বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৫, সময় : ৬:০৯ এএম

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আগে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনায় অন্যান্য দেশের এজেন্সিগুলো বেশি সুবিধা পেত। দুই দেশের আলোচনার পর মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্ট নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক মানদণ্ড প্রকাশ করেছে। আজ বুধবার সরকারি তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদল অন্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও একই সুযোগ প্রদান করার লক্ষ্যে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্ট নির্বাচনের মানদণ্ড নির্ধারণ এবং তা বাংলাদেশকে অবহিত করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। সে পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল তাদের কাছ থেকে ‘রিক্রুটিং এজেন্ট সিলেকশন ক্রাইটেরিয়া’ বিষয়ে পত্র পাওয়া গেছে। আগামীতে এসব অভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের রিক্রুটিং এজেন্ট ঠিক করা হবে বলেও জানা গেছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনায় আগে অন্য দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিকে বেশি সুযোগ দেওয়া হতো। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে অন্যান্য কর্মী প্রেরণকারী দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য ও সমতা রক্ষা করে বাংলাদেশি বৈধ লাইসেন্সধারী সব রিক্রুটিং এজেন্টকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে বারবার তাগিদ দেওয়ার প্রেক্ষিতে এ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তবে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে এক্ষেত্রে। রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য নির্ধারিত ১০ শর্ত হলো:

১. লাইসেন্স পাওয়ার পর অন্তত ৫ বছর সন্তোষজনকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

২. গত ৫ বছরে কমপক্ষে ৩ হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর প্রমাণ থাকতে হবে।

৩. অন্তত ৩টি ভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

৪. প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও নিয়োগ সংক্রান্ত বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে।

৫. সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সদাচরণের সনদ (Certificate of Good Conduct) থাকতে হবে।

৬. জোরপূর্বক শ্রম, মানবপাচার, অর্থপাচার বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকার রেকর্ড থাকা যাবে না।

৭. নিজস্ব প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন কেন্দ্র থাকতে হবে—যেখানে আবাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা মডিউল থাকবে।

৮. অন্তত ৫ জন আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তার কাছ থেকে ইতিবাচক প্রশংসাপত্র থাকতে হবে।

৯. কমপক্ষে ১০ হাজার বর্গফুট আয়তনের নিজস্ব স্থায়ী অফিস থাকতে হবে, যেখানে কর্মী বাছাই ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।

১০. পূর্বে মালয়েশিয়া বা অন্য গন্তব্য দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রমাণ থাকতে হবে।

মানদণ্ড পূরণকারী বৈধ লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্টদের তালিকাভুক্ত করতে বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানাবে।

এ সব শর্ত পূরণে সক্ষম রিক্রুটিং এজেন্টদের আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আবেদন দাখিলের আহ্বান জানানো হয়েছে।



অতিবৃষ্টি-পাহাড়ি ঢল

সাত জেলায় বন্যা, মৃত্যু ৪৪


চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়ার ইলশা গ্রামে বন্যার পানিতে ভেঙে গেছে মাটির ঘর। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে ভাঙা ঘর দেখে উদ্বিগ্ন রিমা আক্তার

  • প্রকাশ : রবিবার ১২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ এএম

বন্যা ও পাহাড় ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৪৪ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সৃষ্ট এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাত জেলার ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ— এই সাত জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, এসব জেলার ৫৮টি উপজেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। সাত জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার।


মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বন্যা ও পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে। সেখানে পাহাড় ধস ও বন্যায় ২৩ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক। কক্সবাজারে আহত হয়েছেন ২৪ জন। এদিকে বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামে বন্যা ও দেয়াল ধসের ঘটনায় ১১ জন নিহত এবং ১২ জনের আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে মন্ত্রণালয়।


পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ঢলের পানিতে ভেসে ও পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন; আহতের সংখ্যা ২। আরেক পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা মৌলভীবাজারে বন্যায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। জেলার ১৬টি উপজেলায় আংশিক ও পূর্ণ জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩০ জন মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।


চট্টগ্রামে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি। এরপরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে ১০টি উপজেলার ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন মানুষ বন্যাকবলিত এবং ৩৯ হাজার ৫০৬টি পরিবার পানিবন্দি। অন্যান্য জেলার মধ্যে খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলায় ২৭ হাজার ২২০ জন, রাঙ্গামাটির ৯ উপজেলায় ৩ হাজার ৫২৪ জন, বান্দরবানের ৭টি উপজেলায় ৮ হাজার ৩৫০ জন, মৌলভীবাজারের চার উপজেলায় ৩৮ হাজার ১৭২ জন এবং হবিগঞ্জের তিন উপজেলায় ২৮ হাজার ১৪০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।


হঠাৎ উপচে পড়া পানি ও পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি হারিয়ে জীবন বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে হাজারো মানুষ। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি আশ্রয় দিতে মোট ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু মানুষ এখনো নিজের জলমগ্ন ভিটেমাটি আঁকড়ে পড়ে আছেন। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ঠাঁই নেওয়া বিপন্ন মানুষের মাঝে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।


পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি মানবিক সহায়তা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গত ৭ জুলাই দেশের ৬৪টি জেলার জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে মোট ৬ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলেছে। এর মধ্যে দুর্গত এই ৭টি জেলায় বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।


বন্যা কবলিত জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৪০ লাখ টাকা নগদ এবং কক্সবাজারে ৪৫০ মেট্রিক টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রতিটিতে ৪০০ মেট্রিক টন করে চাল এবং ২০ লাখ করে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজারে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জে ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা ত্রাণ কার্য (নগদ) হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছে।


স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, চাল ও নগদ টাকা বিতরণ শুরু হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক জায়গাতে সরকারি-বেসরকারি সাহায্য পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ এখন পানি কমার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ কর্মসূচি, জরুরি সাড়াদান সমন্বয় অধিশাখার যুগ্মসচিব সেখ ফরিদ আহমেদ শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, “ওই সব (বন্যাক্রান্ত) জেলাগুলোর সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। ওখানে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে শুরু করে স্থানীয় যারা জনপ্রতিনিধি আছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং আমাদের এনজিও কর্মী যারা আছেন, সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। “আর আমরা মন্ত্রণালয় থেকে আমরা বরাদ্দের যে বিষয়গুলো আছে, এগুলো আমরা সব জায়গায় মোটামুটি জেলাপ্রশাসনের চাহিদামতো বরাদ্দ দিয়ে রেখেছি। এতে কোনো সমস্যা নেই। অর্থাৎ জেলা প্রশাসন এবং আমাদের মিনিস্ট্রি, দুই পক্ষেরই সার্বিক সহযোগিতা আছে। “অন্যান্য যারা জনপ্রতিনিধি আছেন, স্থানীয় এবং যারা সমাজকর্মী যারা আছেন, সবার সার্বিক সহযোগিতায় মোটামুটি উত্তরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।”


সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ এএম

বিশ্বের শহরগুলো যখন স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহন, নগর ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ঢাকা হাঁটছে উল্টো পথে। একের পর এক আন্তর্জাতিক বাসযোগ্যতা সূচকে পিছিয়ে পড়ছে শহরটি। 


চলতি বছরের বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচকে এক ধাপ পিছিয়ে বিশ্বের তৃতীয় সর্বনিম্ন বাসযোগ্য শহরের অবস্থানে নেমে এসেছে ঢাকা। একই সময়ে বিশ্বের সব অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উন্নতি হয়েছে এশিয়ায়। কিন্তু সেই অগ্রগতির সুফল থেকেও কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী।


নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঢাকার প্রধান সংকট শুধু যানজট নয়। সমস্যার মধ্যে রয়েছে– অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জনঘনত্বের অস্বাভাবিক চাপ, দুর্বল গণপরিবহন, অপর্যাপ্ত খোলা জায়গা, বায়ু ও শব্দদূষণ, জলাবদ্ধতা ও নগর সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা।


লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) মঙ্গলবার ২০২৬ সালের যে ‘গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স’প্রকাশ করেছে তাতে ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। ১০০ নম্বরের মধ্যে ঢাকার সামগ্রিক স্কোর ৪২। ঢাকার নিচে রয়েছে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার দামেস্ক এবং লিবিয়ার ত্রিপোলি। অর্থাৎ যুদ্ধবিধ্বস্ত দুটি শহর বাদ দিলে বিশ্বের আর কোনো শহরই ঢাকার চেয়ে কম বাসযোগ্য নয়। এই সূচক মূলত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগকে বিদেশে কর্মরত কর্মীদের জীবনযাত্রার মান, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা মূল্যায়নে সহায়তা করার জন্য তৈরি করা হলেও সময়ের সঙ্গে এটি বিশ্বের শহরগুলোর জীবনমান পরিমাপের অন্যতম গ্রহণযোগ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। সরকার, বিনিয়োগকারী, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং গবেষকরা শহরের শক্তি ও দুর্বলতা মূল্যায়নে এই সূচক ব্যবহার করেন।


ঢাকার অবস্থান এক বছরের ব্যর্থতার ফল নয়। বরং গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে অবনতি হচ্ছে শহরটির। ২০২১ সালে ১৪০টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল ১৩৭তম। ২০২২ সালে ১৭২টি শহরের মধ্যে ১৬৬তম। ২০২৩ সালেও ১৭৩টি শহরের মধ্যে একই অবস্থানে ছিল। ২০২৪ সালে আরও পিছিয়ে ১৬৮তম স্থানে নেমে যায়। ২০২৫ সালে অবস্থান হয় ১৭১তম। আর এ বছর একই অবস্থানে থেকে বিশ্বের তৃতীয় সর্বনিম্ন বাসযোগ্য শহর হিসেবে রয়ে গেছে ঢাকা।


ইআইইউ পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে শহরগুলোর বাসযোগ্যতা মূল্যায়ন করে। এগুলো হলো–স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা ও অবকাঠামো। এর মধ্যে ঢাকার স্কোরগুলো হলো– স্থিতিশীলতা ৪৫, স্বাস্থ্যসেবা ৪২, সংস্কৃতি ও পরিবেশ ৪১, শিক্ষা ৬৭ এবং অবকাঠামো ২৭। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো অবকাঠামোতে মাত্র ২৭ নম্বর পাওয়া। অর্থাৎ সড়ক, গণপরিবহন, পানি, বিদ্যুৎ, বাসস্থান ও নগরসেবার মানই ঢাকার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। শিক্ষা খাত তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকলেও সেই অর্জন সামগ্রিক বাসযোগ্যতার মান বাড়াতে পারেনি।


ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকায় নাগরিক সুবিধা ও জনঘনত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যাচ্ছে না। বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) এবং বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নেই। যে অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, তার অনেকটাই পরিকল্পনার মানদণ্ড পূরণ করছে না। 


তিনি বলেন, বাসযোগ্য শহরের অন্যতম শর্ত উন্নত গণপরিবহন। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও বাসভিত্তিক শৃঙ্খলাবদ্ধ গণপরিবহন গড়ে ওঠেনি। সরকার অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দিলেও গণপরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার হয়নি। ফলে মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে এবং যানজট আরও বাড়ছে।


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, ঢাকায় নাগরিক সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর জবাবদিহির অভাব রয়েছে। কেন শহরটি ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানই কার্যকরভাবে জবাবদিহি করে না। অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের দুর্বলতা সবচেয়ে বেশি। বাসগুলোর মধ্যে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা চলতে থাকলে তাকে আধুনিক গণপরিবহন বলা যায় না। এই পরিস্থিতিতে অদূর ভবিষ্যতেও ঢাকার বাসযোগ্যতায় বড় ধরনের উন্নতির সম্ভাবনা কম।


বর্তমানে এশিয়ার ৫৮টি শহরের গড় স্কোর প্রায় ৭৪, যা পূর্ব ইউরোপের গড়েরও ওপরে। কিন্তু ঢাকার স্কোর ৪২। অর্থাৎ আঞ্চলিক গড়ের চেয়ে প্রায় ৩২ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এশিয়ার উন্নয়নের সুফল সমানভাবে বণ্টন হয়নি। ঢাকার মতো নিম্ন স্কোরের শহরগুলো পুরো অঞ্চলের গড়কে নিচের দিকে টেনে ধরছে।


দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোর মধ্যেও ঢাকার অবস্থান সবচেয়ে খারাপের দিকে। পাকিস্তানের করাচি রয়েছে ঢাকার ঠিক এক ধাপ ওপরে, ১৭০তম স্থানে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভও ঢাকার চেয়ে এগিয়ে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক শহর যুদ্ধের প্রভাবে পিছিয়ে গেলেও ঢাকার অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার কারণ যুদ্ধ নয়; বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্বল অবকাঠামো, পরিবেশ দূষণ, নগর শাসনের সংকট এবং জনঘনত্ব।



  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬, সময় : ৫:৫৬ এএম

দেশে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।


ইসির এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) সাইফুল ইসলাম জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর এখন দেশের ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জনে।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেদিন ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন।


ইসি কর্মকর্তারা জানান, গত ২৪ নভেম্বরের পরে যারা ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এবং যাদের জন্ম ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, তারাই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।


১২ ফেব্রুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ভোটার হালনাগাদ অব্যাহত থাকে। গেল ৩১ মার্চ পর্যন্ত যারা নিবন্ধন করেছেন, তাদের নিয়ে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। চার মাসের ব্যবধানে ৬ লাখ ২৮ হাজার ভোটার বেড়েছে।


ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয় ২০ এপ্রিল। ভুল সংশোধন বা স্থানান্তরের আবেদন চলে ৩ মে পর্যন্ত। আবেদন নিষ্পত্তির সময় শেষ হয় ৬ মে।


বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা জানিয়ে এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমান ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন; নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ২৪৩ জন।


বাজারে আসতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার আম

  • প্রকাশ : শনিবার ০৯ মে, ২০২৬, সময় : ২:০০ পিএম

সাধারণত সাতক্ষীরা বললেই সুন্দরবন কিংবা দিগন্তজোড়া চিংড়ি ঘের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কিন্তু গত এক দশকে এই পরিচিতি বদলে দিয়েছে এখানকার আম। গ্রীষ্মের সুস্বাদু এই ফল উৎপাদনে রাজশাহী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সুনাম থাকলেও গত এক দশকে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে সাতক্ষীরাও। মধুমাস হিসেবে পরিচিত জ্যৈষ্ঠ মাস শুরু না হতেই বাজারে আসতে শুরু করেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলবর্তী সাতক্ষীরার আম।


কৃষি গবেষকরা বলছেন, উত্তরবঙ্গের চিরাচরিত আমের সাম্রাজ্যে ভাগ বসিয়ে সাতক্ষীরা এখন দেশের আম অর্থনীতির নতুন এক উৎস। ভালো স্বাদের পাশাপাশি মৌসুমের শুরুতে সবচেয়ে আগে সাতক্ষীরার আম বাজারে আসার বিষয়টি এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে বলেই মনে করেন তারা। এখানকার আম এখন আর শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেই নয় যাচ্ছে বিদেশেও। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিষমুক্ত চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণের ফলে এখানকার আম এখন ইউরোপের চেইন শপগুলোতেও জায়গা করে নিয়েছে।


সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা থেকে একশ টন আম বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম। 


জেলা প্রশাসনের ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এবছর গোবিন্দভোগ আম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় আমের মৌসুম শুরু হয়েছে। এরপর হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম বাজারে আসবে। আর জুনের শুরুতে সংগ্রহ করা হবে আম্রপালি জাতের আম। একইভাবে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে আম পাড়া শুরু হবে আগামী ১৫ই মে থেকে।


"অন্যবারের তুলনায় এবার ঝড় কম হয়েছে, পোকার সমস্যা কিছুটা ভুগিয়েছে, তবে সব মিলিয়ে ফলন ভালোই। আজকে পনের ক্যারেট গোবিন্দভোগ আম বাজারে দিলাম ১৯শ টাকা মণ করে।" এভাবেই বলছিলেন, সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকার আম চাষী খান নাজমুস সাদাত। তিনি জানান, মৌসুমের শুরুতেই ধরণ ভেদে উনিশ-শো থেকে চব্বিশ-শো টাকায় আম বিক্রি হয়েছে সাতক্ষীরায়। কৃষি বিভাগের 'ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার' হিসেবে এই জেলার আম-ই সব থেকে আগে বাজারে আসছে।


সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের 'ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার' অনুযায়ী মঙ্গলবার (পাঁচই মে) থেকে শুরু হয়েছে গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ আম সংগ্রহের কাজ। এরপর ধারাবাহিকভাবে অন্যান্য জাতের আম সংগ্রহ করা হবে। কয়েকদিনের মধ্যেই সাতক্ষীরার আম দেশের সব প্রান্তে পৌঁছে যাবে বলে জানান স্থানীয় আম ব্যবসায়ী মোহম্মদ শাহারুল ইসলাম রাজ।


উত্তরবঙ্গের আম পাকতে যখন আরও সপ্তাহখানেক বাকি, তখন বৈশাখ মাস শেষ না হতেই সবার আগে কিভাবে সাতক্ষীরার আম বাজারে আসে, এমন প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মনেই। এর পেছনে ভৌগলিক নানা কারণ রয়েছে বলেই মনে করেন কৃষি গবেষকরা।


আঞ্চলিক উদ্যান তত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলছেন, "প্রতি ডিগ্রি অক্ষাংশ বৃদ্ধির জন্য আমের সংগ্রহকাল তিন দিন পিছিয়ে যায়।" তিনি বলছেন, দেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী সাতক্ষীরা এলাকা ২২ দশমিক ৬০ ডিগ্রি অক্ষাংশে অবস্থিত এবং উত্তরের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থান ২৪ দশমিক ৫৬ ডিগ্রি অক্ষাংশে। সেই হিসেবে প্রতি ডিগ্রি অক্ষাংশের পরিবর্তনে সাতক্ষীরা এলাকা থেকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের সংগ্রহকাল অন্তত ছয় থেকে সাতদিন পরে শুরু হয়। যা পঞ্চগড় এলাকায় আরও কিছুটা পিছিয়ে যায়। "একই জাতের আম সাতক্ষীরায় যেটা আজকে হারভেস্ট হবে ওইসব এলাকায় অবস্থান ভেদে এক সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহ পরে শুরু হবে," বলেন শরফ উদ্দিন।


বিশ্বজুড়েই আম উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি একইরকম বলে জানান এই গবেষক। অর্থাৎ অক্ষাংশ যত বাড়বে আমের সংগ্রহকাল ততো পিছিয়ে যাবে। এছাড়া আমের মুকুল আসা এবং ফোঁটার ক্ষেত্রে তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও জানান তিনি। শরফ উদ্দিন বলছেন, "মুকুলটা যখন আসে তখন থেকে এটা ফুটতে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। কিন্তু যদি তাপমাত্রা বেশি হয় তাহলে মুকুল কিছুটা আগেভাগেই ফুটে যায়। সাতক্ষীরার উপকূলবর্তী এলাকায় তাপমাত্রা বেশি থাকায় অন্য এলাকার তুলনায় আম আগেই পরিপক্ব হয়।"


সাতক্ষীরার আম আগেভাগেই আমের পরিপক্বতা আসার ক্ষেত্রে মাটির লবণাক্ততাও একটি কারণ বলে মনে করেন জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলছেন, কেবল আম নয় সাতক্ষীরা এলাকায় লবণাক্ততার কারণে ধানের ক্ষেত্রেও জীবনকাল কিছুটা কম। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের কিছুটা আগেই পরিপক্বতা লাভ করে। "ভৌগলিক অবস্থানের কারণে সাতক্ষীরায় আমের মুকুলও আগাম আসে পরিপক্বতাও আগাম আসে। এছাড়া মাটিতে লবণ থাকার কারণে যে কোনো জিনিসের বয়স কমিয়ে দেয়," বলেন তিনি।


স্বাদে কোনো তফাৎ থাকে?

কেমিক্যাল ব্যবহার করে আগেভাগেই ফল পাকানোর অভিযোগ বাংলাদেশে নতুন নয়। আর এ কারণেই ফল খাওয়া নিয়েও বেশ শঙ্কায় থাকেন অনেকে। বিশেষ করে মৌসুম শুরুর দিকে কোনো ফল বাজারে দেখলে তার প্রতি এক ধরনের আস্থাহীনতাও যেমন কাজ করে তেমনি আগেভাগেই বাজারে আসা ফল অপরিপক্ব কিনা অথবা সঠিক স্বাদ পাওয়া যাবে কিনা- এসব নিয়েও নানা প্রশ্ন থাকে অনেকের।


কৃষি গবেষক ড. মো. শরফ উদ্দিন বলছেন, সাতক্ষীরার আম ভৌগলিক অবস্থান এবং আবহাওয়াগত কারণেই অন্যান্য এলাকার তুলনায় কিছুটা আগেভাগে বাজারে আসে। এর সঙ্গে স্বাদ কম- বেশি হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। "একই জাতের আম সাতক্ষীরা এবং রাজশাহী অঞ্চলে স্বাদের ক্ষেত্রে খুব বেশি পার্থক্য থাকেনা, ঊনিশ-বিশ হতে পারে," বলেন তিনি।


তবে বৃষ্টির প্রভাব কম থাকলে আমের আকারে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলছেন, রাজশাহী বা চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে এই সময় অধিক খরা হওয়ায় মাটিতে রসের ঘাটতি তৈরি হয় যার ফলে শুষ্ক আবহাওয়ায় আমের আকার কিছুটা বড় হয়। "এখন যে বৃষ্টি হচ্ছে এটা আমের পরিপক্ব হওয়ার জন্য সহায়ক কিন্তু এই বৃষ্টি যদি আরও আট-দশদিন চলে তাহলে সেটা আমের জন্য ক্ষতিকর"


আমের জাত এবং মাটির গুণ ভেদে স্বাদের কিছুটা তফাৎ তৈরি হয় বলে জানান কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলছেন, "সাতক্ষীরার হিমসাগর আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষীরসাপাত একই আম। কিন্তু তাপমাত্রা ও মাটিতে লবণ থাকার কারণে সাতক্ষীরার আমের মিষ্টতা কিছুটা বেশি, কারণ ড্রাই মেটারের পরিমাণ এই আমে কিছুটা বেশি থাকে।"

এর ফলে এই জেলায় প্রতি বছর আম ব্যবসার পরিধি বাড়ছে। স্থানীয় আম ব্যবসায়ী মোহম্মদ শাহারুল ইসলাম রাজ জানান, লবণাক্ততা পানির কারণে কৃষিতে অনিশ্চয়তা থাকায় সাতক্ষীরার অনেক কৃষকই এখন আম চাষের দিকে ঝুঁকেছেন।


জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলছেন, চলতি মৌসুমে জেলায় চার হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১২ হাজার ৩০০ চাষি আমের চাষ করেছেন। এ বছর অন্তত ১০০ টন আম বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৮ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৫:৩৬ এএম

ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় কম-বেশি বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই বৃষ্টি ঝরবে দুদিন, সঙ্গে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বইবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক।


অধিদপ্তরের শনিবার সকালের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, এদিন সকাল ৯টা থেকে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎচমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।


আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক শনিবার সকালে বলেন, “আজ ২৮ তারিখ, আগামীকাল ২৯ তারিখ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে এখন আপাতত দুই এক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে একটু বৃষ্টি হতে পারে; রাজশাহী, সিলেট বিভাগে।


“কিন্তু বিকাল বা সন্ধ্যা নাগাদ বা রাতে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে এবং আগামীকালও বৃষ্টি হতে পারে প্রায় সারা দেশের বিভিন্ন জায়গাতে হতে পারে।”


কালবৈশাখীর সম্ভাবনা আছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখন যে বৃষ্টি হবে সেটা দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হবে।”


বুলেটিনে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।


এদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে; ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে; ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে দিনাজপুরে; ৪১ মিলিমিটার। এছাড়া, রংপুরে ৪০, নীলফামারীর ডিমলায় ৩২, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ২৯ ও কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করা হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৬:২৩ এএম

আরও দুটো পাম্প ঘুরে বৃহস্পতিবার রাত ৩টার সময় ডিজেল নেওয়ার জন্য রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় লাইনে দাঁড়ান মিনি কাভার্ড ভ্যানচালক মো. ইসমাইল।


তিনি যখন ‘ট্রাস্ট পাম্প’ থেকে তেল নিয়ে বের হন তখন শুক্রবার সকাল ৮টা। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর ইসমাইল তেল পেয়েছেন ১০ লিটার।


গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর ট্রাস্ট পেট্রোল পাম্পে লাগাতার এক কিলোমিটারের বেশি যানবাহনের সারি ছিল। সেনাকল্যাণ ট্রাাস্ট পরিচালিত এই পেট্রোল পাম্পটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই তেল বিক্রি করছে।


বাস ও ট্রাক চালকেরা বলছেন, ঢাকার কিছু পাম্পে তাও তেল বিক্রি করছে। কিন্তু ঢাকার বাইরের অবস্থা আরও করুণ। পাম্পগুলো তাদের নিয়মিত গ্রাহক, চুক্তিবদ্ধ বড় পরিবহন কোম্পানি বা পরিচিতদের বাইরে অন্যদের তেল দিচ্ছে না।


তেলের এই অনিশ্চয়তা থেকে আন্তঃজেলা ট্রাক ও বাসগুলো ঢাকা থেকে তেল নেওয়ার জন্য ভিড় করছে। তিন-চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে তেল না পাওয়ারও অভিযোগ করছেন চালকেরা।


এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ঈদ যাত্রায় ব্যাপক ভোগান্তি হতে পারে বলে আগাম সতর্ক করছেন বাস কোম্পানির কর্মকর্তা ও মালিক নেতারা।


সরকারের তরফে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে নানাভাবে আশ্বস্ত করা হলেও জ্বালানি তেল বিতরণে বিশৃঙ্খলা আরও বেড়েছে।


পাম্পগুলো কিছুক্ষণ জ্বালানি তেল বিক্রি করে আবার বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে যেসব পাম্পে নিয়মিত তেল দেওয়া হচ্ছে তাদের ওপর চাপ বাড়ছেই।


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় গত কয়েক দিনে পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ঢাকায় তেল বিক্রি ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার খবর আসে।


এই পরিস্থিতিতে গত ৬ মার্চ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি।


ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার, ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার, এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত অকটেন বা পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে।


ডিজেলচালিত পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনারবাহী যানবাহনে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।


এরপর অনিয়ম, মজুদদারি ও বেশি দামে বিক্রি ঠেকাতে জেলা প্রশাসকদের মোবাইল কোর্ট চালানোর নির্দেশ দেয় সরকার। অবৈধ মজুদ, বেশি দাম নেওয়া ও চোরাচালান ঠেকাতে এই অভিযান পরিচালনার কথা বলা হয়।


জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং, মোবাইল কোর্টের নজরদারি এবং পাম্পে দীর্ঘ লাইনের চাপে ফিলিং স্টেশন চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।


পাম্প মালিকরা তেল থাকার পরেও এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরির জন্য সরকারের কিছু উদ্যোগকে দায়ী করছেন।


তবে সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য ১৫ মার্চ থেকে রেশনিংয়ের পরিবর্তে স্বাভাবিকভাবে তেল সরবরাহের কথা বলা হচ্ছে।


সাড়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষা পর ১০ লিটার


সকালে ইসমাইল নামে যে কাভার্ড ভ্যানচালকের সঙ্গে কথা হয় তিনি এসেছিলেন রাজধানীর ফলের আড়ত খ্যাত বাদামতলী থেকে।


তিনি বলছিলেন, “সরকার যে ৭০-৮০ লিটার কইরা তেল দিতে বলছে পিকাপ ভ্যানে সেইটাও তো কোথাও পাইতাছি না। তেলই দেয় না পাম্পগুলান। এরা তো তবুও ১০ লিটার দিছে।”


তেল না পাওয়ার কারণে দুইদিন গাড়ি বসিয়ে রেখেছিলেন জানিয়ে ইসমাইল বলেন, “মঙ্গলবার এয়ারপোর্ট থেকে আসার সময় এক পাম্পে ঢুকালাম। দেড় ঘন্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর পাম্প থেকে জানান দিল যে আর তেল নাই। কেমনটা লাগে কন!


“ট্রিপ ধইরা কি আমি মাঝ রাস্তায় গাড়ি বন্ধ কইরা বইয়া থাকুম। এজন্যে ট্রিপই ধরি না দুইদিন। কিন্তু সামনে ঈদ, বাইর তো হইতে হইব।”


তিনি বলছিলেন, তার ‘অশোক লেইল্যান্ড দোস্ত’ মডেলের গাড়িটা ১ লিটার ডিজেলে ১০ কিলোমিটারের মতো চলে। কিন্তু ট্যাংকিতে অন্তত ২০ লিটার ডিজেল না থাকলে যে কোন ট্রিপ ধরাই মুশকিল।


তেজগাঁওয়ের সিটি ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে কথা হয় হাজী পরিবহন নামে একটি বাসের চালক আবুল বাশারের সঙ্গে। এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়ানোর পরেও তিনি তখন পাম্প থেকে অন্তত দেড় কিলোমিটার দূরে লিংক রোডে।


ঢাকা-হালুয়াঘাট রুটে চলাচলকারী বাসটির চালক আবুল বাশার বলছিলেন, “গাজীপুরের ওই দিকে কোথাও তেল নাই। আর যাত্রী নিয়া তো আপনি তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়াইতে পারবেন না। যে কোম্পানির (বাস অপারেটর) নিজস্ব পাম্প আছে তাগো কথা আলাদা। কিন্তু আমরা তো খুব বিপদে আছি। তেল নিতে পারতেছি না।


“তিন-চার ঘণ্টা ধইরা লাইনে দাঁড়াইলেও কয় লিটার তেল দেয় আল্লাই জানে। আমারে তো দিনে দুইটা রাউন্ড ট্রিপ দিতে দেড়শ’ লিটার তেল লাগবো মিনিমাম।”


বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ ভবন সংলগ্ন পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাবের পেট্রোল পাম্পে গিয়েও পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যায়নি। তবে বাস-ট্রাকে ডিজেল দেওয়া হচ্ছিল।


ভুঁইয়া পরিবহন বাসের চালক এমদাদুল হক বলছিলেন, “গাড়ি বন্ধ কইরা কই বাড়ি যামু, রোজা-রমজান মাস। এহন আইসা খাড়ায়া আছি তেলের লাইনে। কাইলকাও রাইতভর খাড়ায়া পরে ৫০ লিটার তেল পাইছি।”


ঈদযাত্রার কী হবে?


চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। সম্ভাব্য এই তারিখ ধরে আগেই সরকারের তরফে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটির কথা বলা হয়েছিল। ঈদযাত্রার ভোগান্তি কমাতে সরকার নির্বাহী আদেশে ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করেছে। আর ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি। ফলে এবারের রোজার ঈদে সব মিলিয়ে সাত দিনের ছুটি পেয়েছে মানুষ।


বৃহস্পতিবার থেকে বাসে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রার আগাম টিকেট দেওয়া শুরু হয় ৩ মার্চ।


কিন্তু জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এরকম থাকলে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আগাম সংকেত দিয়ে দিয়েছেন বাস সংশ্লিষ্টরা। তবে এখন পর্যন্ত ডিজেল সংকটের কারণে দূরপাল্লার বাস অপারেটরগুলো খুব বেশি ট্রিপ বাতিল করেনি বলে এদিন গাবতলী ও কল্যাণপুর ঘুরে জানা গেল।


কল্যাণপুরের গ্রামীণ পরিবহনের বাসের ম্যানেজার মো. হাসান বলেন, “আমরা তো ঈদের সব বুকিং ফুল কইরা রাখছি। এখন পর্যন্ত আমরা শুধু একদিন একটা এসি গাড়ির ট্রিপ বাতিল করছি। এছাড়া গাড়িগুলান সব চলতেছে।”


তিনি বলেন, “ঢাকা-রাজশাহী আপ-ডাউনে নতুন গাড়িগুলোতে ১২০ থেকে ১৩০ লিটার ডিজেল লাগে, আর পুরনো হলে আরেকটু বেশি। এসি গাড়িতে ডিজেলের এই খরচ দেড়শ’র ওপরে চলে যায়। লাইনে দাঁড়িয়ে নানাভাবে ম্যানেজ করে চালানো হচ্ছে।”


দেশের অন্যতম বড় অপারেটর হানিফ এন্টারপ্রাইজের মহাব্যবস্থাপক আব্দুস সামাদ বলছেন, “ঢাকায় যা লাইন সব তো অক্টেনের জন্য। ডিজেলের সংকট আছে, তবে আমরা এখনো চালাচ্ছি।”


তবে তেল সংকটের কারণে হানিফ এন্টারপ্রাইজ শেষের দিকে ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেয়। যদিও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে হানিফ এন্টারপ্রাইজের একাধিক নিজস্ব পেট্রোল পাম্প রয়েছে।


নিজস্ব পেট্রোল পাম্প রয়েছের দেশের আরেক পুরনো বাস অপারেটর সোহাগ পরিবহনেরও।


তবে সোহাগ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক তালুকদার সোহেল বলছেন, পাম্পে রেশনিংয়ের কারণে তেল পেতে সমস্যা হচ্ছে। বাসগুলোকে চাহিদামাফিক তেল দেওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চললে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি হতে পারে, বলছেন এই ব্যবসায়ীও।


আসলেই কি ঈদের যাতায়াতে তেলের কারণে ভোগান্তি হতে পারে? জবাবে তিনি বলেন, “আগামী কয়েকদিনে তেলের কী পরিস্থিতি দাঁড়ায় সেটা তো প্র্যাকটিক্যালি এখনি বলা সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি এরকম থাকলে আপনি যদি স্পেকিউলেট করেন, তাহলে কিছু শঙ্কা তো থেকেই যায়।”


এর মধ্যেই অনেক বাস কোম্পানি আগাম নোটিস দিয়ে ট্রিপ বাতিল বা অতিরিক্ত ভোগান্তির বিষয়ে যাত্রীদের সতর্ক করে দিয়েছে।


এসি স্লিপার বাস অপারেটর আইকনিক এক্সপ্রেস গেল ১০ মার্চ তাদের ফেইসবুক পেইজে যাত্রীদের সতর্ক করে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।


সেখানে বলা হয়েছে, “চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সংকটে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও তেলের ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে… আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আইকনিক এক্সপ্রেসের নির্ধারিত কিছু ট্রিপ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


“যারা ইতোমধ্যে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছেন বা করবেন, তাদের নিয়মিত আমাদের কাউন্টারে যোগাযোগ রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। যদি কোনো যাত্রা বাতিল হয়, তবে টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত দেওয়া হবে।”


বাস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, “এখন তেলের যে রেশনিং করা হচ্ছে তাতে গাড়িগুলোর পাম্পে গিয়ে তেল ভরতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। তাতে সমস্যা তো হচ্ছেই।


“তবে ঈদের সময় এভাবে রেশনিং করলে আমরা যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পারবো না। তখন তো যাত্রী নামিয়ে দিয়ে এসেই গাড়িগুলো আবার ঘুরে যায়। তখন রেশনিং থাকলে গাড়িগুলো যাত্রী টানবে না পাম্পে গিয়ে তেলের জন্য লাইন দেবে।”


সরকারকে দায়ী করছেন পাম্প মালিকরা


পেট্রোল পাম্প মালিকেরা এই পরিস্থিতির জন্য সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও তেল সরবরাহ স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু ৫ মার্চ সরকারের তরফ থেকে তেল সাশ্রয়ের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হলে মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়ায়। লোকজন ট্যাংক ভর্তি করে তেল কিনে মজুদ করা শুরু করলে পেট্রোল পাম্পগুলো রাতারাতি খালি হয়ে যায়।


এই পরিস্থিতিতে ৬ মার্চ সরকার তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দেয়। পাশাপাশি পাম্পগুলোর সরবরাহ কমিয়ে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।


বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেছেন, “সারাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের প্রকৃত ঘাটতি নেই। সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে উৎপাদিত কনডেনসেট পরিশোধনের মাধ্যমে দেশের মোট পেট্রোল ও অকটেন চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সিলেটেই উৎপাদিত হয়।


“প্রথমে গুজবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় শুরু হয়। এর ফলে বাজারে হঠাৎ চাপ তৈরি হয়। তবে সংকটের সূচনা গুজব থেকে হলেও, পরবর্তীতে বিপিসি তড়িঘড়ি করে জ্বালানি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা না করেই রেশনিংয়ের একটা নীতিমালা দেয়। এই বিপণন নীতিমালা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত ও দীর্ঘায়িত করেছে।”


দুর্ভোগের সম্ভাবনা দেখছেন না সড়কমন্ত্রী


তবে সরকারের তরফ থেকে রোববার থেকে সারাদেশে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে।


ট্রেনে ঈদযাত্রার প্রথম দিন শুক্রবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আগামী ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তেলের দামও বাড়ানো হবে না।


তিনি বলেন, “তেলে কোন সমস্যা হবে না। বিশেষ করে পাবলিক পরিবহন যারা আছে তারা তেল অবাধে পাবেন, এটা নিশ্চিত করা হয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী আমাকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন ১৫ মার্চ থেকে পর্যাপ্ত তেল গণপরিবহনে সরবরাহ করা হবে। আর তেলের দাম বাড়ানো হবে না। যার ফলে ভাড়াও বাড়বে না।


“যার কারণে আমি এখন পর্যন্ত তেল সংক্রান্ত দুর্ভোগ হওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখছি না।”