লিওনেল মেসি
শেষবারের মতো জাতীয় সংগীত। শেষবারের মতো আকাশি-সাদা জার্সি। শেষবারের মতো মনুমেন্টালের হাজারো কণ্ঠে নিজের নাম শুনলেন লিওনেল মেসি। চোখের কোণে জমে থাকা জল মুছে মাঠের দিকে তাকালেন, যেন নিজের দুই দশকের গল্পটাকে একবারে চোখের সামনে দেখতে চাইলেন। তারপর বল পায়ে নেমে যা করলেন, সেটিও ছিল মেসিসুলভ। বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় দিয়ে শেষ হলো জাতীয় দলের হয়ে মেসির ২১ বছরের পথচলা।
বিদায়ী ম্যাচে নিজে একটি গোল করেছেন, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে করা গোলটি হয়ে থাকল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ গোল। শেষ বাঁশির পর সতীর্থরা যখন তাকে ঘিরে ধরলেন, তখন বুঝে নেওয়া গেল, সত্যিই শেষ হয়ে গেল একটি যুগ।
ম্যাচ শুরুর আগেই মনুমেন্টাল যেন রূপ নিয়েছিল উৎসবের মঞ্চে। এজেইজা থেকে স্টেডিয়ামে আসার পথে রাস্তার দুই পাশে সমর্থকদের ঢল। বাসের ভেতর থেকেই সেই দৃশ্য দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। চোখের পানি মুছতে মুছতে বাইরে থাকা সমর্থকদের দিকে হাত নেড়ে ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন।
স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় সঙ্গে ছিলেন তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরো। মাঠে ওয়ার্ম-আপে এসে দুই হাত তুলে গ্যালারির প্রতিটি অংশকে অভিবাদন জানাতেই গর্জে ওঠে মনুমেন্টাল। এরপর ঘোষকের কণ্ঠে শেষবারের মতো শোনা গেল, ‘আমাদের অধিনায়ক, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, কিংবদন্তি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।’
জাতীয় সংগীতের সময় আবেগ আর লুকিয়ে রাখতে পারেননি তিনি। মেসির চোখে জল, একই দৃশ্য দেখা গেল কোচ লিওনেল স্কালোনির চোখেও। যে জার্সিতে ২১ বছর ধরে একটি জাতির স্বপ্ন বহন করেছেন, সেই জার্সিতে দাঁড়িয়ে শেষবার জাতীয় সংগীত গাইলেন তিনি।
বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল আর্জেন্টিনা। তবে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি তারা। ৭ মিনিটে রদ্রিগো দি পলের পাস থেকে বক্সের বাইরে মেসির শট ঠেকিয়ে দেন বেনিন গোলরক্ষক। ২৫ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিকও রুখে দেন তিনি। ৩২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের পাস থেকে পাওয়া সুযোগে মেসির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এর মধ্যেই আসে রাতের সবচেয়ে প্রতীকী মুহূর্ত। ম্যাচের ১০ মিনিটে রেফারি খেলা থামিয়ে দেন মেসিকে সম্মান জানাতে। ৮৫ হাজার দর্শক একসঙ্গে দাঁড়িয়ে যান। সতীর্থ, কোচিং স্টাফ, এমনকি বেনিনের খেলোয়াড়েরাও যোগ দেন করতালিতে। এক মিনিট ধরে শুধু মেসির জন্যই থেমে থাকে খেলা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে পাওয়া বলে ভলিতে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। মেসির মতো এই ম্যাচটিও ছিল ওতামেন্দির বিদায়ী ম্যাচ। গোলের কিছুক্ষণ পর তাকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঠ ছাড়ার সময় পুরো গ্যালারি দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় তাকে।
এরপর আবারও মেসির পাস থেকে গোল পায় আর্জেন্টিনা। বাঁ দিক থেকে মেসির বাড়ানো বল পেয়ে বক্সে ঘুরে বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান নিকো পাজ। তার নিখুঁত শটে বেনিনের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। বিদায়ী ম্যাচে এ নিয়ে দুটি গোলে সরাসরি অ্যাসিস্ট করলেন মেসি।
এরপর ৬৮ মিনিটে বেনিন বক্সে অগাস্টিন জিয়াই ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক থেকে ৭১ মিনিটে গোল করেন মেসি। তার শটে ডান দিকে ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি বেনিন গোলরক্ষক। জাতীয় দলের হয়ে এটি মেসির ১২৬তম গোল।
শেষ দিকে আরও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। ৭৫ মিনিটে নিকো গঞ্জালেসের পাস থেকে পাওয়া সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ৮৯ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে তার বাঁ পায়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। যোগ করা সময়েও একটি ফ্রি-কিক পেয়েছিলেন মেসি, তবে সেটি জালে জড়ায়নি।
শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশির পর সতীর্থরা মেসিকে ঘিরে ধরেন। বেনিনের খেলোয়াড়েরাও তাকে শুভেচ্ছা জানান। ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তাতে এসেছে ব্যর্থতা, কান্না, সমালোচনা, ফাইনালে হার। এসেছে কোপা আমেরিকার শিরোপা, ফাইনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ। যে ট্রফির জন্য আর্জেন্টিনার মানুষ ৩৬ বছর অপেক্ষা করেছিল, সেটিও এনে দিয়েছেন তিনি। আজ সেই গল্পের শেষ। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচ, ১২৬ গোল, ৬৮ অ্যাসিস্ট।
ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীতের সময় তিন সন্তানের সঙ্গে মেসি
২০০৫ সালের আগেস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে শুরু। সেই থেকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ২১ বছর ধরে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, অসংখ্য রাতকে রাঙিয়েছেন। সেই জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমে আবেগ সামলাতে পারলেন না লিওনেল মেসি। কিংবদন্তি এ ফুটবলারের চোখের কোণে দেখা গেল জল। বেনিনের বিপক্ষে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে তার গল্পের শেষ অধ্যায় লিখে ফেলার আগ মুহূর্তে আবেগ লুকাতে পারেননি এই মহাতারকা।
ম্যাচের আগে থেকে শুরু করে মাঠের ভেতরেও বারবার ফুটে উঠেছে তার আবেগ, কখনো চোখের জলে, কখনো তৃপ্তির হাসিতে। সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে আর্জেন্টিনার জাতীয় সংগীতের সময়। সতীর্থ ও কোচ লিওনেল স্কালোনির মতো মেসির চোখেও তখন জল। আবেগ সামলানোর চেষ্টা করলেও চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সিধারী। মাথা উঁচু করে সামনে তাকিয়ে ছিলেন তিনি, পাশে ছিল ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের পতাকা।
তবে চোখের জল সামলে সেই বিশেষ মুহূর্তটাকে উপভোগও করেছেন তিনি। গ্যালারিজুড়ে তার জন্য তৈরি হওয়া উৎসবের আবহ দেখে কয়েক সেকেন্ড থমকে ছিলেন মেসি। এরপর ঠোঁটে ফুটে ওঠে ছোট্ট, তৃপ্তির এক হাসি। স্টেডিয়ামের পথে দলের বাসে বসে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি মেসি। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ভালোবাসার ঢল দেখে বাসের ভেতরেই কেঁদে ফেলেন তিনি। আবেগ সামলে নেওয়ার চেষ্টা করলেও চোখের পানি থামেনি। বাইরে থাকা সমর্থকদের দিকে তাকিয়ে শুধু উষ্ণ এক হাত নেড়ে ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
শেষবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে ওয়ার্ম-আপ করতে মাঠে প্রবেশের সময় দুই হাত তুলে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন গ্যালারির দিকে অভিবাদন জানান মেসি। আর সেটুকুতেই যেন বিস্ফোরিত হয় মনুমেন্তাল। মুহূর্তেই গর্জে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। এরপর যখন ঘোষক একে একে আর্জেন্টিনার একাদশের নাম ঘোষণা করছিলেন, তখন মেসির নাম আসতেই একসঙ্গে গর্জে ওঠে হাজারো কণ্ঠ। শেষবারের মতো ১০ নম্বর জার্সি গায়ে, শেষবারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এভাবে, 'শেষবারের মতো ১০ নম্বর জার্সিতে, আমাদের অধিনায়ক, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিংবদন্তি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।'
ম্যাচ শুরুর পরও থামেনি বিদায়ের আবেগ। প্রথমার্ধের ১০ মিনিটে হঠাৎ যেন ফুটবল ম্যাচের কথা ভুলে গেলেন মাঠের ২২ খেলোয়াড়। আগে থেকেই মেসির শেষ ম্যাচ উপভোগ করার কথা জানিয়েছিলেন বেনিনের ফুটবলাররা। তাই অপ্রত্যাশিত সেই বিরতিতে কয়েকজন বেনিন খেলোয়াড় এগিয়ে এসে মেসিকে শুভেচ্ছা জানান। আর গ্যালারিতে তখন অন্য দৃশ্য, পুরো মনুমেন্তাল দাঁড়িয়ে, করতালিতে শেষবারের মতো নিজেদের অধিনায়ককে অভিবাদন জানাচ্ছে।
বিদায়ী ম্যাচের জন্য অনুশীলন কমপ্লেক্স থেকে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আসতে সময় লাগে এক ঘণ্টার বেশি। রাস্তায় নেমে আসেন ভক্তরা। সে সময়ও মেসির চোখে দেখা যায় জল। বিশেষ জার্সি পরে সতীর্থদের সঙ্গে ওয়ার্মআপ করেন মেসি। দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দেন তিনি। গ্যালারিতে ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা।
বিদায়ী ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন মেসি। আর্জেন্টিনার মানুষের উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি। আমি সবকিছু দিয়ে চেষ্টা করেছি।’
জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির এই বিদায় শুধু একটি ম্যাচের সমাপ্তি নয়; এটি একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের শেষও। যে জার্সিতে তিনি দেখেছেন হতাশা, কান্না ও ব্যর্থতা, সেই জার্সিতেই পেয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের গৌরব। ২১ বছরের এই যাত্রায় আর্জেন্টিনার হয়ে অসংখ্য স্মৃতি উপহার দিয়েছেন তিনি। তার কথায় যেন সেই দীর্ঘ পথচলারই প্রতিধ্বনি।
মেসির বিদায় ম্যাচ আজ
লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলা শেষে ৩৯ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার। বেনিনের বিপক্ষে এই প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমেই তিনি জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন।
আর্জেন্টিনার স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টায় বুয়েন্স আয়ার্সের ৮৫ হাজারের বেশি দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। সময়ের পার্থক্যের কারণে বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের ম্যাচটি দেখতে হবে বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর ৫টায়।
২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার অনেক সতীর্থই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেও, মেসির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির সাক্ষী হতে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন তারা।
যেভাবে দেখবেন মেসির বিদায়ী ম্যাচ (লাইভ সম্প্রচার)
বাংলাদেশের কোনো টিভি চ্যানেলে ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার না হলেও, কিছু বিকল্প মাধ্যমে দর্শকরা খেলাটি উপভোগ করতে পারবেন। ভারতীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভে (ZEE5) সাবস্ক্রিপশন থাকলে ম্যাচটি দেখা যাবে, কারণ দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্ল্যাটফর্মেই সম্প্রচার নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া অঞ্চলভেদে বেইন স্পোর্টস এবং অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে ম্যাচটির কাভারেজ থাকতে পারে। বাংলাদেশি দর্শকরা স্পোর্জিফাই অ্যাপের মাধ্যমেও ম্যাচটি সরাসরি দেখতে পারবেন।
পাশাপাশি, কিছু দর্শক ভিপিএন ব্যবহার করেও বিভিন্ন দেশের স্ট্রিমিং সেবা থেকে ম্যাচটি উপভোগ করতে পারেন।
১৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রেখেছিলেন মেসি। ২১ বছরের সেই অবিশ্বাস্য যাত্রার ইতি টেনে বেনিনের বিপক্ষে এই ম্যাচটি বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক আবেগময় ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
উয়েফা নেশন্স লিগে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। এক গোলে পিছিয়ে থাকা ফরাসিরা শেষ ১৪ মিনিটে চারবার জালের দেখা পায়। এই জয়ে কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদানের অপরাজিত যাত্রাও অব্যাহত থাকল। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ফ্রান্স। তবে প্রথম গোলটি পায় বেলজিয়াম। ৩৫ মিনিটে রোমেও লাভিয়ার প্রায় ৬০ গজের থ্রু বল ধরে ফরাসি গোলরক্ষক হিসেবে অভিষেক হওয়া গিয়োম রেস্তেকে পরাস্ত করেন দোদি লুকেবাকিও। ফলে বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। একের পর এক আক্রমণ করেও গোল পাচ্ছিল না তারা। অবশেষে ৭৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দেজিরে দুয়ের নিচু শটে সমতায় ফেরে ফরাসিরা।
এর চার মিনিট পরই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। মাইকেল ওলিসের কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে বদলি হিসেবে নামা রায়ান শেরকি ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ফ্রান্স। ৮৭ ও যোগ করা সময়ে আরও দুটি গোল করেন ওলিসে। দুই গোলেই সহায়তা করেন দুয়ে। ফলে শেষ ১৩ মিনিটে চার গোল করে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স। জাতীয় দলের জার্সিতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওলিসে ২০২৬ সালে ফ্রান্সের হয়ে ১৬ ম্যাচে ১৭ গোলে সরাসরি অবদান রাখলেন।
এই জয়ে চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ এ১-এর শীর্ষে ফ্রান্স। বেলজিয়াম ছয় পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে তুরস্ককে ৩-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে ইতালি। ইতালির হয়ে গোল করেন জিয়ানলুকা স্কামাক্কা, রিকার্দো কালাফিওরি ও পিও এসপোসিতো। তুরস্কের একমাত্র গোলটি করেন আরাল সিমসির।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচের অপেক্ষা এখন শেষের পথে। বেনিনের বিপক্ষে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বুধবারের ম্যাচ দিয়েই জাতীয় দলের হয়ে তার বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের ইতি টানার কথা। বিদায়ী ম্যাচের আগে শেষ অনুশীলন সেরে সতীর্থদের সঙ্গে একটি ছবি দিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
নিজের নামে নামকরণ করা এজেইজা ট্রেনিং কমপ্লেক্সে শেষ অনুশীলনের পর ইনস্টাগ্রামে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন মেসি। সতীর্থ, কোচিং স্টাফ, মাঠকর্মী ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্তের ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘বিশেষ কিছু মুহূর্ত, যেগুলো আমি জানি খুব মিস করবো।’
মেসির পোস্ট করা ছবিগুলোর একটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সেখানে জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের পাশাপাশি মাঠের কর্মী এবং এএফএর কর্মকর্তাদেরও দেখা যায়। ছিলেন সংস্থাটির সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও।
বেনিনের বিপক্ষে মেসির বিদায়ী ম্যাচকে ঘিরে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে থাকছে বিশেষ আয়োজন। ধারণা করা হচ্ছে, কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে গ্যালারি। কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের মেসির বেশির ভাগ সতীর্থও এই বিশেষ দিনে উপস্থিত থাকবেন। থাকবে বিভিন্ন আয়োজন ও অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনা।
এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা দলে রয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি, রদ্রিগো ডি পল ও জিওভানি লো সেলসোর মতো মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থরা। ওতামেন্দিও জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। বেনিনের বিপক্ষে মেসি পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন মাঠে অনুশীলনে লিওনেল মেসি
আর একটি ম্যাচ। এরপরই সমাপ্তি ঘটছে ঝলমলে স্বর্ণালী একটি অধ্যায়। বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সুপারস্টার লিওনেল মেসি বিদায়ী ম্যাচটি খেলবেন বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোরে। বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন এই মহাতারকা। নিজ দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচের আগে শেষবারের মতো জাতীয় দলের অনুশীলনে নেমেছেন তিনি।
জাতীয় দলের খবর অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকেই আর্জেন্টিনা দল কোচিং স্টাফদের অধীনে অনুশীলন শুরু করেছে। বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সোমবার শেষবারের মতো অনুশীলনে নামবে তারা। ম্যাচের আগে মেসি এবং কোচ স্কালোনি উভয়েই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নিজ দেশের জার্সি গায়ে শেষ ম্যাচে বিশেষ ডিজাইন করা জার্সি পরবেন মেসি। যা খেলা শেষে তার ব্যক্তিগত ট্রফি ও পুরস্কারের সংগ্রাহশালায় শোভা পাবে। আকাশী-সাদা রঙের এই জার্সির ঠিক মাঝখানে থাকবে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার সূর্য এবং তার নাম ও নম্বর থাকবে সোনালী রঙে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আগেই বিদায় জানিয়েছিলেন মেসি। তবে ঘরের মাঠে বিদায়টা রাঙাতে শেষ ম্যাচের আয়োজন করে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর্জেন্টিনায় পৌঁছেছেন দুই দিন আগে। শুক্রবার নিজ শহর রোজারিওতে পৌঁছান তিনি। এরপর রোববার বুয়েনস এইরেসে ফিরে যোগ দিয়েছেন এএফএ অনুশীলন মাঠে। এরই মধ্যে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অনুশীলন ক্যাম্পে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের পৌঁছানোর একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। রোজারিওতে দুই দিন কাটানোর পর আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক বুয়েনস আইরেসে পৌঁছান, যাতে কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের শেষ ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন।
আর্জেন্টাইন সংবাদ মাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী ম্যাচ খেলতে স্ত্রী, তিন ছেলে ও মাকে নিয়ে রোজারিওতে পৌঁছেছেন মেসি। দ্রুতই আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এ মহাতারকার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জাতীয় দলের সতীর্থ ও কোচিং স্টাফরা।
৩৯ বছর বয়সী এ ফুটবলারকে বিদায় জানাতে এরই মধ্যে সতীর্থরা বিশেষ একটি ভিডিও তৈরি করেছেন। সে ভিডিওতে আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব পাওয়া কুতি রোমেরো বলেছেন, মেসিকে তিনি কতটা ভালোবাসেন, সেটা কখনও ভাষায় প্রকাশ করতে পারেননি বলে তাঁর মনের মধ্যে একটা আক্ষেপ থেকে যাবে। মেসির পরামর্শেই তাঁকে জাতীয় দলের নেতৃত্বের জন্য মনোনীত করা হয়েছে বলে জানান রোমেরো।
মেসিকে ছাড়া প্রথম ম্যাচে গত বৃহস্পতিবার বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। রোববার ভোরে বুরকিনা ফাসোর জালে ৭ গোল দিয়েছে আর্জেন্টিনা।
এদিকে মেসির বিদায়কে স্মরণীয় করতে তাঁর সঙ্গে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সব সদস্যকে এ ম্যাচে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভিডিও বার্তায় এএফএ সভাপতি বলেন, ‘লিওনেল এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করার পর আমরা কাতারে তাঁর সঙ্গে খেলা ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সব সদস্যকে পরিবারসহ এ ম্যাচে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা স্মরণীয় উপলক্ষ হতে চলেছে।’গত বিশ্বকাপে ফাইনাল ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। এরপর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন আর্জেন্টিনার ফুটবল সুপারস্টার।
নিজের ফেসবুক পেজে অবসরের কথা জানিয়ে মেসি বলেন, ‘ফাইনালের পর থেকে অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে আমি সবাইকে জানাতে চাই, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা হৃদয়ে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, এখনই সরে দাঁড়ানোর সময়। আমি শপথ করে বলতে পারি, সবসময় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। শুধু সাম্প্রতিক কয়েক বছরে, যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তা নয়; এর আগেও জাতীয় দলের এই জার্সির জন্য সবসময় লড়েছি।’
জাতীয় দলের হয়ে দেশের মানুষকে আনন্দ দেওয়াই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফুটবলের মাধ্যমে যেন আপনারা আর্জেন্টাইন হওয়ার জন্য গর্ববোধ করেন, সেই চেষ্টা সবসময় করেছি।’
অবসরের সিদ্ধান্তের কষ্টের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর খুব বেশি সময় বাকি নেই, একের পর এক অধ্যায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এটি এমন একটি অধ্যায়, যা আমাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছে। জাতীয় দলে থাকা আমি ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সবসময় ভালোবাসব। আমি নিজেকে পুরোপুরি উজাড় করে দিয়েছি। এখন আর দেওয়ার মতো কিছু নেই। তাছাড়া পেছন থেকে দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা জাতীয় দলে থাকার যোগ্য।’
ছবি : সংগৃহীত
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে যতই ঝড় উঠুক, মাঠে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না পর্তুগালে। দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে ছাড়াই আরও একটি জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান নেশন্স লিগ চ্যাম্পিয়নরা। নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালও নিশ্চিত করেছে দলটি। পর্তুগালের জয়ের নায়ক গনসালো রামোস। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে তার গোলে নিশ্চিত হয় জয়। এই জয়ে গ্রুপ ‘এ৪’-এ শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। চার ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১২, দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডেনমার্কের চেয়ে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে তারা।
অথচ কয়েক দিন আগেও পর্তুগালের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ফুটবল নয়, রোনালদো। কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের পর গত সপ্তাহে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান পর্তুগিজ মহাতারকা। তাকে ছাড়াই গত বৃহস্পতিবার ডেনমার্ককে হারিয়েছিল পর্তুগাল। এবার নরওয়ের বিপক্ষেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখল তারা। পোর্তোতে অবশ্য শুরুটা পর্তুগালের পক্ষে ছিল না। ৩৬ মিনিটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন ক্রিস্টোফার আইয়ার। বক্সের বাইরে থেকে তার নিচু হয়ে আসা ভলি ঠেকানোর কোনো সুযোগই ছিল না পর্তুগাল গোলরক্ষকের।
তবে দুই মিনিট পরই ম্যাচে সমতা ফেরান জোয়াও ক্যানসেলো। বক্সের বাইরে থেকে তার জোরালো শট নরওয়ের জালে গিয়ে আছড়ে পড়ে। আইয়ারের গোল যদি ছিল দারুণ, ক্যানসেলোর জবাব ছিল আরও দুর্দান্ত।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন রামোস। জোয়াও ফেলিক্সের হেড করা বল তার দিকে এলে পায়ের পেছনের অংশ দিয়ে সেটিকে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। সেই গোলেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয় পর্তুগালের।
ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বাস না দেখালেও জয় ও কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করাটাকেই বড় করে দেখেছেন কোচ জর্জ জেসুস, 'নরওয়েকে হারাতে অনেক বেশি কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন।'
তিনি আরও বলেন, 'ডেনমার্কের বিপক্ষে যেমন খেলেছিলাম, এবার তেমন পারফরম্যান্স করতে পারিনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল জয় এবং কোয়ালিফিকেশন। এই দলটির ওপর আমার অনেক বিশ্বাস ছিল। তবে প্রথম চার ম্যাচে চারটি জয় পাব, হয়তো এতটা আশা করিনি।'
জয় পেলেও ম্যাচের শেষটা অবশ্য স্বস্তির ছিল না পর্তুগালের জন্য। ম্যাচ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে লাল কার্ড দেখেন ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও। হলুদ কার্ড দেখার পর রেফারিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে থাম্বস আপ দেখানোয় সঙ্গে সঙ্গেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন রেফারি।
অন্যদিকে গ্রুপ ‘এ৪’-এর আরেক ম্যাচে ওয়েলসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ডেনমার্ক। কার্ডিফে ডেনমার্ককে বেশ কিছুক্ষণ আটকে রেখেছিলেন ওয়েলস গোলরক্ষক ড্যানি ওয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত ৭৫ মিনিটে গুস্তাভ ইসাকসেনকে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেন তিনি। স্পট কিক থেকে গোল করে ডেনমার্ককে জয় এনে দেন রাসমুস হইলুন্দ।
গ্রুপ ‘এ২’-এ সার্বিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে উঠেছে নেদারল্যান্ডস। ৩১ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি গোল করে ডাচদের এগিয়ে দেন টেউন কুপমেইনার্স। চার মিনিট পরই সার্বিয়াকে সমতায় ফেরান ১৮ বছর বয়সী মিহাইলো স্ভেটকোভিচ, জাতীয় দলের হয়ে এটিই তার প্রথম গোল।
৭২ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। তিজানি রেইন্ডার্সের বাড়িয়ে দেওয়া বল জালে পাঠান জশুয়া জির্কজি। এই জয়ে গ্রুপে গ্রিসের সঙ্গে সমান পয়েন্টে থাকলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে উঠে গেছে ডাচরা।
অন্য ম্যাচে ঘরের মাঠে জার্মানির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে গ্রিস। পুরো ম্যাচে আধিপত্য ছিল জার্মানির, কিন্তু গোলের দেখা পায়নি তারা। নতুন কোচের অধীনে চার ম্যাচে এটি জার্মানির মাত্র একটি জয়।
গ্রুপ ‘বি৩’-এ কসোভোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেও শীর্ষে আছে অস্ট্রিয়া। আর আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের ম্যাচও শেষ হয়েছে একই ব্যবধানে। অন্যদিকে গ্রুপ ‘ডি২’-এ লিথুয়ানিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছে আজারবাইজান। গ্রুপ ‘ডি১’-এ অ্যান্ডোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে মাল্টা।