সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে পিএসসির সদস্যরা
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত চার সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার পর সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। পিএসসির নবনিয়োগপ্রাপ্ত এই সদস্যরা হলেন, মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, ড. মো. ফেরদৌস হোসেন ও ইয়াসমিন গফুর।
শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে ৬ আগস্ট এই চারজনকে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দেয়। আজ তাদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হলো।
নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাদের বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা যোগদানের তারিখ থেকে পাঁচ বছর বা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া—যেটি আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
নতুন চার সদস্য নিয়োগের ফলে বর্তমানে পিএসসিতে একজন চেয়ারম্যানসহ মোট সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ছাড়া সদস্য রয়েছেন ২০ জন।
পিএসসি দেশের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আয়োজন, ফলাফল প্রকাশ এবং নিয়োগসংক্রান্ত সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব পালন করে থাকে।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিভিল জজ এ কে এম সামিউল হকের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সোমবার ভোরে ঢাকা থেকে জামালপুরে যাওয়ার সময় লাহিড়ীকান্দা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন এ কে এম সামিউল হক (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ২৭ বছর ৭ মাস।
এ কে এম সামিউল হক ১৭তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিচার বিভাগে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সিভিল জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বাঁ থেকে ইলিয়াস আলী ও সাইফুর রহমান সাইফ। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পরোয়ানা জারি করেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম বিষয়টি জানান।
এর আগে ইলিয়াস আলীকে গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছিল।
গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে।
এরপর ২৬ জুলাই রাতে তার বাসা থেকে তাকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট)। পরে তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়িচালক আনসার আলী নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
খলনায়ক আশরাফুল হক ডন।
চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে রোববার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
বিমানবন্দর থেকে যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন ডন
ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান।
রোববার বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে আশরাফুল হক ডনকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়। এ সময় তার পরনে ছিল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট। কাঠগড়ায় তোলার পর পুলিশ সদস্যরা তার জ্যাকেট ও হেলমেট খুলে দেন।
এরপর বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসেন। তিনি আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী আছেন কি না জানতে চান। এ সময় আদালতকে জানানো হয়, ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী নেই।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আদালতকে বলেন, তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সিআইডি গ্রেপ্তার করে। মামলাটি খুবই জনপ্রিয় নন্দিত নায়ক সালমান শাহ হত্যার। যিনি সবার কাছে এখনো জনপ্রিয়। মামলাটিতে ডন এজাহারনামীয় চার নম্বর আসামি। এ মামলায় আমাদের নিবেদন তাকে তদন্তের স্বার্থে কারাগারে পাঠানো হোক।
শুনানি শেষে আদালত ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল এবং ইমিগ্রেশনের স্টপ লিস্টেও তার নাম ছিল। রোববার ভোরে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়।
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর গত বছর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রাজসাক্ষী রিজভীর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ শাবনূর
‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান।
এর আগে এই আইনজীবী ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, যদি একটি ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন করা হয়, তবে আইনের সমতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে নারীরা ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর অপব্যবহার করতে পারবে না।
বিবাদীদের ওপর ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছিলে রিটে।
‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না; এবং ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ বা ‘যৌতুক আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের কেন ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না—এই মর্মে রুল জারির জন্য রিটে আর্জি জানানো হয়েছিল।
রুল শুনানি পেন্ডিং থাকা অবস্থায়, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছিল রিটে।
হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)
হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে ১১ কার্যদিবসে ৫০ হাজার ৩২৫টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে নতুন করে ৬ হাজার ৯৬টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে মোট নিষ্পত্তিকৃত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলার সংখ্যা ৫০ হাজার অতিক্রম করেছে।
সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৫৭ হাজার ২৩২টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সাদ্দাম, ইনান ও ওবায়দুল কাদের
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় দিনে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে একটি কল রেকর্ড দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই কল রেকর্ড দাখিল করা হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে সরাসরি ফোন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ডটি উপস্থাপন করা হয়।
কল রেকর্ডের কথোপকথনে সাদ্দামের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘এদের মারো না কেন।’
প্রত্যুত্তরে সাদ্দাম বলেন, ‘পুলিশ মুখোমুখি হতে নিষেধ করেছে।’ আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদকের এমন কথায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হন বলে দাবি প্রসিকিউশনের।
গত ৪ আগস্ট এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। যুক্তিতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ছিল পরিকল্পিত, সুসংগঠিত ও দেশব্যাপী ব্যাপক পরিসরে সংঘটিত একটি ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’। আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলে আখ্যায়িত করার পর ছাত্রলীগকে মাঠে নামার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এ ছাড়া জুলাই-আগস্টের এ অভ্যুত্থানে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ।
এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আসামিরা সবাই পলাতক।
গত ২ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন।
কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।