বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা
হাভিয়ের কাবরেরাকেই কি রেখে দেওয়া হবে, নাকি লাল-সবুজের ডাগআউটে দেখা যাবে নতুন কোনো মুখ? এই অমীমাংসিত প্রশ্নটি সামনে রেখেই আজ সভায় বসেছিল বাফুফের জাতীয় দল কমিটি।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ ও কোচের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সভা শেষে জাতীয় দল কমিটির সদস্য ও বাফুফের মিডিয়া কমিটির প্রধান আমিরুল ইসলাম বাবু সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। কোচ কাবরেরার সঙ্গে বাফুফের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ এপ্রিল।
তবে ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই চলতি মেয়াদে শেষবার ডাগআউটে দাঁড়ান কাবরেরা।
পুনরায় নির্বাচিত না হলে কাবরেরার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। কাবরেরাকে রাখা বা বাদ দেওয়ার প্রশ্নে আমিরুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আমরা এখন থেকেই নতুন কোচের সন্ধানে নামছি। নতুন কোচের ইন্টারভিউ নেব। প্রয়োজনে কাবরেরাও ইন্টারভিউ দিতে পারবেন। তারপর সিদ্ধান্ত নেবে কমিটি।’
বাফুফে কি তবে কাবরেরাকে নিয়েই ঘুরপাক খাচ্ছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বাবু বলেন, ‘বিষয়টা তেমন নয়। তাঁর সঙ্গে আরেক মাস চুক্তি আছে। তবে আমরা আরও ভালো কিছুর চেষ্টা করছি।’
দেশের ফুটবল মহলের একটি বড় অংশ অবশ্য কাবরেরার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা সময়ের কোচ তিনি। দীর্ঘ ৪ বছর ৩ মাস মেয়াদে দলের খেলার ধরনে উন্নতি এলেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি।
বিশেষ করে হামজা চৌধুরী ও শমিতদের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়েও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ায় সমালোচনা বেড়েছে।
সাক্ষাৎকার দিলে কাবরেরা কি বাড়তি সুবিধা পাবেন? এমন প্রশ্নের বিপরীতে বাবু বলেন, ‘আজ সভায় জাতীয় দল কমিটির সবাই ছিলেন। সর্বসম্মতিতে ঠিক হয়েছে আজ থেকেই আমরা কোচের সিভি নেব। ভালো কোচ পেলে তাকেই আমরা নেব। যেহেতু কাবরেরার মেয়াদ এখনো আছে, তাই তার ব্যাপারে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলব না।’
জাতীয় দল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন কোচকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে একজন নতুন গোলরক্ষক কোচও দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেবে বাফুফে।
কাবরেরার ওপর বাফুফে খুশি কি না, এমন প্রশ্ন সরাসরি এড়িয়ে গিয়ে বাবু জানান, ‘তিনি আবেদন করলে আগের কিছু বিবেচনা করা হবে না। নতুন করে আবেদন করতে হবে।’ উল্লেখ্য, ছুটিতে স্পেন যাওয়ার আগেই কাবরেরা আরও এক মেয়াদে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে গেছেন।
এদিকে, জাতীয় দল কমিটি আগামী ১-৯ জুন ফিফা উইন্ডো নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছে। এই উইন্ডোতে ম্যাচ খেলতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে অনূর্ধ্ব-২৩ দল গঠনের কাজও শুরু হবে এখন থেকে।
লিওনেল মেসি
আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসিকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় এই আয়োজনে আর্জেন্টাইন মহাতারকার অনুপস্থিতি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলেও এর পেছনে বড় কোনো বিতর্কের খবর নেই।
বরং সাম্প্রতিক ব্যস্ত সফরসূচি ও বিশ্রামের প্রয়োজনেই লন্ডনের অনুষ্ঠানে যাননি ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড।
ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর আয়োজনে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বসেছিল ব্যালন ডি’অরের এবারের আসর। তবে পুরস্কারটির ৭০তম বার্ষিকীর এই আয়োজনেও দেখা যায়নি মেসিকে।
সম্প্রতি স্পেনে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ডসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। সেখান থেকে যান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। ২৪ অক্টোবর নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ২-০ গোলের হারেও মাঠে নেমেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।
পরপর ভ্রমণের ধকলের পর আবার ইংল্যান্ডে যাওয়ার বদলে বিশ্রাম ও দলের ব্যস্ত সূচিকে গুরুত্ব দিয়েছেন মেসি। তাই এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি ছিল না।
ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল খেলোয়াড় মেসি। ক্যারিয়ারে ১৭ বার মনোনয়ন পেয়ে আটবার জিতেছেন এই পুরস্কার। ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালে তার হাতে উঠেছে সোনালি বল। এই পুরস্কার জয়ের সংখ্যায় তার ধারেকাছে নেই আর কেউ।
হ্যারি কেইন
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। স্পেনের লামিন ইয়ামাল ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জিতেছেন বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার।
অন্যদিকে, মেয়েদের বিভাগে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের তারকা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস।
সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে কেইনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ প্রতিবছর এই পুরস্কার দিয়ে থাকে। ৩৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ ফরোয়ার্ডের হাতে এবার ব্যালন ডি’অর তুলে দেন দুইবারের এই পুরস্কারজয়ী ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো।
কেইনের এই অর্জনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর পর বর্ষসেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পেলেন কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়। এর আগে সর্বশেষ ২০০১ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েন।
সব মিলিয়ে কেইন হলেন ব্যালন ডি’অরজয়ী পঞ্চম ইংলিশ ফুটবলার। এর আগে ১৯৫৬ সালে পুরস্কারটির প্রথম আসরে বিজয়ী হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস। এরপর ১৯৬৬ সালে স্যার ববি চার্লটন এবং ১৯৭৮ সালে কেভিন কিগান এই সম্মান অর্জন করেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো হ্যারি কেইনের নাম।
মেয়েদের ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের তারকা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। অনুষ্ঠানে তার নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন ২০০১ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মাইকেল ওয়েন। পুতেয়াসের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে অনুষ্ঠানস্থল।
বার্সেলোনার সাবেক এই মিডফিল্ডার এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে মেয়েদের ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। এবার তৃতীয়বারের মতো পুরস্কারটি জিতে নারী ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করলেন তিনি।
এক রাতে ফুটবল তারকাদের মিলনমেলা, আর পুরস্কারের মঞ্চে একের পর এক চমক। পুরুষদের ব্যালন ডি’অরে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে সেরার মুকুট জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। নারীদের বিভাগে তৃতীয়বারের মতো পুরস্কার জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন স্পেনের আলেক্সিয়া পুতেয়াস। তবে মূল পুরস্কারের বাইরেও ছিল একাধিক তারকার সাফল্যের গল্প। কে জিতলেন কোন পুরস্কার, জেনে নেওয়া যাক একনজরে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে লন্ডনে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঘোষণা করা হয় ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীদের নাম। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকারের হাতে উঠেছে পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফিও।
২০২৫-২৬ মৌসুমে গোলের সামনে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতাই কেইনকে এনে দিয়েছে এই স্বীকৃতি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে ৬১ গোল করেন তিনি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে তার গোল ১৯টি বেশি। এক মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে কোনো খেলোয়াড়ের ৬১ গোলের কীর্তি এর আগে দেখা গিয়েছিল ২০১৪-১৫ মৌসুমে, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কাছ থেকে।
ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে কেইনের গোলসংখ্যা ছিল ৭৩। জাতীয় দলের হয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তার গোল করার অসাধারণ দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফিও উঠেছে তার হাতে।
পুরস্কার ঘোষণার আগে ব্যালন ডি’অরের ওয়েবসাইটে কেইন, এমবাপ্পে ও ইয়ামালকে বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করে আলাদা নিবন্ধ প্রকাশ করা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। পরে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক আয়োজনে পুরুষদের মূল পুরস্কার জেতেন কেইন।
পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থানে জায়গা পেয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। চতুর্থ হয়েছেন রদ্রি, আর পঞ্চম স্থানে ছিলেন লিওনেল মেসি।
মূল পুরস্কার না জিতলেও ইয়ামালের হাতে উঠেছে কোপা ট্রফি। টানা তৃতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-২১ বয়সী সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেলেন স্পেনের এই তরুণ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪ গোল করার পাশাপাশি ১৭টি গোলে সহায়তা করেন তিনি। বার্সেলোনার লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।
পুরস্কার গ্রহণের পর ইয়ামাল সতীর্থ পাউ কুবারসির প্রশংসা করেন। তার মতে, এই পুরস্কারটি কুবারসিরও প্রাপ্য ছিল। বিশ্বকাপে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন স্পেনের এই ডিফেন্ডার।
পুরুষদের বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার অধীনেই বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। জাতীয় দলের সাফল্যে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষণভাগের সাফল্যের স্বীকৃতি পেয়েছেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। পুরুষদের ইয়াশিন ট্রফি জিতেছেন তিনি। টুর্নামেন্টে স্পেনের আট ম্যাচে মাত্র এক গোল হজম করেন এই গোলরক্ষক।
নারীদের ব্যালন ডি’অর জিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই পুরস্কার জিতলেন স্পেনের এই তারকা। এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে টানা দুইবার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন তিনি। পরে আইতানা বোনমাতিও তিনবার এই পুরস্কার জেতেন।
বার্সেলোনার সাবেক অধিনায়ক পুতেয়াস বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব লন্ডন সিটি লায়নেসের হয়ে খেলছেন। দীর্ঘদিনের সাফল্য ও ব্যক্তিগত অর্জনের ধারাবাহিকতায় তৃতীয়বারের মতো নারী ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই স্বীকৃতি পেলেন তিনি।
নারীদের বর্ষসেরা কোচ হয়েছেন বার্সেলোনার পেরে রোমেউ। তার অধীনে লিগে ৩০ ম্যাচের মধ্যে ২৯টিতে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। দলটির গোল ব্যবধান ছিল ১২১। নারী গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরা হয়েছেন বার্সেলোনার কাতা কোল। লিগে ১৭ ম্যাচে মাত্র ছয় গোল হজম করার পাশাপাশি ১১টি ম্যাচে ক্লিনশিট রেখেছেন তিনি।
নারী বিভাগে বর্ষসেরা ক্লাবের পুরস্কারও জিতেছে বার্সেলোনা। পুরুষ বিভাগে এই স্বীকৃতি পেয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের পর ফরাসি ক্লাবটির হাতে উঠেছে পুরস্কারটি।
পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফি জিতে কেইন নিজের সাফল্যের ঝুলিতে যোগ করেছেন আরও একটি পুরস্কার। নারীদের বিভাগে এই ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়েছেন মেক্সিকো ও পাচুকার স্ট্রাইকার চার্লিন কোরাল। ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি জেতা প্রথম মেক্সিকান খেলোয়াড় তিনি।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের বিজয়ীদের তালিকা
পুরুষদের ব্যালন ডি’অর: হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ/ইংল্যান্ড)
নারীদের ব্যালন ডি’অর: আলেক্সিয়া পুতেয়াস (বার্সেলোনা/স্পেন)
পুরুষদের জোহান ক্রুইফ ট্রফি: লুইস দে লা ফুয়েন্তে (স্পেন)
নারীদের জোহান ক্রুইফ ট্রফি: পেরে রোমেউ (বার্সেলোনা)
পুরুষদের কোপা ট্রফি: লামিন ইয়ামাল (বার্সেলোনা/স্পেন)
নারীদের কোপা ট্রফি: ভিকি লোপেজ (বার্সেলোনা/স্পেন)
পুরুষদের ইয়াশিন ট্রফি: উনাই সিমন (অ্যাথলেটিক ক্লাব/স্পেন)
পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফি: হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ/ইংল্যান্ড)
নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি: চার্লিন কোরাল (পাচুকা/মেক্সিকো)
ছবি: সংগৃহীত
মোহাম্মদ আশরাফুল
গতকাল সকালে অনুশীলনের সময়ই আঁচ করতে পেরেছিলেন, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। একাডেমি মাঠে এক সহকর্মীর কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণেই এমন মনে হওয়া। কিন্তু ঠিক কী ঘটতে যাচ্ছে, মোহাম্মদ আশরাফুল ভেবে পাচ্ছিলেন না। সন্ধ্যার পর আর ভাবতে হয়নি। বিসিবি থেকে ক্রিকেট পরিচালনা ব্যবস্থাপক শাহরিয়ার নাফীসের ফোন। সারমর্ম- ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকেই আশরাফুল আর জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ নন।
নতুন বিদেশি কোচ খোঁজা হচ্ছে। আশরাফুলকে শিগগিরই নতুন দায়িত্ব জানিয়ে দেওয়া হবে। আশরাফুল বিস্মিত হয়েছেন।
২৮ অক্টোবর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু, তার ঠিক আগমুহূর্তে বিসিবি এই সিদ্ধান্ত নিল! আর তাঁর ব্যাটিং কোচ থাকার সময়ে তো টেস্টে বাংলাদেশ ভালোই করছে। আশরাফুল দায়িত্বটা নেন গত বছর ১ নভেম্বর, আমিনুল ইসলাম বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর। তার আগে আশরাফুলের ছেড়ে দেওয়া কাউন্সিলরশিপ নিয়ে আমিনুল বিসিবি সভাপতি হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল আশরাফুলের ব্যাটিং কোচ হওয়াটা তাঁর প্রতি আমিনুলের একধরনের ‘কৃতজ্ঞতা প্রকাশ’ নয় তো!
সেই প্রশ্ন বেশি গভীরে যেতে পারেনি বাংলাদেশ দল ভালো খেলায়, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। আশরাফুল দায়িত্ব নেওয়ার পর ৮টি টেস্ট খেলে ৫টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ, ড্র একটিতে, হারও মাত্র একটিতে। এই সময়ে বাংলাদেশ ১৪টি ওয়ানডে খেলেছে, ১১টি টি-টুয়েন্টি; যদিও এশিয়ান গেমসের দুই ম্যাচে তিনি দলের সঙ্গে ছিলেন না।
অন্য দুই সংস্করণ বাদ দিয়ে টেস্টের সঙ্গেই আশরাফুলের বেশি হিসাব মেলানো স্বাভাবিক, কারণ তাঁকে বিদায় করা হলো একটা টেস্ট সিরিজের চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময়, যে টেস্ট সংস্করণে তাঁর সময়ে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স এককথায় দুর্দান্ত। তা ছাড়া বিদেশি কোচও তো এখনো ঠিক হয়নি। নতুন কোচ পাওয়া পর্যন্ত তো তিনি দায়িত্ব চালিয়ে যেতেই পারতেন।
আশরাফুলের ভাবনা একরকম, বিসিবির আরেক রকম। বিসিবি মনে করে, জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বটা একটু অপরিণত অবস্থাতেই পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। বয়সভিত্তিক, একাডেমি বা হাইপারফরম্যান্স পর্যায়ে কোচিং করিয়ে জাতীয় দলের সিঁড়ি ধরলে ব্যাটসম্যানরা যেমন তাঁর মাধ্যমে আরও বেশি উপকৃত হতেন এবং তাঁর ওপর আরও বেশি আস্থা রাখতে পারতেন; তেমনি আশরাফুলও তাঁদের কোচিং করানোটা আরও বেশি উপভোগ করতেন। এখন ব্যাটসম্যানরা হয়তো নেটে তাঁর সঙ্গ উপভোগ করেন, কিন্তু খুব বেশি টেকনিক্যাল বিষয়ে আশরাফুলের শরণাপন্ন হন না।
নতুন ব্যাটিং কোচ পাওয়ার আগপর্যন্ত তাই দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ সালাহউদ্দীনকে, যাঁকে এর আগে জাতীয় দলের সহকারী কোচের পদ থেকে সরিয়ে হাই পারফরম্যান্স বিভাগের প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
বিসিবির ভাবনার সমান্তরালে এটাও ঠিক- ক্রিকেটারদের অনেকে আশরাফুলের সঙ্গে কাজ করাটা উপভোগ করতেন। গত অস্ট্রেলিয়া সফরেও সেটি দেখা গেছে।
বিশেষ করে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা, বড় বড় বোলারদের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে ব্যাটিং করা; এসবকে গুরুত্ব দিতেন ব্যাটসম্যানরা। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অন্য কোনো ব্যাটিং কোচের নেই।
দায়িত্ব হারানোর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আশরাফুল অবশ্য বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করেছেন। বিসিবি নতুন দায়িত্ব দিলে সেটিও আনন্দের সঙ্গে পালন করবেন বলে জানিয়েছেন এই প্রতিবেদককে, ‘এটা পুরোপুরি ক্রিকেট বোর্ডের হাতে, তাদের সিদ্ধান্ত। বোর্ড চাইলে আমাকে অন্য জায়গায়ও কাজে লাগাতে পারবে। যে দায়িত্বই দেয়, আমি তা পালন করব।’
আজ বিকেলে এক অনুষ্ঠানে বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের তিনি এ-ও বলেছেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে এক দিন কাজ করতে পারাও অনেক বড় ব্যাপার, সেখানে আমি তো ১১ মাস কাজ করেছি।’
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হয়েছিল হুট করে আশরাফুলকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ।
আশরাফুলের সাবেক এই সতীর্থ মূল প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও বলেছেন, ‘আমরা আসলে জাতীয় দলের জন্য ভালো এবং নামী বিদেশি ব্যাটিং কোচ খুঁজছি। সে রকম দু-একজনের সঙ্গে আমাদের কথাবার্তাও চলছে। আশরাফুল ভাইকে আমরা নতুন দায়িত্ব দেব।’
৩১ জানুয়ারির পর চুক্তি নবায়ন করে আশরাফুলকে অন্য দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বোর্ডের আরেক কর্মকর্তাও, ‘মোহাম্মদ আশরাফুল প্রায় এক বছর ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতার অপচয় আমরা কেন করব? জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে হয়তো উনি একটু আগে চলে এসেছেন; তবে তাঁর ওয়ার্ক এথিকস ভালো। আমরা তাঁকে তাঁর উপযোগী জায়গাতেই কাজে লাগাব।’
নতুন ব্যাটিং কোচ কে হতে যাচ্ছেন- এই প্রশ্নে স্বাভাবিকভাবেই আপাতত নীরব তামিম ইকবাল। শুধু বলেছেন, ‘কয়েকজনের সঙ্গে কথা হচ্ছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই সময়ে ভালো কোচ পাওয়া কঠিন। কেউ লম্বা সময়ের জন্য এখানে আসতে চান না। তবে আমাদের ইচ্ছা লম্বা সময়ের জন্যই কাউকে নেওয়ার।’
সূত্র জানিয়েছে, নতুন ব্যাটিং কোচ হিসেবে বিসিবি যাঁদের সঙ্গে কথা চালিয়ে যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা।
ফিফা অ-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে আজ বাংলাদেশের দুই ম্যাচ। পর্তুগালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে লিড নিয়েও ৩-১ গোল ব্যবধানে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া। আর গতকাল ইউরোপের আরেক দল ওয়েলসের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল বাংলাদেশ।ফিফা প্রথমবারের মতো অ-১৫ পর্যায়ে ফেস্টিভ্যালকে বৈশ্বিক রূপ প্রদান করেছে। ১৯১ দেশ ৩২ গ্রুপে খেলছে। বিশ মিনিট করে মোট ৪০ মিনিটের এইট-এ-সাইড ম্যাচ।
বাংলাদেশ আজ ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে বায়েজিদের গোলে লিড নেয়। রোনালদোর দেশের বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচের শুরুতেই গোল করে আশা সঞ্চার করেছিল। যদিও ম্যাচের পরবর্তী সময়ে কিছু ভুল ও পতুর্গালের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি।
২০২৪ সালের শেষ দিকে অ-১৫ জাতীয় চ্যাম্পিনশিপ শুরু করেছিল বাফুফে। দেশজুড়ে সেই টুর্নামেন্ট হওয়ার পর বাফুফে সেখান থেকে মেধাবী ফুটবলারদের বাছাই করে। ঐ বাছাইকৃত ফুটবলাররা ক্যাম্প করেন। এরপর আরেকটি ওপেন ট্রায়ালের মাধ্যমে অ-১৫ দল গঠন হয়।সেই মাস দু’য়েকের বেশি অনুশীলন করে আজারবাইজানে বিশ্বকাপ খেলতে গেছে। বাংলাদেশের চেয়ে ওয়েলস-পর্তুগাল ফুটবলে অনেক এগিয়ে। ইউরোপের এই দুই দেশের বিপক্ষে ড্র ও এগিয়ে থেকে হার অনেকটাই ইতিবাচক।