সিলেট ছাতক রেল লাইনের সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে

  • প্রকাশ : সোমবার ১৮ মে, ২০২৬, সময় : ১২:৫১ পিএম

সিলেটের রেল যোগাযোগে ভোগান্তি কমছেনা, সিলেট ছাতক রেল লাইনের সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে। সিলেটের রেল উন্নয়নে শুধু আশার বানী শুনানো হয়।


তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে। ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে মিটারগেজ সিঙ্গেল লাইনের কারণে ট্রেন চলাচলে দীর্ঘ অপেক্ষা, শিডিউল বিপর্যয় ও ধীরগতির যাত্রা সিলেটবাসীর নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ডাবল লাইন চালু হলে বদলে যেতে পারে পুরো চিত্র।


দক্ষিন সুরমার ভার্থখলায় অবস্থিত এই স্টেশন বর্তমানে ঢাকা ও ছাতকের সঙ্গে মিটারগেজ লাইনে সংযুক্ত। ডাবল লাইন সিলেটের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হবে।

 

বর্তমানে সিলেটের রেলপথ এখনো সিঙ্গেল লাইন মিটারগেজ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ফলে ট্রেন ক্রসিংয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। এ অবস্থায় সরকার ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটকে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এরইমধ্যে চলছে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা।




ঐতিহাসিকভাবে সিলেটের রেলপথের যাত্রা শুরু হয় ব্রিটিশ আমলে। চা শিল্প ও পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে ১৯১২ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে চালু হয় কুলাউড়া-সিলেট রেললাইন। পরে ১৯৫৪ সালে চালু হয় সিলেট-ছাতক রুট। এতে সিলেট স্টেশনের গুরুত্ব আরও বাড়ে। 


তবে করোনা মহামারির সময় বন্ধ হয়ে যায় ছাতক রুটে ট্রেন চলাচল। এরপর ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় রেললাইন, যা এখনো সচল হয়নি। সংস্কার কাজে গাফলতিও দীর্ঘসুত্রিতা দেখা দিয়েছে। সঠিক সময়ে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না নির্মানকারী ঠিকাদের অবহেলায় বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন।বর্তমানে এ লাইনের সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে।


২০০৪ সালে পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন রূপ পায় সিলেট রেলওয়ে স্টেশন। দক্ষিন সুরমার ভার্থখলায় অবস্থিত এই স্টেশন বর্তমানে ঢাকা ও ছাতকের সঙ্গে মিটারগেজ লাইনে সংযুক্ত। সময়ের সঙ্গে এটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগ কেন্দ্রে পরিণত হলেও পুরোনো অবকাঠামো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সম্প্রতি ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনের দাবিতে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে মানববন্ধন করেছেন সচেতন নাগরিকরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যাত্রার সময় কমবে, বাড়বে ট্রেনের সংখ্যা ও যাত্রীসেবা।


এদিকে,বর্তমানে সিলেট-ঢাকা রুটে চারটি এবং সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। সব মিলিয়ে ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে সিলেটের রেল যোগাযোগ। 


অন্যদিকে রেল কর্তৃপক্ষ বলছে ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে লোকাল ও মেইল ট্রেন চলাচল। প্রতিদিন এসব আন্তঃনগর ট্রেনে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ যাত্রী যাতায়াত করছেন। এছাড়া ইঞ্জিন সংকটের কারণে তেলবাহী ট্রেন চলাচলও কমে এসেছে। আগে যেখানে ২০ থেকে ২২টি ট্রেন চলাচল করতো, বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র পাঁচটিতে।


সম্প্রতি সিলেট সফরে এসে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, সিলেট-ঢাকা-চট্টগ্রাম ডুয়েল গেজ রেললাইন চালুর লক্ষ্যে সমীক্ষা চলছে। তিনি বলেন, ইঞ্জিন সংকট সমাধানের পাশাপাশি যাত্রীসেবার সঙ্গে পণ্য পরিবহনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার, যাতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যায়। সবকিছু ঠিক থাকলে উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের শিডিউল বিপর্যয় ও ভোগান্তি পেছনে ফেলে এখন নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছে সিলেটের জনগন। 


সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার নূরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ঢাকা-সিলেট রুটে যাত্রা করতে যেখানে অন্তত ৮ ঘণ্টা সময় লাগে, ডাবল লাইন চালু হলে তা ১ থেকে ২ ঘণ্টা কমে আসবে। তিনি বলেন, ডাবল লাইন সিলেটের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হবে।


টিকিট কালেক্টর রায়হান বিন ইসলাম জানান, ক্রসিংয়ের কারণে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হয়। ডাবল লাইন হলে যাত্রীদের সময় বাঁচবে, টিকিটের চাহিদা বাড়বে, ট্রেনও বাড়বে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫০ পিএম

মুন্সিগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে জাহেদ বেপারী (৫০) নামের এক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ভিটিহোগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত জাহেদ বেপারী আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফয়সাল বিপ্লবের সমর্থক ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। 


পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে প্রতিপক্ষ জাহেদকে অতর্কিতভাবে কুপিয়ে জখম করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।  


নিহতের স্ত্রী বেবী বেগম জানান, প্রতিপক্ষ ফরিদ হোসেন ও তার সহযোগীরা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তারা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভিড়ে এলাকায় নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন। মূলত জাহেদ ও ফরিদ অতীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দুই সাবেক সংসদ সদস্যের সমর্থক হওয়ায় সেই সময় থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।এছাড়া রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি আগামী শুক্রবার ভিটিহোগলা গ্রামের একটি মাজারের ওরস আয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধের জেরেও এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পরিবার।


বাবার নির্মম হত্যার বিচার চেয়ে নিহতের বড় মেয়ে ফারিয়া আক্তার বলেন, ‘তিন বোনের সামনে আমার বাবাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। আমরা তিন বোন চিরদিনের জন্য এতিম হয়ে গেলাম। চোখের সামনে বাবাকে কুপিয়ে মারতে দেখলো আমার প্রতিবন্ধী বোন মারিয়া ও ছোট বোন ইমা। আমরা এই স্মৃতি কীভাবে ভুলব? এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’


মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন জানান, পূর্ববিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে এবং একাধিক বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে।


ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফরিদ বেপারীকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত ফরিদের বিরুদ্ধে এর আগেও হত্যা ও মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

শহীদ আলম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৩ পিএম

পঞ্চগড়ের দরিদ্র পরিবারের সন্তান শহীদ আলম (২৫)। পেশায় একজন চাতাল শ্রমিক। হৃদযন্ত্রের দুটি ভালভ নষ্ট হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন তিনি। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভালভ প্রতিস্থাপন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। কিন্তু অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ছেলেকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তার বাবা নুর ইসলাম।


শহীদ আলম পঞ্চগড় সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলেয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। কিছুদিন আগে চাতালে কাজ করার সময় হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। একই সঙ্গে শুরু হয় রক্তবমি। দ্রুত তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পাঠানো হয় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে।


সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. আসিফ আহসান চৌধুরী জানান, শহীদের হৃদযন্ত্রের দুটি ভালভ নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভালভ প্রতিস্থাপন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন হবে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। আগামী এক মাসের মধ্যে অস্ত্রোপচার করা জরুরি বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।


শহীদের বাবা নুর ইসলাম বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রংপুর ও ঢাকায় এক লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। বাড়ির একমাত্র সম্বল গরু ও হাঁস-মুরগি বিক্রি করে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু ভালভ প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।


তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলেকে বাঁচাতে হলে দ্রুত অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু এত টাকা কোথায় পাব, তা বুঝতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা চাইছি। আপনাদের সহযোগিতায় আমার ছেলেটি হয়তো নতুন জীবন ফিরে পাবে।”

অসহায় বাবার আকুতি, সামর্থ্যবান মানুষের সামান্য সহযোগিতাই পারে শহীদের জীবন বাঁচানোর স্বপ্ন পূরণ করতে। তাই শহীদের চিকিৎসায় এগিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি মানবিক আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবার।


আর্থিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ:

মোবাইল নম্বর: ০১৮৪৫-০১৬১৪৮

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আবারও শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কারখানায় হাজিরা দেওয়ার পর শ্রমিকদের একটি অংশ বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা আশপাশের অন্য কারখানার শ্রমিকদেরও কাজে যোগ না দিতে বাধ্য করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে শ্রমিকেরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল ব্যাহত হয়।


পুলিশ কয়েকটি পয়েন্ট থেকে তাদের সরিয়ে দেয়।সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকেরা নিজ নিজ কারখানায় প্রবেশ করে কার্ড পাঞ্চের মাধ্যমে হাজিরা নিশ্চিত করেন। এরপর তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার প্রধান ফটকে জড়ো হন। সেখানে অন্য শ্রমিকদেরও কারখানা থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতির অবনতি হলে বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে শতাধিক কারখানার শ্রমিক সড়কে নেমে আসেন।


বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশ কয়েকটি পয়েন্টে ধাওয়া দিয়ে তাদের সরিয়ে দিলে শ্রমিকেরা বিভিন্ন শাখা সড়কে অবস্থান নেন।


শ্রমিকদের দাবি, মজুরি বোর্ড আগামী ডিসেম্বরে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেও কত টাকা বেতন বাড়ানো হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।এদিকে গতকাল সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ এবং পুলিশভ্যান ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাভার শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত রয়েছে। তবে নাশকতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের সাঁজোয়া যানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩০ পিএম

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে কয়েক দিনের অস্থিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েক দিন সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের পর কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। 


আজ বৃহস্পতিবার সকালে সড়কে বিক্ষোভের পরিবর্তে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। দলবেঁধে কারখানায় প্রবেশ করছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের উপস্থিতিতে ফিরতে শুরু করেছে শিল্পাঞ্চলের কর্মচাঞ্চল্য।


আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার কোনো মহাসড়ক বা আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিকদের অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক ছিল। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে বিজিবির ১২ প্লাটুন, আনসারের পাঁচ প্লাটুন ও এসআরবির আট প্লাটুন সদস্য রয়েছেন।


গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন জানান, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য।


তিনি আরও জানান, আন্দোলনের নামে যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। অন্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।


এর আগে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তাঁরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনা ঘটে।


আন্দোলনের মধ্যে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি ও কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে।


টানা আন্দোলন ও সংঘাতের কারণে শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে আন্দোলন চলাকালে মারধরের শিকার হয়ে তৌফিক হোসেন শেখ নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাও শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।


কয়েক দিনের উত্তেজনা ও অস্থিরতার পর বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার মধ্য দিয়ে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরার আভাস মিলছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৬ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগে পিকআপের বডির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা ৬২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সৈয়দ নুর (৩৩) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পিকআপের চালক গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান কামাল। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।


গ্রেপ্তার সৈয়দ নুর কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ৫ নম্বর নিলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিকদারপাড়া গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে।


পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে মাদকের একটি বড় চালান নোয়াখালীর দিকে আসছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।


এরই ধারাবাহিকতায় রাত সোয়া ১টার দিকে টেকনাফ থেকে আসা একটি পিকআপ থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে পিকআপের বডির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৬২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় পিকআপে থাকা সৈয়দ নুরকে গ্রেপ্তার করা হলেও চালক পালিয়ে যায়।


 ওসি মো. শাহজাহান কামাল আরও বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সেনবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১৭ এএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হুমায়ন কবির (৬০) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।


বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার উত্তরার বাংলাদেশ ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার ২ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফেনীর সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নের চরচান্দিয়া এলাকায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।


নিহত হুমায়ন কবির কোম্পানীগঞ্জ ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী চরদরবেশ ইউনিয়নের চরচান্দিয়া গ্রামের আলী আহম্মদের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। তার বাড়ি সোনাগাজীতে হলেও তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার।


নিহতের ছেলে মিজানুর রহমান বলেন, তারা সোনাগাজীর চরচান্দিয়া গ্রামে বসবাস করলেও তাদের ভোটার ও অন্যান্য কার্যক্রম কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। প্রায় ১৫-১৬ দিন আগে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের জিন্না মাঝি বাড়ির মো. ইলিয়াছের (৫৫) ছেলে নূর আমিনের (৩০) পাম্প মেশিন ভাড়া নিয়ে তাদের একটি পুকুরে সেচ দিয়ে মাছ ধরা হয়। ওই সময় নূর আমিন তাদের তেল ও মাছ চুরি করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পরে মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল হক দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।


তিনি আরও বলেন, সোমবার বিকেলে তার বাবা প্রতিবেশী আব্দুস ছাত্তারের সঙ্গে দাড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় ইলিয়াছ ভুল বুঝে মনে করেন, তার বাবা তাদের নিয়ে কথা বলছেন। তাৎক্ষণিক ইলিয়াছ তার দুই ছেলে নূর আমিন ও শুক্কুরকে ফোন করে সেখানে ডেকে আনেন। পরে তারা কয়েকজন মিলে লোহার রড, ধারালো কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার বাবার ওপর হামলা চালান।


মিজানুর রহমানের অভিযোগ, হামলাকারীদের একজন লোহার রড দিয়ে তার বাবার মাথায় আঘাত করেন। আরেকজন ধারালো কিরিচ দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি সরে যান। এতে তার মুখের বাম পাশে ও বাম চোখের নিচে দুটি স্থানে গুরুতর জখম হয়। এ সময় তার পকেটে থাকা মহিষ বিক্রির বায়না বাবদ ১৫ হাজার টাকাও নিয়ে যাওয়া হয়।


পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার অবনতি ও বমি হওয়ায় চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরে তাকে ঢাকার উত্তরার বাংলাদেশ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।


কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ঘটনাটি ফেনীর সোনাগাজী থানার আওতাধীন এলাকায় হওয়ায় বিষয়টি সেখানকার পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।


সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনিও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর