ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাদ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি রিয়াদ পূর্ণ সমর্থন বজায় রাখবে বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাদ। 


সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। 


আলাপকালে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং আমেরিকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার বিষয়েও সৌদি পক্ষকে জানানো হয়।


ফোনালাপে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জোর দিয়ে বলেন, ইরান অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সদিচ্ছা নিয়ে যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছে। তবে তার দাবি অনুযায়ী, আলোচনায় মার্কিন পক্ষের মাত্রাতিরিক্ত ও অন্যায্য আবদার এবং অনড় অবস্থানের কারণে বৈঠকটি কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। 


তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিনিদের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আস্থার অভাবই শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর জবাবে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াগুলো শেষ পর্যন্ত সফল হবে এবং এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অঞ্চলে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।



গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর হামলার পর শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘাতের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, গত ৪০ দিনের লড়াইয়ে ইরান সফলভাবে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্রুত বিজয়ের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে এবং প্রতিপক্ষের সামরিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে।


সংঘাত নিরসনে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার সূত্র ধরে ইসলামাবাদে দুই পক্ষ আলোচনায় বসেছিল। সেখানে ইরান সেনা প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি সম্বলিত ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করলেও ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই প্রতিনিধি দল তেহরানে ফিরে আসে।


বর্তমানে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং আলোচনার ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যকার এই ফোনালাপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। 


আঞ্চলিক প্রধান শক্তি হিসেবে সৌদি আরব সরাসরি কোনো পক্ষ না নিলেও কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাত নিরসনের ওপর জোর দিচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা শান্তি চায় কিন্তু সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন নজর রাখছে, সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই গভীর সংকট দূর করতে পারে কি না। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।




সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৭ পিএম

ফিলিপাইনের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। বুধবার (৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।


মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, সারাঙ্গানি দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪।


প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬২ কিলোমিটার গভীরে। এ ঘটনার পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। এ ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।


তিনি বলেন, কম্পনটি বেশ শক্তিশালী ছিল। মানুষ চিৎকার করতে করতে নিরাপদ স্থানে ছুটে যায়। তবে সবাই নিরাপদে আছে।


তিনি আরও জানান, প্রাথমিক মূল্যায়নে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না।


গত ৮ জুনও ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সে সময় বহু ভবন ধসে পড়ে, ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং অন্তত ৭৬ জনের মৃত্যু হয়।


দুই মাসের ব্যবধানে নতুন এই ভূমিকম্প দেশটির ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে আবারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।


সূত্র: খালিজ টাইমস

সর্বশেষ সব খবর

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২৯ পিএম

পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করেছেন বলে ছড়িয়ে পড়া একটি গুজব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, তিনি তার দপ্তরে আছেন এবং কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।


তার প্রশাসনের সঙ্গে ইসলামি বিপ্লবের নেতাদের নেতাদের মতবিরোধ হয়েছে, এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।


বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তার প্রশাসনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, তার প্রশাসন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে পুরো সমন্বয় বজায় রেখেছে।


সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারের আগেই এর অংশবিশেষ ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) এ প্রকাশ করা হয়।


তাতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় বজায় রাখছি।”


তার পদত্যাগের বিষয়ে ওঠা গুঞ্জনকে তিনি ‘পুরোপুরি গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, “আমি যদি কখনো পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেই, আমি নিজেই তা ঘোষণা করবো। কিন্তু আমি পদত্যাগ করবো না, আমি নিজের অবস্থানে অটল থাকবো।”


পেজেশকিয়ান জানান, কিছু মানুষ এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা করছে যে তার প্রশাসন ও ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে।


সম্প্রতি পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি এসব মন্তব্য করলেন। এর আগে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের তথ্য ও জনসংযোগ উপকর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহদি তাবাতাবায়ী এসব প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে বাতিল করেছিলেন।


এসব গুজব ছড়ানোর জন্য রাজনৈতিক কট্টরপন্থিদের দায়ী করেছেন তিনি; বলেছেন, “ইরানের শত্রুদের স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য দুর্বল করতে এসব গুজব ছড়ানো হয়েছে।”

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১৭ পিএম

মালয়েশিয়ার পোর্ট ডিকসনের তামান লিঙ্গিতে গতকাল সোমবার নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বিভাগীয় কমিশনার (ডিসিপি) আলজাফনি আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।


নেগ্রি সেম্বিলানের পুলিশপ্রধান বলেছেন, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল সোয়া চারটার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে।


আলজাফনি বলেন, লিঙ্গিতের এক বাড়িতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি দল মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছেন—এক ফোন কলে এমন তথ্য পাওয়ার পর পুলিশের একটি দলকে সেই বাড়িতে পাঠানো হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৪০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


ডিসিপি আলজাফনি বলেন, নিজেদের মধ্যে মারামারিতে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য রেম্বাউ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত এবং সন্দেহভাজন বাংলাদেশি ব্যক্তি একটি বাগানে কাজ করতেন। তাঁরা সবাই একই বাড়িতে বসবাস করতেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আজ মঙ্গলবার রিমান্ডের জন্য পোর্ট ডিকেসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হচ্ছে।


ডিসিপি আলজাফনি বলেন, নিহত দুই ব্যক্তির মরদেহ সুয়া মাঙ্গিস এস্টেটে এবং তৃতীয়জনের মরদেহ তাঁদের বাসার কাছে পাওয়া গেছে।


পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী খুনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।


আলজাফনি আরও বলেন, ‘আমরা এই হত্যাকাণ্ডের কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে তদন্ত করছি। আশা করি, সাধারণ জনগণ এই ঘটনা নিয়ে সাধারণ জনগণ কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর মন্তব্য বা যাচাই ছাড়া কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকবেন।


ডিসিপি আলজাফনি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য নিকটস্থ থানাতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।


মালয়েশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইট টাইমসে আলজাফনির বরাত দিয়ে এক খবরে বলা হয়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের কারণে তিন বাংলাদেশি পুরুষের মৃত্যু হয়েছে।


পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি কয়েকটি স্থানে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।


প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তার করা সন্দেহভাজন ব্যক্তির আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:০৭ পিএম

পারস্পরিক শুল্কের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা জোরপূর্বক শ্রম শুল্কও মামলার মুখে পড়েছে। এই শুল্কের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশটির ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন ২৫ অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার মামলাটি করা হয় নিউইয়র্কের ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে। এতে বিচারকদের কাছে শুল্ক বাস্তবায়ন স্থগিত, বেআইনি ঘোষণা এবং সরকারকে অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।


দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসে গত বছরের এপ্রিলে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। যা আদালতের এক রায়ে বাতিল হয়েছে। নতুন কৌশল হিসেবে গত ২৪ জুলাই জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির কথা বলে ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ১০ ও সাড়ে ১২ শতাংশ করে শুল্ক আরোপ হয়। যা ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।


ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর শুল্ক আরোপ হয়েছে ১০ শতাংশ। এটি আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের একটি ধারা প্রয়োগ করে। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি করলে সেই দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারবে। তবে মামলার নথিতে বলা হয়েছে, নতুন শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন।


আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের যে কথিত সমস্যা আছে, সেটির সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের (ইউএসটিআর) আরোপ করা একচেটিয়া বৈশ্বিক শুল্কের কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক নেই। 


ইউএসটিআরের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে। চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও ফিলিপাইনের ওপর আরোপ হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক।


জোরপূর্বক শ্রম শুল্কের এই নতুন চ্যালেঞ্জের জবাব দিয়েছে হোয়াইট হাউস। সোমবার মুখপাত্র কুশ দেশাই এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারের পদক্ষেপটি আইনসিদ্ধ। মার্কিন বাণিজ্যের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ানো অযৌক্তিক কাজ, নীতি ও চর্চা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র বৈধ ক্ষমতা ব্যবহার করছে।


মামলার সঙ্গে যুক্ত ২৫টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৩টির গভর্নর ডেমোক্র্যাট। বাকি দুটি রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন। আদালতে দেওয়া নথিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারায় তদন্তটি ছিল অজুহাতমূলক ও বেআইনি প্রচেষ্টা। নথিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের নমুনাও তুলে ধরা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘তদন্তগুলো তাড়াহুড়ো করে শুরু করা হয়েছিল এবং শুরুতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল।’


নথিতে আরও বলা হয়েছে, শুল্ক ব্যবস্থাটি স্বেচ্ছাচারী, অযৌক্তিক এবং আইনের পরিপন্থী। আবেদনকারী রাজ্যগুলো সব ধরনের জোরপূর্বক শ্রমের বিরোধী এবং সারা বিশ্বে শ্রমিকদের সুরক্ষার পক্ষে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রমকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বেআইনি শুল্ক পরিকল্পনা চালিয়ে যেতে পারে না।

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৫ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার তিনি এমন দাবি করেন।


প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে এও বলেন, এটিই ইরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’। 


হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছেন।’ বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে।


গতকাল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করে। তবে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মুহূর্তেও আমাদের মধ্যে কথাবার্তা চলছে।’


‘একটি ভালো চুক্তিতে সই করার জন্য এটিই তাদের শেষ সুযোগ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের চূড়ান্ত বিনাশের আগে শেষ সুযোগ দিতে চাই।’


এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। ট্রাম্পের মতে, ‘বলতে গেলে এটি আগামীকালের মধ্যেই’ সম্ভব হতে পারে।


এ ছাড়া ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়েও আলোচনা চলছে, যা সম্পন্ন হতে ‘কিছুটা সময় লাগতে পারে’ বলে তিনি জানান।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতর্কিত হামলার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধে জড়িয়ে আছে। যদিও গত কয়েক মাসের দফায় দফায় কূটনৈতিক আলোচনার ফলে বিভিন্ন সময়ে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থেকেছে।


দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ইরান এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদও অক্ষত রয়েছে।


এদিকে আজ মঙ্গলবার ভোরে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান উপকূলে হরমুজ প্রণালিতে একটি মালবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।


সংস্থাটি জানায়, হামলার শিকার হওয়ার পর জাহাজটি থেকে সংকেত পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু এখনো জানানো হয়নি।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের একটি জনবহুল সমুদ্রসৈকতে ইউক্রেনের ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে তিন শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হামলার ভিডিও যাচাই করেছে বিবিসি। এতে দেখা গেছে, একটি খাড়া পাহাড়ের দিকে দ্রুতগতিতে একটি ড্রোন ধেয়ে আসছে। পরে সেটি পাহাড়ের পাশে সৈকতে আগুনের গোলার মতো আছড়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।


কৃষ্ণসাগরের তীরে আরখিপো-ওসিপোভকা গ্রামের কাছের একটি সৈকতে এ ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ বলেন, আহত ব্যক্তির সংখ্যা ৪০–এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক লোকজনের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ। এ বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। 


তবে রাশিয়া আর ইউক্রেন-দুই পক্ষই বেসামরিক লোকজনকে নিশানা করার অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে।


ইউক্রেনের ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু রুশ সমুদ্রসৈকত ছিল কি না, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে ইউক্রেনের কিছু চ্যানেল থেকে দাবি করা হয়েছে, ইলেকট্রনিক যুদ্ধের কারণে ড্রোনটির সংকেত জ্যাম হয়ে যাওয়ায় সেটি সৈকতে বিধ্বস্ত হয়েছে।


প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রাশিয়ার কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ড্রোনটি আছড়ে পড়ার আগে তাঁরা গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোনটি আঘাত হানার আগে সেটিকে গুলি করে ভূপাতিত করার চেষ্টা করেছিল রুশ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।


কৃষ্ণসাগরের এ সৈকত রুশদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে উষ্ণ জলবায়ু, দীর্ঘ সৈকত আর উন্নত পর্যটন পরিকাঠামোর কারণে অনেকে এখানে অবকাশ কাটাতে আসেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রুশদের ভ্রমণ সীমিত থাকায় এ সৈকতে আরও বেশি জনসমাগম হয়।


বছরখানেক ধরে রাশিয়ার সীমানার অনেকটা ভেতরে সফলভাবে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে আসছে ইউক্রেন। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক গুদামগুলো লক্ষ্য করে বেশির ভাগ হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের দাবি, এসব স্থাপনা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে রাশিয়া।


তবে ইউক্রেনের এসব হামলায় বেশ কয়েকবারই বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহান্তেও রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন।


২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু করে রাশিয়া। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও শহরগুলোয় আক্রমণ চালায় রুশ বাহিনী। হতাহত হয়েছেন হাজারো বেসামরিক মানুষ।


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, গত শনিবার দেশটির রাজধানী কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে নয়জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর