মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের জানালা ভেঙে প্রায় বাইরে ছিটকে পড়ে যাচ্ছিলেন এক যাত্রী। তবে শেষ মুহূর্তে স্বামীর পা শক্ত করে চেপে ধরে এবং অন্য যাত্রীদের সহায়তায় তাঁকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছেন স্ত্রী। গত শুক্রবার গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইটে সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কেবিনের ভেতরের বায়ুচাপ হঠাৎ কমে যাওয়ায় উড়োজাহাজটি প্রায় ৯ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় এবং যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্বেতলানা গ্রকোভিচ নামের একজন নারী তাঁর স্বামী লিউবিসা কারোভিচের সঙ্গে গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনে যাচ্ছিলেন। গ্রিসের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইআরটিকে তিনি বলেন, তাঁর স্বামী প্রায় দুই মিনিট বুকপর্যন্ত উড়োজাহাজের বাইরে ঝুলে ছিলেন।
সার্বিয়ার সংবাদমাধ্যমকে গ্রকোভিচ বলেন, ‘আমি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পা চেপে ধরি। তখন ভাবছিলাম, মরলে আমরা একসঙ্গেই মরব।’
তিনি বলেন, তাঁর স্বামী তিনবার জ্ঞান হারিয়েছিলেন। তবে অন্য দুই যাত্রীর সহায়তায় তিনি স্বামীকে টেনে উড়োজাহাজের ভেতরে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।
গ্রকোভিচ আরও বলেন, ‘তাঁর পাশের আসনে বসা মেয়েটি তাঁর হাত ধরে রেখেছিল। আমরা তিনজন মিলে তাঁকে ভেতরের দিকে টানছিলাম। সে সময় উড়োজাহাজের অক্সিজেন মাস্কগুলো নিচে নেমে আসে এবং চারদিকে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।’
গ্রকোভিচ আরও বলেন, উড়োজাহাজটির ইঞ্জিনের একটি অংশ ভেঙে তাঁর স্বামীর পাশের জানালায় আঘাত করেছিল বলে মনে হয়েছে। এতে জানালাটি ভেঙে যায় এবং কেবিনের ভেতরের বাতাসের চাপ হঠাৎ কমে যায়। অন্য যাত্রীরাও এ সময় বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শোনার কথা বলেছেন।
ঘটনার তদন্তে ভুক্তভোগী পরিবারের নিয়োগ করা একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, উড়োজাহাজের ডান দিকের ইঞ্জিন বিকল হয়ে এই ঘটনার সূত্রপাত। ইঞ্জিন থেকে ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষ কেবিনের জানালায় আঘাত করে সেটি ভেঙে ফেলে এবং দ্রুত কেবিনের বায়ুচাপ কমে যায়। তবে তদন্তকারীরা এখনো এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেননি।
এর আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে যাত্রীরা জানান, কারোভিচের সিটবেল্ট বাঁধা ছিল। ফলে তাঁর মাথা ও কাঁধ উড়োজাহাজের বাইরে চলে গেলেও অন্য যাত্রীরা তাঁকে সহজে ধরে রাখতে পেরেছিলেন। স্বেতলানা গ্রকোভিচ জানান, তাঁর ৬১ বছর বয়সী স্বামী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং প্রচণ্ড মানসিক ট্রমার মধ্যে আছেন।
স্বেতলানা গ্রকোভিচ বলেন, ‘আমার কাছে তাঁর বেঁচে থাকাটাই বড় কথা। তাঁর হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে এবং শরীরে পোড়ার ক্ষত তৈরি হয়েছে। তিনি এখন কথা বলতে পারছেন না। পুরো ঘটনাটিও তাঁর মনে নেই।’
গ্রকোভিচ আরও বলেন, ‘উড়োজাহাজের কথা শুনলেই ও এখন কাঁপতে শুরু করে। আমার মানসিক অবস্থাও খুব খারাপ। আমরা বেঁচে ফিরব ভাবিনি। আমার মনে হয়েছিল, উড়োজাহাজটি বোধ হয় ভেঙে পড়বে।’
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, রায়ানএয়ারের উড়োজাহাজটি আকাশে ওড়ার প্রায় ১০ মিনিটের মাথায় হঠাৎ ৯ হাজার ফুট (২ হাজার ৭০০ মিটার) নিচে নেমে যায়। এক বিবৃতিতে রায়ানএয়ার জানিয়েছে, গত শুক্রবার সকালে থেসালোনিকি থেকে মেমিংগেনগামী একটি ফ্লাইটের জানালা মাঝ আকাশে ভেঙে যায়। এরপর উড়োজাহাজটি গন্তব্যে না গিয়ে ফিরে আসে।
আয়ারল্যান্ডের এয়ারলাইনস জানায়, উড়োজাহাজটি স্বাভাবিকভাবেই অবতরণ করেছে এবং যাত্রীদের টার্মিনালে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। থেসালোনিকিতে অবতরণের পর এক যাত্রী নিজের চিকিৎসার অনুরোধ করেছিলেন। তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ক্রিস্টিনা নামের এক যাত্রী রেডিও থেসালোনিকিকে বলেন, ‘আমরা সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারি, উড়োজাহাজের ভেতরের বায়ুচাপ কমে গেছে। চারদিকে মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। একমুহূর্তের জন্য আমার মনে হয়েছিল, কেউ হয়তো ভুল করে জরুরি বহির্গমন দরজা খুলে ফেলেছে।’
সোফিয়া নামের আরেক যাত্রী রেডিও থেসালোনিকিকে বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম উড়োজাহাজটি ভেঙে পড়তে যাচ্ছে। কেবিনের বায়ুচাপ প্রচণ্ড কমে গিয়েছিল। আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। আহত ব্যক্তির শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল। অক্সিজেনের অভাব ও প্রচণ্ড আতঙ্কে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।’
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি ১৮ বছরের পুরোনো। ৬১ বছর বয়সী লিউবিসা কারোভিচে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। উড়োজাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর মেসিডোনিয়ার আকাশসীমায়। এ কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তদন্তকারীরা এই তদন্তে সহায়তা করছেন।
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন রুট নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান। একই সঙ্গে কৌশলগত এ জলপথ যৌথভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। তেহরান বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
তেহরান আরও জানায়, নতুন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলো প্রমাণ করেছে যে আঞ্চলিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এখনো কাটেনি।
এই সমঝোতা হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে, ইরানের গণমাধ্যমকে ব্রিফ করা সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে না নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীর কার্যত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে তেহরান। একই সঙ্গে তাদের অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর জন্য ইরান সমঝোতা চায়। তবে, ইরান এ দাবি নাকচ করে জানায়, তারা এ বিষয়ে প্রণালীর অপর পাড়ের প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে ব্যবস্থা করবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই’র বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, ‘দুই পক্ষ যে রুট নির্ধারণ করেছে, তার ভৌগোলিক স্থানাঙ্কে একমত হয়েছে। তৃতীয় কোনো পক্ষ বাধা সৃষ্টি না করলে দুই দেশের যৌথ বিবৃতি, যাতে প্রধান বিবেচ্য বিষয় ও সমঝোতার দিকগুলো থাকবে, সেটিও চূড়ান্ত পর্যালোচনা ও খসড়া প্রণয়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’
ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকাই সাংবাদিকদের জানান, ওমানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে চলছে। তবে সমঝোতা হলেও এর অর্থ এই নয় যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজের জন্য পথ নিরাপদ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীকে অনিরাপদ করে তোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখনো বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ এবং ইরান ও তার স্বার্থের বিরুদ্ধে অন্যান্য আগ্রাসী ও হুমকিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।’
এই ঝুঁকিরই প্রতিফলন হিসেবে বুধবার ওমানের কুমজার থেকে নয় নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, জাহাজ ও নাবিকরা নিরাপদ রয়েছেন।
এদিকে, ইয়েমেনের হুথিরা পৃথক এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। গত মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণার পর এটি অষ্টম ও নবম হামলা।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানান, উত্তর লোহিত সাগরের ইয়ানবুর কাছে ‘ওয়াফা’ নামের একটি ট্যাংকার এবং এডেন উপসাগরে ‘ডেইজি’ নামের আরেকটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
-‘বিভক্ত কাঠামো’-
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। জলপথটি নিয়ে বিরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। এতে ওয়াশিংটনের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতির ধীরগতিতে ওয়াশিংটন হতাশ। তবে তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে আলোচনায় সময় লাগবে।
বুধবার সম্প্রচারিত ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল হবে এবং সেখানে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে।’
হরমুজ প্রণালীতে কার্যকর অবরোধ আরোপের পর থেকে ইরান জাহাজগুলোকে নিজেদের উপকূলঘেঁষা রুট ব্যবহার করতে বলছে।
তবে অনেক জাহাজই প্রণালীর অপর পাশে ওমান উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ বেছে নিচ্ছে। এ পথে চলাচলকারী কিছু জাহাজ মাঝেমধ্যেই হামলার মুখে পড়েছে।
ইরান এখন হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টোল আদায় করতে চায়। যুদ্ধের আগে তারা এ ক্ষমতা প্রয়োগ করত না।
সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহেও ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোর’ হামলার হুমকি দেন। এমনকি বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলার ইঙ্গিত দেন। পরে অবশ্য তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, সমঝোতা খুব কাছাকাছি।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না।
ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি রাশিয়ার
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ও সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের আকাশে বৃহস্পতিবার রাতভর ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। খবর এএফপির।
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে তভার অঞ্চলে হামলার সময় একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রের সামনের অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ জানিয়েছেন, তার অঞ্চলে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হয়েছে। সেখানে ৯২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগে এবং কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রাশিয়ার অভিযোগ, গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে ইউক্রেন দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ও সংযুক্ত ক্রিমিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়ে আসছে।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা এখনো স্থবির। এদিকে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে চলেছে, যার ফলে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও বাড়ছে।
ছবি : সংগৃহীত
ফিলিপাইনের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। বুধবার (৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, সারাঙ্গানি দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬২ কিলোমিটার গভীরে। এ ঘটনার পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। এ ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, কম্পনটি বেশ শক্তিশালী ছিল। মানুষ চিৎকার করতে করতে নিরাপদ স্থানে ছুটে যায়। তবে সবাই নিরাপদে আছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক মূল্যায়নে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না।
গত ৮ জুনও ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সে সময় বহু ভবন ধসে পড়ে, ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং অন্তত ৭৬ জনের মৃত্যু হয়।
দুই মাসের ব্যবধানে নতুন এই ভূমিকম্প দেশটির ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে আবারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: খালিজ টাইমস
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করেছেন বলে ছড়িয়ে পড়া একটি গুজব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, তিনি তার দপ্তরে আছেন এবং কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তার প্রশাসনের সঙ্গে ইসলামি বিপ্লবের নেতাদের নেতাদের মতবিরোধ হয়েছে, এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তার প্রশাসনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, তার প্রশাসন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে পুরো সমন্বয় বজায় রেখেছে।
সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারের আগেই এর অংশবিশেষ ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) এ প্রকাশ করা হয়।
তাতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় বজায় রাখছি।”
তার পদত্যাগের বিষয়ে ওঠা গুঞ্জনকে তিনি ‘পুরোপুরি গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, “আমি যদি কখনো পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেই, আমি নিজেই তা ঘোষণা করবো। কিন্তু আমি পদত্যাগ করবো না, আমি নিজের অবস্থানে অটল থাকবো।”
পেজেশকিয়ান জানান, কিছু মানুষ এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা করছে যে তার প্রশাসন ও ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি এসব মন্তব্য করলেন। এর আগে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের তথ্য ও জনসংযোগ উপকর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহদি তাবাতাবায়ী এসব প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে বাতিল করেছিলেন।
এসব গুজব ছড়ানোর জন্য রাজনৈতিক কট্টরপন্থিদের দায়ী করেছেন তিনি; বলেছেন, “ইরানের শত্রুদের স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য দুর্বল করতে এসব গুজব ছড়ানো হয়েছে।”
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার পোর্ট ডিকসনের তামান লিঙ্গিতে গতকাল সোমবার নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বিভাগীয় কমিশনার (ডিসিপি) আলজাফনি আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
নেগ্রি সেম্বিলানের পুলিশপ্রধান বলেছেন, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল সোয়া চারটার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে।
আলজাফনি বলেন, লিঙ্গিতের এক বাড়িতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি দল মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছেন—এক ফোন কলে এমন তথ্য পাওয়ার পর পুলিশের একটি দলকে সেই বাড়িতে পাঠানো হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৪০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিসিপি আলজাফনি বলেন, নিজেদের মধ্যে মারামারিতে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য রেম্বাউ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত এবং সন্দেহভাজন বাংলাদেশি ব্যক্তি একটি বাগানে কাজ করতেন। তাঁরা সবাই একই বাড়িতে বসবাস করতেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আজ মঙ্গলবার রিমান্ডের জন্য পোর্ট ডিকেসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হচ্ছে।
ডিসিপি আলজাফনি বলেন, নিহত দুই ব্যক্তির মরদেহ সুয়া মাঙ্গিস এস্টেটে এবং তৃতীয়জনের মরদেহ তাঁদের বাসার কাছে পাওয়া গেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী খুনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
আলজাফনি আরও বলেন, ‘আমরা এই হত্যাকাণ্ডের কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে তদন্ত করছি। আশা করি, সাধারণ জনগণ এই ঘটনা নিয়ে সাধারণ জনগণ কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর মন্তব্য বা যাচাই ছাড়া কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকবেন।
ডিসিপি আলজাফনি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য নিকটস্থ থানাতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
মালয়েশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইট টাইমসে আলজাফনির বরাত দিয়ে এক খবরে বলা হয়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের কারণে তিন বাংলাদেশি পুরুষের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি কয়েকটি স্থানে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তার করা সন্দেহভাজন ব্যক্তির আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই।
ছবি : সংগৃহীত
পারস্পরিক শুল্কের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা জোরপূর্বক শ্রম শুল্কও মামলার মুখে পড়েছে। এই শুল্কের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশটির ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন ২৫ অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার মামলাটি করা হয় নিউইয়র্কের ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে। এতে বিচারকদের কাছে শুল্ক বাস্তবায়ন স্থগিত, বেআইনি ঘোষণা এবং সরকারকে অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসে গত বছরের এপ্রিলে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। যা আদালতের এক রায়ে বাতিল হয়েছে। নতুন কৌশল হিসেবে গত ২৪ জুলাই জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির কথা বলে ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ১০ ও সাড়ে ১২ শতাংশ করে শুল্ক আরোপ হয়। যা ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর শুল্ক আরোপ হয়েছে ১০ শতাংশ। এটি আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের একটি ধারা প্রয়োগ করে। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি করলে সেই দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারবে। তবে মামলার নথিতে বলা হয়েছে, নতুন শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন।
আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের যে কথিত সমস্যা আছে, সেটির সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের (ইউএসটিআর) আরোপ করা একচেটিয়া বৈশ্বিক শুল্কের কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক নেই।
ইউএসটিআরের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে। চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও ফিলিপাইনের ওপর আরোপ হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক।
জোরপূর্বক শ্রম শুল্কের এই নতুন চ্যালেঞ্জের জবাব দিয়েছে হোয়াইট হাউস। সোমবার মুখপাত্র কুশ দেশাই এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারের পদক্ষেপটি আইনসিদ্ধ। মার্কিন বাণিজ্যের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ানো অযৌক্তিক কাজ, নীতি ও চর্চা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র বৈধ ক্ষমতা ব্যবহার করছে।
মামলার সঙ্গে যুক্ত ২৫টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৩টির গভর্নর ডেমোক্র্যাট। বাকি দুটি রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন। আদালতে দেওয়া নথিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারায় তদন্তটি ছিল অজুহাতমূলক ও বেআইনি প্রচেষ্টা। নথিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের নমুনাও তুলে ধরা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘তদন্তগুলো তাড়াহুড়ো করে শুরু করা হয়েছিল এবং শুরুতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল।’
নথিতে আরও বলা হয়েছে, শুল্ক ব্যবস্থাটি স্বেচ্ছাচারী, অযৌক্তিক এবং আইনের পরিপন্থী। আবেদনকারী রাজ্যগুলো সব ধরনের জোরপূর্বক শ্রমের বিরোধী এবং সারা বিশ্বে শ্রমিকদের সুরক্ষার পক্ষে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রমকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বেআইনি শুল্ক পরিকল্পনা চালিয়ে যেতে পারে না।