সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৭ পিএম

সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপ না খেলার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তথা আসিফ নজরুলের সেই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে বিসিবি।


গত মার্চে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় মঙ্গলবার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. এ. কে. এম ওলি উল্যার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।


তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারের সিদ্ধান্ত এবং আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তের কথা বলা হলেও, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরাসরি কারও নাম মুখে আনতে চাইছিলেন না। 


সংবাদমাধ্যমের বারংবার সরাসরি প্রশ্নে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল এক পর্যায়ে বলেন, "তদন্তে যা উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সবকিছু মিলিয়ে যা বলা যায়, যে মানুষটি দায়ী (বিশ্বকাপে না যাওয়ার জন্য), তিনি হলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপেদষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময়ের সরকার ও তিনি দায়ী।"


ফয়সাল জানান, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বিসিবিতে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয় তাদের সিদ্ধান্ত। বিসিবি সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত করেননি। 


তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশের অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল।"


২২ পৃষ্ঠার যে তদন্ত প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়, সেখানে ১২ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি এবং তাদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। সেখানে ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিকেট আঙিনা থেকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান, বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হক, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি, বিসিবির কোচ ও ওই সময়ে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং ওই সময়ের বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীনের।


যুব ও ক্রীড়া সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলমের সঙ্গেও কথা বলে কমিটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে এই কমিটি সাক্ষাৎকার নেয় বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এস এম সুমন এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজোয়ান উজ জামান ও সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমেদের।


তবে বিতর্কের কেন্দ্রে যে দুজন, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সেই সময়ের বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তাদের সঙ্গে বারবার নানা মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি বলে জানায় তদন্ত কমিটি।


যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলমের বক্তব্য এই তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, "যুব ও ক্রীড়া সচিবকে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ডাকার পর আসিফ নজরুল নিজেই তার সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে ক্রীড়া সচিব পরামর্শ দিয়েছিলেন, বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত, যেহেতু বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তবে সাবেক বিসিবি সভাপতি বুলবুল প্রবল চাপে ছিলেন, যেহেতু তিনি আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছিলেন না। বিসিবির সহ-সভাপতি ও সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মতামত দেন, বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত।"


ওই সময়ের বোর্ড পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন তদন্ত কমিটির কাছে বলেন, "ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। তবে সরকার যদি এরকম সিদ্ধান্ত নেয়, ক্রিকেট বোর্ড সেই সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য।"


আসিফ নজরুলের সাড়া না পেয়ে ওই সময়টায় সংবাদমাধ্যমে তার বিভিন্ন বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমের লেখা, এসবকে তদন্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয় তদন্ত কমিটি।


বিশেষজ্ঞদের বরাতে কিছু পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি, যেখানে আছে ক্রিকেটে রাজনীতির প্রবেশ, আইসিসি বনাম বিসিবির 'পাওয়ার ইমব্যালান্স' এবং বিসিবির অব্যবস্থাপনা।


বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই সিদ্ধান্তের প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমস্যা ফুটে ওঠার কথাও বলা হয়।


চূড়ান্ত মূল্যায়নে বিশ্বকাপে না খেলার কারণ সম্পর্কে বলা হয়, "রাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধ, আইসিসির গভর্ন্যান্স সংঘাত, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থ আলোচনা।"


এই অধ্যায়েই 'সম্ভাব্য মূল কারণ' হিসেবে বিভিন্ন কারণগুলোর র‌্যাঙ্কিং করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, ভেন্যু বদলে আইসিসির অপারগতা ও বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ, এসবকে র‌্যাঙ্কিং করা হয়েছে 'অতি উচ্চ' হিসেবে। বিসিবির কূটনৈতিক দক্ষতার ব্যর্থতাকে বলা হয়েছে 'উচ্চ' কারণ আর যোগাযোগ ভেঙে পড়াকে বলা হয়েছে 'মাঝারি' কারণ।


পরিসমাপ্তিতে বলা হয়েছে, "সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ছিল, ক্রিকেটাররা এবং সমর্থকেরাই সবচেয়ে বেশি ভুগেছেন।" তামিম ইকবালের বরাতে সেখানে উল্লেখ করা হয়, "সমাধান বের করার জায়গা ছিল।" 


ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ ও বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী জনগনকে ভাবনায় রেখে এই ধরনের সিদ্ধান্ত কখনও একজন না নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া উচিত বলে সেখানে বলা হয়।


সবশেষে কিছু সুপারিশও করে তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে আছে ক্রিকেটকে রাজনীতির বাইরে রাখা, বিসিবির স্বাধীনতাকে আরও শক্তিশালী করা, সংকটকালীন যোগাযোগের দক্ষতাকে উন্নত করা, ক্রিকেটারদের কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়া, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে সুরক্ষিত করা এবং বিসিবি, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি জাতীয় ক্রীড়া কূটনৈতিক ফ্রেমওয়ার্ক গড়া।


এই বছরের শুরুর দিকে দেশের ক্রিকেট তথা গোটা দেশে তোলপাড় ছিল বিশ্বকাপে না খেলার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে। আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পরই আসিফ নজরুল ফেইসবুকে পোস্টে বলেন, বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দলের ভারতে যাওয়া তিনি নিরাপদ মনে করছেন না। বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেন ওই পোস্টে। এরপর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আইপিএলের সকল খেলা ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ রাখতে নির্দেশ আসে তথ্য মন্ত্রণালায়ের তরফ থেকে।


পরে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ । আইসিসির কাছে চিঠি পাঠিয়ে বিসিবি অনুরোধ জানায়, বাংলাদেশের ম্যাচগুলি যেন শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়। 


এরপর দফায় দফায় বৈঠক হয় দুই পক্ষের। কিন্তু টুর্নামেন্টের এত কাছে এসে ভেন্যু বদলানো সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয় আইসিসি। বাংলাদেশও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০৬ পিএম

হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল সৌদি আরবে এশিয়ান কাপ আয়োজন নিয়ে। শেষ পর্যন্ত সেই শঙ্কাই সত্যি হলো। নিরাপত্তা ও ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতার আশঙ্কায় ২০২৭ সালের এশিয়ান কাপ স্থগিত করেছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। নতুন সূচি অনুযায়ী, টুর্নামেন্টটি শুরু হবে ২০২৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর, চলবে ২০২৮ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত।


আগের সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল এশিয়ার জাতীয় দলগুলোর সবচেয়ে বড় এই ফুটবল প্রতিযোগিতা। তবে নতুন তারিখ চূড়ান্ত করতে ফিফার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এএফসি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সূচি অনুমোদনের জন্য ফিফার কাছে পাঠানো হবে।প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে সৌদি আরব। ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপও দেশটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এশিয়ান কাপের জন্য নির্ধারিত আটটি স্টেডিয়ামের পাঁচটিই রিয়াদে। ফাইনালসহ মোট ৫১ ম্যাচের মধ্যে ৩০টি আয়োজনের কথা ছিল এই শহরে।


তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ একাধিক স্থানে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। এসব হামলায় হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এসেছে।


মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এএফসি জানায়, অঞ্চলের ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির কারণে লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা ও ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। অংশগ্রহণকারী দল, কর্মকর্তা, দর্শক এবং সংশ্লিষ্ট সবার স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে টুর্নামেন্টের সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে এএফসি আরও জানায়, বর্তমান পরিস্থিতি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে বিশেষ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তাই সব পক্ষের নিরাপত্তা ও স্বার্থ বিবেচনায় টুর্নামেন্ট পেছানো জরুরি হয়ে পড়েছে।


এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত বাড়লেও এশিয়ান কাপ আয়োজন নিয়ে আশাবাদী ছিলেন এএফসি সভাপতি শেখ সালমান। গত মাসেও তিনি জানিয়েছিলেন, টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়েই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তবে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সেই অবস্থান থেকে সরে এল এএফসি।

সর্বশেষ সব খবর

গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১৭ পিএম

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। অস্ট্রেলিয়ার ৩৮ বছর এই বয়সী ক্রিকেটার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট এবং লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ থেকেও বিদায় নিচ্ছেন। তবে ২০২৭-২৮ মৌসুম পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করায় মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে তাঁকে বিগ ব্যাশে (বিবিএল) খেলতে দেখা যাবে। ম্যাক্সওয়েল গত বছর জুনে ওয়ানডে ক্রিকেট ছাড়লেও খেলেন এ বছর টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে। অস্ট্রেলিয়া এই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি। পাল্লেকেল্লেতে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে ম্যাচটিই হয়ে রইল অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ।


আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে ‘ফাইনাল ওয়ার্ড' পডকাস্টকে ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এবং পরে আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। আর বিষয়টি বেশ খোলামেলা ছিল। ওই দিক থেকে (অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট) কোনো চাপ ছিল না। সামনে কয়েকটি সিরিজ ছিল, যেখানে তারা ভবিষ্যতের কথা ভেবে দল সাজাতে চেয়েছে। আমরা বাংলাদেশে সেটাই দেখেছি, যেখানে তরুণরা সুযোগ পেয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করেছে।’


‘বিগ শো’খ্যাত ম্যাক্সওয়েল তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে। ২০১৫ ও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের মাঝে ২০২১ সালে জেতেন টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। বিদায়বেলায় একটি আক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। 


নিজের হোম ভেন্যুতে দেশের হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামতে না পারার আক্ষেপ জানিয়ে ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) একটা বিদায়ী ম্যাচ খেলার ছোট্ট আশা বা আলোচনা ছিল। তবে এই দলটা যে পথ ধরে এগোচ্ছে, তা আমি বুঝতে পারছি।’


ম্যাক্সওয়েল এরপর বলেন, ‘সামনে অলিম্পিক (২০২৮ সালে) আছে, সে কারণে আমি মনে করি আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে অনেক পরিবর্তন আসবে। তাই নতুন কিছু তরুণ খেলোয়াড়কে দলে ভিড়িয়ে তাদের ওপর নজর রাখা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের চাপের সঙ্গে তাদের মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া দলের জন্য জরুরি, যা সব সময় বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) ম্যাচ থেকে পাওয়া যায় না।’


ম্যাক্সওয়েল ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিত। গত সেপ্টেম্বরে ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে বেলফাস্ট উলভসকে ফাইনালে নেতৃত্ব দেন। এর পাঁচ দিন পর ওয়ানডে কাপে ভিক্টোরিয়ার হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেন। 


এ নিয়ে ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘ভিক্টোরিয়ার হয়ে শেষ ওয়ানডে ম্যাচের পর সতীর্থদের জানানো যে সেটাই ওই দলটির হয়ে আমার শেষ ম্যাচ—বিষয়টি আমার ভাবনার চেয়েও  কঠিন ছিল...হ্যাঁ, সবার সামনে কথা বলতে গিয়ে আমার গলা কিছুটা ধরে এসেছিল। তবে হ্যাঁ, ক্যারিয়ারে বাকি কয়েকটি টুর্নামেন্ট ঠিকঠাক শেষ করতে এখন শরীরকে ফিট রাখতে একটু বেশি যত্ন দেওয়া দরকার।’


চলতি মাসেই সাদা বলের সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় যাবে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। টি–টুয়েন্টি সিরিজে মেলবোর্নে একটি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচ খেলে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা ছিল ম্যাক্সওয়েলের। 


কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ না হওয়ার বিষয়ে ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘সুযোগটা ছিল, তবে আমি বিগ ব্যাশের জন্য তৈরি হতে হাঁটুতে ইনজেকশন নিতেও প্রস্তুত ছিলাম। তাই দুই দিকেই ইতিবাচক ব্যাপার ছিল। আর দরজাটা (মেলবোর্নে খেলার) বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ারও সুযোগ পেয়েছি।’


ম্যাক্সওয়েল এরপর বলেন, ‘হিরো বা আইডলদের ক্ষেত্রে যেমন রূপকথার মতো শেষ হতে দেখা যায়, হয়তো মনের অজান্তে আমার মাথায়ও তেমন একটা ভাবনা এসেছিল। ১৫ বছর ধরে এই সংস্করণকে যেহেতু নিজের মনে হয়েছে, তাই অন্য কোনো সংস্করণে নয়, শুধু এটার জন্যই হয়তো আমি এমন একটা বিদায়ের কথা ভেবেছিলাম।’


ম্যাক্সওয়েল অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৩০ টি-টুয়েন্টি ম্যাচে ১৫৪.৪২ স্ট্রাইক রেটে ২৮৯৭ রান করেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এ সংস্করণে ম্যাক্সওয়েল তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। স্পিন বোলিংয়েও আছে ৫১টি উইকেট। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর পাঁচটি সেঞ্চুরি রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্ব রেকর্ড। ৭টি টেস্ট ম্যাচে ৩৩৯ রান করার পথে একটি সেঞ্চুরিও আছে। ১৪৯ ওয়ানডেতে ৩৩.৮১ গড়ে ৪ সেঞ্চুরিসহ ৩৯৯০ রান করেন ম্যাক্সওয়েল।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ পিএম

পুনর্গঠিত আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের (এপিএল) আসরকে সামনে রেখে প্রকাশ করা হয়েছে খেলোয়াড়দের ড্রাফট তালিকা। এতে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানসহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নাম রয়েছে। ক্রিকেট ওয়েবসাইট  ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই ড্রাফট।


আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) বরাত দিয়ে ক্রিকইনফো জানিয়েছে, প্রায় ১,৫০০ দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারের নিবন্ধন থেকে চূড়ান্ত ড্রাফটের জন্য ৪৬২ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। আগামী ২৭ ডিসেম্বর থেকে মাঠে গড়াবে পাঁচ দলের এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। তবে চূড়ান্ত ভেন্যু না জানানো হলেও আসরটি আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।


ড্রাফটে সাকিবসহ আছেন যেসব বাংলাদেশি 


এপিএলের ড্রাফটে ডায়মন্ড ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে প্ল্যাটিনাম ক্যাটাগরিতে জায়গা করে নিয়েছেন পাঁচ বাংলাদেশি—মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেন।


আছেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। এছাড়াও আফিফ হোসেন, সাইফ হাসান, শামীম হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, মাহমুদুল্লাহ, হাসান মাহমুদ, জাকের আলী অনিক, শেখ মেহেদী হাসান, তাইজুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন গোল্ড ক্যাটাগরিতে নাম নিবন্ধন করেছেন।


ভারতীয় ও পাকিস্তানি তারকাদের ভিড়


আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ক্রিকেট থেকে সব সংস্করণে অবসর নেওয়া ভারতীয় অলরাউন্ডার বিজয় শংকর নাম লিখিয়েছেন এই ড্রাফটে। তার সঙ্গে নিবন্ধিত অন্য দুই ভারতীয় ক্রিকেটার হলেন আয়ান খান ও মুরুগান অশ্বিন।


পাকিস্তান থেকে সর্বোচ্চ ২৯ জন ক্রিকেটার নাম জমা দিয়েছেন। তালিকায় সাইম আইয়ুব, আরাফাত মিনহাস, হাসান নওয়াজ, ফখর জামান, ইমাম-উল-হক, মোহাম্মদ রিজওয়ান, নাসিম শাহ ও ফাহিম আশরাফদের মতো তারকারা রয়েছেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী সাবেক পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমিরও এই ড্রাফটের তালিকায় আছেন। তবে তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে ড্রাফটে নাম দিয়েছেন। 


এছাড়া ভানিন্দু হাসারাঙ্গা, রিজা হেনড্রিকস, রোমারিও শেফার্ড, রভম্যান পাওয়েল, ইমরান তাহির ও আকিল হোসেনের মতো আন্তর্জাতিক তারকারাও ড্রাফটের ড্রয়ে থাকছেন।


দলগুলোর অধিনায়ক, কোচ ও মেন্টর


এসিবি ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের পাঁচ দলের অধিনায়ক, হেড কোচ ও মেন্টরদের নাম ঘোষণা করেছে। ক্রিকইনফো জানিয়েছে, একটি 'লিডার্স ড্রাফটে'র মাধ্যমে দলগুলোর অধিনায়ক ও কোচ চূড়ান্ত করেন মেন্টররা।


> কান্দাহার ওয়ারিয়র্স: রশিদ খান (অধিনায়ক), রবি বোপারা (হেড কোচ), ইরফান পাঠান (মেন্টর)।


> আকসেল ইউনাইটেড কাবুল: আজমতউল্লাহ ওমরজাই (অধিনায়ক), শেন ম্যাকডারমট (হেড কোচ), নিখিল চোপড়া (মেন্টর)।


> নঙ্গরহার দল: রহমানউল্লাহ গুরবাজ (অধিনায়ক), টবি র‍্যাডফোর্ড (হেড কোচ), মার্ক বাউচার (মেন্টর)।


> পাকতিয়া দল: রহমত শাহ (অধিনায়ক), আজহার মাহমুদ (হেড কোচ), ওয়াকার ইউনিস (মেন্টর)।


> বলখ দল: ইব্রাহিম জাদরান (অধিনায়ক), মিকি আর্থার (হেড কোচ), তিলকারত্নে দিলশান (মেন্টর)।


ড্রাফট ও স্কোয়াডের নিয়মাবলী


প্রতিটি ফ্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ ৭ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের বেতন বাবদ খরচ করতে পারবে। নিয়ম অনুযায়ী:


> প্রতি দলে ১৯ জন 'অ্যাক্টিভ' ক্রিকেটার থাকবেন—১৭ জন মূল ড্রাফট থেকে এবং ২ জন সাপ্লিমেন্টারি রাউন্ড থেকে।


> একাদশে অন্তত ৭ জন আফগান ক্রিকেটার (যার মধ্যে ১ জন ইমার্জিং) এবং সর্বোচ্চ ৪ জন বিদেশি ক্রিকেটার খেলতে পারবেন।


>প্রথম ৯ জন ড্রাফট পিকিংয়ের মধ্যে অন্তত ৩ জন বিদেশি ক্রিকেটার থাকতে হবে।


২০১৮ সালে এপিএলের প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে আর্থিক অনিয়ম ও শৃঙ্খলাজনিত উদ্বেগের কারণে প্রথম আসরের পর টুর্নামেন্টটি স্থগিত রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন আঙ্গিকে ফিরছে আফগানদের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ।

সর্বশেষ সব খবর

লিওনেল মেসি

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৪ এএম

লিওনেল মেসির গোল ও অ্যাসিস্টের নৈপুণ্যে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মিয়ামি। রোববার রাতে নিউ ইংল্যান্ডের মাঠে পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নেয় মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমে সতীর্থের গোলে অবদান রাখেন মেসি, পরে নিজেই করেন জয়সূচক গোল। এই জয়ে এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইন্টার মিয়ামি। এক ম্যাচ হাতে রেখে নিউ ইংল্যান্ডকে এক পয়েন্টে পেছনে ফেলেছে দলটি। চলতি মৌসুমে প্রতিপক্ষের মাঠে এটি মিয়ামির দশম জয়, যা লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে তিনটি বেশি।


জয়ের সুবাদে আগামী বছরের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপেও জায়গা নিশ্চিত করেছে মিয়ামি।


প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। বিরতির পর ৫৩ মিনিটে ড্যানিয়েল গাজদাগের গোলে এগিয়ে যায় নিউ ইংল্যান্ড। ইলাই ফেইনগোল্ড ও পেটন মিলারের পাস থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের শটে মায়ামির গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ারকে পরাস্ত করেন তিনি। চলতি মৌসুমে ১১ ম্যাচে এটি গাজদাগের দ্বিতীয় গোল।


এই গোলে অবদান রাখা ফেইনগোল্ডের এটি মৌসুমের পঞ্চম অ্যাসিস্ট। ১৮ বছর বয়সী মিলারের অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯টিতে। দুজনের জন্যই এটি ক্যারিয়ারসেরা অর্জন।


পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় মায়ামি। ৬৯ মিনিটে সেই প্রচেষ্টায় সফল হয় তারা। মেসি ও তেলাসকো সেগোভিয়ার সমন্বয়ে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন জার্মান বের্তেরামে। তাতে ১-১ সমতায় ফেরে মায়ামি।


তিন ম্যাচ পর গোল বা অ্যাসিস্টের খাতায় নাম লেখালেন মেসি। অন্যদিকে এমএলএসে নিজের প্রথম মৌসুমেই ১০টি গোল ও ১০টি অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়েছেন বের্তেরামে।


সমতায় ফেরার পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মায়ামি। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে সেই কাঙ্ক্ষিত গোলটি এনে দেন মেসি। সেগোভিয়ার পাস থেকে বল পেয়ে জালে পাঠান আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এটি চলতি লিগে তার ২৬তম গোল, যা এখন পর্যন্ত প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ।


সেগোভিয়ার জন্যও এই অ্যাসিস্ট বিশেষ অর্জন। চলতি মৌসুমে তার অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২টিতে, যা তার ক্যারিয়ারসেরা। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে ১৬টি অ্যাসিস্ট নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন মেসি। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তার অবদান ৪২টি, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা খেলোয়াড়ের চেয়ে নয়টি বেশি।


মায়ামির হয়ে গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার তিনটি সেভ করেন। প্রতিপক্ষের মাঠে চলতি মৌসুমে দলটির রেকর্ড এখন ১০ জয়, ৪ হার ও ৩ ড্র। নিউ ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ম্যাট টার্নারও তিনটি শট ঠেকান।


এই হারে নিউ ইংল্যান্ডের টানা চার জয়ের ধারা থেমেছে। নিজেদের মাঠে চলতি মৌসুমে তাদের রেকর্ড এখন ১১ জয়, ৪ হার ও ২ ড্র। প্রথমার্ধে সেন্ট ক্লেয়ার দুটি এবং টার্নার একটি সেভ করেন। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল। এর আগে এপ্রিলের শেষ দিকে মায়ামির মাঠে দুই দল ১-১ গোলে ড্র করেছিল।


নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচে আগামী ৭ নভেম্বর শার্লট এফসির মুখোমুখি হবে ইন্টার মিয়ামি। এমএলএসের ‘ডিসিশন ডে’তে নিউ ইংল্যান্ড খেলবে অরল্যান্ডো সিটির মাঠে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৫ পিএম

স্থায়ী খেলার মাঠের দীর্ঘদিনের অভাব দূর করতে এক অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ জমিয়ে তারা ৬০ শতাংশ জমি কিনে তৈরি করেছেন স্থায়ী খেলার মাঠ।


গ্রামের মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা নজর কেড়েছে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলেরও। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মাঠের পাশের আরও ৬০ শতাংশ জমিও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ক্রয় করে গ্রামবাসীকে উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে দেলদুয়ারের জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বাবুপুর গ্রামের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে এবং গ্রামবাসীকে সংবর্ধিত করা হবে।


ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘খেলার মাঠের জন্য বাবুপুর গ্রামের মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ ক্রীড়াঙ্গনে এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকার ও মন্ত্রণালয় সবসময় এমন ইতিবাচক ও স্ব-উদ্যোগী কাজকে উৎসাহ দিতে চায়। শিশু-কিশোরদের খেলার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা যদি এই গ্রামবাসীর পাশে থাকতে পারি, তা হবে বিশেষ কিছু।’


তিনি আরও বলেন, এটি কেবল একটি মাঠ তৈরি নয়, বরং সারাদেশের জন্য জনসম্পৃক্ততার এক দারুণ অনুপ্রেরণামূলক মডেল।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের বাস বাবুপুর গ্রামে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেখানে খেলাধুলার জন্য কোনো স্থায়ী মাঠ ছিল না। বর্ষা শেষে ধান কাটার পর সাময়িকভাবে ফাঁকা জমিতে শিশুরা খেলার সুযোগ পেলেও চাষাবাদ শুরু হলেই তা বন্ধ হয়ে যেত। এই সংকট মেটাতে গ্রামের ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলম ও উদ্যোক্তা এস এম ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে একটি মতবিনিময় সভা করেন গ্রামবাসী।


সেই সভাতেই জমি কিনে মাঠ করার সিদ্ধান্ত হয়। গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিত্তবানদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে একটি তহবিল। যার যার সাধ্যমতো ২০০, ৫০০, ১,০০০ থেকে শুরু করে ৫,০০০ ও ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দেন।


সব মিলিয়ে সংগৃহীত টাকা দিয়ে ৩০ লাখ ৬৮ হাজার টাকায় ৫৯ শতাংশ জমি কেনা হয়। আর এক শতাংশ জমি বিনা মূল্যে দান করেন জমির মালিক ইকবাল হোসেন। গত ২৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে গ্রামবাসীর কাছে এই মাঠ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সব খবর

ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ ওয়ার্ল্ড কাপের টায়ার ‘ই’-এর রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৭ পিএম

ফাইনালে উঠেই ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দল। শিরোপা জয়ের স্বপ্নও দেখছিলেন তরুণ ফুটবলাররা। তবে শেষ বাধায় আর পেরে ওঠেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার আজারবাইজানের বাকুতে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের কাছে ৪-১ গোলে হেরে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যান্ড ফেস্টিভ্যালের টায়ার ‘ই’-এর রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ।


শুক্রবার অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। ১৪ মিনিটে মোইর গোলে এগিয়ে যায় তারা। চার মিনিট পর পেনেলের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হলে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ।


২৩তম মিনিটে এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান তাকিব। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তিন মিনিট পরই নিজের দ্বিতীয় গোল করে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিককে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মোই। ৩৯তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। তাতে প্রথমার্ধেই ৪-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।


দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশের কিশোরেরা। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় নিয়ে টায়ার ‘ই’-এর শিরোপা জিতে নেয় সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক।


১৮৯টি দেশ অংশ নেওয়া এই প্রতিযোগিতায় টায়ার ‘ই’-এর ফাইনালে ওঠার সুবাদে সামগ্রিকভাবে ১৩০তম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শিরোপা জিততে না পারলেও টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পথচলা ছিল উল্লেখযোগ্য।


কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ছয় দলের মধ্যে পঞ্চম হয়ে টায়ার ‘ই’-তে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। এই পর্বে একটি ম্যাচে জয় পেয়েছিল দলটি। এরপর ৩২ দলের নকআউট পর্বে সেশেলসকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে বাংলাদেশ। পরের রাউন্ডে সিঙ্গাপুরকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারায় তারা।


কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনিগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের কিশোরেরা। সেমিফাইনালে গ্যাবনকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করে ফাইনাল। তবে শেষ ম্যাচে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের কাছে হারায় রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দলটিকে।


প্রথমবার আয়োজিত এই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের এমন পথচলা ভবিষ্যতের জন্য অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসের পুঁজি হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর