ছবি : সংগৃহীত
ম্যানগ্রোভের গহিন অরণ্য, লবণাক্ত পানির ঢেউ আর গোলপাতার ঝোপের সুন্দরবন মানেই প্রকৃতির এক আদিম রূপ। যেখানে মানুষের পদচারণা সীমিত, সেখানে প্রযুক্তির ছোঁয়া পাওয়া ছিল একসময় কল্পনাতীত। বিশেষ করে সুন্দরবনের গহিনে পর্যটনকেন্দ্র বা রিসোর্টগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বলতা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিড়ম্বনা। কিন্তু সেই দিন এখন আর নেই।
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক সুন্দরবনে যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সুযোগ তৈরি করছে। দীর্ঘদিন ধরেই সুন্দরবন ভ্রমণে আসা পর্যটকদের অন্যতম বড় অভিযোগ ছিল ইন্টারনেটের ধীরগতি।
বনের ভেতরে মোবাইল টাওয়ারের সংখ্যা কম হওয়ায় এবং ঘন বনের কারণে তরঙ্গ বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় সাধারণ থ্রি-জি বা ফোর-জি ইন্টারনেট সেখানে খুব একটা কার্যকর হয় না। কিন্তু স্টারলিংক এই সমস্যার সমাধান করেছে। কোনো টাওয়ার বা মাটির নিচের কেব্ল ছাড়াই সরাসরি উপগ্রহের মাধ্যমে সুন্দরবনে স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
সুন্দরবনের পাশেই দাকোপে অবস্থিত জঙ্গলবাড়ি ম্যানগ্রোভ রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া হোসাইন জানান, ‘সুন্দরবন ঘেঁষে দুটি রিসোর্টে গত কয়েক মাস হলো স্টারলিংকের মাধ্যমে ইন্টারনেট–সুবিধা নিয়েছি আমরা। আগে ইন্টারনেটের জন্য আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। এখন আমরা নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক কাজ থেকে শুরু করে বুকিং ম্যানেজমেন্টের সব কাজ খুব সহজে করছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমাদের অতিথিরা এখন বনের ভেতরে থেকেও বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারছেন। আমরা কোনো কোনো সময় ১৫০ এমবিপিএস পর্যন্ত গতি পাচ্ছি। সুন্দরবনের মতো দুর্গম জায়গায় এটি ভাবাই যেত না।’
সুন্দরবন যুব সংঘের সদস্য মো. জুয়েল বলেন, এখন সুন্দরবনে অনেক তরুণ আসেন। তাঁরা বেশ কয়েক দিন পর্যন্ত থাকেন। স্টারলিংকের ইন্টারনেটের কারণে তাঁদের বনের আশপাশে থাকার আগ্রহ বেশ বেড়েছে বলা যায়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ বা অফিসের টুকিটাকি কাজ, কিংবা ঢাকার সঙ্গে ই–মেইল যোগাযোগ কোনো বিষয়ই নয় এখন।
বর্তমানে পর্যটনের ধরন বদলেছে। মানুষ এখন ভ্রমণে গিয়েও কাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হতে চায় না, বিশেষ করে যাঁরা ওয়ার্কেশন বা কাজ করতে করতে ভ্রমণে বিশ্বাসী। সুন্দরবনে স্টারলিংকের ব্যবহার এমন পর্যটকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আলিমূল হাসান সম্প্রতি পরিবার নিয়ে তিন দিনের জন্য সুন্দরবন ভ্রমণে এসেছিলেন। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়, কিন্তু এখানে মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট এতটাই দুর্বল যে জরুরি ই–মেইল চেক করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এই রিসোর্টে এসে আমি অবাক হয়েছি। এখানে তরুণ কর্মীরা নিজস্ব উদ্যোগে স্টারলিংক ব্যবহার করছেন। আমি রিসোর্টে বসেই গড়ে ৮০ থেকে ১২০ এমবিপিএস গতিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পেরেছি। ফলে বনের মধ্যে থেকেও অফিসের কাজ সারতে বা পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত থাকতে কোনো সমস্যাই হয়নি।’
সুন্দরবন এলাকাটি প্রায়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়। ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের সময় সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মোবাইল টাওয়ার এবং বিদ্যুৎ–সংযোগ। এর ফলে পুরো এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তৎপরতাকে ব্যাহত করে। সুন্দরবনে আসা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষক রুবিনা হক বলেন, স্টারলিংকের মতো স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এই সংকটকালে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, এই ব্যবস্থার জন্য স্থানীয় কোনো অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করতে হয় না। শুধু একটি বহনযোগ্য রিসিভার এবং পাওয়ার ব্যাকআপ থাকলেই যেকোনো দুর্যোগের মধ্যেও সারা বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভব। সুন্দরবনের আশপাশের উপজেলাগুলোতে নামমাত্র ব্রডব্যান্ড থাকলেও তার গতি ও স্থায়িত্ব নিয়ে পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সব সময়ই অসন্তোষ ছিল। স্টারলিংক সেই শূন্যতা পূরণ করে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
সুন্দরবনের প্রান্তিক জনপদে ইন্টারনেটের এই সহজলভ্যতা কেবল পর্যটনেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন শিক্ষা এবং ই-কমার্স ব্যবসায় এই উচ্চগতির ইন্টারনেট বড় ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। সুন্দরবনসংশ্লিষ্ট গবেষকেরা এখন স্টারলিংকের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান–প্রদান করতে পারছেন। যদিও উচ্চমূল্যের কারণে স্টারলিংক এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। খরচ কিছুটা কমাতে পারলে প্রত্যন্ত সুন্দরবনে আরও সুযোগ বাড়বে।
ছবি : সংগৃহীত
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমশ আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা এআই-ভিত্তিক ভুয়া প্রোফাইল, ছবি-ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে বিভ্রান্তি ও বিভিন্ন জটিলতা বাড়ছে। এমনকি ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে অনেক প্রতিষ্ঠানও নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এসব প্রতারণা রোধে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ফেসবুক।
সম্প্রতি এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্ত করার জন্য বিনা মূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। তবে এই ব্যাজ পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে অবশ্যই সেলফি ভিডিও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
এ ব্যাপারে টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, ফেসবুকের এই ভেরিফায়েড বেজ দেখাবে যে- ফেসবুক প্রোফাইলের ব্যবহারকারী প্রকৃত অর্থেই একজন মানুষ কিনা। কিন্তু মেটার সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস এই মেটা ভেরিফায়েডের থেকে ভিন্ন। এটি চালু করা হচ্ছে শুধু সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য।
ফ্রিতে ফেসবুক আইডি ভেরিফায়েড করার নিয়ম:
মেটার এই নতুন ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে নিজের সেলফি ভিডিও ধারণ করতে হবে। ভিডিওটি ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট মালিকের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্ত করা হবে।
কারা পাবেন এই ভেরিফায়েড ব্যাজ:
ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে ন্যূনতম কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব হলো―ব্যবহারকারীর বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে। অ্যাকাউন্টটি ফেসবুক কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভালো অবস্থায় থাকতে হবে। অ্যাকাউন্টে কোনো ধরনের প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের রেকর্ড বা ইতিহাস থাকা যাবে না। এসব প্রক্রিয়ায় পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সফল হতে হবে। পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ফেসবুকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যাবে। যেমন- প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, গ্রুপ ও ফেসবুক ডেটিংয়ে।
মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এআইয়ের মাধ্যমে এখন সহজেই ভুয়া ছবি-ভিডিও, ভুয়া পরিচয় ও বিশ্বাসযোগ্য প্রোফাইল তৈরি করা হয়। ফলে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তবে ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু হলে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন, তিনি যার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, ওই ব্যক্তি বাস্তবে মানুষ কি না।
তবে মেটা এটি স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির সততা বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা প্রদান করে না। পরিষেবাটি কেবল ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাইয়ের প্রমাণস্বরূপ। এ জন্য অনলাইনে কোনো ধরনের লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এছাড়াও মেটা জানিয়েছে, ধাপে ধাপে চালু করা হবে এই ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ। নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশে চালুর পর ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও চালু করা হবে পরিষেবাটি। তবে প্রথমে কোন দেশে চালু হবে, সেটি এখনো জানা যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
জীবনের নানা ব্যস্ততা ও ঝক্কি-ঝামেলায় মনোযোগ ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। নিজের জীবনেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার এ প্রবণতা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এ সমস্যার সমাধানে নতুন পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হয়েছে স্টার্টআপ কোম্পানি ‘অ্যাটলাস’। আশপাশের বিভ্রান্তি ঠেলে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখা যাদের জন্য কঠিন তাদের স্বস্তি দিতে বাজারে আসছে নতুন পরিধানযোগ্য যন্ত্র।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, কানের পেছনে আঠার মতো লেগে থাকা ‘অ্যাটলাস ১.০’ নামের সেন্সরটি মস্তিষ্কের তরঙ্গ ও শারীরিক সংকেত বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দেবে কোন মুহূর্তে ব্যবহারকারীর মনোযোগ ঠিক কতটা নিবদ্ধ ছিল।
সেন্সরটি কানের পেছনে আঠালো প্যাডের সাহায্যে ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকে, যা একাধারে ব্যবহারকারীর মস্তিষ্কের তরঙ্গ, ত্বকের ইলেকট্রোডার্মাল ক্রিয়া, শারীরিক নড়াচড়া ও গলার স্বরের ধরন বা ভয়েস সিগনেচার রেকর্ড করে।
পরে নিজস্ব অ্যালগরিদমের মাধ্যমে এসব ডেটা বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ হয় ঠিক ওই মুহূর্তে মানুষের মনোযোগ ও মস্তিষ্কের কার্যসক্ষমতা কোন দিকে নিবদ্ধ ছিল।
সহজভাবে বললে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে থেকেও আপনার মন অন্য কোনো উদ্বেগে ডুব দিয়েছিল কি না সেটি ধরে ফেলবে এই নতুন প্রযুক্তি।
আপাতত কেবল আইওএস ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য এ অ্যাপটি খুললেই জানা যাবে আপনি কতটা মনোযোগী, মানসিক চাপে কেমন পারফর্ম করছেন বা মানসিক চাপ থেকে কতটা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারছেন।
এরপর দিনের কোন সময়ে কী করছিলেন তা অ্যাপে নথিভুক্ত করে নিজেই বুঝতে পারবেন কোনটি ভালো ছিল আর কোনটি নয়।
এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য, কোন পরিবেশ বা পরিস্থিতি মানুষের সেরাটা বের করে আনে তা শনাক্ত করা, যাতে ভবিষ্যতে সেসব অভিজ্ঞতা সামলানো আরও সহজ হয়।
ভয়েস সিগনেচার ধারণ করায় যারা প্রাইভেসি নিয়ে উদ্বিগ্ন তাদের জন্য আশার কথা হচ্ছে ‘অ্যাটলাস ১.০’ ব্যবহারকারীর কোনো কথা বা আলাপ রেকর্ড করে না। এর বদলে কোনো মুহূর্তে ব্যবহারকারী কেমন মানসিক অবস্থায় আছেন তা বুঝতে কথা বলার সক্রিয়তা ও ধরন বিশ্লেষণ করে যন্ত্রটি।
একেবারে শুরুর দিকে থাকায় ‘অ্যাটলাস ১.০’ কারো জীবনের লক্ষ্য বুঝতে ঠিক কতটা কার্যকর হবে তা জানার উপায় নেই। তবে, যারা দৈনন্দিন জীবনে সামান্যতম উন্নতিতেও নজর দেন সেই গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে যন্ত্রটির অগ্রিম বুকিং নেওয়া শুরু করেছে কোম্পানিটি।
ডিভাইসটি কিনতে খরচ পড়বে ৫০০ ডলার। সেন্সর ও আঠালো প্যাড নিয়মিত সচল রাখতে প্রতি মাসে গুনতে হবে আরও ৩০ ডলারের সাবস্ক্রিপশন ফি।
প্রতীকী ছবি
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোন চার্জে বসিয়ে রেখে সকালে চার্জার খোলা অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু ফোন ১০০ শতাংশ চার্জ হয়ে যাওয়ার পরও যদি সেটি কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুতের সংযোগে থাকে, তাহলে কি ব্যাটারির ক্ষতি হয়? আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে উত্তরটি কিছুটা ভিন্ন।
বর্তমান স্মার্টফোনে সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন বা লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ফোন পুরোপুরি চার্জ হয়ে গেলে এর চার্জিং সিস্টেম প্রয়োজন অনুযায়ী কারেন্ট সরবরাহ কমিয়ে দেয় বা মূল চার্জিং প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে ১০০ শতাংশে পৌঁছানোর পরেও ব্যাটারিতে একইভাবে লাগাতার বিদ্যুৎ ঢুকতে থাকে না। তাই রাতভর চার্জে রাখলেই ফোন ‘ওভারচার্জ’ হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে এমন ধারণা ঠিক নয়।
১০০ শতাংশ চার্জে দীর্ঘক্ষণ থাকা কি ভালো?
ওভারচার্জ না হলেও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটারিকে ১০০ শতাংশ চার্জ অবস্থায় রাখা আদর্শ নয়। লিথিয়াম-ভিত্তিক ব্যাটারিতে দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ চার্জ ধরে রাখলে ধীরে ধীরে রাসায়নিক অবক্ষয়ের হার বাড়তে পারে। এর প্রভাব সময়ের সঙ্গে ব্যাটারির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতায় পড়ে।
ফলে কয়েক মাস বা বছর ব্যবহারের পর দেখা যেতে পারে, আগের তুলনায় ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, রাতভর চার্জে লাগিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় আশঙ্কা তাৎক্ষণিক ‘ওভারচার্জ’ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য কিছুটা দ্রুত কমে যাওয়া।
চার্জ দেওয়ার সময় গরম হচ্ছে কি না, নজর রাখুন
ব্যাটারির ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে ফোনকে বালিশ, কম্বল বা বিছানার নিচে রেখে চার্জ করা উচিত নয়। এসব জায়গায় ফোনের চারপাশে বাতাস চলাচল কম থাকায় তাপ সহজে বের হতে পারে না। তাই চার্জ দেওয়ার সময় ফোনকে শক্ত, সমতল এবং খোলা জায়গায় রাখাই নিরাপদ অভ্যাস।
ফোনের ব্যাটারি প্রোটেকশন ফিচার কাজে লাগান
ব্যাটারির আয়ু ধরে রাখতে এখন অনেক স্মার্টফোনেই বিশেষ চার্জিং ফিচার দেওয়া হয়। ফোনভেদে এর নাম হতে পারে অপটিমাইজড চার্জিং, অ্যাডাপটিভ চার্জিং অথবা ব্যাটারি প্রোটেকশন।
এই ফিচারগুলো ব্যবহারকারীর চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বিশ্লেষণ করে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ ফোনকে ১০০ শতাংশে আটকে না রেখে নির্দিষ্ট সময়ের কাছাকাছি গিয়ে পুরো চার্জ করে। ফলে ব্যাটারি দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ চার্জ অবস্থায় থাকার সময় কমে।
তাহলে রাতে চার্জে রেখে ঘুমানো যাবে?
আধুনিক স্মার্টফোনে চার্জিং নিয়ন্ত্রণের একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকায় রাতভর চার্জে লাগিয়ে রাখলে ফোন সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমনটা সাধারণত নয়। তবে ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়ানো এবং ফোনে থাকা অপটিমাইজড চার্জিং বা ব্যাটারি প্রোটেকশনের মতো ফিচার চালু রাখা ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, চার্জ দেওয়ার সময় ফোন যেন অতিরিক্ত গরম না হয় এবং সেটি যেন বালিশ বা কম্বলের নিচে চাপা না থাকে। এতে নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যাটারির কর্মক্ষমতাও দীর্ঘদিন ভালো রাখার সুযোগ বাড়ে।
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে নতুন বেশ কিছু সুবিধা যুক্ত করেছে গুগল
অ্যান্ড্রয়েড ১৭ অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহারকারীর অনলাইন গোপনীয়তা ও নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন বেশ কিছু সুবিধা যুক্ত করেছে গুগল। এর মধ্যে রয়েছে এনক্রিপ্টেড ক্লায়েন্ট হ্যালো (ইসিএইচ), স্থানীয় নেটওয়ার্ক সুরক্ষা, সার্টিফিকেট ট্রান্সপারেন্সি ও মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে ডিফল্টভাবে ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার সুবিধা। গত বৃহস্পতিবার এসব সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে গুগল।
নতুন সুবিধাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো এনক্রিপ্টেড ক্লায়েন্ট হ্যালো বা ইসিএইচ। এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগের গোপনীয়তা বাড়াবে। বিশেষ করে ব্যবহারকারী কোন ওয়েবসাইটে যাচ্ছেন, সেই তথ্য নেটওয়ার্ক পর্যায় থেকে আড়াল করতে ইসিএইচ কাজ করবে। ফলে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা নেটওয়ার্কে নজরদারি করা কেউ সহজে জানতে পারবেন না, ব্যবহারকারী কোন ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রবেশ করছেন।
গুগলের ব্রাম বনে ও শুয়াইবো হুয়াং বলেন, ইসিএইচ ব্যক্তিগত ডিএনএসের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবহারকারী কোন ডোমেইনে যাচ্ছেন, সেই তথ্যও গোপন রাখবে। এর ফলে ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ বা একটি নির্দিষ্ট প্রোফাইল তৈরি করা কঠিন হবে। ওয়েবসাইটের নাম সংযোগের শুরুতেই এনক্রিপ্ট করা থাকায় ইসিএইচ সমর্থনকারী ওয়েবসাইট ও অ্যাপের ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক সেবাদাতা বা অন্য কোনো নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষক সহজে ব্যবহারকারীর গন্তব্য শনাক্ত করতে পারবেন না।
গুগলের জিগস বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসিএইচ একটি গোপন এনক্রিপশন কি ব্যবহার করে ওয়েবসাইটের ডোমেইন নাম আড়াল করে। এই তথ্য শুধু সংশ্লিষ্ট গন্তব্যের ওয়েবসাইটই উন্মুক্ত করতে পারে। তবে এখনো সব ওয়েবসাইটের সার্ভারে ইসিএইচ সমর্থন চালু হয়নি।
ইসিএইচ সমর্থন করে না, এমন ওয়েবসাইটের কারণে যাতে ব্যবহারকারীর সংযোগ আলাদাভাবে শনাক্ত করা না যায়, সে জন্য অ্যান্ড্রয়েড ১৭–এ ইসিএইচ গ্রিজের সুবিধা ডিফল্টভাবে চালু থাকবে। এই সুবিধা ইসিএইচ সমর্থন না করা ওয়েবসাইটেও এলোমেলো ও ভুয়া ইসিএইচ তথ্য পাঠাবে। ফলে নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ করে কোন সংযোগ ইসিএইচ সুরক্ষা ব্যবহার করছে আর কোনটি করছে না, তা আলাদা করা কঠিন হবে। ইসিএইচ প্রযুক্তি একেবারে নতুন নয়। গুগল ক্রোমের ১১৭ সংস্করণ ও মজিলা ফায়ারফক্সের ১১৮ সংস্করণে এরই মধ্যে এই সুবিধা যুক্ত হয়েছে।
তবে অ্যান্ড্রয়েড ১৭–এ ইসিএইচের সুরক্ষা শুধু নির্দিষ্ট ব্রাউজারে সীমাবদ্ধ থাকছে না। পুরো অপারেটিং সিস্টেমে এই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারিত হচ্ছে।
অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ নির্মাতারাও ইসিএইচের সুবিধা কাজে লাগাতে পারবেন। গুগলের ওপেন সোর্স এইচটিটিপি ও এইচটিটিপি/২ ক্লায়েন্ট ওকেএইচটিটিপির মূল লাইব্রেরিতে ইসিএইচ সমর্থন যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতারা তাদের তৈরি অ্যাপের নেটওয়ার্ক সংযোগেও এই নিরাপত্তার সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েড ১৭–এ লোকাল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। কোনো অ্যাপ লোকাল নেটওয়ার্কে থাকা অন্য ডিভাইস খুঁজতে বা সেগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চাইলে এখন ব্যবহারকারীর অনুমতি নিতে হবে। ফলে একই ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্কে থাকা স্মার্টফোন, কম্পিউটার বা অন্যান্য ডিভাইসের সঙ্গে অ্যাপের অননুমোদিত সংযোগের ঝুঁকি কমবে।
এ ছাড়া অ্যান্ড্রয়েড ১৭–এ সার্টিফিকেট ট্রান্সপারেন্সি বা সিটি সুবিধা ডিফল্টভাবে চালু থাকবে। এই ব্যবস্থায় ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা সনদ প্রকাশ্য নিবন্ধনে নথিভুক্ত হয়েছে কি না, তা যাচাই করা যায়। এর ফলে ভুয়া বা অননুমোদিত নিরাপত্তা সনদ ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগে আড়ি পাতার চেষ্টা শনাক্ত করা সহজ হবে।
মোবাইল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা বাড়াতেও নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোবাইল অপারেটররা চাইলে গ্রাহকদের জন্য ডিফল্টভাবে ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখতে পারবে। এতে আধুনিক নেটওয়ার্ক থেকে পুরোনো ২জি নেটওয়ার্কে জোর করে সংযোগ নামিয়ে আনার মাধ্যমে চালানো ‘ডাউনগ্রেড’ হামলার ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি ভুয়া মোবাইল টাওয়ার বা ‘এসএমএস ব্লাস্টার’ ব্যবহার করে কাছাকাছি থাকা ডিভাইসে ক্ষতিকর খুদে বার্তা পাঠানো কিংবা তথ্য সংগ্রহের সুযোগও কমবে। ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করার সুবিধা অ্যান্ড্রয়েডে আগেও ছিল। অ্যান্ড্রয়েড ১২ থেকেই ব্যবহারকারীরা চাইলে ফোনের হার্ডওয়্যার পর্যায়ে ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েড ১৪–এ এই ব্যবস্থাপনার আওতায় থাকা ডিভাইসে ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করার সুযোগ দেওয়া হয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রশাসকদের।
তবে অ্যান্ড্রয়েড ১৭–এর নতুন ব্যবস্থাটি আরও স্বয়ংক্রিয়। যেসব মোবাইল অপারেটর এই সুবিধা চালু করবে, তাদের গ্রাহকদের ডিভাইসে ২জি নেটওয়ার্ক ডিফল্টভাবে বন্ধ থাকবে। ফলে ব্যবহারকারীকে নিজে থেকে কোনো সেটিংস পরিবর্তন করতে হবে না। গুগলের মতে, এই ব্যবস্থা পুরোনো ২জি নেটওয়ার্কের নিরাপত্তাঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি এসএমএস ব্লাস্টারের মতো হামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল প্রতিরোধে সহায়তা করবে।
সূত্র: দ্য হ্যাকারনিউজ
প্রতীকী ছবি
দোকানে পেমেন্ট, রেস্তোরাঁর মেনু দেখা, ওয়েবসাইট খোলা কিংবা কোনো পণ্যের বিস্তারিত তথ্য জানা প্রতিদিনের নানা কাজে কিউআর কোড এখন আমাদের সঙ্গী। ফোনের ক্যামেরা দিয়ে কয়েক মুহূর্ত স্ক্যান করলেই প্রয়োজনীয় তথ্য সামনে চলে আসে। দেখতে অবশ্য মনে হয়, ছোট ছোট কালো-সাদা ঘরের সমষ্টি। কিন্তু এই সামান্য জায়গার মধ্যেই কীভাবে এত তথ্য রাখা সম্ভব? এর পেছনে রয়েছে বেশ চমকপ্রদ একটি ডিজিটাল প্রযুক্তি।
কিউআর কোড কী?
কিউআর কোডের পূর্ণরূপ কুইক রেসপন্স কোড। এটি মূলত দ্বিমাত্রিক বা ২ডি বারকোডের একটি ধরন। প্রচলিত বারকোডে যেখানে মূলত একদিকে তথ্য সাজানো হয়, কিউআর কোডে তথ্য দুই দিকেই আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এই কারণেই একই জায়গার মধ্যে সাধারণ বারকোডের তুলনায় অনেক বেশি ডেটা রাখা সম্ভব হয়। কিউআর কোডের কালো ও সাদা ছোট ছোট ঘরগুলোকে বলা হয় মডিউল। এই মডিউলগুলোর নির্দিষ্ট বিন্যাসের মধ্যেই ডিজিটাল তথ্য প্রকাশ পায়।
কোডের প্রতিটি অংশের রয়েছে আলাদা কাজ
কিউআর কোডের পুরো নকশাটি এলোমেলো নয়। এর বিভিন্ন অংশ স্ক্যান করার সময় আলাদা আলাদা ভূমিকা পালন করে।কোডের তিনটি কোণে থাকা বড় বর্গাকার চিহ্নগুলোকে বলা হয় পজিশন মার্কার। স্মার্টফোনের ক্যামেরা বা স্ক্যানার এই চিহ্নগুলোর সাহায্যে কিউআর কোডের অবস্থান ও দিক শনাক্ত করতে পারে। ফলে কোডটি উল্টো, বাঁকা কিংবা কিছুটা কাত হয়ে থাকলেও সেটিকে সঠিকভাবে পড়া সম্ভব হয়।
এছাড়া রয়েছে টাইমিং প্যাটার্ন, যা কিউআর কোডের ছোট মডিউলগুলোর অবস্থান এবং তাদের মধ্যকার বিন্যাস বুঝতে স্ক্যানারকে সহায়তা করে। আর যে অংশটিতে মূল তথ্য সংরক্ষিত থাকে সেটি হলো ডাটা এরিয়া। কোনো ওয়েবসাইটের লিংক, লেখা, পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল ডাটা এখানে রাখা যেতে পারে।
কালো-সাদা ঘরে কীভাবে তথ্য ঢোকে?
এখানেই রয়েছে কিউআর কোডের আসল প্রযুক্তি। কোনো লেখা বা লিংককে সরাসরি ছোট ছোট কালো-সাদা ঘরে বসিয়ে দেওয়া হয় না। প্রথমে সেই তথ্যকে নির্দিষ্ট ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করা হয়। কম্পিউটার ডাটাকে মূলত বাইনারি পদ্ধতিতে অর্থাৎ ০ এবং ১ হিসেবে প্রক্রিয়া করে। কিউআর কোড তৈরির সময় এই ডেটাকে নির্দিষ্ট নিয়মে সাজিয়ে কালো ও সাদা মডিউলের প্যাটার্নে রূপ দেওয়া হয়। অর্থাৎ, চোখে যে অসংখ্য ছোট বক্স দেখা যায়, সেগুলো আসলে ডিজিটাল তথ্যের একটি বিশেষ সাংকেতিক বিন্যাস।
ফোন কীভাবে কিউআর কোড পড়ে?
স্মার্টফোন দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করার সময় ক্যামেরা প্রথমে পুরো কোডটির ছবি নেয়। এরপর সফটওয়্যার কোডের বিভিন্ন চিহ্ন শনাক্ত করে তার অবস্থান, দিক এবং মডিউলের বিন্যাস বিশ্লেষণ করে। এরপর কালো-সাদা প্যাটার্ন থেকে বাইনারি ডেটা উদ্ধার করা হয়। সেই ডেটাকে আবার ব্যবহারযোগ্য তথ্যে রূপান্তর করে ফোনের স্ক্রিনে দেখানো হয়। তাই একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে ওয়েবসাইট খুলে গেলে আসলে কয়েকটি ধাপে কাজটি সম্পন্ন হয় ক্যামেরায় কোড ধরা, প্যাটার্ন শনাক্ত করা, ডেটা ডিকোড করা এবং শেষ পর্যন্ত সেই তথ্য ব্যবহারকারীর সামনে তুলে ধরা।
কোডের কিছু অংশ নষ্ট হলেও কেন কাজ করে?
কিউআর কোডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ইরোর কারেকশন। এর ফলে কোডের একটি অংশ দাগ পড়ে গেলে, ছিঁড়ে গেলে বা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেটি স্ক্যান করা সম্ভব হয়। কিউআর কোড তৈরির সময় মূল ডাটার পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত তথ্যও রাখা হয়। স্ক্যান করার সময় কোডের কোনো অংশ থেকে তথ্য পাওয়া না গেলে এই অতিরিক্ত ডাটার সাহায্যে হারানো অংশ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা যায়। তবে কতটা ক্ষতি হলেও কিউআর কোড কাজ করবে, তা নির্ভর করে ব্যবহৃত ইরোর কারেকশনের মাত্রার ওপর।
কতটা তথ্য রাখা যায়?
কিউআর কোডের ধারণক্ষমতা নির্দিষ্ট একটি সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। কোডের আকার, ডাটার ধরন এবং ব্যবহৃত সেটিংসের ওপর এর ধারণক্ষমতা নির্ভর করে। সর্বোচ্চ আকারের কিউআর কোডে প্রায় ৭ হাজার সংখ্যাসূচক অক্ষর রাখা সম্ভব। আর অক্ষর, সংখ্যা ও বিভিন্ন চিহ্নের সমন্বয়ে প্রায় ৪ হাজারের কাছাকাছি ক্যারেক্টার সংরক্ষণ করা যায়। তবে ডাটার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিউআর কোডের আকারও বড় এবং প্যাটার্ন আরও ঘন হয়ে যায়।
কোথায় কোথায় ব্যবহার হয়?
বর্তমানে কিউআর কোডের ব্যবহার শুধু ওয়েবসাইটের লিংকে সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দোকান বা রেস্তোরাঁয় পেমেন্টের পাশাপাশি খাবারের মেনু দেখতেও কিউআর কোড দেখা যায়।
এ ছাড়া পণ্যের প্যাকেট, বিজনেস কার্ড, পোস্টার, ব্রোশিওর, ইভেন্টের টিকিট এবং বিভিন্ন প্রচারমূলক উপকরণেও এটি ব্যবহার করা হয়। কোনো ভিডিও, ওয়েবপেজ বা অনলাইন পরিষেবায় দ্রুত পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবেও কিউআর কোড বেশ কার্যকর।
এমনকি ওয়াই-ফাইয়ের নাম ও পাসওয়ার্ড শেয়ার করার ক্ষেত্রেও কিউআর কোড ব্যবহার করা যায়। ফলে একটি ছোট্ট কালো-সাদা নকশা দেখতে সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে তথ্যকে সংকেত আকারে সাজানো এবং মুহূর্তে তা পড়ে ফেলার বেশ উন্নত প্রযুক্তি।
প্রতীকী ছবি
শিশুদের খুব কম বয়সে স্মার্টফোন বা অন্যান্য ক্রিনযুক্ত যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে।
ফ্রান্সের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল রিসার্চ (ইনসার্ম) এবং সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শৈশবের নির্দিষ্ট সময়ে বেশি স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব পরবর্তী জীবনেও থাকতে পারে। এর সঙ্গে শিশুদের পড়াশোনার ফলাফল খারাপ হওয়া এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার সম্পর্কও পাওয়া গেছে। গবেষণার ফলাফল ‘ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব পেডিয়াট্রিকস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের ৫০২ শিশুর ওপর পরিচালিত এ গবেষণায় শিশুদের বিভিন্ন বয়সে স্ক্রিন ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের জীবনের একেবারে শুরুর দিকে, বিশেষ করে এক বছর বয়সে, বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে কাটানোর সঙ্গে পরবর্তী সময়ে তুলনামূলক খারাপ পড়াশোনার ফলাফল এবং দুর্বল কার্যকর স্মৃতিশক্তির সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় ছয় বছর বয়সে বেশি স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গেও একই ধরনের নেতিবাচক ফলাফলের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গবেষকদের তথ্যমতে, শিশুদের জীবনের প্রথম কয়েক বছর এবং স্কুলে যাওয়ার শুরুর সময় স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই সময়ে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুর স্বাভাবিক শেখা ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রমের সময় কমে যায়। ফলে বেশি স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুরা খেলাধুলা, বই পড়া এবং মা-বাবার সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোর জন্য কম সময় পায়। অথচ শিশুর শেখা, চিন্তাশক্তি ও মানসিক বিকাশে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শুধু স্ক্রিনের সামনে কাটানো সময়ই শিশুর বিকাশে প্রভাব ফেলে না। শিশু স্ক্রিনে কী দেখছে, কতক্ষণ দেখছে এবং স্ক্রিন ব্যবহারের সময় মা-বাবা বা অন্য কোনো অভিভাবক তার সঙ্গে যুক্ত থাকছেন কি না, সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুদের ভাষা বিকাশের সঙ্গে স্ক্রিন ব্যবহারের সম্পর্ক নিয়ে আগেও বিভিন্ন গবেষণায় উদ্বেগ জানানো হয়েছে।। ২০২০ সালে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারির শেরি ম্যাডিগানের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, যেসব শিশু বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহার করে, তাদের ভাষাগত দক্ষতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ার প্রবণতা থাকে।