• প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩৮ পিএম

বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে এবার পরীক্ষা দিয়েছে ২৪ জন শিক্ষার্থী। অথচ তাদের সবাইকেই ফিরতে হয়েছে অকৃতকার্য হয়ে। 


অভিভাবকদের অভিযোগ-নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে না পারা এবং শিক্ষা উপকরণ ও অবকাঠামোর সংকটই এর অন্যতম কারণ। তবে শিক্ষকরা দায় দিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও অভিভাবকদের অসচেতনতাকে। ঠাকুরগাঁও থেকে তানভীর হাসান তানুর তথ্য ও জাহিদ হাসান মিলুর ছবিতে প্রতিবেদন।


একটি-দুটি নয়-ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেনি একজনও। ২৪ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পেরোতে পারেনি পাসের গণ্ডি।


বিদ্যালয় গুলো হলো- ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেউ পাস করেনি। অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জনই ফেল করেছে। মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের সংখ্যা শূন্য, তাওরিগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেউ পাস করেনি এছাড়াও হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ জন পরীক্ষার্থী ৩ জনই ফেল করেছে। 


শূন্য পাসের তালিকায় থাকা পাঁচটি বিদ্যালয়ের চারটিই ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার, অন্যটি হরিপুর উপজেলার। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান না হওয়া, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে দূরত্ব এবং শিক্ষা উপকরণের সংকট দীর্ঘদিনের।


অভিভাবকদের কেউ কেউ আবার স্বীকার করছেন, সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো হয় না। কৃষিপ্রধান এলাকার অনেক পরিবারে পড়াশোনার পাশাপাশি সন্তানদের খেত-খামারের কাজেও যুক্ত করা হয়। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়।


তবে দায় শুধু শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকদের নয়-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাঙাচোরা অবকাঠামো, শিক্ষা উপকরণের সংকট এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবও ফলাফলে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে।


শিক্ষকদের ভাষ্য, গ্রামাঞ্চলের এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের। কৃষিকাজনির্ভর পরিবার হওয়ায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারেন না। পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণ ও অবকাঠামোগত সংকটও রয়েছে। 



সর্বশেষ সব খবর

সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০১ পিএম

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির প্রবীণ নেতা মরহুম ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যু বার্ষিকী ১১ আগষ্ট। তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, জনসম্পৃক্ততা এবং এলাকার উন্নয়নে অবদান লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষের কাছে আজও স্মরণীয়। চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি শুধু নিজের রাজনৈতিক অবস্থানই সুদৃঢ় করেননি, নাটোর জেলার প্রথম মন্ত্রী হওয়ার গৌরবও অর্জন করেছিলেন।


আজ ১১ আগস্ট তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৬ সালের এই দিনে কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার রবীন্দ্র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে লালপুর-বাগাতিপাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। মৃত্যুর এক দশক পরও রাজনৈতিক সহকর্মী, কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে তিনি অম্লান।


শৈশব ও পারিবারিক জীবন 


ফজলুর রহমান পটল ১৯৪৯ সালের ২৪ এপ্রিল নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম আরশাদ আলী, মা ফজিলাতুন নেছা। পাঁচ ভাই ও এক বোনের পরিবারে তিনি ছিলেন সবার বড়। পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন ছিলেন তাঁর চাচা।


১৯৮৪ সালের ১৪ মে কামরুন্নাহার শিরিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফজলুর রহমান পটল। কামরুন্নাহার শিরিন পরবর্তীতে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে।


বড় ছেলে ইয়াসির আরশাদ রাজন একজন চিকিৎসক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি এবং লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। ছোট ছেলে ইস্তেখার আরশাদ প্রতীক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বড় মেয়ে ফারহানা শারমিন কাকন গৃহিণী। ছোট মেয়ে ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল নাটোর ১ ( লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।


শিক্ষাজীবন ও ছাত্ররাজনীতি


লালপুর উপজেলার ২ নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ফজলুর রহমান পটল গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে পাবনার রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৬৭ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন।


এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে তিনি দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন।


১৯৭৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান পটল। ছাত্রজীবনের এই নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তাঁর জাতীয় রাজনীতির পথকে আরও সুগম করে।


বিএনপির রাজনীতিতে পথচলা


১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিতে যুক্ত হন ফজলুর রহমান পটল। এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন বিএনপির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।


পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেন। দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকা লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষের সঙ্গেও তাঁর ছিল নিবিড় যোগাযোগ।


চারবার সংসদ সদস্য, জেলার প্রথম মন্ত্রী


নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চার মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান পটল। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি ছিল জাতীয় সংসদে বারবার নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা।


১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের শাসনামলে তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি নাটোর জেলার প্রথম মন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।


২০০১ সালের ১ অক্টোবরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চারদলীয় জোট সরকার গঠিত হলে ফজলুর রহমান পটল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ এলাকার উন্নয়নেও তিনি ভূমিকা রাখেন।


উন্নয়নে তাঁর অবদান


যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে আজিমনগর রেলস্টেশন ভবন , লালপুরে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্টেডিয়াম, রাস্তাঘাট, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।


স্থানীয় মানুষের কাছে তাঁর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্মৃতির মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং যোগাযোগব্যবস্থার প্রসারে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।

রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার শিক্ষা, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কথাও এখনও স্মরণ করেন তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী ও অনুসারীরা।


শেষ অধ্যায়


২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ফজলুর রহমান পটল। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রার্থী আবু তালহার কাছে তিনি পরাজিত হন।


এরপর জীবনের শেষ সময়ে তিনি কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট রবীন্দ্র হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে লালপুর-বাগাতিপাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।


স্মৃতিতে পটল 


রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু একজন নেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনকে মূল্যায়ন করতে গেলে তাঁর কর্ম, নেতৃত্ব, জনসম্পৃক্ততা এবং এলাকার মানুষের জন্য রেখে যাওয়া অবদান সামনে আসে। সেই বিচারে ফজলুর রহমান পটলের রাজনৈতিক জীবন ছিল ঘটনাবহুল ও বর্ণাঢ্য।

সর্বশেষ সব খবর

পঞ্চগড়

খাল খননের কাজ শেষে প্রায় তেরো লক্ষ টাকা কোষাগারে ফেরৎ

প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পেলেন দুই ইউএনও


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৪৮ এএম

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী এবং সদর উপজেলায় খাল খনন কাজ শেষে প্রায় তেরো লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন দুই উপজেলা নির্বাহী অফিসার। খালখননে সচ্ছতা ও সৌন্দর্যযবর্ধনের জন্য প্রধান মন্ত্রীর শুভেচ্ছা পেয়েছেন তারা।




জানাগেছে জেলার আটোয়ারী উপজেলায়  খাল খননের কাজ শেষে প্রায় সাড়ে নয় লক্ষ টাকা ফেরৎ দিয়েছেন  উপজেলা নির্বাহী অফিসার রীপা মনি দেবী। । আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের বাকডোকরা খালের খনন কাজ সমাপ্ত করে অবশিষ্ট এই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরৎ পাঠানো হয়।  অন্যদিকে  পঞ্চগড় সদর উপজেলার রজলী টাংগন ব্রিজ থেকে রজলীপাড়া এলাকায় ৬৩০ মিটার খাল পুনঃখনন এবং ৬০ মিটার নতুন সংযোগ খাল খননের কাজ সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ইউএনও ফাহমিদা সুলতানার সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে মোট ৬৯০ মিটার খালের কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত ৩ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের বাজেট ধরা হয়েছিলো ৩৮ লক্ষ টাকা।


বাকডোকরা খাল খনন কর্মসূচিতে মোট বরাদ্দ ধরা হয় ৫১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা । এই খাল খনন সম্পাদনের পর বেচে যায় ৯ লক্ষ ৩৯ হাজার ১৯১ টাকা।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার রীপা মনি দেবী ও ফাহমিদা সুলতানা  এই ভালো কাজের প্রশংসা কুড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক শুভেচ্ছা প্রাপ্ত হয়েছেন ।


এ বিষয়ে আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রীপা মনি দেবীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, গত ৮ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সারাদেশের ৮৪ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে একটি মতবিনিময় সভা করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে এই জেলা থেকে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ আমি উপস্থিত ছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আটোয়ারী উপজেলার খাল খনন প্রকল্পের দুই ধারে সবুজ ঘাস লাগানোর বিষয়টিকে গুরুত্বারোপ করে পরবর্তী এ ধরনের খাল খনন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উপস্থিত সকল কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও প্রদান করেন।  


সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা বলেন সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। প্রয়োজনীয় কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজের জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পেয়েছি। এটা নি:সন্দেহে অনেক উদ্দিপনার। সামনের দিনে এরকম উৎসাহ ভালো কাজে আরও আগ্রহী করে তুলেছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩০ এএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফলে ইংরেজিতে অকৃতকার্য হওয়ায় বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন এক শিক্ষার্থী। 


সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ফলাফল প্রকাশের পর আত্নহত্যা করে ওই শিক্ষার্থী। নিহত ছাত্রী শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পুরাতন উনিশবিঘী গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে হালিমা খাতুন তরিকা (১৬) সে চাকপাড়া আদর্শ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো।


নিহত শিক্ষার্থীর স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার এসএসসির ফলাফল প্রকাশ হলে হতাশ হয়ে পড়েন হালিমা খাতুন। সবগুলো বিষয়ে পাশ করলেও অকৃতকার্য হন ইংরেজিতে। আক্ষেপ থেকেই বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে পরিবারের লোকজন খবর পেলে গুরুতর আহত অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।


২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিনা ইসলাম  বলেন, ২টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ওই মেয়েটিকে। তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান ডা. শাহরিনা খাতুন।


শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, এসএসসির ফলাফলে একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় বিষ পানে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে পরিবারের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:২৪ এএম

নোয়াখালীর হাতিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে পাঁচটি দোকান ও একটি বসতঘর পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।


সোমবার (১০ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাগরিকা বাজারে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে উপজেলার সাগরিকা বাজারের রাকিবের বিরিয়ানি হাউজ হোটেলের সিলিন্ডারে আগুন ধরে যায়। তখন ভয়ে সেখান থেকে হোটেলের লোকজন বের হয়ে যায়। এরপর আগুন ধরে যাওয়া সিলিন্ডারটি বিস্ফোরণ হয়। পরবর্তীতে হোটেলে থাকা আরও দুটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১টি হোটেল, ১টি লাইব্রেরী দোকান, ১টি কাপড় দোকান, একটি জুতা দোকান, ১টি কসমেটিক দোকান ও একটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।


হাতিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবরে হাতিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দেড় ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর মধ্যেই ৫টি দোকান ও ১টি বসতঘর পুড়ে যায়। গ্রাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে অন্তত ৮০ লাখ টাকার।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:১২ এএম

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাত্র ৮ শতক জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সহিদুল ইসলাম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঘটনার পর আরও দুই থেকে তিনজন পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে  উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের রায়গঞ্জ ব্রিজসংলগ্ন খামার আন্ধারীঝাড় কানিপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল শেখ ও শুক্কুর আলীর মধ্যে ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার সালিশ ও গ্রাম আদালতে শুনানি হলেও কোনো সমাধান হয়নি।


সোমবার বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে হালচাষকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় মাছ ধরার সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত কোঁচ দিয়ে সহিদুল ইসলামকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।


গুরুতর আহত অবস্থায় সহিদুলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


ঘটনার পর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্রসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত আরও দুই থেকে তিনজন পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫২ এএম

কুমিল্লায় পরকীয়া ও পারিবারিক কলহের জেরে হাসি বেগম (৩৫) নামে এক স্ত্রীকে পিটিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছে স্বামী মোসলেহ উদ্দিন। এ ঘটনায় মোসলেহ উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ।


রোববার (৯ আগস্ট) রাতে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাসি বেগম ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোপালনগর গ্রামের মৃত আবদুল খালেক ভূঁইয়ার মেয়ে।


এ ঘটনায় পুলিশ মোসলেহ উদ্দিন (৪৫)কে আটক করেছে। সে ওই গ্রামের মৃত রেনু মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘ ৩৩ বছর কুয়েতে ছিলেন। ছয় মাস আগে দেশে ফিরেছেন। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। তারা হলেন সাইমন হোসেন (১৯) ও খাদিজা আক্তার (১৬)।


নিহতের সন্তানদের দাবি, পরকীয়ার জেরে ও পারিবারিক কলহের কারণে মোসলেহ উদ্দিন প্রায়ই হাসি বেগমের ওপর নির্যাতন করতেন। ছেলে-মেয়ে ও প্রতিবেশীরা বাধা দিলেও তিনি তা শুনতেন না। মারধর ও নির্যাতনের ঘটনায় কয়েক দফা বিচার-সালিশও হয়েছে।


ঘটনার দিন দুপুরে পরকীয়ার জেরে হাসি বেগমকে মারধর করেন মোসলেহ উদ্দিন বলে অভিযোগ। মেয়ে খাদিজা আক্তার স্কুল থেকে ফিরে তার মাকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা হাসি বেগমকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


নিহতের কন্যা খাদিজা আক্তার বলেন, বাবা-মা প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ করতেন। এতে বাবা মাকে মারধর করতেন। আমরা বাধা দিলেও তিনি শুনতেন না। আজ স্কুল থেকে এসে দেখি মা লাশ হয়ে ঘরে পড়ে আছে। মায়ের ঠোঁট ও মুখে রক্তের দাগ ছিল।


নিহতের পুত্র সাইমন হোসেন বলেন, প্রতিবেশী কুলসুম বেগমের সঙ্গে বাবার পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে ঘরে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। কুলসুম বেগম যা বলেন, বাবা ঘরে এসে তাই করেন। তার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের কারণে মা বাধা দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে।


অভিযোগের বিষয়ে মোসলেহ উদ্দিন বলেন, দুপুরে আমার গায়ের গেঞ্জি টেনে ছিঁড়ে ফেলায় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই-একটি চর-থাপ্পড় দিয়েছি। এটা সত্য। কিন্তু এই চর-থাপ্পড়ে তো আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার কথা নয়। আমার মারধরে যদি আমার স্ত্রী মারা গিয়ে থাকেন এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে যদি এমন তথ্য আসে, তাহলে আমার যে শাস্তি হয়, আমি মাথা পেতে নেব।


পরকীয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, পুরো গ্রামে খবর নেন, আমার কারও সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক আছে কিনা। আমি ছয় মাস আগে কুয়েত থেকে এসেছি। আমি ৩৩ বছর কুয়েতে ছিলাম। পরকীয়ার অভিযোগ মিথ্যা।


দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন,প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহত হাসি বেগমের চোখের কোণায় ও শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বামী মোসলেহ উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

সর্বশেষ সব খবর