প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে সরকার। সে লক্ষ্যে শহর ও গ্রামে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (০৬ এপ্রিল) ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে ৭ এপ্রিল, ২০২৬ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উদযাপিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’।
তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ- এই তিনটি উপাদান পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এদের নিরাপত্তা এবং সুস্থতা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। এজন্য সব প্রাণের সুরক্ষা আজ সময়ের দাবি। এটাই ‘One Health’ বা ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণা, যা মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার চারপাশের প্রাণিকূল ও পরিবেশের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সমান তাগিদ দেয়।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানকে সমন্বিত করে গবেষণা ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতি স্বাস্থ্যসেবায় অভূতপূর্ব সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আমাদের দেশে প্রান্তিক অঞ্চল ও দরিদ্র বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই, মানসম্পন্ন ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।
দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা প্রদানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কিংবা মেশিন লার্নিং (এমএল)-এর মতো প্রযুক্তির উদ্ভাবন, ব্যবহার ও প্রসারকে উৎসাহিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিশ্বাস করে 'Prevention is Better than Cure', অর্থাৎ ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’। নির্বাচিত এই সরকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির ভিত্তিতে উন্নত কল্যাণকামী রাষ্ট্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার আলোকে সকলের জন্য সহজ ও সুলভ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কারণ, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
তারেক রহমান বলেন, মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে সরকার। সেই লক্ষ্যে শহর ও গ্রামে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী বা হেলথ কেয়ারার নিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ হবেন নারী।
এছাড়া প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড, দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা চালু করা, স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান উন্নয়ন ও চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, স্বাস্থ্যবিমা চালু ও ধীরে ধীরে বিস্তার, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার এবং সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতার জন্য ন্যায়সঙ্গত আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে পালন করলে আমরা একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে সক্ষম হব। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতীকী ছবি
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্তের পাশাপাশি মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হচ্ছে নতুন নাম। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১২৩ জন। চলতি বছরে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯ জনে। হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে এ পর্যন্ত মোট ৮৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মঙ্গলবার প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, চলতি বছরে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৯ জন। এ পর্যন্ত মোট ৮৪৯ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৭৫৩ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৬ জনের।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ সময়ে ঢাকায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৩২৭ জন এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৬০ জনের। একই সময়ে এ বিভাগে মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৮ হাজার ৪৭৯ জন।
মৃত্যুর সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগ। সেখানে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১১৩ জন এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। এছাড়া রাজশাহীতে ৯৩ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ জন, চট্টগ্রামে ৭১ জন, বরিশালে ৬৩ জন, খুলনায় ৩২ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি-২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগে গড়ে টিকাদানের কভারেজ ১০৬ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হওয়া ঢাকা ও সিলেট বিভাগে টিকাদানের কভারেজ যথাক্রমে ১০১ শতাংশ হলেও সেখানে মৃত্যুর হারও সবচেয়ে বেশি। এতে টিকাদানের প্রকৃত কভারেজ ও লক্ষ্য জনগোষ্ঠী নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, "জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্য নির্ধারণেই বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। আগের তালিকা সামান্য পরিবর্তন করে নতুন তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ফলে কমিউনিটি পর্যায়ে অনেক শিশু তালিকার বাইরে থেকে গেছে। তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও তাদের মধ্যেই বেশি দেখা যাচ্ছে।"
তিনি বলেন, কেবল টিকাদানের শতকরা হার দেখিয়ে সন্তুষ্ট থাকলে হবে না। টিকাবঞ্চিত শিশুদের খুঁজে বের করে দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি রোগ শনাক্ত, চিকিৎসা ও নজরদারি জোরদার না করলে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমানো কঠিন হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দেশের পানি ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে দেশের পানি ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই সমাধান নিশ্চিতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ আশ্বাস দেন তিনি।
সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন ফুটস্টেপস বাংলাদেশের নেতৃত্বে পরিবেশ, পানি ও প্রকৌশল খাতের বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। সভায় তারা দেশের পানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় দেশের খাল পুনরুদ্ধার, নদী ও বাঁধের স্থিতিশীলতা, নগর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য পানি পরিশোধন এবং বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি দ্রুত নগরায়নের প্রেক্ষাপটে সমন্বিত ও কার্যকর নগর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষজ্ঞদের মতামত শুনে দেশের পানি ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি দেশের টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস দেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ফুটস্টেপস বাংলাদেশের ট্রাস্টি ও হেড অব পার্টনারশিপস ফাসবীর এস্কান্দার, সভাপতি শাহ রাফায়াত চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ তাকী ইয়াসির, বিশ্বব্যাংকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রেড অরেঞ্জের পরিচালক অলোক কুমার মজুমদার, উপপরিচালক সামিউল ইসলাম, ইয়ুথ ফর এনডিসির নির্বাহী পরিচালক আমানুল্লাহ পরাগ, গারবেজম্যানের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিদ উদ্দিন শুভ এবং নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনাবিদ এস এম মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। ভ্রমণের সময় চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতিসহ সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যয় বহনের মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সোমবার দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
বার্তায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় এমন আর্থিক প্রস্তুতি থাকতে হবে, যাতে ভ্রমণে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বা চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলেও নিজের খরচ নিজেই বহন করা যায়।
এতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার অপব্যবহার করলে তার স্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, পড়াশোনা বা কাজের জন্য অযোগ্য হিসেবে বিবেচনার কারণ হতে পারে।
সূত্র: ইউএস এম্বাসি ঢাকা
সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান
আগস্টের শেষে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও হয়রানির কারণে শ্রমিকদের যে ভোগান্তি হয়েছে, তা দূর করেই সরকার কর্মী পাঠাতে চায়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পরমাণু আইসোটোপ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ চলছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ভারী খনিজ ও অন্যান্য মূল্যবান খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা চিহ্নিত করে তা অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, পরিবেশদূষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহে ৮১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪ লাখ ৯২ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদ উদ্ধারের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশ, র্যাব ও কোস্টগার্ড নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সম্প্রতি এক নাগরিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কোস্টগার্ডের বক্তব্যও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট বাহিনী দাবি করেছে যে ওই ব্যক্তিকে তারা কখনো আটক বা হেফাজতে নেয়নি এবং অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে বাহিনীর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
তবে এ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, কোনো ধরনের গুম বা জোরপূর্বক নিখোঁজের সঙ্গে সরকার জড়িত হতে পারে না। কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হলে তাকে খুঁজে বের করা সরকারের দায়িত্ব এবং প্রতিটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে। এ ধরনের অভিযোগকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান
আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো গণমাধ্যম আগাম ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচারের খবর প্রকাশ করে, তাহলে তা আদালতের রায়ের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আগেও এ বিষয়ে সরকার গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল। যদি কেউ আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং সেটি প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তবে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।
তিনি বলেন, আমরা আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেব, কেউ যেন এ ধরনের কাজ না করেন। আদালতের নির্দেশনা মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
তিনি ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে বলেন, আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ঠিক হতো না। কেউ যদি আদালতের ওই আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে তিনি আদালতেই গিয়ে সেই রায় চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ সেটি সবাইকে মেনে চলতে হবে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বৃহস্পতির জামিন পাওয়ার তথ্য সরকার দুই-তিন দিন পর জানল কেন? একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, আমি বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেব এবং তার সঙ্গে কথা বলব। কেন এ ধরনের গ্যাপ হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।
প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনো আগের সরকারের প্রভাব রয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সবাইকে একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে প্রশাসনসহ নানা প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষ এখনো রয়েছেন। চাইলেই এত মানুষকে একসঙ্গে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ১৫ বছরে বিভিন্ন স্তরে যারা উঠে এসেছেন, তাদের পরিবর্তে নতুনদের আনতে সময় লাগে।
তিনি আরও বলেন, শুধু বদলি করলেই হবে না, নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষতা অর্জনেরও বিষয় রয়েছে। সরকার ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করছে, তবে এমনভাবে নয় যেন রাষ্ট্রের সেবাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, চেষ্টা শুধু নয়, কাজও চলছে। তবে এমনভাবে পরিবর্তন করা হচ্ছে না, যেন ভঙ্গুর সিস্টেম আরও ধ্বংস হয়ে যায়। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট চলমান মামলাগুলো আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সব মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করে বিচার করা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এর চেয়েও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও, তাতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও চলছে।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের বিবেচ্য বিষয় নয়। ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব হলো আদালতের রায় কার্যকর করার জন্য তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।
বিচারপ্রক্রিয়ায় বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে- এমন অভিযোগও নাকচ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনা করেন এবং প্রসিকিউশন সেই তদন্তে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে না। কোনো তদন্তে ঘাটতি বা অসঙ্গতি দেখা গেলে সেটি পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, কারও এমন ধারণা থাকতে পারে যে ইচ্ছামতো আসামি করা হচ্ছে। তবে সেই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেগুলোর তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন করা হচ্ছে।