। এ সময় দফাদারপাড়া,সাদিপুর বাজার, বাহিরমাদি, সদরঘাট থেকে গোয়ালবাড়ি,চরসাদীপুর,ইসলামপুর,কেরানীপাড়া,
সিরাজনগর টোলপাড়া,কামারপাড়া,দারোগার মোড়,আবেদের ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ভোট প্রার্থনা ও লিফলেট বিতরণ করেন।
প্রচারণাকালে আব্দুস সবুর সাদ্দাম বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ,ফিলিপ নগর ইউনিয়নের জনগনের জননিরাপত্তা প্রদান করা,ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবেন।একই সঙ্গে সরকারি বরাদ্দ ও জনগণের জন্য নির্ধারিত সব সুযোগ-সুবিধা স্বচ্ছতার সঙ্গে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার দুই বিসিআইসি সার ডিলারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি এবং সারের পরিমাণের সঙ্গে বিক্রিত সারের অসঙ্গতির অভিযোগে গাইবান্ধা সদর উপজেলার দুই বিসিআইসি সার ডিলারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সার বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম না মানার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দুই ডিলারের কাছ থেকে মোট ৪২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- মেসার্স আতাউর রহমান, যাকে ৩০ হাজার টাকা, এবং মেসার্স সাইদার রহমান ট্রেডার্স, যাকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের কাছে সার বিক্রির সময় যথাযথভাবে ক্যাশমেমো প্রদান না করা এবং ক্যাশমেমোতে উল্লেখিত সারের পরিমাণের সঙ্গে প্রকৃত বিক্রয়কৃত সারের পরিমাণের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, সার বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং কৃত্রিম সংকট বা অনিয়ম প্রতিরোধে সার ব্যবসায়ীদের সরকারি বিধিবিধান মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এক বিশেষ বিবৃতিতে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কৃষি অফিসার রাকিবুল আলম জানান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। দিনের একটি সময় উপজেলার প্রায় সব খানেই সার মনিটরিং করছি। কৃষকরা যাতে হয়রানি না হয় এবং সময়মতো সার পায় সেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
মায়ের মৃত্যুতে কারাবন্দী সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে । আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এই আদেশ দেন। এর আগে প্যারোলে মুক্তির জন্য চিন্ময়ের পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়।
আজ সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭২) মারা যান।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তাঁর প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। তাঁকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল দেওয়া হয়েছে।’
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। আদেশটি হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
ছবি : সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে রাতের আঁধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে চার ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছেন দুই গ্রামের বাসিন্দারা। এতে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারসহ (এএসপি) অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সদরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মালিগাঁও ও সাগরদীঘি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ১০টায় টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় এএসপিসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মালিগাঁও ও সাগরদীঘি গ্রামের লোকজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), সরাইল থানার ওসিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এদিকে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার মাস্টারের নেতৃত্বে বিএনপির একটি অংশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইকযোগে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষকে সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। তারাও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
রাত ১০টার দিকে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা টহল ও নজরদারি জোরদার করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ জানান, সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের ওপরও হামলা হয়েছে। আমাদের সার্কেল স্যার আহত হয়েছেন। তিনি পায়ে ইটের আঘাত পেয়েছেন। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
পঞ্চগড় জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ মজিদের সঙ্গে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদ। এ সময় পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এ রহমান মুকুল, সাব্বির হোসেন , সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদসহ জেলায় কর্মরত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিকরা তাদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। পাশাপাশি জেলা পরিষদের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব ও গতিশীল করার বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব দেন তারা।
সাংবাদিকদের বক্তব্য ও মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন নবনিযুক্ত প্রশাসক এম এ মজিদ। তিনি পঞ্চগড়ের সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় এম এ মজিদ বলেন, “জেলা পরিষদ সবার জন্য উন্মুক্ত। জেলার মানুষের কল্যাণে জেলা পরিষদকে একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করতে চাই। এ কাজে সাংবাদিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, জেলার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে জেলার সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে জেলা পরিষদে এসে তাদের মতামত, পরামর্শ ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিখোঁজের চার দিন পর মো. মফিদুল ইসলাম (৪০) নামে এক রাজমিস্ত্রীর মরদেহ একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় মো. মাসুদ মিয়া (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। নিহত মফিদুল ইসলাম নবাবগঞ্জ উপজেলার মালদহ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রী। গ্রেপ্তার মাসুদ মিয়া একই গ্রামের বাসিন্দা ও নিহতের প্রতিবেশী এবং পূর্বপরিচিত।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে মফিদুল ইসলাম বাড়ী থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ী ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর নবাবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডির নম্বর ২৬৬। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তাসহ বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিল।
এরই মধ্যে ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে মাসুদ মিয়ার বাড়ীর পূর্ব পাশে একটি সেচ পাম্পের টিনশেড ঘরের কাছে থাকা পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে টয়লেটের স্লাব সরিয়ে ভেতরে একটি মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে পরিচয় শনাক্ত হলে মরদেহটি নিখোঁজ মফিদুল ইসলামের বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. লিটন মিয়া বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের পাশাপাশি আসামী শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ মিয়া জানিয়েছেন—৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মফিদুল ইসলামের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে মফিদুলের মাথায় আঘাত করা হয় এবং পরে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করা হয় বলে তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।
এরপর মরদেহটি গোপন করার উদ্দেশ্যে একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকিতে রেখে স্লাব দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বাঁশের লাঠি এবং নিহত মফিদুল ইসলামের ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার মাসুদ মিয়া বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে নিহতের সঙ্গে মাসুদের বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক যাচাই করা হচ্ছে।
নবাবগঞ্জ থানার এ হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করছে পুলিশ।