হকি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করল নিউজিল্যান্ডকে
নেদারল্যান্ডসের ওয়াজেনার স্টেডিয়ামে হকি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করল নিউজিল্যান্ডকে।
গতকাল (২০ আগস্ট) ২০২৬ এফআইএইচ হকি বিশ্বকাপের পুল ‘এ’-র এই ম্যাচে জয়ী হয়ে পরের ধাপে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ১২ মিনিটে কেন রাসেলের গোলে ১-০ লিড নেয় তারা।
এরপর শুরু হয় আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ। তবে প্রথম কোয়ার্টার শেষে ব্যবধান ধরে রাখে নিউজিল্যান্ড। তবে পরের তিন কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার আক্রমণের সামনে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ড। একের পর এক আক্রমণে নিউজিল্যান্ডকে কোণঠাসা করে রাখে।
নিউজিল্যান্ডের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে একের পর এক আক্রমণ শানায়। ম্যাচে পেনাল্টি কর্নার ও ফিল্ড গোল-দুই ক্ষেত্রেই দুর্দান্ত দক্ষতা দেখান আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। চারটি ফিল্ড গোলের পাশাপাশি দুটি পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল এবং একটি পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ২৬ মিনিট ৩ সেকেন্ডে স্কট বয়েডের গোলে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা। এরপর ৩৮ মিনিট ২১ সেকেন্ডে বাউতিস্তা কাপুরোর গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। আর্জেন্টিনার হয়ে হ্যাটট্রিক করেন ডমিনি থমাস। বাউতিস্তা কাপুরো করেছেন জোড়া গোল। একটি করে গোল করেছেন তাদেও মারকুচি ও নিকোলাস কিনান।
প্রথম ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। তবে পরে ম্যাচেই শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের কাছে ১-৩ গোলে হেরে যায়। গতকালের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিল লস লিওনেস খ্যাত দলটি।
দুর্দান্ত এই জয়ের ফলে পুল ‘এ’-তে তিন ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার পয়েন্ট ৬। দুই জয় ও এক হার নিয়ে গোলব্যবধানে তারা রয়েছে এক নম্বরে। দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেদারল্যান্ডস।
টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, ২১ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত হবে দ্বিতীয় ধাপের লড়াই। প্রথম ধাপের ফলের ভিত্তিতে দলগুলোকে আবার চারটি নতুন পুল-ই, এফ, জি ও এইচ'তে ভাগ করা হবে।
হামজা চৌধুরী
চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। হারের ম্যাচে হামজা চৌধুরী দেখেছেন লাল কার্ড। তাই পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে দলটিকে।
ফ্রাটন পার্কে ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন হামজা। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে রায়ান কাভুমা ম্যাককুইনকে ফাউল করার জন্য প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন হামজা। এর ঠিক দশ মিনিট পর আবারও কাভুমার সঙ্গে একটি চ্যালেঞ্জে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন।
প্রথম হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে তেমন বিতর্ক না থাকলেও দ্বিতীয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কাভুমা হামজার পায়ের ফাঁক দিয়ে বল বের করে সামনে এগিয়ে যান। এরপর হামজার সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যান তিনি।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-২ সমতা ফিরিয়েছিল শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে ৮৯ মিনিটে এবু অ্যাডামসের গোলে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় তারা।
লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় পরের ম্যাচে খেলতে পারবেন না হামজা।
ইংলিশ ফুটবল লিগের (ইএফএল) নিয়ম অনুযায়ী, এক ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখে বহিষ্কৃত হলে সাধারণত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান সেই খেলোয়াড়। গত শনিবার ব্রিস্টল সিটির বিপক্ষে শেফিল্ড ইউনাইটেডের পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার।
শেফিল্ড ইউনাইটেডের কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। তার দাবি, রেফারি প্রথমে হামজাকে জানিয়েছিলেন যে তাকে মাঠ ছাড়তে হবে না। পরে সিদ্ধান্ত বদলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান।
ছবি : সংগৃহীত
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগকে কেন রিয়াল মাদ্রিদের টুর্নামেন্ট বলা হয়, রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে তার আরেকটি অবিশ্বাস্য প্রমাণ মিলল। ম্যাচের ৮২ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ৭ মিনিটের ঝড়ে রোমাকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে রূপকথার এক জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ে লিগ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে রিয়ালের পয়েন্ট ছয়। রোমার পয়েন্ট এক।
রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে তখন জয়ের আগাম উৎসব। ২০ মিনিটে মাতিয়াস সুলের পাস থেকে দারুণ এক শটে দলকে এগিয়ে দেন মার্তেন দে রুন। ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শট থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে জালে ঢোকে। যদিও এর পাঁচ মিনিট পরেই চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নামা কিলিয়ান এমবাপ্পের শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ালে সমতায় ফেরে রিয়াল, ইউরোপ সেরার মঞ্চে এটি ফরাসি তারকার ৭২তম গোল।
বিরতির আগে মার্ক কুকুরেইয়া ও জুড বেলিংহ্যামও গোলের কাছে যান, তবে গোল আর পাননি। দ্বিতীয়ার্ধে দোনিয়েল মালেনের জোড়া গোল রোমাকে চালকের আসনে বসায়। ৫১ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভুলে বল পেয়ে প্রথম গোলটি করেন ডাচ এই স্ট্রাইকার। এর সাত মিনিট পর দ্বিতীয় গোলটিতে ভিএআর-এর সহায়তায় অনসাইড প্রমাণিত হন তিনি। ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়া রিয়াল মাদ্রিদের পরাজয় তখন সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছিল।
ম্যাচের শেষ দিকে রোমার কোচ গাসপেরিনি রক্ষণ মজবুত করতে বদলি নামালেও মরিনিওর কৌশলগুলো পুরো ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। ৮৩ মিনিটে বদলি নামার ঠিক ৫ মিনিট পর ব্যবধান কমান কার্লোস এসপি। ৮৬ মিনিটে আরদা গুলেরের কর্নার থেকে হেডে বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৩-৩ করেন তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এনদ্রিক। আর নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে আবারও গুলেরের নিখুঁত সেট পিস থেকে কাছ থেকে ভলিতে বল জালে জড়িয়ে রিয়ালের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন পূর্ণ করেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার।
ম্যাচ শুরুর আগে গ্যালারিতে প্রিয় কোচ জোসে মরিনিওকে ঘিরে সমর্থকরা ব্যানার টানিয়ে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। আড়াই বছর রোমার দায়িত্বে থাকার সময় তিনি দলকে উয়েফা কনফারেন্স লিগের শিরোপা জেতান। ইউরোপা লিগের ফাইনালেও তুলেছিলেন। তাই রোমা যখন জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, ঠিক তখনই মরিনহোর দুর্দান্ত সব বদলি কৌশল আর রিয়ালের হার না মানা মানসিকতা রোমার সেই উৎসবকে রূপান্তর করল চরম হতাশায়।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
নেফতচির বিপক্ষে জয়ের পর আল নাসরের সমর্থকদের চমকে দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই পর্তুগিজ অধিনায়ক এমন একটি কাজ করেছেন, যা সবার নজর কেড়েছে। হুথিদের আক্রমণে যখন সৌদি আরব বিপর্যস্ত, তখন দেশটির প্রতি নিজের ভালোবাসাটা তিনি স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটের দ্বিতীয় রাউন্ডে আল নাসর ৩-১ গোলে জিতেছে। ৪২ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এর আগে অ্যাঞ্জেলো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে নেফতচির ডিফেন্ডার বুয়ান সিগের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে।
ম্যাচ শুরুর আগেই এই লড়াই নিয়ে খানিকটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। রিয়াদে ম্যাচ শুরুর ১৫ মিনিট আগে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স একটি নিরাপত্তা সতর্কতা দেয়। তাই খেলা শুরু হতে দেরি হয়। রিয়াদের একাধিক জায়গা সম্প্রতি ইয়েমেনভিত্তিক হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
খেলা যখন বন্ধ ছিল, ক্যামেরায় তখন রোনালদোকে দেখা যায়। তিনি আল নাসরের জার্সিতে থাকা সৌদি পতাকায় চুমু খাচ্ছিলেন। সৌদি আরবে খেলতে আসার পর থেকে এই দেশের প্রতি তার যে কৃতজ্ঞতা, দৃশ্যটি তা-ই বোঝায়। ম্যাচ শেষে তিনি আরেকভাবে নিজের এই অবস্থান তুলে ধরেন।
উদযাপনের মাঝখানে রোনালদো সমর্থকদের কাছে একটি স্কার্ফ চান। সেই স্কার্ফে ছিল সৌদি পতাকা। তিনি সেটি কাঁধে জড়িয়ে নেন। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যে এই কাজ তার উদযাপনকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
আল নাসরের পরের ম্যাচ ১৬ অক্টোবর। সৌদি প্রো লিগে তারা আল আহলির মুখোমুখি হবে।
লিওনেল মেসি
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলার চার দিন পরই ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। ফেরার ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখলেন জোড়া গোলে। তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও করলেন দুই গোল। দুই তারকার নৈপুণ্যে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ডিসি ইউনাইটেডকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। একই সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের জয়খরাও কাটিয়েছে ফ্লোরিডার ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল মায়ামি। মাত্র তৃতীয় মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সুয়ারেজ। ৩৯ মিনিটে মেসির শট প্রতিহত হলে ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড পেয়ে যায় স্বাগতিকরা।
বিরতির পর গোলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন মেসি। ৪৭ মিনিটে সুয়ারেজের বাড়ানো বল এক স্পর্শে জালে পাঠান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এরপর ৬০ মিনিটে আসে তার দ্বিতীয় গোল। রদ্রিগো ডি পলের পাস পেয়ে ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোলরক্ষক সিন জনসনকে পরাস্ত করেন তিনি। তাতে ৪-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় মায়ামির।
এই জোড়া গোলে চলতি এমএলএস মৌসুমে মেসির গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩, যা লিগে সর্বোচ্চ। গত মৌসুমে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল ও ১৯ অ্যাসিস্ট করে বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুবার এমভিপি হওয়া মেসি এবারও রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে।
মায়ামির জন্য জয়টি ছিল বিশেষ স্বস্তির। আগের পাঁচ ম্যাচে চারটি ড্র ও একটি হারের পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল দলটি। গত ২৯ আগস্ট সিএফ মন্ট্রিলকে ৭-১ গোলে হারানোর পর এটিই তাদের প্রথম জয়।
হাসান মাহমুদের ফাইফার উদযাপন
পুরনো বলে তেমন কিছু হচ্ছিল না, ৮০ ওভারের পর নতুন বল নিতেই জ্বলে উঠলেন বাংলাদেশের পেসাররা। বিশেষ করে হাসান মাহমুদ দেখালেন বেশি ঝাঁজ। টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম কোনো পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন তিনি। ৮৩তম ওভারের তৃতীয় বলে ইসমাত আলমকে বোল্ড করে দেন হাসান। পরের বলে কাইস আহমেদ ক্রিজে এসে আউটসাইড এজে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় সেই ক্যাচ গ্লাভসে জমান লিটন দাস। পরের বলেই জিয়াউর রহমানকেও পরাস্ত করেছিলেন। জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তাতে দেখা যায় এলবিডব্লিউ হয়েছেন জিয়া।
আগের দিনে আফগানিস্তানের প্রতিরোধে হতাশা বাড়ছিল বাংলাদেশের। তবে তৃতীয় দিনে নেমে দ্রুতই ম্যাচের লাগাম নিজেদের কব্জায় নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন বল নিতেই শুরুতে সাফল্য আনেন ইবাদত হোসেন। ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে ইকরাম আখিলকে বোল্ড করে দেন তিনি।
এক পাশে রহমত শাহ টিকে থাকলেও টেল খুলে যাওয়ায় হাসান হয়ে ওঠেন বিপজ্জনক। এক ওভারেই তিন উইকেট নিয়ে ধস নামান তিনি। ৪ উইকেটে ২১৯ থেকে ১ রানের ভেতর আরও ৪ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
আবুধাবি টেস্টে এখন তাই বড় লিড নেওয়ার পথে বাংলাদেশ।
হাসান মাহমুদের ফাইফার উদযাপন
দ্বিতীয় দিনের শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আফগানিস্তানের হাতেই। তবে তৃতীয় দিনের শুরুতেই তাদের ইনিংস গুঁড়িয়ে দিল বাংলাদেশ। পেসার হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের তোপে ২১১ থেকে ২৪০ রানেই অলআউট হয়েছে আফগানিস্তান। মাত্র ২৯ রান যোগ করতেই শেষ ৬ উইকেট হারিয়েছে তারা। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৩৪৬ রানের সুবাদে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে শান্তর দল।
আগের দিন ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে খেলা শেষ করেছিল আফগানিস্তান। দিনের শুরুতে আফগানিস্তানের ইনিংসের ইতি টানার পথ দেখান এবাদত। তার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন ইকরাম আলিখিল। ১০৩ বলে ৩২ রান করেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। এতে রহমত শাহর সঙ্গে তার ৮০ রানের জুটি ভাঙে।
এরপরই শুরু হয় হাসান মাহমুদের দাপট। ইনিংসের ৮৩তম ওভারের শেষ তিন বলে ইসমত আলম, কাইস আহমেদ ও জিয়াউর রহমানকে ফিরিয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। ইসমতকে বোল্ড করার পর কাইসকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন হাসান। হ্যাটট্রিক বলে জিয়াউরের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন তিনি। আম্পায়ার সাড়া না দিলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর রিভিউয়ে বদলে যায় সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে প্রথম হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন হাসান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। এর আগে অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী এই কীর্তি গড়েছিলেন। হ্যাটট্রিকের পরও থামেননি হাসান। ইয়ামিন আহমদজাইকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই পেসার।
টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি হাসানের চতুর্থ পাঁচ উইকেটের কীর্তি। একই সঙ্গে সাদা পোশাকে ৫০ উইকেটের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এর আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও তাসকিন আহমেদ টেস্টে ৫০ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন।
আফগানিস্তানের হয়ে অধিনায়ক রহমত শাহ সর্বোচ্চ ১০৯ রান করেন। অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম টেস্টেই সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া রহমত বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় এবং টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক পেয়েছেন। তবে তার সেঞ্চুরিও দলকে বড় লিড এনে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২৪০ রানেই থামে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করে বাংলাদেশ। প্রথম দিন ২ উইকেটে ২২১ রান তুলে শক্ত অবস্থানে থাকলেও পরে ব্যাটিং ধসে পড়ে দলটি। তানজিদ হাসান তামিমের ৮৩, সাদমান ইসলামের ৬৭ ও লিটন দাসের ৫৩ রানের ইনিংসে বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ ৮ উইকেটে মাত্র ১২৫ রান যোগ করতে পারে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ সালিম সাফি নেন ৪ উইকেট, ইয়ামিন আহমদজাই ৩টি।