দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জনপদ বাগেরহাটে অবস্থিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ঐতিহাসিক নয় গম্বুজ মসজিদ আজ অবহেলা আর অযত্নে ধীরে ধীরে ক্ষয়ের মুখে পড়ছে। কোথাও শ্যাওলা জমেছে, কোথাও দেয়ালের অংশ খসে পড়ছে, আবার কোথাও লবণাক্ততার প্রভাবে ইট ও গাঁথুনির ক্ষয় দেখা দিয়েছে। চারপাশে আগাছা ও পরগাছার বিস্তারও উদ্বেগজনক। দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শতাব্দীপ্রাচীন এই স্থাপনাটি একসময় ধ্বংসাবশেষে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাগেরহাট সদর উপজেলার খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ঠাকুর দিঘি বা খাঞ্জেলী দিঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত নয় গম্বুজ মসজিদ। ১৫শ শতকে সুলতানি আমলে নির্মিত এ মসজিদ ইউনেস্কো ঘোষিত ‘ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাট’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে নয় গম্বুজ মসজিদ অত্যন্ত অনন্য। মসজিদের অভ্যন্তরে দুই সারি পাথরের স্তম্ভের মাধ্যমে পুরো কাঠামোকে নয়টি বর্গাকার খণ্ডে বিভক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিটি খণ্ডের ওপর নির্মিত হয়েছে একটি করে গম্বুজ। চারটি পাথরের স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা নয়টি গম্বুজ, টেরাকোটার অলংকরণ, পোড়ামাটির কারুকাজ এবং তিনটি মেহরাব মসজিদটির নান্দনিক সৌন্দর্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
মসজিদের সামনে একটি প্রধান প্রবেশদ্বার এবং দুই পাশে দুটি পার্শ্বদ্বার রয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে যে, মসজিদের একটি স্তম্ভে হজরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর আঙুলের ছাপ সংরক্ষিত আছে। এ কারণেও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটি বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
নয় গম্বুজ মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ওমর ফারুক বলেন, “নয় গম্বুজ মসজিদটি হজরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর ইবাদতখানা হিসেবে পরিচিত। এখানে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত অনেক নিদর্শন রয়েছে। কিন্তু মসজিদের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, কোথাও লবণাক্ততা ধরেছে, আবার ছাদ থেকেও পানি পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় মানুষ মসজিদটি রক্ষায় আগ্রহী। অনেকেই নিজ উদ্যোগে সংস্কার করতে চান। কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হওয়ায় অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দা আশিকুর রহমান বলেন, “হজরত খান জাহান আলী (রহ.) বাগেরহাটে এসে ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি অসংখ্য মসজিদ ও স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন। নয় গম্বুজ মসজিদ তারই একটি অনন্য নিদর্শন। কিন্তু বর্তমানে এটি অবহেলার শিকার। ষাট গম্বুজ মসজিদে কিছু সংস্কার কাজ হলেও নয় গম্বুজ মসজিদে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। দ্রুত সংরক্ষণ না করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে পাবে না।”
বাগেরহাট রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির বলেন, “মসজিদের বিভিন্ন স্থানে লবণাক্ততার প্রভাব স্পষ্ট। দেয়ালে শ্যাওলা জমেছে, কোথাও কোথাও গাঁথুনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরগাছা জন্মেছে। এভাবে অবহেলায় পড়ে থাকলে একসময় স্থাপনাটির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। এটি শুধু বাগেরহাটের নয়, পুরো দেশের ঐতিহ্য। তাই জরুরি ভিত্তিতে সংরক্ষণ ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন।”
ঐতিহ্য সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত পরিবেশ, প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে নয় গম্বুজ মসজিদের ক্ষতি দ্রুত বাড়ছে। বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই স্থাপনাকে সংরক্ষণ করতে হলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের জরুরি ও কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
ছবির ক্যাপশন: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক নয় গম্বুজ মসজিদের দেয়ালে শ্যাওলা, লবণাক্ততা ও কাঠামোগত ক্ষয়ের চিহ্ন। দ্রুত সংস্কার না হলে ঝুঁকিতে পড়তে পারে বিশ্ব ঐতিহ্যের এই স্থাপনাটি। ছবি: প্রতিবেদক।’ছবি সংযুক্ত আছে।
কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি এখন তাদের কাছ থেকে যুদ্ধের দীক্ষা শিখতে হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে বড় দুঃখের।
মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মারক উৎসবের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশ গড়ার প্রশ্নে বলতে চাই আরেকটু ধৈর্য ধরতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের যুগের মানুষ নয়, তিনি তোমাদেরই যুগের। তোমাদের ব্যাথা তিনি বুঝেন। তিনি নিজেই নির্যাতিত, নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাঁর মা নির্যাতিত ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আমরা ততোটাই বিশ্বাস করি যতোটা বিশ্বাস করি কালিমা তাইয়্যেবাকে। তোমরা ধৈর্য ধারন করো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রাখো। তারেক রহমানের হাতে এদেশ পথ হারাবে না।
তিনি বলেন, দলে যোগ দিতে হবে না, দেশের প্রশ্নে, স্বাধীনতার প্রশ্নে তোমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে থেকো।
তিনি আরও বলেন, দেশ যেখানে, মানুষ যেখানে মুক্তি যেখানে আমি সেখানে। তোমরা মেধাবী, সুবক্তা, আমরা অতোটা মেধাবী ও সুবক্তা না। তোমরা নেতৃত্বে থাকলে এদেশ সঠিক নেতৃত্বে থাকবে।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, দেশ বাঁচানোর পাশাপাশি আসো সবাই কুমিল্লাকে বাঁচাই। কুমিল্লা পচে গেছে। আমি যাত্রা শরু করেছি। কিছুটা সফলতার পথে আছি। তার কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সব্যসাচী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। সবার আগে বাংলাদেশ, আমার কাছে সবার কাছে সবার আগে বাংলাদেশের পাশাপাশি সবার আগে কুমিল্লা।
'জুলাই ৩৫শ কুমিল্লার" আয়োজনে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান।
বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে তিনি বলেন, যারা শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিতে জীবন দিয়েছে, চোখ হারিয়েছে, যারা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাদের আজ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।
গনতান্ত্রিক কোন দেশে এমন কোন নজির নাই যেখানে ১ মাসে কোন শাসক হাজারো মানুষকে হত্যা করেছে, হাজার হাজার মানুষকে পঙ্গুত্ব বরণ করিয়েছিলো। খুনী হাসিনা তাই করেছে। এক বর্বর বাংলাদেশ থেকে আপনাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ নতুন বাংলাদেশ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান সবার আগে বাংলাদেশ। আমি বলি সবার আগে বাংলাদেশের পাশাপাশি, সবার আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সবার আগে মুক্তিযুদ্ধ, সবার আগে জুলাই শহীদদের স্মরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে কুমিল্লার শিক্ষার্থীদের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থীরা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে। ১১ জুলাই সর্বপ্রথম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর নির্মমভাবে হামলা করেছে। কুমিল্লা যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে লড়াই করে। আমাদের নানা মত, নানা আদর্শ থাকতে পারে। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রশ্ন, আওয়ামিলীগের প্রশ্নে আমরা এক ও অভিন্ন।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক সাকিব হোসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাহিদ চৌধুরী, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আখতার হোসাইন, কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্য সচিব নাসির উদ্দীন, শহীদ হামিদুর রহমান সাদমানের মা কাজী শারমিন, শহীদ মাসুমের পিতা শাহীন মিয়া। ছাত্রশক্তি কুমিল্লা মহানগের আহ্বায়ক মোস্তাফা জিহান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়র আহ্বায়ক নাঈম ভুঁইয়া, সমন্বয়ক ত্বোহা আলম প্রমুখ।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তির চেক বিতরণ করেন গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবাষয়ক একে এম ফজলুল হক মিলন এমপি।
গাজীপুর জেলা পরিষদ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়ুয়া জেলার মেধাবী ও অস্বচ্ছল ৩৫ শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করেছে।
মঙ্গলবার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওই বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবাষয়ক একে এম ফজলুল হক মিলন এমপি।
বক্তব্য রাখেন বিএনপর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে কলেজ পর্যায়ের ১২ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে এবং বিশ^বিদ্যালয় পর্যায়ে ২৩ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ১২ হাজার টাকার করে চেক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখতে জেলা পরিষদের এ উদ্যোগ সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তারা।
এসোসিয়েশন অব ডেভলপমেন্ট এজেনসিস ইন বাংলাদেশ (এডাব) ঝালকাঠি জেলা শাখার উদ্যোগে জিও এনজিও'র মধ্যে পারস্পারিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪আগষ্ট) সকাল সাড়ে দশটায় ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ কাওছার হোসেন।
এডাব ঝালকাঠি জেলাকমিটির সভাপতি মোঃ শাহআলম খলিফার সভাপতিত্ব বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ আক্কাস সিকদার, দৈনিক দূরযাত্রা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি জিয়াউল হাসান পলাশ, এডাবের বরিশাল বিভাগীয় সমন্বায়ক কেএম জাহাঙ্গীর আলম, জেলা এডাব সম্পাদক ও সাইডোর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হোসাইন আহম্মদ কামাল ও সহসভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান মৃধা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিক নলছিটি উপজেলা কমিটির সম্পাদক ও দুমকস'র উপদেষ্টা প্রভাষক মোঃ আমির হোসেন।
বক্তারা দেশ গঠনে জিয়ো এনজিও'র পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করনসহ নানা বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় এডাবের সদস্যবর্গসহ জেল-উপজেলায় কর্মরত শীর্ষ স্থানিয় ৩০টি এনজিওর প্রতিনিধিগন অংশ নেন।
সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদ বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একই পরিবারের তিন সদস্যের গলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিজ বসতঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম চান্দেরখোলা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
নিহতরা হলেন আহাত হাওলাদার (২২), তার মা মনিরা বেগম (৫৫) এবং নানি রাশিদা বেগম (৮৫)। আহাত স্থানীয় বাসিন্দা আব্দার হাওলাদারের ছেলে। মনিরা বেগম মৃত রশিদ শেখের মেয়ে এবং রাশিদা বেগম মৃত রশিদ শেখের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে বাড়িটি অস্বাভাবিকভাবে নিস্তব্ধ ছিল। পরিবারের সদস্যদের কাউকে বাইরে দেখা যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা খোঁজ নিতে গিয়ে ঘরের ভেতরে তিনজনের গলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
প্রতিবেশী বুলু বেগম বলেন, “বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো পশু মারা গেছে। পরে সন্দেহ হলে খোঁজ নিয়ে ঘরের ভেতরে মরদেহ দেখতে পাই। তখনই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।”
খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করা হয়। এ সময় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায় এলাকায়।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিহতদের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহগুলো গলিত অবস্থায় থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটেছে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন আর রশিদ বলেন, “একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলোর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের মতে, একই পরিবারের তিন সদস্যের একসঙ্গে মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা নয়। ফলে ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, কারা জড়িত এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে—তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য অপরাধীদের শনাক্তে কাজ চলছে।
একই পরিবারের তিনজনের রহস্যজনক মৃত্যুর এ ঘটনা বাগেরহাট জেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করছে পুলিশ। তবে মাথায় আঘাতের চিহ্ন এবং মরদেহ উদ্ধারের পরিস্থিতি ঘটনাটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।ছবি সংযুক্ত আছে।
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৯ হাজার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে র্যাব-৭। তাদের পেট থেকে বিশেষ কায়দায় ইয়াবাগুলো বের করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২ এর বাসিন্দা মো. শাহ আলম (৪৯) ও মো. রফিউল্লাহ (৩৫)।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) র্যাব-৭ চট্টগ্রামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার তৈলারের দ্বীপ সরকারহাট এলাকায় চট্টগ্রামমুখী সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে দুই যাত্রীকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পেটের ভেতরে ইয়াবা বহন করার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে এক্স-রের মাধ্যমে পেটে ইয়াবার অস্তিত্ব নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা।
পরবর্তীতে কয়েক ধাপে মলত্যাগের মাধ্যমে তাদের পেট থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো মোট ৯০টি পোটলা উদ্ধার করা হয়। এসব পোটলায় থাকা মোট ৯ হাজার ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৭ লাখ টাকা।
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, আটক দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে ঢাকার গুলিস্থান পর্যন্ত কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিঃ (কেটিএল) বাস সার্ভিসের শুভ উদ্বোধন করেছেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন।
সোমবার (৩ আগষ্ট) দুপুরে উপজেলার দেওপাড়া ফেরীঘাটের কে টি এল কাউন্টার সংলগ্ন কেটিএল সার্ভিসের চেয়ারম্যন সাদ্দাম মোড়লের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম ফজলুল হক মিলন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম।
উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান জুয়েল এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির, সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফুর রহমান প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপজেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদি মোরসালিন, উপজেলা সমাজ সেবা আফরোজা বেগম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফী হাবিবুল্লাহ্, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান লাভলু, ফরিদ আহমেদ মৃধা, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, পৌর বিএনপির আহবায়ক সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধান, সদস্য সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিআরটিসি বাস কর্তৃপক্ষ জানান, দেওপাড়া ফেরীঘাট হতে ৩০টি বাস প্রতিদিন গুলিস্থান পর্যন্ত চলাচল করবে। কে টি এল বাস সার্ভিসের ভাড়া ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এলাকাবাসীরা জানান, অনেক দিন পর কালীগঞ্জ বাসীর জন্য আরো একটি ভালো কাজ হলো এবং বর্তমান সাংসদ আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর ঢাকার সাথে কালীগঞ্জের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা চালু হয়েছে। পূর্বে কালীগঞ্জ থেকে ঢাকার গুলিস্থান পর্যন্ত কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের বাস চলাচল করলেও বিভিন্ন প্রতিকুলতা আর সংকটের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর আজ দুপুরে কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিমিটে পূর্বের ঐতিহ্য নিয়ে বাস চলাচল শুরু করেন।