ছবি : সংগৃহীত
মাছ ছাড়া বাঙালির চলেই না। দিনে অন্তত একবার পাতে মাছ থাকা চাই। মাছ শুধু যে খেতেই সুস্বাদু তা নয়, এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন ও ভিটামিন রয়েছে। নিয়মিত মাছ খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
এছাড়াও মাছ খেলে আরও যেসব উপকারিতা হয় -
> মাছে থাকা স্বাস্থ্যকর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
> নিয়মিত মাছ খেলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে। এটি আলঝেইমার্স বা মস্তিষ্কের বয়সজনিত ক্ষয় রোধ করতে দারুণ কার্যকরী।
> মাছে হজমযোগ্য উচ্চমানের প্রোটিন রয়েছে। এই উপাদানটি পেশির গঠন ও শরীরকে শক্তিশালী রাখতে অত্যন্ত জরুরি।
> মাছে থাকা পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিন দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। চোখের নানা সমস্যাও দূর করে এসব উপাদান।
> মাছের স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ত্বক ও চুলে ভিতর থেকে পুষ্টি জোগায়। ত্বককে উজ্জ্বল করতে ও চুল পড়া রোধ করতে এটি দারুণ উপকারী।
> মাছ ভিটামিন ডি-এর একটি চমৎকার প্রাকৃতিক উৎস। এই ভিটামিন হাড়ের গঠন মজবুত করতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক কর্মক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তিও কিছুটা কমতে শুরু করে। মস্তিস্কের এই ক্ষয় বা ‘ডিমেনশা’ পুরোপুরি প্রতিরোধ করার কোনও জাদু বা নিশ্চিত উপায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখনও আবিষ্কৃত না হলেও, দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু সাধারণ অভ্যাস মস্তিস্ককে দীর্ঘকাল সতেজ ও তীক্ষ্ণ রাখতে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অন্তর্গত বোস্টনের ‘ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন’স হসপিটাল’-এর মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের প্রধান চিকিৎসা সম্পাদক ড. হাওয়ার্ড ই. লেওয়াইন, প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “জীবনধারার ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন বয়সজনিত মস্তিস্কের রোগ প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে।”
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম
শারীরিক ব্যায়াম কেবল হৃদ্-রোগ রোগ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিই কমায় না, এটি মস্তিস্কের কোষগুলোকে সচল রাখতেও সাহায্য করে।
বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শরীরচর্চা স্মৃতিশক্তি উন্নত করে। বিশেষ করে যাদের শরীরে ‘এপিওইফোর’ নামক বিশেষ জিন বৈশিষ্ট্য রয়েছে (যা আলঝাইমার’স বা স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়ায়), তাদের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা উপকারী। এটি অনিদ্রা ও বিষণ্নতা দূর করতেও কাজ করে।
ভূমধ্যসাগরীয় বা মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট
খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মস্তিস্কের স্বাস্থ্য সরাসরি যুক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের খাদ্যাভ্যাস বা ‘মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট’ অনুসরণ করলে মৃদু মানসিক অবক্ষয় এবং ডিমেনশা’র গতি ধীর হয়ে আসে। এই খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে তাজা ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, শিম বা মটরশুঁটি, বাদাম, জলপাই তেল এবং পরিমিত মাছ ও মুরগির মাংস রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অ্যালকোহল বর্জন বা সীমিত করা
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অতিরিক্ত বা নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে আলঝাইমার’স বা স্মৃতিভ্রম রোগের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি থাকে। চিকিৎসকেরা মস্তিস্কের সুরক্ষায় যেকোনও ধরনের তামাক ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার পরামর্শ দেন।
পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম
মস্তিস্কের দৈনন্দিন কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার জন্য ঘুম জরুরি। ঘুমের সময় মস্তিস্ক সারাদিনের শেখা তথ্য ও স্মৃতিগুলোকে স্থায়ী রূপ দেয়। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যারা নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার কম ঘুমান, তারা স্মৃতিশক্তি ও মানসিক দক্ষতার পরীক্ষায় অন্যান্যদের চেয়ে অনেক কম নম্বর পান।
মানসিক উদ্দীপনা বা মস্তিস্কের ব্যায়াম
মস্তিস্ককে সচল রাখতে হলে তাকে অলস বসিয়ে না রেখে নিয়মিত কাজ দিতে হবে। ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সিদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বই পড়া, লেখালেখি, শব্দছক মেলানো, দাবা বা তাস খেলা, দলগত আলোচনায় অংশ নেওয়া বা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মতো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাদের মানসিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে প্রায় অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ কমে যায়।
সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা
অন্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও সামাজিক যোগাযোগ মস্তিস্কের জন্য এক ধরনের সুরক্ষাকবচ। সামাজিক ক্রিয়াকলাপে অংশ নিলে মনোযোগ ও স্মৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ মানসিক প্রক্রিয়াগুলো সক্রিয় হয়, যা স্নায়ুতন্ত্রের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।
বিপরীতে, একাকিত্ব থেকে তৈরি হওয়া বিষণ্নতা মস্তিস্কের ক্ষয়কে আরও দ্রুত করে তোলে। একটি সুন্দর সামাজিক পরিবেশ মানসিক চাপ বা ‘স্ট্রেস’ হরমোন কমাতেও সরাসরি সাহায্য করে।
১৪ বছর বয়সে কিশোর-কিশোরীরা যখন স্কুল শেষে কী করবে তা নিয়ে দ্বিধায় থাকে, তখন জয়নাম জৈন করে দেখিয়েছেন এমন এক কীর্তি—যা অর্জন করতে অনেক উদ্যোক্তার বছরের পর বছর কেটে যায়। দুবাইয়ের বিখ্যাত বুর্জ খলিফার ১৪১ তলায় অফিস নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই স্টার্টআপ।
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তিনিই দুবাইয়ের সবচেয়ে কম বয়সি এআই প্রতিষ্ঠাতা।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই কিশোর ‘মেঙ্গো ইঞ্জিন’ নামক একটি এআই প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিপণন, গ্রাহক সংযোগ, বিক্রি এবং কনটেন্ট তৈরির কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে সাহায্য করে।
তার এই সাফল্যের গল্প সম্প্রতি ইন্টারনেটে দারুণভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জয়নামের মতে, এআই নিয়ে মানুষের উন্মাদনা শুরু হওয়ার অনেক আগেই তার এই যাত্রার সূচনা হয়েছিল।
১৪ বছর বয়সি এই কিশোরকে ইতোমধ্যে তার অসাধারণ ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিগত প্রতিভার কারণে জনপরিসরে এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্মেলনে ‘নেক্সট ইলন মাস্ক’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। মাস্কের মতোই জয়নাম প্রচলিত পড়াশোনার গণ্ডির বাইরে গিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নিজের দক্ষতা বাড়াতে বেশি মনোযোগী হয়েছেন।
‘কার্লি টেলস মিডল ইস্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়নাম জানান, মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি তার জীবনের প্রথম ব্যবসায়িক পাঠ পান।
তিনি স্মরণ করে বলেন, ‘আমার বয়স যখন মাত্র ছয় বছর, তখন বাবা আমাকে তার প্রথম ব্যবসায়িক মিটিংয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।’ শৈশবের সেই অভিজ্ঞতা তার মধ্যে এক প্রবল কৌতূহল তৈরি করে, যা সময়ের সঙ্গে আরও পোক্ত হয়। কেবল শ্রেণিকক্ষের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি মানুষের সঙ্গে মিশে, বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়ে এবং নিজের ওপর নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্যবসা কীভাবে কাজ করে তা শিখতে শুরু করেন।
মাত্র ১৩ বছর বয়সেই তিনি মাত্র ১০৫ দিনের মধ্যে আইজিসিএসই দশম শ্রেণির পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার এই ব্যতিক্রমী পথটি তাকে তার ব্যবসায়িক স্বপ্ন পূরণের জন্য আরও বেশি সময় বের করে দিতে সাহায্য করেছে। শুধু একটি স্টার্টআপ নয়, আরও অনেক অর্জন
মেঙ্গো ইঞ্জিনকে জয়নাম এমনভাবে গড়ে তুলতে চান, যা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ‘এআই কো-ফাউন্ডার’ বা সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করবে। এটি বিপণন থেকে শুরু করে লিড ম্যানেজমেন্ট, নিউজলেটার এবং গ্রাহক যোগাযোগের মতো কাজগুলোকে সহজ করে দেয়। প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে বেটা সংস্করণে রয়েছে এবং বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এটি ব্যবহারের অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে তার অর্জন এখানেই থেমে নেই। জয়নাম একটি টেডএক্স মঞ্চে বক্তব্য দিয়েছেন, দুটি পেটেন্টের অধিকারী হয়েছেন এবং আরও কিছু পেটেন্ট পাইপলাইনে রয়েছে। এ ছাড়া তিনি একটি বই লিখেছেন এবং ইউটিউবে ১ লাখ ৪৫ হাজারেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার নিয়ে একটি কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন। তার এই সাফল্যের পেছনের মূল চাবিকাঠি হলো ধারাবাহিকতা।
দশ বছর বয়স থেকেই তিনি নিয়ম করে ‘৫০ দিনের চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে আসছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি ৫০টি বই পড়েছেন, ৫০টি নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে যোগ দিয়েছেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে দেখা করতে ও তাদের কাছ থেকে শিখতে ভারতের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে প্রায় ৬,০০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করেছেন।
তবে জয়নামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি কেবল বুর্জ খলিফার অফিস নয়,= বরং পড়াশোনা ও জীবনকে দেখার তার দৃষ্টিভঙ্গি।
তার এই জীবনযাত্রা প্রমাণ করে যে আজকের দিনে শিক্ষা কেবল চার দেওয়ালের শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়। কৌতূহল, মানুষের সঙ্গে আলোচনা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা তার এই পথচলায় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এত কম বয়সে তার অর্জনগুলো এত আলোচনা তৈরি করা সত্ত্বেও জয়নামের লক্ষ্য স্থির রয়েছে ভবিষ্যতের পানে।
কার্লি টেলস মিডল ইস্টের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, তিনি এমন একটি ইউনিকর্ন কোম্পানি গড়ে তুলতে চান যা বিশ্বে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। আর এর মাধ্যমেই তিনি প্রমাণ করতে চান যে বয়সের সংখ্যা কখনো মানুষের বড় স্বপ্নের আকৃতি নির্ধারণ করে না।
সাধারণ কিশোরদের কাছে ১৪ বছর বয়স মানে নতুন শখ বা আগ্রহ খুঁজে পাওয়ার সময়। কিন্তু জয়নাম জৈনের কাছে এটি হলো নিজের জানালার বাইরে পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত স্কাইলাইন বা শহর দেখতে দেখতে আস্ত এক ব্যবসা দাঁড় করানোর বয়স।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
প্রতীকী ছবি
অনেকেই পেশি শক্তিশালী করতে নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। কেউ কেই নিয়ম করে জিমেও যান। তবে পেশি মজবুত করতে শুধু শরীরচর্চা বা জিমে যাওয়ই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু খাবার যোগ করাও জরুরি। পটাশিয়াম কোষের ভেতরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজ করতে সাহায্য করে। শরীরে পটাশিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে পেশির দুর্বলতা, ক্র্যাম্প বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে পেশি মজবুত করতে খাদ্যতালিকায় পটাশিয়ামযুক্ত খাবার করা প্রয়োজন। যেমন-
কলা
কলা পটাশিয়াম এবং কার্বোহাইড্রেটের দারুণ একটি উৎস। এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। অন্যদিকে পটাশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজ বজায় রাখে। এ কারণে ওয়ার্কআউট শুরু করার আগে একটা কলা খেলে শরীরে ভরপুর শক্তি পাবে।
আলু
আলুতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। বিশেষ করে খোসাসহ আলু খেলে এর গুণাগুণ আরও বেড়ে যায়। এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট ওয়ার্কআউটের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায় এবং ব্যায়ামের পর পেশির গ্লাইকোজেন স্টোর রিকভার করতে সাহায্য করে। ডিম, মাছ, মুরগির মাংস বা ডালের মতো প্রোটিন যুক্ত খাবারের সঙ্গে সেদ্ধ বা বেক করা আলু খেতে পারেন।
পালং শাক
পালং শাকে পটাশিয়ামের পাশাপাশি ফোলেট, ভিটামিন কে এবং অন্যান্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টির পরিমাণ বাড়াতে ডাল, সবজির তরকারি, স্যুপ বা অমলেটে পালং শাক মিশিয়ে নিতে পারেন। নিয়মিত ডায়েটে এই ধরনের শাকপাতা রাখলে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি মেটে।
ডাবের পানি
ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং তরল থাকে। ব্যায়ামের পর শরীরে পানির ঘাটতি মেটাতে এবং ক্লান্ত পেশিকে আরাম দিতে ডাবের পানি খুব ভাল কাজ করে।
ডাল
ডাল, রাজমা, ছোলা এবং অন্যান্য শস্যদানায় পটাশিয়াম,উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার এবং কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। যারা নিরামিষ খান, তাদের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পেশি ঠিক রাখতে এই খাবারগুলো ভালো কাজ করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডাল, রাজমা বা ছোলার মতো খাবার রাখলে শরীর পর্যাপ্ত পটাশিয়াম ও প্রোটিন পায়।
অ্যাভোকাডো
অ্যাভোকাডোতে পটাশিয়াম, ফাইবার এবং আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। সালাদ, স্যান্ডউইচ বা অন্য যেকোনো সুষম খাবোরের সঙ্গে অ্যাভোকাডো খেতে পারেন।
টকদই
টক দইয়ে প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি পটাশিয়ামও থাকে। ব্যায়ামের পর ভারী খাবার বা স্ন্যাকস হিসেবে এটি খেতে পারেন। চিনি ছাড়া টক দইয়ের সঙ্গে ফল, ওটস বা বাদাম মিশিয়ে খেলে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির দারুন ভারসাম্য তৈরি হয়।
ছবি : সংগৃহীত
বাড়ন্ত বয়সে শিশুদের পর্যাপ্ত প্রোটিন জরুরি। কারণ এটি শিশুর শারীরিক-মানসিক বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু খাবার থেকে শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন পৌঁছোচ্ছে কি না তা অনেক সময় বোঝা যায় না। দৈনন্দিন খাবার থেকে শরীরের চাহিদামতো প্রোটিন না মিললে, শিশু অল্পেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, শরীরের বৃদ্ধিও ব্যাহত হয়।
আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স অনুযায়ী শিশুদের প্রোটিনের গড় চাহিদা বদলায়। প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ থেকে ৩ বছরের শিশুর দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা ১.০৫ গ্রাম, ৪ থেকে ১৩ বছরের ক্ষেত্রে ০.৯৫ গ্রাম, ১৪ থেকে ১৮ বছরেরর জন্য ০.৮৫ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।
আইসিএমআর-এনআইএন-এর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যদি ৫ বছর বয়সী শিশুর ওজন ২০ কেজি হয়, তবে তার প্রতিদিন প্রায় ১৯ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।
যেসব লক্ষণে বুঝবেন শিশুর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হচ্ছে
ঘন ঘন ক্ষুধা: শিশু যদি বারবার বিস্কুট, চিপস বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের বায়না করে, তবে বুঝতে হবে মূল খাবার খেয়ে তার পেট ভরছে না। মূল খাবারে পুষ্টির ঘাটতি হলেও বার বার ক্ষুধা পেতে পারে। খাদ্যতালিকায় ডাল, দই, পনির, ডিম, মাছ, মাংস, ছোলা থাকলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে।
দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া: শিশুরা প্রাণচঞ্চল ও চনমনে হবে সেটাই স্বাভাবিক। খেলার সময় শিশু যদি দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তার খাদ্যতালিকায় নজর দেওয়া প্রয়োজন। দুধ, ছোলা ভাজা, ডিম বা পনিরের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার তালিকায় রাখা দরকার। এগুলি শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
ওজন বৃদ্ধি না হওয়া: পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালোরির অভাবে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী উচ্চতা ও ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বৃদ্ধি সন্তোষজনক না হলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া বা সেরে উঠতে দেরি হওয়া: প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের পুনর্গঠনে সাহায্য করে। শিশু যদি বারবার অসুস্থ হয় বা অসুখ থেকে সেরে উঠতে বেশি সময় নেয়, দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
পেশির দুর্বলতা: ছোটখাটো ক্ষত সহজে না শুকোনো, পেশি দুর্বল হওয়া পুষ্টির ঘাটতির সঙ্কেত। ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাবার খাওয়াতে হবে।
নভেম্বরের শুরুতেই দেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান আবহাওয়াগত পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের আমেজ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। তেঁতুলিয়া, রাজারহাট ও দিনাজপুরে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে আসায় শীতের আগমনী অনুভূতি পাওয়া যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। রংপুর বিভাগের তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরে তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।
তিনি জানান, বর্তমান আবহাওয়াগত পরিস্থিতি কেটে গেলে আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।
এদিকে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের তথ্য অনুযায়ী, লঘুচাপটি শনিবারের মধ্যে নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
তবে আপাতত লঘুচাপটির বাংলাদেশের আবহাওয়ার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব নেই। ২৫ অক্টোবরের পর দেশের উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনাও পরিবর্তিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, অক্টোবরের শেষ ভাগে উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলেও নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় শীতের অনুভূতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতীকী ছবি
চারপাশে কত মানুষ, তারপরও অনেক সময় নিজেকে ভীষণ একা মনে হয়। কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করে না। আবার মনের কথা বলার মতো কাউকে খুঁজেও পাওয়া যায় না। ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, সম্পর্কের টানাপড়েন কিংবা জীবনের নানা পরিবর্তনের কারণেই আজকাল অনেকেরই এমন অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। আবার সবসময় যে আপনার পাশে কেউ থাকবেই এমনটাও আশা করা ঠিক নয়। এর চেয়ে ভালো নিজের একাকীত্বকেই নিজের প্লাস পয়েন্ট হিসেবে গড়ে তোলা। ছোট ছোট কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে নিজের একাকীত্বকে ‘মি টাইম’-এ পরিণত করুন। এজন্য যা করতে পারেন-
নিয়মিত নিজের সঙ্গে কথা বলুন
নিজের সঙ্গে প্রতিদিন কিছুটা সময় কথা বলার চেষ্টা করুন। সব সময় গভীর আলোচনা করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সাধারণ কথাবার্তা বলুন। নিজেই নিজের বন্ধু হন।
পছন্দের কাজকে সিরিয়াসলি নিন
বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা, বাগান করা, এক্সারসাইজ, যে কাজেই আনন্দ পান, তা বেশি বেশি করার চেষ্টা করুন। কাজের সময়টুকু বাদ দিয়ে এটাকে গুরুত্ব দিন। যেমন- কেউ যদি ছবি আঁকেন, চেষ্টা করুন নতুন ধরনের, আরও নতুন ধরনের ছবি আঁকার। এরকম যেই কাজ করতে ভালো লাগে সেদিকে মনোযোগ দিন।
শরীরচর্চা করুন
নিয়ম করে হাঁটতে বেরোন বা হালকা ব্যায়াম করুন। নিয়মিত শরীরচর্চা মন ভাল রাখতে এবং দৈনন্দিন কাজে উৎসাহ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
নতুন কিছু শিখুন
রান্না করতে ভালো লাগলে নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন। নতুন কোনও ভাষা বা কোনও বাদ্যযন্ত্র শেখার চেষ্টা করতে পারেন।
ঘরের বাইরে বের হন
সুযোগ পেলেই ঘর থেকে বেরিয়ে কাছাকাছি কোথাও হেঁটে আসুন। বাইক বা গাড়ি থাকলে কিছু সময়ে জন্য একটু রাইডে বেরিয়ে যেতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কমান
অন্যের সাজানো জীবনের ছবি দেখে নিজের জীবনকে ছোট ভাববেন না। সবার জীবনেই ভালো-মন্দ আছে। অনলাইনে মানুষ শুধু নিজের সেরাটাই দেখায়। ছবি-ভিডিওতে কারও জীবন সুন্দর লাগলেও বাস্তবে তা সবসময় হয় না।
ঘুমের নিয়ম ঠিক রাখুন
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। ঘুমের অনিয়ম হলে মনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়ম করে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান। ঘুমকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে নিন।
ছোট ছোট লক্ষ্যমাত্রা সেট করুন
নিজের পেশা হোক বা শখ, সেখানে নিজের জন্য লক্ষ্যমাত্রা সেট করুন। নিজের দক্ষতা বাড়ান। সবসময় তার থেকে যে টাকা আয় করতে হবে, বিষয়টা তা নয়। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক চ্যালেঞ্জ পছন্দ করে। সেই চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে লড়াই করলে মস্তিষ্ক ঠিক থাকে।
অন্যের পাশে দাঁড়ান
কাউকে সাহায্য করলে বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যোগ দিলে দেখবেন মন ভালো লাগবে। অসহায়, দুর্বল প্রাণীদের সাহায্য করুন।
প্রয়োজন হলে সাহায্য চান
দীর্ঘদিন ধরে একাকীত্ব বোধ হলে বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।