ছবি : সংগৃহীত
লা লিগা জয় নিশ্চিতের পর ছাদখোলা বাসে বার্সেলোনার শোভাযাত্রায় ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান লামিনে ইয়ামাল। এতে ইসরায়েল ও গাজায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।গত সোমবার কাতালান ক্লাবটির শিরোপা উদ্যাপন চলাকালে ছাদখোলা বাসে নিজের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান ইয়ামাল। বার্সেলোনা শহরের রাজপথে সেদিন প্রায় সাড়ে সাত লাখ সমর্থকের উপস্থিতিতে জয়োল্লাস করে ক্লাবটি।
শোভাযাত্রায় ইয়ামালের পতাকা ওড়ানোর ছবি ও ভিডিও দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই তা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়। স্প্যানিশ এই তারকার ঘনিষ্ঠ কিছু সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে জানান, পতাকা ওড়ানোর বিষয়টি ছিল পুরোপুরি একটি স্বতঃস্ফূর্ত কাজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ধর্মপ্রাণ মুসলিম ইয়ামাল ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট নিয়ে বরাবরই সংবেদনশীল। নিজের পরিচিতিকে ব্যবহার করে নিজের বিশ্বাস বা মতাদর্শ প্রকাশে তিনি কখনোই কুণ্ঠা বোধ করেননি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল তাঁর জীবনে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। এমনকি একজন পেশাদার ফুটবলার হয়েও রমজান মাসে কীভাবে রোজা ও খেলাধুলার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখেন, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। এর আগে গত মার্চে মিসরের বিপক্ষে স্পেন জাতীয় দলের ম্যাচে দর্শকদের মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগানের বিরুদ্ধেও সরাসরি প্রতিবাদ জানান ইয়ামাল।
তবে ইয়ামালের ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানো নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্প্যানিশ ভাষায় এক পোস্টে তিনি ১৮ বছর বয়সী এই ফুটবলারের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি ইয়ামালের এ আচরণের দায় থেকে বার্সেলোনাকে দূরে থাকারও আহ্বান জানান কাৎজ।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘লামিনে ইয়ামাল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেওয়া বেছে নিয়েছেন; যখন আমাদের সেনারা হামাসের মতো একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়ছে। যে সংগঠন গত ৭ অক্টোবর ইহুদি শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মতো নৃশংসতা চালিয়েছে।’
তবে ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানো বাদে ইয়ামাল আর কীভাবে ‘ঘৃণা উসকে দিয়েছেন’, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি কাৎজ।
কাৎজ আরও লেখেন, ‘যাঁরা এ ধরনের বার্তাকে সমর্থন করেন, তাঁদের নিজেদের কাছে প্রশ্ন করা উচিত—তাঁরা কি একে মানবিক মনে করেন? এটি কি নৈতিক? ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে উসকানির মুখে আমি চুপ থাকব না।’
বার্সেলোনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে কাৎজ লেখেন, ‘আমি আশা করি, এফসি বার্সেলোনার মতো একটি বড় ও সম্মানিত ক্লাব তাদের খেলোয়াড়ের এমন বক্তব্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেবে। পাশাপাশি এটিও দ্ব্যর্থহীনভাবে পরিষ্কার করবে যে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা উসকানি দেওয়ার কোনো জায়গা এখানে নেই।’
ইসরায়েলি মন্ত্রীর এ বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাঁর হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়, ‘একটি রাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানোর বিষয়টিকে যাঁরা “ঘৃণা উসকে দেওয়া” বলে মনে করেন, তাঁরা হয় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েছেন, নয়তো নিজের জঘন্য মানসিকতায় অন্ধ হয়ে গেছেন। লামিনে কেবল ফিলিস্তিনের প্রতি সেই সংহতিই প্রকাশ করেছেন, যা কোটি কোটি স্প্যানিশ নাগরিক মনেপ্রাণে ধারণ করেন। তাঁর জন্য গর্বিত হওয়ার এটি আরও একটি বড় কারণ।’
ফিলিস্তিনের গাজায় এক ধ্বংসস্তূপের মাঝে ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে ইয়ামালের একটি ম্যুরাল বা দেয়ালচিত্র আঁকা হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতে বর্তমান পর্যায়ে অঞ্চলটির এই এলাকা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে।
ফিলিস্তিনি শিল্পী উবাই আল-কুরশালি রয়টার্সকে বলেন, ‘সারা বিশ্ব দেখেছে, বার্সেলোনার এক বিশাল উৎসবে লামিনে ইয়ামাল ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছেন। এরপরই আমি এই দেয়ালচিত্র আঁকার কাজ শুরু করি। তিনি যা করেছেন, তার জন্য আমরা তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি ক্যারিয়ার, খেলা ও ভবিষ্যৎ—সবই ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। কিন্তু সেসবে পরোয়া না করে তিনি ফিলিস্তিনের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।’
জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের স্থায়ী মিশন তাদের অফিশিয়াল ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে ইয়ামালের পতাকা ওড়ানোর একটি ছবি শেয়ার করেছে। কাতালান ক্রীড়া দৈনিক ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’র তোলা এই ছবিটি ৪ লাখ ৪০ হাজার অনুসারীর কাছে পৌঁছে দিয়েছে মিশনটি। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ইন্টারনেটে এক বার্তার মাধ্যমে ইয়ামালকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি যোদ্ধা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায়। এতে অন্তত ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত মাসে জানায়, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি মন্ত্রী কাৎজের পোস্টের বিষয়ে ইয়ামালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল ‘দ্য অ্যাথলেটিক’–এর পক্ষ থেকে। তবে এ বিষয়ে বার্সেলোনার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে আসা সমালোচনা সম্পর্কে তাঁরা অবগত এবং এর সঙ্গে জড়িত সংবেদনশীলতা ও আবেগগুলো তাঁরা বুঝতে পারছেন। ক্লাবটি দাবি করেছে, ইয়ামাল বার্সেলোনার পক্ষ থেকে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি; এমনকি কোনো বিশেষ সম্প্রদায়, দেশ বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনো বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যও তাঁর ছিল না।
ছবি : সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে ওঠা বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। টুর্নামেন্টজুড়ে নিরাপত্তা, ভিসা জটিলতা, শৃঙ্খলাবিষয়ক সিদ্ধান্ত ও টিকিটের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বকাপ ছিল নিরাপদ এবং সফল। সমালোচকদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন, টুর্নামেন্টে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
৪৮ দলের অংশগ্রহণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আয়োজন করে ফিফা। তবে টুর্নামেন্ট চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকলের পর ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ইরান দলের ভ্রমণ জটিলতা, সোমালিয়ার রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আর্তানের ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে সমালোচনা হয়।
এসব অভিযোগের জবাবে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে ইনফান্তিনো লেখেন, ‘যারা ফুটবলের মাধ্যমে শিশু, বাবা-মা ও দাদা-দাদিদের একসঙ্গে হওয়ার এই সুন্দর মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে পারেননি, তাদের জন্য আমার দুঃখ হয়। সমালোচনা ও ঘৃণায় এতটাই ডুবে ছিলেন যে এই সৌন্দর্য দেখতে পাননি।’
সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি আরও লেখেন, ‘আপনারা যখন পর্দার আড়ালে বসে ঘৃণা ও মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছিলেন, তখন আমরা মাঠে ছিলাম। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং বিশ্বের সেরা বিশ্বকাপ আয়োজন করেছি।’
ইনফান্তিনোর দাবি, ফিফার কর্মকর্তারা কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমর্থকদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। ‘আপনারা যেখানে বিভাজনের কথা বলেছেন, আমরা সেখানে মানুষকে এক করেছি। পরিবার, সমর্থক এবং বিভিন্ন দেশের মানুষ একসঙ্গে এই উৎসব উদযাপন করেছে।’
ইরান দলের ভ্রমণ ও ভিসা জটিলতা নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ফিফা সভাপতি। তার দাবি, ইরান কোনো ধরনের সংঘাত বা বড় সমস্যা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিসা না পাওয়ায় ইরানের কোচিং স্টাফের কয়েকজন সদস্য বিশ্বকাপে যেতে পারেননি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধের কারণে দলটি মেক্সিকোকে অনুশীলন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে এবং শুধু ম্যাচের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পায়। ইনফান্তিনোর ভাষ্য, কয়েকজনের ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনুমোদন পাওয়া লাখো দর্শনার্থীর তুলনায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেন ইনফান্তিনো। তার মতে, বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত বা শৃঙ্খলাবিষয়ক রায় পর্যালোচনা করা বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ লিগে অস্বাভাবিক কিছু নয়। তিনি লেখেন, ‘বিতর্কিত হলুদ বা লাল কার্ড, কিংবা পরে শাস্তি পুনর্বিবেচনার মতো ঘটনা বিশ্বের অনেক বড় লিগেই নিয়মিত ঘটে। তাই এ বিষয় নিয়ে এত সমালোচনা করা বিস্ময়কর।’
পোস্টের শেষ দিকে ইনফান্তিনো বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ফিফা আরও বেশি স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। একই সঙ্গে সমালোচকদের প্রতি ঘৃণা নয়, ভালোবাসা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
ফুটবল ক্যারিয়ারে সাফল্যের কমতি নেই। এবার অভিনয় জগতে পা রাখছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে সেখানেও বিষয় ফুটবল।
এক ফুটবল এজেন্টের জীবন নিয়ে নতুন ওয়েব সিরিজ আসতে চলেছে। তার কার্যনির্বাহী প্রযোজক হিসেবে নাম থাকছে পর্তুগীজ সুপারস্টার রোনালদোর। সেইসঙ্গে বিশেষ অতিথি চরিত্রেও অভিনয় করবেন আল নাসরের এই তারকা ফুটবলার। তার পাশাপাশি এই ওয়েব সিরিজে থাকবেন ফ্রান্সের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার থিয়েরি অঁরিও। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন।
জানা গেছে, ওয়েব সিরিজটির নাম ‘ডে ওয়ানস’। আধুনিক ফুটবল দুনিয়ার আভ্যন্তরীণ কাহিনি তুলে ধরা হবে এখানে।
একজন ফুটবলার, এজেন্ট, বাজারের চাহিদা ও বিভিন্ন ক্লাবের অন্দরমহলের গল্প দিয়ে সাজানো হবে ওয়েব সিরিজটি। যেখানে এক এজেন্টের চরিত্রে অভিনয় করবেন ‘হোমল্যান্ড’ খ্যাত ডামিয়ান লুইস। ইতিমধ্যে উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের বার্নেট এফসির স্টেডিয়াম ‘দ্য হাইভ’-এ সিরিজটির শুটিং শুরু হয়েছে।
রোনালদো নিজেও এই সিরিজটি নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহী। আল নাসর তারকা বলছেন, ‘এটা আমার জীবনের নতুন এক অধ্যায় হতে চলেছে। ফুটবলের পাশাপাশি বিনোদন জগতেও নতুন কিছু করার সুযোগ পেয়ে আমি খুব খুশি।’
এই সিরিজে রোনালদোর সঙ্গে সহ-প্রযোজক হিসেবে থাকছেন হলিউড পরিচালক ম্যাথু ভনের প্রতিষ্ঠিত ইউআর-মার্ভ স্টুডিওস। যারা ‘কিংসম্যান’-এর মতো সিনেমা প্রযোজনা করেছেন। এই ওয়েব সিরিজে থাকছেন রোনালদোর একসময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী থিয়েরি অঁরি। যেহেতু রোনালদো আর অঁরি আছেন, তাই সিরিজটির সম্প্রচারস্বত্ব পেতে বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।
এর আগে আলোচনায় উঠে এসেছিল, রোনালেদোকে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজে দেখা যেতে পারে। ভিন ডিজেলের একটি ছবিকে কেন্দ্র করে যার আলোচনার শুরু। সেটা নিয়ে অবশ্য এখনও কোন সবুজ সংকেত আসেনি।
তবে এর মধ্যে নতুন অভিযান শুরু করে দিলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা।
নেইমার
বিশ্বকাপে ব্যর্থ অভিযান শেষে সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরেছেন নেইমার, করেছেন জোড়া গোলও। কিন্তু ভক্ত-সমর্থকদের তিনি উচ্ছ্বসিত রাখতে পারলেন অল্প কিছুক্ষণই। ড্রেসিংরুমে সতীর্থের সঙ্গে বিতর্কের খবর, অনুশীলন মাঠে গিয়ে কিছু না করেই কাউকে না জানিয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন—কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় ব্রাজিলিয়ান তারকা।
শনিবার রাতে শাপেকোয়েন্সের সঙ্গে ২-২ ড্র ম্যাচের পরদিনই অনুশীলন ছিল সান্তোসের। রোববার পেলে ট্রেনিং সেন্টারে উপস্থিতও হন নেইমার। ছবি তোলেন, কফি পানও করেন। তবে মূল দলের অনুশীলন শুরুর আগেই বেরিয়ে যান। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম বলছে, কোচিং স্টাফের অনুমতি ছাড়াই নেইমার অনুশীলন মাঠ ছেড়েছেন।
অনুশীলন না করার এ ঘটনা ঘটে শাপেকোয়েন্স ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে হওয়া আরেকটি বিতর্কের রেশ কাটার আগেই। ও’গ্লোবোর প্রতিবেদন বলছে, নেইমার সান্তোসের মিডফিল্ডার গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসকে তিরস্কার করতে গিয়ে অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন।
বন্তেম্পোকে ‘বাজে লোক’ গালি দেওয়ার পাশাপাশি পরের মৌসুমে তাঁকে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে আবার খেলতে হবে বলে বিদ্রূপ করেন নেইমার। শাপেকোয়েন্স এখন ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে ২০ দলের মধ্যে সবার শেষে অবস্থান করছে। আগামী মৌসুমে দলটি নিচের লিগে নেমে যাওয়ার পথে। এ ছাড়া ম্যাচের ৬২ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করা ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নেইমার। এ নিয়ে তর্কাতর্কিও হয় দুজনের মধ্যে।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম বলছে, ড্রেসিংরুমের ঘটনার পর পুরো পরিস্থিতি বুঝতে ক্লাবের কয়েকজন পরিচালক রোববার ট্রেনিং সেন্টারে যান। তবে নেইমারই সেখানে অল্প কিছুক্ষণের বেশি ছিলেন না।
অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ইনস্টাগ্রামে নিজের অবস্থান তুলে ধরে লিখেছেন, ‘বন্ধুরা, এটি আমাদের প্রত্যাশিত দিন ছিল না। তবে আমাদের মাথা উঁচু রাখতে হবে এবং কাজ চালিয়ে যেতে হবে। ড্রেসিংরুমে আমি নাকি তরুণ খেলোয়াড়দের ধমক দিয়েছি! এমন কিছু খবর দেখছি, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
আরেকটি ভিডিওতে নেইমার বলেন, ‘যিনি এসব কথা ছড়িয়েছেন, তাঁকে বলছি, দয়া করে এমন করবেন না। মিথ্যা বলবেন না। চাইলে যাকে খুশি জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমরা পুরো দলকে নিয়েই কথা বলেছি। আমি, লুকাস (ভেরিসিমো), আরাও, গাবি, ব্রাজাও—আমরা সবাই একসঙ্গে আলোচনা করেছি। নিজেদের কাছ থেকেই আরও বেশি কিছু দাবি করেছি। কারণ, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা পছন্দ করি, আমরা জিততে চাই, সফল হতে চাই। কিন্তু তরুণ খেলোয়াড়দের আলাদা করে ধমক দেওয়া বা তাদের ওপর চড়াও হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এসব মিথ্যা আমি মেনে নেব না।’
সান্তোসে নেইমারের সঙ্গে সতীর্থদের সম্পর্ক নিয়ে এটি নতুন কোনো বিতর্ক নয়। ক্লাবের ভেতরের সূত্রগুলোর দাবি, ড্রেসিংরুমের পাশাপাশি নেইমারের মাঠের কিছু আচরণও তাঁর সতীর্থদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো আক্রমণ সফল না হলে বা কোনো খেলায় ভুল হলে নেইমার প্রকাশ্যেই বারবার সতীর্থদের সমালোচনা করেন। এতে দলের কিছু খেলোয়াড়ের মনে চাপ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, ভুল হলে নেইমার সমর্থকদের সামনেই তা তুলে ধরবেন।
তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে নেইমারের বিরোধের আরেকটি আলোচিত ঘটনা ঘটে এ বছরের জানুয়ারিতে রবসন জুনিয়রকে ঘিরে। অনুশীলনের সময় রবসন তাঁকে কাটিয়ে যাওয়ার পর নিজেকে অসম্মানিত মনে করে নেইমার তাঁকে চড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রবসন বিষয়টি নিয়ে ক্লাবের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানান। এ ঘটনার পর নেইমার প্রকাশ্যে সতীর্থের কাছে ক্ষমাও চান।
লিওনেল মেসি
উত্তর আমেরিকার ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণ এমএলএস অল-স্টার ম্যাচকে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। আগামী ২৯ জুলাই উত্তর ক্যারোলাইনার শার্লটের ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকান লিগ লিগা এমএক্স-এর অল-স্টার দলের মুখোমুখি হবে মেজর লিগ সকার (এমএলএস) অল-স্টার দল।
তবে এবারের ম্যাচে থাকছেন না ইন্টার মায়ামির তারকা লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপের দীর্ঘ ও ধকলপূর্ণ মৌসুমের পর ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের নীতিমালার আওতায় মেসি ও তার আর্জেন্টাইন সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলকে অল-স্টার ম্যাচের দল থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
মেসি ও ডি পলের অনুপস্থিতিতে এবং ইনজুরি ও ক্লাব পরিবর্তনের কারণে বাদ পড়া খেলোয়াড়দের জায়গায় অল-স্টার স্কোয়াডে ৪ জন নতুন ফুটবলারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এমএলএস কর্তৃপক্ষ। দলে নতুন ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে হিউস্টন ডায়নামোর ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গুইলহার্মে নিজের অভিষেক মৌসুমে আটটি গোল ও পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে সবার নজর কেড়েছেন।
এছাড়া শিকাগো ফায়ারের ফিলিপ জিঙ্কারনাগেল চলতি মৌসুমে পাঁচটি গোল ও সাতটি অ্যাসিস্ট করে দলে জায়গা করে নিয়েছেন। ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের আন্দ্রেস কুবাসও মাঝমাঠে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে এই অল-স্টার দলে ডাক পেয়েছেন।
মেসি ও ডি পল ছাড়াও স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন আরও দুজন ফুটবলার। মেক্সিকান ক্লাব সিএফ মনতেরেতে যোগ দেওয়ায় দলে নেই হুগো কুইপার্স। আর শরীরের নিচের অংশের চোটের কারণে খেলতে পারবেন না তরুণ ডিফেন্ডার এমবেকেজেলি এমবোকাজি।
এমএলএস অল-স্টার ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: ম্যাক্সিম ক্রাপো, ম্যাট ফ্রিজ, ব্রায়ান শোয়াক
ডিফেন্ডার: ম্যাক্স আরফস্টেন, লুকাস হেরিংটন, রিচি লারিয়া, অ্যান্থনি মারকানিচ, স্টিভেন মোরেইরা, ড্যানিয়েল মুনি, অ্যান্ডি নাজার, জ্যাকসন রেগান, টিম রিম.
মিডফিল্ডার: সেবাস্টিয়ান বারহাল্টার, পেপ বিয়েল, ইয়ানিক ব্রাইট, আন্দ্রেস কুবাস, এভান্দার, কার্লেস গিল, জেভিয়ার গোজো, হানি মুখতার, থমাস মুলার, অ্যাশলে ওয়েস্টউ।
ফরোওয়ার্ড: অ্যান্ডার্স ড্রেয়ার, গুইলহার্মে, জুলিয়ান হল, সন হিউং-মিন, পিটার মুসা, স্যাম সুরিডজ, ফিলিপ জিঙ্কারনাগেল।
ব্রাজিল ফুটবল দল
ভারত সফরে যেতে পারে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। কলকাতায় তারা প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন ব্রাজিল।
ম্যাচ আয়োজনে ভারতীয় সংগঠকদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ), এমন তথ্যও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ চলাকালেই ভারতীয় প্রতিনিধি ও সিবিএফের মধ্যে এই প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু হয়। মূলত বিশ্বকাপে ভারতীয় সমর্থকদের বিপুল উন্মাদনা নজর কেড়েছে ব্রাজিল কর্তৃপক্ষের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেলেসাওদের নিয়ে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ার পরই সেখানে ম্যাচ খেলার আগ্রহ তৈরি হয় ব্রাজিলের।
ইএসপিএন ব্রাজিল তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, সূচি অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের মধ্যবর্তী সময়ে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে ব্রাজিলের। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুটি ম্যাচ ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত।
২৫ সেপ্টেম্বর টাউনসভিলে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। এরপরই তৃতীয় ম্যাচটির জন্য ভারতকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর ও কাতারে ম্যাচটি আয়োজনের আলোচনা থাকলেও শুধু ভারতের সঙ্গেই আলোচনা এগোচ্ছে।
ম্যাচটি কলকাতায় আয়োজিত হলে তা শহরটির সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত করবে। এর আগে ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ইডেন গার্ডেনসে খেলে গিয়েছিলেন তিনবার বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে।
২০২৬ বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের অভিযান শেষ হয়েছে চরম হতাশায়। নকআউট পর্বের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয় সেলেসাওরা। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটাই ব্রাজিলের দ্রুততম বিদায়।
টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তিনি চারটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করলেও দলকে বাঁচাতে পারেননি। অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখা ব্রাজিলকে তাই মাঠ ছাড়তে হয়েছে হতাশায়। প্রীতি ম্যাচ দিয়ে সেই ব্যর্থতা ভুলে নতুন করে শুরুর পরিকল্পনা করছে সেলেসাওরা।
ইয়ুর্গেন ক্লপ
হতাশাজনক বিশ্বকাপ অভিযানের পর জার্মানি জাতীয় দলকে পুরনো বিধ্বংসী রূপে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভার তুলে দেওয়া হলো ইয়ুর্গেন ক্লপের কাঁধে। চার বছরের চুক্তিতে স্বদেশি এই অভিজ্ঞ ট্যাকটিশিয়ানকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিল দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)। শুক্রবার এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে সংস্থাটি তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করল।
বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও লিভারপুলের সাবেক কোচ ক্লপ স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ইউলিয়ান নাগেলসমানের। সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে জার্মানির বিদায়ের পর দায়িত্ব ছাড়েন নাগেলসমান। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিস্ময়করভাবে বিদায় নেওয়ার পর এবারও ব্যর্থতার সেই ধারা বজায় থেকেছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত ক্লপ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জাতীয় ফুটবল দলের মতো খুব কম বিষয়ই আমাদের জার্মানদের এক সুতোয় বাঁধতে পারে। আর এই দিকটিই আমার কাছে দায়িত্বটিকে এতটা বিশেষ করে তুলেছে।’
এতদিন রেড বুলের ‘গ্লোবাল হেড অফ সকার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই তারকা কোচ যোগ করেন, ‘বিগত দেড় বছরে রেড বুলে যে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা আমার হয়েছে এবং (ডিএফবির সঙ্গে) এই চুক্তিটি সম্ভব করতে তারা যে উদারতা দেখিয়েছে, তার জন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এখন আমি জার্মান ফুটবলের এই বিশেষ দায়িত্বটির দিকে তাকিয়ে আছি, যা আমরা বিনয় ও ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করব। এমন একটি দল গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য, যারা একে অপরের জন্য লড়বে, ফুটবলকে উপভোগ করবে এবং যার পেছনে আমাদের দেশের মানুষ পূর্ণ আস্থা নিয়ে দাঁড়াতে পারবে।’
নতুন দায়িত্বে ক্লপের সহকারী হিসেবে কাজ করবেন পিটার ক্রাভিৎজ, পেপ লিন্ডারস ও জার্মানির সাবেক খেলোয়াড় স্ভেন বেন্ডার। এছাড়া, ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ও সাবেক ডিফেন্ডার পার মার্টেসাকারকে স্পোর্টস ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ডিএফবি। আন্দ্রেয়াস রেটিগের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি সই করেছেন তিনি।
জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বার্নড নয়েনডর্ফ জানান, শুরু থেকেই ফেডারেশনের প্রথম পছন্দ ছিলেন ক্লপ, ‘আমাদের অত্যন্ত নিবিড় আলোচনা হয়েছে। প্রথম থেকেই ক্লপই ছিলেন আমাদের জন্য আদর্শ সমাধান। ডিএফবির সবাই আমরা একমত ছিলাম যে, তিনিই সেই ব্যক্তি যার সঙ্গে আমাদের কথা বলা উচিত। ক্লপের সঙ্গে আলোচনার পর আমাদের এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে, সঠিক সময়ে সঠিক মানুষটিকেই আমরা পেয়েছি।’