ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৪০ এএম

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতদ্বয় বলেছেন, ফুটবল শান্তি, ঐক্য ও জাতির মধ্যে বন্ধুত্ব জোরদারের শক্তিশালী মাধ্যম। রাজধানীতে শুক্রবার বাংলাদেশের প্রথম ‘ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ (এএফসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারা এ কথা বলেন।


যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের কৃত্রিম টার্ফে দুই দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন।


বাংলাদেশ এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম (এটিজেএফবি) ‘ওয়ান স্কাই, ওয়ান ফিল্ড, ওয়ান চ্যাম্পিয়ন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে টুর্নামেন্টটির আয়োজন করেছে। এতে দেশি-বিদেশি ১৬টি এয়ারলাইন্স অংশ নিয়েছে।


টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে শনিবার।


বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস বলেন, ব্রাজিলের মানুষের কাছে ফুটবল শুধু একটি খেলা বা প্রতিযোগিতা নয়; এটি আনন্দ, শান্তি ও সম্প্রীতির প্রতীক।


তিনি বলেন, জয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে খেলার প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।


বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বলেন, ফুটবল বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষকে একত্রিত করার শক্তিশালী মাধ্যম। এটি বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সহায়তা করে।


তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে ফুটবলের বিকাশ অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ ফুটবলারদের স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রাণিত করবে।


যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশে ফুটবল অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশের লাখো সমর্থক আবেগ নিয়ে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার খেলা অনুসরণ করেন।


টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী এয়ারলাইন্সগুলো হলো—বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, সৌদিয়া, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যারাবিয়া, ইন্ডিগো, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স, এয়ার ইন্ডিয়া, থাই এয়ারওয়েজ, এয়ারএশিয়া, সিল্ক ওয়ে ওয়েস্ট এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইদুবাই।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৪ পিএম

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত যাত্রা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার মধ্যে সামনে এসেছে নতুন তথ্য। তাকে দেশত্যাগে সহায়তাকারী সামরিক কর্মকর্তা, ব্যবহৃত হেলিকপ্টার ও বিমান, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং পুরো রেসকিউ মিশনের বিভিন্ন দিক নিয়ে একাধিক সূত্রের বরাতে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। যদিও এসব বিষয়ে এখনো সরকার বা সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।


সাবেক ও বর্তমান সামরিক সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে হাসিনার ভারত যাত্রা সম্পর্কে বিচ্ছিন্নভাবে বেশকিছু তথ্য পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারোরই আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া স্পর্শকাতর বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেলেও যুগান্তরের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে সেগুলো যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।


৫ আগস্ট সকাল ১০টা। শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে লাখো মানুষ প্রবেশ করে রাজধানীতে। একপর্যায়ে পুলিশের গুলি উপেক্ষা করে গণভবনের দিকে অগ্রসর হয় জনস্রোত। দুপুরের আগেই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে হাসিনাকে মাত্র ৩০ মিনিট সময় বেঁধে দিয়ে দ্রুত গণভবন ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপরই বাণিজ্যমেলার কাছাকাছি এসে নামে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার (এমআই-১৭)। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর হাসিনা ও তার বোন রেহানাকে নিয়ে হেলিকপ্টারটি পূর্বনির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে উড়াল দেয়।


সূত্র জানায়, গণভবন থেকে হাসিনা ও তার বোনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হেলিকপ্টারের পাইলট এবং কো-পাইলট ছিলেন যথাক্রমে এয়ার কমোডর আব্বাস ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। বিকাল তিনটা নাগাদ হেলিকপ্টারটি কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে অবতরণ করে। এ সময় তেজগাঁও বিমানবন্দরে কর্তব্যরত উইং কমান্ডার কানিজ ফাতেমা সংক্ষিপ্ত বেতার বার্তায় রেসকিউ মিশনের অধীনে সামরিক হেলিকপ্টার উড্ডয়নের বিষয়টি ঢাকা ট্রাফিক কন্ট্রোলে জানান।


সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হাসিনার দেশত্যাগের পরপরই এয়ার কমোডর আব্বাসকে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তানে পাঠানো হয়। সেখানে নির্ধারিত সময় শেষ হলে যথারীতি তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। পরে তাকে নিয়মিত পোস্টিং দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে এয়ার হেডকোয়ার্টার ইউনিটের অধিনায়ক হিসাবে কর্মরত। এছাড়া কো-পাইলটের দায়িত্ব পালনকারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির বর্তমানে বাশার এয়ার বেইজের ওসি (অ্যাডমিন) হিসাবে নিযুক্ত। 


সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসিনার দেশত্যাগের বিষয়টি ছিল কঠোর গোপনীয়তায় ঘেরা। বিশেষ করে তাকে গণভবন থেকে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন অতি বিশ্বস্ত সেনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়। মিশন বাস্তবায়নে বিমানবাহিনীর স্পেশাল ফ্লাইং ইউনিটের ডাক পড়ে। এছাড়া হাসিনা ও তার বোনকে রিসিভ করতে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজের তৎকালীন কমান্ডার নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।


নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে আগে থেকেই ইঞ্জিন চালু অবস্থায় একটি সামরিক পরিবহণ বিমান (সি-১৩০ জুলিয়েট) অপেক্ষমাণ ছিল। এ সময় বিমানের ভেতরে অবস্থান করছিলেন হাসিনার তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, তার স্ত্রী শাহিন সিদ্দিকী, তাদের দুকন্যা এবং জামাতা।


অবতরণের পর হেলিকপ্টার থেকে নেমে শেখ হাসিনা উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলেন। তিনি আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় তাকে গণভবনমুখী জনস্রোত এবং অভ্যুত্থান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়া হয়। ফলে দেশের মাটিতে দাঁড়িয়েই শেখ হাসিনা তার দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি স্বৈরশাসন অবসানের খবর পেয়ে যান।


তবে অন্য একটি সামরিক সূত্র বলছে, হাসিনার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়ে দিলেও অজ্ঞাত কারণে তারিক সিদ্দিকী নিজে ওই বিমানে ওঠেননি। পরদিন গোপনে তিনি চট্টগ্রাম চলে যান। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে নৌপথে দেশত্যাগ করেন। পরে ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে তারিক সিদ্দিকীকে দেশত্যাগে সহায়তার অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েলকে গ্রেফতার করা হয়।


সূত্র জানায়, ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে বিমানবাহিনীর পরিবহণ বিমানটির ককপিটে আগে থেকেই পাইলট এবং কো-পাইলট নিজ নিজ আসনে বসা ছিলেন। পাইলটের আসনে ছিলেন এয়ার কমোডর শামীম রেজা এবং কো-পাইলটের আসনে ছিলেন উইং কমান্ডার মাহফুজ। বিমানটি ৫ আগস্ট বিকাল ৬টা ১৫ মিনিটে দিল্লির উপকণ্ঠে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।


তবে নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসাবে উড্ডয়নের সময় বিমানের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়। প্রচলিত রুট ব্যবহার না করে কিছুটা ঘুরে বিমানটি দিল্লির পথে যাত্রা করে। ফলে বাংলাদেশের সীমান্ত অতিক্রমের আগ পর্যন্ত বিমানটি রাডারে শনাক্ত হয়নি। ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশের পর পাইলট কলকাতা বিমানবন্দরের এটিসি (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ভারতে অবতরণের পর দেশটির নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান।


সূত্র জানায়, শেখ হাসিনাকে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পর ক্রু এবং নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে বিমানটি পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসে। পরে পাইলট এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। তবে কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজ বর্তমানে বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা পরিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন।


একটি সামরিক সূত্র যুগান্তরকে জানায়, গণভবন থেকে হাসিনার রেসকিউ মিশন প্রধানত দুটি অংশে পরিচালিত হয়। প্রথম ভাগে হেলিকপ্টারে উড়িয়ে নিরাপদে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে স্থানান্তর। এরপর সেখান থেকে তাকে সামরিক বিমানে করে ভারতে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত রেসকিউ মিশনের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বিমানবাহিনীর তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মান্নাফি। তিনি ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের তৎকালীন সহসভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফির ছেলে।


৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আবু আহমেদ মান্নাফি নিজেও সেনানিবাসে আশ্রয় নেন। এ সময় তার সঙ্গে ছোট ছেলে সিটি করপোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর গৌরবসহ পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। পরে তাদের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত সরকারি কোয়ার্টার চন্দ্রিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার একটি ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে তারা আত্মগোপনে ছিলেন।


ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ও রেসকিউ মিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এবং সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর (অব.) এম সরোয়ার হোসেন মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আইন অনুযায়ী পদত্যাগের পরও সাবেক রাষ্ট্র এবং সরকারপ্রধান একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এসএসএফ’র নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। ফলে পদত্যাগ করে ভারতে চলে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত এসএসএফ সদস্য এবং সামরিক কর্মকর্তারা মূলত তাদের ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। এক্ষেত্রে তারা কোনো ধরনের বে-আইনি কিছু করেননি। তবে সংবিধানের আর্টিকেল ২১ অনুযায়ী সে সময় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে যে কেউ গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে পারতেন। বরং সেটাই গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিটের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতো।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৩২ পিএম

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রতিষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধনের পর জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি জাদুঘরে সংরক্ষিত একটি লাল টেলিফোনে রেকর্ডকৃত শেখ হাসিনার কলের অডিও শোনেন। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন।


পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক দলিল, স্মারক এবং ঘটনাপ্রবাহভিত্তিক বিভিন্ন প্রদর্শনী পর্যবেক্ষণ করেন। জাদুঘরের এক পর্যায়ে তিনি প্রদর্শনীতে রাখা একটি লাল টেলিফোনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সংরক্ষিত কল রেকর্ডও শোনেন।


জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়, আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, আত্মত্যাগ এবং গণঅভ্যুত্থানের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। এসব প্রদর্শনী ঘুরে দেখে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার লক্ষ্যেই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। উদ্বোধনের দিনটি বিশেষ অতিথি ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

 

সর্বশেষ সব খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:০০ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে শুধু অতীতের স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রেরণার কেন্দ্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।


তিনি বলেন, আমরা পথ হারিয়ে ফেললে এখানে এসে পথ খুঁজে নেবো। আমাদের চিন্তায় যদি কোনো গাফিলতি আসে, এখান থেকেই তার ঠিকানা খুঁজে আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করবো। বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


অধ্যাপক ইউনূস বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জাদুঘর থাকলেও এ জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে বহু বছরের পুরোনো ইতিহাস নয় বরং গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সেসবের স্মারক, দলিল, নিদর্শন ও মানুষের অনুভূতি সংগ্রহ করা হয়েছে।


তিনি বলেন, ঘটনা ঘটেছে আর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেই ঘটনার প্রতিটি নমুনা ও ইতিহাস সংগ্রহ করে জাদুঘরে নিয়ে এসেছি। এটাই আমাদের ইতিহাস সংরক্ষণের এক নতুন অধ্যায়।


জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকেই কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই নিজের অনুভূতি লিখে গেছেন। পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে কেন রাজপথে নেমেছেন সেটিও তারা চিঠিতে তুলে ধরেছেন। এসব দলিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।


তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণ যেন সেই চিঠির লেখকের মতো হয়। তারা যেন বলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে এসেছি।


সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের প্রতিটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও সাধারণ নাগরিকের অন্তত একবার এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। শুধু দেখে চলে যাওয়া নয়, তারা যেন এখানে বসে চিন্তা করে নিজেদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা লিখে রেখে যায়।


তিনি বলেন, এই জাদুঘর ভবিষ্যতে সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত, চিত্রকলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেরও একটি প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।


জাদুঘরে নির্মিত প্রতীকী কবরগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিটি কবরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহীদের পরিচয় ও আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকবে যেন মানুষ জানতে পারে কীভাবে এবং কেন তারা জীবন দিয়েছিলেন।


ড. ইউনূস বলেন, তারা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক কর্মী ছিল। তারা ছিল সাধারণ পরিবারের সাধারণ ছেলে-মেয়ে। তারা রাজপথে নেমেছিল কারণ তারা বিশ্বাস করতো এই বাংলাদেশ আর আগের মতো চলতে পারে না; আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।


জাদুঘর নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে এই নোবলজয়ী অধ্যাপক বলেন, প্রতিটি নিদর্শন সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময়, শ্রম ও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সেই কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ দেশের মানুষের সামনে ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ দলিল তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।


বক্তব্যের শেষে তিনি জাদুঘর নির্মাণ ও উদ্বোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি আশা করি দেশের প্রতিটি মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্তত একবার এখানে আসবেন। শুধু দেখার জন্য নয়, ভাবার জন্য কেন এটি ঘটেছিল, কীভাবে ঘটেছিল এবং এখান থেকে আমরা ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবো।’

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০১ পিএম

চব্বিশের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে উদ্বোধন হল তার বাসভবনের গড়ে তোলা ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার সকাল ৯টায় ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এই জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। সাবেক অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও এসময় উপস্থিত ছিলেন।


উদ্বোধনের পর মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর জাদঘুর ঘুরে দেখেন।


সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমানও এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ ঘুরে দেখেন।


বুধবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও সবার জন্য এ জাদুঘর উন্মুক্ত হবে বৃহস্পতিবার। জনসাধারণ টিকেট কেটে জাদুঘর দেখতে পারবেন। জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনে টিকেট কাটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রবেশমূল বড়দের ৫০ টাকা এবং ছোটদের জন্য ২৫ টাকা।


২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। সেই খবর পেয়ে তখনকার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনের দখল নেয় জনতা। আনন্দ উৎসবের আমেজে সরকারপ্রধানের বাসভবনে ভাঙচুর, লুটপাট চলে।


পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের উদ্যোগ শুরু হয়। উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এ প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়।


এই জাদুঘরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনের চূড়ান্ত পর্বের পাশাপাশি তার আগের দীর্ঘ ‘দুঃশাসনের’ নমুনাও তুলে ধরা হয়েছে বলে সরকারের ভাষ্য।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৩০ এএম

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধনের পর এর বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে ঘুরে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি প্রদর্শিত বিভিন্ন আলোকচিত্র, দলিল, স্মারক ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা প্রদর্শনীগুলো ঘুরে দেখেন।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই স্মৃতি জাদুঘর। উদ্বোধনের দিনটি বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৫ এএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকাল ৯টার দিকে তিনি জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের জন্য জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপদেষ্টা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বীর শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। আগামী ৬ আগস্ট থেকে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।


জাদুঘরে প্রবেশের জন্য টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের আগেই অনলাইনে টিকিট বুকিং করতে হবে।


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত এ জাদুঘরে আন্দোলন–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলোকচিত্র, দলিল, নিদর্শন ও স্মারক প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর