ময়মনসিংহের শিল্পঘন ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা হাইওয়ে থানায় দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও আধুনিক পুলিশিংয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসতিয়াক আহমেদ।
ব্যস্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে তার নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি যাত্রীসেবায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন, যা স্থানীয় জনজীবন, পরিবহন খাত এবং সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রতিদিন হাজারো যানবাহনের চাপ সামলানো এই মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার ফলে পরিস্থিতির উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সক্রিয়তা কেবল প্রশাসনিক দক্ষতারই পরিচায়ক নয়, বরং মানবিক পুলিশিংয়ের এক বাস্তব প্রতিফলন।
এই ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ হিসেবেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অপরাধ দমনেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে ভরাডোবা হাইওয়ে থানা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) ভোরে ভালুকা পৌর সদরের কাঁঠালী বাগরাপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসি ইসতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে একটি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ৯০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একটি প্রাইভেটকার জব্দ এবং এক যুবককে আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহাসড়ক ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য পরিবহনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ভরাডোবা হাইওয়ে থানার তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে আগের তুলনায় মহাসড়কের যানযট প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। একই সময়ে প্রায় ৪৫০ টির বেশি অবৈধ থ্রি-হুইলার ও অন্যান্য অননুমোদিত যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে কয়েক শতাধিক যানবাহনকে জরিমানা করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে এবং যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হয়েছে।
সম্প্রতি এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়েছিলেন ঢাকাগামী যাত্রী আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার পর সবকিছু অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা খুব দ্রুত এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তাদের এই মানবিকতায় আমি নতুন জীবন পেয়েছি।” তার অভিজ্ঞতা যেন একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতীক, যেখানে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিকতা হয়ে উঠছে কেন্দ্রবিন্দু।
একই সড়কের নিয়মিত চালক শফিকুল ইসলাম জানান, “আগে এই রাস্তায় ভয় নিয়ে গাড়ি চালাতে হতো। এখন পুলিশ নিয়মিত টহল দেয়, সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে পাশে দাঁড়ায় এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে।”
ভালুকার স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, “আগে প্রায়ই দুর্ঘটনা বা যানজটের কারণে আতঙ্কে থাকতে হতো। এখন পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও স্বাভাবিক থাকছে।”
নারী ও শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। গার্মেন্টস কর্মী নাসরিন আক্তার বলেন, “রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে আগে ভয় লাগতো। এখন রাস্তার পাশে পুলিশের উপস্থিতি দেখলে অনেকটাই নিশ্চিন্ত লাগে।” রাতে একাকী চলাচলকারী নারী যাত্রীদের সহায়তা এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার মতো উদ্যোগ পুলিশের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো জাতীয় মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার যানবাহনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান। ওসি ইসতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার সদস্যরা নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে সিএনজি, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ ধীরগতির যান চলাচলের কারণে যে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতো, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী জাতীয় মহাসড়কে এ ধরনের যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবতায় অনেক সময় তা উপেক্ষিত হয়েছে। বর্তমান উদ্যোগের ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অবৈধ থ্রি-হুইলারের উপস্থিতি কমতে শুরু করেছে, যা দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচলকে আরও স্বাভাবিক ও নিরাপদ করছে। একই সঙ্গে চালকদের বিকল্প ফিডার রোড বা স্থানীয় সড়ক ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে জীবিকা ও আইনের মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত ভারসাম্য বজায় থাকে।
তবে ইতিবাচক অগ্রগতির মাঝেও কিছু কাঠামোগত ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। শিল্পঘন এই অঞ্চলে ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, অনিয়ন্ত্রিত গতি এবং মাঝে মাঝে অবৈধ যান চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক সময় সড়কের নির্দিষ্ট অংশে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। সীমিত জনবল দিয়ে দীর্ঘ মহাসড়ক তদারকি করা হাইওয়ে পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।
কিছু সাধারণ যাত্রীর মতে, উন্নতির ধারা থাকলেও আরও ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসযাত্রী বলেন, “অনেক জায়গায় এখনো গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ ঠিকমতো মানা হয় না। মাঝে মাঝে পুলিশ না থাকলে চালকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।”
ওসি ইসতিয়াক আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, “চ্যালেঞ্জ আছে, তবে আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ সেবা দিতে। জনগণের সহযোগিতা পেলে এই সড়ককে আরও নিরাপদ করা সম্ভব।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততাকেও তিনি সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।
চলমান এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে আরও টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি জোরদার, সিগন্যালিং ও মনিটরিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং ও দখলমুক্ত রাখতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সড়কের স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অবৈধ থ্রি-হুইলার ও অন্যান্য অননুমোদিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে মাদক, চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্যভিত্তিক অভিযান, গোপন সংবাদের কার্যকর ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে একটি নিরাপদ মহাসড়ক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক পুলিশিং কেবল কঠোরতা নয় বরং মানবিকতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের সমন্বয়। প্রশংসা ও সমালোচনা উভয়কেই গুরুত্ব দিয়ে সেবার মান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এর মূল চাবিকাঠি।
একটি ব্যস্ত মহাসড়কে দায়িত্ব পালন কখনোই সহজ নয়। তবুও সীমাবদ্ধতার ভেতর থেকেও যখন সেবা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার সমন্বয় ঘটে, তখনই জন্ম নেয় আস্থা। ভরাডোবা হাইওয়ে থানায় সেই আস্থার ভিত্তি নীরবে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে গড়ে তুলছেন ওসি ইসতিয়াক আহমেদ যা নিরাপদ মহাসড়ক নির্মাণে এক অনুপ্রেরণাদায়ী উদাহরণ হয়ে থাকছে।
‘ক্রীড়াই শক্তি-ক্রীড়াই বল, মাদক ছেড়ে মাঠে চল’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া ও সামাজিক সংগঠনের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার শিরিন গার্ডেন হলরুমে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া ও সামাজিক সংগঠনসহ মোট ৭৫টি সংগঠনের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
কবিরহাট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো.গোলাম মোমিত ফয়সালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, কবিরহাট সরকারি কলেজের শিক্ষক মহিম চন্দ্র দাস, কবিরহাট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন,সহ-সভাপতি কামাল হোসেন সৌরভ, কবিরহাট উপজেলী ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাছেত হিরন প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
নিয়মিত খেলাধুলার চর্চার মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। পর্যায়ক্রমে কবিরহাটে আরও শতাধিক প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী দেওয়া হবে। এ সময় কবিরহাট উপজেলা ও পৌরসভার ক্রীড়ানুরাগী ব্যক্তিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৫ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে ছাত্রদল। শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদ্যাপন এবং উচ্চশিক্ষার পথে উৎসাহিত করতে এ আয়োজন করা হয়।
গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শিরিন গার্ডেন হল মিলনায়তনে উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে পৃষ্ঠপোষকতা করেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো.গোলাম মোমিত ফয়সাল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে কবিরহাট উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী ৫৫জন শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। কাঙ্ক্ষিত সম্মাননা হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায় আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
কবিরহাট উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো.জহিরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে ও কবিরহাট পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন মামুনের সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন, উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজমুল হুদা ফরহাদ, কবিরহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সৌরভ হোসেন কামাল প্রমূখ।
সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র । এর মধ্যে ভিডিও কলে এক ছাত্রকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে তার বাবার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুজনের অভিভাবক নগরের শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্র হলো তামিম আহমেদ ও সাঈদ মাসুদ চৌধুরী (নাঈম)। ১৫ বছর বয়সী দুজনই সিলেটের খাদিম পাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায হিফজ বিভাগে পড়ে। তামিম দক্ষিণসুরমা বড়াইকান্দি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং সাঈদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মউগ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে।
ছাত্রদের অভিভাবক, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের ফাঁকে ওই দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সাঈদের বাবার মুঠোফোনের ইমো অ্যাপে একটি নম্বরহীন অ্যাকাউন্ট থেকে নাঈমকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছে দুই ছাত্রের অভিভাবক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ জানান, ‘গত মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় ওই ছাত্র দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে তামিম আরও দুবার মাদ্রাসা থেকে না বলেই বাসায় চলে গিয়েছিল। পরে তার বাবা এসে দিয়ে গিয়েছিলেন। এবার সাঈদ ও তামিম দুজনই একসঙ্গে ফজরের নামাজের ফাঁকে বের হয়ে যায় বলে জেনেছি। বিষয়টি তাদের মা-বাবাকে জানাই।
’সাঈদের বাবা বেবুল আহমদ জানান, ‘মাদ্রাসা থেকে বাসায় গেছে কি না, এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার হুজুর কল দিয়েছিলেন। আমরা জানাই যে সে (নাঈম) আসেনি। সিলেটের বিভিন্ন জায়গায়ও খোঁজাখুজি করেছি। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আমার ইমোতে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। ইমোর অ্যাকাউন্টে কোনো নম্বর দেখা যাচ্ছিল না। তখন একের পর এক কল দিচ্ছিলাম, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে রিসিভ করা হয়নি।’
বেবলু আহমদ জানান, ‘পরে সন্ধ্যার পর ভিডিও কলে আমার ছেলেকে হাত-পা বেঁধে রাখা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়; ভিডিও পাঠিয়েছে। পরে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলে । নয়তো আমার ছেলেকে তারা মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’ তবে কে বা কারা অর্থ দাবি করছে, তা তিনি জানেন না।
আরেক ছাত্র তামিমের বাবা আবদুস সাত্তার জানান, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসা থেকে এর আগেও দুবার বের হয়ে বাসায় চলে গিয়েছিল। আবারও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আল্লাহ জানেন, আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না।’
শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, ‘ওই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা জিডি করেছে। আমরা সারা দেশে দুই ছাত্রের ছবি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’
ইমোতে অর্থ দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ইমোতে যে নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটা যাচাই করে দেখা হয়েছে, তা এক বছর ধরে বন্ধ। অনেক সময় নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে কিছু প্রতারক চক্র এমন সুযোগ নেয়। আর ইমোতে কয়েক সেকেন্ডের যে ভিডিও পাঠানো হয়েছে, তা অস্পষ্ট। তবে আমরা খোঁজ করছি।’
সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে টেক্সটাইল-রুবি গেট হয়ে দুই নম্বর গেইট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পলিটেকনিক্যাল মোড়ে এসে শেষ হয়।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর ছাত্রদল নেতা রেজাউল, মোহাম্মদ রুবেল, মো.মাহমুদ, আইন কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো.রিয়াজ, পাহাড়তলী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রকি, মো.ইয়াছিন আফ্রিদি,পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ বকুল, মো.আহাদ, মো.সামি, মো.মহসিন,কলেজ ছাত্রদলের সংগঠক মো.তানভীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অবৈধভাবে রাসায়নিক সার বিক্রি করার অপরাধে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মোতাহার হোসেন নামে এক সার ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে আটক ২১ বস্তা সার সরকারি মুল্যে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এনএম ইসফাকুল কবীর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ আদেশ দেন।
পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামানিক জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে আব্দুল খালেক এর বাড়িতে ৭ বস্তা টিএসপি ও ১৪ বস্তা এমওপি সার সহ সার ব্যবসায়ী মোতাহার এবং গৃহকর্তা খালেককে বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক করে স্থানীয়রা। পরে থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ সার সহ ঐ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সার ব্যবস্থাপনা আইনের ২০০৬ এর ১২(৩) ধারা মোতাবেক সার সাব-ডিলার মোতাহারকে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং আটক করা ২১ বস্তা সার বাজেয়াপ্ত করে প্রকাশ্যে জাবরহাট ইউনিয়নের কৃষগনের মাঝে সরকারি দামে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ দেন।
আটক করা সার রবিবার প্রকাশ্যে বিক্রি করার ব্যবস্থা করবেন কৃষি বিভাগ।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝালকাঠির নলছিটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।
১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ র্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:হাবিবুর রহমান,নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন,উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো:ওবায়দুল ইসলাম,উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা:আবু সালেহ মো:ইফাদ ইশতিয়াক,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট,বিডি ক্লিন বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা।
আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।ঝোপঝাড় পরিস্কার,ড্রেন,নালা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রেখে সকলে মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্তর থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্তরে ফেরত আসে।