গ্রেপ্তার রনি মিয়া

  • প্রকাশ : রবিবার ০৩ মে, ২০২৬, সময় : ১১:১১ এএম

ময়মনসিংহের মীরকান্দাপাড়া গ্রামে নূরজাহান নামে এক বৃদ্ধাকে মাথা থেঁতলে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. রনি মিয়াকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রনি মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি। 


রোববার ভোর ৪টায় কোতোয়ালি থানার শম্ভুগঞ্জ এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে তেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার বর্ণনা এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আজ রোববার দুপুরে জেলা পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানান পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।


২৮ জানুয়ারি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানা এলাকার মীরকান্দাপাড়া গ্রামে নূরজাহান (৬০) নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়। তিনি ওই বাড়িতে একাই বসবাস করতেন।

৩০ জানুয়ারি রাত দেড়টায় রান্নাঘরের পাশে তার লাশ পাওয়া যায়। কোতোয়ালি থানায় খবর দিলে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নূরুন্নাহার (৪০) নামে একজন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। 



পিবিআইয়ের দাবি, রনি মাঝেমধ্যে তাঁর প্রেমিকাকে নিয়ে নূরজাহানের বাড়িতে অবস্থান করতেন। বিনিময়ে ৫০০ টাকা করে ভাড়া দিতেন। তবে সর্বশেষ তিনি ভাড়া না দিয়ে চলে যান। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় নূরজাহানকে হত্যা করা হয়।


পিবিআই জানায়, ঘটনার রাতে রনি মিয়া বৃদ্ধা নূরজাহানের বাড়িতে গিয়ে প্রেমিকাকে নিয়ে অবস্থান করার কথা তাঁদের জানিয়েছেন। কিন্তু আগের ভাড়া পরিশোধ করার জন্য বৃদ্ধা বললে তা অস্বীকার করে রনি। একপর্যায়ে নূরজাহান পূর্বের পাওনা টাকা না দিলে তাঁর বাড়িতে প্রেমিকা নিয়ে আসার বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিলে ক্ষিপ্ত হন রনি মিয়া। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে ঘরে থাকা শিল দিয়ে নূরজাহানের মাথায় আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেন। পরে লাশ রান্নাঘরের পাশে খড়ের নিচে লুকিয়ে রেখে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যান।


ঘটনার দুই দিন পর ৩০ জানুয়ারি রাতে স্বজনেরা বাড়ির পাশে খড়ের নিচ থেকে নূরজাহানের লাশ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মেয়ে নুরুন নাহার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে পিবিআই মামলাটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা অমিতাভ দাসের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোরে শম্ভুগঞ্জ এলাকা থেকে রনি মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নিহত ব্যক্তির ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হলে অভিযুক্ত রনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মাত্র ৫০০ টাকার জন্য এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। হত্যার পর লাশ গোপন করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিল অভিযুক্ত। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।





ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৪ পিএম

বুকফাটা আর্তনাদে একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তার মা-বাবা। একইসঙ্গে স্বজন ও প্রতিবেশীদের পাশাপাশি সারাদেশের মানুষের চোখের পানিতে শেষ বিদায় জানিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে নির্মম শিকার ১৩ বছরের এই কিশোরকে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নিখোঁজের খবরে আকুতি ছিল, যেন সে জীবিত ফিরে আসুক। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে গন্ধমতি স্কুল মাঠে দ্বিতীয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা অংশ নেন। ছিলেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরাও।


জানাজার আগে স্বজন ও প্রতিবেশীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তারা। অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান স্বজন ও প্রতিবেশীরা।


এরই মধ্যে বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এমনকি আটক তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।


অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া আইফোনটি তুহিনের কাছে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তার মা। এ সময় তিনি জানান, অপ্রতিমের পরিবারের মতো তারাও সন্তানের বিষয়টি নিয়ে কষ্টে আছেন এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।


উল্লেখ্য, অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সে। সন্ধ্যার পরও বাসায় না ফেরায়, তার মা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৯ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় অবরোধ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় অবিলম্বে সব হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করা হয়। 


এ সময় শিক্ষার্থীদের মহাসড়কে অবস্থান করে নানামুখী স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সেখানে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।


এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে তার প্রথম জানাজা এবং বেলা ১১টায় গন্ধমতিতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়।


অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।


পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।


নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অপ্রতিমের সন্ধানে খোঁজ চালায়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানানো হয়েছে। 


শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের লাশ কোটবাড়ী গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের আবহ।


এদিকে অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।


অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা ড. নাহিদা বেগম। যে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় শনিবারও আকুতি জানিয়েছিলেন, সেই সন্তানই আজ ফিরছে নিথর দেহ হয়ে। আর কয়েক ঘণ্টা পর প্রিয় ক্যাম্পাস ও গন্ধমতির মাটিতে শেষবারের মতো বিদায় জানানো হয় অপ্রতিমকে। 


  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৮ পিএম

নীলফামারীর সৈয়দপুরে চাঁদাবাজির মামলায় বাঙালিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম রেজা খানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। পরোয়ানাভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন ফরহাদ খান, ফরিদুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন খান, জাকির খান ও জাহিরুল ইসলাম।


মামলার বাদী শিল্পপতি ও সৈয়দপুর ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম। তিনি বাঙালিপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে ‘আমিনুল সুপার মার্কেট’ এবং বিসিআইসি সার ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করেন।


মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রেজাউল করিম রেজা খান ও তার সহযোগীরা আমিনুল ইসলামের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া এবং তার বিসিআইসি সার ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রের ঘরসহ মার্কেটের দুই শতক জায়গা দখল করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।


এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা এবং সংবাদ সম্মেলন করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় আমিনুল ইসলাম আইনের আশ্রয় নেন। তিনি সৈয়দপুর থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগ করে পরে নীলফামারী আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন।


মামলা নম্বর ১০৮৩/২৫। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৪২৭, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তদন্তের পর মামলাটি গ্রহণ করা হয় এবং আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত স্মারক নম্বর ২৫২৪।


মামলার বাদীপক্ষের দাবি, পরোয়ানা জারির পরও আসামিরা পলাতক রয়েছেন।


এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার একটি সূত্র জানায়, আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার কপি এখনও থানায় পৌঁছেনি। কপি পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


তবে আসামিদের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।


আগুনে পুড়ে গেছে ‘সৌখিন পরিবহনের’ এই বাসটি

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৭ এএম

ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ‘সৌখিন পরিবহন’ নামের একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।


খবর পেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস।


এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।


আগুনের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে কেউ আগুন দিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত জব্দ করেছে। অধিকতর তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’


ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৬ এএম

মাথায় গুরুতর আঘাত ও পুরো শরীরে বেশ কিছু জখমের চিহ্ন মিলেছে স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে। পুলিশের ধারণা- মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হতে পারে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। আজ রাত ১০টার দিকে তিনি বলেন, ‘অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে,  মাথায় আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘শরীরের বিভিন্ন স্থানে আরও ছোটখাটো কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’


নাম প্রকাশ না করার শর্তে ময়নাতদন্তে অংশ নেওয়া একজন চিকিৎসক বলেন, ‘মাথায় আঘাতে মৃত্যু হয়েছে বলে আপাতত আমরা ধারণা করছি। তবে তাকে শ্বাসরোধ কিংবা হত্যার আগে চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা- এটা নিশ্চিত হতে শরীর থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।’ 


রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ডিবি ও এসআরবি হেফাজতে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’ এ ঘটনায় রোববার মামলা করবে অপ্রতিমের পরিবার। 


কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহ রাত পৌনে ১১টায় বলেন, স্কুলছাত্র হত্যার রহস্য বের করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আটক করা হয়েছে। রোববার পুলিশ সুপার এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন। 


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ শনিবার দুপুরে কুবি ক্যাম্পাসের পাশের জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। 


এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ দেখে প্রথমে তুহিন নামের এক যুবককে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদ নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। 


শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিহত অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।


ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০৪ এএম

কুমিল্লায় নিহত স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক তুহিন নামে এক কিশোরের বাড়ি থেকে তার আইফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন ভূইয়া। শনিবার রাতে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় ওই কিশোরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিহত অপ্রতিমের আইফোনটি উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনিবার বিকেলে পুলিশ তাকে আটক করে।’ 


পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন আরও বলেন, ‘ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- সন্ধ্যার পর অপর দুজনকে আটক করে পুলিশ। তারা হলো-আনাস ও ফাহিম আহমেদ। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। এ ছাড়াও এসআরবি হেফাজতে আছেন সন্দেহভাজন আরও একজন।’


জানা গেছে, শনিবার রাত আটটার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় ওই কিশোরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ফোনটি উদ্ধার করে জেলা পুলিশের একটি দল। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশ। অপ্রতিম তার মায়ের এই ফোনটি নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল।


শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ডিবি ও এসআরবি হেফাজতে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’ এ ঘটনায় রোববার মামলা করবে অপ্রতিমের পরিবার।  রাত পৌনে ১১টায় কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহ বলেন, স্কুলছাত্র হত্যার রহস্য বের করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আটক করা হয়েছে। রোববার পুলিশ সুপার এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন। 


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথমে এক কিশোরকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও দু’জনকে আটক করা হয়।


সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, অপ্রতিম নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে ওই কিশোরকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।


অপ্রতিমের মরদেহ শনিবার দুপুরে কুবি ক্যাম্পাসের পাশের জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। এর আগে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিহত অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।


মাথায় গুরুতর আঘাত ও পুরো শরীরে বেশ কিছু জখমের চিহ্ন মিলেছে স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে। পুলিশের ধারণা- মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হতে পারে।


সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। আজ রাত ১০টার দিকতিনি বলেন, ‘অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে,  মাথায় আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘শরীরের বিভিন্ন স্থানে আরও ছোটখাটো কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’


ময়নাতদন্তে অংশ নেওয়া একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মাথায় আঘাতে মৃত্যু হয়েছে বলে আপাতত আমরা ধারণা করছি। তবে তাকে শ্বাসরোধ কিংবা হত্যার আগে চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা- এটা নিশ্চিত হতে শরীর থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।’ 



অপ্রতিমের পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।


অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার  বলেন, ‘শুক্রবার জুমার নামাজের পর অপ্রতিম আমাদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খায়। পরে বন্ধুদের সঙ্গে আইফোন দিয়ে ছবি তুলতে বাইরে যেতে চায়। কিন্তু আর ফিরে আসেনি।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত আইফোনটিই তার মৃত্যুর কারণ হয়েছে।’