গাইবান্ধায় জনসমাবেশে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৮ এএম

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতা কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। মহান আল্লাহ যাদের সম্মান দিয়ে ক্ষমতায় বসান, সময়ের ব্যবধানে তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়েও দিতে পারেন। তাই ক্ষমতাসীনদের জনগণের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।


সোমবার (১০ আগস্ট) গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে এবং সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।


তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর রংপুরবাসীকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই। যারা বৃহত্তর রংপুরের মানুষকে বঞ্চিত করবে, তারা গণদুশমন হিসেবে বিবেচিত হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসবেন না। ২৪-এর বিপ্লব হয়েছে সমাজ থেকে সব ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য। যারা চাঁদাবাজি ও দখলদারির নেশায় আসক্ত হয়ে মানুষ হত্যা করছে, তারা সমাজের আবর্জনা। সমাজ থেকে এসব আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে।’


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ বৈষম্য, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি সমাজ চায়। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’


সমাবেশে বক্তারা শহীদ সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জেলা নায়েবে আমীর গাইবান্ধার সদর সংসদ সদস্য আব্দুল করিম ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল মানুষ উপস্থিত ছিলেন।



সর্বশেষ সব খবর

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের লোগো। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৩ এএম

জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্যসহ সব ভাস্কর্য স্থাপনকে শরিয়তের বিধানের চরম লঙ্ঘন এবং আলেমদের আত্মত্যাগের সঙ্গে এক ধরনের বৈপরীত্য ও উপহাস হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনের আমির শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান।


সোমবার (১০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃদ্বয় অবিলম্বে জাদুঘর থেকে এসব ভাস্কর্য উচ্ছেদ ও অপসারণের জোর দাবি জানান।


জুলাই জাদুঘরে নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য অপসারণ চায় কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ


বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘ইসলামের স্পষ্ট বিধান বা শরিয়তের দৃষ্টিতে যে কোনো মানুষের ভাস্কর্য নির্মাণ সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ। ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয় বা অবদান যত বড়ই হোক না কেন, শরিয়তের বিধানকে তোয়াক্কা না করে মনগড়া কিছু করার সুযোগ কারও নেই।’


হেফাজতের নেতৃদ্বয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘যারা জীবনভর ইসলামের আকিদা, ঈমান ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার লড়াইতে প্রাতঃস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের স্মৃতি রক্ষার অজুহাতে ভাস্কর্য বানিয়ে ইসলামী বিধানের চরম বরখেলাপ করা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। যে আলেম সমাজ অতীতে এ ভাস্কর্য ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন ও কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন, আজ স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে তাদেরই অবয়বে ভাস্কর্য বানিয়ে অপমান করা হচ্ছে—এটি একটি চরম মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন বৈপরীত্য।’


তারা স্পষ্ট জানান, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিপ্লব, বীর শহীদ ও আন্দোলনকারীদের মহান ত্যাগকে জাতি অবশ্যই আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণে রাখবে। কিন্তু সেই স্মৃতিরক্ষাকে কোনোভাবেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইসলামী মূল্যবোধের মুখোমুখি দাঁড় করানো যাবে না।


ভাস্কর্য নামক এ অশুভ সংস্কৃতি পরিহার করে ইতিহাসকে চিরসংরক্ষিত রাখতে কঠোরভাবে শরিয়তসম্মত দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এর মধ্যে প্রথমটি আন্দোলনের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে জাদুঘরে লিখিত ইতিহাস, প্রামাণ্য দলিলপত্র ও বিপ্লবী নথিসমূহ সংরক্ষণ করে তা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা। দ্বিতীয়টি, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে ও ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে নির্মম গণহত্যাসহ ইসলামের জন্য আলেম ও তৌহিদি জনতার ত্যাগ এবং ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের সত্য ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।


বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, মহানবী (সা.)-এর সাহাবিদের কোনো ভাস্কর্য ছিল না। কিন্তু তাদের আদর্শ আজও বিশ্বজুড়ে আলো ছড়াচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার গড়িমসি না করে জুলাই জাদুঘর থেকে এ ভাস্কর্যগুলো অনতিবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যথায় আলেম সমাজ তাদের নীতি ও আকিদা রক্ষায় নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।

সর্বশেষ সব খবর

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৭ এএম

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি, সংগঠন কিংবা ইসলামি দলের নেতাকর্মী—পরিচয় যা-ই হোক না কেনো, তাদের ভাস্কর্য নির্মাণ ইসলামি শরিয়ার দৃষ্টিতে বৈধ নয়। ইসলামের বিধান সবার জন্য সমান। কোনো ব্যক্তির মর্যাদা, অবদান কিংবা রাজনৈতিক-সাংগঠনিক পরিচয়ের কারণে শরিয়ার বিধান পরিবর্তিত হতে পারে না। সোমবার (১০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।


পীর সাহেব দেওনা বলেন, জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নামে বা অবয়বে যে ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। যারা ইসলামি মূল্যবোধ, আকিদা ও শরিয়ার পক্ষে কথা বলেন, তাদের স্মৃতি সংরক্ষণের নামেও এমন কিছু করা উচিত নয়, যা ইসলামি বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


তিনি বলেন, শহীদ ও আন্দোলনকারীদের স্মৃতি সংরক্ষণে ভাস্কর্যের পরিবর্তে তথ্যচিত্র, আলোকচিত্র, লিখিত ইতিহাস, দলিলপত্র, জাদুঘরভিত্তিক প্রদর্শনীসহ শরিয়াসম্মত বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। এতে ইতিহাস সংরক্ষিত হবে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধও অক্ষুণ্ন থাকবে।


সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের যে ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো আলেম, ইসলামি ব্যক্তিত্ব কিংবা ইসলামি দলের নেতাকর্মীর ভাস্কর্য নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


জুলাই জাদুঘরের সব ভাস্কর্য অবিলম্বে অপসারণের দাবি হেফাজতের


তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হবে। তবে সেই সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি অবশ্যই দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।


পীর সাহেব দেওনা বলেন, স্বৈরাচারী আমলে ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক উলামায়ে কেরাম কারাবরণ করেছেন এবং অনেকে শাহাদাতবরণ করেছেন। অথচ সেই আলেমদেরই ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।


তিনি আরও বলেন, সাহাবায়ে কেরামের কোনো ভাস্কর্য ছিল না; কিন্তু তাঁদের মহান জীবন, ত্যাগ ও আদর্শ ইতিহাসে সংরক্ষিত হয়েছে। তাই ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে ইসলামের জন্য আত্মত্যাগকারী আলেম ও শহীদদের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের ইজ্জত-সম্মান রক্ষার আন্দোলনে ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নিতে হবে।


তিনি আরও বলেন, পাঠ্যপুস্তকে ভাস্কর্যের কোনো ছবি অন্তর্ভুক্ত করা হলে দেশের ধর্মপ্রাণ তাওহিদী জনতা ও আলেম সমাজ তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

সর্বশেষ সব খবর

বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্লাব মিলনায়তনে ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ মাসের উন্নয়ন যাত্রা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি:

  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১০ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং সরকারের কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।


তিনি বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ড এবং জনগণের প্রতি সরকারের নিবেদনের তথ্য-পরিসংখ্যানসহ কোনো গ্রন্থ রচিত হলে তা সবার হাতে একটি দলিল হিসেবে থাকবে। এতে সবাই উপকৃত হবে এবং সরকারের ভালো কাজ নিয়ে যারা অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ও মিথ্যাভিত্তিক কথা বলছে, তাদের প্রচেষ্টা সম্পর্কে মানুষ জানতে পারবে।


শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্লাব মিলনায়তনে রোটারিয়ান এম, নাজমুল হাসান সম্পাদিত ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ মাসের উন্নয়ন যাত্রা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের পাঁচ মাসে জনকল্যাণ, জনস্বার্থ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং যেগুলো বাস্তবায়নের পথে রয়েছে, তার বিস্তৃত বর্ণনা একটি বইয়ে পাওয়া যাবে।


বইটি পড়লে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যতটুকু পাতা উল্টেছি, তাতে তাই মনে হয়েছে।’


বই উন্মোচন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রিজভী বলেন, লেখক তার বইয়ের মাধ্যমে জনগণকে বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ করছেন এবং যারা কাজ করছেন, তাদের অনুপ্রাণিত করছেন। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে লেখক এ ধরনের আরও বই লিখবেন।


উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের উপদেষ্টা রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ সাইদুর রহমান।

সর্বশেষ সব খবর

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০০ পিএম

পরাজয় নিশ্চিত জেনেও আগামী ২০ আগস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেবে জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে ৩৫ বছর পর বিরোধীদল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয়েছিল। 



পরবর্তী সাতটি নির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তবে শনিবার রাতে জামায়াত কার্যালয়ে দলীয় আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। রোববার বিরোধীদলের সরকারি বাসভবনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। 



সংসদে জামায়াত জোটের সদস্য (এমপি) ৯০ জন। সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াত থেকে বহিষ্কার হলেও তিনি কাগজে কলমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতের এমপি হিসেবে ভোটার হয়েছেন।  ৩৪৯ আসনের সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ স্বতন্ত্র এমপির সংখ্যা ৮। ইসলামী আন্দোলন, বিজেপি, গণঅধিকার পরিষদ এবং গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন করে এমপি রয়েছেন। বাকি ২৪৭ জন এমপি বিএনপির। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৭৫ ভোট। ফলে বিএনপির জয় নিশ্চিত। 


জামায়াত কেন প্রার্থী দিচ্ছে প্রশ্নে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিরোধী দলের অধিকার। গণতন্ত্রে জয় পরাজয়ের চেয়েও বড় অধিকার চর্চা। বিরোধী দল কোনো কিছুতেই সরকারকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছাড় দেবে না। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া।


একই কথা জানান জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি আবদুল হালিম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে বিরোধী দলের যেখানে যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ রয়েছে, এর সবগুলোই প্রয়োগ করবে জামায়াত। 


১৯৯১ সালে তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেয়। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনপ্রবর্তনের পর সেবারই প্রথম এবং শেষবারের মত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়েছিল। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এমপিদের সমর্থনে ১৭২ ভোট পেয়ে আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী ৯২ ভোট পেয়েছিলেন। জাতীয় পার্টির ৩৫ এমপি ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। 


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪২ পিএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার চলমান। আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎও আদালতেই নির্ধারিত হবে। এ বিষয়ে সংবিধানে সবকিছু বলা আছে। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন মিলনায়তনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) এ সভার আয়োজন করে।


সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল। তবে এর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, যা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনেও আলোচনা হয়েছে। তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিল। তারা ভুলে গিয়েছিল, জুলাই অভ্যুত্থান ছিল ছাত্র-জনতার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সে সময় কেউ কেউ বিপ্লবী সরকার গঠনের কথাও বলেছিলেন, কিন্তু তা হয়নি।’


তিনি বলেন, ‘অনেকে অনেক রকম বক্তব্য দিতে পারেন। তবে আমাদের ঐক্য থাকতে হবে। বিতর্ক সংসদে হতে পারে, রাজপথেও হতে পারে। কেউ কেউ নতুন দল গঠন করে রাজনীতির কথা বলেন। কিন্তু চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে ব্যর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনার একাত্তরের চেতনার রাজনীতিও ব্যর্থ হয়েছে। রাজনীতির মাঠ অনেক কঠিন।’


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উই হ্যাভ এ প্ল্যান। আমাদের স্বপ্ন আছে। যারা চেতনা বিক্রির রাজনীতি করছেন, তারা কেন যেন পতিত সরকারের পক্ষেই কথা বলছেন। সরকারের বয়স সাড়ে পাঁচ মাস। এখনই রাজপথে বলছেন সরকার ব্যর্থ। ব্যর্থ হতেও তো সময় লাগে।’


ওয়ান-ইলেভেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সবচেয়ে বেনিফিশিয়ারি শেখ হাসিনা। এখন তিনি নিজ দেশে সঠিকভাবে প্রত্যাবর্তন করেছেন।’


ভারতে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ভারত তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। এভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঠিক থাকে না। বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। তিনি বলেন, ‘আপনারা হাসিনা কার্ড খেলবেন আর সম্পর্ক ঠিক রাখবেন—এটা চলবে না।’


তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই, দুঃখ প্রকাশও করেননি। আমরা শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে চাই। তা না হলে বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার আমাদের নেই। আজকে বলা হয়, জুলাই কার? জুলাই হলো আমাদের সবার।’


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভুমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)। ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক ও ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে ও অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, ইউট্যাবের যুগ্ম মহাসচিব ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ইউট্যাবের সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এসএম সোহাগ আওয়াল, ।


অনুষ্ঠানে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভুমিকা ও শহীদদের স্মরণে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের ভাই মো. আবু হোসেন, শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ও ইকরামুল হক সাজিদের মা নাজমা খাতুন লিপি। এসময় তাদেরকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননাও দেওয়া হয়।


এ ছাড়াও বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আহসান, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুর রাজ্জাক, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার, ইউট্যাবের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল কালাম সরকার, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রোভিসি, কোষাধ্যক্ষসহ অসংখ্য শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ঐতিহ্য রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান তারই চেতনার প্রতিফলন। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সমস্ত প্রতিষ্ঠান আক্রমণের শিকার হয়েছে। শেখ হাসিনা যেভাবে চেয়েছে সেভাবেই চালাতে চেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তার বিপরীত হলেই নির্যাতনের খডগ নেমে এসেছে। যেমনটি হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান একটি কলাম লেখার কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অন্য কোনো কারণ দেখাতে পারেনি। এভাবে আরো অনেককেই ফ্যাসিবাদ আক্রমণ করেছে।


তিনি বলেন, আজকে জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছে। অথচ সেসময় আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দিতেন লন্ডন থেকে আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ভারত থেকে আজকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছাত্রদের প্রত্যেকটি আন্দোলন কর্মসূচিতে বিএনপির প্রত্যক্ষ সমর্থন ছিলো। তা না হলে ছাত্রদলের ১৪২ জন শহীদ হলো কী করে? আমাদের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে ভরল কেন? পরে জেল থেকে বেরিয়ে শুনছি ১৪-১৫ শ’ মানুষকে হত্যা করেছে শেখ হাসিনা। কতো ভয়ংকর, আগ্রাসী ও রক্তপিপাসু হতো পারে শেখ হাসিনা! আজকে তার ব্যাপারে অনেকেই নরম সুরে কথা বলতে চেষ্টা করছেন কেনো?


রিজভী বলেন, বিরোধী দলের নেতার বাসায় জুলাই অভ্যুত্থানের একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়েছে। যেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসহ বিভিন্ন বিষয় আছে কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কিছু নেই! এটা কেন? তারা যে বলেছিল সবাইকে ক্ষমা করে দিবেন তারই প্রমাণ!


দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত সরকার বলছে সে ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা নেই! এটা কিভাবে সম্ভব? আজকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েছে, মায়ানমার-চীন করিডোরের পরিকল্পনার কারণেই কি হাসিনা কার্ড খেলা হচ্ছে? পলাতক একজন ফ্যাসিস্টকে কথা বলার সুযোগ দিয়েছে। এটা তো সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি মর্যাদা দেওয়া হলো না।


রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানোর কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।


আরেক বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাইয়ের দিনগুলো আমরা ভুলতে পারি না। তবে জুলাই একদিনে আসেনি। ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমরা ফ্যাসিবাদের চেহারা দেখেছি। আমরা মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারিনি, স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারিনি। ফ্যাসিবাদীরা চেয়েছিল তাদের মতো করে আমাদের পরিচালনা করতে। এ সময়ে আমাদের অনেক নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যখন জোরদার হয়, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউট্যাব সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। আমরা থেমে থাকিনি; বরং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছি।’


স্বাধীনতাযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর আজ দেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। সরকারকে সময় দিতে হবে। রাতারাতি কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করি, তাঁর নেতৃত্বে আমরা একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পাব।’


তিনি আরও বলেন, ‘হাসিনা তাঁর অহংকারের কারণে জনরোষের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। অপরাধের একটি স্বাভাবিক পরিণতি থাকে।’


সভাপতির বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মুগ্ধ, ফারহান ফাইয়াজ, তাহমিদসহ সব নাম না জানা শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


তিনি বলেন, ‘এই বীর সন্তানদের অসীম সাহস, নিঃস্বার্থ ত্যাগ এবং অবিচল সংগ্রামের বিনিময়েই আজ বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি এই আয়োজনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। তাঁদের সন্তানদের তাজা রক্তের বিনিময়েই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আমরা একটি নতুন বিজয়ের ইতিহাস অর্জন করেছি।’


বিগত ১৭ বছরের শাসনামলের নিপীড়নের কথা স্মরণ করে ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, ‘প্রধান অতিথি সালাউদ্দিন আহমদের মতো দেশপ্রেমিক নেতাদের দীর্ঘ ১০ বছর পরিবার ও মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল। বিশেষ অতিথি রুহুল কবির রিজভীও বিগত ১৭ বছরের চরম প্রতিকূলতা ও বাধা-বিপত্তির মধ্যেও একজন অভিভাবকের মতো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) আগলে রেখেছেন।’


তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদলের সোনালি ফসল হিসেবে পরিচিত এই নেতৃত্বই আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বিএনপিকে মূলধারায় পরিচালিত করবে। আমাদের সবাইকে “জুলাই স্পিরিট” এবং “সবার আগে বাংলাদেশ” স্পিরিট ধারণ করে দেশ পরিচালনা করতে হবে। একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করতে হবে এবং তাঁর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।’

সর্বশেষ সব খবর

জিয়া উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দিয়ে ভারত জুলাই শহীদদের রক্ত ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে অপমান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।


বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন।


বিগত সরকারের সময়ে জুলুম-নির্যাতনের মধ্যেও সেবামূলক কাজ থেকে ড্যাবের চিকিৎসক কখনো বিরত থাকেননি বলে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, নানা ধরনের নিপীড়ন ও প্রতিকূলতার মুখেও চিকিৎসকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব ও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে সরে যাননি। অনেককে দুর্গম এলাকায় পদায়ন করা হলেও তারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন।


তিনি বলেন, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, বন্যা, করোনা, ডেঙ্গু ও হামসহ প্রতিটি জাতীয় দুর্যোগে চিকিৎসকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। করোনা মহামারির সময়ও তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সে সময় ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল পরিচালনার মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা তা করতে দেয়নি।



গ্লোবাল জার্নালিস্ট ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, এটি ভারতের নীতিনির্ধারকদের সহায়তায় আয়োজন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের পলাতক আসামি। বিভিন্ন হত্যা ও দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে।


তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে চিঠিও দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই চিঠির কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন।


বিএনপির এই নেতা বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত চুক্তি থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি অপমান আচরণ।


প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক প্রত্যাশা করে। তবে একজন পলাতক আসামিকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া সেই পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের পরিপন্থী। শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এক ধরনের হস্তক্ষেপ।


রিজভী বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন ঘটে। অথচ সেই দিনেই দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের একটি অংশ।


তিনি বলেন, যে গণআন্দোলনে বহু শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন, সেই আন্দোলনের স্মরণীয় দিনে শহীদদের আত্মত্যাগকে অপমান করার জন্যই শেখ হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।


রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণ, গণতান্ত্রিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জ্বালানি সংকট, ডেঙ্গু ও হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। ডেঙ্গু পরীক্ষাকে সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে করা এবং শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি।


রিজভী বলেন, যখন দেশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের পথে এগোচ্ছে এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন শেখ হাসিনার মতো ‘পলাতক ফ্যাসিস্টকে’ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি অসম্মানজনক আচরণ।


তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে অতীতের মতো দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. খালেকুজ্জামান দীপুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সর্বশেষ সব খবর