লিটন দাস

  • প্রকাশ : শনিবার ১৬ মে, ২০২৬, সময় : ১১:১০ এএম

দ্বিতীয় টেস্টের সংক্ষিপ্ত স্কোর: প্রথম দিন শেষে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৬ ওভারে ২১/০ (আওয়াইজ ১৩*, ফজল ৮*)।


বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৭৭ ওভারে ২৭৮/১০ ( শরিফুল ১২*; মাহদুমুল ০, তানজিদ ২৬, মুমিনুল ২২, শান্ত ২৯, মুশফিক ২৩, মিরাজ ৪, তাইজুল ১৬, তাসকিন ৭, লিটন ১২৬, নাহিদ ০)।



লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে প্রথম দিনটা ছিল বাংলাদেশের। শুরুর বিপর্যয় ছাপিয়ে পরে পাকিস্তানের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছেন তিনি। তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতেই বাংলাদেশ ইনিংসে সুবিধাজনক জায়গায় যেতে পেরেছে। দিনের সবচেয়ে আলোচিত ১২৬ রানের ইনিংসটি খেলেছেন তিনি। তার ব্যাটে ভর করেই প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৭৮ রানে। পরে পাকিস্তান বিনা উইকেটে ২১ রানে প্রথম দিন শেষ করেছে। তারা এখনও ২৫৭ রানে পিছিয়ে। ১৩ রানে ব্যাট করছেন ওপেনার আজান আওয়াইজ। আব্দুল্লাহ ফজল ব্যাট করছেন ৮ রানে।


লিটনের আউটের পর ২৭৮ রানে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস


পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে লড়াইয়ে ফিরেছে স্বাগতিকরা।


দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ ফিরলে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারায় তারা। তাতে দুইশর নিচে অলআউটের শঙ্কাও জাগে। 


কিন্তু কঠিন সেই সময়েই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন লিটন। লেজের দিকে টেলএন্ডারদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ২৫০ রানের গণ্ডি পার করান তিনি। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৬০, তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ৩৮ এবং শরিফুল ইসলামের সঙ্গে নবম উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ে দলকে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে গেছেন। 


অবশ্য এই সেঞ্চুরির পেছনে ভাগ্যও সহায় ছিল। ৫২ রানে আউট হতে পারতেন। পাকিস্তান রিভিউ না নেওয়াতে বেঁচে গেছেন। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে হাসান আলীর বলে ১২৬ রানে ফিরেছেন। তার ১৫৯ বলের ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও ২টি ছক্কা। তার আউটের সঙ্গে সঙ্গে ইনিংস শেষ হতেও সময় লাগেনি। হাসান আলী ওই একই ওভারে নাহিদ রানাকেও তুলে নিলে বাংলাদেশ ৭৭ ওভারে ২৭৮ রানেই গুটিয়ে গেছে। 


পাকিস্তানের হয়ে ৮১ রানে ৪ উইকেট নেন খুররম শাহজাদ। ৪৫ রানে ৩টি নেন মোহাম্মদ আব্বাস। ৪৯ রানে দুটি নেন হাসান আলী। ৯৬ রানে একটি নেন সাজিদ খান। 


১২৬ রানে থামলেন লিটন


একটা সময় ইনিংসের নিয়ন্ত্রণই হাতছাড়া হতে বসেছিল। সেখানে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নিতে পুরো কৃতিত্ব লিটন দাসের। ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে অস্বস্তির বৃত্ত থেকে উদ্ধার করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানে থামতে হয়েছে তাকে। তাকে ফজলের ক্যাচ বানিয়েছেন হাসান আলী।  


লিটনের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি


সতীর্থদের ব্যর্থতার দিনে লিটন দাসের ব্যাটিংয়েই ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। যেখানে দুইশর নিচেই অলআউট হওয়ার শঙ্কা জেগেছিল সেখানে একার লড়াইয়ে দলের স্কোর আড়াইশ পার করেছেন লিটন। তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষেই এটি লিটনের তৃতীয় সেঞ্চুরি। 


তাসকিনের আউটে পড়লো অষ্টম উইকেট


তাইজুলের বিদায়ের পর তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৩৮ রানের জুটি গড়েন লিটন। তুলে নেন ২৮তম ফিফটি। লিটনের ব্যাটে স্কোরও ছাড়ায় দুইশ। ৬৪.১ ওভারে তাসকিনের (৭) বিদায়ে ভেঙেছে অষ্টম উইকেট জুটি। খুররম শাহজাদের বলে স্লিপে সালমান আলীকে ক্যাচ দিয়েছেন তাসকিন। এটি ছিল খুররমের চতুর্থ উইকেট।  


তাইজুলের বিদায়ে ভাঙলো ৬০ রানের জুটি


১১৬ রানে পড়েছিল ষষ্ঠ উইকেট। তার পর থেকে দুর্দান্ত জুটিতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে থাকেন তাইজুল ইসলাম ও লিটন দাস। তাদের জুটিতে ভর করেই দ্বিতীয় সেশন পার করে বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় সেশনের পর বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি এই জুটি। তাইজুলকে (১৬) বোল্ড করে ৬০ রানের জুটি ভেঙেছেন সাজিদ খান। তাইজুলের বিদায়ে ১৭৬ রানে পড়েছে বাংলাদেশের সপ্তম উইকেট।  


৬ উইকেট পতনের পর লিটন-তাইজুলের জুটি, চায়ের বিরতিতে বাংলাদেশ


লাঞ্চের আগে দলকে দারুণভাবে টেনে নিচ্ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে তাদের প্রতিরোধ ভাঙতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ১৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় তারা। সপ্তম উইকেট জুটিতে দলকে খেলায় ফেরাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন লিটন দাস ও তাইজুল ইসলাম। ৫২ রানে অবিচ্ছিন্ন থেকে চায়ের বিরতিতে গেছেন তারা। দ্বিতীয় সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৬৮ রান। লিটন ব্যাট করছেন ৪২ রানে, তাইজুল ১১ রানে। 


মিরাজের বিদায়ে পড়লো ষষ্ঠ উইকেট


লাঞ্চ থেকে ফিরেই ভীষণ বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ।  শান্ত-মুশফিক ফিরেছেন। দলের বিপদের সময় প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজও। ৩৮.২ ওভারে খুররম শাহজাদের তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়েছেন তিনি। খুররমের বাউন্সারে শট খেলার চেষ্টায় ৪ রানে ক্যাচআউট হয়েছেন মিরাজ। তাতে ১৫ রানের মধ্যে দ্রুত পড়েছে ৩ উইকেট! 


লাঞ্চের পর সাজঘরে শান্ত-মুশফিক


লাঞ্চের পর ভেঙে গেছে শান্ত-মুশফিকের ৪৩ রানের জুটি। আবারও বিপদে পড়েছে স্বাগতিকরা। ৩৩তম ওভারে সেই আব্বাসের বলেই কিপারের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়ক ৭৪ বলে ২৯ রানে ফিরেছেন। তার পর ৩৭তম ওভারে খুররম শাহজাদের বলে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার ৬৪ বলে ২৩ রানে আউট হয়েছেন। তাতে ১১০ রানের মথ্যে ৫ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিক দল।  


প্রথম সেশনে পড়লো ৩ উইকেট, লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ


সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। পরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে প্রথম সেশন শেষ করেছে স্বাগতিক দল। লাঞ্চ বিরতির আগে প্রথম ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ২৬ ওভারে ৩ উইকেটে ১০১। 


শুরুতে মেঘলা আবহাওয়ায় টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। দারুণ ছন্দে থাকা শান্ত ৫১ বলে ২৬ রানে অপরাজিত আছেন। আর মুশফিক ৩১ বলে ১৮ রান করে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন ৩৮ রানে। 


সিলেটে প্রথম দিন দ্বিতীয় বলেই আঘাত হানেন আব্বাস। তার আঘাতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। প্রথম ঘণ্টাতে চোট আঘাত পায়  পাকিস্তানও। নিজের বলেই তানজিদ তামিমের ক্যাচ নিতে গিয়ে মাথা পিচে লেগে আহত হন পেসার হাসান আলী। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। যদিও পরে আবার মাঠে ফিরে বোলিং করেন তিনি।


অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা তানজিদ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট খেলেছেন। তবে সেট হওয়ার পর উইকেট বিলিয়ে দেন এই বাঁহাতি। আব্বাসের বলে মিড-অনের ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তাতে তানজিদ আউট হন ২৬ রানে। তানজিদের বিদায়ে ভাঙে তার ও মুমিনুল হকের ৪৪ রানের জুটি। 


এরপর মুমিনুল ও শান্ত আবার ইনিংস গড়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সেটাও স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। এবার খুররম শাহজাদের বলে বোল্ড হন মুমিনুল। ৪১ বলে ২২ রান করে ফিরতে হয় তাকে। এরপর অধিনায়ক শান্ত ও মুশফিক সতর্ক ব্যাটিংয়ে ইনিংস সামাল দেন। 


বোল্ড হয়ে ফিরলেন মুমিনুল


প্রথম সেশনেই চাপে পড়ে গেছে বাংলাদেশ। দ্রুত সময়ে মুমিনুল হকও (২২) ফেরায় পতন হয়েছে তৃতীয় উইকেটের। ১৬তম ওভারে তাকে বোল্ড করেছেন খুররম শাহজাদ। মুমিনুলের ৪১ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার। 


অভিষেকে ২৬ রানে ফিরলেন তানজিদ


দ্বিতীয় বলে মাহমুদুল হাসান জয়ের আউটের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন অভিষিক্ত তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হক। তুলনামূলক আগ্রাসী ছিলেন তানজিদ। কিন্তু তাকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি মোহাম্মদ আব্বাস। বাজে শটে ক্যাচ তুলে ফিরেছেন ২৬ রানে। তানজিদের ৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার। এটি ছিল আব্বাসের দ্বিতীয় উইকেট।   


দিনের দ্বিতীয় বলেই আউট মাহমুদুল


দ্বিতীয় টেস্টে দিনের দ্বিতীয় বলেই ওপেনারকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন মাহমুদুল হাসান জয়। বাংলাদেশ তাদের প্রথম উইকেট হারিয়েছে শূন্য রানে।


টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, তানজিদের অভিষেক


মেঘলা আবহাওয়ায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্ট। প্রথম টেস্টে দাপুটে জয়ের পর সিরিজে পাকিস্তানকে ধবলধোলাইয়ের লক্ষ্য নিয়ে আজ স্বাগতিক দল খেলতে নামছে। অবশ্য প্রথম টেস্টের মতো এবারও টস ভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। তাদের শুরুতে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান। 


একাদশে কারা


অবশেষে দ্বিতীয় টেস্টে অভিষেক হচ্ছে ওপেনার তানজিদ হাসানের। সাদা বলে নিয়মিত এই ওপেনার এবার লাল বলের ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছেন। প্রথম টেস্টের একাদশ থেকে আরও একটি পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশের। পেসার এবাদত হোসেনের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম। পাকিস্তানও পরিবর্তন এনেছে ৩টি। বাদ পড়েছেন ইমাম উল হক, শাহীন আফ্রিদি ও নোমান আলী। ফিরেছেন বাবর আজম, খুররম শাহজাদ ও সাজিদ খান। 


বাংলাদেশ একাদশ: নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলাম। 


পাকিস্তান একাদশ: আজান আওয়াইজ, শান মাসুদ (অধিনায়ক), বাবর আজম, আব্দুল্লাহ ফজল, সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আগা, খুররম শাহজাদ, সাজিদ খান, হাসান আলী ও মোহাম্মদ আব্বাস।



সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৪ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৪ এএম


বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৪ পিএম

এশিয়া কাপের প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে ছিলেন শারমিন আক্তার সুপ্তা আর রাবেয়া খান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের ওপর ভরসা করেছিল টাইগ্রেসরা। সেই ভরসার প্রতিদান দিলেন দুজনই। একজন দায়িত্ব নিলেন ব্যাটিংয়ে। আরেকজন ছড়ি ঘুরালেন বলহাতে। তাদের দারুণ নেপূণ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।


মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) নারী এশিয়া কাপের ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৩ রান করেছিল। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে মোটে ৬৯ রান করতে পেরেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। টাইগ্রেসরা জয় পেয়েছে ৩৪ রানের।


‘বি’ গ্রুপ থেকে তিন ম্যাচের সবগুলো জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। আর সমান ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে গেল বাংলাদেশ। যেখানে আগে থেকেই নিগার সুলতানা জ্যোতিদের জন্য অপেক্ষা করছে ভারত।


আগের দুই ম্যাচের মতো আরব আমিরাতের বিপক্ষেও ব্যাটিংটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ব্যর্থ হয়েছেন টপঅর্ডার ব্যাটাররা। এরপর নিজের কাধে দায়িত্ব তুলে নেন চলমান এশিয়া কাপে প্রথমবার একাদশে জায়গা পাওয়া শারমিন আক্তার সুপ্তা। তার ৩১ বলে ৪৮ রানের ইনিংসে ভর করেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।


স্বল্প রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরব আমিরাতের শুরুটা ভালো হয়নি। টাইগ্রেস পেসার মারুফা আক্তারের তোপের মুখে পড়ে স্বাতিকরা। ১৩ রানের মধ্যেই টপঅর্ডারের দুই ব্যাটারকে ফেরত পাঠান তিনি। ওপেনার ঈশা ওজা (৪ বলে ২) আর তিন নম্বরে নামা সামাইরা ধারনিধারকা (১৯ বলে ৮) ফিরে যান মারুফার শিকার হয়ে।


এরপরই নিজের স্পিন ঘূর্ণিতে স্বাগতিক ব্যাটারদের চোখে সরষে ফুল দেখান প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া রাবেয়া খান। এই লেগস্পিনারের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আরব আমিরাতের কোনো ব্যাটার। মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটার রিনিথা রাজিথ (১২ বলে ৫) আর হেনা হটচান্দানিকে (১৯ বলে ১৮) ফিরিয়ে কোমড় ভেঙে দেন আরব আমিরাতের ব্যাটিং লাইনের। পরে ধরেন আরও এক শিকার।


আরবে আমিরাতের পুরো ইনিংসে মাত্র দুজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পোঁছাতে পেরেছেন। বাংলাদেশের বোলারদের তোপের মুখে বাকিরা সবাই ফিরেছেন সিঙ্গেল ডিজিটেই। থেমেছে ৬৯ রানেই।


বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট পেয়েছেন রাবেয়া খান। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মারুফা আক্তার আর নাহিদা আক্তার। একটি করে উইকেট গেছে সুলতানা খাতুন আর ফাহিমা খাতুনের ঝুঁলিতে।


এর আগে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। শুরুটা প্রত্যাশা মতো না হলেও শেষদিকে শারমিন আক্তারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে একশ পেরোয় বাংলাদেশ।


বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে কার্যকর ব্যাটিং করেছেন শারমিন আক্তার। ৩১ বলে ৩৮ রান করে দলের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন তিনি। শারমিন আক্তার ১৮.৫ ওভারে ৯৭ রানের মাথায় আউট হন। তার বিদায়ের পর শেষ দিকে নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান মিলে ইনিংস শেষ করেন। নাহিদা আক্তার অপরাজিত থাকেন ২৬ বলে ১৬ রান করে। অন্য প্রান্তে রাবেয়া খান ৪ বলে করেন ৩ রান।


শেষ পাঁচ ওভারে বাংলাদেশ যোগ করেছে ৩৩ রান, যেখানে হারিয়েছে মাত্র একটি উইকেট। ফলে শেষ দিকে কিছুটা গতি পেয়ে ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০৩ রান।


আমিরাতের বোলারদের মধ্যে জানানি থিরুক্কুমারান সবচেয়ে সফল। ১ ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ১ উইকেট। হিনা হটচান্দানির ৪ ওভারে এসেছে ১৯ রান, তবে কোনো উইকেট পাননি।

সর্বশেষ সব খবর

লামিনে ইয়ামাল

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৬ পিএম

স্বপ্নের মতো একটি বছর কেটেছে লামিনে ইয়ামালের। টিনএজ এ ফুটবলার কদিন আগে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন, বার্সেলোনাকে জিতিয়েছেন লা লিগা। এ দুই অর্জনের জন্য ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। এর পরও তাঁর একটি স্বপ্ন নাকি এখনও অপূর্ণ। সেটা হলো ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা। আজ ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে ডাচ ক্লাব ফেনুয়ার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সেই স্বপ্ন ছোঁয়ার অভিযান শুরু করবেন ইয়ামাল। 


আসরের টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজিও আজ মাঠে নামছে। ঘরের মাঠে আজ তাদের প্রতিপক্ষ দুর্বল স্লোভান ব্রাতিস্লাভা। গতবারের ফাইনালিস্ট আর্সেনালও শুরু করছে আজ। ইতালির ক্লাব নাপোলির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু করবে মিকেল আর্তেতার দল। আজ রাতের বিগ ম্যাচটা হবে অ্যানফিল্ডে। স্বাগতিক লিভারপুলের মুখোমুখি হবে স্প্যানিশ জায়ান্ট অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। 


বার্সা সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিল ১১ বছর আগে। ২০১৫ সালে লিওনেল মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজ– এই ত্রয়ীর নৈপুণ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। বর্তমান কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে ২০২৫ সালে সেমিফাইনাল ও গত বছর কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা। এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে ‘ভেরি স্পেশাল’ মর্যাদা দিয়েছেন ইয়ামাল। ১৯ বছর বয়সী এ তারকা এই ট্রফি জিততে মরিয়া চেষ্টা করবেন বলেও দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, ‘এই বছর জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে যা কিছু করেছি তার জন্য ভীষণ গর্বিত। আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি, ক্লাবের হয়ে লা লিগা জিতেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু আসলে চাওয়ার নেই।’ এরপরই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন তিনি, ‘এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগটা আমার কাছে ভেরি স্পেশাল। সবকিছু জেতা হয়েছে। শুধু এটাই বাকি।’ এ কথাতেই বোঝা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিয়ে কতটা সিরিয়াস এ টিনএজার।


বার্সার কোচও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে মরিয়া, ‘প্রতিটি বড় ক্লাব এই ট্রফি নিয়ে স্বপ্ন দেখে। কারণ এটাই সেরা টুর্নামেন্ট। এই ট্রফি জেতার সামর্থ্য আমাদের আছে। তবে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।’ ইয়ামালেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন এই জার্মান কোচ। এই স্প্যানিশ মাঠে সময়টা ভীষণ উপভোগ করছেন বলেও জানান তিনি, ‘লামিনে হলো এমন একজন ফুটবলার, যে কিনা মুহূর্তের মধ্যে একটি ম্যাচ নির্ধারণ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এটা দুর্দান্ত বিষয়। প্রতিদিন আপনি দেখতে পাবেন সে মাঠে কতটা উপভোগ করছে ফুটবল। আমার জন্য তাকে এভাবে দেখতে পারাটাই সবচেয়ে আনন্দের বিষয়।’ 


লিভারপুল-অ্যাথ. মাদ্রিদ

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আজ সবচেয়ে জমজমাট লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা অ্যানফিল্ডে। আন্দোনি ইরাওলার অধীনে আজ প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে নামছে লিভারপুল। তাদের প্রতিপক্ষ অভিজ্ঞ দিয়াগো সিমিওনির অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। ঘরোয়া লিগে দুই দল এখনও সেরা ছন্দে পৌঁছাতে পারেনি। প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ ম্যাচে লিভারপুল ২-০ গোলে জিতলেও আগের দুই ম্যাচে ড্র করেছে। 


আর আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজের দলবদল নিয়ে তিক্ত সময় পার করা অ্যাথলেটিকো তো লা লিগায় গত শনিবার অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে। দুই দলের পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে লিভারপুল। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে তিনটি জিতেছে লিভারপুল ও দুটি জিতেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। তবে আজ ম্যাচ অ্যানফিল্ডে বলেই কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবে অলরেডরা।

সর্বশেষ সব খবর

সিটির জয়ে দুটি গোলই করেছেন আর্লিং হলান্ড

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৯ পিএম

চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুম। নতুন কোচের অধীনে ম্যানচেস্টার সিটিরও নতুন শুরু। তবে পোর্তোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে নায়ক সেই পুরোনো একজনই। আর্লিং হলান্ড।


নতুন মৌসুমে সিটির দায়িত্ব নিয়েছেন এনজো মারেসকা। পেপ গার্দিওলার দীর্ঘ অধ্যায়ের পর তাঁর সামনে কাজটা কঠিনই। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে সেই চাপের ছাপ খুব একটা দেখা গেল না। পোর্তোর মাঠে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে সিটি। আর শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন হলান্ড। তবে প্রথমার্ধে তাঁকে আটকে রেখেছিলেন পোর্তো গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। একবার দুর্দান্ত ঝাঁপিয়ে হলান্ডের শক্তিশালী হেড ফিরিয়েছেন । পরে আবারও নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে হতাশ করেছেন জোড়া সেভে। প্রথম ৪৫ মিনিটে গোল না পেলেও সিটি তখনই বুঝিয়ে দিয়েছিল, পোর্তোর দুর্গে ধাক্কা আসছে।


বিরতির পর আর অপেক্ষা করতে হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এনজো ফার্নান্দেজের ক্রস থেকে হলান্ডের হেড। খুব জোরালো ছিল না শটটি, কিন্তু কস্তাকে ভুল পায়ে ফেলে বল গড়িয়ে গেল নিচের কোণায়। ১-০।


গোল খেয়ে যেন ঘুম ভাঙল পোর্তোর। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ফিরে পেতে শুরু করে স্বাগতিকেরা। উল্টো সিটির রক্ষণেও দেখা দেয় অস্বস্তি। একবার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসে পেপেকে ফেলে দিয়েছিলেন। অফসাইড না থাকলে সেটি পোর্তোর পেনাল্টি হতে পারত। পরে তাঁর একটি ক্লিয়ারেন্স উইলিয়াম গোমেসের গায়ে লেগে অল্পের জন্য গোল হয়নি।


তবু শেষ পর্যন্ত পোর্তোর সব চেষ্টা ব্যর্থ। কারণ রাতটা ছিল হলান্ডের।


যোগ করা সময়ের গভীরে রায়ান আইত নুরির ক্রস পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠালেন তিনি। ২-০। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫৯ ম্যাচে হলান্ডের গোলও হয়ে গেল ৫৯টি।


চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম ২০, ৩০, ৪০ ও ৫০ গোলের রেকর্ড আগেই নিজের করে নিয়েছেন তিনি। এবার তাঁর সামনে দ্রুততম ৬০ গোলের রেকর্ড গড়ার হাতছানি। যে জায়গায় পৌঁছাতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির লেগেছিল অনেক বেশি ম্যাচ, সেখানে হলান্ড ছুটছেন নিজের গতিতে।


সিটির হয়ে এটিই ছিল তাঁর ১৬৭তম গোল। ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় উঠে গেলেন তৃতীয় স্থানে।


ম্যাচ শেষে হলান্ড বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় মঞ্চে আমাদের ওপর চাপ থাকে। আমাদের কাজ ছিল সেটা সামলে নিজেদের দায়িত্ব পালন করা। আজ আমরা সেটাই করেছি।’


আর চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ের গুরুত্ব বোঝাতে তাঁর উপলব্ধি, ‘এই ম্যাচগুলো আপনাকে জিততেই হবে। না হলে হঠাৎ করেই সব চাপ আপনার ওপর চলে আসে। তারপর কী হবে, কেউ জানে না।’

সর্বশেষ সব খবর

ইমরান খান ও ওয়াসিম আকরাম

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০৫ পিএম

কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম। ইমরানের সঙ্গে তিন বছর ধরে কথা না হলেও তাঁকে ভীষণ মিস করেন তিনি। 


ইমরানের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের আপস না করার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেটার। দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আকরাম বলেন, ‘সে আমার বন্ধু। আমি তাকে অনেক মিস করি। তিন বছর ধরে তার সঙ্গে আমার কথা হয়নি। রাজনৈতিকভাবে তার সঙ্গে যা ঘটছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আদালতের বিষয় আদালতেই থাকুক। কিন্তু তার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কোনো আপস হতে পারে না।’


ইমরানের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেছেন আকরাম। অবসর নেওয়ার পরও তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। আকরাম বলেন, ‘আমরা অবসর নেওয়ার পরও সে আর আমি নিয়মিত যোগাযোগ রাখতাম। আমি তার কাছে যেতাম, সময় কাটাতাম। আমি তার সঙ্গে কথা বলা মিস করি। একজন বন্ধু হিসেবে আমি তাকে মিস করি-রাজনীতি বাদ দিয়েই বলছি।’


আকরামের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ইমরানের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ইমরান তাঁকে গড়ে তুলতে ও খেলার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আকরামও বহুবার ইমরানকে নিজের গুরু হিসেবে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।


ইমরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে আকরাম বলেন, ‘ইমরানের অবস্থার উন্নতির দাবিতে ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় একটি আন্দোলন হচ্ছে। কিন্তু এখানে, পাকিস্তানে? আমি নিশ্চিত নই। আমি একজন মানুষ হিসেবে তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে হৃদয় থেকে কথাগুলো বলছি। সে দোষী সাব্যস্ত হোক বা না হোক। কারাগারে থাকুক বা না থাকুক। তার স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে।’


ইমরানের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে-সরকারের এমন বক্তব্য নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন আকরাম। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না সেখানে কী ঘটছে। সরকার বলছে, তার স্বাস্থ্য নাকি ভালো আছে। কিন্তু আমি উদ্বিগ্ন। আমি তাকে অনেক মিস করি।’


ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে আলোচনায় আসে লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনের ঘটনা। মধ্যাহ্নবিরতিতে স্কাই স্পোর্টস ইমরানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিমের সাক্ষাৎকার প্রচার করে। সেখানে তাঁরা কারাগারে বাবার জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। ওই সাক্ষাৎকার নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) আপত্তির খবর প্রকাশিত হয়। এমনকি প্রতিবাদ হিসেবে পাকিস্তান দলের মাঠে না নামার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছিল। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই মাঠে নামে পাকিস্তান।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৩ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০০ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


কাজাখস্তানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৩ পিএম

জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ নারী হকি দলের জয়রথ ছুটেই চলছে। চায়নিজ তাইপে ও পাকিস্তানের পর এবার কাজাখস্তানকেও হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আজ কাজাখস্তানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা। আগামীকাল নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই জয়ে চ্যালেঞ্জার পুলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে বাংলাদেশ। কাজাখস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন সারিকা রিমন। অন্য দুটি গোলের একটি করেছেন মোসাম্মত লিমা, অন্যটি লিজা আক্তার।


চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই কাজাখস্তানকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন সারিকা। এরপর ১৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লিজা। প্রথম কোয়ার্টারেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।


দুই গোল হজম করার পর কাজাখস্তান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। কয়েকটি আক্রমণও তৈরি করে তারা। তবে বাংলাদেশের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি কাজাখস্তান। দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ার্টারে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানেই এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ।


চতুর্থ কোয়ার্টারে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। সেই সুযোগে আরও দুটি গোল আদায় করে নেয় তারা। ৪৬ মিনিটে ফিল্ড গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন লিমা। এরপর ৫১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন সারিকা। তাতে ৪-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।


এবারই দ্বিতীয়বারের মতো জুনিয়র এশিয়া কাপে খেলছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এর আগে ২০২৩ সালের আসরে অংশ নিয়ে নবম হয়েছিল বাংলাদেশ। মেয়েদের জুনিয়র এশিয়া কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত।


দশ দলের এই টুর্নামেন্টে চ্যালেঞ্জার পুলে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে কাজাখস্তান, পাকিস্তান, চায়নিজ তাইপে ও হংকং। অন্যদিকে এলিট পুলে স্বাগতিক চীনের সঙ্গে রয়েছে জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া।

চ্যালেঞ্জার পুলের শীর্ষ তিন দল এবং এলিট পুলের পাঁচ দল খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে। আর চ্যালেঞ্জার পুলের চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে থাকা দল দুটি খেলবে নবম-দশম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ফুটবলার কাভান সুলিভান

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম

মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ফুটবলার কাভান সুলিভান। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই ফরোয়ার্ড এবার এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম টিনেজার হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলে সরাসরি অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন। রোববার সিএফ মন্ট্রিলের বিপক্ষে ফিলাডেলফিয়ার ২-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেন ১৬ বছর বয়সী কাভান।


দলের হয়ে ৫৭ মিনিটে ড্যানলে জিন জ্যাকেস গোল করার পর ৭৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুলিভান। কাভানের গোলটি আসে দারুণ ফিনিশিংয়ে। বক্সের ভেতর সতীর্থের শটের পর বলের গতিপথ বুঝে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি। একাধিক প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে এক শটেই বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড।


এই গোলের ফলে চলতি মৌসুমে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে কাভানের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটি। এর সঙ্গে রয়েছে সাতটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ মাত্র ১৬ বছর বয়সেই চলতি মৌসুমে ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।


এমএলএসে ১৬ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে এক মৌসুমে গোলে অবদানের নতুন রেকর্ডও এখন কাভানের। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সাবেক মার্কিন তারকা ফ্রেডি আদুর দখলে। ২০০৫ সালে ১৬ বছর বয়সে চার গোল ও ছয় অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন আদু।


এর আগে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখার সময়ও রেকর্ড গড়েছিলেন কাভান। ১৬ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে তিনি এমএলএসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখেন। এবার সেই কীর্তিকে আরও এক ম্যাচ বাড়িয়ে পাঁচে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই এমন পারফরম্যান্সে কাভানকে ঘিরে পুরো এমএলএসেই প্রত্যাশা বাড়ছে।

সর্বশেষ সব খবর