দীর্ঘ তিন দশক ধরে চলচ্চিত্রাঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু। সেই ঘটনার এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। সেসময় তিনি রাজসাক্ষী হয়ে নায়কের মৃত্যুতে কয়েকজনের সঙ্গে নিজেও দায়ী বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। এদিকে, সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে সালমান শাহ প্রসঙ্গে বারবার চিত্রনায়িকা শাবনূরের নাম উল্লেখ করেন রিজভী। এবার এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নায়িকা।
শাবনূর জানান, ১৯৯৭ সালে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রিজভী ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছিল।
শনিবার (৮ আগস্ট) সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে ‘রিজভীর গালগল্প ও অসত্য বয়ান’ শীর্ষক এক দীর্ঘ পোস্টে শাবনূর লেখেন, ‘‘সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে যে ব্যক্তি রাজসাক্ষী হয়েছিল, তার নাম রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। এই ব্যক্তি অন্য একটি মামলায়, সালমান শাহর ছোট ভাই শাহরান চৌধুরীকে (বিল্টু) অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছিল। ওই জবানবন্দিতে সে দাবি করে যে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আরও কয়েকজনের সঙ্গে সে জড়িত ছিল। তখন সে প্রায় ৯ মাস কারাগারে বন্দী ছিল। তার নিজের ভাষ্যমতে, কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার কিছুদিন পরই সে যুক্তরাজ্যে দেশান্তরিত হয়। পরবর্তীতে সেখানে অবস্থানকালে প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তায় সে আবারও সালমান শাহর হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। কিন্তু ২০১৯ সালে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর সময় টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে দাবি করে, সে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এবং সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিল। আশ্চর্যের বিষয়, সালমানের মৃত্যুর দীর্ঘ ২৯ বছর পর অল্প কিছুদিন আগে ‘আরজে নীরব’ ও ‘সময় টিভি’কে দেওয়া দুটি পৃথক সাক্ষাৎকারেও সে আবার একই দাবি করে যে, সালমান শাহর মৃত্যু হত্যা নয়, বরং আত্মহত্যা। শুধু তাই নয়, সে ওই আত্মহত্যার জন্য সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীকে দায়ী করে। পাশাপাশি, প্রথমবারের মতো আমার বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ তোলে এবং আমাকেও ওই ঘটনার জন্য বারবার দায়ী করে কথা বলে।”
তাহলে রিজভীর কোন বক্তব্য সঠিক—এই প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, “একই ব্যক্তি যখন সময়ে সময়ে একই ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়, তখন তার সর্বশেষ দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। গত জুলাইয়ে প্রকাশিত তার দেওয়া দুটি সাক্ষাৎকারে সে বিভিন্ন বিষয়ে আরও অনেক অসঙ্গগতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বক্তব্য দিয়েছে। তার বক্তব্যগুলো পর্যালোচনা করলে সবার কাছেই সেগুলো সাংঘর্ষিক, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হবে। অতি সম্প্রতি ‘আরজে নীরব’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ বলেছে, আমার প্রতি তার ভালোবাসার কথা সে কোনোদিন প্রকাশ করতে পারেনি। তবে মনে মনে নাকি আমাকে এতটাই ভালোবাসতো যে আমাকে বিয়ে পর্যন্ত করতে চেয়েছিল, এবং এখনও চায়! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রায় একই সময়ে ‘সময় টিভি’কে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে সে আবার দাবি করেছে, আমি নাকি তার এক্স-গার্লফ্রেন্ড ছিলাম। শুধু তাই নয়, সে আরও দাবি করেছে যে ২০১৬ সালে আমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে আমাদের ডিভোর্স হয়েছে! এখন প্রশ্ন হলো, সে-তো ১৯৯৯ সাল থেকেই প্রায় ২৬-২৭ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে এবং তার নিজের দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশেই আসেনি। অন্যদিকে, আমি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কখনোই যুক্তরাজ্যে যাইনি। তাহলে আমার সঙ্গে তার বিয়েটা কোথায় হলো? কীভাবে হলো? এর প্রমাণই-বা কী?”
যোগ করে শাবনূর বলেন, “আরও মজার বিষয় হলো, সে যে সময়ের কথা বলছে, তার অনেক আগ থেকেই আমি বিবাহিত ছিলাম। তার সঙ্গে সম্পর্ক তো দূরের কথা, তাকে আমি কখনও দেখেছি বলেও মনে পড়ে না, আমি তাকে চিনিই না। তার এসব কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার সঙ্গে তার বাস্তবে কোনো বিয়ে নয়, হয়তো শুধু ‘স্বপ্নের বাসর’ই হয়েছিল!”
শাবনূর জানান, রিজভীকে তিনি আগে থেকে চিনতেন না। সালমান শাহর মৃত্যুর পর রাজসাক্ষী হওয়ার পর এই ব্যক্তির নাম শোনেন। নায়িকার ভাষ্য, ‘রিজভী আহমেদ প্রবল বিদ্বেষের সঙ্গে দাবি করেছে যে আমি নাকি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেইল করতাম, এবং তার আত্মহত্যার জন্য আমাকে দায়ী করেছে। অথচ রিজভীর নাম আমি প্রথম শুনেছি সালমান শাহর মৃত্যুর পর, যখন সে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় রাজসাক্ষী হয়েছিল। তাহলে প্রশ্ন হলো, সে কীভাবে এবং কোন ভিত্তিতে দাবি করছে যে আমি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেইল করতাম? রিজভী দাবি করছে, আমি নাকি কূটনামী করতাম বা সালমান ও তার স্ত্রীর একের কথা অন্যের কানে লাগাতাম। এমন ভিত্তিহীন গুজব আরও কিছু অসৎ ব্যক্তি ছড়িয়েছে বলে শুনেছি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের আচরণ কখনোই আমার স্বভাবের মধ্যে ছিল না। আমার পরিবারও আমাকে এমন শিক্ষা দেয়নি। আর এসব করার সময়ও আমার ছিল না। চলচ্চিত্র অঙ্গনের কেউই কোনোদিন বলতে পারবেন না যে আমি কারও সঙ্গে এমন কূটনামী করেছি।’
স্পষ্ট ভাষায় শাবনূর লেখেন, ‘রিজভী আহমেদের সঙ্গে আমার কখনও কোনো যোগাযোগ ছিল না, এখনও নেই। সে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করেছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং অত্যন্ত মানহানিকর।’
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সালমান শাহর বিষয়ে ভিসা ও পাসপোর্ট ছাড়া যুক্তরাজ্যে যাওয়া, সেখানে বাড়ি কেনা কিংবা সালমান খান ও শাহরুখ খানদের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়াসহ বিভিন্ন দাবি করেছেন রিজভী। এবার এসব বিষয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শাবনূর।
তিনি লিখেছেন, ‘সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী (আন্টি) তাঁর ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে পুনরায় মামলা করার পর, ওই মামলায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মামলার মোড় ঘুরে যাওয়ার কারণে অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাই আমার ধারণা, তাদের প্ররোচনায় বা অন্যকোনো উদ্দেশ্যে, এমনকি আর্থিক প্রলোভনে পড়েও রিজভী আহমেদ আমার ও নীলা আন্টির বিরুদ্ধে এসব ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে থাকতে পারে। নিজেদের রক্ষা করা এবং প্রকৃত সত্যকে আড়াল করাই হয়তো তাদের উদ্দেশ্য। আমি বরাবরের মতোই স্পষ্ট করে বলতে চাই, সালমান শাহর মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র কোনো সংযোগ ছিল না। তিনি কীভাবে মারা গেছেন, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। সালমান শাহ শুধু একজন জনপ্রিয় নায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার অত্যন্ত প্রিয় সহশিল্পী এবং বড় ভাইয়ের মতো একজন মানুষ। তার অকাল মৃত্যু আজও আমাকে ব্যথিত করে।’
সবশেষে ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান শাবনূর। তিনি বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে চাই, একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হোক এবং এই ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে সালমান শাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। তবে ভক্তদের কাছে তাঁর মৃত্যু আজও এক রহস্য। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। তবে পরিবার ও ভক্তদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা নিয়ে এখনও আইনি লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
মোহাম্মদ আশরাফুল হক ডন। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকাই সিনেমার খল অভিনেতা মোহাম্মদ আশরাফুল হক ডনকে চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশনের স্টপ লিস্টেও তার নাম ছিল।
ওসি বলেন, আজ সৌদি আরব যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে সিআইডির কর্মকর্তারা এসে তাকে নিয়ে যান।
সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিমের বিশেষ পুলিশ সুপার গোলাম বেনজীর জানিয়েছেন, ডনকে ইতোমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সালমান শাহ হত্যা মামলার ১১ আসামির তালিকায় অভিনেতা ডনের নামও রয়েছে। গত বছর আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
তিনি বলেন, সে সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি দিয়ে এজাহারে নাম থাকা আসামিদের দেশত্যাগে বাধা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
গোলাম বেনজীর বলেন, আজ সকাল ৬টার দিকে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য ওই আসামি বিমানবন্দরে যান। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সালমান শাহ হত্যা মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী
কিংবদন্তি ভারতীয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ‘ডিসকো ড্যান্সার’খ্যাত এই অভিনেতা বর্তমানে ভারতের দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, শারীরিকভাবে অস্বস্তি অনুভব করায় দুই দিন আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তার ডান হাতে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগেও একই হাতে অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। তবে এবার ঠিক কী কারণে পুনরায় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা অভিনেতার পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
অস্ত্রোপচারের পর অভিনেতার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সালমান খান
বলিউড সুপারস্টার সালমান খান ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে দায়ের করা এক মামলায় আদালত তাকে তলব করেছেন। একই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তার বোন আলভিরা অগ্নিহোত্রীকেও।
বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চণ্ডীগড়ের ব্যবসায়ী অরুণ গুপ্তা অভিযোগ করেছেন, সালমান খানের দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর নাম ব্যবহার করে তাকে গয়নার শোরুম খুলতে উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু ব্যবসা শুরুর পর চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
অরুণ গুপ্তার দাবি, শোরুমে তার মোট ৩ কোটি রুপি বিনিয়োগ ছিল। ব্যবসা শুরুতেই প্রায় ১ কোটি রুপি ব্যয় হয়। তবে ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর জুয়েলারি বিক্রির লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান স্টাইল অ্যান্ড কনটেন্ট জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহায়তা না করায় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে শোরুমটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সালমান খানের পক্ষ। তাদের দাবি, অরুণ গুপ্তার সঙ্গে সালমানের কোনো প্রত্যক্ষ চুক্তি ছিল না। তিনি কেবল ব্র্যান্ডের লাইসেন্স ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন।
মামলাকারীর আরও দাবি, ‘বিগ বস’-এর সেটে সালমান খানের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল এবং শোরুম উদ্বোধনে যাওয়ার আশ্বাসও পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সালমান খান বা আলভিরা অগ্নিহোত্রী প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
আদালত আগামী ৫ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। একই সঙ্গে স্টাইল অ্যান্ড কনটেন্ট জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালকদের পাশাপাশি সালমান খান ও আলভিরা অগ্নিহোত্রীকেও তলব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আয়োজনের প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: বাসস
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে ৬২ বছর পর গান গাইলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। এ সময় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সুরের মূর্ছনায় দর্শকে মোহিত করে অগণিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করলেন কিন্নরকণ্ঠী। বানভাসি অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগীত পিপাসুদের হৃদয় জয় করে নিলেন তিনি।
‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাবো’ শিরোনামের এই একক সংগীতানুষ্ঠানে নিজের জনপ্রিয় ও কালজয়ী দশটি গান গেয়ে শোনান দেশবরেণ্য এই শিল্পী।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় সংগীত তারকা ৭৪ বছর বয়সি রুনা লায়লা সংগীত ভুবনের এক দীপশিখা। তিনি প্রমাণ করেছেন সংগীত কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ নয়, এটি হয়ে উঠেছে সৌন্দর্যবোধ, মানবিকতা ও দেশাত্মবোধের মেলবন্ধন।
পুরো অনুষ্ঠানে শুধু একটি কথাই প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল- কেমন করে সাবলীলভাবে এসব গান গাইলেন, কেউ কেউ বলেছেন- রুনা লায়লার তুলনা রুনা লায়লাই। ক্যারিয়ারে কণ্ঠ থেকে তিনি যে সুর ছড়িয়েছেন, সেই সুরে তারুণ্যের উন্মাদনাই ফুটে উঠেছে। শিল্পকলা একাডেমির প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছরের ইতিহাসে এটাই রুনা লায়লার প্রথম একক সংগীতানুষ্ঠান।
দেশাত্মবোধক গান দিয়ে শুরু করেন রুনা লায়লা ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাবো’ অনুষ্ঠান। একে একে নিজের জনপ্রিয় দশটি গান পরিবেশন করেন।
বন্যার্ত মানুষের সাহায্যার্থে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এগিয়ে আসেন কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী রুনা লায়লা।
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিনের সভাপতিত্বে এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, সচিব কানিজ ফাতেমা।
মিলনায়তনের ভেতর ও বাইরে কানায় কানায় পূর্ণ আসরে তার প্রতিটি গানের পরিবেশনা শেষে নাট্যজন আফজাল হোসেনের উপস্থাপনায় দর্শক শ্রোতাদের মুহুর্মুহু করতালি ও করতালির মাধ্যমে গানের আবেদন শিল্পীকে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়েছে।
সালমান খান
বলিউড সুপারস্টার সালমান খান এবার প্রকাশ্যে জানালেন জেলে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতা। রিয়েলিটি শো অ্যালায়েন্স-এ ভাই সোহেল খানকে সমর্থন জানাতে গিয়ে কারাগারের কঠিন পরিবেশের কথা তুলে ধরেন তিনি।
সম্প্রতি প্রকাশিত শো-টির একটি প্রোমোতে সালমান বলেন, 'অনেক বছর আগে যখন আমি জেলে ছিলাম, তখন আমাদের সামনে লোহার গ্রিল ছিল। খুব ছোট একটি জায়গায় ৬০-৭০ জন মানুষ থাকত। সবার জন্য ছিল মাত্র একটি ভারতীয় স্টাইলের বাথরুম। সেখানে কখনও টিকটিকি থাকত, আবার অনেক সময় পানি ও ময়লায় ভরে থাকত।'
এর আগে পডকাস্টেও বলেছিলেন জেলের অভিজ্ঞতা জানিয়েছিলেন সালমান। চলতি বছরের শুরুতে ভাগ্নে আরহান খানের পডকাস্ট ডাম্ব বিরিয়ানিতে জেলে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছিলেন সালমান।
সেখানে তিনি বলেন, 'অনেকে বলে থাকেন আমি ক্লান্ত। এটা নিয়ে মানুষ হতাশায় ডুবে যায় কিন্তু আমি বলি, উঠে দাঁড়াও। যতই ক্লান্ত হও না কেন, কাজ করো। অনেকে বলে ঘুম হয় না। আমি বলি, ঘুমিও না, কাজ করো। দেখবে নিজে থেকেই ঘুম চলে আসবে। এসব অজুহাত আমি বুঝি না।'
সালমান খানের ভাষায়, 'আমি সাধারণত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা ঘুমাই। মাসে একদিন হয়তো সাত ঘণ্টা ঘুম হয়। শুটিংয়ের ফাঁকে পাঁচ মিনিট সময় পেলেও চেয়ারেই ঘুমিয়ে নিই। আর এমন জায়গায়, যেখানে কিছুই করার ছিল না-যেমন জেলে-সেখানেই ঘুমিয়েছি। কারণ সেখানে করার মতো আর কিছুই ছিল না।'
তিনি আরও বলেন, ‘কাজ কিংবা পরিবারের ক্ষেত্রে সব সময় চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। পরিবার, বন্ধু এবং নিজের কাজের পাশে থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার (ব্ল্যাকবাক) শিকার মামলায় সালমান খানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০০৬ সালে এই মামলায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জামিন পান।
পরে ২০১৮ সালে একই মামলার একটি রায়ে আবারও তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সে সময় কয়েক দিন কারাগারে থাকার পর তিনি পুনরায় জামিনে মুক্তি পান।
সূত্র: এনডিটিভি
ইলিয়াস কাঞ্চন
যুক্তরাজ্যে ১৫ মাসের বেশি সময়ের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।
আজ সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। খবরটি নিশ্চিত করেছেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘রোববার বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে মেয়ে ও জামাতাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই। আজ বিকেল পাঁচটায় তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা।’
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিলে থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানকার হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে চলে তার চিকিৎসা।
গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরাতে পারেনি। পরে চিকিৎসক জানান, তার ব্রেন ক্যানসারের কথা।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় মধ্যে প্রায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নিয়েছেন। তিন ধাপে সব মিলিয়ে মোট শ খানেক কেমোথেরাপি নিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
লিটন এরশাদ বলেন, ‘দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশে বাইরে থাকতে থাকতে ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই অস্থির হয়ে ওঠেছেন। দেশে ফেরার জন্য তার মন টানছিল। পরিবারকেও বলছিলেন, তৃতীয় ধাপের থেরাপি যেহেতু শেষ হয়েছে, কয়েক মাসের জন্য দেশে ফিরতে চান। কাঞ্চন ভাইয়ের ইচ্ছাতে তাকে দেশে আনা হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। অবস্থার উন্নতিও খুব একটা নেই। তৃতীয় ধাপের থেরাপি গত ৩০ জুলাই শেষ হয়েছে। এরপর আবার তার নতুন চিকিৎসা শুরু হবে। তার আগে দেশে কিছুদিন কাটাতে চাইছেন।’
কতদিন দেশে থাকবেন-এ প্রশ্নে লিটন বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই সম্ববত ৭ থেকে ১০ দিন দেশে অবস্থান করবেন। এরপর আবার যুক্তরাজ্যে যাবেন।’