লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ, ওষুধ এবং সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে হাসপাতালটি কার্যকরভাবে চালু করার দাবিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সমৃদ্ধ লালমনিরহাট।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১২টা ৩০মিনিটে সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের পক্ষ থেকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল লালমনিরহাটের তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠিত হয়।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল লালমনিরহাটের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ আবু-আল-হাজ্জাজ এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন গণসংহতি আন্দোলন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এবং সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের সংগঠক দীপক কুমার রায়, সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের সংগঠক রাশেদুর জামান, দেওয়ান বাবু, বীরেন চন্দ্র বর্মণ, নূর নবী, বিধান প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে বলা হয় যে, লালমনিরহাট জেলা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় জেলা এবং দেশের উত্তরের প্রান্তিক জেলা। জেলার সমৃদ্ধি, জেলার উন্নতি তা বিশেষভাবে জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও ধারণ করে। জেলাবাসী যদি পদে পদে চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পায় তবে সে জেলা পিছিয়ে-পড়া। যখন জনগণ হাসপাতালে চিকিৎসা বঞ্চিত হয় কিংবা ধুকে ধুকে চিকিৎসার অভাবে মুত্যুবরণ করেন এবং বারবার ভুল চিকিৎসায় যখন মানুষ বিপর্যস্ত; তখন কান্না আর অসহায়ত্ব ছাড়া আর কিছুই করার থাকেনা। আমাদের জেলাবাসী সুচিকিৎসা চায়, তারা নিজ জেলার হাসপাতালেই সেটা চায়। বলাবাহুল্য এই বিষয়টা এই জেলাবাসীর মৌলিক অধিকার।
লালমনিরহাট জেলার সদর হাসপাতাল কার্যত সুচিকিৎসা বলতে যা বোঝায় তা এখনও দিতে সক্ষম নয়। ১০০ শয্যার হাসপাতালটিকে ঘোষণা দিয়ে ২৫০ শয্যা করা হলেও বাড়েনি যথাযথভাবে এর চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ লোকবল। সংবাদমাধ্যমে বহুবার প্রকাশিত খবর যে, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট অবস্থাতেও এই হাসপাতালে ৫০% শতাংশের নিচে জনবল ছিল। কাজেই নতুন করে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল কেবল ভবন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এটি নামমাত্র শুরু হয়েছে। রোগীরা আসলে নতুন ভবনে নতুন বেডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
আমরা দেখে অভ্যস্ত যে, রোগে যন্ত্রণা নিয়ে, ভোগান্তি নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হলেও চিকিৎসা না পেয়ে রোগীকে দ্রুত হতাশ হয়ে রিলিজ নিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, এমনকি সাধারণ রোগেও মাঝে মাঝে চিকিৎসা মেলে না। রোগীরা এখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ ঠিকঠাক পান না। কতিপয় ডাক্তার চিকিৎসা দিতে গিয়ে মুশকিলে পড়েন। জরুরি বিভাগ সামলে পুরো হাসপাতাল সমন্বয করা বিরাট বিপদের হয়ে যায়। মাত্র ৮জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে কী একটি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চলতে পারে? গভীর রাতে এর মধ্যেও ন্যূনতম চিকিৎসক দিয়ে কী পুরো হাসপাতালের রোগীর চিকিৎসা করানো সম্ভব? তা সম্ভব নয়। এরপরও আছে ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, যন্ত্রপাতির অভাব, টেকনিশিয়ানের ঘাটতি, রোগীদের স্বাস্থ্যকর খাবার ইত্যাদির বিবিধ সংকট। কাজেই রোগীর চিকিৎসাসেবা যেনতেনভাবে হচ্ছে। রোগীরা চিকিৎসার অভাবে কখনো মারাও পড়ছেন। অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, নয়তো জরুরিভাবে চিকিৎসা নিতে ছুটছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মূলতঃ সর্বস্তরের মানুষ আজ চিকিৎসাবঞ্চিত।
জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এই জেলার সদর হাসপাতালের আধুনিকায়ন চাই, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুচিকিৎসা পেতে চাই।
আরও স্মারকলিপিতে দাবীসমূহে উল্লেখ্য করা হয় যে, ১. শূন্যপদ পূরণ করে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। চক্ষু, ইএনটি, ডেন্টাল সার্জন এবং রেডিওলজি, প্যাথলজি বিভাগে কনসালটেন্ট দিতে হবে। পর্যাপ্ত নার্স নিয়োগ দিতে হবে। ল্যাবরেটরির সকল শাখায় টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে।
২. সেবার মান বাড়াতে ও চিকিৎসা দিতে এক্স-রে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, ইসিজি, প্যাথলজিক্যাল রিএজেন্ট এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় মেডিকেল ইকুইপমেন্টের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষা- নিরীক্ষা অবিরাম চালু রাখতে হবে।
৩. জরুরি বিভাগ (Emergency) ও ট্রমা সেন্টার ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা, এবং বিভাগগুলোতে অভিজ্ঞ চিকিৎসক জুনিয়র ও সিনিয়র কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়া। আইসিইউ (ICU), সিসিইউ (CCU) ও ভেন্টিলেটর সুবিধা সচল করতে হবে।
৪. রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কেনার বাধ্যবাধকতা কমিয়ে, হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইসোলেশন বেড ইত্যাদি চালু করতে হবে। হাসপাতালে খাবারের সিডিউল উন্মুক্ত স্থানে ঝুলিয়ে দিতে হবে এবং নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা যাবে না।
৫. রোগীদের তথ্য সংরক্ষণে ডিজিটাল সিস্টেম চালু করা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য টেলিমেডিসিন সেবার প্রসার করা।
৬. তত্ত্বাবধায়ক হাসপাতালের প্রধান হওয়ায় তার নেতৃত্বেই সকল দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কনসালটেন্টকে রাতে কর্তব্যরত এলাকায় থাকাটা নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি কল কনসালটেন্টকে অ্যাটেইন করতে হবে।
৭. হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। আরো পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারির সকল পদে নিয়োগ দিতে হবে। অ-অনুমোদিত গাড়ি হাসপাতাল ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকতে পারবে না।
৮. মনিটরিং কমিটি গঠন এবং নিয়মিত অডিট করতে হবে। রোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য চিকিৎসকসহ সকলের আচরণ উন্নত করা। সেবাআকাক্সক্ষী রোগীদেরও হাসপাতালে অবস্থানকালীন সচেতনতা, আচরণ এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করাতে হবে। রোগী বা নাগরিকদের জন্য কার্যকর আধুনিক তথ্যকেন্দ্র ও অভিযোগ কেন্দ্র এবং হটলাইন চালু রাখা।
উল্লেখ্য যে, উক্ত স্মারকলিপির অনুলিপি সদয় অবগতির জন্য লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একান্ত সচিবের নিকট প্রেরণ করা হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্যানিটেশন মার্কেটিং সিস্টেম (স্যানমার্কস) প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ে স্যানমার্কস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (৯ সেপ্টম্বর বুধবার) দুপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আয়োজনে তাদের নিজস্ব হলরূমে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ঠাকুরগাঁও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবিব, বিশেষ অতিথি সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার মোঃ বাবুল আকতার, প্রকৌশলী দীপক রায়, সহকারী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান রোকন এস্টিমেটর আব্দুল মালেক।
এছাড়াও স্থানীয় স্যানিটারি ল্যাট্রিন উৎপাদনকারী, স্যানিটেশন ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনগণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সভায় প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আহসান হাবিব বলেন তাঁর বক্তব্যে সেনমার্কস প্রকল্পের-এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি ল্যাট্রিন উৎপাদনকারীদের উত্থাপিত সমস্যা ও চাহিদাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ভবিষ্যতে স্যানিটেশন কার্যক্রমকে আরও টেকসই, কার্যকর ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় স্যান মার্কস এর কার্যক্রমের মাধ্যমে স্যানিটেশন মার্কেট আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ল্যাট্রিন উৎপাদনকারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, মানসম্মত তথ্য ও সাশ্রয়ী স্যানিটেশন পণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের চাহিদাভিত্তিক স্যানিটেশন সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া স্যানিটেশন কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, স্যানিটেশন ব্যবসায়ী, ল্যাট্রিন উৎপাদনকারী এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ও নিয়মিত যোগাযোগ বৃদ্ধি করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় নৌকায় অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ইয়াবা চোরাচালানের সময় প্রায় ৪২ কোটি টাকা মূল্যের আনুমানিক ১৪ লক্ষ পিস ইয়াবাসহ ০২ জনকে আটক করেছে ৬৪ বিজিবি।
বুধবার বিকেলে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, আজ ৯ সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) হ্নীলা বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ সুইচ গেইট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অভিনব কায়দায় নৌকার সাথে বেধে বস্তায় করে ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় ২ জন আসামীসহ এযাবত কালের সর্ববৃহৎ ইয়াবা চোরাচালান আনুমানিক ১৪ লক্ষ পিস ইয়াবা আটক করেছেন।
তিনি আরো বলেন, প্রযুক্তিগত এবং জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ব্যাটালিয়নের সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে এবং চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পঞ্চগড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়।
এ উপলক্ষে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। পরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা মহিলা দলের সভাপতি লায়লা আরজুমান্দ বানু মুক্তির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আদম সুফিসহ মহিলা দল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নারী সমাজকে সংগঠিত করার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা দলীয় আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরে কেক কাটার মধ্য দিয়ে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
আব্দুল মালেক নামে এক কৃষকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
ময়মনসিংহের ভালুকায় নিখোঁজের তিনদিন পর একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে আব্দুল মালেক (৫৫) নামে এক কৃষকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গতিয়ার বাজার এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুল মালেক ওই এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুল মালেক। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বাড়ির পাশে একটি তালগাছের নিচে পড়ে থাকা তাল কুড়াতে যাওয়ার কথা ছিল আব্দুল মালেকের। আজ বুধবার সকালে তার ছেলে সুজন বাড়ির আশপাশে বাবাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে ঝোপঝাড়ে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কাছে গিয়ে পানিতে তার বাবার মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহতের ভাতিজা মো. আকরাম বলেন, ‘আমার চাচা দুই দিন আগে তাল কুড়াতে গিয়েছিলেন। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজছিলেন। সকালে তার ছেলে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’
ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইসমাইল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়ক, মহাসড়ক, রাস্তার দু’পাশ, নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গঠিত কারিগরি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড়ের ভাঙন এবং মাটির ক্ষয়রোধে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযোগী ঘাস ও উদ্ভিদভিত্তিক সবুজায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন মাটির ক্ষয় ও ভাঙন কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা যাবে।
তিনি বলেন, ভূমি রক্ষায় ব্যয় সাশ্রয়ী বিন্না ঘাস রোপণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোপণের পর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। তাই বিন্না ঘাস রোপণের নীতিমালা প্রণয়নের সময় রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, সড়ক, বাঁধ ও নদীতীরবর্তী এলাকার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় ভৌগোলিক ও মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নির্বাচন করতে হবে। ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যমান অভিজ্ঞতা, মাটির ধরন, পানি প্রবাহ, জলবায়ু ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় দেশের অবকাঠামো, নদী ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই পদ্ধতি হিসেবে ঘাস রোপণের সম্ভাবনা, কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি সন্তানের বাবা হয়েছিলেন। সদ্যজাত সন্তানকে পৃথিবীতে রেখে তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া শোকের ছায়া ফেলেছে পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকায়।
নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াস ছিলেন পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। চাকরির সুবাদে পরিবার-পরিজন নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস। দেশের সেবায় নিয়োজিত এই তরুণ সৈনিকের জীবন হঠাৎ করেই থমকে গেল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই পিয়াসের ঘর আলো করে এসেছিল একটি নবজাতক সন্তান। সন্তানকে ঘিরে যখন পরিবারের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই এলো তার মৃত্যুর খবর। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল সদ্য পৃথিবীতে আসা সেই সন্তান। পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই এবং কয়েকদিন আগে বাবা হওয়ার আনন্দে থাকা পিয়াসের নিথর দেহের অপেক্ষায় এখন স্বজনদের প্রহর গোনা।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায়ও নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা ছুটে আসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পিয়াস ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তার চলে যাওয়া পুরো ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।