ছবি : সংগৃহীত
পৃথিবী থেকে রেকর্ড ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে, চাঁদের রহস্যময় অন্ধকার অংশ ঘুরে এসে পৃথিবীর পথ ধরেছেন নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস টু মিশরেন চার নভোচারী। এই যাত্রাপথে পৃথিবী থেকে মানুষের মহাকাশে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তারা। চাঁদের ‘ফার সাইড’ বা অন্ধকার অংশ প্রদক্ষিণ করার সময় সেই দৃশ্য দেখেছেন, যা আগে কখনো কোনো মানুষ দেখেনি।
নাসা জানিয়েছে, চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসতে মিশনের ওরিয়ন ক্যাপসুলের সময় লেগেছে সাত ঘণ্টার মত। এ সময় চাঁদের দূরবর্তী অংশের ছবিও ধারণ করা হয়েছে।
১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর মানবজাতির প্রথম চাঁদে প্রত্যাবর্তনের মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে এবারের অভিযান।
নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যানের নেতৃত্বে এই মিশনে আছেন ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।
তাদের ক্যাপসুল চাঁদের উল্টো পাশে গেলে পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় চাঁদ। এ সময় রেডিও সিগনাল যাতায়াত করতে না পারায় প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবী থেকে নভোচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকে।
সেই সময়টা পেরিয়ে আসার পর নভোচারীরা তাদের অভিজ্ঞতার গল্প নাসার মিশন কন্ট্রোল রুমে অপেক্ষায় থাকা বিজ্ঞানীদের শোনান।
মিশন পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, তারা যা দেখছেন তা বর্ণনা করা সত্যিই কঠিন।
“জানি, আমাদের এই পর্যবেক্ষণ হয়ত বৈজ্ঞানিকভাবে তেমন মূল্যবান নয়, কিন্তু আমি খুশি, ভাগ্যিস আমরা ১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করেছিলাম! আমরা আজ যা দেখেছি, মানুষ সম্ভবত এমন দৃশ্য দেখার জন্য এখনও বিবর্তিত হয়নি।”
মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান তার সঙ্গে যোগ করেন, “এ অভিজ্ঞতা বর্ণনাতীত। যতক্ষণই আমরা তাকিয়ে থাকি না কেন, আমাদের মস্তিষ্ক ওই দৃশ্য পুরোপুরি তৈরি করতে পারছে না। এটা অসাধারণ, পরাবাস্তব... এটা বোঝাতে কোনো বিশেষণই যথেষ্ট নয়—আমাকে নতুন শব্দ বানাতে হবে, জানালার বাইরে আমরা যা দেখছি, তা বোঝানোর মতো শব্দ নেই।”
চাঁদের দূরতম অংশ পর্যবেক্ষণের পর্ব শেষ হওয়ার পর মিশনের লাইভ সম্প্রচারে যোগ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি আর্টেমিস টুর নভোচারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আপনারা যা করছেন, এর মত কিছু মানুষ আগে কখনও দেখেনি। এটা সত্যিই অতুলনীয়।”
ট্রাম্প জিজ্ঞেস করেন, “হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?”
জবাবে ভিক্টর গ্লোভার বলেন, তিনি একটু প্রার্থনা করেছিলেন, এরপর চাঁদের দূরবর্তী অংশের বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহে মন দেন।
“আমরা এখানে খুব ব্যস্ত ছিলাম, বেশ চাপ গেছে। তবে বলতে হয়, অভিজ্ঞতাটা আসলে বেশ ভালোই ছিল।”
পৃথিবীতে ফেরার পর মিশনের চার নভোচারীকে হোয়াইট হাউজে যাওয়ার দাওয়াত দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ঐতিহাসিক ‘ফ্লাইবাই’
গত সপ্তাহে ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের পর থেকে আর্টেমিস টু নভোচারীরা নিজেদের ওরিয়ন ক্যাপসুলে অবস্থান করছেন।
বহু বিলিয়ন ডলারের এ সিরিজ মিশনের লক্ষ্য চীনকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারীদের পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং আগামী দশকে সেখানে দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
এছাড়া চাঁদে একটি ঘাঁটি তৈরি করতে চায় নাসা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে সম্ভাব্য মিশনের প্রস্তুতির জায়গা হিসেবে কাজ করবে।
অভিযানের ষষ্ঠ দিনে যুক্তরাষ্ট্র সময় সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ঘুম থেকে ওঠার পর তাদের শোনানো হয় অ্যাপোলো ৮ ও ১৩ মিশনের প্রয়াত নভোচারী জিম লোভেলের রেকর্ড করা এক বার্তা।
গত বছর ৯৭ বছর বয়সে মারা যাওয়া লোভেল জানতেন, মহাকাশে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে ভ্রমণের তাদের রেকর্ডটি এবার ভাঙতে যাচ্ছে আর্টেমিস টু মিশন।
এই মিশনের নভোচারীদের উদ্দেশে তিনি সেই বার্তায় বলে গেছেন, “আমার পুরানো এলাকায় তোমাদের স্বাগতম!
“ফ্র্যাঙ্ক বোরম্যান, বিল অ্যান্ডার্স আর আমি যখন অ্যাপোলো ৮-এ করে চাঁদ প্রদক্ষিণ করেছিলাম, তখন মানবজাতি প্রথমবার কাছ থেকে চাঁদকে দেখেছিল। পুরো পৃথিবীর এমন এক দৃশ্য পেয়েছিল, যা বিশ্ববাসীকে অনুপ্রাণিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিল।
“আজ আমি গর্বের সঙ্গে সেই মশাল তোমাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। তোমরা চাঁদের পাশ দিয়ে ঘুরে মঙ্গলে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করছ। এ ঐতিহাসিক দিন, তোমরা অনেক ব্যস্ত থাকবে জানি। তবে ওই দৃশ্য উপভোগ করতে ভুলো না। তোমাদের সবার জন্য শুভকামনা।”
বার্তাটি শোনার পর আর্টেমিস টু’র কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান মিশন কন্ট্রোলে রেডিওর মাধ্যমে বলেন, “জিম লোভেলের বার্তাটি অসাধারণ ছিল। তার কণ্ঠে আমাদের স্বাগত জানানো শুনতে খুব ভালো লেগেছে।”
এরপর যুক্তরাষ্ট্র সময় দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে পৃথিবী থেকে মানুষের সর্বোচ্চ দূরত্বে ভ্রমণের রেকর্ড গড়েন আর্টেমিস টু মিশনের নভোচারীরা।
এর আগে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো–১৩ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরত্ব পেরিয়েছিলেন।
সেই দূরত্ব পেরিয়ে আরো প্রায় ৪ হাজার ১০২ মাইল এগিয়ে গিয়ে পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল দূরত্বে পৌঁছানোর নতুন রেকর্ড গড়েন এবারের অভিযানের চার নভোচারী।
অ্যাপোলো ১৩-এর রেকর্ড ভাঙার পর কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, “আমরা পৃথিবী থেকে মানুষের এ যাবৎকালের সবচেয়ে দূরবর্তী পথ পেরিয়েছি। মহাকাশ গবেষণায় আমাদের পূর্বসূরীদের অসাধারণ পরিশ্রম ও সাফল্যকে সম্মান জানিয়েই আমরা এ কৃতিত্ব পেলাম।
“আমাদের এই প্রিয় পৃথিবী তার টানে আমাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা মহাকাশের আরও গভীরে আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখব।”
সবশেষে তিনি বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “তোমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন এই রেকর্ডটি খুব বেশিদিন টিকে না থাকে। তোমরা যেন শিগগিরই রেকর্ডটি ভেঙে আরও দূরে যেতে পার।”
এরপর চাঁদের দুটি নতুন গহ্বরের নামকরণ করেন নভোচারীরা, যা তারা মহাকাশযান থেকে খালি চোখে দেখতে পাচ্ছিলেন।
চাঁদের ‘ওম’ গর্তের কাছে অবস্থিত একটি গহ্বরেন নাম রাখা হয় তাদের ওরিয়ন মহাকাশযানের সম্মানে ‘ইন্টেগ্রিটি’।
আর ‘গ্লুশকো’ নামের এক উজ্জ্বল গর্তের পাশে অন্য গহ্বরের নাম তারা রাখেন ‘ক্যারল’। আর্টেমিস টু মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের প্রয়াত স্ত্রী ক্যারল টেলর ওয়াইজম্যানের স্মরণে এই নাম।
জেরেমি হ্যানসেন যখন এই নামগুলো প্রস্তাব করছিলেন, তখন আবেগে তার গলা কেঁপে উঠছিল। তার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চার নভোচারী একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। এ দৃশ্য দেখে হিউস্টনে নাসার কন্ট্রোল রুমেও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়
মহাকাশযানের জানালা দিয়ে দেখা দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে ওয়াইজম্যান বলেন, “এখান থেকে পৃথিবীকে ছোট এক বাঁকা চাঁদের মতো দেখাচ্ছে, চমৎকার! আমি একটি ছবিও তুলেছি... এখান থেকে দৃশ্যটা সত্যিই রাজকীয়।”
নাসা জানায়, ওরিয়ন মহাকাশযান চাঁদের আড়ালে চলে যায় যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে। এরপর নভোচারীরা মহাকাশের অন্ধকারে ডুবে যান এবং পৃথিবীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, কারণ চাঁদ তখন তাদের ও নাসার ‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’-এর মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’ হচ্ছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বড় রেডিও অ্যান্টেনা ব্যবস্থা, যা দিয়ে পৃথিবী থেকে নভোচারীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ওই সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যা ৭টায় মহাকাশযানটি চাঁদের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায়। চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশযানের উচ্চতা ছিল প্রায় ৪ হাজার ৬৭ মাইল।
এর দুই মিনিট পর ক্রুরা পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্বে পৌঁছে মানব মহাকাশযাত্রার নতুন রেকর্ড গড়েন।
চাঁদের দূরবর্তী অংশের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় ক্রুরা পৃথিবীর এই উপগ্রহের পিঠে আঘাতজনিত গর্ত, প্রাচীন লাভা প্রবাহ, এবং সময়ের সঙ্গে বিবর্তনে তৈরি হওয়া ফাটল ও উঁচু-নিচু গঠনের মত ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের ছবি তোলেন এবং সেসব বর্ণনা রেকর্ড করেন।
তারা রং, উজ্জ্বলতা ও গঠনের পার্থক্যও লক্ষ্য করেন, যা চাঁদের পৃষ্ঠের গঠন ও ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেবে।
চাঁদের চারপাশ দিয়ে ঘোরার সময় নভোচারীদের চোখে পড়ে পৃথিবীর অস্ত যাওয়ার এবং ‘উদয়’ হওয়ার বিরল মুহূর্ত, যা পৃথিবী থেকে দেখা চন্দ্রোদয়ের মহাজাগতিক দৃশ্যের উল্টো রূপ।
চন্দ্র পর্যবেক্ষণ পর্ব শেষ হওয়ার সময় মহাকাশযান, চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করায় প্রায় এক ঘণ্টা একটি সূর্যগ্রহণও তারা দেখেন।
অন্ধকারে ঢাকা চাঁদের প্রেক্ষাপটে তারা সূর্যের বহিঃস্তর বা করোনা বিশ্লেষণ করেন, যা চাঁদের প্রান্ত ঘিরে দেখা যাচ্ছিল।
ওই গ্রহণের সময় ক্রুরা এমন কিছু বিরল দৃশ্য দেখার সুযোগ পান, যা সাধারণত চাঁদের অন্ধকার অংশে ছাড়া দেখা যায় না।
তারা জানান, প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার মাইল গতিতে ছুটে আসা উল্কাপিণ্ড চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার ছয়টি আলোর ঝলক তারা দেখতে পেয়েছেন।
হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নাসার ‘সায়েন্স ইভালুয়েশন’ রুমে বিজ্ঞানীরা ওরিয়ন থেকে নভোচারীদের তোলা সেইসব ছবির জন্য অপেক্ষা করছেন। পাশাপাশি ফ্লাইবাই বা চাঁদ ঘিরে ঘোরার সময় তোলা অন্যান্য ডেটাও বিশ্লেষণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মহাকাশযান থেকে রাতভর তথ্য ডাউনলিংক হওয়ার পর, বিজ্ঞানীরা ছবি, অডিও ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে আলোক ঝলকের সময় ও অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা করবেন। একই সময়ে চাঁদ পর্যবেক্ষণ করা অপেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছ থেকেও তথ্য নেবেন।
মঙ্গলবার নাসার লাইভ সম্প্রচারের অংশ হিসেবে ক্রুরা তাদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে চন্দ্রবিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পৃথিবীর সঙ্গে মহাকাশযানের রেডিও যোগাযোগ পুনস্থাপিত হয়।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ওই ৪০ মিনিট নভোচারীরারই তাদের মহাকাশযানের দেখভাল করেন। ইঞ্জিন ও গতিপথের নিয়ন্ত্রণ ছিল ওরিয়নের কম্পিউটারের হাতে।
রেডিও যোগাযোগ ফেরার পর ওরিয়ন থেকে মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, “এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়ার মানুষদের উদ্দেশে, আমরা আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছি, আপনারাও এখন আকাশের দিকে তাকালে চাঁদ দেখতে পাবেন। আমরাও আপনাদের দেখতে পাচ্ছি।”
আর্টেমিস টুর যাত্রা শুরুর সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যখন আমরা এই মহাকাশযানে করে চাঁদের দিকে রওনা হলাম, তখন বলেছিলাম, আমরা পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছি না, বরং পৃথিবীকেই বেছে নিচ্ছি—এটাই সত্যি।
“আমরা অনুসন্ধান করব, আমরা গড়ে তুলব, আমরা মহাকাশযান তৈরি করব, আমরা আবার চাঁদে আসব। আমরা বৈজ্ঞানিক ঘাঁটি গড়ে তুলব, রোভার চালাব, কোম্পানি গড়ে তুলব, শিল্পকে শক্তিশালী করব।
“আমরা অনুপ্রেরণা দেব, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সবসময় পৃথিবীকেই বেছে নেব।”
পরে নাসার লাইভ সম্প্রচারে যুক্ত হন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রশ্নে কমান্ডার ওয়াইজম্যান বলেন, “আমরা এমন দৃশ্য দেখেছি, যা কোনো মানুষ আগে কখনও দেখেনি, এমনকি অ্যাপোলো মিশনও না। এটা আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য।”
তিনি সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের মধ্য দিয়ে মানুষ হয়ে উঠবে দুই-গ্রহের বাসিন্দা, সেটা ভেবে তারা রোমাঞ্চিত।
চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে শুরু হয় আর্টেমিস টু মিশনের ফিরতি যাত্রা। পৃথিবীতে ফিরে আসতে তাদের প্রায় চার দিন সময় লাগবে।
১০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটে প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়নের অবতরণ (স্প্ল্যাশডাউন) করার কথা রয়েছে। উদ্ধারকারী দল পানিতে ভাসমান ক্যাপসুল থেকে নভোচারীদের তুলে নেবে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে, তারপর তাদের মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজে নিয়ে যাওয়া হবে।
নাসা জানিয়েছে, স্থলভাগে ফেরার পথে ওই জাহাজেই নভোচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
আইফোন
জন টার্নাস অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব শুরু করার দ্বিতীয় সপ্তাই গত ২০ বছরের মধ্যে আইফোনের প্রথম বড় পরিবর্তনটি প্রকাশ করেছে। টিম কুকের পদত্যাগের পর অ্যাপলের শীর্ষ পদে আসীন হওয়া টার্নাস, বুধবার কোম্পানির বার্ষিক পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন এনেছেন। বইয়ের মতো আকৃতির নতুন আইফোন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ডুও, এটি এই পণ্যের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় সংস্করণ। যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রাথমিক মূল্য ১,৯৯৯ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২০০ ডলার। শুধু আইফোনের তো বটেই, বর্তমানে প্রচলিত ফোনগুলোর মধ্যে এটা সবচেয়ে দামি ফোন বলা যেতে পারে।
টার্নাস বলেছেন যে ডুও "আইপ্যাড দ্বারা অনুপ্রাণিত", তবে এর ভাঁজ করার বৈশিষ্ট্যগুলোকে "সাবলীল এবং সম্পূর্ণ স্বজ্ঞামূলক" বলে অভিহিত করেছেন। অ্যাপলের ভেতরে ফোল্ডেবল ফোন তৈরির কাজ বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। খোলা অবস্থায় নতুন ডুও-টিকে দেখতে একটি ছোট আইপ্যাডের মতো লাগে। অর্ধেক ভাঁজ করলে, এটিকে একটি চওড়া আইফোনের মতো দেখায়।
টার্নাস বলেন যে, অ্যাপল বাজারে থাকা অন্যান্য ফোল্ডেবল স্মার্টফোনগুলোর চেহারা ও অনুভূতি এড়াতে চায়, যেগুলোকে তার মতে "দুটো ফোন একসাথে জুড়ে দেওয়ার মতো মনে হয়... যার ফলে বড় স্ক্রিনটিকে অনেক ছোট দেখায়।" তিনি বলেন, ডুও হলো "ধারাবাহিক কিছু অসাধারণ উদ্ভাবনের ফল, যা আমাদের বিশ্বাস, ফোল্ডেবল ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।" টার্নাস ফোল্ডেবল আইফোন তৈরিতে সরাসরি জড়িত ছিলেন, কারণ এই বছরের শুরুতে কুকের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হওয়ার আগে তিনি অ্যাপলের হার্ডওয়্যার বিভাগে বহু বছর শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছেন।
প্রযুক্তি গবেষণা সংস্থা এফডিএম সিসিএস ইনসাইট-এর প্রধান বিশ্লেষক বেন উড বলেছেন, সম্ভবত টার্নাসের পদোন্নতির সময়টি বিশেষভাবে এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, "যা সম্ভবত বিগত বহু বছরের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম আইফোন উন্মোচনের সাথে মিলে যায়"। "অ্যাপলে কোনো কিছুই আকস্মিকভাবে ঘটে না," উড যোগ করেন।
ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিসের বিশ্লেষক ক্যারোলিনা মিলানেসি, যিনি বুধবারের উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন, তিনি বলেন, টার্নাসের ওপর আলোকপাত দেখে মনে হচ্ছিল যেন তিনি নিজেই একটি পণ্য। বহুদিন ধরে অ্যাপল নিয়ে সমালোচনা ছিল যে ২০০৭ সালে প্রথম আইফোনটি বাজারে আসার পর থেকে অ্যাপল এখনও পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সাফল্য বা সত্যিকারের আকর্ষণীয় উদ্ভাবন আনতে পারেনি। আইফোনের নকশা পরিবর্তন করার ফলে ওই সমালোচনার কিছুটা সমাধান হতে পারে।
ফরেস্টারের বিশ্লেষক দীপঞ্জন চ্যাটার্জি বলেন, "ফোল্ডেবল ফোনটি পোর্টফোলিওতে একটি চড়া দামের অলঙ্কারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা কেবল ব্র্যান্ডের মর্যাদা বাড়ালেও অর্থপূর্ণ প্রবৃদ্ধি আনতে নাও পারে।" এর আগে, নতুনতম আইফোনের সর্বোচ্চ প্রারম্ভিক মূল্য ছিল ৯০০ ডলার (৬৬৪ পাউন্ড)। অ্যাপল বুধবার নতুন আইফোন ১৮ প্রো এবং ১৮ প্রো ম্যাক্সও উন্মোচন করেছে, যেগুলোর দাম যুক্তরাষ্ট্রে যথাক্রমে ১,১৯৯ ডলার (৮৫৫ পাউন্ড) এবং ১,২৯৯ ডলার (৯৫৯ পাউন্ড) থেকে শুরু।
দীপঞ্জন চ্যাটার্জি বলেছেন, ফোল্ডেবল আইফোনের পরিণতিও অ্যাপলের ভিশন প্রো হেডসেটের মতো হতে পারে, যেটির দাম কোম্পানিটি ৩,৬৯৯ ডলার (২,৭২৯ পাউন্ড) নির্ধারণ করেছিল এবং যা ক্রেতাদের কাছে তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। অথবা, তিনি বলেন, এটি হতে পারে কোম্পানির পরবর্তী অ্যাপল ওয়াচ, যা আইফোনের মতো জনপ্রিয় না হলেও প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ কেনেন। আইফোনের কার্যপদ্ধতির সাথে মানুষ যেভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তা অ্যাপলের নতুন ডিজাইনের ব্যাপক বিক্রির পথে আরেকটি সম্ভাব্য বাধা। "ফোল্ডেবল ফোনগুলো আকর্ষণীয় ডিভাইস," মিলানেসি উল্লেখ করেছেন। "অনেকেই এর প্রতি আগ্রহী, কিন্তু একটি প্রচলিত ফোন থেকে ফোল্ডেবল ফোনে স্থানান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার এবং শেখার প্রক্রিয়াটি বেশ কঠিন।"
বেন উড উল্লেখ করেন, স্যামসাং এবং হুয়াওয়ের মতো কোম্পানির ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বর্তমান বাজার স্মার্টফোন বিক্রির মাত্র ২ শতাংশ। ডেটা ও অ্যানালিটিক্স ফার্ম এফডিএম সিসিএম ইনসাইটের মতে, অ্যাপলের সংস্করণটি আগ্রহ ও চাহিদা বাড়ালেও, আগামী দশকে এর বিক্রি মোট বাজারের মাত্র ৪ শতাংশে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইফোন অ্যাপলের সর্বাধিক বিক্রিত পণ্য এবং এটি প্রতি বছর কোম্পানিটির মোট বিক্রয়ের অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখে।
সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকগুলোতে কোম্পানিটি গর্ব করে বলেছে যে, আইফোনের চাহিদা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি এবং ডিভাইসটির সর্বশেষ সংস্করণটি তাদের সবচেয়ে সফল পণ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে । কোম্পানিটি তাদের অডিও এবং চ্যাট অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি-র আসন্ন পুনঃপ্রবর্তন সম্পর্কেও আরও তথ্য প্রকাশ করেছে, যাকে তারা এখন সিরি এআই নামে অভিহিত করছে। আইফোন ১৮ থেকে শুরু করে, সিরি এখন কোনো ব্যক্তির ফোনের মেসেজ এবং ইমেলের মতো তথ্য ঘেঁটে তথ্য খুঁজে বের করতে, প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং তার পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।
নতুন অ্যাপল ওয়াচেও সিরি এআই-এর কিছু ফিচার পাওয়া যাবে, যার মধ্যে রয়েছে কথোপকথনের নোট নেওয়া এবং তা লিখে ফেলার ক্ষমতা, যদি ব্যবহারকারী সেই ফিচারটি চালু করেন। টার্নাস আইফোনের নতুন এআই-সক্ষম বৈশিষ্ট্যগুলোকে একটি "বুদ্ধিমান ব্যক্তিগত কেন্দ্র" হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং স্বীকার করেছেন যে অ্যাপল "আপনার দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত বিবরণ" ব্যবহার করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে এর সবকিছুই গোপন থাকবে এবং এআই ফিচারগুলো প্রায়শই 'ডিভাইসে' চলবে, অর্থাৎ কোনো তৃতীয় পক্ষের কোম্পানির মাধ্যমে নয়। আর যখন কোনো কাজের জন্য তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন হবে, টার্নাস বলেছেন যে সেটি একটি রিমোট সার্ভার বা ক্লাউডে গোপন থাকবে। "অন্যরা সেই ডেটাকে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার বস্তু হিসেবে দেখে," টার্নাস বললেন। "কিন্তু এখানে, এমনকি অ্যাপলও আপনার ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ করতে পারে না।"
জিওফ্রে হিন্টন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী হয়ে উঠলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতির পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে, এমনকি মানবজাতির বিলুপ্তিও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এআই প্রযুক্তির অন্যতম পথিকৃৎ জিওফ্রি হিন্টন।
এআইয়ের গডফাদার হিসেবে পরিচিত জিওফ্রি হিন্টনের মতে, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য এআই প্রযুক্তি তৈরির বিষয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো কোনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি। তাই এখনই অতিবুদ্ধিমান এআই বা অতিমানবীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এআই তৈরির পথে এগোনো উচিত নয়।
জিওফ্রি হিন্টন কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এআই প্রযুক্তির বর্তমান বিকাশে তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে তাঁকে এআইয়ের গডফাদার বলা হয়। তবে এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়েও বারবার সতর্ক করেছেন তিনি।
অতিবুদ্ধিমান এআই বলতে এমন একধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বোঝানো হয়, যা বুদ্ধিমত্তা ও সক্ষমতার দিক থেকে যেকোনো মানুষ, প্রতিষ্ঠান; এমনকি একটি দেশের সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। হিন্টনের আশঙ্কা, মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান এআইয়ের ওপর একবার নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটিকে আবার নিয়ন্ত্রণে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
হিন্টনের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাজ্যে অতিবুদ্ধিমান এআইয়ের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সংগঠন কন্ট্রোলএআইয়ের সহায়তায় তৈরি ‘ইউকে আর্টিফিশিয়াল সুপারইন্টেলিজেন্স সিকিউরিটি’ নামের বিলটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উপস্থাপন করবেন লেবার পার্টির সংসদ সদস্য অ্যালেক্স সোবার। কন্ট্রোলএআইয়ের তথ্যমতে, এআইয়ের সুফল কাজে লাগানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে হলে সবচেয়ে শক্তিশালী এআই ব্যবস্থাগুলোর ওপর বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা প্রয়োজন।
অবশ্য এআই খাতের সবাই এমন কঠোর নিয়ন্ত্রণের পক্ষে নন। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে আসছেন। যদিও এআই প্রযুক্তির বিকাশের শুরুর দিকে তিনি এই খাতের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন।
সূত্র: ডেইলি মেইল
ফোন হাত দিয়ে ধরে না রেখে কল থেকে শুরু করে তারবিহীর হেডফোনের ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরামদায়ক করতে ব্লুটুথ প্রযুক্তির জুড়ি মেলা ভার। তবে আধুনিক প্রযুক্তির এ সুবিধার যেমন কমতি নেই তেমনই এর কিছু নেতিবাচক দিক বা ঝুঁকিও রয়েছে।
বর্তমান সময়ে যখন ব্যক্তিগত ডেটা বা তথ্য মূল্যবান উপাদান হয়ে উঠেছে তখন সচেতন থাকা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা জরুরি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
অন্য কোনো ডিভাইসের সঙ্গে পেয়ারিং বা যুক্ত হওয়ার আগে ব্লুটুথের ব্যবহারকারীর অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে এর মানে এই নয় যে, হ্যাকাররা ফাঁকফোকর গলে সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে না।
ফিটবিট ও এ প্রযুক্তি ব্যবহারকারী অন্যান্য হার্ডওয়্যারে এক বিশেষ ব্লুটুথ ত্রুটি ধরা পড়েছিল। ওপেন-সোর্স অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এসব ত্রুটির মাধ্যমে ক্ষতিকর চক্র ব্যবহারকারীর লাইভ লোকেশন ডিকোড করা যায়, যা বড় বিপদের কেবল ছোট একটি ইঙ্গিত।
এ ছাড়া, ‘ইনসিনুয়াটর’-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ‘আইরোহা’ভিত্তিক হার্ডওয়্যারে এমন এক ত্রুটির সন্ধান মিলেছে, যা ব্লুটুথ রেঞ্জের মধ্যে থাকা সাইবার আক্রমণকারীদের গোপনে আলাপ আড়ি পেতে শোনা ও ফোন নম্বর, কনট্যাক্ট ও কল হিস্ট্রির মতো ব্যক্তিগত ডেটা চুরির সুযোগ পায়।
ব্লুটুথ নিরাপত্তার কিছু সেরা উপায়
কিছু সহজ পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ডিভাইস সুরক্ষিত রাখতে পারেন। যার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর হচ্ছে ব্যবহার শেষে ব্লুটুথ বন্ধ রাখা। এর ফলে ব্যবহারকারীর ডিভাইস হ্যাকারদের নজরদারিতে থাকার সময়সীমা কমে যায় ও ‘ব্লুব্যাগিং’ বা ‘ব্লুস্নারফিং’-এর মতো কাছাকাছি সংযোগের সুযোগ নিয়ে ডিভাইস হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
পাশাপাশি, ব্লুটুথ মোড ‘ডিসকভারিবল’ বা সবার জন্য উন্মুক্ত না রেখে ‘হিডেন’ বা লুকানো মোডে সেট করে রাখা উচিত, যা অপরিচিত বিভিন্ন ডিভাইসকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।
যারা রেন্টাল কার বা ভাড়ায় চালিত গাড়িতে ফোন কানেক্ট করেন বা বর্তমান গাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের অবশ্যই গাড়ি হস্তান্তরের আগে ফোন আনপেয়ার করা ও গাড়ি থেকে সব ব্যক্তিগত ডেটা মুছে ফেলার কাজটি নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া, ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো’র মতো ভেহিকুলার সিস্টেমে ব্লুটুথ ব্যবহারের জন্য ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই উভয় সংযোগেরই প্রয়োজন, যা নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির জন্ম দিয়েছে।
এ তারবিহীন সুবিধা এড়িয়ে চলা এর একটি সমাধান হতে পারে ও ফোনের অ্যান্ড্রয়েড অটো সেটিংস থেকে ‘স্টার্ট অ্যান্ড্রয়েড অটো অটোমেটিক্যালি’ অপশনটি ‘নেভার’ করে দিয়ে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়া ঠেকানো সম্ভব।
আইফোন ব্যবহারকারীদেরও ফোনের ‘লাইভ লিসেন’ ফিচারের দিকে বিশেষ নজর রাখা উচিত। ফিচারটি ফোনের মাইক্রোফোন থেকে এয়ারপডস, হিয়ারিং এইড বা সমর্থিত হেডফোনে অডিও স্ট্রিম করতে সাহায্য করে।
এ সেটিংটি ব্লুটুথ ব্যবহার করে ফলে তা ব্লুব্যাগিং আক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ফিচারটি বন্ধ রাখতে ফোনের ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি’ সেটিংসে গিয়ে ‘লাইভ লিসেন’ অপশনটি অফ করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
ব্লুটুথ প্রযুক্তির নতুন ত্রুটি ও সুরক্ষার উপায়
দৈনন্দিন জীবনে ব্লুটুথ প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন নিরাপত্তা ত্রুটি বা দুর্বলতাও সামনে আসছে। ব্লুটুথ নির্ভর বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে নিয়মিত নিরাপত্তা রিপোর্টগুলোর ওপর নজর রাখা জরুরি।
কারণ, বিভিন্ন নির্দিষ্ট ডিভাইসে আলাদা ধরনের ত্রুটি থাকতে পারে। ওয়্যার্ড প্রতিবেদনে লিখেছে, বেলজিয়ামের ‘কেইউ লিউভেন ইউনভার্সিটি’র গবেষকরা ১৭টি ‘গুগল ফাস্ট পেয়ার’ অডিও ডিভাইসে বড় ধরনের ত্রুটির সন্ধান পেয়েছিলেন।
গবেষকদের ভাষ্য, হ্যাকাররা কেবল ডিভাইসের মডেল নম্বর জানা মাত্রই ব্যবহারকারীর লাইভ লোকেশন ডেটা ট্র্যাক করতে ও তাদের গোপন আলাপে আড়ি পেতে শুনতে পেরেছিল।
এ ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা ‘হইস্পারপেয়ারডটইইউ’ টুলটি প্রকাশ করেছেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ডিভাইসটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না তা যাচাই করে নিতে পারেন।
ব্যক্তিগত তথ্যের প্রাইভেসি রক্ষায় ও ব্লুটুথ হ্যাকিং থেকে নিরাপদ থাকতে কিছু মৌলিক সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্লুটুথ বন্ধ রাখা।
এ ছাড়া, ‘ইউএস জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট’ বা এফসিসি’র প্রস্তাবিত বিভিন্ন নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চললে ব্যক্তিগত সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটার সুরক্ষা বহুলাংশে নিশ্চিত করা সম্ভব।
বর্তমান সময়ে টেক প্রাইভেসি নিয়ে সচেতনতা ও এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পরিষেবার পরিধি যেভাবে দ্রুত বাড়ছে তাতে এসব সাধারণ পদক্ষেপ অনুসরণ করা মানসিক শান্তি ও উন্নত সুরক্ষার পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে কাজ করবে।
ছবি : সংগৃহীত
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমশ আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা এআই-ভিত্তিক ভুয়া প্রোফাইল, ছবি-ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে বিভ্রান্তি ও বিভিন্ন জটিলতা বাড়ছে। এমনকি ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে অনেক প্রতিষ্ঠানও নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এসব প্রতারণা রোধে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ফেসবুক।
সম্প্রতি এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্ত করার জন্য বিনা মূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। তবে এই ব্যাজ পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে অবশ্যই সেলফি ভিডিও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
এ ব্যাপারে টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, ফেসবুকের এই ভেরিফায়েড বেজ দেখাবে যে- ফেসবুক প্রোফাইলের ব্যবহারকারী প্রকৃত অর্থেই একজন মানুষ কিনা। কিন্তু মেটার সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস এই মেটা ভেরিফায়েডের থেকে ভিন্ন। এটি চালু করা হচ্ছে শুধু সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য।
ফ্রিতে ফেসবুক আইডি ভেরিফায়েড করার নিয়ম:
মেটার এই নতুন ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে নিজের সেলফি ভিডিও ধারণ করতে হবে। ভিডিওটি ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট মালিকের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্ত করা হবে।
কারা পাবেন এই ভেরিফায়েড ব্যাজ:
ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে ন্যূনতম কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব হলো―ব্যবহারকারীর বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে। অ্যাকাউন্টটি ফেসবুক কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভালো অবস্থায় থাকতে হবে। অ্যাকাউন্টে কোনো ধরনের প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের রেকর্ড বা ইতিহাস থাকা যাবে না। এসব প্রক্রিয়ায় পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সফল হতে হবে। পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ফেসবুকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যাবে। যেমন- প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, গ্রুপ ও ফেসবুক ডেটিংয়ে।
মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এআইয়ের মাধ্যমে এখন সহজেই ভুয়া ছবি-ভিডিও, ভুয়া পরিচয় ও বিশ্বাসযোগ্য প্রোফাইল তৈরি করা হয়। ফলে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তবে ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু হলে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন, তিনি যার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, ওই ব্যক্তি বাস্তবে মানুষ কি না।
তবে মেটা এটি স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির সততা বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা প্রদান করে না। পরিষেবাটি কেবল ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাইয়ের প্রমাণস্বরূপ। এ জন্য অনলাইনে কোনো ধরনের লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এছাড়াও মেটা জানিয়েছে, ধাপে ধাপে চালু করা হবে এই ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ। নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশে চালুর পর ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও চালু করা হবে পরিষেবাটি। তবে প্রথমে কোন দেশে চালু হবে, সেটি এখনো জানা যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
জীবনের নানা ব্যস্ততা ও ঝক্কি-ঝামেলায় মনোযোগ ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। নিজের জীবনেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার এ প্রবণতা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এ সমস্যার সমাধানে নতুন পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হয়েছে স্টার্টআপ কোম্পানি ‘অ্যাটলাস’। আশপাশের বিভ্রান্তি ঠেলে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখা যাদের জন্য কঠিন তাদের স্বস্তি দিতে বাজারে আসছে নতুন পরিধানযোগ্য যন্ত্র।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, কানের পেছনে আঠার মতো লেগে থাকা ‘অ্যাটলাস ১.০’ নামের সেন্সরটি মস্তিষ্কের তরঙ্গ ও শারীরিক সংকেত বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দেবে কোন মুহূর্তে ব্যবহারকারীর মনোযোগ ঠিক কতটা নিবদ্ধ ছিল।
সেন্সরটি কানের পেছনে আঠালো প্যাডের সাহায্যে ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকে, যা একাধারে ব্যবহারকারীর মস্তিষ্কের তরঙ্গ, ত্বকের ইলেকট্রোডার্মাল ক্রিয়া, শারীরিক নড়াচড়া ও গলার স্বরের ধরন বা ভয়েস সিগনেচার রেকর্ড করে।
পরে নিজস্ব অ্যালগরিদমের মাধ্যমে এসব ডেটা বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ হয় ঠিক ওই মুহূর্তে মানুষের মনোযোগ ও মস্তিষ্কের কার্যসক্ষমতা কোন দিকে নিবদ্ধ ছিল।
সহজভাবে বললে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে থেকেও আপনার মন অন্য কোনো উদ্বেগে ডুব দিয়েছিল কি না সেটি ধরে ফেলবে এই নতুন প্রযুক্তি।
আপাতত কেবল আইওএস ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য এ অ্যাপটি খুললেই জানা যাবে আপনি কতটা মনোযোগী, মানসিক চাপে কেমন পারফর্ম করছেন বা মানসিক চাপ থেকে কতটা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারছেন।
এরপর দিনের কোন সময়ে কী করছিলেন তা অ্যাপে নথিভুক্ত করে নিজেই বুঝতে পারবেন কোনটি ভালো ছিল আর কোনটি নয়।
এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য, কোন পরিবেশ বা পরিস্থিতি মানুষের সেরাটা বের করে আনে তা শনাক্ত করা, যাতে ভবিষ্যতে সেসব অভিজ্ঞতা সামলানো আরও সহজ হয়।
ভয়েস সিগনেচার ধারণ করায় যারা প্রাইভেসি নিয়ে উদ্বিগ্ন তাদের জন্য আশার কথা হচ্ছে ‘অ্যাটলাস ১.০’ ব্যবহারকারীর কোনো কথা বা আলাপ রেকর্ড করে না। এর বদলে কোনো মুহূর্তে ব্যবহারকারী কেমন মানসিক অবস্থায় আছেন তা বুঝতে কথা বলার সক্রিয়তা ও ধরন বিশ্লেষণ করে যন্ত্রটি।
একেবারে শুরুর দিকে থাকায় ‘অ্যাটলাস ১.০’ কারো জীবনের লক্ষ্য বুঝতে ঠিক কতটা কার্যকর হবে তা জানার উপায় নেই। তবে, যারা দৈনন্দিন জীবনে সামান্যতম উন্নতিতেও নজর দেন সেই গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে যন্ত্রটির অগ্রিম বুকিং নেওয়া শুরু করেছে কোম্পানিটি।
ডিভাইসটি কিনতে খরচ পড়বে ৫০০ ডলার। সেন্সর ও আঠালো প্যাড নিয়মিত সচল রাখতে প্রতি মাসে গুনতে হবে আরও ৩০ ডলারের সাবস্ক্রিপশন ফি।
প্রতীকী ছবি
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোন চার্জে বসিয়ে রেখে সকালে চার্জার খোলা অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু ফোন ১০০ শতাংশ চার্জ হয়ে যাওয়ার পরও যদি সেটি কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুতের সংযোগে থাকে, তাহলে কি ব্যাটারির ক্ষতি হয়? আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে উত্তরটি কিছুটা ভিন্ন।
বর্তমান স্মার্টফোনে সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন বা লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ফোন পুরোপুরি চার্জ হয়ে গেলে এর চার্জিং সিস্টেম প্রয়োজন অনুযায়ী কারেন্ট সরবরাহ কমিয়ে দেয় বা মূল চার্জিং প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে ১০০ শতাংশে পৌঁছানোর পরেও ব্যাটারিতে একইভাবে লাগাতার বিদ্যুৎ ঢুকতে থাকে না। তাই রাতভর চার্জে রাখলেই ফোন ‘ওভারচার্জ’ হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে এমন ধারণা ঠিক নয়।
১০০ শতাংশ চার্জে দীর্ঘক্ষণ থাকা কি ভালো?
ওভারচার্জ না হলেও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটারিকে ১০০ শতাংশ চার্জ অবস্থায় রাখা আদর্শ নয়। লিথিয়াম-ভিত্তিক ব্যাটারিতে দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ চার্জ ধরে রাখলে ধীরে ধীরে রাসায়নিক অবক্ষয়ের হার বাড়তে পারে। এর প্রভাব সময়ের সঙ্গে ব্যাটারির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতায় পড়ে।
ফলে কয়েক মাস বা বছর ব্যবহারের পর দেখা যেতে পারে, আগের তুলনায় ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, রাতভর চার্জে লাগিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় আশঙ্কা তাৎক্ষণিক ‘ওভারচার্জ’ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য কিছুটা দ্রুত কমে যাওয়া।
চার্জ দেওয়ার সময় গরম হচ্ছে কি না, নজর রাখুন
ব্যাটারির ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে ফোনকে বালিশ, কম্বল বা বিছানার নিচে রেখে চার্জ করা উচিত নয়। এসব জায়গায় ফোনের চারপাশে বাতাস চলাচল কম থাকায় তাপ সহজে বের হতে পারে না। তাই চার্জ দেওয়ার সময় ফোনকে শক্ত, সমতল এবং খোলা জায়গায় রাখাই নিরাপদ অভ্যাস।
ফোনের ব্যাটারি প্রোটেকশন ফিচার কাজে লাগান
ব্যাটারির আয়ু ধরে রাখতে এখন অনেক স্মার্টফোনেই বিশেষ চার্জিং ফিচার দেওয়া হয়। ফোনভেদে এর নাম হতে পারে অপটিমাইজড চার্জিং, অ্যাডাপটিভ চার্জিং অথবা ব্যাটারি প্রোটেকশন।
এই ফিচারগুলো ব্যবহারকারীর চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বিশ্লেষণ করে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ ফোনকে ১০০ শতাংশে আটকে না রেখে নির্দিষ্ট সময়ের কাছাকাছি গিয়ে পুরো চার্জ করে। ফলে ব্যাটারি দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ চার্জ অবস্থায় থাকার সময় কমে।
তাহলে রাতে চার্জে রেখে ঘুমানো যাবে?
আধুনিক স্মার্টফোনে চার্জিং নিয়ন্ত্রণের একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকায় রাতভর চার্জে লাগিয়ে রাখলে ফোন সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমনটা সাধারণত নয়। তবে ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়ানো এবং ফোনে থাকা অপটিমাইজড চার্জিং বা ব্যাটারি প্রোটেকশনের মতো ফিচার চালু রাখা ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, চার্জ দেওয়ার সময় ফোন যেন অতিরিক্ত গরম না হয় এবং সেটি যেন বালিশ বা কম্বলের নিচে চাপা না থাকে। এতে নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যাটারির কর্মক্ষমতাও দীর্ঘদিন ভালো রাখার সুযোগ বাড়ে।