ভোটের লড়াইয়ে নামার আগেই এবার বিসিবি পরিচালক হওয়া নিশ্চিত ৮ জনের। তাদের মধ্যে ৭ জনই ক্যাটেগরি-১ বা আঞ্চলিক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি। ক্যাটেগরি-৩ তথা সাবেক অধিনায়ক, ক্রিকেটার ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থা থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হয়ে গেছেন আরেকজন। বিসিবি নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রত্যাহারের সময় শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয় সোমবার দুপুরে।
ক্যাটেগরি-১ থেকে ভোটের লড়াই হয়ে স্রেফ দুটি বিভাগে। ভোটের মূল লড়াই এবার থাকছে ক্যাটেগরি-২ বা ক্লাব ক্যাটেগরিতে, যেখানে ১২টি পরিচালক পদে লড়বেন ১৬ জন। বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল লড়বেন এই ক্লাব ক্যাটেগরিতেই।
গত অক্টোবরে বিসিবির সবশেষ নির্বাচনে ভোটের আগে পরিচালক হওয়া নিশ্চিত হয়েছিল ৯ জনের। ক্লাব প্রতিনিধিদের ১২টি পদে প্রার্থী ছিলেন ১৫ জন।
প্রার্থীতা প্রত্যাহারের দিনে চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর শরীফুল ইসলাম (অপু)। এই বিভাগ থেকে তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হয়ে যান চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিল, সাবেক জাতীয় অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও লক্ষীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর মঈন উদ্দিন চৌধুরী।
এছাড়াও ক্যাটেগরি-১ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হয়ে গেছেন ঢাকা বিভাগ থেকে ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাইদ বিন জামান ও জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার এস.এম. আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, সিলেট বিভাগ থেকে সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাজশাহী বিভাগ থেকে বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং রংপুর বিভাগ থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা ক্রীড়া সংস্থার মির্জা ফয়সাল আমীন।
ক্যাটেগরি-৩ থেকে একমাত্র প্রাথী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সিরাজউদ্দিন মোঃ আলমগীর। চট্টগ্রামের এই সংগঠক প্রথমবার বিসিবি পরিচালক হয়েছিলেন ২০০৫ সালে। নাজমুল হাসান (পাপন) প্রথম দফায় সভাপতি থাকার সময়ও পরিচালক ছিলেন তিনি।
বিসিবি নির্বাচনে ক্যাটেগরি-১ থেকে পরিচালক পদ ১০টি, ক্যাটেগরি-২ থেকে ১২টি ও ক্যাটেগরি-৩ থেকে ১টি। এছাড়াও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সরাসরি মনোনয়নে পরিচালক হন দুজন।১ নম্বর ক্যাটেগরিতে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ থেকে পরিচালক পদ দুটি করে, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগ থেকে একটি করে। ৫ বিভাগে ৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হয়ে যাওয়ায় ভোট হবে শুধু দুটি বিভাগে।
খুলনা বিভাগে দুটি পরিচালক পদের লড়াইয়ে থাকছেন তিনজন- খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার মোঃ শফিকুল আলম, যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার শান্তনু ইসলাম ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার মোঃ আব্দুছ সালাম। বরিশাল বিভাগে একটি পদের লড়াইয়ে আছেন দুজন- বরিশাল বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার মোঃ মিজানুর রহমান ও ভোলা জেলা ক্রীড়া সংস্থার মোঃ মুনতাসির আলম চৌধুরী।
ক্যাটেগরি-২ থেকে ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন ফাহিম সিন্হা (আবাহনী লিমিটেড), মাসুদুজ্জামান (মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব), আসিফ রব্বানী (শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব), ফৈয়াজুর রহমান (উত্তরা ক্রিকেট ক্লাব), ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক (বসুন্ধরা রাইডার্স), তামিম ইকবাল খান (ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাব), মোহাম্মাদ আমজাদ হোসেন (ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্স), মির্জা ইয়াসির আব্বাস (আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব), ইসরাফিল খসরু (এক্সিউম ক্রিকেটার্স), মোঃ রফিকুল ইসলাম বাবু (ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র), প্রফেসর ডাঃ সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম (ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব), শানিয়ান তানিম নাভিন (ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাব), সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ (ফেয়ার ফাইটার্স স্পোর্টিং ক্লাব), সৈয়দ বোরহানুল হোসেন (তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমি), সাকিব আহমেদ সালাম (পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাব), মেজর ইমরোজ আহমেদ (অবঃ)(কাঁঠালবাগান গ্রীন ক্রিসেন্ট ক্লাব)।
এই প্রার্থীদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে বিসিবির গত পরিচালনা পর্ষদেও ছিলেন ফৈয়াজুর রহমান, ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, আমজাদ হোসেন ও শানিয়ান তানিম নাভিন। তবে পরে নানা সময়ে তারা পদত্যাগ করেন। মেজর ইমরোজ আহমেদও প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু নানা অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ান শেষ সময়ে।
এবারের বিসিবি নির্বাচনে কাউন্সিলর বা ভোটার মোট ১৮৪ জন। তাদের মধ্যে ১ নম্বর ক্যাটেগরির ভোটার ৬৬ জন, ২ নম্বর ক্যাটেগরি ৭৬ ও ৩ নম্বর ক্যাটেগরির ৪২ জন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা নির্বাচিত হয়েছে এবং এখনও যারা প্রার্থী আছেন, তাদের মধ্যে বেশ কজনই সরকারী দল বিএনপি সংশ্লিষ্ট বা ঘনিষ্ঠ। রংপুর বিভাগ থেকে নির্বাচিত পরিচালক মির্জা ফয়সল আমীন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের ভাই। এই মন্ত্রণালয়েরই প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া–২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত পরিচালক হয়ে গেছেন রাজশাহী বিভাগ থেকে।
সিলেট বিভাগের পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি। বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ছেলে সাইদ বিন জামান পরিচালক হয়ে গেছেন ঢাকা বিভাগ থেকে। পানিসম্পদমন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর চাচা মঈন উদ্দিন চৌধুরী পরিচালক হয়েছেন চট্টগ্রাম থেকে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও যশোর–৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলামের ভাই শান্তনু ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন খুলনা বিভাগ থেকে।
ক্লাব ক্যাটেগরিতে প্রার্থীদের মধ্যে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদের বাবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইসরাফুল খসরুর বাবা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মির্জা ইয়াসির আব্বাসের বাবা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। এই তিনজনই বর্তমানে বোর্ডের অ্যাডহক কমিটিতে আছেন।
আগামী ৭ জুন হবে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন। ২৫ পরিচালকের ভোটে পরে নির্বাচিত হবেন বিসিবি সভাপতি।
আট মাসের মধ্যে বোর্ডের দ্বিতীয় নির্বাচন এটি। গত ৬ অক্টোবর নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব নিয়েছিল একটি পরিচালনা পর্ষদ এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের নানা অভিযোগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী। পরে সেসব অভিযাগ খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৭ এপ্রিল আমিনুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
ওই কমিটি বাদ দিয়ে ১১ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করে ক্রীড়া পরিষদ, যেটির প্রধান হয় তামিম ইকবালকে। তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে বলা হয় কমিটিকে। সেই নির্বাচন হয়ে যাচ্ছে দুই মাসের মধ্যেই।
এবারের বিসিবি নির্বাচনে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম। কমিশনের বাকি দুই সদস্য গাজীপুর মহানগরের পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবং উপ সচিব এ বি এম এহসানুল মামুন।
ফুটবলার কাভান সুলিভান
মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ফুটবলার কাভান সুলিভান। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই ফরোয়ার্ড এবার এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম টিনেজার হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলে সরাসরি অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন। রোববার সিএফ মন্ট্রিলের বিপক্ষে ফিলাডেলফিয়ার ২-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেন ১৬ বছর বয়সী কাভান।
দলের হয়ে ৫৭ মিনিটে ড্যানলে জিন জ্যাকেস গোল করার পর ৭৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুলিভান। কাভানের গোলটি আসে দারুণ ফিনিশিংয়ে। বক্সের ভেতর সতীর্থের শটের পর বলের গতিপথ বুঝে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি। একাধিক প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে এক শটেই বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড।
এই গোলের ফলে চলতি মৌসুমে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে কাভানের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটি। এর সঙ্গে রয়েছে সাতটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ মাত্র ১৬ বছর বয়সেই চলতি মৌসুমে ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।
এমএলএসে ১৬ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে এক মৌসুমে গোলে অবদানের নতুন রেকর্ডও এখন কাভানের। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সাবেক মার্কিন তারকা ফ্রেডি আদুর দখলে। ২০০৫ সালে ১৬ বছর বয়সে চার গোল ও ছয় অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন আদু।
এর আগে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখার সময়ও রেকর্ড গড়েছিলেন কাভান। ১৬ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে তিনি এমএলএসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখেন। এবার সেই কীর্তিকে আরও এক ম্যাচ বাড়িয়ে পাঁচে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই এমন পারফরম্যান্সে কাভানকে ঘিরে পুরো এমএলএসেই প্রত্যাশা বাড়ছে।
নেইমার জুনিয়র
চোটের দুর্ভাগ্য যেন পিছুই ছাড়ছে না ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা নেইমার জুনিয়রের। ডান উরুর পেশিতে চোট পাওয়ায় চার থেকে আট সপ্তাহ (প্রায় দুই মাস) মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে। ব্রাজিলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত বৃহস্পতিবার কোপা দো ব্রাজিলের ম্যাচে পালমেইরাসের বিপক্ষে খেলার সময় উরুতে অস্বস্তি অনুভব করেন নেইমার। পরদিন মেডিকেল পরীক্ষায় তার ডান উরুর রেক্টাস ফেমোরিস পেশিতে টাইপ ২বি চোট ধরা পড়ে। এই ধরণের ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগে।
সান্তোসে ফেরার পর থেকেই ঘন ঘন ইনজুরিতে পড়ছেন নেইমার। গত বছরের জানুয়ারিতে শৈশবের ক্লাবে ফেরার পর থেকে বাম উরু, একই ডান রেক্টাস ফেমোরিস, বাম হাঁটুর মেনিস্কাস এবং ডান কাফে একাধিকবার চোটে পড়েছেন তিনি। সবশেষ চোটের আগে ও বিশ্বকাপ চলাকালীনও কাফের সমস্যায় ভুগেছিলেন।
সান্তোস কর্তৃপক্ষের জন্য বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, চোট পাওয়ার পর কখনই দ্রুত মাঠে ফিরতে পারেননি নেইমার; বরং বেশিরভাগ সময়ই তাঁকে সর্বোচ্চ অনুমিত সময়ের চেয়েও বেশিদিন মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে। তাই এবারও দলের প্রাণভোমরার চিকিৎসায় কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না ক্লাবটি।
ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রেলিগেশন বা অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা সান্তোসের জন্য এটি বিশাল ধাক্কা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইন্টারন্যাসিওনালের বিরুদ্ধে পরবর্তী লিগ ম্যাচ ছাড়াও কোপা সুদামেরিকানার কোয়ার্টার ফাইনালেও দলের সেরা তারকাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে ক্লাবটিকে।
এদিকে পালমেইরাসের বিপক্ষে ম্যাচে নেইমারের পাশাপাশি আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারিয়েছে সান্তোস। ডান গোড়ালির মচকে যাওয়ার কারণে ইন্টারন্যাসিওনালের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না ডিফেন্ডার লুকাস ভেরিসিমো। আরেক ফরোয়ার্ড আলভারো বারেয়ালের বাম উরুর বাইসেপস ফেমোরিস পেশিতে টাইপ ২এ টিয়ার ধরা পড়েছে।
টানা দুই ম্যাচে হারের পর এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ। তবে সেই ম্যাচে ডাগআউটে থাকছেন না কোচ জেরার্ড জোন্স। সিরিয়ার কাছে বড় হারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্রিটিশ এই কোচের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
বৃহস্পতিবার তাসখন্দে বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছেও ২-০ গোলে হেরেছিল ইয়াং টাইগার্সরা। দুই ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না পাওয়ার পর জোন্সকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাফুফে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাকে ই-মেইল পাঠিয়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফেডারেশন। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার আজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জোন্সের জায়গায় সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু এখন গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে ডাগ আউটে থাকবেন। এমনিতে জোন্সের আচার আচরণ নিয়ে বাফুফে বেজায় অসন্তুষ্ট ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অহেতুক নেতিবাচক কথাবার্তা বিপাকে ফেলেছিল।
জোন্সের বিদায়ের পর গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু। এ বিষয়ে দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেম ও বাফুফের পক্ষ থেকে মিশুকে জানানো হয়েছে। উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ দলের অবস্থান করা হোটেল থেকেও জোন্সকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জোন্সের বকেয়া ও অন্যান্য আর্থিক পাওনা পরিশোধ করবে বাফুফে। পাশাপাশি নিজের পছন্দের গন্তব্যে ফেরার জন্য তার বিমান টিকিটের ব্যবস্থাও করবে ফেডারেশন।
যুব দলের দায়িত্বে জোন্সকে নিয়োগের পর থেকেই তাকে ঘিরে নানা জটিলতায় পড়েছিল বাফুফে। বেতন নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে তার সম্পর্কেরও অবনতি ঘটে। ঢাকায় দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানা যায়। এমনকি উজবেকিস্তানে মিশুকে দলের সঙ্গে না নেওয়ার ব্যাপারে জোন্স অনড় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বাফুফের মধ্যস্থতায় দুজনই উজবেকিস্তানে যান। তবে জোন্সের আপত্তির কারণে মিশু প্রথম দুই ম্যাচে ডাগআউটে থাকতে পারেননি। সিরিয়ার বিপক্ষে হারের পর অবশ্য জোন্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল ফেডারেশন।
ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে দায়িত্ব পাওয়ার পর মিশু বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ সব সময়ই মর্যাদার। আমাদের জন্য টুর্নামেন্ট প্রায় শেষই। গাণিতিক কিছু সম্ভাবনা রয়েছে যদিও। আমরা ভারতের বিপক্ষে তিন পয়েন্টের জন্য খেলব।’
আজ রিকভারি সেশন করবে বাংলাদেশ। উজবেকিস্তান সময় বিকেল ৪টায় আতিকুর রহমান মিশুর অধীনে অনুশীলনে নামবে দলটি। ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শেষ হবে বাংলাদেশের বাছাইপর্বের অভিযান।
ছবি : সংগৃহীত
শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা থেকে সরেই গেল মেয়েদের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। ২০২৭ সালে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের আয়োজক হবে ভারত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে এই তথ্য। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ছয় দল ও ভেন্যুর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী বছর প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হওয়ার কথা ছিল শ্রীলঙ্কায়। কিন্তু সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) হারিয়েছে আয়োজকস্বত্ব। তবু টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে থাকছে শ্রীলঙ্কা। কারণ, নারী টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম ছয় দল অংশ নেবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। ৬ জুলাই কাট অফ ডেটে র্যাঙ্কিংয়ের ছয় নম্বরে ছিল বলেই লঙ্কানরা থাকছে এই টুর্নামেন্টে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশগ্রহণ করা অন্য পাঁচ দল হলো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রায় দুই মাস আগের আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছিল আট ও দশ নম্বরে।
এমনকি নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হতে পারত বাংলাদেশেই। কিন্তু আইসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত—এই তিন দেশ মূল্যায়ন করা হয়েছে। গত পরশু আইসিসি বোর্ড ভারতকে আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে। বিবৃতিতে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান জয় শাহ বলেন, ‘২০২৭ নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য রোমাঞ্চকর এক নতুন অধ্যায়ের শুরু করবে। প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের সেরা দলগুলোকে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উচ্চমানের একটি প্রতিযোগিতা উপহার দিতে পারবে।’
আগামী বছরের ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতে হবে নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম মৌসুম। মুম্বাইয়ের ব্র্যাবোর্নের ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়া, ভাদোদারা—এই দুই ভেন্যুতে হবে আইসিসির এই ইভেন্ট। ব্র্যাবোর্নে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় ভারতীয় নারী দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল। ২০২৩ সালে স্টেডিয়ামটি নারী প্রিমিয়ার লিগের (ডব্লুপিএল) প্রথম মৌসুম আয়োজন করেছিল। ২০২৫ ডব্লুপিএলেও এখানে কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ভাদোদারাতেও ডব্লুপিএলের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আইসিসি রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ করা কোনো প্রশাসনকে স্বীকৃতি দেয় না। রূপান্তরকরণ কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসএলসির প্রতিনিধিরা আইসিসির বোর্ড সভাগুলোতেও অংশ নিচ্ছেন না। এই কমিটি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বোর্ডের নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। অথচ এই নির্বাচনী ব্যবস্থাই সংস্কার করা এবং সামগ্রিকভাবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সংবিধান সংশোধন করাই ট্রান্সফরমেশন কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দেশটির আইন অনুযায়ী এসব পরিবর্তন কেবল সংসদের মাধ্যমে করা সম্ভব।
তিন বছরের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার শ্রীলঙ্কা কোনো আইসিসি ইভেন্টের আয়োজনের অধিকার হারাল। ২০২৩ সালে বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ২০২৪ সালে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও শ্রীলঙ্কা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেটি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়।
আয়োজকস্বত্ব হারানোর সঙ্গে সঙ্গে নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকেও বাদ পড়ার উপক্রম হয়েছিল শ্রীলঙ্কার। কারণ, ৩০ আগস্টের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ছয় ও সাত নম্বরে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কা। গতকাল হালনাগাদের পর এক ধাপ এগিয়ে শ্রীলঙ্কা ছয়ে উঠে এসেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ নেমে গেছে সাত নম্বরে। যদিও দুই জনেরই সমান ২৩১ রেটিং পয়েন্ট। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এবারও আট ও দশ নম্বরে অবস্থান করছে।
লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন। হাতে লেখা আবেগঘন বার্তা ও ভিডিওর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনেছেন রোজারিওর মহাতারকা।
তবে মেসির বিদায়ের সঙ্গে নতুন একটি প্রশ্নও সামনে এসেছে, আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি এবার কার গায়ে উঠবে?
২০০৯ সালের ২৮ মার্চ ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবার আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন মেসি। সেদিন ৪-০ গোলের জয়ে জাতীয় দলের হয়ে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হয় তার। এরপর প্রায় দুই দশক ধরে ১০ নম্বর জার্সি মানেই হয়ে উঠেছিল মেসি।
মেসির বিদায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই সেই জার্সির উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অবশ্য তার অনুপস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন ফুটবলারকে ১০ নম্বর পরে মাঠে নামতে দেখা গেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইকুয়েডরের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে মেসির অনুপস্থিতিতে ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এর আগে উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে এই জার্সি গায়ে খেলেছেন আনহেল কোরেয়া। ব্রাজিলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৪-১ গোলের বড় জয়েও ১০ নম্বর ছিল তার গায়ে। চিলির বিপক্ষে ম্যাচে এই জার্সি পরেছিলেন পাওলো দিবালা।
তবে মজার বিষয়, এদের কেউই ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত দলে ছিলেন না। ফলে মেসির স্থায়ী উত্তরসূরি হিসেবে কারও নাম এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
আর্জেন্টিনা দলে নিয়মিত থাকা কয়েকজন অবশ্য ক্লাব পর্যায়ে ১০ নম্বর জার্সির সঙ্গে পরিচিত। ইন্টার মিলানের লাউতারো মার্তিনেজ, লিভারপুলের অ্যালেক্সিস ম্যাকআলিস্টার ও কোমোর নিকোলাস পাজ। তিনজনই ক্লাব ফুটবলে ১০ নম্বর পরে খেলেছেন।
এ ছাড়া রদ্রিগো ডি পল রেসিং ও উদিনেজেতে ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন। বোকা জুনিয়র্সে এই নম্বরে খেলেছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। থিয়াগো আলমাদা ভেলেস সার্সফিল্ড ও আটলান্টা ইউনাইটেডে ১০ নম্বর পরেছেন। রোসারিও সেন্ট্রালে জিওভানি লো সেলসো এবং আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স ও ফিওরেন্তিনায় নিকোলাস গঞ্জালেসের গায়েও ছিল এই জার্সি।
তবে জাতীয় দলের ১০ নম্বর আর ক্লাবের ১০ নম্বর এক বিষয় নয়। মেসির দীর্ঘ ছায়া পেরিয়ে এই জার্সি নেওয়ার সঙ্গে বাড়তি চাপ ও প্রত্যাশাও থাকবে। তাই নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে ভাবতে হবে বেশ কয়েকটি দিক।
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পরবর্তী ফিফা উইন্ডোতেই মিলতে পারে প্রথম ইঙ্গিত। মেসির পর আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি শেষ পর্যন্ত কার গায়ে ওঠে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
ছবি : সংগৃহীত
নারী এশিয়া কাপে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বল হাতে নাহিদা আক্তারের দারুণ স্পেলের সঙ্গে মারুফা আক্তারের কার্যকর বোলিংয়ে মাত্র ৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া।
বাংলাদেশের দেয়া ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা বেশ আগ্রাসী ছিল ইন্দোনেশিয়ার। ওপেনার মারিয়া ও প্যাঙ্গেসতুতির ব্যাটিংয়ে প্রথম দিকে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে হয় বাংলাদেশকে।
তবে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। মারুফা আক্তারের পরপর দুই আঘাতে ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামে। এরপর মেঘলা, নাহিদা ও ফাহিমাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি প্রতিপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ১২ রান করেন ওপেনার মারিয়া। শেষ পর্যন্ত ১৭.৩ ওভারে ৫৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় দলটি।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল নাহিদা আক্তার। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। মারুফা আক্তার পান ২ উইকেট।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুইাবয়ে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল ইন্দোনেশিয়া। শুরুতেই ১৬ রানে জুয়াইরিয়া ফেরার পর দলের হাল ধরেন দিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি।
দুজন মিলে যোগ করেন ৪০ রান। ২৭ রান করে দিলারা ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। এরপর সোবহানা এগিয়ে নেন ইনিংস। ৪২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৪০ রান করে তিনিই হন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক।
শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ঝোড়ো ব্যাটিং বাংলাদেশকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয়। মাত্র ১৮ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৩১ রান করেন তিনি।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান তোলে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার হয়ে আরিয়ানি নেন ৩ উইকেট। ৭১ রানের বড় জয়ে এশিয়া কাপের অভিযান শুরু হলো বাংলাদেশের। আগামী রোববার একই মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজের দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৯/৮
সোবহানা ৪০, স্বর্ণা ৩১*, দিলারা ২৭; আরিয়ানি ৩/২৮।
ইন্দোনেশিয়া: ১৭.৩ ওভারে ৫৮/১০
মারিয়া ১২, প্যাঙ্গেসতুতি ৯; নাহিদা ৩/১৫, মারুফা ২/৬।
ফল: বাংলাদেশ ৭১ রানে জয়ী।