ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৪৭ এএম

গুগলের পরবর্তী স্মার্টওয়াচ পিক্সেল ওয়াচ ৫ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচনের আগেই নতুন একটি তথ্য ফাঁস হয়েছে। এবার প্রকাশিত উচ্চ রেজল্যুশনের রেন্ডার ছবিতে স্মার্টওয়াচটির সম্ভাব্য নকশা, একাধিক রঙের সংস্করণ, নতুন ওয়াচ ফেস এবং স্ট্র্যাপের সমন্বয় দেখা গেছে। পাশাপাশি জানা গেছে, আগের মতো এবারও দুটি আকারে বাজারে আসতে পারে ডিভাইসটি। তবে দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।


ফাঁস হওয়া তথ্যটি প্রকাশ করেছে দ্য টাইট চার্ট নামের একটি ওয়েবসাইট। রেন্ডারগুলো শেয়ার করেছেন পরিচিত প্রযুক্তি টিপস্টার স্টিভ এইচ. ম্যাকফ্লাই, যিনি @OnLeaks নামে বেশি পরিচিত। অতীতে তার প্রকাশ করা অনেক তথ্যই পরবর্তীতে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।


চারটি রঙে আসতে পারে

ফাঁস হওয়া রেন্ডার অনুযায়ী, পিক্সেল ওয়াচ ৫ চারটি রঙে পাওয়া যেতে পারে। এগুলো হলো- কালো স্ট্র্যাপসহ, হালকা ধূসর স্ট্র্যাপসহ, অলিভ রঙের স্ট্র্যাপসহ, কোরাল রঙের স্ট্র্যাপসহ। তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ম গোল্ড রংটি আপাতত শুধু ৪১ মিলিমিটার সংস্করণে দেখা গেছে। তবে ভবিষ্যতে ৪৫ মিলিমিটার মডেলেও এই রং আসতে পারে।


ডিজাইনে বড় পরিবর্তন নেই

রেন্ডারগুলো থেকে বোঝা যায়, পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর ডিজাইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেনি গুগল। এটি অনেকটাই আগের পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর মতো দেখতে হবে। এতে থাকবে পরিচিত গম্বুজাকৃতির ডিসপ্লে, পাশে চার্জিং কনট্যাক্ট এবং গুগলের নিজস্ব ব্যান্ড সংযুক্তির ব্যবস্থা। এর অর্থ, আগের পিক্সেল ওয়াচের স্ট্র্যাপ নতুন মডেলেও ব্যবহার করা যেতে পারে। ফলে পুরোনো ব্যবহারকারীদের নতুন করে স্ট্র্যাপ কিনতে নাও হতে পারে।


নতুন ওয়াচ ফেসে থাকবে জেমিনি শর্টকাট

ফাঁস হওয়া ছবিতে একটি নতুন ওয়াচ ফেসও দেখা গেছে। এতে অ্যানালগ ঘড়ির ডায়াল, ঢেউখেলানো ব্যাকগ্রাউন্ড এবং জেমিনি এআই-এ দ্রুত প্রবেশের জন্য একটি আলাদা শর্টকাট রয়েছে। এতে ব্যবহারকারীরা হাতের কব্জি থেকেই দ্রুত গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী ব্যবহার করতে পারবেন।


দুটি আকার, দুটি সংযোগ সুবিধা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিক্সেল ওয়াচ ৫ আগের মতোই ৪১ মিলিমিটার ও ৪৫ মিলিমিটার এই দুই আকারে আসবে। প্রতিটি সংস্করণেই থাকবে দুটি সংযোগ সুবিধা- শুধু ওয়াই-ফাই, ওয়াই-ফাই + এলটিই। এছাড়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল যোগাযোগ কমিশন (ফিএসএস)-এর নথিতেও পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর চারটি মডেল নম্বর দেখা গেছে। সেখান থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নির্দিষ্ট কিছু মডেলে এলটিই, স্যাটেলাইট জরুরি এসওএস, আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড (ইউডব্লিউবি) এবং ওয়াই-ফাই ৬-এর মতো আধুনিক সংযোগ প্রযুক্তি থাকবে।


বাড়তে পারে দাম

সবচেয়ে আলোচিত তথ্যগুলোর একটি হলো সম্ভাব্য মূল্য বৃদ্ধি। ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের প্রজন্মের তুলনায় পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর দাম প্রায় ৫০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। সম্ভাব্য দাম হতে পারে- ৪১ মিমি ওয়াই-ফাই ৩৯৯ ডলার, ৪৫ মিমি ওয়াই-ফাই ৪২৯ ডলার, ৪১ মিমি এলটিই ৪৯৯ ডলার, ৪৫ মিমি এলটিই ৫২৯ ডলার। তবে এগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।


কবে আসবে?

গুগল আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য মেড বাই গুগল ইভেন্টে পিক্সেল ওয়াচ ৫ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানেই নতুন পিক্সেল স্মার্টফোনের পাশাপাশি এই স্মার্টওয়াচেরও ঘোষণা আসতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত সব তথ্যই ফাঁস হওয়া রেন্ডার ও বিভিন্ন সূত্রের ওপর ভিত্তি করে জানা গেছে, তবুও এগুলো থেকে ধারণা মিলছে গুগল এবার বড় ধরনের ডিজাইন পরিবর্তনের বদলে সফটওয়্যার, এআই সুবিধা এবং সংযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।






































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































আইফোন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০১ পিএম

জন টার্নাস অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব শুরু করার দ্বিতীয় সপ্তাই গত ২০ বছরের মধ্যে আইফোনের প্রথম বড় পরিবর্তনটি প্রকাশ করেছে। টিম কুকের পদত্যাগের পর অ্যাপলের শীর্ষ পদে আসীন হওয়া টার্নাস, বুধবার কোম্পানির বার্ষিক পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন এনেছেন। বইয়ের মতো আকৃতির নতুন আইফোন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ডুও, এটি এই পণ্যের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় সংস্করণ। যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রাথমিক মূল্য ১,৯৯৯ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২০০ ডলার। শুধু আইফোনের তো বটেই, বর্তমানে প্রচলিত ফোনগুলোর মধ্যে এটা সবচেয়ে দামি ফোন বলা যেতে পারে।


টার্নাস বলেছেন যে ডুও "আইপ্যাড দ্বারা অনুপ্রাণিত", তবে এর ভাঁজ করার বৈশিষ্ট্যগুলোকে "সাবলীল এবং সম্পূর্ণ স্বজ্ঞামূলক" বলে অভিহিত করেছেন। অ্যাপলের ভেতরে ফোল্ডেবল ফোন তৈরির কাজ বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। খোলা অবস্থায় নতুন ডুও-টিকে দেখতে একটি ছোট আইপ্যাডের মতো লাগে। অর্ধেক ভাঁজ করলে, এটিকে একটি চওড়া আইফোনের মতো দেখায়।


টার্নাস বলেন যে, অ্যাপল বাজারে থাকা অন্যান্য ফোল্ডেবল স্মার্টফোনগুলোর চেহারা ও অনুভূতি এড়াতে চায়, যেগুলোকে তার মতে "দুটো ফোন একসাথে জুড়ে দেওয়ার মতো মনে হয়... যার ফলে বড় স্ক্রিনটিকে অনেক ছোট দেখায়।" তিনি বলেন, ডুও হলো "ধারাবাহিক কিছু অসাধারণ উদ্ভাবনের ফল, যা আমাদের বিশ্বাস, ফোল্ডেবল ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।" টার্নাস ফোল্ডেবল আইফোন তৈরিতে সরাসরি জড়িত ছিলেন, কারণ এই বছরের শুরুতে কুকের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হওয়ার আগে তিনি অ্যাপলের হার্ডওয়্যার বিভাগে বহু বছর শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছেন।


প্রযুক্তি গবেষণা সংস্থা এফডিএম সিসিএস ইনসাইট-এর প্রধান বিশ্লেষক বেন উড বলেছেন, সম্ভবত টার্নাসের পদোন্নতির সময়টি বিশেষভাবে এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, "যা সম্ভবত বিগত বহু বছরের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম আইফোন উন্মোচনের সাথে মিলে যায়"। "অ্যাপলে কোনো কিছুই আকস্মিকভাবে ঘটে না," উড যোগ করেন।


ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিসের বিশ্লেষক ক্যারোলিনা মিলানেসি, যিনি বুধবারের উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন, তিনি বলেন, টার্নাসের ওপর আলোকপাত দেখে মনে হচ্ছিল যেন তিনি নিজেই একটি পণ্য। বহুদিন ধরে অ্যাপল নিয়ে সমালোচনা ছিল যে ২০০৭ সালে প্রথম আইফোনটি বাজারে আসার পর থেকে অ্যাপল এখনও পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সাফল্য বা সত্যিকারের আকর্ষণীয় উদ্ভাবন আনতে পারেনি। আইফোনের নকশা পরিবর্তন করার ফলে ওই সমালোচনার কিছুটা সমাধান হতে পারে।


ফরেস্টারের বিশ্লেষক দীপঞ্জন চ্যাটার্জি বলেন, "ফোল্ডেবল ফোনটি পোর্টফোলিওতে একটি চড়া দামের অলঙ্কারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা কেবল ব্র্যান্ডের মর্যাদা বাড়ালেও অর্থপূর্ণ প্রবৃদ্ধি আনতে নাও পারে।" এর আগে, নতুনতম আইফোনের সর্বোচ্চ প্রারম্ভিক মূল্য ছিল ৯০০ ডলার (৬৬৪ পাউন্ড)। অ্যাপল বুধবার নতুন আইফোন ১৮ প্রো এবং ১৮ প্রো ম্যাক্সও উন্মোচন করেছে, যেগুলোর দাম যুক্তরাষ্ট্রে যথাক্রমে ১,১৯৯ ডলার (৮৫৫ পাউন্ড) এবং ১,২৯৯ ডলার (৯৫৯ পাউন্ড) থেকে শুরু।


দীপঞ্জন চ্যাটার্জি বলেছেন, ফোল্ডেবল আইফোনের পরিণতিও অ্যাপলের ভিশন প্রো হেডসেটের মতো হতে পারে, যেটির দাম কোম্পানিটি ৩,৬৯৯ ডলার (২,৭২৯ পাউন্ড) নির্ধারণ করেছিল এবং যা ক্রেতাদের কাছে তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। অথবা, তিনি বলেন, এটি হতে পারে কোম্পানির পরবর্তী অ্যাপল ওয়াচ, যা আইফোনের মতো জনপ্রিয় না হলেও প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ কেনেন। আইফোনের কার্যপদ্ধতির সাথে মানুষ যেভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তা অ্যাপলের নতুন ডিজাইনের ব্যাপক বিক্রির পথে আরেকটি সম্ভাব্য বাধা। "ফোল্ডেবল ফোনগুলো আকর্ষণীয় ডিভাইস," মিলানেসি উল্লেখ করেছেন। "অনেকেই এর প্রতি আগ্রহী, কিন্তু একটি প্রচলিত ফোন থেকে ফোল্ডেবল ফোনে স্থানান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার এবং শেখার প্রক্রিয়াটি বেশ কঠিন।"


বেন উড উল্লেখ করেন, স্যামসাং এবং হুয়াওয়ের মতো কোম্পানির ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বর্তমান বাজার স্মার্টফোন বিক্রির মাত্র ২ শতাংশ। ডেটা ও অ্যানালিটিক্স ফার্ম এফডিএম সিসিএম ইনসাইটের মতে, অ্যাপলের সংস্করণটি আগ্রহ ও চাহিদা বাড়ালেও, আগামী দশকে এর বিক্রি মোট বাজারের মাত্র ৪ শতাংশে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইফোন অ্যাপলের সর্বাধিক বিক্রিত পণ্য এবং এটি প্রতি বছর কোম্পানিটির মোট বিক্রয়ের অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখে।


সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকগুলোতে কোম্পানিটি গর্ব করে বলেছে যে, আইফোনের চাহিদা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি এবং ডিভাইসটির সর্বশেষ সংস্করণটি তাদের সবচেয়ে সফল পণ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে । কোম্পানিটি তাদের অডিও এবং চ্যাট অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি-র আসন্ন পুনঃপ্রবর্তন সম্পর্কেও আরও তথ্য প্রকাশ করেছে, যাকে তারা এখন সিরি এআই নামে অভিহিত করছে। আইফোন ১৮ থেকে শুরু করে, সিরি এখন কোনো ব্যক্তির ফোনের মেসেজ এবং ইমেলের মতো তথ্য ঘেঁটে তথ্য খুঁজে বের করতে, প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং তার পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।


নতুন অ্যাপল ওয়াচেও সিরি এআই-এর কিছু ফিচার পাওয়া যাবে, যার মধ্যে রয়েছে কথোপকথনের নোট নেওয়া এবং তা লিখে ফেলার ক্ষমতা, যদি ব্যবহারকারী সেই ফিচারটি চালু করেন। টার্নাস আইফোনের নতুন এআই-সক্ষম বৈশিষ্ট্যগুলোকে একটি "বুদ্ধিমান ব্যক্তিগত কেন্দ্র" হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং স্বীকার করেছেন যে অ্যাপল "আপনার দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত বিবরণ" ব্যবহার করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে এর সবকিছুই গোপন থাকবে এবং এআই ফিচারগুলো প্রায়শই 'ডিভাইসে' চলবে, অর্থাৎ কোনো তৃতীয় পক্ষের কোম্পানির মাধ্যমে নয়। আর যখন কোনো কাজের জন্য তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন হবে, টার্নাস বলেছেন যে সেটি একটি রিমোট সার্ভার বা ক্লাউডে গোপন থাকবে। "অন্যরা সেই ডেটাকে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার বস্তু হিসেবে দেখে," টার্নাস বললেন। "কিন্তু এখানে, এমনকি অ্যাপলও আপনার ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ করতে পারে না।"

বিষয় : আইফোন


জিওফ্রে হিন্টন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৭ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী হয়ে উঠলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতির পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে, এমনকি মানবজাতির বিলুপ্তিও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এআই প্রযুক্তির অন্যতম পথিকৃৎ জিওফ্রি হিন্টন। 


এআইয়ের গডফাদার হিসেবে পরিচিত জিওফ্রি হিন্টনের মতে, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য এআই প্রযুক্তি তৈরির বিষয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো কোনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি। তাই এখনই অতিবুদ্ধিমান এআই বা অতিমানবীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এআই তৈরির পথে এগোনো উচিত নয়।


জিওফ্রি হিন্টন কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এআই প্রযুক্তির বর্তমান বিকাশে তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে তাঁকে এআইয়ের গডফাদার বলা হয়। তবে এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়েও বারবার সতর্ক করেছেন তিনি।


অতিবুদ্ধিমান এআই বলতে এমন একধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বোঝানো হয়, যা বুদ্ধিমত্তা ও সক্ষমতার দিক থেকে যেকোনো মানুষ, প্রতিষ্ঠান; এমনকি একটি দেশের সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। হিন্টনের আশঙ্কা, মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান এআইয়ের ওপর একবার নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটিকে আবার নিয়ন্ত্রণে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়তে পারে।


হিন্টনের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাজ্যে অতিবুদ্ধিমান এআইয়ের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সংগঠন কন্ট্রোলএআইয়ের সহায়তায় তৈরি ‘ইউকে আর্টিফিশিয়াল সুপারইন্টেলিজেন্স সিকিউরিটি’ নামের বিলটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উপস্থাপন করবেন লেবার পার্টির সংসদ সদস্য অ্যালেক্স সোবার। কন্ট্রোলএআইয়ের তথ্যমতে, এআইয়ের সুফল কাজে লাগানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে হলে সবচেয়ে শক্তিশালী এআই ব্যবস্থাগুলোর ওপর বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা প্রয়োজন।


অবশ্য এআই খাতের সবাই এমন কঠোর নিয়ন্ত্রণের পক্ষে নন। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে আসছেন। যদিও এআই প্রযুক্তির বিকাশের শুরুর দিকে তিনি এই খাতের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন।


সূত্র: ডেইলি মেইল


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৪ এএম

ফোন হাত দিয়ে ধরে না রেখে কল থেকে শুরু করে তারবিহীর হেডফোনের ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরামদায়ক করতে ব্লুটুথ প্রযুক্তির জুড়ি মেলা ভার। তবে আধুনিক প্রযুক্তির এ সুবিধার যেমন কমতি নেই তেমনই এর কিছু নেতিবাচক দিক বা ঝুঁকিও রয়েছে।


বর্তমান সময়ে যখন ব্যক্তিগত ডেটা বা তথ্য মূল্যবান উপাদান হয়ে উঠেছে তখন সচেতন থাকা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা জরুরি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।


অন্য কোনো ডিভাইসের সঙ্গে পেয়ারিং বা যুক্ত হওয়ার আগে ব্লুটুথের ব্যবহারকারীর অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে এর মানে এই নয় যে, হ্যাকাররা ফাঁকফোকর গলে সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে না।


ফিটবিট ও এ প্রযুক্তি ব্যবহারকারী অন্যান্য হার্ডওয়্যারে এক বিশেষ ব্লুটুথ ত্রুটি ধরা পড়েছিল। ওপেন-সোর্স অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এসব ত্রুটির মাধ্যমে ক্ষতিকর চক্র ব্যবহারকারীর লাইভ লোকেশন ডিকোড করা যায়, যা বড় বিপদের কেবল ছোট একটি ইঙ্গিত।


এ ছাড়া, ‘ইনসিনুয়াটর’-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ‘আইরোহা’ভিত্তিক হার্ডওয়্যারে এমন এক ত্রুটির সন্ধান মিলেছে, যা ব্লুটুথ রেঞ্জের মধ্যে থাকা সাইবার আক্রমণকারীদের গোপনে আলাপ আড়ি পেতে শোনা ও ফোন নম্বর, কনট্যাক্ট ও কল হিস্ট্রির মতো ব্যক্তিগত ডেটা চুরির সুযোগ পায়।


ব্লুটুথ নিরাপত্তার কিছু সেরা উপায়


কিছু সহজ পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ডিভাইস সুরক্ষিত রাখতে পারেন। যার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর হচ্ছে ব্যবহার শেষে ব্লুটুথ বন্ধ রাখা। এর ফলে ব্যবহারকারীর ডিভাইস হ্যাকারদের নজরদারিতে থাকার সময়সীমা কমে যায় ও ‘ব্লুব্যাগিং’ বা ‘ব্লুস্নারফিং’-এর মতো কাছাকাছি সংযোগের সুযোগ নিয়ে ডিভাইস হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।


পাশাপাশি, ব্লুটুথ মোড ‘ডিসকভারিবল’ বা সবার জন্য উন্মুক্ত না রেখে ‘হিডেন’ বা লুকানো মোডে সেট করে রাখা উচিত, যা অপরিচিত বিভিন্ন ডিভাইসকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।


যারা রেন্টাল কার বা ভাড়ায় চালিত গাড়িতে ফোন কানেক্ট করেন বা বর্তমান গাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের অবশ্যই গাড়ি হস্তান্তরের আগে ফোন আনপেয়ার করা ও গাড়ি থেকে সব ব্যক্তিগত ডেটা মুছে ফেলার কাজটি নিশ্চিত করতে হবে।


এ ছাড়া, ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো’র মতো ভেহিকুলার সিস্টেমে ব্লুটুথ ব্যবহারের জন্য ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই উভয় সংযোগেরই প্রয়োজন, যা নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির জন্ম দিয়েছে।


এ তারবিহীন সুবিধা এড়িয়ে চলা এর একটি সমাধান হতে পারে ও ফোনের অ্যান্ড্রয়েড অটো সেটিংস থেকে ‘স্টার্ট অ্যান্ড্রয়েড অটো অটোমেটিক্যালি’ অপশনটি ‘নেভার’ করে দিয়ে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়া ঠেকানো সম্ভব।


আইফোন ব্যবহারকারীদেরও ফোনের ‘লাইভ লিসেন’ ফিচারের দিকে বিশেষ নজর রাখা উচিত। ফিচারটি ফোনের মাইক্রোফোন থেকে এয়ারপডস, হিয়ারিং এইড বা সমর্থিত হেডফোনে অডিও স্ট্রিম করতে সাহায্য করে।


এ সেটিংটি ব্লুটুথ ব্যবহার করে ফলে তা ব্লুব্যাগিং আক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ফিচারটি বন্ধ রাখতে ফোনের ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি’ সেটিংসে গিয়ে ‘লাইভ লিসেন’ অপশনটি অফ করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।


ব্লুটুথ প্রযুক্তির নতুন ত্রুটি ও সুরক্ষার উপায়


দৈনন্দিন জীবনে ব্লুটুথ প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন নিরাপত্তা ত্রুটি বা দুর্বলতাও সামনে আসছে। ব্লুটুথ নির্ভর বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে নিয়মিত নিরাপত্তা রিপোর্টগুলোর ওপর নজর রাখা জরুরি।


কারণ, বিভিন্ন নির্দিষ্ট ডিভাইসে আলাদা ধরনের ত্রুটি থাকতে পারে। ওয়্যার্ড প্রতিবেদনে লিখেছে, বেলজিয়ামের ‘কেইউ লিউভেন ইউনভার্সিটি’র গবেষকরা ১৭টি ‘গুগল ফাস্ট পেয়ার’ অডিও ডিভাইসে বড় ধরনের ত্রুটির সন্ধান পেয়েছিলেন।


গবেষকদের ভাষ্য, হ্যাকাররা কেবল ডিভাইসের মডেল নম্বর জানা মাত্রই ব্যবহারকারীর লাইভ লোকেশন ডেটা ট্র্যাক করতে ও তাদের গোপন আলাপে আড়ি পেতে শুনতে পেরেছিল।


এ ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা ‘হইস্পারপেয়ারডটইইউ’ টুলটি প্রকাশ করেছেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ডিভাইসটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না তা যাচাই করে নিতে পারেন।


ব্যক্তিগত তথ্যের প্রাইভেসি রক্ষায় ও ব্লুটুথ হ্যাকিং থেকে নিরাপদ থাকতে কিছু মৌলিক সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্লুটুথ বন্ধ রাখা।


এ ছাড়া, ‘ইউএস জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট’ বা এফসিসি’র প্রস্তাবিত বিভিন্ন নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চললে ব্যক্তিগত সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটার সুরক্ষা বহুলাংশে নিশ্চিত করা সম্ভব।


বর্তমান সময়ে টেক প্রাইভেসি নিয়ে সচেতনতা ও এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পরিষেবার পরিধি যেভাবে দ্রুত বাড়ছে তাতে এসব সাধারণ পদক্ষেপ অনুসরণ করা মানসিক শান্তি ও উন্নত সুরক্ষার পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে কাজ করবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৯ পিএম

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমশ আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা এআই-ভিত্তিক ভুয়া প্রোফাইল, ছবি-ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে বিভ্রান্তি ও বিভিন্ন জটিলতা বাড়ছে। এমনকি ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে অনেক প্রতিষ্ঠানও নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এসব প্রতারণা রোধে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ফেসবুক।


সম্প্রতি এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্ত করার জন্য বিনা মূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। তবে এই ব্যাজ পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে অবশ্যই সেলফি ভিডিও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।


এ ব্যাপারে টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, ফেসবুকের এই ভেরিফায়েড বেজ দেখাবে যে- ফেসবুক প্রোফাইলের ব্যবহারকারী প্রকৃত অর্থেই একজন মানুষ কিনা। কিন্তু মেটার সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস এই মেটা ভেরিফায়েডের থেকে ভিন্ন। এটি চালু করা হচ্ছে শুধু সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য।


ফ্রিতে ফেসবুক আইডি ভেরিফায়েড করার নিয়ম:


মেটার এই নতুন ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে নিজের সেলফি ভিডিও ধারণ করতে হবে। ভিডিওটি ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট মালিকের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্ত করা হবে।


কারা পাবেন এই ভেরিফায়েড ব্যাজ:


ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে ন্যূনতম কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব হলো―ব্যবহারকারীর বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে। অ্যাকাউন্টটি ফেসবুক কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভালো অবস্থায় থাকতে হবে। অ্যাকাউন্টে কোনো ধরনের প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের রেকর্ড বা ইতিহাস থাকা যাবে না। এসব প্রক্রিয়ায় পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সফল হতে হবে। পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ফেসবুকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যাবে। যেমন- প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, গ্রুপ ও ফেসবুক ডেটিংয়ে।


মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এআইয়ের মাধ্যমে এখন সহজেই ভুয়া ছবি-ভিডিও, ভুয়া পরিচয় ও বিশ্বাসযোগ্য প্রোফাইল তৈরি করা হয়। ফলে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তবে ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু হলে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন, তিনি যার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, ওই ব্যক্তি বাস্তবে মানুষ কি না।


তবে মেটা এটি স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির সততা বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা প্রদান করে না। পরিষেবাটি কেবল ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাইয়ের প্রমাণস্বরূপ। এ জন্য অনলাইনে কোনো ধরনের লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।


এছাড়াও মেটা জানিয়েছে, ধাপে ধাপে চালু করা হবে এই ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ। নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশে চালুর পর ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও চালু করা হবে পরিষেবাটি। তবে প্রথমে কোন দেশে চালু হবে, সেটি এখনো জানা যায়নি।



বিষয় : ফেসবুক


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

জীবনের নানা ব্যস্ততা ও ঝক্কি-ঝামেলায় মনোযোগ ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। নিজের জীবনেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার এ প্রবণতা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এ সমস্যার সমাধানে নতুন পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হয়েছে স্টার্টআপ কোম্পানি ‘অ্যাটলাস’। আশপাশের বিভ্রান্তি ঠেলে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখা যাদের জন্য কঠিন তাদের স্বস্তি দিতে বাজারে আসছে নতুন পরিধানযোগ্য যন্ত্র।


প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, কানের পেছনে আঠার মতো লেগে থাকা ‘অ্যাটলাস ১.০’ নামের সেন্সরটি মস্তিষ্কের তরঙ্গ ও শারীরিক সংকেত বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দেবে কোন মুহূর্তে ব্যবহারকারীর মনোযোগ ঠিক কতটা নিবদ্ধ ছিল।


সেন্সরটি কানের পেছনে আঠালো প্যাডের সাহায্যে ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকে, যা একাধারে ব্যবহারকারীর মস্তিষ্কের তরঙ্গ, ত্বকের ইলেকট্রোডার্মাল ক্রিয়া, শারীরিক নড়াচড়া ও গলার স্বরের ধরন বা ভয়েস সিগনেচার রেকর্ড করে।


পরে নিজস্ব অ্যালগরিদমের মাধ্যমে এসব ডেটা বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ হয় ঠিক ওই মুহূর্তে মানুষের মনোযোগ ও মস্তিষ্কের কার্যসক্ষমতা কোন দিকে নিবদ্ধ ছিল।


সহজভাবে বললে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে থেকেও আপনার মন অন্য কোনো উদ্বেগে ডুব দিয়েছিল কি না সেটি ধরে ফেলবে এই নতুন প্রযুক্তি।


আপাতত কেবল আইওএস ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য এ অ্যাপটি খুললেই জানা যাবে আপনি কতটা মনোযোগী, মানসিক চাপে কেমন পারফর্ম করছেন বা মানসিক চাপ থেকে কতটা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারছেন।


এরপর দিনের কোন সময়ে কী করছিলেন তা অ্যাপে নথিভুক্ত করে নিজেই বুঝতে পারবেন কোনটি ভালো ছিল আর কোনটি নয়।


এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য, কোন পরিবেশ বা পরিস্থিতি মানুষের সেরাটা বের করে আনে তা শনাক্ত করা, যাতে ভবিষ্যতে সেসব অভিজ্ঞতা সামলানো আরও সহজ হয়।


ভয়েস সিগনেচার ধারণ করায় যারা প্রাইভেসি নিয়ে উদ্বিগ্ন তাদের জন্য আশার কথা হচ্ছে ‘অ্যাটলাস ১.০’ ব্যবহারকারীর কোনো কথা বা আলাপ রেকর্ড করে না। এর বদলে কোনো মুহূর্তে ব্যবহারকারী কেমন মানসিক অবস্থায় আছেন তা বুঝতে কথা বলার সক্রিয়তা ও ধরন বিশ্লেষণ করে যন্ত্রটি।


একেবারে শুরুর দিকে থাকায় ‘অ্যাটলাস ১.০’ কারো জীবনের লক্ষ্য বুঝতে ঠিক কতটা কার্যকর হবে তা জানার উপায় নেই। তবে, যারা দৈনন্দিন জীবনে সামান্যতম উন্নতিতেও নজর দেন সেই গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে যন্ত্রটির অগ্রিম বুকিং নেওয়া শুরু করেছে কোম্পানিটি।


ডিভাইসটি কিনতে খরচ পড়বে ৫০০ ডলার। সেন্সর ও আঠালো প্যাড নিয়মিত সচল রাখতে প্রতি মাসে গুনতে হবে আরও ৩০ ডলারের সাবস্ক্রিপশন ফি।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:২৩ পিএম

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোন চার্জে বসিয়ে রেখে সকালে চার্জার খোলা অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু ফোন ১০০ শতাংশ চার্জ হয়ে যাওয়ার পরও যদি সেটি কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুতের সংযোগে থাকে, তাহলে কি ব্যাটারির ক্ষতি হয়? আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে উত্তরটি কিছুটা ভিন্ন।


বর্তমান স্মার্টফোনে সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন বা লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ফোন পুরোপুরি চার্জ হয়ে গেলে এর চার্জিং সিস্টেম প্রয়োজন অনুযায়ী কারেন্ট সরবরাহ কমিয়ে দেয় বা মূল চার্জিং প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে ১০০ শতাংশে পৌঁছানোর পরেও ব্যাটারিতে একইভাবে লাগাতার বিদ্যুৎ ঢুকতে থাকে না। তাই রাতভর চার্জে রাখলেই ফোন ‘ওভারচার্জ’ হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে এমন ধারণা ঠিক নয়।


১০০ শতাংশ চার্জে দীর্ঘক্ষণ থাকা কি ভালো?

ওভারচার্জ না হলেও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটারিকে ১০০ শতাংশ চার্জ অবস্থায় রাখা আদর্শ নয়। লিথিয়াম-ভিত্তিক ব্যাটারিতে দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ চার্জ ধরে রাখলে ধীরে ধীরে রাসায়নিক অবক্ষয়ের হার বাড়তে পারে। এর প্রভাব সময়ের সঙ্গে ব্যাটারির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতায় পড়ে।


ফলে কয়েক মাস বা বছর ব্যবহারের পর দেখা যেতে পারে, আগের তুলনায় ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, রাতভর চার্জে লাগিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় আশঙ্কা তাৎক্ষণিক ‘ওভারচার্জ’ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য কিছুটা দ্রুত কমে যাওয়া।


চার্জ দেওয়ার সময় গরম হচ্ছে কি না, নজর রাখুন

ব্যাটারির ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।


বিশেষ করে ফোনকে বালিশ, কম্বল বা বিছানার নিচে রেখে চার্জ করা উচিত নয়। এসব জায়গায় ফোনের চারপাশে বাতাস চলাচল কম থাকায় তাপ সহজে বের হতে পারে না। তাই চার্জ দেওয়ার সময় ফোনকে শক্ত, সমতল এবং খোলা জায়গায় রাখাই নিরাপদ অভ্যাস।


ফোনের ব্যাটারি প্রোটেকশন ফিচার কাজে লাগান

ব্যাটারির আয়ু ধরে রাখতে এখন অনেক স্মার্টফোনেই বিশেষ চার্জিং ফিচার দেওয়া হয়। ফোনভেদে এর নাম হতে পারে অপটিমাইজড চার্জিং, অ্যাডাপটিভ চার্জিং অথবা ব্যাটারি প্রোটেকশন।


এই ফিচারগুলো ব্যবহারকারীর চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বিশ্লেষণ করে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ ফোনকে ১০০ শতাংশে আটকে না রেখে নির্দিষ্ট সময়ের কাছাকাছি গিয়ে পুরো চার্জ করে। ফলে ব্যাটারি দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ চার্জ অবস্থায় থাকার সময় কমে।


তাহলে রাতে চার্জে রেখে ঘুমানো যাবে?

আধুনিক স্মার্টফোনে চার্জিং নিয়ন্ত্রণের একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকায় রাতভর চার্জে লাগিয়ে রাখলে ফোন সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমনটা সাধারণত নয়। তবে ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়ানো এবং ফোনে থাকা অপটিমাইজড চার্জিং বা ব্যাটারি প্রোটেকশনের মতো ফিচার চালু রাখা ভালো।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, চার্জ দেওয়ার সময় ফোন যেন অতিরিক্ত গরম না হয় এবং সেটি যেন বালিশ বা কম্বলের নিচে চাপা না থাকে। এতে নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যাটারির কর্মক্ষমতাও দীর্ঘদিন ভালো রাখার সুযোগ বাড়ে।