বিশ্বকাপ ফুটবল দেখানো নিয়ে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশে
১৮ ডিসেম্বর, ২০২২। রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) আঙিনায় বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা। ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথম গোলটি করলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে চিৎকার বলে উঠলেন, ‘গোল’। ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশে এই উন্মাদনা পুরোনো।
তবে ২০২২ সালে তা নজরে পড়েছিল বৈশ্বিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ফিফারও। ঢাকায় ফুটবল উন্মাদনার কয়েকটি ছবি ফিফা নিজেদের ফেসবুক পেজে দিয়ে লিখেছিল, ‘ফুটবলের মতো আর কোনো কিছুই মানুষকে একত্রে নিয়ে আসে না।’
চার বছর পর আগামী ১১ জুন তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। বাংলাদেশে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে যে এবার এ দেশের মানুষ বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে পারবে কি না।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব এখনো কিনতে পারেনি। বেসরকারি কোনো টেলিভিশন চ্যানেল অথবা ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যম ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্রতিষ্ঠানগুলোও সম্প্রচার স্বত্ব এখনো কেনেনি। ফলে খেলা দেখানো অনিশ্চিত।
২০২২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখিয়েছিল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাগরিক টিভি। এই চ্যানেলের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান কামরুজ্জামান বাবু প্রথম আলোকে বলেন, দেশে টিভি চ্যানেল বা ওটিটি খেলা না দেখালে মানুষ খেলা দেখতে পারবে না।
কারণ, বিদেশি চ্যানেলগুলো অনুমোদনপ্রাপ্ত দেশের বাইরে খেলা সম্প্রচার করতে পারবে না বলে নিয়ম করে দিয়েছে ফিফা। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে খেলা দেখানোর জন্য কেউ সম্প্রচার স্বত্ব কেনেনি।
বাংলাদেশে এবার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড’। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কাছ থেকে স্বত্ব কিনে বাংলাদেশে খেলা সম্প্রচার করতে হবে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি প্রতি আসরের বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার করে। বিটিভির দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলেছে, সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাছে প্রায় ১৫১ কোটি টাকা চেয়েছে। করসহ তা দাঁড়াবে ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
শর্ত অনুযায়ী এই অর্থের ৫০ শতাংশ ১০ মের মধ্যে এবং বাকিটা ১০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই প্যাকেজের আওতায় উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানসহ মোট ১০৪টি ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার ও হাইলাইটস দেখানোর সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে সাধারণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিলে বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচার স্বত্ব কেনে। তারপর তারা টেলিভিশনের মাধ্যমে তা প্রচার করে। বিজ্ঞাপন থেকে তারা আয় করে।
বিটিভি সূত্র বলছে, ২০১৮ সালে ‘প্যাকেজ নীতিমালা’ (যারা সম্প্রচার স্বত্ব পেত, তারা বিটিভির মাধ্যমে সম্প্রচার করত) আওতায় কোনো খরচ ছাড়াই বিশ্বকাপ সম্প্রচার করেছিল বিটিভি। তবে ২০২২ সালে এই নীতিমালা বাতিল হয়ে যায়। ফলে ওই বছর বিশ্বকাপের আগে শেষ মুহূর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে অর্থ বরাদ্দ পায় বিটিভি। তখন ‘বিশেষ বাজেটে’ ৯৮ কোটি টাকা খরচ করে সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল তারা।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুরের স্প্রিংবক বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির জন্য প্রথমে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। মন্ত্রণালয় তাদের প্রস্তাব বিটিভির কাছে পাঠায়। গত এপ্রিলে বিটিভি স্প্রিংবকের কাছে সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য জানতে চায়। তখন স্প্রিংবকের পক্ষ থেকে ১৫০ কোটি টাকা চাওয়া হয়।
বিটিভি সূত্রের দাবি, এত বেশি খরচ দেখে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিটিভিকে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়, যাতে বিনা মূল্যে দেখানোর সুযোগ পাওয়া যায়।
এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ফিফাকে দুটি ই-মেইল পাঠিয়েছে বিটিভি। এর কোনোটিরই জবাব দেয়নি ফিফা। ফলে বিটিভিতে খেলা দেখানো অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিটিভির ই-মেইলের বিষয়টি নিয়ে জানতে ফিফার মিডিয়া বিভাগের কাছে মঙ্গলবার ই-মেইল করে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জবাব পাওয়া যায়নি।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ৪ মের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের মতো চীন ও ভারতেও বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। দুটি দেশেই সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে ফিফার একটি বিবৃতিও উদ্ধৃত করা হয়েছে। সেখানে ফিফা বলছে, ‘২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির বিষয়ে চীন ও ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এ পর্যায়ে এ-সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা প্রয়োজন।’
বেসরকারি খাতে অনাগ্রহ
বাংলাদেশে ২০২২ সালে সম্প্রচার ও স্বত্ব কেনার সঙ্গে যুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা এবার উদ্যোগ নিচ্ছে না। এমনকি তাদের জানামতে, বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের কেউ স্বত্ব কেনার জোরালো চেষ্টা করছে না। তাদের যুক্তি হলো, এবার খেলা হবে গভীর রাতে ও ভোরে। সে সময় দর্শক কম থাকবে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো নয় যে বিপুল বিজ্ঞাপন পাওয়া যাবে।
২০২২ সালের বিশ্বকাপে ডিজিটাল স্ট্রিমিং করেছিল ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি। প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বত্ব কেনা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন তাঁরা।
তাহলে কি বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে পারবে না-এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর কাছে। তিনি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বুধবার একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক রয়েছে। বৈঠকের অ্যাজেন্ডায় এই বিষয়টি রয়েছে।’
মূল্য নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী স্প্রিংবক
ফিফার কাছ থেকে নেওয়া স্প্রিংবকের প্যাকেজে টেলিভিশন, রেডিও, মুঠোফোন ও ইন্টারনেটে সম্প্রচারের স্বত্ব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত সোমবার প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করে, প্রতিষ্ঠানটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা নিজেরাও ফিফার কাছ থেকে উচ্চমূল্যে এই স্বত্ব কিনেছেন। সেখানে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় ছিল।
বিটিভির বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা বিটিভিকে মূল্যের একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু বিটিভি কোনো পাল্টা প্রস্তাব দেয়নি। তিনি বলেন, এখনো আলোচনার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে তারা গ্রহণযোগ্য হারে মুনাফা রেখে এই স্বত্ব দিতে রাজি।
বিশ্বকাপ ফুটবল মাঠে গড়াতে বাকি আর এক মাস। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশে খেলা দেখাতে চাইলে দ্রুত আলোচনা শুরু করতে হবে। সময় নষ্ট করলে বঞ্চিত হবে মানুষ। এ ক্ষেত্রে এখন সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, ‘আমরা ফুটবল লাভিং নেশন (ফুটবলপ্রেমী জাতি)। এখানে বিশ্বকাপ দেখানো হবে না, এটা তো চিন্তাই করা যায় না।’
তিনি বলেন, ‘ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আমরা অবশ্যই আশা করব, যেকোনো মাধ্যমে হোক বিশ্বকাপ বাংলাদেশে দেখানো হবে। সেটা সরকার হোক, বেসরকারি হোক, যেভাবেই হোক না কেন; বিশ্বকাপ দেখাতেই হবে বাংলাদেশে।’
আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির মা ইউলালিয়া মারজেত্তি মারা গেছেন। বুধবার দেশটির পুজাতো শহরে নিজের বাড়িতে ৭৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন ইউলালিয়া। আর্জেন্টিনার ক্রীড়ামাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস এ খবর জানিয়েছে।
রোজারিওর রেডিও টু জানিয়েছে, পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্বামী অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে পুজাতোতেই বসবাস করতেন ইউলালিয়া। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
তিন সন্তানের জননী ইউলালিয়াদ। তার তিন সন্তান লিওনেল, মাউরো ও কোরিনা। তাদের মধ্যে লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনাকে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন করান। আর কোরিনা রোজারিওর কাছের ফুনেস এলাকায় ‘স্কালা বেকারি’ নামে একটি ব্যবসা পরিচালনা করেন।মায়ের সঙ্গে স্কালোনির সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি থেকে সময় পেলেই মাকে দেখতে পুজাতোতে ছুটে যেতেন তিনি। মায়ের অসুস্থতা নিয়েও একসময় প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন আর্জেন্টিনার এই কোচ।
২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর পেরুর বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ১-০ গোলে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন স্কালোনি। সেদিন তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত কারণে বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলেন না। তার সেই বক্তব্যে মায়ের অসুস্থতার বিষয়টিও সামনে এসেছিল।
ব্যক্তিগত কঠিন সময়ের মধ্যেও দায়িত্ব চালিয়ে যান স্কালোনি। পরের বছর তার অধীনেই কাতার বিশ্বকাপ জিতে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায় আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০২১ সালে ব্রাজিলের মারাকানায় কোপা আমেরিকা জয়ের পরও মাকে স্মরণ করেছিলেন তিনি।সেই সময় আবেগাপ্লুত স্কালোনি বলেছিলেন, কোপা আমেরিকার শিরোপা তিনি মাকে উৎসর্গ করতে চান। কয়েক দিন আগে মায়ের গুরুতর শারীরিক সমস্যা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, তার মা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন ও সাক্ষাৎকারে মায়ের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন স্কালোনি। এবার সেই মাকে হারানোর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও জন্মশহর পুজাতোতে।
নকআউটেও জয় পেল বাংলাদেশের কিশোররা
বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে জয়ের পর এবার নকআউটেও জয় পেল বাংলাদেশের কিশোররা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে সিশেলসকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের প্লেট-পর্বের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
আজারবাইজানের বাকুতে আজ বুধবার শেষ বত্রিশের ম্যাচে সিশেলসের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৪০ মিনিটের খেলায় ২৮তম মিনিটে রাতুলের গোলে এগিয়ে যায় দল।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে সমতায় ফেরে সিশেলস। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য আশ্রয় নিতে হয় টাইব্রেকারের। সেখানে ৪-২ ব্যবধানে জিতে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশের যুবারা।
এই জয়ে প্রতিযোগিতায় ছয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয় পেল বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বে ওয়েলসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে অভিযান শুরু করেছিল দলটি। পরের ম্যাচে পর্তুগালের কাছে ৩-১ গোলে হারের পর ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। এরপর বুরুন্ডির কাছে ২-০ গোলে হারলেও শেষ ম্যাচে ফিজিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় দল।
বাছাইপর্বের সেই জয়ের ধারাবাহিকতা নকআউটেও ধরে রাখল বায়েজিদ-রাতুলরা। সিশেলসকে হারানোর পর এবার শেষ ষোলোতে নতুন প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় বাংলাদেশ।
লিওনেল মেসি
আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসিকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় এই আয়োজনে আর্জেন্টাইন মহাতারকার অনুপস্থিতি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলেও এর পেছনে বড় কোনো বিতর্কের খবর নেই।
বরং সাম্প্রতিক ব্যস্ত সফরসূচি ও বিশ্রামের প্রয়োজনেই লন্ডনের অনুষ্ঠানে যাননি ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড।
ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর আয়োজনে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বসেছিল ব্যালন ডি’অরের এবারের আসর। তবে পুরস্কারটির ৭০তম বার্ষিকীর এই আয়োজনেও দেখা যায়নি মেসিকে।
সম্প্রতি স্পেনে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ডসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। সেখান থেকে যান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। ২৪ অক্টোবর নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ২-০ গোলের হারেও মাঠে নেমেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।
পরপর ভ্রমণের ধকলের পর আবার ইংল্যান্ডে যাওয়ার বদলে বিশ্রাম ও দলের ব্যস্ত সূচিকে গুরুত্ব দিয়েছেন মেসি। তাই এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি ছিল না।
ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল খেলোয়াড় মেসি। ক্যারিয়ারে ১৭ বার মনোনয়ন পেয়ে আটবার জিতেছেন এই পুরস্কার। ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালে তার হাতে উঠেছে সোনালি বল। এই পুরস্কার জয়ের সংখ্যায় তার ধারেকাছে নেই আর কেউ।
হ্যারি কেইন
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। স্পেনের লামিন ইয়ামাল ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জিতেছেন বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার।
অন্যদিকে, মেয়েদের বিভাগে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের তারকা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস।
সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে কেইনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ প্রতিবছর এই পুরস্কার দিয়ে থাকে। ৩৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ ফরোয়ার্ডের হাতে এবার ব্যালন ডি’অর তুলে দেন দুইবারের এই পুরস্কারজয়ী ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো।
কেইনের এই অর্জনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর পর বর্ষসেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পেলেন কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়। এর আগে সর্বশেষ ২০০১ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েন।
সব মিলিয়ে কেইন হলেন ব্যালন ডি’অরজয়ী পঞ্চম ইংলিশ ফুটবলার। এর আগে ১৯৫৬ সালে পুরস্কারটির প্রথম আসরে বিজয়ী হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস। এরপর ১৯৬৬ সালে স্যার ববি চার্লটন এবং ১৯৭৮ সালে কেভিন কিগান এই সম্মান অর্জন করেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো হ্যারি কেইনের নাম।
মেয়েদের ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের তারকা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। অনুষ্ঠানে তার নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন ২০০১ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মাইকেল ওয়েন। পুতেয়াসের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে অনুষ্ঠানস্থল।
বার্সেলোনার সাবেক এই মিডফিল্ডার এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে মেয়েদের ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। এবার তৃতীয়বারের মতো পুরস্কারটি জিতে নারী ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করলেন তিনি।
এক রাতে ফুটবল তারকাদের মিলনমেলা, আর পুরস্কারের মঞ্চে একের পর এক চমক। পুরুষদের ব্যালন ডি’অরে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে সেরার মুকুট জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। নারীদের বিভাগে তৃতীয়বারের মতো পুরস্কার জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন স্পেনের আলেক্সিয়া পুতেয়াস। তবে মূল পুরস্কারের বাইরেও ছিল একাধিক তারকার সাফল্যের গল্প। কে জিতলেন কোন পুরস্কার, জেনে নেওয়া যাক একনজরে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে লন্ডনে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঘোষণা করা হয় ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীদের নাম। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকারের হাতে উঠেছে পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফিও।
২০২৫-২৬ মৌসুমে গোলের সামনে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতাই কেইনকে এনে দিয়েছে এই স্বীকৃতি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে ৬১ গোল করেন তিনি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে তার গোল ১৯টি বেশি। এক মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে কোনো খেলোয়াড়ের ৬১ গোলের কীর্তি এর আগে দেখা গিয়েছিল ২০১৪-১৫ মৌসুমে, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কাছ থেকে।
ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে কেইনের গোলসংখ্যা ছিল ৭৩। জাতীয় দলের হয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তার গোল করার অসাধারণ দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফিও উঠেছে তার হাতে।
পুরস্কার ঘোষণার আগে ব্যালন ডি’অরের ওয়েবসাইটে কেইন, এমবাপ্পে ও ইয়ামালকে বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করে আলাদা নিবন্ধ প্রকাশ করা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। পরে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক আয়োজনে পুরুষদের মূল পুরস্কার জেতেন কেইন।
পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থানে জায়গা পেয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। চতুর্থ হয়েছেন রদ্রি, আর পঞ্চম স্থানে ছিলেন লিওনেল মেসি।
মূল পুরস্কার না জিতলেও ইয়ামালের হাতে উঠেছে কোপা ট্রফি। টানা তৃতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-২১ বয়সী সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেলেন স্পেনের এই তরুণ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪ গোল করার পাশাপাশি ১৭টি গোলে সহায়তা করেন তিনি। বার্সেলোনার লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।
পুরস্কার গ্রহণের পর ইয়ামাল সতীর্থ পাউ কুবারসির প্রশংসা করেন। তার মতে, এই পুরস্কারটি কুবারসিরও প্রাপ্য ছিল। বিশ্বকাপে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন স্পেনের এই ডিফেন্ডার।
পুরুষদের বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার অধীনেই বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। জাতীয় দলের সাফল্যে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষণভাগের সাফল্যের স্বীকৃতি পেয়েছেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। পুরুষদের ইয়াশিন ট্রফি জিতেছেন তিনি। টুর্নামেন্টে স্পেনের আট ম্যাচে মাত্র এক গোল হজম করেন এই গোলরক্ষক।
নারীদের ব্যালন ডি’অর জিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই পুরস্কার জিতলেন স্পেনের এই তারকা। এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে টানা দুইবার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন তিনি। পরে আইতানা বোনমাতিও তিনবার এই পুরস্কার জেতেন।
বার্সেলোনার সাবেক অধিনায়ক পুতেয়াস বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব লন্ডন সিটি লায়নেসের হয়ে খেলছেন। দীর্ঘদিনের সাফল্য ও ব্যক্তিগত অর্জনের ধারাবাহিকতায় তৃতীয়বারের মতো নারী ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই স্বীকৃতি পেলেন তিনি।
নারীদের বর্ষসেরা কোচ হয়েছেন বার্সেলোনার পেরে রোমেউ। তার অধীনে লিগে ৩০ ম্যাচের মধ্যে ২৯টিতে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। দলটির গোল ব্যবধান ছিল ১২১। নারী গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরা হয়েছেন বার্সেলোনার কাতা কোল। লিগে ১৭ ম্যাচে মাত্র ছয় গোল হজম করার পাশাপাশি ১১টি ম্যাচে ক্লিনশিট রেখেছেন তিনি।
নারী বিভাগে বর্ষসেরা ক্লাবের পুরস্কারও জিতেছে বার্সেলোনা। পুরুষ বিভাগে এই স্বীকৃতি পেয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের পর ফরাসি ক্লাবটির হাতে উঠেছে পুরস্কারটি।
পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফি জিতে কেইন নিজের সাফল্যের ঝুলিতে যোগ করেছেন আরও একটি পুরস্কার। নারীদের বিভাগে এই ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়েছেন মেক্সিকো ও পাচুকার স্ট্রাইকার চার্লিন কোরাল। ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি জেতা প্রথম মেক্সিকান খেলোয়াড় তিনি।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের বিজয়ীদের তালিকা
পুরুষদের ব্যালন ডি’অর: হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ/ইংল্যান্ড)
নারীদের ব্যালন ডি’অর: আলেক্সিয়া পুতেয়াস (বার্সেলোনা/স্পেন)
পুরুষদের জোহান ক্রুইফ ট্রফি: লুইস দে লা ফুয়েন্তে (স্পেন)
নারীদের জোহান ক্রুইফ ট্রফি: পেরে রোমেউ (বার্সেলোনা)
পুরুষদের কোপা ট্রফি: লামিন ইয়ামাল (বার্সেলোনা/স্পেন)
নারীদের কোপা ট্রফি: ভিকি লোপেজ (বার্সেলোনা/স্পেন)
পুরুষদের ইয়াশিন ট্রফি: উনাই সিমন (অ্যাথলেটিক ক্লাব/স্পেন)
পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফি: হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ/ইংল্যান্ড)
নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি: চার্লিন কোরাল (পাচুকা/মেক্সিকো)
ছবি: সংগৃহীত