টঙ্গী হাজী মাজার বস্তিতে অভিযান; হেরোইন ও দেশীয় অস্ত্র সহ নগদ টাকা উদ্ধার

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৫ পিএম

গাজীপুরে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ হেরোইন, দেশীয় অস্ত্র, নগদ টাকা, বিদেশি মুদ্রা, মাদক প্যাকেজিংয়ের সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। এ সময় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।


বুধবার (৫ আগস্ট) রাত আনুমানিক ২টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


পুলিশ জানায়, অভিযানে আনুমানিক ২১৯ গ্রাম হেরোইন, ২ হাজার ১০০ পুরিয়া হেরোইন (প্রায় ১.৬ কেজি), নগদ ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬০ টাকা, ২৮০ ওমানি রিয়াল, ১৫টি রামদা, দুটি সামুরাই, একটি স্টিলের চাপাতি, একটি প্লাস্টিকের খেলনা পিস্তল, ১০টি স্টিলের পাইপ, একটি টাকা গণনার মেশিন, একটি প্যাকেজিং মেশিন, তিনটি ডিভিআর, স্বর্ণ সদৃশ তিনটি চেইন, সাতটি আংটি ও দুটি ব্রেসলেট এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযান শেষে দুইজন মাদকাসক্তকে আটক করা হয়েছে।


গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার-এর দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন অভিযানে নেতৃত্ব দেন। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাছা/টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার, টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিবি পুলিশ, এপিবিএন এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা।


গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, মহানগর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৩ পিএম

লালপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে লালপুর উপজেলা  প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


বুধবার ( ৫ আগস্ট)  উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) মোঃ আবীর হোসেন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাক্তার আব্দুল্লাহ , উপজেলা কৃষি অফিসার প্রীতম কুমার হোড়, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী মৃধা,  নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর উপ-পরিচালক রেজাউল করিম,উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সাদ আহমেদ , বৈষম্য ছাত্র আন্দোলন প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ প্রমুখ। 


এ সময় রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৩৭ পিএম

বাংলাদেশের কক্সবাজার ও ভাসানচরে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ১০ দশমিক ৩ শতাংশ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনে প্রায় ১ জন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি অপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা দেখা গেছে জ্বর, ডায়রিয়া ও কাশির মতো তীব্র রোগের চিকিৎসায়। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং ট্রমাজনিত চিকিৎসাসেবাতেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।


সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী পিএলওএস গ্লোবাল পাবলিক হেলথ-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।


গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নুরুজ্জামান খাঁন, বিভাগের শিক্ষার্থী মো. বাদশা আলম ও মো. সোহেল রানা এবং অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কারেন ব্লক।


গবেষণায় ২০২৩ সালের ভাসানচর চাহিদা মূল্যায়ন এবং ২০২৪ সালের যৌথ বহুখাতভিত্তিক চাহিদা মূল্যায়ন-এর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে কক্সবাজার ও ভাসানচরের ১১ হাজার ৪২১ জন রোহিঙ্গার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১০ হাজার ৩৫৭ জন কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির এবং ১ হাজার ৬৪ জন ভাসানচরের বাসিন্দা।


গবেষণায় দেখা যায়, মোট অংশগ্রহণকারীদের ১০ দশমিক ৩ শতাংশ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাননি। কক্সবাজারে এ হার ১০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ভাসানচরে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। দুই অঞ্চলের সামগ্রিক চিত্রে বড় পার্থক্য না থাকলেও কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরের মধ্যে বৈষম্য স্পষ্ট।


উখিয়ার তুলনায় টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার ঝুঁকি ২৫ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চনার হার ছিল টেকনাফের নয়া পাড়া শরণার্থী শিবিরে, ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ছিল উখিয়ার ক্যাম্প-১৮-এ, ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।


অপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ৮০ শতাংশ মানুষ তীব্র রোগের চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় ওষুধ পাননি। এছাড়া ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা পরামর্শ, ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা, ৪ দশমিক ৮ শতাংশ ট্রমাজনিত চিকিৎসাসেবা এবং ১ দশমিক ৪ শতাংশ পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ভাসানচরে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও ট্রমাজনিত চিকিৎসাসেবার অপূর্ণ চাহিদা কক্সবাজারের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি পাওয়া গেছে।


গবেষণায় আরও দেখা যায়, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের তুলনায় ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার ঝুঁকি ৫৪ শতাংশ বেশি। মাঝারি ও গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য।


গবেষকদের মতে, ভাসানচরে স্থানান্তরের কারণে সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা না গেলেও কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য উদ্বেগজনক। বিশেষ করে টেকনাফের শরণার্থী শিবিরগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনা জোরদার, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ও ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবার পরিসর বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন গবেষকেরা।


গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিত করতে সরকার, জাতিসংঘ এবং মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী বৃদ্ধি এবং অধিক চাহিদাসম্পন্ন শরণার্থী শিবিরগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ জরুরি। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২২ পিএম

বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ঠাকুরগাঁওয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন ও র‍্যালি করা হয়েছে।


(৫ আগষ্ট)বুধবার সকালে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থাপিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। 


প্রথমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জুলাই যোদ্ধা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


এসময় জুলাই যোদ্ধারা একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। 


জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা।


এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনও পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণ করছে। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪০ পিএম

লালপুরের ঈশ্বরদীতে অ্যাম্বুলেন্স, ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান ও স্যালো ইঞ্জিনচালিত কুত্তা গাড়ির ত্রিমুখী সংঘর্ষে মো. ইয়ারুল (৩০) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।


বুধবার ( ৫ আগষ্ট ) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঈশ্বরদী-বানেশ্বর আঞ্চলিক মহাসড়কের ঈশ্বরদী ইউনিয়নের নবীনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়ারুল লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের উধনপাড়া গ্রামের নাজিম উদ্দীনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানে করে ইয়ারুলসহ কয়েকজন শ্রমিক পাশের ঈশ্বরদী উপজেলার জয় নগর এলাকায় ধান রোপণের কাজে যাচ্ছিলেন। পথে নবীনগর এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি দ্রুতগতির অ্যাম্বুলেন্স অটোভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়।

ধাক্কার ফলে অটোভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কুত্তা গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ইয়ারুলের মৃত্যু হয়।


দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত বাবু (৪০) ও সাজদার (৫০)-কে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।


লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩৬ পিএম

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নগরায়ন গড়তে, টাঙ্গাইলে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্ন অভিযান শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) দিনব্যাপী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান পরিচালনা করা হয়।


এ সময় টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ডের আশেকপুরে ছাত্র ছাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে টাঙ্গাইল স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তানভীর হাসান খান রুবেল এর নিজ উদ্যোগে এ পরিষ্কার পরিছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়।


আশেকপুর জোবায়দা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের রাস্তাটি  জঙ্গলে ভরা ছিলো। প্রতিনিয়ত পথচারী ও বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রীরা ওই রাস্তায় যাতায়াত করতে সাপ পোকার ভয়ে আতঙ্কিত থাকতো।


ধীরে ধীরে রাস্তাটি জনসাধারণের চলার অনুপযোগী হয়ে উঠেছিল। রাস্তাটির দুই ধারে জঙ্গল পরিষ্কার করে দেয়ায় এখন মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রশংসিত হচ্ছে টাঙ্গাইল স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক তানভীর হাসান খান রুবেল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ১৫নং ওয়ার্ডে নানা অভিযোগে ভরা। এ বিষয় নিয়ে বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কোন ফল পাচ্ছে না জনসাধারণ।


আপনারা জানেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটি উক্তি ব্যবহার করেন করবো কাজ গরবো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এই দেশকে জঞ্জাল মুক্ত করতে পরিকল্পিত নগরায়ন গড়তে কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতে হবে। তাই নিজ উদ্যোগেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে আমাদের এই কাজ অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস–সংকট চলছে। গ্যাসের সীমিত সরবরাহের সঙ্গে সমন্বয় করতে জেলার প্রায় ২০ শতাংশ কারখানায় সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে টানা চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বুধবার শুরু হওয়া এই ছুটিতে শত শত পোশাকশ্রমিক গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। 


এতে শ্রমিকদের একাংশ অতিরিক্ত ছুটি পেলেও শিল্পমালিকেরা বলছেন, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস–সংকট এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। এত দিন উৎপাদন সচল রাখতে বিভিন্ন কৌশল নিয়েছিলেন শিল্পকারখানার মালিকেরা। কোথাও কিছু উৎপাদন লাইন বন্ধ রাখা, কোথাও মেশিনের সংখ্যা কমিয়ে চালানো, আবার কোথাও রাতের শিফটে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল।


এবার যোগ হলো সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে টানা ছুটি ঘোষণা। শিল্পমালিক, শিল্প পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।


বাড়ির পথে শত শত পোশাককর্মী


চার দিনের ছুটি ঘোষণার পর গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়, কোনাবাড়ী, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগাড়াসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, মহাসড়ক ও পরিবহন কাউন্টারে শ্রমিকদের ভিড় বাড়তে দেখা গেছে।


অনেকেই এ সুযোগে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোয় যাত্রীর চাপ বেড়েছে।


আজ সকাল নয়টায় চন্দ্রা এলাকায় কথা হয় গোমতী টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক কফিল উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, কাজ না থাকলে কারখানায় বসে থাকার চেয়ে কয়েক দিনের জন্য বাড়ি যেতে পারাটা ভালো। তবে দ্রুত গ্যাস–সংকটের সমাধান হোক এবং কারখানাগুলো আবার পুরোপুরি চালু হোক।


গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে যোগ করে জেলার অনেক কারখানায় চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। আমাদের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ২০ শতাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটি পেয়ে শ্রমিকরা তাঁদের পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন।’


কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক জাফর আলী বলেন, জেলার অনেক কারখানায় সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে চার দিনের ছুটি দিয়েছে। এই ছুটি পেয়ে শ্রমিকেরা গ্রামের পথে ছুটে যাচ্ছেন। যার কারণে গত রাত থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানবাহনের বেশ চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আজ সকালেও চন্দ্রা এলাকায় শত শত মানুষ ও যানবাহনের ভিড়ে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে।


শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে যেসব শিল্পকারখানা চার দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে, এসব কারখানার বেশির ভাগই তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং খাতের। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক কারখানাই উৎপাদন সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


গাজীপুর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্পাঞ্চলগুলোর একটি। এখানে কয়েক হাজার তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্পিনিং, ডাইং, ওয়াশিং, সিরামিক, ওষুধ, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা রয়েছে।


তরুণ শিল্পউদ্যোক্তা মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী। তিনি গাজীপুরের ভোগড়া চৌরাস্তায় এলাকার স্টাইলিশ গার্মেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অব্যাহত গ্যাস–সংকটের কারণে দিন দিন অর্ডার কমে যাচ্ছে। ক্রেতারা দেখছেন, এই সমস্যাগুলো অব্যাহত থাকলে এ শিল্প ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। গ্যাসের সমস্যার কারণে সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে কর্মীদের চার দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। আশা করি, সরকার এই সময়ে গ্যাসের সমস্যা সমাধান করবে।’


গ্যাসের ঘাটতি ৪৫%


গাজীপুর তিতাস কর্তৃপক্ষ জানায়, গাজীপুরে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতির কারণেই শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় প্রয়োজনীয় চাপ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে সকাল ও দিনের বেলায় উৎপাদন সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হচ্ছে।


গাজীপুরে তিতাস গ্যাসের সিস্টেম অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার ব্যবস্থাপক মো. সাইফুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলো। গ্যাস–সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় কাজ চলমান রয়েছে।


কোনাবাড়ী এলাকার পিএন কম্পোজিট কারখানার ব্যবস্থাপক তাপস পাল বলেন, গ্যাস–সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের রপ্তানি খাত বড় ধরনের চাপে পড়বে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ভবিষ্যতে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর