পরিমনি
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গতকাল পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত। এই মামলায় পরীমনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। পরে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল এ মামলায় সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য ছিল। বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। আসামি পরীমনির পক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। সেখানে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
এর আগে, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এরপর তারা ২৪ সালের ২৫ জুন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।
এর আগে ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।
এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন—পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
মামলায় নাসিরউদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবনে অভ্যস্ত। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমনি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢোকেন এবং দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।
এতে আরও বলা হয়, বাদী (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত ১টা ১৫ মিনিটে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসিরকে ডাক দেন। তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসারও অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে পরীমনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসিরকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। নাসির উদ্দিন এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। নাসির এবং আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি বাদীর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির মাথায় এবং বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
বাদী মামলায় আরও উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা তাকে (নাসির উদ্দিনকে) মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন ও বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য, পরীমনি সাভার থানায় বাদী হয়ে নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেন।
পরীমনি
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।
পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বলেন, “আশা করছি, আদালত তার জামিন মঞ্জুর করবেন।”
ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান বুধবার পরীমনির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
এদিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে হাজির হননি। তার পক্ষে আইনজীবী সুরভী সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, `অ্যালার্জিজনিত কারণে অসুস্থ থাকায়’ পরীমনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।
অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল এর বিরোধিতা করে পরীমনির জামিন বাতিলের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বলেন, আসামি ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ আদালতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
পরে আদালত আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন নাকচ করে পরীমনির জামিন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয়। সেই সঙ্গে আগামী ২৩ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করে।
২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আদালতে মামলাটি করেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মনির হোসেন ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমনি এবং তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের ‘সত্যতা পাওয়ার’ কথা বলা হয়।
ওই বছরের ১৮ এপ্রিল আদালত দুই আসামিকে ২৫ জুন হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করে। নির্ধারিত দিনে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তারা।
২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পরীমনি ও জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার তৎকালীন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুনাইদ।
সেদিন পরীমনি আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তবে পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
এরপর ২৭ মার্চ অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিভিশন আবেদন করেন পরীমনি। ওই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নবম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাজ্জাদুর রহমান খান আবেদনটি খারিজ করে দেন। ফলে মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলতে আর কোনো বাধা থাকেনি।
ঢাকাই সিনেমার নায়িকা পরীমনি ২০২১ সালে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তার অভিযোগ, ওই বছর ৮ জুন রাতে সাভারের বিরুলিয়ায় ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ করা হয়।
পরে পরীমনি মামলা করলে ব্যবসায়ী নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাসির তখন ছিলেন ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।
পরীমনির দায়ের করা মামলার বিচার চলাকালে জামিনে থাকা অবস্থায় নাসির উদ্দিন ২০২২ সালের ৬ জুলাই পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পাল্টা এই মামলা করেন।
মামলার আরজিতে বলা হয়, পরীমনি ও তার সহযোগীরা সেদিন ক্লাবে ঢুকে মদ পান করে অর্থ পরিশোধ না করেই যেতে চাচ্ছিলেন। বাদানুবাদের এক পর্যায়ে পরীমনি একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন নাসিরের দিকে এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনটিও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির মাথায় এবং বুকে আঘাত পান।
নাসিরের দাবি, সেই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পরীমনি সাভার থানায় ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
অন্যদিকে সাভার থানায় পরীমনির করা মামলায় অভিযোগ ছিল, ৮ জুন রাতে তাকে ‘পরিকল্পিতভাবে’ বোট ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নাসির তাকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ ও মারধর করেন।
ফলে বোট ক্লাবকাণ্ডে পরীমনি ও ব্যবসায়ী নাসির দুজনই এখন বিচারের মুখামুখি।
মুকেশ ঋষি। ছবি: সংগৃহীত
বলিউডের পর্দায় অমিতাভ বচ্চন, সালমান খান ও আমির খানের মতো তারকার বিপরীতে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছেন মুকেশ ঋষি। এবার সেই বলিউড অভিনেতাকে দেখা যাবে বাংলাদেশি সিনেমায়। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি।
মোহাম্মদ ইকবাল পরিচালিত ‘নসিব’ সিনেমায় প্রধান খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করবেন মুকেশ ঋষি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিনেমাটির পরিচালক। ছবির শুটিংয়ে অংশ নিতে চলতি মাসেই বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে এই অভিনেতার। মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ‘আমার নতুন সিনেমা ‘নসিব’-এ খলচরিত্রে অভিনয় করবেন মুকেশ ঋষি। এ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে চলতি মাসেই বাংলাদেশে আসবেন। সিনেমাটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিংয়ে অংশ নেবেন এই অভিনেতা।’
পরিচালক আরও জানান, ‘নসিব’ সিনেমার প্রথম ধাপের শুটিং ইতিমধ্যে কক্সবাজারের বিভিন্ন লোকেশনে শেষ হয়েছে। এবার শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় ধাপের কাজ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন নসিব সিনেমার দ্বিতীয় লটের শুটিংয়ের জন্য বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছি। সেখানে আগামী ৯ তারিখ থেকে মূল শুটিংয়ের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। আর এই সিনেমার শুটিং করতেই চলতি মাসে বাংলাদেশে আসছেন মুকেশ ঋষি।’ বলিউডে খলনায়ক হিসেবে পরিচিতি পেলেও মুকেশ ঋষির অভিনয়জীবন শুধু হিন্দি সিনেমায় সীমাবদ্ধ নয়। তেলুগু, তামিল, কন্নড়, মালয়ালম ও পাঞ্জাবি ভাষার চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। নব্বইয়ের দশক থেকে বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় নিয়মিত কাজ করছেন এই অভিনেতা।
অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘সূর্যবংশম’, ‘লাল বাদশাহ’ ও ‘কোহরাম’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন মুকেশ। সালমান খানের সঙ্গে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ ‘জুড়ওয়া’, ‘বন্ধন’ ও ‘গর্ব: প্রাইড অ্যান্ড অনার’। এ ছাড়া আমির খানের ‘সারফারোশ’ সিনেমায় ইন্সপেক্টর সেলিম চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পান তিনি। ‘গুন্ডা’ সিনেমার বুল্লা চরিত্রটিও তাঁকে দর্শকের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত করেছে। এবার ‘নসিব’ দিয়ে ঢাকাই সিনেমায় অভিষেক হতে যাচ্ছে এই অভিনেতার।
আলোচিত বোটক্লাব ভাঙচুর, ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন।
এর আগে ২০২২ সালের ৬ জুলাই আদালতে নাসির উদ্দিন এ মামলা করেন। মামলায় পরীমনি ছাড়াও তার দুই সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাটিতে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমনি আদালতে হাজির না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর পরীমনি জামিন নেন।মামলার এজাহারে বলা হয়, পরীমনি ও তার সহযোগীরা মাদকসেবী। ২০২১ সালের ৮ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢুকে মদপান করেন। এরপর নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করাসহ মদের বোতল বিনামূল্যে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু না দিতে চাইলে ক্লাব ভাঙচুর করেন পরীমনি।
এরপর রাত সোয়া ১টার দিকে বাদী নাসির ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে ডাক দেন। একপর্যায়ে পরীমনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল মদের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন।
বাদী এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি গালমন্দ করেন। তাদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনটিও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথায় এবং বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে পরী মণি ঢাকার সাভার থানায় মামলা করেন। পরী মণির বিরুদ্ধেও মাদক মামলা হয়।
‘আজ কী রাত’ গানের দৃশ্যে তামান্না ভাটিয়া। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
ভারতীয় অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার গায়ের রং ও শারীরিক গড়ন নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন অভিনেতা আন্নু কাপুর। তার ওই মন্তব্যকে নারীবিদ্বেষী ও যৌনতাবাদী বলেও সমালোচনা করেছিলেন অনেকে। তবে এসব বিতর্কে মনোযোগ দিতে চান না তামান্না। অভিনয় ও নতুন কাজ নিয়েই এখন ব্যস্ত থাকতে চান তিনি।
সম্প্রতি এনডিটিভি প্রফিট ইগনাইট অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেছেন তামান্না। একই সঙ্গে নিজের অভিনয় জীবনের বর্তমান পর্যায়ে এসে চরিত্র নির্বাচনের মাধ্যমে দর্শকের কাছে নিজের ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টা করছেন কি না, এ প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন তিনি।
তামান্না বলেন, একজন সৃজনশীল মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো মন দিয়ে শোনা। তবে কী গ্রহণ করতে হবে আর কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে যেতে হবে, সেটাও বোঝা জরুরি।
অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘আমরা যদি এ ধরনের বিষয়কে গুরুত্ব দিতে শুরু করি, তাহলে হয়তো জীবনে সামনে এগিয়ে যেতে পারব না।’
তামান্না আরও বলেন, ‘আমি এসব বিষয় দেখিই না। আমি আমার কাজে মনোযোগ দিই। কী তৈরি করতে চাই, আমার অভিনয়জীবন—এসব নিয়েই ভাবি। সত্যি বলতে, আমি নিজের কাজকে একধরনের সেবা হিসেবে দেখি। আমি সেভাবেই কাজ করি। হয়তো এ কারণেই আমার কাজ মানুষের কাছে পৌঁছায়। কারণ, এর পেছনে আমার উদ্দেশ্যটা সঠিক।’
কী বলেছিলেন আন্নু কাপুর
গত বছর ইউটিউবার শুভঙ্কর মিশ্রর চ্যানেলে একটি পডকাস্টে অংশ নিয়েছিলেন আন্নু কাপুর। সেখানে তামান্নার ‘আজ কি রাত’ গানের একটি ক্লিপ নিয়ে কথা ওঠে। উপস্থাপক গানটি তার কেমন লেগেছে জানতে চাইলে এবং তামান্নার প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা বললে আন্নু কাপুর মন্তব্য করেন, ‘কী দুধের মতো ফর্সা শরীর!’
এরপর তামান্নার গানের সঙ্গে তার শারীরিক সৌন্দর্য নিয়েও মন্তব্য করেন এই অভিনেতা। তার কথার অর্থ ছিল, তামান্না নিজের গান ও সৌন্দর্য দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করছেন। এমনকি তার গান ও উপস্থিতি মানুষের ভালো ঘুমের কারণ হলে সেটিকে দেশের জন্য আশীর্বাদ বলেও উল্লেখ করেন আন্নু।
তবে মন্তব্যের ধরন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকের মতে, একজন অভিনেত্রীর কাজের বদলে তার গায়ের রং ও শরীর নিয়ে এভাবে কথা বলা আপত্তিকর। মন্তব্যটিকে নারীবিদ্বেষী ও যৌনতাবাদী বলেও অভিহিত করেন অনেকে।
নতুন সিনেমায় তামান্না
তামান্নাকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘বন: ফোর্স অব দ্য ফরেস্ট’ সিনেমায়। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। সামনে তাকে দেখা যাবে বালাজি মোশন পিকচার্সের ‘রাগিণী এমএমএস ৩’ সিনেমায়। এতে আরও অভিনয় করছেন জুনায়েদ খান। ২০২৭ সালে মুক্তির কথা রয়েছে ছবিটির।
সূত্র: এনডিটিভি
জেনিফার লরেন্স
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স ক্যারিয়ারে এর আগেও বিভিন্ন দৃশ্যে কাজ করলেও একবার নগ্ন দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে বেশ অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। সম্প্রতি ‘কল হার ড্যাডি’ পডকাস্টে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, শুটিং সেটে এমন কিছু কর্মী উপস্থিত ছিলেন, যাদের সেখানে থাকার কোনো অনুমতিই ছিল না। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি কঠোর প্রতিবাদ জানান।
লরেন্স মনে করেন, একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী হিসেবে নিজের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিতে আসা নতুন ও তরুণ শিল্পীদের সুরক্ষার স্বার্থেও এমন অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, একজন ১৮ বছর বয়সী নতুন অভিনেত্রী হয়তো ভয়ে বা প্রতিবাদ করলে তাকে ‘কঠিন স্বভাবের’ মনে করা হবে—এই আশঙ্কায় নিজের অস্বস্তি মুখ বুজে সহ্য করে নেন। তাই এই ধরনের মানসিকতা বদলানোর জন্য সবার সামনে প্রতিবাদ করাটা দরকার ছিল বলে তিনি মনে করেন।
সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ডাই মাই লাভ’ সিনেমায় সহশিল্পী রবার্ট প্যাটিনসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, ছবিটিতে কোনো ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর না থাকলেও প্যাটিনসনের পেশাদার ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণের কারণে তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করেছিলেন। নগ্নতা নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত কোনো অস্বস্তি না থাকায় এবং পরিচালকের শৈল্পিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই তিনি দৃশ্যগুলোতে সম্মতি দিয়েছিলেন। এমনকি শুটিং চলাকালীন অন্তঃসত্ত্বা থাকায় শারীরিক গঠন নিয়ে তার বাড়তি কোনো দুশ্চিন্তা ছিল না। একটি দৃশ্যের ক্লোজআপ শটে ত্বকের স্বাভাবিক ভাঁজ বা সেলুলাইট ডিজিটাল উপায়ে সরিয়ে ফেলার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা সরাসরি নাকচ করে দেন এবং তাঁর শরীর যেমন, সেভাবেই পর্দায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেন।
ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির
ব্যক্তিগত জীবনের নানা সংকট, স্টুডিও ভাঙার ঘটনা এবং দেশে কাজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কঠিন সময় পার করছেন জানিয়ে নিজের ক্ষতি, মানসিক চাপ ও বিভিন্ন অভিযোগের প্রভাব নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আর স্টুডিও পরিচালনা কিংবা নতুন করে বিনিয়োগ না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন এই কনটেন্ট নির্মাতা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘গ্যাপ’-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে এসব কথা বলেন সালমান। ছবিটি এরই মধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছে। গত শনিবার ঢাকার মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারে স্টার সিনেপ্লেক্সে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
প্রদর্শনী শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, ব্যক্তিগত সংকট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের প্রতি কোনো বার্তা আছে কি না, জানতে চাইলে সালমান বলেন, ‘সরকারকে কিছু বলার মতো কোনো সুযোগ এখনো আমাকে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। খুব আন্তরিকতার সঙ্গে প্রস্তাবও দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। তাই আমার মনে হয়, আমি কিছু বললেও তা শোনার মতো কোনো সুযোগ তৈরি হবে না।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। সালমানের ভাষায়, ‘যাদের এ বিষয়ে কথা বলা উচিত, তারা যদি কথা বলেন, সেটাই ভালো। আমরা সাধারণ নাগরিকেরা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা নিতে পারি। সেই অভিজ্ঞতা ভালোও হতে পারে, খারাপও হতে পারে। কিন্তু এ বিষয়ে কিছু বললাম কি বললাম না, তাতে আসলে কোনো পার্থক্য তৈরি হয় না।’
ব্যক্তিগত জীবন ও স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কেমন আছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন সালমান। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা খুবই করুণ একটা অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। একটা বড় বিপদ অতিক্রম করার চেষ্টা করছি। আমার কষ্ট হয়েছে, ক্ষতিও হয়েছে—এটা সত্যি। কিন্তু এ নিয়ে আমি খুব একটা দুঃখী কি না, তাহলে বলব, একেবারেই না। আমি দুঃখ প্রকাশ করে বসে থাকতে পছন্দ করি না।’
কঠিন সময়েও সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় চেষ্টা করি, জীবনে যদি ভালো কিছু চাই, তাহলে খারাপ কিছুর জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই খারাপ সময় যখন আসবে, সেটাকে অতিক্রম করতে হবে। এটা নিয়ে অভিযোগ করে বসে থাকলে তো হবে না।’
তাকে ঘিরে বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে শ্বশুরের নাম উঠে আসার বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে সালমান বলেন, ‘ঘটনাটা যখন ঘটেই গেছে, তখন আমি যে গিয়ে জিজ্ঞাসা করব, কোথা থেকে কী হলো, সেই সুযোগটাও তো পাইনি। আমি তো বলেছি, আমি দোষী। তো যারা আমাকে দোষ দিচ্ছেন, তারা যদি সবাই মিলে আমাকে সামনে বসিয়ে একটু কথা বলতেন, তাহলে দোষটা স্বীকার করে বিষয়টা সমাধান করতে তো সমস্যা হতো না। কিন্তু তা না করে কেউ একটা কিছু বলে দিলেন, আপনারা সেটা ছড়িয়ে দিলেন, অথচ প্রমাণ করতে পারলেন না। শুধু একটা অভিযোগ করে দিলেন।’
এ ধরনের অভিযোগ একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও তুলে ধরেন তিনি।
সালমান বলেন, ‘আমার মনে হয়, নিজের মধ্যে এটা মোকাবিলা করার ক্ষমতা আছে বলেই আমি পরিস্থিতিটা সামলাতে পারছি। কিন্তু অনেক মানুষ আছেন, যারা এটা সামলাতে পারেন না। তাদের জীবন শেষ হয়ে যায়, সুনাম চলে যায়, কর্মজীবন শেষ হয়ে যায়। তারা তো আর আমার মতো পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারেন না। তাদের জীবনটাই হয়তো আর স্বাভাবিকভাবে এগোয় না। এই মানুষগুলোর কাছে আমাদের সবার জবাবদিহি থাকা উচিত।’
বিষয়টি মোকাবিলায় দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কারও ক্ষতি করার চেয়েও বড় কথা হলো, আমরা বিষয়টা কীভাবে সামলাচ্ছি। খ্যাতি থাকবে, টাকা-পয়সা থাকবে, জনপ্রিয়তা থাকবে। কিন্তু এর সঙ্গে যখন নেতিবাচক কিছু আসে, সেটাও আমাদের মেনে নিতে হবে। এমন তো হতে পারে না যে আমি ভালো দিকটা নেব, কিন্তু খারাপ দিকটা নেব না।’
স্টুডিও ভাঙার ঘটনার পর দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা এবং বাংলাদেশে থেকে কাজ করার পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে সালমান স্পষ্ট করে বলেন, ‘না, দেশে থাকার পরিকল্পনা কখনোই ছিল না। আগেও ছিল না। স্টুডিও ভাঙার ঘটনার পর আমি বলেছি, বাংলাদেশে আর স্টুডিওটা চালিয়ে যাব না। এটা আসলে আমার নিজের মতামত, আমার একটা বক্তব্য ছিল। আমি বাংলাদেশে আর বিনিয়োগ করব না।’