বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের দুই তারকা মেসি-ইয়ামালের লড়াই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব

  • প্রকাশ : রবিবার ১৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫৫ পিএম

বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ক্রীড়া আসর বিশ্বকাপ ফুটবলের আরো একটি আয়োজন শেষ হতে চলেছে। আগামী চার বছরের জন্য কে হতে যাচ্ছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন- তা জানতে এখন কেবল ঘণ্টা গুনে অপেক্ষার পালা। রোববার দিন শেষে রাত একটায় নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন।



দক্ষিণ আমেরিকার দল আর্জেন্টিনা জিতলে ১৯৭৮, ১৯৮৬, ২০২২ সালের পর চতুর্থবারের মতো শিরোপা জিতে নিয়ে বিশ্বকাপ জয়ীদের তালিকায় জার্মানি ও ইতালির সাথে স্থান করে নেবে। ইতালি ও পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মতো টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতার গৌরবও অর্জন করবে তারা। অন্যদিকে ২০১০ সালে শিরোপাজয়ী স্পেন জিতলে তা হবে তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয় এবং ফাইনাল গেলে জয়ী হওয়ার তাদের রেকর্ড শতভাগ অক্ষুণ্ন রাখবে।দুই দলই এই টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছে।



আর্জেন্টিনা এই টুর্নামেন্টের নক আউট ম্যাচগুলোর প্রায় প্রতিটিতে ফিরে আসার দারুণ গল্প লিখে চলেছে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও মেসির অসাধারণ নেতৃত্বে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে আনে, এর আগে শেষ ষোলোতেও মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে ফিরে আসার মতো নাটকীয়তা দেখায়।



বিশেষত শেষ ১৫ মিনিটে প্রায় প্রতি ম্যাচেই একাধিক গোল দিয়ে আর্জেন্টিনা নিজেদের দৃঢ় মানসিকতা ও জয়ের তীব্র ইচ্ছার প্রতিফল ঘটিয়েই চলছে। এখনো পর্যন্ত সাত ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১৯টি গোল দিয়েছে যা দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং এই পরিসংখ্যান দলটির দারুণ আক্রমণভাগের প্রমাণ দেয়। টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ খেলতে থাকা সেমিফাইনালে ২-০ গোলে হারিয়ে মাটিতে নামিয়েছে ফ্রান্সকে। সেইদিনও স্পেন পুরো খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর আগের ম্যাচগুলোতে পর্তুগালকে শেষ মুহূর্তের একমাত্র গোলে এবং বেলজিয়ামকে শেষমুহূর্তের দেওয়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হারায় তারা এবং দুটি ম্যাচেই স্পেনের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো।



এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচ খেলে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে। এই বিশ্বকাপের সাত ম্যাচসহ টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকা স্পেন দলের এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, দলটির রক্ষণভাগ সন্দেহাতীতভাবে এই টুর্নামেন্টের সেরা। সেই হিসেবে বলা যেতে পারে যে, বিশ্বকাপের ফাইনালটি হতে যাচ্ছে সেরা আক্রমণ বনাম সেরা রক্ষণভাগের মধ্যে।



তবে, দুই দলেরই প্রধান শক্তি মাঝমাঠ দখল করে খেলা। এখন পর্যন্ত খেলাগুলোতে উভয় দলই গড়ে ৬০ ভাগ করে বলের দখল রেখেছে, আর নিজেদের মধ্যে সর্বাধিক পাস দিয়েছে (আর্জেন্টিনা ৪৭৭২, আর স্পেন ৪৫৯২) । লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনাও ৪-৩-৩ ছকে খেলছে, যেখানে সামনে মেসি কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। স্কালোনি লেয়ান্দ্রো পারেদেসকে মধ্য মাঝমাঠে খেলাচ্ছেন, তার পাশে আছেন আলেক্সিস মাক এলিস্টার, এনজো ফের্নান্দেজ ও রদ্রিগো দে পাউল, যারা মাঝমাঠ দিয়ে খেলা গড়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে উইংয়েও সরে যেতে পারেন।



আক্রমণভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। হুলিয়ান আলভারেজের তীব্র রক্ষণাত্মক প্রেসিং ক্ষমতার কারণে তিনি লাউতারো মার্তিনেজের চেয়ে এগিয়ে থেকে শুরুর একাদশে জায়গা ধরে রাখতে পারেন, কারণ স্পেনের গভীর থেকে বল বাড়ানোর ধরন ভাঙতে এই প্রেসিং জরুরি। তবে, কৌশল ছাপিয়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি গত টুর্নামেন্টের মতো একজোট হয়ে খেলা। এই দলটি মেসিকে কেন্দ্র করে নিজেদের উজাড় করে খেলে। খেলার অবস্থা যতোই প্রতিকূলে থাক, এই দলটি প্রয়োজনীয় গোল বের করে ফেলে। বক্সের ভেতর প্রতিপক্ষের একগাদা খেলোয়াড় থাকলে বক্সের বাইরে থেকেই দৃষ্টিনন্দন শটে অথবা এমনকি অপেক্ষাকৃত লম্বা খেলোয়াড়দের বিপক্ষেও দারুণ হেডে কিংবা অবিশ্বাস্য রক্ষণ চেরা পাসে।



দলটির খেলা দেখে মনে হয় মেসিকে বিশ্বকাপ পাইয়ে দিতে প্রতিটি সদস্য নিজেদের সর্বশেষটুকু দিতেও প্রস্তুত। যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা ফুটবল মাঠ যেখানেই হোক, জয়ের জন্য যারা এইরকম মনোভাব ধরে রাখতে পারে সাধারণত জয়টা তাদেরই হয়। আর, ৩৯ বছর বয়সী মেসি যেন দিন দিন নিজেকে ছাপিয়েই যাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ আট গোল দিয়েছেন মেসি, করেছেন চারটি গোলে সহায়তা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মোট ২১টি গোল করেও তিনি শীর্ষে। মেসির নেতৃত্ব এবং মেসিকে ঘিরে থাকা আর্জেন্টিনা দলটি যেন আবেগ ও সংহতির এক চূড়ান্ত মাত্রা প্রদর্শন করছে।



অন্যদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন ৪-৩-৩ ছকে খেলছে। আক্রমণে মিকেল ওইয়ারসাবাল, দুই উইংয়ে লামিন ইয়ামাল ও আলেক্স বেইনা এবং মাঝমাঠে রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমো। রক্ষণভাগে আইমেরিক লাপোর্তে ও পাউ কুবারসির নেতৃত্বাধীন স্পেনের প্রতিষ্ঠিত কাঠামো যেন একটি দুর্দান্ত দক্ষ যন্ত্র। দলের মূল কৌশলগত দর্শন হলো বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে ধৈর্য হারাতে বাধ্য করা। রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজ মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করছেন। আর দানি ওলমো, আলেক্স বেইনা ও লামিন ইয়ামাল আক্রমণ গড়া ও রক্ষণাত্মক কাজ দুটোতেই সাহায্য করছেন।



স্পেন দলটির প্রতিটি খেলোয়াড় অপরের খেলা সমন্ধে ওয়াকবিহাল। বল যখন নিয়ন্ত্রণে থাকে তখন তারা এমন জায়গায় পাস দেয় যেখানে একজন খেলোয়াড় থাকবেন বলে আশা করা যায়। এবং বেশিরভাগ সময়ে কেউ না কেউ সেইখানে পৌঁছে যান। স্পেনের গোলগুলোর বেশিরভাগই দলীয় আক্রমণের ফল। দেখে মনে হয় দলটি মাঠে নিখুঁত ফুটবল বিজ্ঞানের চর্চা করে সাফল্য অর্জন করে। এই দলের প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের স্ব-স্ব ভূমিকা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন।



সেই হিসেবে বলা যেতে পারে যে, ফাইনালটি হতে যাচ্ছে একদল তীব্র আবেগী, একজোট শৈল্পিক দলের বিপক্ষে নিখুঁত বৈজ্ঞানিক ও শৃঙ্খলা মেনে চলা একটি দলের।

আর্জেন্টিনা-স্পেন দ্বৈরথের ইতিহাস সমানে সমান। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচসহ সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দুই দল ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে উভয় দলই ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে এবং বাকি ২টি ড্র হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের সাক্ষাৎ অত্যন্ত বিরল। দুই দল বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল, আর সেটা এতটাই পুরনো যে বর্তমান কোনো খেলোয়াড়ই তখনো জন্মাননি — এমনকি আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনিরও জন্ম হয়নি, আর দে লা ফুয়েন্তের বয়স তখন মাত্র পাঁচ। সেই ম্যাচটি ছিল ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব, যেখানে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জিতেছিল। অর্থাৎ, রোববারের ফাইনালই হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের প্রথম নকআউট পর্বের সাক্ষাৎ এবং স্বাভাবিকভাবেই তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মঞ্চের লড়াই।



বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বর্তমান ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন দল ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। এছাড়াও, আরেকটি আকর্ষণীয় ঘটনা ঘটছে ৯৬ বছর পর। সেই প্রথম বিশ্বকাপে ১৯৩০ সালে ফাইনালে উঠেছিলো একই ভাষাভাষী দেশ উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। এরপর এবারই প্রথম একই ভাষাভাষী দুইটি দেশ ফাইনালে খেলছে। কাকতালীয়ভাবে, এবারও দুইটি দেশের ভাষা স্প্যানিশ। উপনিবেশিক আমলের কথা বিবেচনা করলে এই ফাইনালটা ভীষণ আবেগী হয়ে উঠতে পারে।



এই ফাইনালের আরেকটি বড় আবেগীয় দিকটি হলো মেসি-ইয়ামাল মুখোমুখি হওয়া। লামিন ইয়ামালের পরিবার একটি দাতব্য র‍্যাফেলে জিতে ছোটবেলায় লিওনেল মেসির সঙ্গে প্রচারণামূলক ফটোশুটে অংশ নিয়েছিল এবং সেই ছবিটি ২০২৪ ইউরোর পর ইয়ামালের বাবার শেয়ার করার পর ভাইরাল হয়েছিল। ২০০৭ সালে তোলা সেই ছবির প্রায় ১৯ বছর পর সেইদিনের শিশু থেকে জাতীয় দলের তারকা হয়ে উঠা ইয়ামাল এবং সেইদিনের তরুণ থেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি হয়ে উঠা মেসি আন্তর্জাতিক মঞ্চে একে অপরের প্রতিপক্ষ।



মেসি এবং ইয়ামাল যেন একই সাথে দুই দলের প্রতীকও। আর্জেন্টিনা গত আসরের বেশিরভাগ খেলোয়াড় নিয়ে এসেছে এবারও। দলটির সদস্যদের গড় বয়স ২৮.৬২ যা নিয়ে ৪৮টি দলের মধ্যে আর্জেন্টিনার অবস্থান ৪০। স্পেনের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৬.১৯ এবং ৪৮ দলের মধ্যে দেশটির অবস্থান ষষ্ঠ। সেই হিসেবে বলা যেতে পারে, এই ফাইনালটি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম বয়স্ক বনাম অন্যতম তরুণ দলের মধ্যে। লড়াইটা তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার।



এই যাবতকালে সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের (৪৮ দল, ১০৪টি ম্যাচ) ফাইনাল ঘিরেও থাকছে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। ফাইনালের ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে সমাপনী অনুষ্ঠান, যেখানে হেডলাইনার হিসেবে থাকছেন পোস্ট ম্যালোন। পাশাপাশি টম ক্রুজ, লরা পাউসিনি, নিকোল শেরজিঙ্গার, রবি উইলিয়ামস ও ইউটিউবার আইশোস্পিডও থাকবেন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে। প্রাক-ম্যাচ মার্কিন জাতীয় সংগীত গাইবেন জেনিফার হাডসন।



সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো হাফটাইম শো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে কোল্ডপ্লের ক্রিস মার্টিনের কিউরেট করা এই শো-তে হেডলাইনার থাকছেন ম্যাডোনা, শাকিরা, বিটিএস ও জাস্টিন বিবার, সঙ্গে থাকছে দ্য মাপেটসের চরিত্রও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মাঠে না গেলেও ফাইনালে তার উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সব ছাপিয়ে অতি অবশ্যই মূল আকর্ষণ হবে মাঠের খেলা। সারা দুনিয়ার চোখ থাকবে রক্ষণ বনাম আক্রমণ, আবেগ বনাম শৃঙ্খলা, তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার লড়াইয়ে; দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আসরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে।



আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে, কে হতে যাচ্ছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন?




ইমরান খান ও ওয়াসিম আকরাম

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০৫ পিএম

কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম। ইমরানের সঙ্গে তিন বছর ধরে কথা না হলেও তাঁকে ভীষণ মিস করেন তিনি। 


ইমরানের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের আপস না করার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেটার। দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আকরাম বলেন, ‘সে আমার বন্ধু। আমি তাকে অনেক মিস করি। তিন বছর ধরে তার সঙ্গে আমার কথা হয়নি। রাজনৈতিকভাবে তার সঙ্গে যা ঘটছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আদালতের বিষয় আদালতেই থাকুক। কিন্তু তার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কোনো আপস হতে পারে না।’


ইমরানের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেছেন আকরাম। অবসর নেওয়ার পরও তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। আকরাম বলেন, ‘আমরা অবসর নেওয়ার পরও সে আর আমি নিয়মিত যোগাযোগ রাখতাম। আমি তার কাছে যেতাম, সময় কাটাতাম। আমি তার সঙ্গে কথা বলা মিস করি। একজন বন্ধু হিসেবে আমি তাকে মিস করি-রাজনীতি বাদ দিয়েই বলছি।’


আকরামের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ইমরানের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ইমরান তাঁকে গড়ে তুলতে ও খেলার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আকরামও বহুবার ইমরানকে নিজের গুরু হিসেবে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।


ইমরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে আকরাম বলেন, ‘ইমরানের অবস্থার উন্নতির দাবিতে ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় একটি আন্দোলন হচ্ছে। কিন্তু এখানে, পাকিস্তানে? আমি নিশ্চিত নই। আমি একজন মানুষ হিসেবে তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে হৃদয় থেকে কথাগুলো বলছি। সে দোষী সাব্যস্ত হোক বা না হোক। কারাগারে থাকুক বা না থাকুক। তার স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে।’


ইমরানের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে-সরকারের এমন বক্তব্য নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন আকরাম। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না সেখানে কী ঘটছে। সরকার বলছে, তার স্বাস্থ্য নাকি ভালো আছে। কিন্তু আমি উদ্বিগ্ন। আমি তাকে অনেক মিস করি।’


ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে আলোচনায় আসে লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনের ঘটনা। মধ্যাহ্নবিরতিতে স্কাই স্পোর্টস ইমরানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিমের সাক্ষাৎকার প্রচার করে। সেখানে তাঁরা কারাগারে বাবার জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। ওই সাক্ষাৎকার নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) আপত্তির খবর প্রকাশিত হয়। এমনকি প্রতিবাদ হিসেবে পাকিস্তান দলের মাঠে না নামার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছিল। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই মাঠে নামে পাকিস্তান।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৩ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০০ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


কাজাখস্তানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৩ পিএম

জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ নারী হকি দলের জয়রথ ছুটেই চলছে। চায়নিজ তাইপে ও পাকিস্তানের পর এবার কাজাখস্তানকেও হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আজ কাজাখস্তানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা। আগামীকাল নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই জয়ে চ্যালেঞ্জার পুলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে বাংলাদেশ। কাজাখস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন সারিকা রিমন। অন্য দুটি গোলের একটি করেছেন মোসাম্মত লিমা, অন্যটি লিজা আক্তার।


চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই কাজাখস্তানকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন সারিকা। এরপর ১৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লিজা। প্রথম কোয়ার্টারেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।


দুই গোল হজম করার পর কাজাখস্তান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। কয়েকটি আক্রমণও তৈরি করে তারা। তবে বাংলাদেশের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি কাজাখস্তান। দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ার্টারে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানেই এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ।


চতুর্থ কোয়ার্টারে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। সেই সুযোগে আরও দুটি গোল আদায় করে নেয় তারা। ৪৬ মিনিটে ফিল্ড গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন লিমা। এরপর ৫১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন সারিকা। তাতে ৪-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।


এবারই দ্বিতীয়বারের মতো জুনিয়র এশিয়া কাপে খেলছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এর আগে ২০২৩ সালের আসরে অংশ নিয়ে নবম হয়েছিল বাংলাদেশ। মেয়েদের জুনিয়র এশিয়া কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত।


দশ দলের এই টুর্নামেন্টে চ্যালেঞ্জার পুলে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে কাজাখস্তান, পাকিস্তান, চায়নিজ তাইপে ও হংকং। অন্যদিকে এলিট পুলে স্বাগতিক চীনের সঙ্গে রয়েছে জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া।

চ্যালেঞ্জার পুলের শীর্ষ তিন দল এবং এলিট পুলের পাঁচ দল খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে। আর চ্যালেঞ্জার পুলের চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে থাকা দল দুটি খেলবে নবম-দশম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে।

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ফুটবলার কাভান সুলিভান

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম

মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ফুটবলার কাভান সুলিভান। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই ফরোয়ার্ড এবার এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম টিনেজার হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলে সরাসরি অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন। রোববার সিএফ মন্ট্রিলের বিপক্ষে ফিলাডেলফিয়ার ২-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেন ১৬ বছর বয়সী কাভান।


দলের হয়ে ৫৭ মিনিটে ড্যানলে জিন জ্যাকেস গোল করার পর ৭৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুলিভান। কাভানের গোলটি আসে দারুণ ফিনিশিংয়ে। বক্সের ভেতর সতীর্থের শটের পর বলের গতিপথ বুঝে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি। একাধিক প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে এক শটেই বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড।


এই গোলের ফলে চলতি মৌসুমে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে কাভানের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটি। এর সঙ্গে রয়েছে সাতটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ মাত্র ১৬ বছর বয়সেই চলতি মৌসুমে ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।


এমএলএসে ১৬ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে এক মৌসুমে গোলে অবদানের নতুন রেকর্ডও এখন কাভানের। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সাবেক মার্কিন তারকা ফ্রেডি আদুর দখলে। ২০০৫ সালে ১৬ বছর বয়সে চার গোল ও ছয় অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন আদু।


এর আগে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখার সময়ও রেকর্ড গড়েছিলেন কাভান। ১৬ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে তিনি এমএলএসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখেন। এবার সেই কীর্তিকে আরও এক ম্যাচ বাড়িয়ে পাঁচে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই এমন পারফরম্যান্সে কাভানকে ঘিরে পুরো এমএলএসেই প্রত্যাশা বাড়ছে।

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


নেইমার জুনিয়র

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম

চোটের দুর্ভাগ্য যেন পিছুই ছাড়ছে না ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা নেইমার জুনিয়রের। ডান উরুর পেশিতে চোট পাওয়ায় চার থেকে আট সপ্তাহ (প্রায় দুই মাস) মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে। ব্রাজিলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


গত বৃহস্পতিবার কোপা দো ব্রাজিলের ম্যাচে পালমেইরাসের বিপক্ষে খেলার সময় উরুতে অস্বস্তি অনুভব করেন নেইমার। পরদিন মেডিকেল পরীক্ষায় তার ডান উরুর রেক্টাস ফেমোরিস পেশিতে টাইপ ২বি চোট ধরা পড়ে। এই ধরণের ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগে। 


সান্তোসে ফেরার পর থেকেই ঘন ঘন ইনজুরিতে পড়ছেন নেইমার। গত বছরের জানুয়ারিতে শৈশবের ক্লাবে ফেরার পর থেকে বাম উরু, একই ডান রেক্টাস ফেমোরিস, বাম হাঁটুর মেনিস্কাস এবং ডান কাফে একাধিকবার চোটে পড়েছেন তিনি। সবশেষ চোটের আগে ও বিশ্বকাপ চলাকালীনও কাফের সমস্যায় ভুগেছিলেন।


সান্তোস কর্তৃপক্ষের জন্য বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, চোট পাওয়ার পর কখনই দ্রুত মাঠে ফিরতে পারেননি নেইমার; বরং বেশিরভাগ সময়ই তাঁকে সর্বোচ্চ অনুমিত সময়ের চেয়েও বেশিদিন মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে। তাই এবারও দলের প্রাণভোমরার চিকিৎসায় কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না ক্লাবটি।


ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রেলিগেশন বা অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা সান্তোসের জন্য এটি বিশাল ধাক্কা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইন্টারন্যাসিওনালের বিরুদ্ধে পরবর্তী লিগ ম্যাচ ছাড়াও কোপা সুদামেরিকানার কোয়ার্টার ফাইনালেও দলের সেরা তারকাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে ক্লাবটিকে।


এদিকে পালমেইরাসের বিপক্ষে ম্যাচে নেইমারের পাশাপাশি আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারিয়েছে সান্তোস। ডান গোড়ালির মচকে যাওয়ার কারণে ইন্টারন্যাসিওনালের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না ডিফেন্ডার লুকাস ভেরিসিমো। আরেক ফরোয়ার্ড আলভারো বারেয়ালের বাম উরুর বাইসেপস ফেমোরিস পেশিতে টাইপ ২এ টিয়ার ধরা পড়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১১ পিএম

টানা দুই ম্যাচে হারের পর এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ। তবে সেই ম্যাচে ডাগআউটে থাকছেন না কোচ জেরার্ড জোন্স। সিরিয়ার কাছে বড় হারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্রিটিশ এই কোচের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।


বৃহস্পতিবার তাসখন্দে বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছেও ২-০ গোলে হেরেছিল ইয়াং টাইগার্সরা। দুই ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না পাওয়ার পর জোন্সকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাফুফে। 


বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাকে ই-মেইল পাঠিয়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফেডারেশন। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার আজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


জোন্সের জায়গায় সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু এখন গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে ডাগ আউটে থাকবেন। এমনিতে জোন্সের আচার আচরণ নিয়ে বাফুফে বেজায় অসন্তুষ্ট ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অহেতুক নেতিবাচক কথাবার্তা বিপাকে ফেলেছিল।


জোন্সের বিদায়ের পর গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু। এ বিষয়ে দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেম ও বাফুফের পক্ষ থেকে মিশুকে জানানো হয়েছে। উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ দলের অবস্থান করা হোটেল থেকেও জোন্সকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জোন্সের বকেয়া ও অন্যান্য আর্থিক পাওনা পরিশোধ করবে বাফুফে। পাশাপাশি নিজের পছন্দের গন্তব্যে ফেরার জন্য তার বিমান টিকিটের ব্যবস্থাও করবে ফেডারেশন।


যুব দলের দায়িত্বে জোন্সকে নিয়োগের পর থেকেই তাকে ঘিরে নানা জটিলতায় পড়েছিল বাফুফে। বেতন নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে তার সম্পর্কেরও অবনতি ঘটে। ঢাকায় দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানা যায়। এমনকি উজবেকিস্তানে মিশুকে দলের সঙ্গে না নেওয়ার ব্যাপারে জোন্স অনড় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বাফুফের মধ্যস্থতায় দুজনই উজবেকিস্তানে যান। তবে জোন্সের আপত্তির কারণে মিশু প্রথম দুই ম্যাচে ডাগআউটে থাকতে পারেননি। সিরিয়ার বিপক্ষে হারের পর অবশ্য জোন্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল ফেডারেশন।


ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে দায়িত্ব পাওয়ার পর মিশু বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ সব সময়ই মর্যাদার। আমাদের জন্য টুর্নামেন্ট প্রায় শেষই। গাণিতিক কিছু সম্ভাবনা রয়েছে যদিও। আমরা ভারতের বিপক্ষে তিন পয়েন্টের জন্য খেলব।’


আজ রিকভারি সেশন করবে বাংলাদেশ। উজবেকিস্তান সময় বিকেল ৪টায় আতিকুর রহমান মিশুর অধীনে অনুশীলনে নামবে দলটি। ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শেষ হবে বাংলাদেশের বাছাইপর্বের অভিযান।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২০ পিএম

শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা থেকে সরেই গেল মেয়েদের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। ২০২৭ সালে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের আয়োজক হবে ভারত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে এই তথ্য। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ছয় দল ও ভেন্যুর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।


আগামী বছর প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হওয়ার কথা ছিল শ্রীলঙ্কায়। কিন্তু সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) হারিয়েছে আয়োজকস্বত্ব। তবু টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে থাকছে শ্রীলঙ্কা। কারণ, নারী টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম ছয় দল অংশ নেবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। ৬ জুলাই কাট অফ ডেটে র‍্যাঙ্কিংয়ের ছয় নম্বরে ছিল বলেই লঙ্কানরা থাকছে এই টুর্নামেন্টে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশগ্রহণ করা অন্য পাঁচ দল হলো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রায় দুই মাস আগের আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছিল আট ও দশ নম্বরে।


এমনকি নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হতে পারত বাংলাদেশেই। কিন্তু আইসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত—এই তিন দেশ মূল্যায়ন করা হয়েছে। গত পরশু আইসিসি বোর্ড ভারতকে আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে। বিবৃতিতে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান জয় শাহ বলেন, ‘২০২৭ নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য রোমাঞ্চকর এক নতুন অধ্যায়ের শুরু করবে। প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের সেরা দলগুলোকে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উচ্চমানের একটি প্রতিযোগিতা উপহার দিতে পারবে।’


আগামী বছরের ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতে হবে নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম মৌসুম। মুম্বাইয়ের ব্র্যাবোর্নের ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়া, ভাদোদারা—এই দুই ভেন্যুতে হবে আইসিসির এই ইভেন্ট। ব্র্যাবোর্নে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় ভারতীয় নারী দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল। ২০২৩ সালে স্টেডিয়ামটি নারী প্রিমিয়ার লিগের (ডব্লুপিএল) প্রথম মৌসুম আয়োজন করেছিল। ২০২৫ ডব্লুপিএলেও এখানে কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ভাদোদারাতেও ডব্লুপিএলের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আইসিসি রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ করা কোনো প্রশাসনকে স্বীকৃতি দেয় না। রূপান্তরকরণ কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসএলসির প্রতিনিধিরা আইসিসির বোর্ড সভাগুলোতেও অংশ নিচ্ছেন না। এই কমিটি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বোর্ডের নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। অথচ এই নির্বাচনী ব্যবস্থাই সংস্কার করা এবং সামগ্রিকভাবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সংবিধান সংশোধন করাই ট্রান্সফরমেশন কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দেশটির আইন অনুযায়ী এসব পরিবর্তন কেবল সংসদের মাধ্যমে করা সম্ভব।


তিন বছরের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার শ্রীলঙ্কা কোনো আইসিসি ইভেন্টের আয়োজনের অধিকার হারাল। ২০২৩ সালে বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ২০২৪ সালে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও শ্রীলঙ্কা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেটি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়।


আয়োজকস্বত্ব হারানোর সঙ্গে সঙ্গে নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকেও বাদ পড়ার উপক্রম হয়েছিল শ্রীলঙ্কার। কারণ, ৩০ আগস্টের র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ছয় ও সাত নম্বরে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কা। গতকাল হালনাগাদের পর এক ধাপ এগিয়ে শ্রীলঙ্কা ছয়ে উঠে এসেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ নেমে গেছে সাত নম্বরে। যদিও দুই জনেরই সমান ২৩১ রেটিং পয়েন্ট। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এবারও আট ও দশ নম্বরে অবস্থান করছে।